ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||২৩||
রাতের শুভ্র আকাশ জুড়ে শরদিন্দু আজ খুব আপন করে আলো ছড়াচ্ছে। সেই আলো ঠিকরে নেমে এসেছে বিশাল খোলা কংক্রিটের ছাদে।চারদিক নীরবতা,নিস্তব্ধ। পুরোটা শহর যেন আজ কথা বলতে ভুলে গেছে। কোনো হর্ন নেই, কোনো কোলাহল নেই ,নেই কোনো মানুষের উচ্চবাচ্য।চোখ বুজে কান পাতলে শুধু বাতাসের শিরশিরে গান শোনা যায়।
কক্ষ ছেড়ে টিপটিপ পায়ে মৌনতা সিঁড়ি ঘরে এলো।এরপর কয়েক ধাপ ডিঙিয়ে আলগোছে খুললো ছাদের দরজা।বিশাল প্রশস্ত ছাদ।
ছাদের চারপাশে সাজানো রয়েছে বাহারি ফুলের গাছ। জুঁই আর বেলির মিশ্র সুবাস বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। ছাদে পা রাখতেই সেই সুবাস নাকে বাড়ি খেলো।নেশাতুর চোখে বাতাসে দুলতে থাকা লাল গোলাপের পানে নজর নিবদ্ধ করলো মৌনতা। গোলাপের পাপড়িতে চাঁদের আলো পড়ে রূপালি হয়ে উঠেছে। শরতের হালকা বাতাস মৌনতার শরীর ছুঁয়ে গেলো।উড়িয়ে দিলো খোলা চুল আর যত্নে পরে থাকা বুকের উপর ওড়নার ভাঁজ খানা।অজানা এক শিহরণ খেলে গেলো মৌনতার শরীর জুড়ে।
মৌনতা অধৈর্য হয়ে এগিয়ে গেলো কোমর সমান রেলিংয়ের কাছে।রেলিংয়ে ভার দিয়ে দূরের ফাঁকা রাস্তায় নজর দিলো।রণ আসবে ভেবেই লজ্জায় রাঙা হলো মৌনতার গাল দুটো।ঠোঁট টিপে লজ্জা নিবারণ করে আকাশের মস্ত চাঁদটার পানে তাকালো মৌনতা।এরপর আঙ্গুল তুলে শুধালো
“কি লাভ হলো তোমার এতো সুন্দর হয়ে?সেই তো একাকীই আলো বিলাচ্ছ।আমাকে দেখেছো?শ্যাম পুরুষের ভালোবাসায় তোমার চাইতে অধিক উজ্জ্বল হয়েছি।
এরপর ঠোঁট চেপে হেসে উঠলো মৌনতা।বুকে ঢিপঢিপে অশান্তি হচ্ছে।ভয়ে শরীর লতানো লতার ন্যয় নুইয়ে পড়তে চাইছে।মনে হচ্ছে কাছে আসার থেকে দূরত্বই বেশ ছিলো।মৌনতার আচমকা মনে হলো
“মানুষটা এসে জড়িয়ে ধরে যদি চুমু খায়?
শরমে কান গরম হয়ে উঠলো মৌনতার।সে হাতের করপুটে মুখ লুকিয়ে রাখলো।মনে হলো চাঁদটাও তাকে লজ্জা দিচ্ছে।
ধীরে ধীরে মৌনতার অপেক্ষার প্রহর বাড়লো।সে হাতের মোবাইলে সময় দেখলো।মনে হচ্ছে চল্লিশ মিনিট আসলেই চল্লিশ হাজার বছরের সমান।মৌনতা উৎকণ্ঠা নিয়ে বারবার রাস্তাটার পানে তাকালো।অতঃপর বার্তা পাঠালো
“ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে রণ ভাই।পাখি হলে উড়ে তোমার কাছে চলে যেতাম।
মৌনতার অপেক্ষার অবসান হলো আধ ঘন্টা বাদে।শফিকুল ইসলামের বাড়ির পাশের রাস্তায় থামলো রণ’র জিপ।মৌনতা লজ্জায় মরে গেলো।এমন সময় বেজে উঠলো হাতের ফোন।ফোন রিসিভ করে কানে তুলে হ্যালো বলবার আগেই রণ শুধালো
“গেট খোলা?ভেতরে ঢুকবো কি করে?
এবার বিস্ময়ে স্তব্ধ হলো মৌনতা।সে তো কাউকেই জানায় ই নি।তবে উপায়?সায়নী জানলে অবশ্যই একটা ব্যবস্থা করে দিতো।মৌনতার মনব্রত দেখে রণ বলে উঠলো
“নিচেই দাঁড়িয়ে থাকবো?তোকে ছুবো না?নাকি আমাকে ডেকে এনে মনব্রত করার ভাবনা ভেবেছিস?
এমন সময় নিঃশব্দে খুললো বাড়ির গেইট।গেইটে দারোয়ান এর মত দাঁড়িয়ে আছে সিমি আর সায়নী।হাতের ইশারায় রণ কে ভেতরে আসার ইঙ্গিত দিলো।লাজুক হেসে ভেতরে ঢুকতেই সায়নী ফিসফিস করে বলে উঠলো
“স্পেশাল ট্রিট চাই দুলাভাই।নইলে প্রেমে বাগড়া দেব।
রণ সিরিয়াস ভঙ্গিতে শুধালো
“কি চাই?
“আপনার মত মিলিটারি জামাই।
সায়নির মাথায় অল্প চাটি মেরে রণ বলে উঠলো
“ঠিক আছে এনে দেবে।
অতঃপর নিঃশব্দে রণ উঠে গেলো উপরে।মৌনতা এখনো ফোন কানে নিয়ে রাস্তার দিকে উঁকিঝুঁকি মারছে।হঠাৎ রণ কোথায় গায়েব হলো ভেবে পেলো না মৌন ।সে ধরে নিলো বিল্ডিং বেয়ে বেয়ে স্পাইডার ম্যানের মতো দুতলায় উঠে যাবে রণ।
মৌনতা কান থেকে হাতের মুঠোয় ফোনটা নামিয়ে রেলিংয়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।এমন সময় আচমকা ভেসে এলো
“আমি বিল্ডিং বেয়ে বেয়ে উঠে তোকে প্রেম দেবো এমনটাই ভেবে রেখেছিলি বোকা চৌধুরী?
মৌনতা লাফিয়ে উঠলো।সে পিছন ফিরতেই রণকে দেখে তাজ্জ্বব হলো।সেই সাথে লজ্জায় খানিক আড়ষ্ট হলো।ধীর পায়ে মৌনতার সামনে এগিয়ে এসে মুখোমুখি দাঁড়ালো রণ।ভয়ে লজ্জায় মাথা নত করে চোখ বুজে ফেললো মৌনতা সেই সঙ্গে হাঁটুর কাছের জামা চেপে ধরে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।হাতে করে আনা লাল গোলাপ মৌনতার থুতনিতে ছুঁইয়ে বলে উঠলো
“তাকা আমার দিকে।
মৌনতা মাথা নাড়লো।সে তাকাতে পারবে না।রণ মৌনতার থুতনি চেপে ধরে মুখটা উপরে তুললো।এরপর ঘোর লাগা চোখে মৌনতার কোমল সুন্দর মুখটা অনিমেষ তাকিয়ে দেখল।রণ’র মনে হলো চাঁদের চাইতেও সুন্দর মৌনতা।রণ’র বড্ড লোভ হলো চকচকে সফেদ গাল দুটোর প্রতি।অনুমতি হীন মৌনতার গালে নিজের উষ্ণ ঠোঁট ছোয়ালো রণ।লজ্জায়,শিহরণে আরেকটু কুঁকড়ে গেলো মৌনতা।রণ দুই পাশের গালেই গাঢ় চুম্বন আকলো।এরপর বললো
“তুই এভাবে লজ্জা পেতে থাকলে আমি দিশাহীন উন্মাদ হবো।বিয়ের আগেই ঘটিয়ে ফেলবো চূড়ান্ত পাপের কর্ম।এখন বল চোখ খুলবি নাকি আমাকে পাপী বানাবি?
অল্প অল্প করে চোখ খুললো মৌনতা এরপর মাথা উপরে তুলে লাজুক নজর দিলো রণ’র পানে।চাঁদের আলোয় প্রেমিক পুরুষের মুখ খানা বড় সৌন্দর্য আর নেশালো লাগছে।মৌনতা নিজের নরম হাত দিয়ে রণ’র কপাল স্পর্শ করল,পরে নাক সব শেষে ঠোঁট।এরপর হাত বাড়িয়ে রণকে জড়িয়ে ধরলো।মনে হলো পরম শান্তি আর তৃপ্ত অনুভূতি হৃদয়ে ঢেউ খেললো।রণ মৌনতার চাইতে দ্বিগুন শক্তিতে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো মৌনতা কে।এরপর ফিসফিস করে বললো
“তোর ভালোবাসা আমাকে কেমন নির্লজ্জ্ব বানিয়েছে দেখ!আমার নিজেকেই আমি চিনতে পারছি না।তুই কি এই রণ ভাইকেই ভয় পেতি?
মৌনতা ঠোঁট এলিয়ে অল্প হেসে বলল
“এই রণ ভাই তো আমার প্রাণ।নিজের প্রাণ কে কি করে ভয় পাই?যে রণ ভাইকে আমি ভয় পেতাম সে তুমি নও।
রণ মৌনতার কোমর জড়িয়ে উঁচু করে ছাদের রেলিংয়ে মৌনতা কে বসালো।এরপর হাতের আজলায় মৌনতার মুখ ভরে বলে উঠলো
“এভাবে তোকে আদর করে পোষাচ্ছে না মৌন।আরেকটু বেশি আদর করতে ইচ্ছে করছে।কিন্তু বিয়ে ছাড়া আবার সেই আদর করা যাবে না।
মৌনতা লজ্জানত বদনে শুধালো
“তবে বাড়ি চলো।
“ছুটি নেই।নয়তো চলে যেতাম।
“তবে কি উপায়?
রণ ঠোঁট কামড়ে কিছু ভাবলো।এরপর হাতের গোলাপ মৌনতার কানে গুঁজে বললো
“পালিয়ে বিয়ে করবি?
মৌনতা বিস্ফারিত নজরে তাকিয়ে বলল
“কি করে সম্ভব?বাড়ির সবাই অনেক কষ্ট পাবে।
“বাড়ির সবার কষ্ট তোর কাছে কষ্ট মনে হলো আর আমার কষ্ট তোর চোখে লাগলো না?তুই তো বড্ড হৃদয়হীন আছিস!
মৌনতা মাথা নেড়ে বললো
“এমনটি বলো না।আমি মোটেও হৃদয়হীন নই।তোমার জন্য আমার মন কাঁদে।তোমাকে আমার নিজের থেকেও বেশি ভালবাসি আমি।বুক খুলে দেখাবো?
রণ গরম শ্বাস ছেড়ে বললো
“বুক খুলতে হবে না।ওসব দেখতে চাচ্ছিনা।এমনিতেই মরে যাচ্ছি।আসলে কি বলতো?মনের কষ্টের চাইতেও না বড় কষ্ট আছে! কোথায় জানিস?
“কোথায়?
মৌনতা ফট করে বোকার ন্যয় শুধালো।
মৌনতার কপালে কপাল ঠেকিয়ে রণ বললো
“বিয়ের পর বলবো।এই যে আমাকে হাঁপাতে দেখছিস,ঘামতে দেখছিস ,অস্থির দেখছিস এসবের কষ্টের উৎপত্তি অন্য কোথাও।
“কি করলে তোমার এই কষ্টের সমাপ্তি হবে রণ ভাই?
“আমার বউ হলে।কিন্তু তুই রাজি হচ্ছিস না।
“রাজি হবো এক শর্তে কাউকে কিচ্ছু বুঝতে দেবে না তুমি।
রণ চোখ বড় করে শুধালো
“সত্যি?
মৌনতা লাজুক হেসে মাথা ঝাঁকালো।রণ শব্দ করে হেসে বললো
“কত আনন্দ হচ্ছে জানিস?ইচ্ছে করছে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে তোকে ফেলে দিতে।
মৌনতা ভয় পেয়ে ছাদের রেলিং থেকে নেমে দাঁড়ালো।এরপর একটু সরে গিয়ে বলল
“আমি এখনই মরতে চাইনা।
রণ কপাল কুঁচকে বললো
“তোর সত্যিই মনে হলো তোকে আমি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেব?আমার প্রতি এই তোর বিশ্বাস?এই ভালোবাসা তুই আমাকে বাসলি?আহ বড্ড ছ্যাকা দিলি রে মৌনতা সাবেরি।তোর মত হৃদয় হীন অবিশ্বাস কারী মেয়ের জন্য এতদূর জীবন মরনের ঝুঁকি নিয়ে উড়ে এলাম?থাক এক্ষুনি চলে যাচ্ছি।
বলেই রণ পা বাড়ালো।মৌনতা খপ করে রণ’র শার্ট টেনে ধরে বলল
“যেও না রণ ভাই।তুমি গেলে সত্যিই সত্যিই লাফিয়ে মরবো আমি।
রণ পেছন ফিরলো।এরপর বলল
“লাফ দে দেখি।মরবি না এতটুকু গ্যারান্টি।হাত পা ভেঙে মাস ছয়েক হসপিটালে ভর্তি থাকবি।
মৌনতার কান্না পেলো।মানুষটা কেমন হেঁয়ালি করে কথা বলছে।মৌনতা ছলছল চোখে বলে উঠলো
“আমি সত্য সত্য কষ্ট পাচ্ছি রণ ভাই।তুমি অযত্ন করে কথা বলছো আমায়।
বলতে না বলতেই মৌনতার চোখ থেকে টুপ করে এক ফোটা জল গড়ালো।ব্যস্ত হয়ে মৌনতার চোখের জল মুছে রণ বলে উঠলো
“কাদিস না জান।তুই কাঁদলে বুকের এখানটায় খুব কষ্ট হয়।আমার মাথায় নষ্ট চিন্তা ভাবনা ঘুরছে তোকে ঘিরে।তাই এসব আবোল তাবোল বকে নিজের মাইন্ড অন্যদিকে ডাইভার্ট করার চেষ্টা করছি।আর কিছু না।আম সরি।
বলেই মৌনতা কে বুকে টেনে মাথার তালুতে চুমু খেলো।নিজেকে সামলে মৌনতা শুধালো
‘তোমার মাথায় কি খারাপ চিন্তা ঘুরছে?
ভনিতা করলো না রণ।মৌনতার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো মনের চিন্তা ভাবনা।ওসব শুনে লজ্জায় চোখ খিচে বন্ধ করে রণকে শক্ত করে জড়িয়ে রণ’র বুকে মুখ লুকিয়ে রাখলো মৌনতা।
মৌনতার লজ্জা দূর করতে পকেট থেকে একটা চকলেট বের করে রণ বলে উঠলো
“নে খা।
মৌনতা হাত বাড়িয়ে নিলো।ছাদের ফুল গুলো দেখতে দেখতে রণ শুধালো
“কোয়েল জ্বালিয়েছে তোকে?
চকলেট খেতে খেতে মাথা ঝাঁকালো মৌন।অতঃপর বললো
“সারাদিন পিছনে লেগে থাকে।সেদিন বাসায় অনেক ঝামেলা হয়েছে।দাদাভাই অপমান করেছে।রুলি আন্টি বলছিলো তোমার সঙ্গে ওকে বিয়ে দেবে।কথাটা শুনেই দাদু রেগে অনেক গুলো কথা শুনিয়েছে।
কপাল কুঁচকে রণ বললো
“মা কিছু বলেনি খালা মনিকে?
“নাহ।উনাদের তো কোয়েল কে পছন্দ।
রণ নাক ফুলালো।চোখে রাগ স্পষ্ট হলো।বললো
“ছুটাচ্ছি পছন্দ করা।
“আমি কোয়েলকে একটা কথা বলেছি।
“কি বলছিস?
“ও বলেছে তুমি নাকি আমাকে ভোগ করে ছেড়ে দেবে।
রণ’র চোয়াল শক্ত হলো এই কথায় সেই সাথে কেঁপে উঠলো থুতনি।সে গম্ভীর হিংস্র গলায় বলল
“তারপর?
“তারপর আমি উত্তর দিয়েছি যদি এমনই হয় তবে আমি তোমাকে চুষে খেয়ে ওকে আটি দেব।
রণ নিজেকে সংযত করে বললো
“কালই মা কে ফোন করে বলবো চুলের মুঠি ধরে বাড়ি থেকে বের করে দিতে ওদের।
“বড় মার কি দোষ?কুকুরের কামড়ের দোহাই দিয়ে থাকছে।
“কুকুর কি ওর পা পেটে ভরে রেখেছে?যে উগলে দিলে জোড়া লাগিয়ে বাড়ি যাবে?
আরো কিছু আলাপ চারিতা হলো।এরপর রণ বললো
“একটা ফোন কিনে দেব তোকে কাল।ওটা দিয়ে প্রতি রাতে আমাকে ভিডিও কল করবি।তোকে না দেখলে রাতে ঘুম হয়না।
মৌনতা চিন্তিত হয়ে বলল
“বাসায় জিজ্ঞেস করলে কি বলবো?
“তোর কিছুই বলতে হবে না।মাহিরের সাথে আমি কথা বলবো।ও বলবে ফোনটা ও দিয়েছে।
“ভাইয়া যদি সন্দেহ করে?
“করলে করুক।আমি কি চুরি করে প্রেম করছি?পারলে আমি প্রেস কনফারেন্স ডেকে ভালোবাসা জাহির করবো।কার বাপের কি?নেহাত তোর পরীক্ষা সামনে তাই চুপ আছি।আসার সময় দাদা ভাইকেও তো বলে এলাম তোর কথা।
কথা বলতে বলতে হঠাৎ রণ’র মনে হলো মৌনতা না খেয়ে থেকে অসুখ হয়ে হসপিটালে ভর্তি হয়েছিল।সৌম্য”র সাথে কথা বলার সময় জানতে পেরেছে একথা।এবার কোয়েলের রাগ মৌনতার উপর পড়লো।নাক মুখ কুঁচকে মৌনতার পানে তাকালো রণ।বেশ মজা করে চকলেট খাচ্ছে মৌনতা।সহ্য হলো না রণ’র ।ঠাটিয়ে এক চড় মারলো মৌনতার গালে।চড়ের দাপটে হাত থেকে খসে পড়লো চকলেট সেই সাথে গালে ফুলে উঠলো সব গুলো আঙ্গুল।মৌনতা না চাইতেও ভে করে কেঁদে ফেললো।রণ মৌনতার গলা চেপে ধরে হিসহিস করে বললো
“আরো না খেয়ে থাকবি?ভং করে ঘরে খিল টানবী?জবাব দে।
ভয়ে মৌনতা ত্বরিত মাথা নাড়ালো।রণ তপ্ত শ্বাস ফেলে মৌনতার গালে হাত বুলিয়ে কাছে টেনে নিলো অতঃপর বললো
“থাক কাঁদিস না।চড় টা আমি দেইনি।তোর ওই রণ ভাই দিয়েছে।
মৌনতা ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলো রণকে।কিন্তু শক্তিতে কুলালো না।রণ মুখ বাকিয়ে বললো
“আমার সাথে শক্তি দেখানো হচ্ছে?দেবো আরেক ঘা?
মৌনতা ভয়ে মাথা নাড়িয়ে বলে উঠলো
“গালের দাঁত নড়ে গেছে রণ ভাই।তুমি আমার প্রেমিক নও তুমি আমার অপ্রেমিক।প্রেমিক কখনো প্রেমিকা কে এভাবে মারতে পারে না।
“আমি তোর প্রেমিক ও না অপ্রেমিক ও না।আমি তোর জামাই।এটা তো হালকার উপর ঝাপসা মারলাম।বিয়ের পর দেখবি কিভাবে মারি।হাতে ধরবি, পায়ে পরবি কিন্তু আমি গলবো না।
“তুমি মারার জন্য আমায় বিয়ে করবে?
“সবাই মারার জন্যই বিয়ে করে।
“তাইলে তোমাকে আমি বিয়ে করবো না।
“একটু আগেই বললি কাল আমায় বিয়ে করবি।
“এখন বলছি করবো না।জেনে বুঝে মার খাবার জন্য একটা পাগল ও বিয়েতে রাজি হবে না।আর আমি তো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ।
“তুই নিজে মার খাওয়ার জন্য আমাকে ডাকবি।
“কক্ষনো না।
“বাজি ধরবি?
“ধরলাম।
“তবে কাল সায়নী আর সিমিকে নিয়ে আসিস আমার কাছে।সায়নী কে লোকেশন বলে দেব আমি।
“আগেই বলে দিলাম মারলে আমি কিন্তু কাঁদবো।তখন আর কথা বলবো না তোমার সঙ্গে ।
“কথা না বললে না বলবি।সেটা সময়ই বলে দেবে।
চলবে…
সারিকা হোসাইন – Sarika Hossain
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১