Golpo ডিফেন্স রিলেটেড ভালোবাসার সমরাঙ্গন

ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৬


ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||৩৬||

সারিকা_হোসাইন


তনুর চিৎকার মুহূর্তেই কাঁপিয়ে তুললো পুরো মির্জা বাড়ি।শায়লার কর্ণকুহরে এই আতঙ্ক বাণী পৌঁছাতেই পড়িমরি করে চিৎকার করে দুতলায় মৌনতার কক্ষের দরজার সামনে এসে গড়াগড়ি দিলেন তিনি অতঃপর বিলাপের স্বরে কাঁদতে লাগলেন।এরপর দরজায় জোরে জোরে ধাক্কাতে লাগলেন।মাহির মুইন আর সৌম্য সমানে দরজা ধাক্কিয়ে চলেছে।কিন্তু শক্ত মোটা কাঠের দৈত্যকার দরজাটিকে কেউ একবিন্দু হেলাতে পারলো না।নোমানের বুক কেঁপে উঠলো তনুর চিৎকারে।সে কিছুক্ষণ হতভম্ব দাঁড়িয়ে থেকে দৌড়ে মৌনতার ঘরের দরজার সামনে এলো।এরপর এলোপাতাড়ি একের পর এক ঘুসি বসালো দরজায়।দরজা নড়লো এবার অল্প।কিন্তু নিদারুণ ভাবে ক্ষতবিক্ষত করলো নোমানের হাত।তবুও নোমান থামলো না।রক্তাক্ত হাত নিয়েই উন্মাদের ন্যয় দরজায় আঘাত করতে লাগলো।আক্কাস কোথা থেকে যেন খুঁজে একটা কুড়াল নিয়ে এলো।রেহনুমা আজ নিজের জীবনের আশা ছেড়ে দিয়ে চিৎকার করে উপর ওয়ালার উদ্দেশ্যে ক্রন্দনরত গলায় বললেন

“আর বাঁচতে চাইনা মাবুদ।এবার অন্ততঃ নিয়ে যাও।এসব সহ্য করার ক্ষমতা তো আর নেই ।

দেওয়ান মির্জা বুকের ব্যথায় নিজ ঘরেই বিছানায় অবশ হয়ে পড়ে রইলেন।আজকাল বড্ড অনুভূতি হীন হয়ে পড়েছেন তিনি।সমস্ত দুর্ঘটনা কোনো পাপের নির্মম কর্মফল বলে মনে হয় তার কাছে।কিন্তু পাপটা কি তার উত্তরণ করতে পারেন না।

আক্কাসের থেকে কুড়াল নিয়ে একের পর এক শক্ত কোপ বসালো নোমান।নোমানের বলিষ্ঠ হাতের শক্তিতে আর টিকতে পারলো না শক্ত দরজা খানা।ভেঙে গেলো।নোমান কুড়াল ছুড়ে ফেলে মৌনতার দিকে দৌড়ে গেলো।হামলে মৌনতার পা জোড়া চেপে ধরে বুকের সাথে মিশিয়ে উঁচু করে ধরলো।সৌম্য মুইন কোনোভাবে গলার ওড়না কেটে নীচে নামালো মৌনতা কে ।ইতোমধ্যে মৌনতার গলা লাল হয়ে উঠেছে।ঠোঁট গলিয়ে মোটা রক্ত ধারা গড়াচ্ছে।শায়লা মেয়ের মাথা বুকে জড়িয়ে হাউমাউ করে চিৎকার করে উঠলেন।কিন্তু মৌনতা জ্ঞান হীন।সৌম্য মৌনতার গালে চাপড় দিয়ে ডাকলো ।

“অ্যা।অ্যা অ্যাই মৌনতা!বোন আমার চোখ খোল।দেখ আমরা কিভাবে ভীত হয়ে আছি তোকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে।চোখ খোল মৌন।মৌনতা চোখ খুলবি না?

মাহির মৌনতার হাত চেপে ধরে শব্দ করে কেঁদে উঠলো।তনু দৌড়ে এসে পালস চেক করে জানালো

“পালস চলছে দ্রুত হসপিটালে নিতে হবে ওকে।

আর সময় অপচয় করলো না কেউ।নোমান ফ্যাকাসে মুখে মৌনতা কে পাজা কোলে তুলে ছুটলো নীচে।এরপর নিজের গাড়িতে বসিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে হসপিটাল অভিমুখে চললো।

নোমান চারপাশে কোনো কিছু না খেয়াল করে নিজের জীবন বিপন্ন করে এক ঘন্টার মধ্যে মৌনতা কে নিয়ে হাসপাতালে এলো।মৌনতা এখনো অচেতন।হসপিটালে পৌছেই নোমান গর্জে ডাকলো

“ডক্টর!..

নোমানের গর্জনে থরথর করে কাঁপলো উপজেলা হসপিটাল সেই সঙ্গে গাছে বসে থাকা কাকের পাল ডানা মেলে উড়ে পালালো।দৌড়ে এলো ডক্টর নার্স আর স্ট্রেচার সমেত ওয়ার্ড বয়।নোমান মৌনতা কে স্ট্রেচারে তুলে রক্তচক্ষু আর ভেজা কম্পিত গলায় আঙ্গুল তুলে সকলকে শাষিয়ে বলে উঠলো

“যদি মৌনতা সাবেরির কিছু হয় কাউকে বাঁচাবো না আমি।কাউকেই না।একদম তুলোর মতো উড়িয়ে দেব শূন্য বাতাসে।

নোমানের হুংকারে ফাঁকা ঢোক গিললো নার্স।এরপর স্ট্রেচার নিয়ে ছুটলো ইমারজেন্সি তে।


দুদিন বাদে দুর্জয়ের জ্ঞান ফিরলো।দুর্জয়ের জ্ঞান ফিরতেই রণ’র কাছে খবর পাঠানো হলো।খবর পাওয়া মাত্র দৌড়ে ছুটলো রণ।এক দৌড়ে আইসিইউ কেবিনের সামনে এসে দাড়ালো।ফাঁকা কাঁচের অংশ দিয়ে দেখলো উপস্থিত ডক্টর লাইফ সাপোর্ট খুলে নিচ্ছেন।মুখের অক্সিজেন মাস্ক সরাতেই দূর্জয় ফ্যাসফ্যাসে গলায় ডক্টর কে শুধালো

“মেজর রণ কোথায়?

রণ দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে দুর্জয়ের বেডের পাশে দাঁড়ালো অতঃপর দুর্জয়কে শক্ত জড়িয়ে ধরে বলল

“আমি তোর খুব কাছে!যতোটা কাছে থাকলে তুই চাওয়া মাত্র আমাকে পাবি।

দূর্জয় মলিন হাসলো।এরপর কাটাছেঁড়া ব্যান্ডেজওয়ালা হাতটা রণ’র প্রশস্ত পিঠে বুলিয়ে বলে উঠলো

“বকবক করে তোর মাথা খাবার জন্য বিধাতা আবার আমাকে বাঁচিয়ে পাঠালো।মরে গেলেই খুশি হতি তাই না?খুব দুঃখিত রে।তোকে খুশি করতে পারলাম না ।চরম আক্ষেপ হচ্ছে।

দুর্জয়ের কথায় ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো রণ।বললো

“আমি তোর সকল বকবক কান পেতে শুনতে রাজি আছি।তুই ইচ্ছে মতো আমাকে প্রশ্ন জিজ্ঞেস কর।আমি সব গুলোর উত্তর দেব।

দূর্জয় রণকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বলে উঠলো

“আমি তোর বউ নই।এত শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে হবে না।বুকে ব্যথা!

রণ আলগোছে সরে পাশের চেয়ারে বসলো।এরপর বললো

“কেন মরতে এসেছিলি আমাদের গ্রামে বলতো?

“তোদের সাথে সময় কাটাতে ইচ্ছে করছিলো।কিন্তু পাষন্ড ট্রাক ড্রাইভার আমার সাথে শত্রুতা দেখালো।বড্ড নিষ্ঠুর সে।ইচ্ছে করেই আমাকে চাপা দিলো।ভাগ্গিস জিপের আগেই ঝাঁপ দিয়েছিলাম ।নয়তো এতক্ষন আকাশের টুইঙ্কল টুইঙ্কল লিটল স্টার হয়ে যেতাম।

রণ কপাল কুচকালো।ঘটনা আরেকটু সাফ হলো।দূর্জয় অধীর হয়ে জিজ্ঞেস করলো

“কে করেছে এই কাজ জানতে পেরেছিস?

রণ মাথা দোলালো অল্প।এরপর বললো

“জানি।তোকে যে চাপা দিয়েছে তার ডেড বডি পাওয়া গিয়েছে।

“মেইন কালপ্রীট কে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে তুই নিজেই মেরে ফেল রণ।আইনের অনেক ফাঁকফোকর।এসব রাখব বোয়াল সেই ফোকর গলিয়ে নিঃশব্দে পালিয়ে যায়।এরপর ফিরে আসে আরো দুধর্ষ রূপে।

রণ ভ্রু উঁচু করে দুর্জয়ের কাতর ক্লান্ত ক্ষতবিক্ষত মুখটা দেখলো।এরপর দ্বিধা নিয়ে বললো

“দেশ এবং দেশের মানুষকে রক্ষা করা আমার কাজ।কারোর প্রাণ আমি চাইলেও নিতে পারিনা।বিবেক বাধা দেয়।আমি কোনো খুনি হতে চাইনা।

ডক্টর এসে রণকে অনুরোধ করলো দূর্জয় কে আর কথা বলতে না দিতে।এই মুহূর্তে এত কথা তার জন্য বিপদজনক।রণ বুঝলো।সে দুর্জয়ের হাত ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।দূর্জয় ছোট ধীর গলায় বলে উঠলো

“খুব শীঘ্রই কোনো এক অপারেশনে আবার তোর টিম মেট হবো।আমাকে ছাড়া মিশনে যাসনা।দুই বছর খুব বোর লাগবে ।একাকীত্ব পুরোপুরি গ্রাস করবে।

কথাগুলো বলতে বলতে দুর্জয়ের গলা রোধ হয়ে এলো।নিজের ভগ্ন হাত ,ব্যান্ডেজ করা মাথা আর স্লিং ঝোলানো পা জোড়ায় নজর বুলিয়ে দূর্জয় বলে উঠলো

“চাইলেও মাস ছয়েক হাটতে পারবো না তাই না?এভাবে কি হাটা যায়?

রণ কোনো জবাব দিতে পারল না।ডক্টর শান্তনার বুলি আউড়িয়ে উত্তর দিলেন

“আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন মেজর।খুব শীঘ্রই আপনি মাঠে ফিরে যেতে পারবেন।

রণ আর দাঁড়ালো না।মৌনতা কে দেখার জন্য তার বুকটা খাঁ খাঁ করছে।তার মৃত্যু সংবাদে মেয়েটা কেমন রিয়াক্ট করবে রণ তা জানে।মৌনতার দিন রাত কিভাবে কাটছে সেটাও অজানা নয় রণ’র।মেয়েটা কেঁদে কেটে শরীরের কি হাল করেছে তা ভেবেই শিউরে উঠলো রণ।সে তার আত্মতুল্য প্রাণেশ্বরীকে খুব করে চেনে।

“আরো বেশি পাগলিটাকে অপেক্ষা করালে হয়তো সে প্রাণেই বাঁচবে না।

ঘড়িতে সময় পরখ করলো রণ।প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে।এখান থেকে ফতেহপুর যেতে প্রায় ছয় ঘন্টা সময় লাগবে।বাড়িতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ভোর রাত হয়ে যাবে।রণ তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেলো।এরপর একটা ট্যাক্সি ধরে চললো বাসস্ট্যান্ড এ।বাসে উঠে কদম তলী যেতে পারলেই বাকিটা পরে দেখা যাবে।


রণ প্রায় রাত তিনটার দিকে মির্জা বাড়ির গেটের সামনে এসে উপস্থিত হলো।গেটটা খোলা।তালা দেয়া হয়নি।বাড়ির মানুষের এতোটা অন্যমনস্ক আচরণে তার মেজাজ বিগড়ালো।চারপাশে এত বিপদ ঘুরে বেড়াচ্ছে অথচ বাড়ির মানুষ কত বড় অসচেতন।
রণ’র নজর হঠাৎ আটকালো কালুর শুয়ে থাকার স্থানটায়।জায়গাটা ফাঁকা দেখেই বুকটা কেঁপে উঠলো।চোখ দুটোও জলে ভরে উঠলো।রণ আলগোছে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো।বাড়ির প্রধান দরজা খোলা দেখেও রণ আরেকটু ভ্রুকুটি করলো।সে চোখ মুখে সন্দিহান ভাব ফুটিয়ে সিঁড়ি ধরলো।

এদিকে পানি পিপাসায় গলা ফেটে চৌচির হলো কোয়েলের।সে ঘুম ঘুম চোখে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।পেটের ভেতরেও কেমন গুড়গুড় করছে।রাতে কারোর খাওয়া দাওয়া হয়নি।মৌনতা কে নিয়ে সকলেই জেলা হসপিটালে গিয়েছে।উপজেলায় মৌনতার চিকিৎসা হয়নি।ওড়নার শক্ত চাপে গলার রক্তনালী ছিঁড়ে গেছে।সেগুলোর দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন।বাড়িতে শুধু তারা মা মেয়ে আর বৃদ্ধ দেওয়ান মির্জা।

ঘুম চোখে হঠাতই কোয়েলের নজর গেলো সিঁড়ির পানে।সেখানে আবছা একটা ছায়া দেখে কোয়েলের ঘুম উবে গেলো।চোর মনে করে দ্রুত পায়ে এগিয়ে সিঁড়ির কাছে আসতেই চাঁদের হলদেটে আলোয় রণ’র মুখ পরিষ্কার হলো।কোয়েল চমকে উঠলো।থরথর করে কেঁপে উঠলো তার হৃদপিণ্ড।কোয়েল চিৎকার করতে চাইল।কিন্তু কন্ঠনালী বড্ড স্বার্থপর।কোয়েল কোনো শব্দ উচ্চারণ করতে পারলো না।রণ’র শরীরের হসপিটালের গন্ধে কোয়েল আরেকটু ভয়ে সিটিয়ে উঠলো।তার মস্তিষ্ক হুলস্থুল ঘুরছে।শরীর অবশ ভর শূন্য।কয়েকদিন আগের মৃত মানুষ রাতের আধারে ঘুরে বেড়াচ্ছে ভাবতেই কোয়েলের শরীর কাঁটা দিলো।সে রণ’র আত্মাকে ছুঁয়ে দেখতে চাইলো।পারলো না।মুখ থুবড়ে সিঁড়িতে পরে গেলো।রণ তাকে ধরলো না পর্যন্ত।শুধু কপাল কুঁচকে কোয়েলের পানে তাকিয়ে নিঃশব্দে সরে গিয়ে বলে উঠলো

“এই আইটেম ও চলে এসেছে আমার চল্লিশা খেতে?

রণ মৌনতার কক্ষের সামনে গিয়ে স্তব্ধ হলো।অযত্নে কুড়াল খানা করিডোরে পরে রয়েছে।দরজা ভেঙে ফালা ফালা।রণ’র প্রচন্ড ভয় হলো।সে মৌনতার কক্ষে গিয়ে উদ্ভ্রান্তের ন্যয় আলো জ্বালালো।এক মুহূর্তে ঘরের চারপাশে নজর মেলে মাথার চুল খামচে ধরলো।ফ্যানের সাথে ঝুলছে ওড়না।বিছানার সাদা চাদরে জমাট বাঁধা রক্ত।রণ খেই হারালো সব কিছুর।অজানা অচেনা ভয় হৃদয় কব্জা করলো কঠিন ভাবে।কেউ যেনো শ্বাসনালী বেজায় নিষ্ঠুর হাতে টিপে ধরেছে।রণ শ্বাস ফেলতে পারছে।রণ দৌড়ে বাইরে আসতে চাইলো।কিন্তু পা জোড়া মেঝের সাথে আটকে রইলো।নিজের অজান্তেই রণ’র গাল বেয়ে জল গড়ালো।রণ নিজের নিস্তেজ শরীর কোন মতে টেনে নিজের ঘরে গেলো।রিডিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে বের করলো মিলিটারি ফোন।ডায়াল করলো সৌম্যের নম্বর।


মৌনতার অপারেশন হয়েছে অনেক আগেই।ছোট অপারেশন।গলার ক্ষতিগ্রস্ত রক্ত নালী গুলো সিল করা হয়েছে।দুদিন বাদেই মৌনতা বাড়ি যেতে পারবে।এখন আর রিস্ক নেই।সাদনান মির্জা হসপিটালের ওয়েটিং চেয়ারে বসে বসে বাচ্চাদের মতো কাঁদছেন।সব চাইতে আদরের সন্তান তার মৌনতা।এই মেয়েকে তিনি আজ পর্যন্ত একটা ফুলের টোকা পর্যন্ত দিতে দেননি কাউকে।অথচ মেয়ের জীবন ধারালো কন্টকে বিদ্ধ হলো।সৌম্য কাউকে সান্তনা দিতে পারছে না।সৌম্য যেনো আজ হতভম্ব ,নিষ্কর্ম, নিষ্ক্রিয় পুরুষ।
সকলের রোদনজরি সৌম্যের কাছে শ্বাসরুদ্ধকর ঠেকলো।একটু পরিপূর্ণ শ্বাস নেবার আশায় হসপিটালের পেছনের ফাঁকা মাঠে এলো সে।এখন প্রায় ভোর রাত।একটু পরেই ফজরের আজান হবে।এমন সময় সৌম্যের ফোন বেজে উঠলো।স্ক্রিনে অপরিচিত নম্বর দেখে ভ্রুকুটি করলো সৌম্য।এরপর ফোন কানে তুলে হ্যালো বলবার আগেই ওপাশ থেকে ভেসে এলো বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর

“রণ বলছি

সৌম্য যেনো কানে ভুল শুনলো।সে অবাকের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছালো।কথা বলার ভাষাও হারালো।সৌম্যের অক্ষি কোটর জলে ভাসলো।নীরবে ভোরের শীতল বাতাসের সাথে মিলেমিশে বইতে শুরু করলো তা।রণ বুঝলো সৌম্যের অনুভূতি।তাই বাক্যপচয় না করে কাতর গলায় জিজ্ঞেস করলো

“আমার বৌটা বেঁচে আছে তো ভাইয়া.?

সৌম্য উত্তর খুজে পেলো না।শুধু ধীর কম্পিত মিইয়ে আসা গলায় শুধালো

“কিভাবে?

রণ একে একে সব খুলে বললো।নোমান এমন লোমহর্ষক ঘটনা ঘটিয়েছে শুনেই সৌম্যের চোখ বুজে এলো ঘৃণায়।ইচ্ছে হলো নোমানের বুকে চাকুর আঘাত দিয়ে ছিন্নভিন্ন করে নোংরা হৃদপিণ্ড খানা বের করে পা দিয়ে কচলে দিতে।সেই সাথে ইচ্ছে করল অনুকে ডিভোর্স দিয়ে শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেকের মুখে গোবর ছুড়ে দিয়ে জুতার মালা পড়াতে।
সৌম্য নিজেকে ধাতস্থ স্থির করে ফিসফিস করে জানালো

“মৌনতা ভালো আছে।দুদিন বাদেই বাড়ি ফিরে যাব।তুই আপাতত গা ঢাকা দিয়েই থাক।যতক্ষন ওই শয়তানের একটা ব্যবস্থা না হচ্ছে ততক্ষণ নিজেকে আড়াল করে রাখাই উত্তম।নইলে জানোয়ার টা আবার কোন নোংরা খেলা খেলবে কে জানে?

রণ মানলো না।সে বলল

“মৌনতা কে একপলক দেখার জন্য হৃদয় জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাচ্ছে ভাইয়া।প্রাণ যে যাই যাই করছে।

সৌম্য রণ’র হুতাশন বুঝলো।বললো

“তুই আয়।আমি সব ক্লিয়ার করে রাখছি।কেউ ডিস্টার্ব করবে না তোকে।একটা মশা মাছি ও না।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply