ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||২৪||
ভোরের নরম সোনালী চিকচিকে আলো ধরনীতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিদ্রা ভঙ্গ হলো মৌনতার।বড় বড় অক্ষি পল্লব মেলে চারপাশে একবার নজর বুলালো সে।মস্তিষ্ক সজাগ হতেই গত রাতের ঘটনা মন শহরে হামলে পড়লো।লজ্জায় বালিশে মুখ গুজে লাজুক হেসে উঠলো মৌনতা।গায়ের ওড়না থেকে এখনো রণ’র শরীরের সুবাস আসছে।মৌনতা লম্বা করে শ্বাস টানলো।মনে হলো রণ এখনো তার বুকে জড়িয়ে আছে।রণ’র সাথে কাটানো গত রাতের কিছু সুখ ময় মুহুর্ত মনে পড়তেই মৌনতার দুই গাল তপ্ত গোলাপি হয়ে উঠলো।হৃদয় জুড়ে খেলে গেলো বসন্তের হাওয়া।সেই হাওয়া এলোমেলো করে দিলো থরে থরে সাজানো গোছানো ভালোবাসা।মৌনতার কেমন বেসামাল লাগলো।কিশোরী তনু মন অজানা উষ্ণতায় কেঁপে উঠলো।সেই স্পর্শ ঘনিষ্ঠ মুহুর্ত পুনরায় উপভোগ করতে হচ্ছে হলো।কিন্তু চাইলেও তা সম্ভব নয়।মৌনতা দীর্ঘ কম্পিত শ্বাস ফেললো এহেন যাতনায়।অতঃপর বালিশের তল ঘেঁটে সায়নির ফোনটা বার করে হাতে নিলো। দুরুদুরু বক্ষে শীতল হাতে রণ’র নম্বর বের করে উন্মুখ হয়ে কানে ফোন তুললো মৌনতা।কিন্তু রিং বাজার আগেই কেটে গেলো কল।নেটওয়ার্ক ডিস্টার্ব ভেবে মৌনতা পুনরায় কল করলো।এবার স্পষ্ট শোনা গেলো নম্বর সুইচড অফ।মৌনতার চোখ মুখে বিষাদের মেঘ জমলো।এই বুঝি অক্ষি ছাপিয়ে বৃষ্টি হয়!মৌনতা ঠোঁট কামড়ে আরেকবার কল ঢোকালো।এবারও নম্বর বন্ধ।মৌনতা বার্তা পাঠালো
“রণ ভাই তোমাকে খুব মনে পড়ছে।দয়া করে একবার ফোনটা ধরো।নয়তো প্রাণ যাবে আমার।
বার্তা খানা পাঠিয়ে মৌনতা কোলের উপর ফোনটা ফেলে বাবু আসনে বসে বাইরের জানালা দিয়ে দূরে তাকালো।সুন্দর সকালটা নিমিষেই কেমন কুৎসিত কদাকার আর বিষাদময় সকালে রূপ নিলো।
ধীরে ধীরে সকাল পেরিয়ে সূর্য মধ্য গগনে যাবার প্রস্তুতি নিলো।তবুও ফোন খুললো না রণ।মৌনতা না খেয়ে সারা সকাল পাড়ি দিলো দুশ্চিন্তায়।সায়নী আর সিমি মিলে এক লোকমা ভাত ও খাওয়াতে পারলো না তাকে।এমন বিরহের কালে শায়লার ফোন এলো।মেয়ের খোঁজ নেবার জন্য ফোন করেছেন তিনি।মৌনতা অনিচ্চাকৃত কথা বললো শায়লার সাথে।কথায় কথায় জানা গেলো কোয়েলের খবর।তারা মা মেয়ে বিদায় নিয়েছে আজ সকালে।এই খবর মৌনতার মনে কোন আনন্দের সৃষ্টি করলো না।বরং মেজাজ বিগড়ালো তার।মৌনতা অন্যমনস্ক হয়ে হা না উত্তর করে শায়লার সাথে কথা শেষ করলো।চতুর শায়লা বুঝলো মেয়ের মন খারাপ হয়েছে কোন কারণে।তিনি ধীরে ধীরে ঘটনা আঁচ করার চেষ্টা করলেন।কিন্তু মৌনতা সব পাশ কাটিয়ে নিলো।শায়লা কথা না বাড়িয়ে ফোন রেখে ভাবতে লাগলেন ঘটনা।
“নিশ্চিত রণ’র সাথে কিছু ঘটনা ঘটিয়েছে এই মেয়ে।নয়তো জেদ ধরে ঢাকা গিয়ে মন খারাপ করার মেয়ে মৌন নয়।
তপ্ত শ্বাস ফেলে বাড়ির কাজে মন দিলেন শায়লা।এমন সময় সাদনান মির্জা ঘরে ঢুকলেন হন্তদন্ত হয়ে।আজকাল মানুষটা বড্ড ব্যস্ততা দেখাচ্ছে।সারাক্ষণ নিজের ঘোরে থাকে।রাতে ঠিক মতো বাড়ি ফিরে না আবার মাঝে মাঝে কোথায় যেন গায়েব হয়ে যায়।শায়লা বেশ কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছে।কিন্তু ভদ্রলোক নিরুত্তর থেকেছেন সব সময়।সংসারেও বিষয়েও চূড়ান্ত উদাসীন সে।স্ত্রী,সন্তানদের জন্য কোনো সময় নেই তার।মানুষটার এহেন একাকিত্বে ভয়ে বুক কাঁপে শায়লার।তার চঞ্চল ব্যথিত মন বলে উঠে
“কোথাও চুপিসারে কোনো অঘটন ঘটছে না তো?
আনমনে ভাবতে ভাবতে শায়লার হাত থেকে সিরামিকের ফুলদানি মেঝেতে খসে পড়লো।মুহূর্তেই সমাপ্তি ঘটলো শায়লার চিন্তা ভাবনার।দামি ফুলদানি মেঝেতে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হলো।কম্পিত চকিত শায়লা মেঝের পানে তাকিয়ে নীরবে কেঁদে উঠলো।মনটা কেমন কু গাইছে।কি অঘটন ঘটতে চলেছে সামনে?
ফুলদানি ভাঙার তীক্ষ্ণ শব্দে দৌড়ে এলো রেহনুমা সঙ্গে এলো চামেলি আর তহুরা।স্তব্ধ শায়লাকে টেনে একটা টুলে বসিয়ে দিলো রেহনুমা এরপর দুই বাহুতে চেপে ধরে ঝাকুনি দিয়ে বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করলেন
“কি হয়েছে শায়লা?হঠাৎ এমন করছো কেন?কি নিয়ে ভাবনার সাগরে ডুবেছো?
শায়লা বড় বড় চোখ করে সেই ফুলদানির পানে তাকিয়েই বিড়বিড় করে বলে উঠলো
“বড় ঝড় আসতে চলেছে বড় আপা।সেই ঝড় সামলানোর ক্ষমতা আমার নেই।
এদিকে হুট করে খবর এলো শফিকুল ইসলামের বড় শালা দীর্ঘদিন বাদে বিদেশ থেকে ফিরছে।বড় মামা ফিরে আসছে শুনে সায়নী আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠলো,সে জেদ ধরলো এয়ারপোর্ট গিয়ে মামাকে চমকে দেবে।সেই ছোট বেলায় তাদের শেষ সাক্ষাৎ হয়েছিলো সামনা সামনি।সায়নির বয়স তখন সবে ছয়।সায়নির নানার সাথে রাগ করে ছাত্র অবস্থাতেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।বিয়েটা পর্যন্ত করেননি সেই অভিমানের জের ধরে।ফোনের ছোট স্ক্রিনে সায়নিকে দেখে ভদ্রলোক শুধু বলতেন
“মামা তুমি এখনো ছোটই রয়ে গেছো।
সায়নির অভিমান হয়।দেশে আসতে বললেই তিনি ফোন কেটে দেন নানান বাহানায়।সমস্ত অভিমান ভুলে
এতদিন বাদে বাড়ি ফিরে নিশ্চয়ই এতবড় সায়নিকে চোখের সামনে দেখে চমকে উঠবেন ভদ্রলোক!
সায়নী খুশিতে ঝটপট তৈরি হলো।মৌনতার মন এখনো ভার।সায়নী ভাবলো বাইরে ঘুরলে মৌনতার মন ভালো হবে।চোখের ইশারায় সিমিকে তৈরি হতে নির্দেশ দিয়ে জোর পূর্বক মৌনতা কে জামা পরালো।মৌনতা সাজগোজে চরম আক্রোশ জানাতেই সায়নি বললো
“হুট করে পথিমধ্যে যদি রণ ভাই এসে যায় তবে তোমাকে দেখে নাক সিটকাবে।ঢাকা শহরের সুন্দরী মেয়েদের সামনে তোমাকে বড্ড বেমানান লাগবে।
কোপ পড়লো মৌনতার কলিজায়।তাকে ফেলে রণ অন্য মেয়েকে সুন্দর বলবে এটা সে মানতে পারবে না।তাই মনে ব্যথার বৃষ্টি ঝরিয়ে সাজলো খুব অল্প।পিনপিনে সুন্দর ফর্সা মুখটিতে অল্প সাজই বেশ ফুটে উঠলো।অতঃপর মৌনতা নিজেকে খুঁটিয়ে পরখ করে চললো সায়নী,সিমি আর সায়নির মা সাবরিনা বেগমের সঙ্গে।
সকাল থেকে এক মুহূর্ত বিশ্রাম নেবার সময় পাচ্ছে না রণ।হেডকোয়ার্টারে দৌড়াদৌড়ি করতে করতে তার কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে সমানে।উপর থেকে নির্দেশ এসেছে,দুপুর বারোটার আগে তাকে তার টিম সহ এয়ারপোর্ট এ থাকতে হবে ইমারজেন্সি মিশনের জন্য।কারণ কোনো গোপন চক্র আত্মঘাতী বোমা হামলায় হত্যা করতে চাইছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসলাম তালুকদার কে।মানুষটার অধিক সততা আর দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ হওয়াই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।এয়ারপোর্ট পুলিশ,গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান সকলেই ব্যস্ত চেকিং নিয়ে।সমস্ত রুটের ফ্লাইট পর্যন্ত লেইট শিডিউল দেয়া হয়েছে।এদিকে ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইট গুলো ল্যান্ড করেছে ঢাকা এয়ারপোর্ট এ।যাত্রীরা বাইরে বেরুনোর জন্য তাড়াহুড়ো, চিৎকার, চেঁচামেচি শুরু করেছে।কঠিন ব্যরিকেড, বিভিন্ন অনুরোধ মূলক ঘোষণা কিচ্ছুতেই দমানো যাচ্ছে না তাদের।সব কিছু যখন চরম বিশৃঙ্খলার তুঙ্গে তখন নিজের ট্রেনিংকৃত জার্মান শেপার্ড এলেক্স কে নিয়ে বড় বড় পা ফেলে এয়ারপোর্ট এ প্রবেশ করলো রণ।গায়ে কালো পোশাক,কানে ব্লুটুথ ডিভাইস, কালো হুডির আড়ালে নিজের ব্যবহৃত রিভলবার আর তীক্ষ্ণ দু জোড়া চোখ।এলেক্স এর চালচলন আজ একদম স্থির আর নিশ্চুপ।যেনো সাধারণ পালিত দেশি কুকুর।
রণ মানুষের ভিড় ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে ওয়েটিং চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে বসলো।হাতে এলেক্স এর গলার বেল্ট ধরা।বুকে আড়াআড়ি দু হাত ভাঁজ করে চারপাশে নজর বুলালো রণ।সন্দেহ জনক কিছুই আপাতত নজরে লাগছে না।ধীরে ধীরে সময় গড়ালো।ইন্টিলেজেন্স কমান্ডো টিম নিজেদের শকুনি দৃষ্টি চারপাশে তাক করে রেখেও তেমন কিছুই পেলো না।যাত্রীদের বিশৃঙ্খলা ব্যতীত বাকি সব নিয়ম মাফিক চলছে।নিজেদের ট্রাভেল ট্রলি নিয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে ঘড়ি চেক করতে করতে দৌড়ে চলেছে পাইলট আর কেবিন ক্রু।কারোর চোখে মুখে ভয়ের কোন রেশ নেই ,নেই চাতুরতার ছিটেফোঁটা।সকলেই যেন নিজেদের দায়িত্ব পালনে সৎ।
কিছু সময় গড়াতেই এলেক্স ঘেউ ঘেউ করে উঠলো।এলেক্স এর ঘেউ ঘেউ শব্দে সতর্ক হলো রণ।ধীরে ধীরে আলগোছে এলেক্স এর গলার বেল্ট ছেড়ে দিলো রণ।সেই সাথে নিজের রিভলবার হাতে নিয়ে চপল পায়ে হাঁটতে লাগলো এলেক্স এর পিছু পিছু।ভিড় থেকে দৌড়ে এলেক্স চলে এলো পাবলিক এরাইভাল গেটে।সেখানে একজন টেকনিশিয়ান হাতে বড় এক বক্স নিয়ে ভিড় থেকে হন্তদন্ত করে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে।তার চোখ চারপাশে ঘুরছে,যেন সব কিছু স্ক্যান করছে তার মস্তিষ্ক।পায়ের গতি অস্বাভাবিক এলোমেলো।তার পোশাক দেখে কেউ তাকে চেকিং করছে না এমনকি গেটে বাধা পর্যন্ত দিচ্ছে না।গলার আইডিকার্ড টা উল্টানো।রণ কপাল কুঁচকে মানুষটার আগাগোড়া দেখলো।কিন্তু সময় বিলম্ব করলো না এলেক্স।সে হিংস্র ভাবে মানুষটার হাত কামড়ে ধরে তাকে ধরাশায়ী করে হাত থেকে ব্যাগটা কেঁড়ে নিলো।এহেন কাণ্ডে ভিড় থেকে বেরিয়ে এলো রণ’র টিম মেম্বার সেই সাথে গোয়েন্দা পুলিশ।এসেই নিজেদের বন্দুক তাক করে বোঝার চেষ্টা করলো মানুষটার গতিবিধি।এদিকে এরাইভাল এরিয়ায় উপস্থিত অপেক্ষারত সকল মানুষ ভয়ে এলোপাতাড়ি দৌড়ানোর চেষ্টা করলো।সমস্ত গেট বন্ধ করে পুলিশ তাদের আটকে দিয়ে ঘোষণা দিল
“কেউ বিভ্রান্ত হবেন না প্লিজ।আমরা আপনাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেব।ক্রিমিনাল কে শনাক্ত করতে আমাদের সহায়তা করুন।
মানুষ স্থির হলো।কিন্তু প্রাণ ভয়ে কাঁপতে লাগলো।
এলেক্স দৌড়ে ব্যগটা রণ’র সামনে রাখলো।এদিকে জার্মান শেপার্ড এর আঘাতে লোকটার হাত ছিড়ে রক্ত ঝরছে।রণ হাতের ইশারায় বোম ডিসপোজার ছেলেটিকে ডাকলো অতঃপর পা দিয়ে ঠেলে ব্যাগটি তার দিকে এগিয়ে দিলো।ব্যগের চেইন খুলতে নিলেই পরিস্থিতি আরো উত্তাল করার জন্য অপেক্ষারত মানুষের একজনের হাত টেনে নিজের কাছে নিয়ে এলো উক্ত ব্যক্তি এরপর পকেট থেকে ছুড়ি বের করে গলায় ছুঁইয়ে বলে উঠলো
“খবরদার, আমাকে ছোবার চেষ্টা করলে লাশের পর লাশ পড়বে।আমি একা আসিনি এখানে।আমার মতো আরো অনেকেই আছে।তাই বলছি ভালোয় ভালোয় বন্দুক সরানো হোক।
এবার ছেলেটির চেহারা পরিস্কার হলো।সেই সাথে ভয়ে অপেক্ষারত সকলেই ছুটাছুটি শুরু করলো।নিজ নিজ প্রাণ ভয়ে দৌড়ে পালাতে চাইলো প্রত্যেকে।এবার আর কোনো ঘোষণার তোয়াক্কা করলো না কেউ।রণ মানুষের হুড়োহুড়ি ভেদ করে সামনে তাকালো।এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো তার চোখ ভুল দেখছে।মনে বিশাল ধাক্কা খেলা রণ।তার বুক কেঁপে উঠল থরথর করে।ভীষন ভয় তার গলা শুকিয়ে তুললো।আজ পর্যন্ত এতবড় ভয় কোনোদিন পায়নি সে।তবে আজ কেন?মানুষটা নিজের প্রানের চাইতেও আপন এজন্য ?
রবিন নামক দুধর্ষ ক্রিমিনালের বাহুতে বন্দি মৌনতা।রবিনের চাকুর তীক্ষ্ণ ধারালো ফলা মৌনতার গলার নরম চামড়া ভেদ করে ঢুকে যেতে চাইছে।টপটপ রক্ত ধারা নিংড়ে পড়ছে মৌনতার গলার ভাঁজ বেয়ে।
মৌনতার ছলছল চোখের সাথে চোখাচোখি হলো রণ’র।রণ’র চোখ জোড়া দেখেই চমকিত হলো মৌনতা।মানুষটা তার ভালোবাসা তার প্রাণেশ্বর।নিশ্চিত মানুষটা তাকে বাঁচিয়ে নেবে।মৌনতা উচ্ছসিত হয়ে রণ’র নাম ধরে ডাকতে চাইলো।কিন্তু আঁচ পেয়ে অল্প মাথা নাড়ালো রণ।বোকা মৌন কেমন সব বুঝে গেলো।এখানে রণ’র নাম ধরে ডাকা চূড়ান্ত বিপদ হবে।মৌনতা ডাকলো না রণ কে।শুধু রণ তাকে বাঁচিয়ে নেবে সেই আশায় কাতর হয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো।
রণ মৌনতা দুজনই আজ চূড়ান্ত অসহায়।দায়িত্ব আর ভালোবাসা দুইয়ের মিশেলে জড়িয়ে মুখ থুবড়ে পড়লো রণ।মৌনতার প্রাণের জন্য একজন খুনিকে কিছুতেই ছেড়ে দিতে পারবে না সে।কারন সে দেশের শত্রু,মানুষের শত্রু।আবার মৌনতাকে ছোবার দুঃসাহসে রবিন কে বাচিয়েও রাখতে পারবে না রণ।তবে উপায় কি?
চোখ বুজে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো রণ।চারপাশে ঘোর অন্ধকার দেখছে সে।মৌনতা ব্যথা সহ্য করতে না পেরে ফুঁপিয়ে কেঁদে ভাঙা গলায় ডেকে উঠলো
‘খুব কষ্ট হচ্ছে রণ ভাই।আমাকে বাঁচাও।
রবিন এবার আরেকটু কপট হলো।সে মৌনতার চোখ অনুসরণ করে খুঁজতে লাগলো নাম সম্বোধন কারী ব্যক্তিকে।রবিন ধরে নিলো নিশ্চিত পুলিশের কোনো সদস্য মেয়েটার ভাই।এবার যেনো সব কিছু সোনায় সোহাগা হলো তার।মুখে ক্রুর হাসি ফুটিয়ে চাকুর ফলাটা আরেকটু দাবিয়ে দিলো মৌনতার গলায়।ব্যথায় আর্তনাদ করে কেঁদে উঠলো মৌনতা।রণ এবারও নিশ্চুপ রইলো।নিজের পরিচয় কিছুতেই প্রকাশ করতে পারবে না সে।করলে উপস্থিত আরো ক্রিমিনাল থাকলে তারা রণকে চিনে ফেলবে।রণ প্রথমে নিজের মস্তিষ্ক শান্ত করলো এরপর নিজের বন্দুক বের করে মৌনতার বরাবর তাক করলো।বন্দুকের নিশানা দেখে হেসে উঠলো রবিন।হাসতে হাসতে বললো
“পুলিশ হয়েছিস অথচ বন্দুক ধরা শিখিস নি?সত্যি সত্যি পুলিশ তুই নাকি ভুয়া পুলিশ?
রণ মুখ খুললো না।শুধু মৌনতার চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের হাত উপরে তুললো।মৌনতা বাড়িতে কালুকে ট্রেইন করার সময় রণকে এভাবে হাত তুলতে দেখেছে।হাতটা নীচে নামালেই কালু বসে যেত।মৌনতা রণ’র হাত ইশারা বুঝলো বোধ হয়।রণ বাঁকা হেসে মনে মনে বললো
“দ্যাটস মাই লেডি!
রণ হাত নিচু করতেই মৌনতা রবিনের হাতে কামড় দিয়ে বসে পড়লো।মুহুর্তেই ফুটো হয়ে গেলো রবিনের বুক।মাটিতে ছিটকে পড়লো রবিন।ভিড় ঠেলে মৌনতাকে কোলে তুলে বেরিয়ে এলো রণ।আসার আগে সবাইকে ওর্ডার করলো
“রিমান্ডে নিয়ে ট্রিটমেন্ট চালিয়ে ওর টিমে কে কে আছে তার খোঁজ নাও।
রবিনের এহেন অবস্থা দেখে বাকি মুখোশধারী ভিড়ের মাঝে সটকে পড়লো।সেই সাথে হাতের ব্যগ ফেলে মিশে গেলো মানুষের মাঝে।নির্বিঘ্নে আসলাম তালুকদার বিমানে উঠে বিদেশের যাত্রা আরম্ভ করলেন।পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজতে লাগলো বাকি আত্মঘাতী হামলাকারীদের।
চলবে
(প্রচন্ড ব্যস্ততার জন্য ফোনটা পর্যন্ত হাতে নিতে পারিনি।আপনাদের এতদিন অপেক্ষা করানোর জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত)
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৫