ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||৩৪||
সারিকা_হোসাইন
উঠানে বসে বসে ছোট মাছ কাটছিলেন রেহনুমা।আক্কাস মাত্রই পুকুরে জাল ফেলে তুলেছে।পাঁচ মিশালী ছোট মাছের ঝাল ঝাল চচ্চড়ি রণ’র বেশ প্রিয় ।দ্রুত রান্না শেষ করে রণ বাড়ি ফিরলেই গরম ভাতের সাথে পাতে তুলে দিবেন রেহনুমা।দাওয়ায় বসে দেওয়ান মির্জা কালুর শোক পালন করছেন।যে জায়গায় বসে বসে কালু ধুকতো সেই জায়গায় এক দৃষ্টিতে নজর স্থির করে রেখেছেন তিনি।বেদনায় কলিজা মুষড়ে উঠছে বারবার।আভিজাত্য ভরা কঠিন হৃদয় চিৎকার করে আহাজারি করতে চাইছে।কিন্তু এই বয়সে তা বড্ড বেমানান।
শায়লা রান্না ঘরে রান্নার জোগাড় করছে।সাদনান মির্জা আর কি দুর্ঘটনা ঘটায় তা নিয়ে বড্ড শঙ্কিত তিনি।
মৌনতা নিজের ঘরে বসে বসে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।সকাল থেকেই বা চোখের পাতাটা কাঁপছে।মৌনতা জানে এসব ভ্রান্ত ধারণা ।বিশ্বাস করা পাপ।কিন্তু মন কেমন যেন আতঙ্কিত।হঠাৎ এই আতঙ্কের হেতু বুঝে উঠতে পারছে না চপলা কিশোরী।
এমন সময় কেউ চিৎকার করে রোনাজারী করে বলে উঠলো
“কে কোথায় আছেন তাড়াতাড়ি বাইর হোন।মির্জা সাহেবের ছোট নাতীরে কে জানি মাইরা পানিতে ফেলে দিছে গো….
মুহূর্তেই মির্জা বাড়িতে শোকের মাতম ছড়িয়ে গেলো।মানুষটার কথা কর্ণকুহরে প্রবেশ করতেই রেহনুমা দাঁড়িয়ে গেলেন বসা থেকে।হিংস্র ভঙ্গিতে দৌড়ে এসে মানুষটিকে শুধালেন
“কি সব পাগলের প্রলাপ বকছেন?
লোকটি মাটিতে বসে মাথা চাপরে বলে উঠলো
“তোমার ছোট ছেলে মরলো গো বড় বউ…ট্রাক চাপা দিয়ে কে জানি তারে খালে ফালায় দিছে।খালের পানি যে রক্তে লাল!
রেহনুমা আর কিছু শুনলো না।সে লুটিয়ে পড়লো মাটিতে।দেওয়ান মির্জা দাঁড়িয়ে দৌড়ে আসতে চাইলেন।পারলেন না।মুখ থুবড়ে হাটু ভেঙে মাটিতে পড়ে গুঙিয়ে উঠলেন
“দাদা ভাই!
শায়লা রান্না ঘর থেকে দৌড়ে এলো এহেন ভয়ানক সংবাদে।অজ্ঞান রেহনুমা, মাটিতে কাতরানো শশুর উপরে মৌনতা।শায়লা কেমন অনুভূতি হীন হলেন।শুধু উদ্ভ্রান্তের ন্যয় দৌড়ে মেয়ের ঘরে গেলেন।গিয়ে দেখলেন মৌনতা গালে হাত দিয়ে খোলা জানালায় দৃষ্টি তাক করে আনমনে বসে আছেন।শায়লার চিৎকারে মৌনতার ধ্যান ভাঙলো।মৌনতা চমকে উঠলো।তার মা বড় শক্ত মনের মানুষ।বেহুদা কারনে এমনি এমনি কাদঁবেন না তিনি।তবে?কি অনাচার হলো?
“কি হয়েছে মা?কাঁদছো কেন?
ভীত শঙ্কিত গলায় শায়লাকে জিজ্ঞেস করলো মৌনতা।
শায়লা আহাজারি মিশ্রিত গলায় বললেন
“রণকে কে যেন মেরে ফেলেছে রে মা,আমাদের রণ নাকি আর বেঁচে নেই।
কথাটা শুনে মৌনতা স্তব্ধ হলো।তার পুরো পৃথিবী দুলে উঠলো।শরীর ভারসাম্য হারালো।জীবন ঠেকলো মূল্যহীন।গত রাতের সুখ ময় স্মৃতি কয়েক সেকেন্ড মস্তিষ্ক দাপিয়ে বেড়ালো।অতঃপর শরীরের ভার ছেড়ে দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো মৌন।চোখ জোড়া বন্ধ করার আগে শুধু বিড়বিড় করে আওড়ালো
“তোমার মেয়ে যে বিধবা হলো মা!
জ্ঞান খোয়ালো মৌনতা।শায়লা মেয়ের কথার মানে বুঝে গেলেন মুহূর্তে।তার বুক আরেকটু কাঁপলো।মেয়ের সম্মুখ ভবিষ্যৎ জিবন চিন্তা করে আহাজারি করে কাঁদতে আরম্ভ করলেন শায়লা।
“কোন পাপের শাস্তি দিলে গো মাবুদ?এই শোক কেমনে সইবো?
নিমিষের ব্যাবধানে খবর ছড়িয়ে গেলো পুরো গ্রাম,জেলা,উপজেলা।সাদনান মির্জা কাঁদতে কাঁদতে ছুটলেন খাল পাড়ে।আদনান মির্জা দৌড়ে এলেন বাড়িতে।সৌম্য রওনা দিলো ঢাকা থেকে সঙ্গে মুইন আর মাহির ।
রণ’র সিএনজি ড্রাইভার যখন কদমতলী বাস স্ট্যান্ড এর কাছাকাছি এলো তখন পুরো রাস্তা জুড়ে যানবাহন আর মানুষের ঢল।সকলেই দৌড়াচ্ছে।চোখে মুখে ভয় আর আতংক তাদের।রাস্তা জুড়ে জ্যাম লেগে গিয়েছে।গাড়ি গুলো এক মুহূর্তের জন্য নড়ছে না।সিএনজি ড্রাইভার উৎসুক হয়ে একজন পথচারী কে জিজ্ঞেস করলো
“ভাইজান এতো জটলা কিসের?কি হইছে সামনে?
মানুষটি হাঁপাতে হাঁপাতে বললো
“দেওয়ান মির্জার মিলিটারি নাতীরে কে জানি ট্রাক চাপা দিয়া জিপ গাড়ি সহ খালে ফালায় দিছে।মানুষটা নাকি মইরা গেছে।
কথাটি বলেই ফাঁকা রাস্তা দিয়ে দৌড়ে চলে গেলেন মানুষটা।রণ লোকটার কথা শুনে থ হয়ে বসে রইলো।মুখে রা টুকু ফুটলো না।শুধু কানে বাজতে লাগলো
“যেদিন আমি থাকব না সেদিন বুঝবি কি হারিয়েছিস।থাকতে পাত্তা দিচ্ছিস না তো?সময় এলে বুঝবি!..
রণ’র স্বচ্ছ চোখ জলে ভেসে উঠলো।চিৎকার দিয়ে কান্না পেলো।চতুর মস্তিষ্ক আঙ্গুলি নির্দেশ করে বললো
“দেখ ওই নোমান শাহরিয়ার কতটা ভয়ংকর।তোকে মারতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সে।আর তুই মামুলি বিষয় মনে করে আঙ্গুল চুষে যাচ্ছিস ।প্রাণাধিক প্রিয় ব্যাচমেট,রুম মেট,বন্ধু আর ভাইয়ের মতো আপন মানুষটাকে হারিয়ে ফেললি হেঁয়ালি করে?সইতে পারবি এই যন্ত্রণার জ্বালা?
রণ আর বসে থাকতে পারলো না।সে উদ্ভ্রান্তের ন্যয় নামলো সিএনজি থেকে।এরপর দৌড়ে চলতে লাগলো ব্রিজ পাড়ের উদ্দেশ্যে।ঘটনা নিজ চোখে দেখা চাই।চোখের উপচে পড়া জল দুই হাতে মুছে রণ দৌড়াতে দৌড়াতে বলে উঠলো
“তুই এভাবে কাপুরুষের ন্যয় মরতে পারিস না দূর্জয়।একজন ইন্টেলিজেন্স কমান্ডো মেজরের এহেন ধরাশায়ী মৃত্যু হাস্যকর।তুই এতোটাও বোকা নস ।যদি তাই হয়ে থাকিস তবে এতো এতো প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার ট্রেনিং সব বৃথা।সব …..
রণ দৌড়ে ব্রিজের কাছে এলো।ইতোমধ্যে মানুষের ঢল নেমেছে চারিধারে।মানুষের মাথা মানুষ খাচ্ছে।মির্জা বাড়ির লোক জন ব্রিজের রেলিং ধরে চিৎকার করে চলেছে।এমন সময় ধেয়ে এলো কালো রঙের গাড়ি।তা থেকে অভিজাত চলনে নামলো নোমান।চোখে দামি কালো রোদ চশমা।ফর্সা মুখের গোলাপি ঠোঁটে প্রাপ্তির খুশির ঝিলিক।চোখ থেকে চশমা খানা নামিয়ে বুক পকেটে রেখে ভিড় ঠেলে আদনান মির্জার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো নোমান।অতঃপর আদনান মির্জাকে জড়িয়ে দুঃখী গলায় বলে উঠলো
“এভাবে কাঁদবেন না আংকেল।আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে কি আর করা যাবে বলুন?বিধাতার উপর কারোর হাত চলে না।আপনার এভাবে কাঁদলে মেজর সাহেবের আত্মা কষ্ট পাবে।
বলেই ব্রিজের রেলিং ধরে পানিতে নজর দিলো।জিপটা কেমন তলিয়ে আছে।আফসোসের স্বরে ঠোঁটে চু চু শব্দ করলো নোমান।অতঃপর থানায় ফোন করলো
“গাড়িটা তুলার ব্যবস্থা করুন অফিসার।গাড়িতে জরুরি জিনিস গুলো যে ভিজে যাচ্ছে।আহহা এতো অলস হলে হয়?
নোমানের কথা গুলো শুনে ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে গেলো রণ।পকেট হাতড়ে রোমাল বের করে মুখ বেঁধে নিলো।এরপর জনমানব হীন জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালো।সেখানে দাড়াতেই এক বৃদ্ধ মানুষকে চোখে পড়লো।রণ দৌড়ে গিয়ে বলল
“চাচা আপনার ফোনটা আমাকে দেয়া যাবে?আমি একটু জরুরি কল করবো।
বৃদ্ধ ভ্রু কুঁচকে রণ’র পানে তাকিয়ে রইলো খানিক।এরপর ফোন এগিয়ে বললো
“বেশি টাকা খরচ কইরেন না আবার।
রণ ঝটপট হাতে ডায়াল করলো হেডকোয়ার্টার এর নম্বর।রিং কেটে যাবে মুহূর্তে ফোন রিসিভ হলো
“মেজর রিপোর্টিং.
নাম বললো না রণ।ওপাশের ব্যক্তিও কন্ঠ শুনেই বুঝে ফেললো ফোনের ওপাশে কে আছে।শুধু ভারী গলায় বলল
“এই নম্বর কেন?
রণ হাতের আজলায় মুখ মুছে একটু দূরে সরে দাঁড়ালো।অতঃপর ব্যস্ত কম্পিত গলায় বলল
“মেজর দূর্জয় আজই বেড়াতে এসেছিলো আমাদের গ্রামে।সে আমার জিপে ছিলো আমি ছিলাম উপজেলার পথে।নোমান শাহরিয়ার ভাড়াটে খুনি দিয়ে ট্রাক চাপা দিয়েছে মেজর দূর্জয় কে ।ব্রিজের রেলিং ভেঙ্গে জিপ সমতে মেজর দূর্জয় পানিতে পড়ে গেছে।মানুষের ধারণা সে বেঁচে নেই।গাড়িতে নোমান সম্পর্কে কালেক্ট করা আমার জরুরি ডকুমেন্টস আছে স্যার।আপনি প্লিজ এরিয়া সিকিউর্ড করে স্পেশাল রেসকিউ টিম পাঠান।যেকোনো মূল্যে আমার ওয়ালেট আমার হাতে চাই।
লাইন কেটে গেলো ।রণ বৃদ্ধকে ফোন এগিয়ে দৌড়ে গেলো পুনরায় ব্রিজের কাছে।স্বজনদের হৃদয়বিদারক আহাজারি সহ্য করতে পারছে না সে।কিন্তু এখন সামনে যাওয়াও বিপদ।নোমানকে চোখে ধুলো দিয়েই বাকি কাজ সারতে হবে।নয়তো সামনে নোমান আরো নোংরা পরিকল্পনা সাজাবে।
পুলিশকে হটিয়ে উদ্ধারকর্মীর টিম ছুটে এলো।মাইক দিয়ে ঘোষণা জারি করে দমন করলো মানুষের ভিড়।অতঃপর ক্রেন দিয়ে উত্তোলনের চেষ্টা চালানো হলো জিপ গাড়ি।মুহূর্তেই নিকটস্থ ক্যাম্প থেকে ছুটে এলো আর্মির বহর ।তারা ব্যারিকেড দিয়ে দিল হলুদ টেপ দিয়ে।লোকজন বহু দূর থেকে তামাশা দেখতে লাগলো শুধু।সেটাও আর্মি টিম নিজেদের ব্যারিকেড দিয়ে রোধ করলো।ঘন্টা খানেকের চেষ্টার পর তোলা হলো জিপ।কিন্তু একি!মেজর দূর্জয় কোথায়?
দুদিন লাগিয়ে পুলিশ আর উদ্ধার কর্মী খুঁজে চললো মেজর দূর্জয় কে ।গ্রাম্য মানুষের ধারণা লাশ খালের স্রোতে ভেসে গেছে।কিন্তু পুলিশের চোখে সন্দেহের নজর ।নিশ্চুপ আর্মি আর রেসকিউ টিম।
দুদিন বাদে একজন আর্মি পার্সন,দুজন পুলিশ আর উদ্ধার কর্মী মির্জা বাড়িতে এলেন।পুরো বাড়ি শোকে স্তব্ধ।যেনো একজনের সঙ্গে বাকি প্রাণ গুলোও ঝরে গেছে।পুলিশ হাঁক বাড়িয়ে ডাকলেন
“মেজর সাহেবের মা বাবা কে আছেন?
রেহনুমা বিছানায় শয্যাশায়ী,দেওয়ান মির্জা মৃত্প্রায়।শায়লা মেয়েকে সামলাতে উন্মাদ।আক্কাস চামেলি গুনগুন করে কেঁদে চলেছে।সৌম্য ভেজা চোখ মুছে চলেছে বারবার।
পুলিশের হাঁকডাকে দৌড়ে এলো মৌনতা পেছনে এলো সৌম্য, মুইন মাহির।
বাড়ির সদস্য কে দেখে আর্মি অফিসার বললো
“এখানে মেজর রণ’র কিছু জিনিস আছে।
এগিয়ে দিতেই মৌনতা ছো মেরে নিয়ে গেলো সেই বক্স।অতঃপর মাটিতে বসে উদ্ভ্রান্তের ন্যয় খুললো তা।বক্সে একটা ওয়ালেট, একটা রোদ চশমা,একটা মোবাইল আর ঘড়ি।ঘড়িটা হাতে নিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো মৌনতা।গত রাতেই রণকে ঘড়িটা গিফট করেছে সে।সায়নী কে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা থেকে কিনেছিলো।এরপর ওয়ালেট খুললো।ওয়ালেট এর প্রথম চেম্বারেই মৌনতার ছোট বেলার একটা ছবি।মৌনতা দুই পাশের দুটো বিনুনি টেনে ধরে খিলখিল করে হাসছে।ছবিটা রণ তুলেছিলো মৌনতার সাত বছরের জন্ম দিনের দিন।রণ একটা ফিল্ম ওয়ালা ক্যামেরা কিনলো সেবার।উৎসুক মৌনতা ভয় ডিঙিয়ে আবদার করলো
“একটা ছবি তুলে দেবে রণ ভাই?
রণ নাক কুঁচকে বললো
“তোর যেই বিশ্রি চেহারা ,শেষে না আমার ক্যামেরাই নষ্ট হয়ে যায়।
মৌনতা মন খারাপ করলো।কিন্তু রণ বললো
“নষ্ট হলে জরিমানা দিবি?
আরেকটু মন ভার করলো মৌনতা।রণ গাল টিপে বললো
“ঠিক আছে তোর বাপের থেকে ক্যামেরার টাকা উসুল করবো।এবার হাস দেখি।
বলেই ছবিখানা তুলেছিলো।মৌনতা সহ্য করতে পারলো না।সে বক্স টা ধরে দৌড়ে চলে গেলো রেহনুমার কক্ষে।গিয়ে বিছানায় বক্সটা মেলে ধরে বলল
“তোমার ছেলে আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো আমাকে ফেলে কোত্থাও যাবে না।আমি তোমার ছেলেকে বলেও ছিলাম, তুমি চলে গেলে আমার গলায় দড়ি দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না রণ ভাই।তবুও নিষ্ঠুরের মতো সে চলেই গেলো।ভুলে গেলো আমাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি।তোমার ছেলে একটা স্বার্থপর প্রতারক বড় মা।দেখো আমাকে জীবন্মৃত করে কিভাবে পালিয়ে গেলো।একটা বার ভাবলো ও না আমার কথা।আমি কিভাবে বেঁচে থাকব সেটা নিয়েও চিন্তা করল না।এবার কি হবে আমার ?
কথা গুলো বলতে বলতে উন্মাদ হয় উঠলো মৌনতা।গাল মুখ খামচে চুল টেনে ধরে বলে উঠলো
“তোমার ছেলে আমাকে ভালোবাসতে শেখালো।যখন আমিও তাকে ভালোবেসে আকড়ে ধরে বাঁচতে চাইলাম তখন সে আমার হাত ছেড়ে দিলো।তোমার ছেলে কথা দিয়ে কথা রাখলোনা বড় মা।আমি কখনো ক্ষমা করব না তাকে।কখনো না ।
মৌনতা দেয়ালে মাথা ঠুকলো।কপাল ফেটে যাবার উপক্রম হলো।কিন্তু সে শান্ত হলো না।এই দৃশ্য দেখে রেহনুমা আরো হুহু করে কেঁদে উঠলেন।মৌনতা হঠাৎ আগ্রাসী হয়ে বলে উঠলো
“গলায় দড়ি দিতে হবে আমাকে বড় মা।নইলে তোমার ছেলের কাছে কিভাবে যাবো বলো?তোমার ছেলেকে ছাড়া আমি তো থাকতে পারবো না।আমার দম নিতে কষ্ট হয়।হয় আমাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দাও নয়তো তোমার ছেলেকে এনে দাও।
চলবে….
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৮