ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||১৩||
সারিকা_হোসাইন
রণ যখন নিজের ঘরে এলো তখন বিছানায় রাখা মৌনতার জন্য কেনা লেহেঙ্গা টা দেখতে পেল না।রাগে ক্রোধে এমনিতেই মগজ ছিঁড়ে যাচ্ছে।তন্মধ্যে লেহেঙ্গা হঠাৎ কোথায় উধাও হলো সেই ক্ষোভে শক্ত চোয়ালে দেয়ালে এক ঘুসি বসালো রণ।কংক্রিটের দেয়াল ঝুরঝুরে ফাটল ধরে চটচটে সিমেন্ট উঠলো অল্প সেই ঘুসিতে।কিন্তু হাতের উপরে ফেটে রক্ত গড়ালো।সেসব তোয়াক্কা না করে রণ বাইরে বেরিয়ে এলো।উদ্দেশ্য রেহনুমার কক্ষ ।কার এতবড় বুকের পাটা হয়েছে রণ’র ঘরে ঢুকে ব্যক্তিগত জিনিস ছোবার সেটা একবার নিজ চোখে দেখতে চায় সে।
রণ রেহনুমার কক্ষে এসে রেহনুমা কে পেলো না।ইতোমধ্যে তার চোখে রক্ত জমে গিয়েছে।মনে হচ্ছে এখনই চোখের কোল ভাসিয়ে সেই রক্ত ধারা কপোল ডিঙিয়ে ঝরে পড়বে।
রণ যখন ড্রয়িং রুমে এলো তখন রেহনুমার দেখা মিললো।সৌম্যর সাথে কথা বলছেন তিনি।রণ সব কিছু উপেক্ষা করে গম্ভীর মোটা গলায় বলল
“আমার ঘরে কে গেছিলো মা?শুধু তাই নয় ,আমার ব্যক্তিগত জিনিস ধরেছে কোন কলিজাওয়ালা?
রেহনুমা ছেলের কথায় ছেলের মুখপানে তাকালেন।এমন ভয়ানক রূপ ছেলের আর কোনো দিন দেখেন নি তিনি।কতটা ভয়ানক লাগছে রণকে!রেহনুমা কিঞ্চিৎ কাঁপলেন।এরপর বিস্মিত হয়ে বললেন
“আমি তো জানিনা বাবা।তাছাড়া তোমার ঘরে তো কেউই যায়না।কি হারিয়েছে আমাকে বলো।আমি খুঁজে এনে দিচ্ছি।
বলেই রণ’র হাতের পানে নজর দিলেন তিনি।সাদা টাইলসে হাত থেকে টুপটুপ করে রক্ত ঝরছে।আঁতকে উঠলেন রেহনুমা।তিনি চিৎকার করে বললেন
“সেকি হাত কাটলো কি করে?
ধীরে ধীরে লোক সমাগম হলো ড্রয়িং রুমে।রণ’র আকস্মিক রাগের কারন কারোর বোধগম্য হলো না।মাহির ,মুইন দৌড়ে এসে শুধালো
“কি হারিয়েছে রণ ভাই,আমাদের বলো।আমরা খুঁজে দেখছি।
এমন সময় সিঁড়ি ধরে হাতের সোনালী চুড়ির গোছা ঝাকাতে ঝাকাতে নেমে এলো কোয়েল।পরনে সেই বাসন্তী রঙা বিশাল ঘেরের লেহেঙ্গা সঙ্গে ম্যাচিং গহনা আর চুড়ি।মেয়েটির ফর্সা লতানো শরীরে আগুনের ন্যয় জ্বলছে লেহেঙ্গা আর গহনা।এই মুহূর্তে এহেন হুর তুল্য মানবিকে দেখে যে কারোর হুশ উড়বে।কিন্তু রণ’র সর্বাঙ্গে আগুন ধরলো।সে দাঁতে দাঁত পিষে কোয়েলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।রণ কে দেখে কোয়েলের গোলাপি ঠোঁটের মিষ্টি হাসি প্রসারিত হলো।ওড়না ঠিক করার বাহানা ধরে মিষ্টি নমনীয় গলায় বললো
“তোমার ঘরে পেলাম।খুব সুন্দর।নিশ্চয় আমাকে সারপ্রাইজ দেবার জন্য রেখেছিলে তাই না?
অধিক ক্রোধে থরথর করে কাঁপছে রণ।রেহনুমা এসে ছেলের বাহু চেপে ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন।সকলেই ঘটনা বোঝার জন্য রণ’র মুখ পানে তাকিয়ে রইলো।রণ নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলো।অতঃপর ধমকে উঠলো
“এক্ষুনি গা থেকে খোল এই লেহেঙ্গা আর গহনা।এসব তোর জন্য নয় কোয়েল।এগুলো বিশেষ কারো জন্য।নিশ্চয় তুই সেই বিশেষ কেউ নস।
লজ্জায় থতমত খেলো কোয়েল।চারপাশে তাকিয়ে সকলের উৎসুক মুখ দেখে লজ্জায় মাথা হেট হলো তার।তবুও মুখে হাসির রেশ ফুটিয়ে বলে উঠলো
“নিশ্চয়ই প্র্যাঙ্ক করছো তাই না?
“আমাকে দেখে তোর মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে আমি মজা করার মোডে রয়েছি?
সৌম্য এসে রণকে সরিয়ে নিতে চাইলো।কমাতে চাইলো উত্তপ্ততা।কিন্তু রণ ঝাঁকি দিয়ে সৌম্য কে সরিয়ে টেনে ধরলো কোয়েলের হাত।এরপর নির্দয়ের মতো খুলে নিলো চুড়ি আর গহনা।টিকলি খুলতে গিয়ে তুলে নিলো কোয়েলের চুলের গাছিও।ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠলো কোয়েল।কিন্তু লজ্জায় মুখ দিয়ে একটা শব্দ পর্যন্ত উচ্চারণ করতে পারলো না।রুলি সকলের হাউকাউ এ বাইরে থেকে দৌড়ে এসে দেখতে পেলো রণ’র কাছে ধরাশায়ী হয়ে আছে কোয়েল।ঘটনা বোঝার জন্য আরেকটু কাছে এসে শুনতে পেলেন রণ’র ভারিক্কি তেজী গলা
“ঘরে একটা জিনিস পেলি অমনি নিজের গায়ে ঢুকিয়ে নিলি।জানার প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করলি না জিনিস টা কার।তোর সাথে আমার এমন কোনো আলাপ হয়েছে যে,তোর জন্য সারপ্রাইজ তুলে রাখবো আমি?কালে ভদ্রেও তো কথা হয়না তোর সঙ্গে আমার।তবে এতো কনফিডেন্স কোথা থেকে?
কোয়েল কোনো উত্তর করবার আগেই রেহনুমা বলে উঠলো
‘সামান্য একটা লেহেঙ্গাই তো বাবা।কেনো নিজের খালাতো বোনের সাথে একটা পোশাক নিয়ে এতো ঝামেলা করছিস?সবাই কি ভাবছে?তোর খালামনি ই বা কি ভাববে?
“তোমার কাছে এটা সামান্য একটা লেহেঙ্গা মাত্র মা।কিন্তু এটা আমার কাছে অনেক কিছু।
বলেই উপরের করিডোরে তাকালো রণ।করিডোরের রেলিং ধরে শুকনো বিস্মিত মুখে দাঁড়িয়ে আছে মৌন।মুহূর্তেই চোখাচোখি হলো দুজনের।রণ তাৎক্ষণিক চোখ নামিয়ে বলে উঠলো
“লেহেঙ্গা খোল কোয়েল।নয়তো আমি ভুলে যাবো তুই কে!
কোয়েল লজ্জায় কেঁদে ফেললো।তার হাসি খুশি মুখ আধারে ছেয়ে গেলো।রুলি রণ’র সামনে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো
“না জেনে একটা ভুল করেছেই নাহয়।তারজন্য মেয়েটাকে এভাবে অপমান করলি বাবা?
“না জেনে ভুল করেছে মানে?কি বোঝাতে চাইছো খালামনি?আমার ঘরে কারোর প্রবেশ নিষিদ্ধ তা কি তোমরা জানতে না?যেখানে ঢোকাই কঠিন নিষেধাজ্ঞা সেখান থেকে জিনিস নেয়া বড় অপরাধ নয়?
রুলি মাথা নত করে ফেললো।সকলের চাইতে রণ আলাদা সেই ছোট বেলা থেকেই।তার ব্যক্তিগত জিনিসের হস্তক্ষেপ বা তার কথা কেড়ে নিয়ে কথা বলা কোনো কালেই পছন্দ নয় তার।কোয়েল সব জানার পরও রণকে জিজ্ঞেস না করে ভুল করেছে।ধরতে গেলে অনধিকার চর্চা।ভবিষ্যৎ মেয়ের জামাই হিসেবে নিজেকে নিভিয়ে রাখলেন রুলি।ভেতর থেকেও তিনি নরম মনের মানুষ।ঝুট ঝামেলা আর বাড়তি কথা এড়িয়ে চলতে পছন্দ করেন তিনি।তাই কোয়েলকেই ধমকে বলে উঠলেন
“লেহেঙ্গাটা খোল কোয়েল।রণ হয়তো কাউকে গিফট করার জন্য এনেছে।তোর ভুল হয়েছে।রণ কে সরি বলে লেহেঙ্গা টা দিয়ে দে।
এহেন ঘটনায় বোনের সামনে লজ্জায় মাথা কাটা গেলো রেহনুমার।তিনি বোনের হাত ধরে বললেন
“রাগ করিসনা রুলি।রণ একটু রাগী তুই জানিস।
রুলি হেসে উড়িয়ে বলে উঠলো
“ধুর আপা রাগ করার কি আছে?কোয়েল ভুল করেছে।রণ’র অনুমতি ছাড়া ওই ঘরে যাওয়াই ওর অন্যায়।মেয়ের হয়ে আমি ক্ষমা চাইছি।রণ বাবা তুই শান্ত হ।সবাই হাসি মুখে অনুদের বাড়িতে চলে যা।আনন্দ ঘন মুহুর্ত খারাপ করিসনা।যাহ।
ধীরে ধীরে সকলেই চলে গেলো।এতো কিছুর মধ্যেও শায়লা এলেন না রান্না ঘর থেকে।মৌনতা করিডোর থেকে সরে নিজ ঘরে দরজা ভিড়িয়ে দিলো।কোয়েল চোখের জল মুছে গেস্ট রুমে গিয়ে লেহেঙ্গা খোলে রণ’র হাতে দিয়ে বলে উঠলো
“না বলে তোমার ঘর থেকে জিনিস গুলো নেওয়া ঠিক হয়নি আমার।আমি সত্যিই লজ্জিত এর জন্য।
রণ কোনো জবাব না দিয়ে হাত থেকে ছিনিয়ে নিলো সেই লেহেঙ্গা।এরপর হনহন করে সিঁড়ি বেয়ে উঠে নিজের ঘরের দরজা লাগিয়ে দিলো।
বেলকনিতে দাঁড়িয়ে এক মনে আকাশ দেখতে ব্যস্ত মৌনতা।আজ সারাটা দিন থেকে থেকে তার কান্না পাচ্ছে ।আকাশ দেখলে মন ভালো হয়।বেদনা কম অনুভূত হয়।মৌনতার ভাবনার মাঝে রণ ডেকে উঠলো
“তুই অনুদের বাড়িতে যাবি না মৌন?ভালোই ভালোই বলছি ,যদি না যাস তবে রাতের বেলা সবাই ঘুমিয়ে গেলে তোকে মে রে ফ্যানের হুকে ঝুলিয়ে রাখবো আমি।চিৎকার টুকু করতে পারবি না।বুঝেছিস?
মৌনতা মাথা দোলালো।রণ মুখের কাঠিন্য ভাব সরিয়ে আদুরে গলায় বলল
“আমার ঘরে আয়।
মৌনতা আলগোছে বেলকনি থেকে চলে গেলো।এরপর দরজা খুলে রণ’র ঘরে গেলো।মৌনতা যেতেই মৌনতা কে বিছানায় বসালো রণ।এরপর পরম যত্নে মৌনতার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে সোনালী চুড়ি গুলো মৌনতার হাতে পরিয়ে বলে উঠলো
“তোর জিনিসে আমি কাউকে ভাগ বসাতে দেবো না মৌন।যেটা তোর সেটা শুধুই তোর।আর কারো না।তৈরি হয়ে আয়।আমি অপেক্ষা করব তোর জন্য।
বলেই মৌনতার এলোমেলো হওয়া চুল গুলো কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে রণ শুধালো
“মাথা ব্যথার মিথ্যে ভং কেনো ধরেছিলি?
উত্তর না দিয়ে উঠে দাঁড়ালো মৌন।এরপর লেহেঙ্গা বুকে জড়িয়ে কক্ষ ত্যাগের জন্য পা বাড়ালো।এমন সময় রণ বললো
“আজ নাহয় কাল তোর মন খারাপের কারন ঠিক খুঁজে বার করবো আমি।যদি দেখি আমার আশেপাশের কেউ তোর মুখ অন্ধকারের কারণ তবে তার সাথে আমার বোঝাপড়া হবে চূড়ান্ত।
মৌনতা আর দাঁড়ালো না।চলে এলো নিজ ঘরে।এরপর দুরুদুরু বক্ষে সেই লেহেঙ্গা গায়ে জড়িয়ে মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজলো।শায়লা কিছু বলতে এলো মৌনতা কে।কিন্তু মাহির, মুইন আর সিমির জন্য পারলো না।তাড়াহুড়ো দেখিয়ে বগলদাবা করে ধরে নিয়ে গেলো তারা মৌনতা কে।ধীরে ধীরে হলুদের পোশাকে সেজে সবাই বাইরে এলো।কার সাজ কার থেকে সুন্দর সেটা নিয়েও বড়াই হলো চোখে চোখে।ছেলেরা ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি আর বাসন্তী কটি পড়েছে।মেয়েরা বাসন্তী শাড়ি।শুধু মৌনতা ব্যতীত।
কোয়েল মৌনতার পরনে সেই লেহেঙ্গা দেখে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।রুলি নিজেও দেখলেন।কিন্তু কেউ কিছুই মনে করলেন না।কারন বাড়ির সকলের খুব আদরের এই মৌনতা।জাস্ট কাজিন হিসেবেই লেহেঙ্গা টা মৌনতা কে দিয়েছে রণ।মৌনতার মতো যোগ্যতা হীন মেয়েকে রণ কিছুতেই ভালোবাসতে পারে না।এতোটা বোকা পুরুষ রণ নয়।কারন দুটো বাইরের মানুষের সামনে মৌনতার কথা বলার ক্ষমতা পর্যন্ত নেই।রণকে হ্যান্ডেল করা বিশেষ ব্যাপার।ওসব ঐ বোকা গেঁয়ো মেয়েটাকে দিয়ে হবে না।
মৌনতার হলুদ পরীর ন্যয় সৌন্দর্যে রণ’র মরন হলো।কাজল কালো বড় চোখ দুটো তাকে মরণ বান মারলো যেনো।মৌনতার ঠোঁটের ওই হাসি!যেনো বুকে রাইসিন কোটেড বুলেট।যেই বুলেটে বিষক্রিয়া হয়ে মৃত্যু নিশ্চিত।মৌনতার পায়ের চলনে রণ’র শ্বাস ভারী হলো।মনে হলো মৌনতা কোনো বিশাল রাজ্যের শেহজাদী আর রণ তার বাধ্যগত ক্রীতদাস।
মৌনতা রণ’র সামনে আসতেই রণ জিপের দরজা খুলে বলে উঠলো
“বসুন মহারাণী।
কোয়েল উচ্ছসিত এগিয়ে এসে অনুনয় করলো
“ভাইয়া আমি ও বসি?
রণ মাথা নাড়িয়ে জবাব দিলো
“কখনো দেখেছিস রানী আর চু*তমারানীএকই ঘোড়ার সওয়ারী?
কোয়েল কিছু বুঝে উঠবার আগেই রণ গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সৌম্য কে বলে উঠলো
“তাড়াতাড়ি এসো ভাইয়া।দেরি হয়ে যাচ্ছে।
অনুদের বাড়িতে গায়ে হলুদের বিশাল আনন্দ মেলা।সকলেই হলুদ ছোড়াছুড়ি খেলছে।কে কাকে ইচ্ছেমতো হলুদ মাখাবে তার প্রতিযোগিতা শুরু হলো সহসাই।বিয়াই হিসেবে রণকে হলুদ মাখাতে দৌড়ে এলো অনুর বাড়ির সমস্ত মেয়েরা।কিন্তু পাশ কাটিয়ে কৌশলে বেঁচে গেলো রণ।উল্টো খাবলা খাবলা হলুদ সকলের মুখে লেপে দিয়ে হো হো করে হেসে উঠলো।
মৌনতা কে দেখে নোমান শাহরিয়ার এর বুক ধক করে উঠলো।মেয়েটার সাথে কথা বলার জন্য মন আনচান করলো।কিন্তু রণ’র জন্য পেলো না।হুট করে কোত্থেকে এসে মৌনতার গালে হলুদ মাখিয়ে রণ বলে উঠলো
“যদি আমাকে হলুদ মাখতে পারিস তবে তুই যা চাইবি তাই পাবি।বল রাজি?
মৌনতা ঠোঁট উল্টে মাথা ঝাঁকালো।এরপর নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইলো।সময় সুযোগ বুঝে হাত ভর্তি হলুদ নিয়ে ভিড়ে মিলিয়ে গেলো মৌনতা।
ধীরে ধীরে রাত বাড়লো।তনু খোঁজে চললো রণকে।পেলো না।তার মন ভার হলো।মৌনতা চিঠিটা দিয়েছে কি না সেটা নিয়ে চিন্তা হলো তার।চিঠির উত্তর কি দিয়েছে রণ সেটাও জানতে মন আকুপাকু করলো তনুর।
আনন্দ উল্লাস যখন তুঙ্গে তখন মেজর দুর্জয়ের ফোন এলো রণ’র ফোনে।শুনশান নীরব জায়গা খোঁজে সেখানে গিয়ে ফোন কানে তুললো রণ।
“হ্যালো
“ফিরছিস কবে?নতুন মিশনের প্রস্তুতি অলরেডি শুরু হয়ে গেছে।শুধু বাচ্চা অপহরণ নয়,পাওয়া গেছে কোটি টাকার দামি দামি ড্রাগস।কে বা কারা এই পাহাড়ি অঞ্চলে এসব নিয়ে এসেছে তার নাম নিশানা খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।তারা সুযোগ পেলেই আর্মিদের উপর আক্রমণ করছে দূর থেকে।এবারের মিশন আরেকটু কঠিন।তোর সাথে থাকবে ক্যাপ্টেন তুহিন আর কমান্ডো সজল।
রণ চুপচাপ কথাগুলো শুনে বলে উঠলো
“শনিবার রাতে আমি সরাসরি রাঙামাটি আসবো।কথা হয়েছে হেড কোয়ার্টারে।মিশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তোর সাথে দেখা হবে না।
দূর্জয় তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে উঠলো
“ওকে মিশন শেষে দেখা হবে।বাই দ্যা ওয়ে তোর মৌনতা সাবেরির কি খবর?ভালো আছে?মনের কথা জানাতে পেরেছিস এবার?
রণ ঠোঁট কামড়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে বলে উঠলো
“জানানোর চেষ্টা করছি।কিন্তু বোকারানী বুঝে না।
এমন সময় মৌনতা এসে দাড়ালো রণ’র সামনে।পেছনে হাত লুকানো।রণ কিছু বুঝে উঠবার আগেই হলুদ নিয়ে লাগিয়ে দিলো গলায়।দূর থেকে গাল নাগাল পেলো না।এরপর বলে উঠলো
“প্রতিশ্রুতি কিন্তু রাখতে হবে।নইলে মানব না।
দুর্জয়ের কল কেটে দিয়ে মৌনতা কে কব্জি ধরে টেনে নিজের কাছে আনলো রণ।এরপর মৌনতার মেদহীন কোমর জড়িয়ে ঝুকে মৌনতার গালে নিজের গাল ঘষে হলুদ মাখিয়ে বলে উঠলো
“বল দেখি কি চাই তোর?
মৌনতা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলে উঠলো
“কিচ্ছু চাই না।ছেড়ে দাও।কেউ দেখে ফেললে কেলেঙ্কারি হবে।
“কেলেঙ্কারি কিচ্ছু নয়।তুই আমি কলঙ্কিত হবো।হবি আমার সাথে কলঙ্কিত?
মৌনতা ধীর স্বরে বললো
“পরে পাপ লাগবে রণ ভাই।সেই পাপে সাজা একজনই পাবে।সেই পাপী হবো আমি।সমাজে পুরুষের কোনো পাপ নেই।
“যদি আমি তোর পাপের ভাগিদার হই?
“বড় মা কোয়েলকে পছন্দ করে রেখেছে তোমার জন্য।বড় আব্বুও রাজি।আমি নিজ কানে শুনেছি।
এবার মৌনতার মাথা ব্যাথার হেতু খুঁজে পেলো রণ।সে ঠোঁটের কোনে সিরিয়াস ভঙ্গি ফুটিয়ে বললো
“কোয়েলকে আমি পছন্দ করিনা।আমার বাপ মা পছন্দ করলেই বিয়ে হয়ে যাবে?সংসার আমি করবো নাকি তারা করবে?
মৌনতা মাথা নত করে জবাব দিলো
“আমি পচা শামুক রণ ভাই।তোমার পা কাটলে তুমি শুধুই কষ্ট পাবে।
“তুই আমার মাথার তাজ মৌন।তোকে পেলে আমি পুরো দুনিয়া হাসিলের গৌরব অর্জন করবো।বল আমার হবি?
বলেই হাতের আজলায় মৌনতার হাত ভরে অনিমেষ তাকিয়ে রইলো।রণ’র হাতে যেনো পূর্ণিমার চাঁদ আলো ছড়াচ্ছে।সেই আলোকিত রূপে অভিভূত হয়ে মৌনতার ললাটে চুমু খেয়ে রণ নিজের সাথে শক্ত করে মৌনতা কে চেপে ধরে প্রশান্তির শ্বাস ছুঁড়লো।হলুদ মাখা কম্পিত হাতে রণ কে আগলে মৌনতা বলে উঠলো
“রণ ভাই ভয় করছে।
“তোর সব ভয় দূর করার দায়িত্ব আমার।তুই শুধু এভাবেই ধরে রাখিস আমায়।আর কিচ্ছুটির দরকার নেই আমার।
চলবে….
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৪