ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||১৬||
সারিকা_হোসাইন
রণ’র দেয়া নীল রঙা সোনালী পাড়ের সুন্দর শাড়িটা কুচি দিয়ে পড়লো মৌনতা।এরপর পিঠ জোড়া বিছিয়ে থাকা চুল গুলো ঢিলে বিনুনি করে তাতে গুজলো লাল গোলাপ।মুখে হালকা প্রসাধনী মেখে ঠোঁট জুড়ে হালকা গোলাপি লিপস্টিক দিলো।কপালে দিলো ছোট্ট নীল টিপ,চোখের কোল ঘেঁষে মোটা কাজল আর টেনে দিলো আইলাইনার।এরপর আঁচল ঠিক করতে করতে নেমে গেলো সিঁড়ি বেয়ে।পথিমধ্যে দেখা হলো রেহনুমার সাথে।রেহনুমা মৌনতা কে দেখে দাঁড় করালেন।এরপর থুতনি ধরে পুরো মুখটা দেখলেন।প্রশস্ত হলো রেহনুমার ঠোঁট।মৌনতার কপালে চুমু আকলেন নিজের খুশি ধরে রাখতে না পেরে।এরপর আদুরে গলায় বললেন
“আমার মেয়েকে আজ খুব সুন্দর লাগছে মাশাআল্লাহ।বিয়ে বাড়ির সকলেই আজ কুপোকাত হবে এই রূপে।নিজেকে সামলে রাখিস বাবা।কারোর নজর যাতে না লাগে।
রেহনুমার কথায় লাজুক হাসলো মৌনতা।এরপর বললো
“নজর টিপ আছে আমার বড় মা।ওই টিপ আমাকে কারোর নজর লাগতেই দেবে না।
রেহনুমা অবাক হয়ে শুধালেন
“কে সে?
শাড়ির আঁচল মোচড়াতে মোচড়াতে মৌনতা নুইয়ে জবাব দিলো
“বলবো সময় করে!
রেহনুমা আরেকটু হেসে শুধালেন
“খুব সুন্দর বুঝি?
“আন্ধার রাতের মতো।
বলেই দৌড়ে পালালো মৌনতা।মৌনতার যাবার পানে তাকিয়ে রেহনুমা হাসলেন।এরপর বললেন
“পাগল একটা।তোকে যে পেতে চলেছে নিঃসন্দেহে সে ভাগ্যবান পুরুষ।কিন্তু কে সে?
রেহনুমা আর দাঁড়াতে পারলেন না।সৌম্য ডেকে উঠলো তাকে।তড়িঘড়ি করে রেহনুমা পা চালালেন।
মৌনতার জামা নষ্ট করার আনন্দ কোয়েলের মনে আর ধরছে না।মনের আনন্দে গুনগুন করতে করতে শহুরে মেয়েদের মতো ভারী সাজের মেকআপ করে ফিনফিনে পাতলা একটা শাড়ি পরে নিজেকে মোহনীয় করলো কোয়েল।সফেদ উদর আর নাভি স্পষ্ট সেই শাড়ির বুনন ভেদ করে।ছোট হাতের ব্লাউজ মোলায়েম হাতটা আরেকটু আকর্ষণীয় করলো।পিছনের পিঠ পুরোটাই উন্মুক্ত।লাল চুলগুলোতে সাদা বেলির গাজরা লাগিয়ে হাতে ছোট পার্স নিয়ে আয়নায় নিজেকে একবার পরখ করলো।এরপর বলে উঠলো
“এমন হট আইটেম তুমি আর কোথায় খুঁজে পাবে রণ ভাই?দেখো আজ আমাকে দেখে আবার পা পিছলে পরো না যেনো।আমাকে দেখার পর এক নিমিষেই তোমার মাথা থেকে ওই গেঁয়ো ভুত টা নেমে যাবে।টসটসে রসে ভরা আঙ্গুর রেখে টক করমচা কে খেতে চাইবে?
কথা গুলো বলেই চুল উড়িয়ে সিঁড়ি ডিঙিয়ে নেমে এলো কোয়েল এরপর বেরিয়ে গেলো বাইরে।
ড্রয়িং রুমে বরযাত্রী হিসেবে কে কে কোন গাড়িতে উঠবে তা গুছাচ্ছিলেন দেওয়ান মির্জা।
হঠাৎ উপরে তাকিয়ে কোয়েলকে দেখে চোখ নামিয়ে বিড়বিড় করে বলে উঠলেন
“আস্তাগ ফিরুল্লাহ।হেদায়েত দান করো মাবুদ।
বলেই মনে মনে বেহায়া, নির্লজ্জ্ব গালি দিলেন কোয়েলকে।সেই সাথে কেমন শিক্ষা দীক্ষায় বড় হয়েছে মেয়েটা তার চর্চাও করলো।মেজাজটা আজকাল হুটহাট তিরিক্ষী হয়।বিয়ের চাপে এমনিতেই প্রেসার হাই হয়ে রাগ নিয়ন্ত্রণে থাকছে না।তার মধ্যে কোয়েলের এহেন বিশ্রি শরীর প্রদর্শন বৃদ্ধের মস্তিষ্ক বিক্ষিপ্ত করে তুললো।এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলেন শায়লা হাতে ধোয়া উঠা গরম চা।দেওয়ান মির্জা দুধ চা পছন্দ করেন।এবং আধ ঘন্টা পর পর চা না পেলে তার মেজাজ ঠিক থাকে না।শায়লার হাতে রঙ চায়ের পেয়ালা দেখে দেওয়ান মির্জা ক্ষেপে উঠলেন।শায়লাকে ধমকে উঠলেন চিৎকার করে
“আমার ইচ্ছা অনিচ্ছার কোনো দাম নাই তোমার কাছে তাই না?এতোদিন এবাড়িতে থেকেও জানো না আমি কি চা খাই?
বলেই শায়লার হাত থেকে কাপ নিয়ে ছুড়ে মারলেন বৃদ্ধ।মেঝেতে আছড়ে পড়ে ঝনঝন শব্দে ভেঙে গেলো পেয়ালা।কিন্তু বাড়ির হই হুল্লোড় ভেদ করে তা বাইরে পৌছালো না।কেউ খেয়াল ও করলো না।সকলেই বিয়ের আনন্দে মজেছে কিনা।
এধারে ভয়ে লজ্জায় শায়লা স্তব্ধ হয়ে গেলেন। সাদনান মির্জা দৌড়ে এসে তার বাবাকে শান্ত হতে বললেন।এরপর শায়লাকে চোখ রাঙিয়ে বলে উঠলেন
“তুমি জানোনা বাবা রঙ চা খায় না?তার পরেও কেনো দিলে?
শায়লা নিজেকে ধাতস্থ করে ভয়ার্ত গলায় বলে উঠলো
“বাবা লেবু দিয়ে মশলা যুক্ত রঙ চা খেতে চেয়েছিলেন একটু আগেই।উনার নাকি গত রাতে গলা ব্যাথা হয়েছে।এজন্য…
শায়লা কথা শেষ করবার আগেই সাদনান মির্জা শায়লাকে হাতের ইশারায় চলে যেতে ইশারা করলেন।এরপর নরম গলায় শুধালেন
“আপনি রঙ চা চেয়ে ছিলেন আব্বা?
চেয়ারে ধপ করে বসে চোখ বুজে হেলান দিলেন দেওয়ান মির্জা।রাগের চোটে বুকের ব্যথা বেড়ে গেছে তার।বুক চেপে ধরে বৃদ্ধ মনে করলেন একটু আগের কথা।তিনি রঙ চাই চেয়ে ছিলেন।
বৃদ্ধ তড়িৎ উঠে দাঁড়ালেন।শায়লাকে ব্যক্তিগত ভাবে খুব পছন্দ করেন তিনি।দীর্ঘ বছরের সংসার জীবনে বাড়ির সমস্ত কাজ গুছিয়ে গুছিয়ে করেন এই মেয়ে।ইচ্চাকৃত ভুল এড়িয়েই চলেন তিনি।শশুরের আদেশ নির্দেশ আরো মান্য করে পালন করার চেষ্টা করেন।আজ পর্যন্ত ছেলের বউদের সাথে দুটো কথা হয়নি তার।এতো গুলো বছর বাদে শায়লার সাথে কিভাবে এমন ব্যবহার করলেন তিনি? ভেবেই কষ্ট লাগলো তার।
রান্না ঘরে নীরবে কেঁদে চোখ মুছছেন শায়লা।নিঃশব্দে রান্না ঘরে দাঁড়িয়ে শায়লার হাত চেপে ধরলেন বৃদ্ধ।এরপর বললেন
“মাগো কষ্ট পেও না।বুড়ো মানুষ না বুঝে ভুল করে ফেলেছি।শিশু আর বৃদ্ধের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই তা তো জানোই।
শায়লা নিজেকে সামলে বলে উঠলেন
“আমি কিছু মনে করিনি আব্বা।আপনি এভাবে বলবেন না।তাহলে আমি লজ্জা পাবো।
বৃদ্ধ নিচু গলায় বলে উঠলো
“রুলির মেয়ের বেহায়া সাজ দেখে মাথা নষ্ট হয়ে গেছে আমার।রাগ সামলাতে পারিনি।বাড়িতে কত গুলো উঠতি বয়সী ছেলেপেলে আছে।মেয়েটা খুবই বেহায়া বেশভূষা ধারণ করেছে।ওকে দেখেই কিভাবে যেনো মেজাজ চটে গেলো।
শায়লা এবার বুঝলেন বৃদ্ধের রাগের হেতু।তাই কান্না থামিয়ে বলে উঠলেন
“মেয়েটা শহুরে আব্বা।এমনিতেই খুব ভালো।আপনি ওসবে ধ্যান না দিয়ে বড় যাত্রী গোছান।সময় যে হয়ে এলো।
“হ্যা তা গুছাবো।তার আগে আরেকবার মশলা চা করে দেবে লেবু দিয়ে?গলাটায় সাংঘাতিক ব্যাথা।
মুচকি হেসে শায়লা বলে উঠলেন
“আপনি বসুন আমি করে দিচ্ছি।
বৃদ্ধ অনুতপ্ত হয়ে চলে গেলেন।শায়লা চোখ মুছে পুনরায় চায়ের পাতিল বসালো।
নিজের জিপে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রণ।সে বিশেষ চিন্তায় গভীর ভাবে মগ্ন।চারপাশের বিষয়ে কোন ধ্যান নেই তার।
গত রাতে থানার ওসির সাথে কথা হয়েছে তার।গ্রামের সহজ সরল ছেলে বিল্লালের আত্মহত্যা কোন ভাবেই বিশ্বাস যোগ্য নয়।রণ পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিজ চোখে দেখেছে।ওখানেও প্রমান হয়েছে এটা আত্মহত্যাই।কিন্তু ছবি গুলো দেখেছে রণ।গলায় ফাঁসের কোনো দাগ নেই।এমনকি চেহারা পর্যন্ত বিকৃত হয়নি।ফাঁসির মরা এভাবে মরতেই পারে না।এর পিছনে অন্য কোনো চক্রান্ত আছে।ওসির চোখ মুখ দেখেও রণ বুঝেছে ঘটনা ভিন্ন।ওসি সবটা জানে।অথচ প্রকাশ করতে চাইছে না।পেছনের ঘটনাটা কি?আরো বিশদে জানতে সেই বট গাছের তলায় গিয়েছিলো রণ।তন্ন তন্ন করে খোঁজার পর মিলেছে অর্ধ ছেড়া বিদেশি ডলার।দেশের মাটিতে ডলার দেখে রণ’র কপাল কুঁচকে যায়।সেটা নাকে নিয়ে ঘ্রাণ শুকতেই রণ’র এক ভ্রু উঁচু হয়ে উঠে।ডলারে ড্রাগের স্মেল।ডলার টা সরাসরি কোনো ড্রাগ ক্যাশ রুম থেকে এসেছে রণ নিশ্চিত হয়ে যায়।কিন্তু সাধারণ দরিদ্র পরহেজগার এই ছেলের নিকট পর্যন্ত এই ডলার কিভাবে এলো রণ ভেবেই পেলো না।রণ সারারাত চিন্তা ভাবনা করে নিশ্চিত হয়েছে গ্রামের কেউ এখানে যুক্ত আছে।কিন্তু কে সে?
চিন্তা ভাবনা যখন তুঙ্গে তখন চুড়ির রিনি ঝিনি শব্দে রণ’র ধ্যান কাটলো।সামনে তাকাতেই চোখ জোড়া স্থির হলো।সুন্দর ভঙ্গিমায় ধীরে ধীরে হেলে দুলে এগিয়ে আসছে মৌন।যেনো কোনো মানুষ নয় হুর পরী।পাতলা ঠোঁটের মিষ্টি হাসিতে রণ হেলে গেলো জিপের সাথে।বুকে চিনচিনে ব্যথা করছে।বাতাসের হুল্লুড়ে শাড়ির আঁচল উড়ে গিয়ে ফর্সা উদর নজর কাড়লো।বুকে হাত চেপে হা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো রণ।মৌনতার চুলে গুঁজে রাখা গোলাপের সুবাস রণকে মাতাল করলো।শরীরের ভর ছেড়ে দিয়ে মাটিতে পরে যেতে চাইলো রণ।কিন্তু আকস্মিক রণ’র বেল্ট খামচে ধরলো মৌনতা।অতঃপর ডাকলো
“রণ ভাই !
হুসে আসতেই নিজেকে সামলে রণ বলে উঠলো
“আগুন হয়ে মোমের কাছে কেনো এলি মৌন?পুড়িয়ে গলিয়ে মিলিয়ে শেষ করে দিবি এজন্য?
মৌনতা আমতা আমতা করে বলে উঠলো
“তুমিই তো পড়তে বললে।
“ভুল করেছি।আমায় ক্ষমা কর।যা বোরকা পরে আয়।আমি কোনো রিস্ক নিতে পারবো না।তোকে দেখে সবাই মরবে ও বাড়ির।
“বিয়েতে কেউ বোরকা পরে যায়?
“তাহলে তোর যাবার ই দরকার নেই।
মৌনতা ঠোঁট উল্টে বললো
“এ বাড়ির প্রথম বিয়ে।আমি যাব না?
“না যাবিনা।ফেরার পথে আমি পোলাও মাংস চেয়ে নিয়ে আসবো তোর জন্য।ও বাড়িতে খেলেও যেই স্বাদ লাগবে এ বাড়িতে খেলেও তেমন স্বাদই লাগবে।
মৌনতা কিছু বলতে চাইলো তার আগেই ঘেউ ঘেউ করে উঠলো কালু।কেউ কিছু বুঝে উঠবার আগেই কামড়ে ধরলো কোয়েলের শাড়ি।ভয়ে চিৎকার করে উঠলো কোয়েল।সেই সাথে দৌড়ে এলো বাড়ির সকলে।মাহির মুইন দৌড়ে এসে ধমকে উঠলো কালুকে।এতে কালু আরো ক্ষিপ্ত হলো।পাতলা ফিনফিনে শাড়ি কালুর ধারালো দাঁতের আঘাতে ছিড়ে ফানা ফানা হলো।আক্কাস দৌড়ে একটা লাঠি এনে শক্ত বাড়ি বসালো কালুর পিঠে।
ব্যাথায় আরো রেগে গেলো কালু।ইতোমধ্যে কোয়েলকে অর্ধনগ্ন করে ফেলেছে কালু।রুলি, কোয়েল আর কোয়েলের ছোট ভাই সমান তালে চিৎকার করে চলেছে।রেহনুমা শায়লা দৌড়ে এসে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলেন।কিন্তু কালু যেনো আজ বধির।মাহির কালুর গলার বেল্ট ধরে টানতে লাগলো।কিন্তু সরাতে পারলো না।শেষমেশ কোয়েলের পায়ে কামড়ে দিলো কালু।রক্তে ভেসে গেলো কোয়েলের পা।মৌনতা ভয়ার্ত গলায় বলে উঠলো
“রণ ভাই কালুকে থামাও।নয়তো কোয়েল আপুর পা ছিঁড়ে নেবে ও।
রণ ভাবলেশহীন জবাব দিলো
“তোর ভালো লাগছে না?
“না মোটেও না।অন্যের কষ্টে কেনো হাসি পাবে?তুমি কিছু করো দয়া করে।
রণ শিস বাজিয়ে জিপ ছেড়ে বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে একটু তামাশা দেখলো।মৌনতার ছেড়া জামার কথা মনে পড়তেই বেশ রাগ হলো তার।সে আরেকটু তামাশা দেখতে চাইলো।এমন সময় সৌম্য চিৎকার করে বলে উঠলো
“রণ দেখ কালু পাগল হয়ে গেছে।ওকে থামাতে পারিস কি না দেখতো।
রণ ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো কালুর কাছে।এরপর হাটু মুড়ে বসে কালুর গলায় হাত বুলিয়ে বলে উঠলো―
“এনাফ!
মুহূর্তেই রণ’র নির্দেশ কালুর ক্ষিপ্ত মস্তিষ্কে ক্যাচ করলো।কোয়েলের পা ছেড়ে রণ’র পানে তাকিয়ে ঘেউ ঘেউ করে উঠলো কালু।রণ কালুর চোখে চোখ রেখে পুনরায় বলে উঠলো
“BACK!
কালু এক পা দু পা করে পিছিয়ে ভিড় ঠেলে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো।কোয়েল থরথর করে কেঁপে মাটিতে বসে গেলো।রেহনুমা দৌড়ে গেলেন পানি আনতে।সৌম্য ব্যস্ত হলো ডক্টর ডাকতে।কোয়েলের পানে তাকিয়ে রণ বলে উঠলো
“এসব পোশাকে কালু অভ্যস্ত নয় বুঝলি?তোকে ভিন গ্রহের প্রাণী ভেবে এভাবে অ্যাটাক করেছে সে।নেক্সট টাইম থেকে হিসেব করে পোশাক পড়বি।যা এবার হসপিটালে গিয়ে ইনজেকশন নে।বড্ড কষ্ট পেলাম তোর জন্য।ভেবেছিলাম বিয়ে খেয়েই ফিরে যাবি।কিন্তু এখন তো দেখছি গ্রামেই থেকে যেতে হবে তোর।খুব টাফ হয়ে গেলো আমার জন্য।
বলেই ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে উঠে গেলো রণ।
বড় যাত্রী নিয়ে দুপুরের আগে আগেই বসন্তপুর গ্রামে এলেন দেওয়ান মির্জা।রণ মৌনতা আগেই চলে এসেছে।এতো হৈ হুল্লোড় আনন্দের মাঝে শুধু অনুপস্থিত কোয়েল আর তার মা।অনুকে পার্লারের মেয়েরা সাজাতে বসে গিয়েছে।এখানে এসে থেকে রণ’র কোনো খুঁজ নেই।মৌনতা সিমিকে নিয়ে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে।নোমান শাহরিয়ার গায়ে শুভ্র পাঞ্জাবি জড়িয়েছে আজ।দেখতে বেশ লাগছে।তার সৌন্দর্য অগ্রাহ্য করার শক্তি কোনো রমণীর নেই।
নোমান মৌনতা কে দেখেই হাসি মুখে এগিয়ে এলো।এরপর বলে উঠলো
“আসালামু আলাইকুম বেয়াইন সাব।
মৌনতার উত্তর কেড়ে নিয়ে সিমি বলে উঠলো
“ওয়ালাইকুম আসসালাম বিয়াই সাব।
নোমান হাসলো অল্প।এরপর বললো
“কেমন আছেন বিয়াইন সাব।
মৌনতা মিষ্টি হেসে জবাব দিলো
“বুকে বড় জ্বালা।
কপাল কুঁচকে নোমান বললো
“কিসের জ্বালা বিয়াইন সাব।
“নয়া প্রেমের জ্বালা।
বলেই হাসতে হাসতে প্রস্থান নিলো মৌনতা।সঙ্গে দৌড়ে গেলো সিমি।মৌনতার হাসি নোমানের বুকে ঝড় তুললো।ইচ্ছে হলো রণকে খু ন করতে।সেই সাথে নিজের মন্দ কপালের উপর বেশ বিরক্তি জমলো তার।
এদিকে তনুর মুখোমুখি হলো রণ।একাকী রণকে পেয়ে তনু ডেকে উঠলো
“মেজর রণ
“জি বলুন।
“আমার চিঠির উত্তর কিন্তু আমি পাইনি।
রণ শয়তানি হেসে বলে উঠলো
“ভুলে পিয়নের সাথে মাখামাখি করে ফেলেছি।প্রেম কঠিন পর্যায়ে আছে।জীবন মরনের সন্ধিক্ষনের মতো।আগামী ছুটিতে আমার বিয়ে।অগ্রিম দাওয়াত রইলো।এসে দুটো গরম গরম খেয়ে যাবেন।
তনু ভোঁতা মুখে কষ্ট ভরা গলায় বলল
“কিন্তু চিঠিটা আমি লিখেছিলাম।
“”নীচে নাম দেয়া উচিত ছিলো।মানুষ মাত্রই ভুল।ম্যান ইজ মর্টাল।
“কথাটা ভুল মেজর রণ।ওটা হবে….
তনুকে থামিয়ে রণ বলে উঠলো
“আমি মানুষটাই ভুল মিস তনুরিমা চৌধুরী।সঠিক মানুষ হলে আপনাকেই ভালোবাসতাম ।তাছাড়া মাঝে মাঝে ইচ্ছে করেই ভুল করতে ভালো লাগে।চাকরিটা এমনি এমনি পাইনি আমি।
বলেই হাসতে হাসতে চলে গেল রণ।
এরপর মৌনতার কাছে এসে দাড়ালো রণ।ভিড়ে ভালো লাগছিলো না বলে একটু পুকুর পাড়ে একাকী এসে দাঁড়িয়েছে সে।পেছন থেকে মৌনতা কে আগলে জড়িয়ে রণ বলে উঠলো
“নোমান শাহরিয়ার এর সাথে ভালোই তো গান গাইছিলি!এবার যদি পানিতে চুবিয়ে মারি?
নিজেকে তাৎক্ষণিক রণ’র থেকে ছাড়িয়ে মৌনতা বলে উঠলো
“ছি ছি কেউ দেখলে কেলেঙ্কারি হবে।
“হলেই বা কি?
“কিছুই না।তুমিই বিপদে পড়বে।
“তোকে কে বলেছে আমি বিপদে পড়বো?আমি হটি নটি বাসর সাজাবো।
“ছি ছি বেশরম লোক।
“তুই চাস না তোর জামাই বেশরম হোক?
“না চাই না।
“তাহলে তো জীবনেও বাপ ডাক শুনতে পারবো না।
“না পারলে নাই
“এসব কি ভয়ানক সাংঘাতিক কথা বলছিস ?
“বিয়ে হলেই ওসব করতে হবে?
“কোন সব?
ভ্রু তুলে জানতে চাইলো রণ।
মৌনতা জিভ কেটে দৌড়ে বলে উঠলো
“খবিস একটা।
রণ ডেকে বলে উঠলো
“আমি কিন্তু ঐসবের অপেক্ষাতেই থাকবো মৌন।এবার পালাতে পারছিস বলে আগামী বার ও যে পারবি তা কিন্তু নয় জেনে রাখিস।
ধীরে ধীরে হাসি আনন্দে সময় পেরুলো।সেই সাথে ভরপুর খাবারে মজলো সবাই।ভালোভাবে ঝামেলা হীন বিয়ের কাজ সম্পন্ন হতেই বউ নিয়ে সকলেই ছুটলো মির্জা বাড়ির উদ্দেশ্যে।
চলবে
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন গল্পের লিংক
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৬
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৩