ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||৩৫||
সারিকা_হোসাইন
দুর্বিষহ যন্ত্রনায় ছেয়ে আছে চারপাশ।চারপাশে যেনো মৃত্যুর অসহনীয় ব্যাথা।চারিধারে আধার নেমেছে অনেক আগেই।এখন মধ্যরাত।নিগূঢ় নিস্তব্ধ প্রকৃতি।বাতাসে গুমোট যন্ত্রণা।আকাশে আজ চাঁদ উঠেনি।বিষাদের মেঘ হয়তো তাকেও ডুবিয়ে দিয়েছে ঘোর অমানিশার আড়ালে।
মৌনতা মেঝেতে বসে খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে রয়েছে,হাতে রণ’র ঘড়ি।সারাটা দিন,বিকেল,সন্ধ্যা এভাবেই কেটেছে।মৌনতা ফাঁকা ছাদের উল্টোপিঠে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবতে লাগলো দুদিন আগের কাটানো সমস্ত মিষ্টি স্মৃতি।মানুষটা আজ সকালেও তার অধর ছুঁয়েছে ,ছুঁয়েছে শরীরের প্রতিটি ভাঁজ।মৌনতা তার বুকে ক্ষনিকের জন্য মাথা গুঁজে এক ফালি সুখের রাজ্যও গড়ে তুলেছিলো।কথা ছিলো রাতে চাঁদ দেখতে দেখতে আকাশের তারা গুনবে দুজনে।রণ’র মিশনে যাবার আগে যে’কটা দিন আছে তার প্রত্যেকটা মুহুর্ত হবে মৌনতার।মৌনতার ঠোঁটে জমানো হাজারো কথার ফুলঝুড়ি কান পেতে শুনবে রণ।আর কারো কথা নয়,কারো জন্য বরাদ্দ মুহূর্ত নয়।ঘড়ির কাঁটার সব কটা সময় মৌনতার জন্য উৎসর্গ।
কিন্তু সব প্রতিশ্রুতি, সব আনন্দ মুহূর্তেই কেমন বৃথা হলো!কোন পাপে এমন শাস্তি দিলো বিধাতা?পাপ বুঝি এতোই আকাশচুম্বী ছিলো?যার দরুন বিধাতা মৌনতার প্রতি এতোটাই নিষ্ঠুর হলো?
মৌনতার চোখ জোড়া এখন আর জলে ভাসছে না।জল শুকিয়ে গেছে।চোখের কোল ফুলে গোলাপি হয়ে আছে।চোখ দুটো টকটকে লাল।অক্ষি কূপ বোধ হয় শুকিয়ে গেছে।একটা মানুষ কত কাঁদতে পারে ?তবুও যদি মৌনতা কাঁদার চেষ্টা করে তবে বোধ করি রক্ত ঝড়বে।জল আর ঝড়বে না।শুধু গলার কন্ঠ হাড় টা দেবে যাচ্ছে ফুপানোর ঝাকুনিতে।মৌনতার বিধস্ত মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ক্লান্ত হলো।ক্লান্ত চোখ দুটো বুজে এলো।মৌনতা রণ’র ঘড়িটা বুকে জড়িয়ে মেঝেতে হেলে পড়লো।এরপর তলালো গভীর ঘুমে।
রাতের পুরুত্ব আরেটু গভীর হতেই বাড়ির পেছনের জঙ্গল মাড়িয়ে ধেয়ে এলো একটা কালো ছায়া।তার চলন কতটা ভয়ানক তা তার পদচ্ছাপ ই জাহির করছে। মাটি পর্যন্ত টের পাচ্ছে না এখানে কে হেটে যাচ্ছে।মানুষ নাকি অশরীরি?আচ্ছা অশরীরির চাইতে মানুষ
রূপী অশরীরী গুলো বেশি ভয়ানক আর খতরনাক তাই না?.
লম্বা চওড়া কালো পোশাকধারী মানুষটা সুকৌশলে উঠে গেলো দূতলার বারান্দায়।সুযোগ বুঝে খোলা বেলকনি দিয়ে ঢুকে গেলো মৌনতার কক্ষে।বিধস্ত মেয়েটাকে দেখে তার কলিজা মোচড় দিলো।ইচ্ছে হলো বুকে জড়িয়ে সমস্ত দুঃখ মুছিয়ে দিতে।কিন্তু এখন সে সময় নয়।আগন্তুক নিঃশব্দ পা ফেলে টেবিলে ফেলে রাখা বক্স খানার দিকে এগিয়ে গেলো।চোখের সামনে একাগ্র আকাঙ্খিত বাক্স দেখে চোখ জোড়া চকচক করে উঠলো।দ্রুত সেই বাক্স হাতড়ে খপ করে তুলে নিলো ওয়ালেট।জলে ভিজে মোটা হয়ে আছে।উদভ্রান্তের ন্যয় সেই ওয়ালেট খুলে তন্ন তন্ন করে খুজলো কিছু।কিন্তু একি!কোথায় সেই প্রাণ ভোমরা?
মেজরের চতুরতায় অসহনীয় ক্রোধে কেঁপে উঠলো ফর্সা চোয়াল।হাতে কচলে মুড়িয়ে ধরলো ওয়ালেট।এরপর লম্বা পা ফেলে ঝাঁপিয়ে গেলো মুখোমুখি ওপাশের বারান্দায়।বারান্দায় দাঁড়িয়ে আগন্তুক বললো
“নিশ্চয় তোমার ঘরেই আছে সেই জিনিস তাই না মেজর সাহেব?
বলেই ঢুকে গেলো কক্ষে।এরপর হাতের টর্চ দিয়ে খুজলো কক্ষের আনাচে কানাচে।কিন্তু কোথাও নেই সেই নোট।এবার চুল খামচে ধরে গর্জে উঠতে চাইলো উক্ত ব্যক্তি।সে হিসহিস করে বলে উঠলো
“নোমান শাহরিয়ার কে অনেক ভোগান্তিতে ফেললে তুমি মেজর ।কি ভেবেছ ?মরে গিয়ে পাড় পাবে?এতোই সস্তা মুক্তি ?তোমার অন্যায়ের শাস্তি তোমার বাবা মাকেও দেব আমি।এতো সহজে আমার লাইফ হেল করে মুক্তি পাবে না তুমি।”
বলেই নোমান আরেকটু ব্যগ্র গতিতে খুজলো সবকিছু ।কিন্তু পুরো ঘর চসে কিছুই পেলো না।
শেষমেশ বাধ্য হয়ে ফিরে গেলো নোমান ।যাবার আগে মৌনতার কক্ষে এসে মৌনতার রক্তিম গাল টা আলতো হাতে বুলিয়ে বলে উঠলো
“খুব শীঘ্রই সব কিছু ভুলে যাবে তুমি প্রিয়তমা।আমি ভুলাতে বাধ্য করব তোমায়! তোমার হৃদয় জুড়ে বিচরণ করবে আমার নাম।তোমার নরম শরীরে একমাত্র বিস্তার করবে আমার আধিপত্য।ওই মেজরের নোংরা স্পর্শ আমি সাদা দুধে গোসল করিয়ে মুছিয়ে দেব তোমার শরীর থেকে ।ওই স্পর্শ যে নর্দমার পানির চাইতেও অধিক নোংরা।
ভোরের টকটকে লাল সূর্য পূব আকাশে ধীরে ধীরে উকি দিয়ে পৃথিবীকে জানালো শুভ সকাল।সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠলো প্রাণীকুল।ধরনীতে শুরু হলো কর্মব্যস্ততা।এক নিস্তব্ধ রাত কেটে চঞ্চল মুখর এক দিনের সূচনা হলো।
সিএমএইচ এর বারান্দায় ওয়েটিং চেয়ারে মাথা নিচু করে কপাল চেপে বসে আছে রণ।সারা রাত মৌনতা কে নিয়ে ভেবেছে সে।পাগলী টা তার মৃতুখবরে কতোটা ভেঙে চূড়ে গুঁড়িয়ে গেছে তা রণ জানে।কিন্তু এহেন নিষ্ঠুর পরিস্থিতিতে কি করতে পারবে রণ?প্রতিটা পদ্ধক্ষেপ এখন মূল্যবান।একটা ভুল কদম তার সাথে সাথে তার পরিবারের মানুষের জীবন পর্যন্ত নরক করে ছাড়বে।রণ আর ভাবতে পারে না।সুন্দর গোছালো সব কিছু মুহূর্তেই কেমন অগোছালো হলো।রণ হতাশা মিশ্রিত শ্বাস ফেললো।
চারপাশে ফিনাইলের উটকো গন্ধে ভরে আছে।দম যেনো বন্ধ হয়ে আসে সেই গন্ধে।
হঠাৎ হসপিটালের নিস্তব্ধতা ভাঙলো কারো গলায়।
“মেজর রণ আপনি সারা রাত এখানে বসে ছিলেন?
গমগমে গলায় মুখ তুলে উপরে তাকালো রণ।ডক্টর নেহাল উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে তার দিকে।রণ দাঁড়িয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে উঠলো
“একবার দেখতে পারি ক্যাপ্টেন?
ডক্টর নেহাল মাথা ঝাঁকালো।অনুমতি পেয়ে রণ কম্পিত গলায় বলল
“থ্যাঙ্কস অ্যা লট ক্যাপ্টেন নেহাল।
রণ দৌড়ে আইসিইউ এর কাঁচের দরজার সামনে দাঁড়ালো।ছোট জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে মেজর দুর্জয়ের শীতল ক্ষতবিক্ষত দেহ।চপল ছেলেটা আজ কেমন নীরব নির্ভার আর নিথর।শ্বাস চলছে কৃত্তিম ভাবে।পুরো শরীরে সাদা ব্যান্ডেজের আবরণ।পায়ে মোটা মোটা ব্যান্ডেজ।মাথার খুলি পুরোটাই ঢাকা।মনের অজান্তেই রণ’র চোখ ডিঙিয়ে জল গড়ালো।মনে পড়লো প্যারেড মাঠের কথা
“তুই সব সময় ক্যাপ খুলে হাতে নিয়ে ঘুরিস কেন?কর্নেল মেজবাহ দেখলে পানিশমেন্ট করবে।
রণ’র কথায় হো হো করে হাসলো দূর্জয় অতঃপর বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বললো
“যা করার করুক আমি রাজি।তাও ক্যাপ পরবো না।আমার মাথা গরম হয়ে যায়।চান্দিতে বাতাস লাগে না।এসব কঠিন ধরাবাধা নিয়ম একদম পছন্দ নয় আমার।হুজুগে এসেছিলাম।এখন পস্তাচ্ছি। এতো শৃখঙলার মধ্যে কোনো মজা নেই।আসল মজা উড়ে বেড়ানোর মাঝে।একদিন ঠিক এসব শক্ত শক্ত নিময় কানুন শৃঙ্খলা কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আমি পালিয়ে যাবো দেখিস!
বলেই প্রাণ খুলে শব্দ করে হেসে উঠলো দূর্জয়।দুর্জয়ের সেই হাসি রণ’র কানে বাজতে থাকলো অনবরত।রণ নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।শক্ত খোলস গলে পড়লো।রণ শব্দ করে কেঁদে উঠলো আর বলে উঠলো
“এত বড় ব্যান্ডেজ পরে কিভাবে শুয়ে আছিস তুই?তোর অস্থির লাগছে না?তাড়াতাড়ি উঠে খুলে ফেলনা সব।আর কত ঘুমাবি?
ডক্টর নেহাল রণ’র পিঠে চাপড় দিয়ে সহানুভূতির আওয়াজে বললো
“কাঁদবেন না।আল্লাহ সহায় আছে।তেমন কোনো বিশেষ ড্যামেজ হয়নি এই ঢের।উপরওয়ালা রাখলে মানুষের চক্রান্তে কি আসে যায়?
রণ নিজেকে সামলে চোখ মুছে বললো
“আমি একটু হেডকোয়ার্টার এ যাবো।ক্যাপ্টেন আদিল আর রেহান কে ইনফর্ম করবেন যাতে ওরা এখানে আমি না ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করে।
নেহাল মাথা ঝাকিয়ে সায় জানালো।রণ আরেক পলক অচেতন দূর্জয় কে দেখে হনহন করে বেরিয়ে গেলো।
আর্মিদের তৎপরতায় ভীত শঙ্কিত হলো উপজেলা থানার ওসি।নিজের চেয়ার বাঁচাতে হন্যে হয়ে খুঁজতে লাগলো ট্রাক ড্রাইভার কে।পুরো ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে চালকে নাম ঠিকানা,ড্রাইভিং লাইসেন্স কিচ্ছুটি পাওয়া যায়নি।ইট গুলোও কেউ আনার জন্য ভাড়া করেনি এই ট্রাক।সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিস্কার হয়েছে ড্রাইভার ইচ্ছে করে মেজর কে চাপা দিয়েছে।নয়তো এমন ভাবে এক্সিডেন্ট হবার প্রশ্নই আসে না।এখন শুধু ড্রাইভার কে ধরে উত্তম মধ্যম দিয়ে তার থেকে জানতে হবে এর পিছনে কার হাত এবং সে কেনো বা কোন শত্রুতায় মেজরকে এভাবে জিপ সমেত পানিতে ফেলেছে।
ইতোমধ্যে ট্রাক থেকে কিছু ফিঙ্গারপ্রিন্ট কালেক্ট করতে সক্ষম ইন্টেলিজেন্স টিম।সেই সাথে ইট ভাটায় যোগাযোগ করে সিসি ক্যামেরা দেখে শনাক্ত করা গেছে উক্ত ড্রাইভার কে।
গোয়েন্দা বাহিনী টানা তিন দিনের চেস্টায় সফল হয়েছে উক্ত ড্রাইভারের সন্ধানে।তারা ছুট লাগিয়েছে সেখানে।কিন্তু উক্ত স্থানে পৌঁছাতেই সকলের চোখ কোটর ছেড়ে বেরিয়ে এলো।ট্রাক ড্রাইভার কে কেউ নৃশংস ভাবে হত্যা করেছে।ড্রাইভার এর চোখ গুলো উল্টে রয়েছে,ঠোঁট গলিয়ে রক্ত ঝরছে সেই সঙ্গে বুকে নয় দশটা চাকুর আঘাত।
ইন্টেলিজেন্স অফিসার ড্রাইভার এর পুরো শরীর নজর বুলালো অতঃপর হাটু মুড়ে বসলো।মৃত ড্রাইভারের হাতটা মুঠো পাকানো।উপস্থিত অফিসারের থেকে একটা হ্যান্ডগ্লাভস আর ম্যাগনিফায়িং গ্লাস নিয়ে দক্ষ অফিসার নজর নিবদ্ধ করলো হাতে।মুহূর্তেই ফুটে উঠলো হাসি।অপরাধী কখনো না কখনো নিজের অপরাধের চিন্হ ফেলে যায়।অফিসার তাচ্ছিল্য হেসে আদেশ দিলো
“পোস্ট মর্টেম এর ব্যাবস্থা করো।আর ডক্টর কে বলবে নখের নীচে যে চামড়া টা আছে সেটার টেস্ট করে আমাকে কাল ই রিপোর্ট পাঠাতে।।
মির্জা বাড়ি এখনো নিষ্প্রাণ ,নিস্তব্ধ।বাড়িতে চুলা জ্বলে না।কেউ জলটুকু স্পর্শ করে না।চামেলি আর তহুরা মাঝে মাঝে সকলের প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে ভাত রান্না করে।কিন্তু সেই ভাত কেউ স্পর্শ পর্যন্ত করে না।
সৌম্যের শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রতিদিন কেউ না কেউ এসে রেহনুমা শায়লা আর দেওয়ান মির্জাকে সান্তনা দেয়।মৌনতার নাগাল পায়না তারা।বোকা মেয়েটা নিজেকে সারাক্ষন বন্দি করে রাখে।আজ চারদিন ধরে একই ভাবে নিজ কক্ষে বন্দি হয়ে পড়ে আছে সে।হাজার ডেকেও তার সাড়া পাওয়া যায়না।দরজা ধাক্কাল মেয়েটা অদ্ভুত চিৎকার করে উঠে।তাই বাড়ির মানুষ তাকে ওভাবেই ছেড়ে দিয়েছে।
আজ সকালের একটু পর পরই খাবার আর ফলমূল নিয়ে এলো নোমান।মুখে আলগা বেদনার ছাপ।কিন্তু সুন্দর চোখ জোড়ায় খুশির ঝিলিক।নোমান বসার ঘরে ফলমূল রেখে অনুকে ডাক দিলো।
বাড়ির সবার হালচাল জিজ্ঞেস করলো।এমন সময় অনু কপাল কুঁচকে বলে উঠলো
“কি ব্যাপর ভাইয়া তোমার গলার নীচে কিসের দাগ?এতো গভীর ভাবে কিভাবে আঁচড় লাগলো?ডক্টর দেখিয়েছ?ট্রিটমেন্ট না করলে তো ইনফেকশন হয়ে যাবে।
অনুর কথায় নোমান থতমত খেলো।অধিক তাড়াহুড়োতে ব্যান্ডেজ লাগাতে ভুলে গেছে সে।নোমান তাৎক্ষণিক গলা ঢেকে বলে উঠলো
“বিড়াল খামছেছে বুঝলি?নতুন একটা বিড়াল এডপ্ট নিয়েছি।
অনু আরেকটু অবাক হয়ে বলল
“বিড়ালে তোমার সাংঘাতিক ফোবিয়া।বিড়ালের লোমে তো তোমার এলার্জি আছে!
নোমান মনে মনে ক্ষিপ্ত হলো অনুর উপর।ইচ্ছে হলো অনুর গলা টি পে ধরে এখনই হারামজাদী মেয়েটাকে চিরতরে চুপ করিয়ে দিতে।কিন্তু নিজেকে সংযত করলো নোমান।সে মৃদু হেসে বললো
“আরে ওসব আর নেই এখন।
বলেই কথা ঘুরিয়ে বললো
“তোর শাশুড়ি কোথায়?উনার শরীরের কি অবস্থা.
অনু এবার একটু মিইয়ে গেলো।মন ভার হলো তার।এমন সময় রেহনুমার বোন রুলি এসে বলে উঠলো
“আমার বোন আর কি এখন ভালো থাকতে পারবে বাবা?ছেলেকে হারিয়ে সে কিভাবে ভালো থাকবে বল তো?
রণ বেঁচে নেই ভেবেই রুলি কেঁদে বুক ভাসালেন।ভাগ্নে মরলো সেই শোকে নাকি মেয়ের সাথে বিয়ে হলে মেয়ের কপালে কি ঘটত তা ভেবে কাঁদলো বোঝা গেলো না।
কোয়েল মিছামিছি চোখ মুছে বলে উঠলো
“আমরা কেউ ভালো নেই ভাইয়া।তাই কেমন আছি ওসব জিজ্ঞেস করবেন না।
নোমানের সঙ্গে তনুও এসেছিলো।তার থেকে থেকেই চোখ থেকে জল গড়ায়।ভালোবাসা টা এক তরফা হোক কিন্তু সে ওই মানুষটাকে ভালো তো বেসেছিলো।তনু একবার মৌনতার ঘরটার পানে তাঁকালো।মেয়েটার মনে কি চলছে ভেবেই তনু আটকে এলো।তনু নোমানকে ফেলে সিঁড়ি ধরে উপরে উঠলো
অতঃপর মৌনতার ঘরের সামনে এসে ডাকলো
“মৌনতা একটু কথা বলবে আমার সঙ্গে?
সাড়া এলো না।তনু কান পাতলো দরজায় কেমন গোঙানোর আওয়াজ আসছে।তনু কপাল কুচকালো।সে দৌড়ে রণ’র ঘরে গেলো এরপর বেলকনিতে এসে ডাকলো
“মৌনতা!
মৌনতার ঘরের জানালা দিয়ে নজর স্থির করে চিৎকার উঠলো তনু
“আল্লাহ কে কোথায় আছো তাড়াতাড়ি এসো।মৌনতা গলায় ফাঁ সি দিয়েছে।
চলবে…..
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৬