Golpo ডিফেন্স রিলেটেড ভালোবাসার সমরাঙ্গন

ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩১


ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||৩১||

সারিকা_হোসাইন


রণ’র বলা কথা গুলো নোমানের কানে বজ্রপাতের ন্যায় বিকট শব্দে আলোড়ন তুললো।নোমান কেমন ধরাশায়ী হলো।বুকে সূক্ষ চিনচিনে ব্যথা আৰম্ভ হলো।হাত দিয়ে বুকে শক্ত করে চেপে ধরে দেয়ালে হেলে পড়লো নোমান।মনে হচ্ছে কেউ তার শ্বাসনালী শক্ত করে চেপে ধরেছে ।সেই সাথে ধারালো ছুড়ির ফলা দিয়ে নিষ্ঠুর ভাবে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে দগ্ধ করছে হৃদপিণ্ডের প্রত্যেকটি কোষ।নোমানের রক্তাক্ত চোখ জোড়া ছলছলে হলো।শরীর হলো ভার অনুভূতি শূন্য।নোমানের ফ্যাকাসে রংহীন মুখের পানে তাকিয়ে বিদ্রূপের হাসি হাসলো রণ।অতঃপর নির্দয়ের মতো বললো

“মৌনতার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে আমার অবাধ বিচরণ হয়েছে নোমান শাহরিয়ার।বুঝতেই পারছেন নব দম্পতি।গতকাল রাত ছিলো সুখময় এক বর্ষনের রাত।উফ মনে পড়তেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।

রণ’র হাসিমাখা মুখের পানে তাকিয়ে চোয়ালে চোয়াল চেপে শক্ত মুঠি পাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো নোমান।রণ’র প্রতি আকাশ সম ঘৃণায় তার শরীর রি রি করে উঠলো।ইচ্ছে হলো বুলেট দিয়ে রণ’র প্রশস্ত শিনা ঝাঁঝরা করে দিতে।রণ সেসব তোয়াক্কা করলো না।সে রসিয়ে ভাবলেশহীন বললো

“ভেবেছিলাম গাঁধী টাকে শিখিয়ে পরিয়ে মানুষ করতে হবে।বাট ট্রাস্ট মি,শি ওয়াজ এমেজিং।নিজে থেকে আমাকে আহবান করেছে ভালোবাসার উষ্ণ সরোবরে।আম জাস্ট শকড নোমান….

আরো কিছু বলতে নিলো রণ।কিন্তু নোমান শুনতে পারলো না।সে এলোমেলো পায়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো সিঁড়ি ধরে।নোমানের যাবার পানে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য হেসে রণ গালি উচ্চারণ করলো

“বাস্টার্ড”

অতঃপর হাতের কাগজপত্র নিয়ে ভেতরে ঢুকলো।ভেতরে বিছানায় আধ শোয়া হয়ে হেলান দিয়ে নির্জীব পড়ে আছেন দেওয়ান মির্জা।তখনকার পুরো ঘটনা তার চোখ এড়ায়নি।রণ’অসম ক্রোধ, নোমানের কাতর চোখ,মৌনতার ভীতি সব অবলোকন করেছেন চতুর স্বচ্ছ মস্তিষ্কে।ঘটনাটা কেমন বুকে কাঁপন তুলছে।যেই নোমানকে এতদিন তিনি চিনে এসেছেন রণ’র মৌনতা কে ধমকের পর মুহূর্তেই সেই সহজ সরল নোমান কেমন হিংস্র হয়ে উঠলো।যেন অন্য এক জগতের মানুষ।কে এই নোমান?এই নোমান কে তো দেওয়ান মির্জা চিনেন না।

এমন সময় ভেতরে এলো সৌম্য,এসেই কাগজ পত্র সব গুছিয়ে হাতে নিয়ে বললো

“মা আর অনু সারাদিন কিছুই খায়নি।মা’র প্রেসার ফল হলে আবার উনাকেও হসপিটালে ভর্তি করতে হবে।তারচে বরং ওদের আমি বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি,আক্কাস রয়েছে বাইরেই।দাদা ভাইয়ের গাড়িতে তুই দাদাভাই কে নিয়ে আয়।

বলেই হাতে ঘড়ির টাইম চেক করে চপল পায়ে বেরিয়ে গেলো সৌম্য।বাড়িতে গিয়ে রাত আটটায় তাকে একটা অনলাইন মিটিংয়ে জয়েন হতে হবে।না হলে বস কথা শোনাতে দয়া মায়া করবে না।

সৌম্য যেতেই দেওয়ান মির্জার পাশের চেয়ারটায় নজর পড়লো রণ’র।একটু আগেই নোমান এখানে বসে নির্লজ্জের মতো তার স্ত্রীকে গিলে খাচ্ছিলো।নোমানের সেই ঘৃণিত দৃষ্টি মনে পড়তেই রণ’র চোখ মুখ লাল হয়ে উঠলো।ইচ্ছে হলো নোমানের চোখ জোড়া তুলে নিতে সেই সাথে মস্তিষ্ক থেতলে দিতে।নিশ্চিত ওই নোংরা মস্তিষ্কে মৌনতা কে ঘিরে অসভ্য কল্পনায় মত্ত হয়েছিল সে।

নিজের রাগ কোনো মতে দমন করে আশেপাশের সব কিছুতে নজর বুলালো রণ।হসপিটালে অনেক আত্মীয় স্বজন এসেছিলো।ভুলে কেউ কিছু রেখে গেলো কিনা সেটাও খুজলো।এমন সময় দেওয়ান মির্জার বিছানার বালিশের কাছে একটা বাদামি রঙা ওয়ালেট পরে থাকতে দেখা গেলো।এটা রণ,সৌম্য কারোর নয়।তবে কার?

ওয়ালেট এর মালিকের পরিচয় জানতে উদগ্রীব হলো রণ।অন্যের ব্যাক্তিগত ওয়ালেট ধরা যদিও ভদ্রতাঁর মধ্যে পড়েনা।তবুও ওয়ালেটের মালিকের পরিচয় জানতে ইতস্তত করে ওয়ালেট খানা খুললো রণ।ভেতরে কোনো ভিজিটিং কার্ড নেই।শুধু টাকা আর কিছু কাগজপত্র।রণ ওয়ালেট এর প্রত্যেকটা চেম্বার ঘেঁটে একটা অদ্ভুত কাগজে নজর স্থির করলো।তার হাত কেঁপে উঠলো।কাগজ খানা বের করে মেলে ধরলো সে।একটা অর্ধকাটা বিদেশি নোট।এই নোট রণ আগেও দেখেছে।রণ নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পরলো না এই মুহূর্তে।মনে হলো সব ভ্রম।অবিশ্বাস্য ভঙ্গিতে নিজের পকেট হাতড়ে ওয়ালেট বের করে তার থেকে বের করে আনলো একটা ছেড়া নোট।তাতে চারটা ডিজিট আর একটা সঙ্কেত লেখা।সেই নোটনা যত্ন সহকারে ওপর নোটের অংশের সাথে মেলালো রণ।সহসাই দুইয়ে দুইয়ে চার মিললো।রণ’র বাঁকা ভ্রু সরু হলো।বুক ধক করে কেঁপে উঠলো।দুটো নোটের অংশ ঝটপট পকেটে ঢুকিয়ে পূর্বের জায়গায় ওয়ালেট ফেলে হাতের আজলায় মুখ মুছে রণ জড়িয়ে যাওয়া গলায় বলল

“বাড়ি চলো দাদাভাই”

দেওয়ান মির্জা চোখ খুললেন রণ’র কথায়।অতঃপর ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নামতে নামতে শুধালো

“সাদনান এসেছিলো একবারও?

পুত্র স্নেহে বৃদ্ধের বুকে কিনিকিনি ব্যাথার উৎপত্তি হলো।রণ বুঝলো তা।সে মাথা নাড়িয়ে বললো

“এসেছিলো, কেউ ঢুকতে দেয়নি।

দেওয়ান মির্জা তপ্ত শ্বাস ছুড়ে বললেন

“কোথাও কিছু একটা ঘটেছে রণ।সাদনান খুবই নরম দিলের মানুষ।হঠাৎ ওর এই রূপ পরিবর্তন আমার ভালো ঠেকছে না।একটু খোঁজ নাও।ভেতরে বিশাল বড় রাজ রহস্য আছে।

বলেই লাঠি ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন।রণ দেওয়ান মির্জার বাহু চেপে ধরে জবাব দিলো

“আমি সেই রহস্য খুঁজবো দাদাভাই, কিন্তু তার আগে আমাকে জানতে হবে কার সাথে ছোট আব্বু মৌনতার বিয়ের পাকা কথা দিয়েছেন।

এমন সময় আক্কাস এলো,এসে বললো

“নানা জান রে আমি লইয়া যাইতাছি মিলিটারি ভাইজান,আফনে গাড়ি বাইর করেন।

বলেই রণ’র হাত থেকে দেওয়ান মির্জার হাত ছুটিয়ে নিজের হাতে নিলো,নিয়ে চলতে লাগলো।পেছন থেকে রণ বললো

“গাড়িতে গিয়ে বস তুই,আমার একটা জরুরি কাজ পড়েছে।আসছি একটু পর।


রণ’র মুখ থেকে মৌনতা সম্পর্কে বিশ্রি কথা গুলো শুনে নোমানের মস্তিষ্কে দাউদাউ করে আগুন জ্বললো।এই আগুন কিভাবে নেভাতে হয় তা নোমান জানে।নোমান হিসহিস করতে করতে সাদনান মির্জার কেবিনে এলো।সবাই হাত খানা প্লাস্টার করে স্লিং লাগানো হয়েছে।ব্যাথায় সাদনান মির্জার চোখ মুখ নীল হয়ে রয়েছে।নোমানকে দেখেই নীল মুখ ফ্যাকাসে হলো।সাদনান মির্জা বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়াতেই সেই হাত চেপে ধরলো নোমান।ব্যাথায় চিৎকার করে উঠলেন সাদনান মির্জা।সেই চিৎকারে বদ্ধ কেবিন অসহনীয় হয়ে উঠলো।তাতেও কোনো ভ্রূক্ষেপ দেখালো না ক্ত্যিন পুরুষ নোমান।সে দাঁত পিষে সাদনান মির্জার মুখের দিকে ঝুঁকে বলে উঠলো

“মেয়ে বিয়ে করে বসে রয়েছে তার খবর রেখেছেন?সব কিছু নাকের ডগার উপর দিয়ে ঘটে গেলো কিচ্ছুটি জানেন না?

সাদনান মির্জা চমকিত হলো এই কথায়।তবুও নিজেকে সামলে বললো

“সব মিথ্যে,আমার মেয়ে এতবড় সাহস কক্ষনো পায়নি।

নোমান ঝটকা দিয়ে হাত ছেড়ে বলে উঠলো

“মিথ্যাই যেন হয়,সত্যি হলে সব কটার গলা কে টে নিতে দু’বার ভাববো না।

বলেই কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো।এসেই রণ’র মুখোমুখি হলো।আকস্মিক রণকে দেখে ঘাবড়ে গেলো নোমান।সে থতমত করে কিছু বলতে চাইলো।তার আগেই রণ বাঁকা হেসে ওয়ালেট টা এগিয়ে বলে উঠলো

“আপনি বড্ড ভুলোমনা মানুষ নোমান সাহেব।সব কিছুতে এতো আগ্রাসী হলে হয়?কত দরকারি জিনিস থাকে পার্সোনাল ওয়ালেটে।কেউ যদি নিয়ে যেত?

রণ’র হাতে নিজের ওয়ালেট দেখে দ্বিতীয় দফায় চমকিত হলো নোমান।উদভ্রান্তের ন্যয় নিজের পকেট হাতড়ে ছো মেরে রণ’র থেকে ওয়ালেট কেড়ে নিয়ে নিজের সহযোগী দের নিয়ে দৌড়ে পালাতে চাইলো।পেছন থেকে রণ ডাকলো

“একটা থ্যাঙ্কস তো ডিজার্ভ করি মিস্টার নোমান!

নোমান পেছন ফিরলো না।রণ নিজের ফোন বের করে হেড কোয়ার্টার এ কল করলো।অতঃপর বললো

“ফলো হিম।


থালার মত মস্ত বড় চাঁদটা বেশ উজ্জ্বল আলো ছড়াচ্ছে।আকাশে ধূসর মেঘের জমাট মেঘ।শিরশির বাতাসে আঙিনার জুঁই ফুলের গাছ থেকে মন মাতানো সুঘ্রাণ ভেসে আসছে। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে একাকী রাতের সৌন্দর্য উপভোগে ব্যস্ত হতে চাইলো মৌনতা।কিন্তু মন বড্ড ভার।কেমন অসুখ অসুখ যন্ত্রনা সেখানে।মৌনতা বেদনার্ত কম্পিত শ্বাস ফেলে রণ’র বেলকনিতে তাকালো।ঘড়িতে রাত প্রায় দুটো।মানুষটা এখনো বাড়ি ফেরেনি।দেওয়ান মির্জাকে বাড়ির গেটের সামনে নামিয়ে দিয়েই ফের ছুট লাগিয়েছে সন্ধ্যায়।আচ্ছা কিসের এতো ব্যস্ততা তার?তার জন্য যে,কেউ উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছে তার খবর কি মানুষটা রেখেছে?মৌনতার কান্না পেলো।রণ এই বাড়িতে আর মাত্র চার দিনের অতিথি।এরপর তাদের মধ্যে হাজার হাজার কিলোমিটার এর দূরত্ব তৈরি হবে।মাঝে সাঁঝে কথা হবে কিনা সেটাও জানা নেই।মানুষটা বোধ করি ইচ্ছে করেই মৌনতা কে জ্বালাতে পোড়াতে ভালোবাসে।নয়তো এমন বিরহে কেউ কাউকে ভাসায়?

হঠাৎ মৌনতার চোখ গেলো বাড়ির ঝোপের ধারে।কিছু নড়ছে ওখানে।বারান্দার পিলারের আড়ালে লুকিয়ে ঘটনা বোঝার চেষ্টা করলো।আজকাল কিচ্ছুটি স্বাভাবিক লাগে না।চারিধারে সব কিছু কেমন গা ছমছমে।ধীরে ধীরে ঝোপ মাড়িয়ে বেরিয়ে এলো কালো পোশাক ধারী এক ছায়া।চাঁদের আলোতে তার উচ্চতা স্পষ্ট।মৌনতা কেঁপে উঠলো,সে সরে এলো অন্ধকারে।এমন সময় কেউ মৌনতার মুখ চেপে ধরলো।আঁতকে উঠলো মৌনতা।কিন্তু পুরুষালি গন্ধে মুহূর্তেই নিজেকে ধাতস্থ করলো।মৌনতার কানে ফিসফিস করে রণ বললো

“আমার ঘরে চল, প্রেম পাচ্ছে।

মৌনতা ঘাড় ঘুরিয়ে আঙ্গুল নির্দেশ করে বাড়ির পেছনের আঙিনা দেখালো।রণ মৌনতা কে পাজা কোলে তুলে বলে উঠলো

“বেচারার বুকে অনেক কষ্ট,তাকে তোর ফাঁকা ঘরে এসে কষ্ট উগলাতে দে।

বলেই নিঃশব্দে দরজা ভিড়িয়ে মৌনতা কে নিয়ে নিজের ঘর অভিমুখে পা বাড়ালো রণ।জানালা ডিঙিয়ে চাঁদের রুপালি আলো রণ’র ঘরের আবছা অন্ধকার দূর করেছে।সেই আলোয় মৌনতা কে মেঝেতে দাঁড় করিয়ে মৌনতার কপালে চুমু খেলো রণ।আবেশে চোখ বুজে জামা খামচে মৌনতা কম্পিত গলায় শুধালো

“নোমান শাহরিয়ার কি খেলা খেলতে চাইছে রণ ভাই?

মৌনতার কোমর জড়িয়ে আরেকটু ঘনিষ্ঠ হয়ে রণ জবাব দিলো ঘোর লাগা গলায়

“ও আমাকে ধরাশায়ী করে মারতে চাইছে।

ভয়ার্ত গলায় মৌনতা বললো

“কেনো?

“কারন তার সবকিছু আমি লুটে নিচ্ছি।

“অহেতুক ঝামেলায় কেনো জড়াচ্ছ তার সাথে?

মৌনতার গলার ভাঁজে মুখ ডুবিয়ে রণ বললো

“চোর পুলিশ খেলা চলছে আমাদের।ও বিশাল বড় এক চোর মৌন।ওকে বন্দি না করলে ও সব কিছু চুরি করে নিয়ে যাবে।এমনকি তোকেও।তোকে ছাড়া আমি প্রাণে বাঁচবো কি করে বলতো?

রণ’র স্পর্শে মৌনতার শরীর কেঁপে উঠলো।রণকে শক্ত আলিঙ্গনে বেঁধে মৌনতা ফিসফিস করে শুধালো

“তবে কি উপায়?

“উপায় তো একটা আছেই।অনুর কাছে একদম যাবিনা।আপাতত ছোট মার ঘরে থাক।তোর বাপ বাড়িতে এলে একদম তার সামনে জাবি না।আমি খুব শ্রীঘ্রই সব কিছুর সমাধান করবো দেখিস।

রণ’র কথায় মৌনতা ভরসা পেলো।সে রণ’র বুকে চুমু খেয়ে বলে উঠলো

“তুমি মিশনে গেলে আমি একা কি করে থাকবো রণ ভাই?যখন একাকী রাতে তোমার গলা শুনতে ইচ্ছে করবে তখন কিভাবে কথা বলবো তোমার সাথে?এসব ভেবেই আমার খালি কান্না পাচ্ছে।তুমি ইচ্ছে করেই মিশনে নাম লিখিয়েছ তাই না?

মৌনতার উন্মুক্ত পিঠে উষ্ণ আঙ্গুলি চালনা করে রণ ফিসফিসালো–

“জানিসনা দূরত্বে ভালোবাসা মজবুত হয়?আমি চাই আমার অনুষ্পস্থিতিতেও তুই আমাকে ভালোবেসে আমার বিরহে উন্মাদিনী হয়ে ঘুরে বেড়াস।নয়তো ভালোবাসার স্বার্থকতা কোথায় বলতো?

ধীরে ধীরে দুজনের দূরত্ব ঘুচলো,ভালোবাসার তপ্ত সরোবরে ঝাঁপিয়ে পড়লো তারা।এদিকে মৌনতার কক্ষের বেলকনীর দরজা ডিঙিয়ে ধীর পদে মৌনতার বৃহৎ কক্ষে প্রবেশ করলো অন্ধকার এক ছায়া।উদ্দেশ্য চড়ের প্রতাপে দাগ হয়ে যাওয়া সেই রক্ত জমাট গাল গুলো ছুঁয়ে দেয়া।মনের অভিলাসে বিছানার নিকট এগুতেই হৃদয় ভাঙার আওয়াজ হলো করুন ভাবে।বিছানায় মৌনতা নেই।পুরো কক্ষ ফাঁকা।এবার যুবকের শরীর কেঁপে উঠলো জানা ক্রোধে।সে মনে মনে ভয়ানক এক সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো

“তোমাকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলবো মেজর।ভালোবাসার মানুষের ব্যাপারে এক বিন্দু ছাড় দিতে রাজি নই আমি।মেয়ে মানুষ দুদিন কেঁদে কেটে ঠিকই নিজেকে মানিয়ে নেবে।মাঝখানে বেঘোরে প্রানটা হারাবে তুমি।আফসোস বড় আফসোস।

চলবে

পুলিশ কমিশনার সুফিয়ান চৌধুরীর একমাত্র কন্যাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে এক ছোকরা।তাও যেমন তেমন করে নয়।পুরো নাটকীয় কায়দায়।বাড়ির সকলের মাথায় বন্দুকের নল ঠেকিয়ে হাত ধরে হিরহির করে টেনে নিয়ে সোজা কালো রোলস রয়েসে।এরপর গাড়ির বহর ছুটিয়ে চলে গিয়েছে অজানা গন্তব্যে।সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে এটা যেন বাড়ির প্রত্যেক সদস্যের কাছে কল্পনাতীত।একমাত্র মেয়ের এহেন পরিণতিতে স্তব্ধ মা রেখা চৌধুরী।
টেবিলের উপর কুনুই রেখে দুই হাতের উল্টো পিঠে কপাল ঠেকিয়ে গভীর চিন্তায় থমকে আছেন সুফিয়ান চৌধুরী।প্রেস মিডিয়া থানা পুলিশ করলে মিলবে মেয়ের টুকরো টুকরো লাশ।ব্যাক্তিগত ভাবে কারো সাথে তার কোনো শত্রুতা নেই।মেয়েটাও শান্ত শিষ্ট নিরীহ।সবেই এমবিবিএস পাশ করে ইন্টার্নি করছে ।ঢাকা শহরে দিন পনেরো আগে চট্রগ্রাম থেকে তারা নতুন শিফট হয়েছে।এখনো কার্যালয়ের দায়িত্ব সেভাবে নেওয়াই হয়নি।তবে কার এমন কুনজর পরলো মেয়েটার উপর?

এদিকে গাড়িতে সমানে ছুটোছুটি করছে রূপকথা।আসে পাশে বসা কালো পোশাকধারী দুজন ব্যাক্তিকে ইতোমধ্যে বেশ নাজেহাল করে ছেড়েছে সে।মেয়েটির কিল চড়,ঘুষি, খামচি খেয়ে তাদের অজ্ঞাত সেজে থাকা মুখোশ ছিঁড়ে ছুটে একাকার।শেষমেশ কুলাতে না পেরে দুই পাশ থেকে দুজন হাত টেনে ধরে দাঁত চেপে খিচে বসে রইলো।নিজের রাগ জেদ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে রূপকথা চিৎকার করে উঠলো

“দু টাকার ফালতু মাস্তান কোথাকার।তোদের গুরুর নাম বল।তাকে আমি চাপাতি দিয়ে কুচি কুচি করে কিমা করে বার্গার বানিয়ে খাবো।আর একবার হাতটা ছেড়ে দিয়ে দেখ।তোদের কি হাল করি আমি।হাত চেপে ধরে মরদ গিরি চলছে হু?

রূপকথার কথা শেষ হতে না হতেই মুহূর্তেই থেমে গেলো গাড়ি।স্টিয়ারিং হুইল চেপে ধরে চোখের কালো রোদ চশমা খুলে ব্যাক সিটে তাকালো যুবক।এরপর মুখে ফিচেল হাসি ঝুলিয়ে বলে উঠলো

“সারফরাজ!সারফরাজ শাহজাইন।আমি ই তাদের গুরু।কি বলতে চান আমায় বলুন ডাক্তার সাহেবা।

সারফরাজ এর নাম শুনে চোখের দিকে দৃষ্টি তাক করলো রূপকথা।সারফরাজ এর আকাশি সাদার মিশেলের আইস ব্লু চোখ দুটো দেখে থরথর করে কেঁপে উঠলো সে।শরীর দুর্বল হয়ে উঠলো নিমিষেই।মাথা কেমন মস্তিষ্ক শূন্য মনে হলো।প্রেসার টাও বোধ হয় ফল করলো।জ্ঞান হারাতে চাইলো রূপকথার প্রত্যেকটি ইন্দ্রিয়।
রূপকথাকে আরেক দফা ভয়ের সাগরে ভাসিয়ে হিসহিস করে সারফরাজ বলে উঠলো

“মুখ বেঁধে হাত পা বেঁধে ফেলে রাখ এই মেয়েকে।মেয়ে মানুষের তেজ একদম পছন্দ নয় আমার।বহুত জ্বালিয়েছে।কখন শুট করে চিরতরে চুপ করিয়ে দেই বলা যায় না।আপাতত মশা মেরে হাত কালো করতে চাইছি না।বেঁধে ফেল কুইক।

সারফরাজ এর ভরাট গম্ভীর গলায় এবার হুশ হারালো রূপকথা।হাত পা বাধার প্রয়োজন পড়লো না।এতে যেনো সারফরাজ এর বেশ সুবিধাই হলো।সে ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে তাচ্ছিল্য গলায় বলে উঠলো

‘এই টুকুন প্রাণ নিয়ে আমার বিরুদ্ধে কেইস ফাইল করবে।হু?ব্লাডি স্টুপিড গার্ল।তোকে টুকরো টুকরো করে এঞ্জেলো কে দিয়ে খাওয়াবো।মেয়ে মানুষের নরম জুসি মাংস তার আবার বেশ পছন্দ।দেশি মাংসের স্বাদ ই আলাদা।হেহে।

চলবে….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply