Golpo ডিফেন্স রিলেটেড ভালোবাসার সমরাঙ্গন

ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৯


ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||১৯||

টানা দুদিন ভাত না খেয়ে জ্ঞান হারালো মৌনতা।তার শরীর ঠান্ডা হয়ে ফ্যাকাসে হয়ে উঠলো।চোখ মুখ রক্ত শূন্য হলো সেই সাথে শরীর শুকিয়ে কঙ্কাল প্রায়।মেয়ের এহেন অবস্থায় বিভ্রান্ত হয়ে শব্দ করে হাউমাউ করে কাঁদলেন শায়লা।সৌম্য গাড়িতে করে তাৎক্ষণিক মৌনতা কে হসপিটালে নিয়ে চললো সঙ্গে গেলো রেহনুমা, শায়লা আর দেওয়ান মির্জা।
পুরুষ লোক গুলো বাড়ির বাইরে থাকায় তাদের খবর জানানো হলো না।মৌনতা কে হসপিটালে নেবার পর পর কোয়েল চোখ মুখ কুঁচকে বলে উঠলো

“প্রেমিকের শোক সইতে পারছে না।তাই মরতে বসেছে।এসব যে অভিনয় তা ভালোই বুঝতে পারছি।সিমপ্যাথি আদায়ের ভঙ্গি সব।

রুলির নিজেরও গা পিত্তি জ্বলে উঠলো।এবাড়িতে মোটেও থাকতে ইচ্ছে করছে না তার।নেহাত কোয়েলের শরীর টা ভালো না।থেকে থেকেই জ্বর আসে।তন্মধ্যে বাড়ির অতীব পরহেজগার মানুষ গুলো দেখলেই রাগে শরীর জ্বলে উঠছে।সেই সাথে মৌনতা কে নিয়ে সবার মাতামাতি দেখলে গালি দেবার জন্য মুখ চুলকায়।এতো আদিখ্যাতা দেখানোর কি আছে?এতো বড় ঢিঙি মেয়ে কিন্তু আচার আচরণ যেন দু বছরের লুলু বাচ্চা।

গজগজ করতে করতে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এলো রুলি।বাড়িতে কেউ নেই।শ্মশান ঘাটের ন্যয় ফাঁকা পরে আছে।উঠোনের কোন বসে বসে ঝিমুচ্ছে কুকুর কালু।রুলির মগজে দাউ দাউ করে আগুন জ্বললো।সে বড় বড় পা ফেলে রান্না ঘরে গিয়ে চুলা ধরালো।পাতিল ভর্তি পানি চুলায় বসিয়ে তাপ বাড়ালো।কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পাতিলের পানি ফুটতে লাগলো।মিনিট দশেক পর সেই ফুটন্ত গরম পানি চুলা থেকে তুলে নিয়ে উঠানে এলো রুলি।মনের ইচ্ছে এই পানি কালুর গায়ে ছুড়ে মারা।কিন্তু তার আগেই মুইন এসে কালুর সামনে দাঁড়ালো।হাটু ভাঁজ করে বসে কালুর গলায়,মাথায় আদুরে স্পর্শ বুলালো।অতঃপর দাঁড়িয়ে ধোয়া উঠা পাতিল সহ রুলিকে দেখে ভ্রুকুটি করে মুইন শুধালো

“গরম পানি নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন আন্টি?

মুইনের গলায় থতমত খেলো রুলি।কি বলবে না বলবে ভেবে পেলো না।কিন্তু নিজের বর্ন চোরা মুখ মুইন কে বুঝতে দিলো না।ঠোঁটে মিথ্যে হাসির প্রলেপ লাগিয়ে তাৎক্ষণিক বলে উঠলো

“কোয়েলের পায়ের ব্যান্ডেজ খুলবো।

“কিন্তু বাইরে কেনো?ওয়াশ রুমেই তো করতে পারতেন?

মায়ের মতো অধিক চতুর মুইনের কাছে ধরা পড়ার ভয়ে রুলি বলে উঠলো

“আসলে কি বলতো বাবা!ঘরে থাকতে থাকতে মেয়েটা অসহ্য হয়ে উঠেছে।এজন্য বাইরে নিয়ে এলাম।একটু প্রকৃতি দেখবে কি না।

রুলিকে মোটেও সুবিধার মনে হলো না মুইনের কাছে।সে চোখ সরু করে সন্দিহান চোখে মুখে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে চাইলো।আবার কি মনে করে যেনো ফিরে এসে কালুকে বললো

“চল কালু আমরা নদীর পাড়ে হেটে আসি।

বলেই কালুর গলার বেল্ট টেনে কালুকে দাঁড় করালো।অতঃপর দুজনে হাটতে লাগল নদীর পথে।

প্রথম মিশন ফেল হওয়াতে রুলির রাগ হলো।কিন্তু মনে মনে সে সিদ্ধান্তে অনড় রইলো।

“যতোদিন এই কুকুর না মারতে পারবো ততো দিন এ বাড়ি ছেড়ে কোত্থাও যাবো না।


মৌনতার জ্ঞান ফিরতেই রেহনুমা চিন্তিত ভঙ্গিতে শুধালেন

“কি রে বাবা এমন মন অসুখে ভুগছিস কেনো?কি হয়েছে আমায় খুলে বলতো।হঠাৎ নাওয়া খাওয়া ভুলে দেবদাসীর রূপ নিলি কেন?

মৌনতা উত্তর করলো না।রেহনুমা আশেপাশে তাকালেন।আপাতত কেউ নেই এখানে।তাই পরম আদরে মৌনতার হাত চেপে নরম গলায় শুধালেন।

‘মন মানুষের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে বুঝি?

মৌনতা অল্প মাথা নাড়ালো।রেহনুমা কপাল গুছালেন।এরপর বললেন

“তবে?খাওয়া পানি ছেড়েছিস কোন শোকে?

মৌনতা এবার ও নিশ্চুপ রইলো।রেহনুমা আশানুরূপ কোনো উত্তর না পেয়ে তপ্ত শ্বাস ফেললেন।একটু পরেই ভেতরে এলেন শায়লা।পেছনে এলেন মৌনতার বাবা,দেওয়ান মির্জা।দেওয়ান মির্জা নাতনির জ্ঞান ফিরেছে দেখে কোনো প্রকার খুশি প্রকাশ করলেন না।শুধু ভারী গলায় বললেন

“সবাই বাইরে যাও।আমার নাতনির সঙ্গে আমি একটু সময় কাটাতে চাই।এখানে এত মানুষের আনাগোনা করার কোনো দরকার নেই।

মির্জা সাহেবের রাশভারী গলায় সায় জানিয়ে সবাই বাইরে অপেক্ষার জন্য দাঁড়িয়ে রইলো।সবাই চলে যেতেই বেডের পাশের চেয়ার টেনে থমথমে মুখে বসলেন দেওয়ান মির্জা।এরপর মৌনতার পাটকাঠির ন্যয় শুকনো হাতটা নিজের মুঠোয় নিয়ে শুধালেন

“দানা পানির সাথে কিসের রাগ দাদু ভাই?

বৃদ্ধের নরম গলায় গলে পড়লো মৌনতা।সে হাতের আজলায় মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।
দেওয়ান মির্জা নিশ্চুপ সেই কান্না দেখলেন।এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পুনরায় বললেন

“আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করেছি মৌনতা সাবেরি।

মৌনতা নিজেকে সামলে করুন চোখে বৃদ্ধের পানে তাকিয়ে বলে উঠলো

“যবে থেকে শুনেছি রণ ভাই মিশন চলাকালীন পেট ভরে খেতে পারে না তবে থেকে আমি দানা পানি ছুতে পারছি না দাদু ভাই।আমার গলা দিয়ে নামেনা কোনো খাবার।আমাকে কোনো প্রশ্ন করো না।দোহাই লাগে তোমার।আমার কাছে কোনো প্রশ্নেরই উত্তর নেই।

দেওয়ান মির্জা চোয়ালটা একটু শক্ত করলেন।এরপর বলে উঠলেন

“রণ না খেয়েও দিব্যি সুস্থ আছে।তোমার মত হসপিটালে শয্যা নেয়নি।এসব ছেলেমানুষি বাদ দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করো।মন দেয়া নেয়া যখন করেই ফেলেছো তখন এসবে অভ্যস্ত হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।না খেয়ে মরে যাওয়া কোনো ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে না।সে যাবার আগে আমার কাছেই তোমার দায়িত্ব গছিয়ে দিয়ে গেছে।আমাকে তার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করো না।যথেষ্ট বুড়ো হয়েছি আমি।তার চোট কুলানোর সামর্থ্য থোরাই আছে আমার?

মৌনতা জবাব দিলো না।দেওয়ান মির্জা উঠে দাঁড়ালেন।এরপর বললেন

“বাড়িতে গিয়ে সবকিছু স্বাভাবিক করে নাও।তোমার জন্যই মঙ্গল।অহেতুক নিজের সাথে সাথে অন্যকেও হয়রানি করো না।হাসপাতালে দৌড়াতে কারোরই ভালো লাগে না।

বলেই বাইরে বেরিয়ে গেলেন দেওয়ান মির্জা।এরপর ছেলের সামনে গিয়ে বললেন

“ছুটি নেবার ব্যবস্থা করো।তোমার মেয়ের কোনো জটিল রোগ হয়নি।মন অসুখে কাবু করেছে তাকে।বাইরে কোথাও বেড়াতে পাঠাও।দেখবে সব অসুখ সেরে গেছে।

বলেই লাঠি ভর দিয়ে বেরিয়ে গেলেন ভদ্রলোক ।সাদনান মির্জা বাবার কথায় সায় জানিয়ে সৌম্য কে নিয়ে মৌনতার ছুটির ব্যবস্থা করলেন।হাসপাতাল একদিন অবজারভেশন এ রাখতে চাইলো।কিন্তু কেউ রাজি হলো না।অগত্যা ছুটি দিতে হলো।


টানা দশদিন চন্দ্রঘোনা অরণ্যে দিন রাত্রি কাটানোর পর সকলেই যেনো একটু রহস্যের গন্ধ পেলো সেই সাথে পেলো শত্রুপক্ষের নিকট হাতছানি।যেই হাতছানি অন্ধকার মাড়িয়ে আলোতে নিয়ে যাবে তাদের এবং খুব শীঘ্রই।

দিনের আলোতে নিজের সহচরী দের নিয়ে ভেজা মাটিতে বহু মানুষের পায়ের ছাপ ধরে ধরে একটা ঝিরির কিনারে গিয়ে দাঁড়ালো রণ এবং তার টিম।পাহাড় বেষ্টিত ঝিরির ঝোপের তলায় একটা নৌকা বাধা।ইঞ্জিন চালিত নৌকা।এখানে মানুষ তো দূর জন্তু জানোয়ার এর ও কোনো হদিস নেই।ঝিরির পাশের ঝোপ গুলোতে নজর বুলাতেই স্পষ্ট বোঝা গেলো এখানে হরদম মানুষের যাতায়াত।রীতিমতো যাতায়াতের ফলের পথের রেখা স্পষ্ট হয়েছে।তীক্ষ্ণ চোখে চারপাশে নজর ফেলতেই মাটিতে একটা ভাঙা ছোট শিশি খুঁজে পেল রণ।সেটা হতে নিয়ে নাকের কাছে এনে গন্ধ শুকলো রণ।ভেতরে এখনো বিন্দু বিন্দু তরল দেখা যাচ্ছে।লম্বা শ্বাস টেনে গন্ধ নিতেই রণ’র এক ভ্রু উঁচু হয়ে উঠলো সেই সাথে ব্রেনের জট খুললো অল্প।এই গন্ধ এর আগেও রণ পেয়েছে।বট গাছর নীচে পড়ে থাকা অর্ধেক ডলারে।রণ’র হঠাতই মন বলে উঠল ডলার ঘটনার সাথে এই ঘটনার সংযোগ আছে।ঘটনার বিসৃতি বৃহৎ নেটওয়ার্ক জুড়ে।

মাটি থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গলায় ঝুলানো দূরবীন দিয়ে চারপাশে দৃষ্টি বুলালো রণ।কোনো মানুষ তো দূর একটা পক্ষী কুলও দেখা যাচ্ছে না।রণ সবাইকে হুঁশিয়ারি রেখে একাকী ঝিরির পাশের পথ ধরে হাটতে লাগলো।ক্যাপ্টেন রাশেদ অনুরোধ করলো

“মেজর রণ এখানে প্রতি মহূর্তে বিপদ ওঁৎ পেতে আছে।এখানে একা চলাচল যথেষ্ট রিস্কি।আমরাও আসি আপনার সাথে?

“নো।

বলেই হাতে মিলিটারি ফ্রিজ সাইন দেখালো রণ।এরপর বন্দুক তাক করে সামনে হাটতে লাগলো ।চলতে চলতে পায়ের নিচে কিছুর মচমচে শব্দে দাঁড়িয়ে গেলো রণ।আশেপাশে সতর্ক নজর বুলিয়ে পা সরিয়ে নীচে তাকাতেই একটা কাগজে মোড়ানো চকলেট কুড়িয়ে পেলো ।চকলেট হাতে নিয়ে আরো কিছুদূর এগুতেই আরেকটি চকলেট পেলো রণ।রণ’র ইন্টেলিজেন্স ব্রেন মুহূর্তেই জানান দিলো কোনো বাচ্চা পথের নিশানা রেখে গেছে এখানে।

রণ হাতের ইশারায় বাকি টিম মেম্বার দের নিজের সাথে আসার সিগনাল দিলো।ধীর পায়ে কমান্ডো স্টাইলে এগুতে লাগলো সকলে।যেতে যেতে আরো তিনটে চকলেট পেলো রণ।সেগুলো নিজের প্যান্টের পকেটে রেখে সামনে এগিয়ে গেলো।এখানে পথ শেষ হয়েছে।সামনে বিশাল ঝোপ ওয়ালা জঙ্গল।চারপাশে সতর্ক দৃষ্টি বুলিয়ে ক্যাপ্টেন রাশেদ বলে উঠলো

“এখানে এসে পথ ফুরিয়েছে মেজর।তাহলে বাকি পথ কোথায়?

ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে হুশ বলে রাশেদকে চুপ করিয়ে দিলো রণ।অতঃপর এগিয়ে গেলো সেই ঝোপের মধ্যে।ঝোপ ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই মাটির নিচে ফাঁপা অনুভূত হলো।উপস্থিত এক সোলজার এক হাটু গেড়ে বসে মাটিতে ঠক ঠক করলো।তাতে স্পষ্ট বোঝা গেলো ভেতরের পুরোটাই ফাঁপা।একজন কমান্ডো ভ্রু সরু করে শুধালো

“ভেতরে ঢুকে দেখবো?

রণ তাৎক্ষণিক বলে উঠলো

“নো।এখনই না।হতে যথেষ্ট সময় রয়েছে।

বলেই চারপাশে আরেকটু নজর বুলালো।কিছুটা দূরেই উঁচু এক পাহাড়।রণ আঙ্গুলি নির্দেশ করে বলে উঠলো

“আজ রাতে ওই পাহাড়ে অবস্থান নেবো আমরা।ওখান থেকে এখানে স্পষ্ট নজর রাখা যাবে।

বলেই পূর্বের পথ ধরে ফেরত এসে ঝোপ ঝাড় ডিঙিয়ে সেই পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হলো সকলে।আপাতত ওটাই সেইফ জোন।


নিজ ঘরে বসে বসে অংক বই নাড়াচাড়া করছে মৌনতা।বইয়ের পাতা জুড়ে রণ’র নাম লিখে রেখেছে সে।এটা তার মনের এক ধরনের আনন্দ।সেই আনন্দে জল ঢেলে কোয়েল এলো সেখানে।এসে মৌনতার বিছানায় বসলো।কোয়েলকে দেখেই বই বন্ধ করে ইংরেজি বই খুললো মৌনতা।এরপর কোনো বাক্য ব্যয় না করে মনে মনে পড়তে লাগলো।মৌনতার পানে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য হাসলো কোয়েল অতঃপর বললো

“তা কি করে ফাঁসালে রণ ভাইয়াকে?রূপে না গুনে?

কথাটা বিচ্ছিরি লাগলো মৌনতার কাছে।সে চোখ মুখ কুঁচকে মাথা নিচু করে বসে রইলো।কোয়েলের কথার জবাব দেবার প্রয়োজন মনে করলো না।কিন্তু কোয়েল নাছোড়বান্দা।সে ঠোঁটে চাতুরতার হাসি মেখে বললো

“তা কি কি গুন আছে তোমার?আমাকেও একটু বলো,আমিও ট্রাই মারি ।যদি পটে যায়!

“তুমি সীমা অতিক্রম করে কথা বলছো কোয়েল আপু।বয়সে তোমার অনেক ছোট আমি।অথচ তুমি বিশ্রি রকমের হিংসাত্নক আচরণ জুড়েছ আমার সাথে।আর রণ ভাইকে আমি পটাতে যাইনি।সেই এসেছে আমার কাছে।

কোয়েল ভাবলেশ হাসলো।বললো

“ছোট বেলায় দেখতাম হরদম গালে চড়াতো তোমাকে।তুমি তার দুই চক্ষের বিষ ছিলে।তা হঠাৎ বিষ মধু হলো কি করে?আর এমন নাওয়া খাওয়া ছেড়ে বিছানা ধরেছ ঘটনা কি?খেয়ে দিয়ে চলে গেছে নাকি?

মৌনতা এবার চিৎকার করে উঠলো।

“আর একটাও নোংরা কথা বললে আমি ভুলে যাবো তুমি এ বাড়ির মেহমান।তোমার মত আমাকেও সস্তা ভেবে ভুল করছো তুমি।যৌবন দেখিয়েই যদি কাউকে ভালোবাসায় বশ করা যেত তবে তোমার প্রেমেই মুখ থুবড়ে সবার আগে পড়তো রণ ভাই।সব ই তো খুলে দিয়েছিলে।তবুও তো তাকিয়েও দেখলো না।

কোয়েল দাঁত চিবিয়ে বলে উঠলো

“এক চড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেব নস্টা মেয়ে কোথাকার।

মৌনতা টেবিল ছেড়ে কোয়েলের সামনে এসে নাক ফুলিয়ে বললো

“মেরে দেখাও দেখি।মারো।

কোয়েল ভ্যাবাচ্যাকা খেলো।মৌনতা কে যতটা দুর্বল আর সহজ ভেবেছিলো সে মেয়েটা ততোটাও বোকা নয়।কোয়েল ভুল সময় ভুল একশন নিয়ে ফেলেছে।

মৌনতা চোখ রাঙিয়ে কোয়েলকে বলে উঠলো

“সামান্য আমার জামা নষ্ট করার অপরাধে রণ ভাই কালুকে দিয়ে সকলের সামনে নগ্ন করে ছেড়েছে তোমায়।আমাকে ছুলে কি করবে তুমি দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারবে না।সেদিন রণ ভাইকে অনুরোধ করে কালুর থেকে তোমাকে আমিই বাঁচিয়ে ছিলাম।কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বড্ড ভুল করেছি।তোমার আরো শাস্তি প্রাপ্য ছিল।

বলেই হমহন করে বাইরে বেরিয়ে এলো মৌনতা।এদিকে সেদিনের ভয়াবহ ঘটনা মনে পড়তেই শিউরে উঠলো কোয়েল।রণ এভাবে প্রতিশোধ নিয়েছে তার উপর এটা ভাবতেই অবিশ্বাস্য লাগছে।মন মানতে চাইছে না।কোয়েল বিড়বিড় করে আওড়ালো

“এটা কি সেই রণ ভাই যে আমাকে অতি আদরে মাথায় তুলে নাচত?


ব্যাবসায়ীক খাতাপত্র নেড়ে বসার ঘরে বসে বসে কাজ করছেন আদনান মির্জা।পাশে রেহনুমা বসে আছেন।এমন সময় সেখানে এলো রুলি।রুলিকে দেখে আদনান মির্জা অল্প হাসলেন।এরপর আদর করে বললেন

“বসো রুলি।

রুলি একটা সোফায় আয়েশ করে বসে বলে উঠলো

“একটা কথা বলতে চাই দুলাভাই।

খাতা কলমে নজর নিবদ্ধ রেখেই আদনান মির্জা বললেন

“বলো কি বলতে চাও শালিকা।

রুলি ইতস্তত না করে বলে উঠলো

“এবার রণ ফিরলেই কোয়েলের সাথে রণ’র বিয়েটা দিয়ে দিতে চাইছি।আশেপাশের মানুষের নজর ভালো লাগছে না আমার কাছে।কখন কে কার মেয়ে লেলিয়ে দিয়ে ছেলের জীবন নষ্ট করে বলা যায়না।তাই বলছিলাম রণ যদি এর মধ্যে ফোন করে তবে তার সাথে কথা বলে আংটি পরিয়ে রাখতে।

কথা গুলো বলতে বলতে শায়লার পানে তাকালো রুলি।ডাইনিং টেবিলে বিকেলের নাস্তা রেডি করছে সে।আড় চোখে রুলিকে এক পলক দেখলো শায়লা।অতঃপর মুখের উপর জবাব দিলো

“আমাদের ছেলে দুধের বাচ্চা নয় রুলি আপা।নিজের ভালোমন্দ বোঝার যথেষ্ট বোধ বুদ্ধি আছে তার।কেউ যদি মেয়ে লেলিয়েও দিয়ে থাকে তবে সেটা পৃথিবী উল্টে গেলেও গ্রহণ করবে না সে।কারন মনের উপর কারো জোড় চলে না।

এমন সময় সেখানে দেওয়ান মির্জা এসে দাঁড়ালেন।এরপর কঠিন গলায় বললেন

“শার্ট প্যান্ট আর বেলেল্লাপনা পোশাকে চলাফেরা করা কেউ মির্জা বাড়ির বউ হবার যোগ্যতা রাখে না।মির্জা বংশের ছেলেরা খোলা খাবারে মুখ দেয় না।সস্তা,বিকিয়ে দেয়া জিনিস তারা পায়ে মাড়িয়ে চলে।

চলবে

সারিকা হোসাইন®

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply