#ভবঘুরে_সমরাঙ্গন
#পর্ব_৯
তাজরীন ফাতিহা
ভোরের নির্মল হাওয়ায় যেন স্নিগ্ধতার গান ভেসে আসে। গাছের পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুতে ঝলমল করে সূর্যের প্রথম আলো। পাখির কূজনের মধুর সুরে প্রকৃতি যেন নতুন দিনের আনন্দ বার্তা শোনায়। নিশাত ফজরের সালাত আদায় করে মিহি সুরে কুরআন তেলাওয়াত করতে বসে গেলো পাশে নাহওয়ানও মায়ের কোলে ঘাপটি মেরে আছে। ভোরের এই মিষ্টতা নিশাতকে দারুন প্রশান্তি দেয়। নাহওয়ানের মাঝে মধ্যে ফজরের সময় ঘুম ভেঙে যায়। বাচ্চাটা তখন মায়ের সাথে সাথে নামাজ পড়ার চেষ্টা করে, মায়ের পাশে বসেই কুরআন তেলাওয়াত শোনে।
নিশাত কুরআন তেলাওয়াত শেষে কিছুক্ষণ দোয়া পড়ে নিজের ও ছেলের শরীরে ফুঁ দিয়ে মাসেহ করে দিলো। কুরআনে চুমু খেয়ে জায়গা মতো রেখে দিলো সেটা। ছেলেকে কোলে নিয়ে বিছানায় উবু হয়ে শায়িত মারওয়ান আজাদের নিকট গেলো সে। বাচ্চাটাকে বিছানায় নামিয়ে মারওয়ানের সারা শরীরে ফুঁ দিয়ে দিলো। নাহওয়ান বিছনার উপরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মায়ের কার্যক্রম দেখছে। ফুঁ দেয়া শেষে নিশাত ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আব্বা, আপনি ঘুমাবেন?”
নাহওয়ান মাথা নাড়ালো অর্থাৎ ঘুমাবে। নিশাত বললো,
“আচ্ছা ঘুমান বাবার পাশে। মা নাস্তা বানিয়ে দুপুরের রান্না সেরে ফেলি গিয়ে।”
নাহওয়ান বাবার পিঠের উপর উঠে ঘুমিয়ে পড়লো। নিশাত ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে রান্নাঘরে চলে গেলো। রান্নার সরঞ্জাম গুছিয়ে নিলো। আজকে সকালের নাস্তায় পাটিসাপটা পিঠা করছে নিশাত। শীতের সময়ে সকালে পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। যখন মনোযোগ দিয়ে পিঠায় ক্ষীর দিচ্ছিলো সেসময়ই একটা হাত এসে তাকে ঝাপটে অন্যপাশে সরিয়ে নিলো। নিশাত ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠে বললো,
“লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাবিল্লাহ। আল্লাহ বাঁচাও জ্বিন, শয়তানের হাত থেকে বাঁচাও মাবুদ।”
নিশাত চোখ বন্ধ করে আওড়ে যাচ্ছে। একটু পর ঠাস করে মাথায় গুতো দিয়ে গমগম কণ্ঠে একজন বললো,
“মন চায় আছাড় দিয়ে নাড়িভুড়ি বের করে ফেলি। খালি বড় বড় কথা। কাজের বেলায় ঠনঠন। চুলোর একেবারে ভিতরে ঢুকে গিয়ে রান্না করতি। আগুন যে চুলে লাগতে নিয়েছিল দেখেছিলি?”
নিশাত দেখলো তার সামনে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে মারওয়ান দাঁড়িয়ে আছে। নিশাত বুকে থু থু দিয়ে বললো,
“আমাকে দূর থেকে ডেকে দিলেই তো হতো। এভাবে কোরবানির গরুর মতো ঝাপটে ধরার কি আছে? এইসময় তো আপনি কখনোই জাগেন না আজকে হঠাৎ এই সময়ে?”
মারওয়ান ফোঁস করে উঠে বললো,
“এইসময়ে মানে? কেন উঠতে পারিনা আমি? কখন উঠবো না উঠবো এটা তোকে বলে উঠতে হবে নাকি? আর ওড়না দিয়ে মাথা ঢেকেও চুল বের হয়ে আছে কেন? ওড়না তাহলে দেয়ার দরকার কি? খোপা করে রাঁধতে পারিস না? আগুন লাগলে কি হতো? সবাই তো আমাকে দুষতো।”
কথাটুকু বলেই মারওয়ান গজরাতে গজরাতে প্রস্থান করলো। নিশাত এখনো হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে। সবকিছু মাথার উপর দিয়ে গেলো মনে হলো। এই লোকের মতিগতি বোঝা বড় দায়। চুল খোপা করে মাথায় ওড়না দিয়ে পিঠা বানাতে লেগে গেলো আবারও।
______
এক থাল ভর্তি গরম গরম ক্ষীরে ভরা পাটিসাপটা পিঠা। নিশাতের হাতের এই পাটিসাপটা পিঠা সবারই পছন্দের। সবাই-ই বেশ প্রশংসা শুনেছে শুধুমাত্র বিড়ি’খোরটার বাদে। খাবে ঠিকই কিন্তু মুখ দিয়ে প্রশংসা বের হবে না কোনোদিন। তার কোনো রান্নারই আজ পর্যন্ত কোনো প্রশংসা করেনি এই ভাদাইম্মা। নাহওয়ান হাত পা ছড়িয়ে পিঠা খাচ্ছে। মারওয়ান মাত্র এসে বসলো। ছেলেকে পিঠা খেতে দেখে বললো,
“কিরে গোল আলু কি খাচ্ছিস?
নাহওয়ান মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে বললো,
“পিটা কাই।”
নিশাত গ্লাস আর জগ রেখে পাটিতে বসলো। নাহওয়ানকে দুই হাতে পিঠা খেতে দেখে বললো,
“একি নাহওয়ান এভাবে পিঠা খাচ্ছো কেন? ডান হাতে খাও। বাম হাতে খাওয়া ঠিক নয়।”
নাহওয়ান ফ্যালফ্যাল করে মায়ের দিকে তাকিয়ে রইলো তারপর পিঠা ডান হাতে নিতে গিয়ে পড়ে গেলো হাত ফসকে। মারওয়ান তা দেখে বললো,
“আসছে মাস্টেরি করতে। আমার দুই বছরের দুধের ছেলেকে ডান, বাম শিখাতে এসেছে।”
নিশাত কিছু বলবে না বলবে না করেও বললো,
“এই বয়সেই বাচ্চাদের শিক্ষা দিয়ে গড়তে হয় নাহলে বড় হয়ে ভাদাইম্মা, উশৃঙ্খল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ওকে আমি আপনার মতো কিছুতেই হতে দিবো না। ও হবে আল্লাহর উত্তম বান্দা। আর স্ত্রী, সন্তানের কাছে হবে সম্মানিত।”
মারওয়ান পাটিসাপটায় কামড় দিতে গিয়েও দিতে পারলো না। নিশাত পাটিসাপটা নিয়ে ছেলেকে খাইয়ে দিতে লাগলো। নাহওয়ান নিজের হাতেরটা মায়ের দিকে বাড়িয়ে দিলো। নিশাত ঠোঁটে মুচকি হাসি নিয়ে পিঠেই কামড় দিলো। নাহওয়ান মাকে খাইয়ে উঠে বাবার কাছে গেলো। মারওয়ানের হাতে এখনো পাটিসাপটাটা ধরা। সে স্ট্যাচু হয়ে বসে আছে। পিঠায় একটা কামড়ও দেয়নি। নাহওয়ান বাবার মুখের সামনে পিঠা ধরে বললো,
“বাবা কাও। মুজা মুজা।”
মারওয়ানের ধ্যান ভঙ্গ হলো যেন। মুখের সামনে পাটিসাপটা পিঠা দেখে ছেলের দিকে চাইলো। দেখলো স্যান্ডুগেঞ্জি পরিহিত তার দুই বছরের ছেলে পিঠা হাতে দাঁড়িয়ে আছে। গেঞ্জিটা মলিন হয়ে গেছে। অনেকদিন পড়ে বাচ্চাটা তাই বোধহয়। কি ছোট্ট শরীর! ছোট্ট ছোট্ট হাতে তার দিকে পিঠা বাড়িয়ে মায়াময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে! মারওয়ান বললো,
“খেতেই হবে?”
“হু, কাও।”
মারওয়ান মুখে নিলো। নাহওয়ান বাবার দিকে তাকিয়েও থাকলো। মারওয়ান বললো,
“আয় তোকে খাইয়ে দেই।”
নাহওয়ান ভদ্র বাচ্চার মতো বাবার কোলে বসলো। মারওয়ান ছেলেকে খাইয়ে দিতে লাগলো।
_______
——
মানহা ব্যাগ শক্ত করে চেপে রাস্তার একপাশ দিতে হেঁটে যাচ্ছে। বাড়ির এটুকু রাস্তা তাকে একা একাই ক্রস করতে হয়। ব্রিজের গোড়া পর্যন্ত বান্ধবীরা সাথে থাকে বাকি এইটুকু পথ সে একাই যায়। মাঝে মাঝে মেঝ ভাইয়া অথবা সেঝো ভাইয়া তাকে নিয়ে যায় কলেজ থেকে। যেহেতু অনার্সে ডিগ্রি কলেজে পড়ছে সেহেতু এটাকে কলেজই উল্লেখ করে সবাই। আজকে মেঝ ভাই মাহদী আমিন ব্যস্ত বিধায় তাকে নিতে আসেনি বোধহয়। আর সেঝো ভাই মাহফুজ আরাফ রাজশাহীতে এখন।
মানহা গুটিগুটি পায়ে বাসার উদ্দেশে হেঁটে চলছে। পথিমধ্যে কতগুলো কুকুরকে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অন্তর আত্মা কেঁপে উঠলো তার। কুকুরে ভীষণ ভয় তার। এতগুলো কুকুর কোথা থেকে এলো? সে রাস্তার এককোনে দাঁড়ালো। যেন কুকুরগুলো তাকে না দেখে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও যখন কুকুরগুলোর ঘেউ ঘেউ বেড়ে গেলো তখন মানহার কান্না পেয়ে গেলো। নিকাবের আড়ালে চোখ ভিজে একাকার। হঠাৎ উল্টো দিক থেকে ইহাব ভুঁইয়া নামক লোকটাকে হেঁটে আসতে দেখে একটু সাহস পেলো যেন। মানহা ঠিক মতো লোকটার দিকে তাকালো না পর্যন্ত। কারণ পরপুরুষ তার নিকট কুকুরের চেয়েও ভয়ংকর। সে ঠিক করলো ইহাব নামক পুরুষটি গেলেই সে এখান থেকে বের হয়ে বাসায় যাবে।
অন্যদিকে ইহাব এক হাত পকেটে গুঁজে কানে ফোন নিয়ে কথা বলতে বলতে হেঁটে আসছে। কতগুলো কুকুরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ইট হাতে নিয়ে ওদের দিকে ছুঁড়ে মারলো। কুকুরগুলো পড়িমড়ি করে ছুটে পালালো। ইহাব চুলে হেয়ার স্লিকিং করতে করতে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে হাঁটতে লাগলো। হঠাৎই তার নজরে পড়লো বোরকা পরিহিত একজন রমণীর পানে। তার চোখ সরু হয়ে গেলো। যাকে ভাবছে সেই কিনা দেখতে এগিয়ে গিয়ে দেখলো সেই। উল্টো দিকে ঘুরে আছে। ইহাব রহস্যময় ভঙ্গিতে তাকালো। কল কেটে এগিয়ে গিয়ে বললো,
“কোনো হেল্প দরকার?”
মানহা আচমকা কারো কণ্ঠস্বরে থতমত খেয়ে গেলো। তাও কণ্ঠটা যদি হয় পুরুষের তাহলে তো কথাই নেই। মানহা থরথর করে কেঁপে উঠলো। মনে মনে অনেকবার আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলো যেন লোকটা চলে যায়। ইহাব আবারও জিজ্ঞেস করলো,
“কথা বলছো না কেন?”
মানহা চোখ একবারে হতবাক হয়ে গেছে। চেনে না জানে না একজনকে ডিরেক্ট তুমি বলা কেমন ভদ্রতা? মানহা কোনো কথা না বলে ব্যাগ শক্ত করে চেপে ধরে সামনের দিকে হাঁটতে লাগলো। ইহাব অবাক হলো এই কাণ্ডে। চোখ মুখ কুঁচকে বিড়বিড় করে বললো,
“জাস্ট বিরক্তিকর।”
তারপর মানহার পিছন পিছন একটু গিয়ে জোরেই বলে উঠলো,
“এতো সাধুগিরি কই থাকে আমিও দেখবো। নিজেকে এতো লুকিয়ে রাখছো আবার এমন না হয় একদিন আমিই তোমাকে বোরকা ছাড়া পুরোপুরি দেখবো। কারণ যার থেকে মানুষ পালাতে চায় তার কাছেই কিন্তু ধরা দিতে হয়।”
মানহা “বেয়াদব ও অসভ্য” বলে দ্রুত কদম ফেলে প্রস্থান করলো। ইহাব চুলে ব্যাকব্রাশ করতে করতে বললো,
“যা বললে তার অপেক্ষায় থেকো মেয়ে।”
বলেই রহস্যময় ভঙ্গিতে হেঁটে উল্টোদিকে চলে গেলো।
_______
—-
“বাবা ডুডু কাবো।”
মারওয়ান একটা কাগজে কি যেন লিখছিল। নাহওয়ান খেলনা দিয়ে খেলছিল আচমকা এই কথা বলায় মারওয়ান বললো,
“কি বললি রে ফাইয়াজ?”
“ডুডু কাবো।”
মারওয়ান বললো,
“দুধ কই পাবো?”
নাহওয়ান পা দাপিয়ে বাবাকে ঝাঁকিয়ে বললো,
“কাবোই। ডুডু ডাও।”
মারওয়ানের মাথা আউলা ঝাউলা হয়ে যেতে লাগলো। দুধ পাবে কই এখন সে? বাচ্চাটা মাঝে মধ্যে এতো জ্বালায় ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। মারওয়ান বিরক্ত হয়ে বললো,
“জ্বালাস না তো ফাইয়াজ। আমি এখন দুধ পাবো কই? তুই খেলছিস খেল না বাপ।”
নাহওয়ান কেঁদে দিয়ে বললো,
“টোমালটা ডাও।”
মারওয়ান চোখ কপালে তুলে বললো,
“সর্বনাশ এই আন্ডা কি বলে?”
মারওয়ান খাতা বন্ধ করে আবারও বললো,
“কোথা থেকে দিবো।”
“মা যে ডেয়।”
“ওই তোর মা আর আমি এক?”
“ডাও।”
বাচ্চাটা সচরাচর দুধ খাওয়ার বায়না করে না। নিশাত বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো ছেড়েছে কয়েকমাস হয় তবুও মাঝে মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে বাচ্চাটা। নিশাত বহু কষ্টে সামলায় তখন। মারওয়ান মহা মুশকিলে পড়লো যেন। ফোন নিয়ে নিশাতের নম্বরে ডায়াল করলো। নিশাত ক্লাস নিচ্ছিলো তখন তাই ধরেনি। মারওয়ান ফোন লাগাতার দেয়ার ফলে একসময় ফোন ধরলো নিশাত। মারওয়ান বললো,
“ছেলে তো দুধের জন্য কাদঁছে কি করবো?”
নিশাত বেশ বিরক্ত হলো। ক্লাসের সময় কল দিয়ে বলছে ছেলে তো দুধের জন্য কাদঁছে কি করবো? কি করবে সেটা বুঝি নিশাত জানে। আক্কেল বুদ্ধি কিচ্ছু নেই এই ভাদাইম্মা পুরুষের। কোনরকম বললো,
“নাচুন কি আর করবেন।”
বলেই ফোন কেটে দিলো নিশাত। মারওয়ান সত্যি ভেবে নাচতে লেগে গেলো। নাচা আর কি। কোমড়ে দুই হাত দিয়ে এপাশ ওপাশ করা এতটুকুই। নাহওয়ান বাবাকে এরকম উদ্ভট ভঙ্গিমা করতে দেখে কান্না থামিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। ছেলেকে কান্না থামিয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মারওয়ান নাচকে আরেকটু রঞ্জিত করার জন্য লাফ দিলো একটা। নাহওয়ান বাবাকে পেঙ্গুইনের মতো লাফিয়ে উঠতে দেখে খিলখিল করে হেঁসে নিজেও একটা লাফ দিলো। তারপর আরকি বুড়ো পেঙ্গুইন আর মিনি পেঙ্গুইন কিছুক্ষণ লাফালাফি করে কাটালো।
চলবে…
(আসসালামু আলাইকুম। কেমন লেগেছে আজকের পর্ব? গঠনমূলক মন্তব্য করার অনুরোধ
)
#ভবঘুরে_সমরাঙ্গন
#পর্ব_১০
তাজরীন ফাতিহা
ইমতিয়াজ ভুঁইয়া নিজের কক্ষে কিছু কাগজপত্র নিয়ে ঘাটাঘাটি করছেন। উর্মি ভুঁইয়া বিছনার উপরে চার্লস ডিকেন্সের বিখ্যাত বই “Great Expectations” বইটি পড়ছেন। এক অনাথ ছেলে পিপের জীবনসংগ্রাম, সামাজিক উন্নতি এবং ভালো-মন্দের দ্বন্দ্ব নিয়ে লেখা এই বইটি। উর্মি ভুঁইয়ার বইটি পড়ে অনাথ পিপের জন্য কখনো চোখে পানি এসেছে আবার কখনো উপলব্ধি হয়েছে সামাজিক শ্রেণীবিন্যাস এই সমাজে কি ভয়ংকর প্রভাব ফেলে। ইমতিয়াজ ভুঁইয়া স্ত্রীকে আড়চোখে দেখছিলেন। কঠিন হৃদয়ের উর্মি ভুঁইয়াকে চোখের কোণা মুছতে দেখে একটু অবাকই হয়েছিলেন তিনি। যদিও পানি গড়ায়নি চোখ দিয়ে তবে চোখে যে পানি এসেছিল তা তিনি নিশ্চিত।
ইমতিয়াজ ভুঁইয়ার নিজের যৌবনের কথা মনে পড়ে গেলো। উর্মি ভুঁইয়া নামক নারীটি ছিল মায়াবিনী। কিভাবে যে তাকে বশ করে ফেললো সে বুঝতেই পারেনি। নারীটির চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যই কি তার কারণ? ইমতিয়াজ ভুঁইয়া ভেবে কোনো কূলকিনারা পেলেন না। কি তেজ, কি ব্যক্তিত্ব যা তাকে খুব সহজেই আকৃষ্ট করে ফেলেছিল নারীটিকে মনে জায়গা দিতে। এখনো নারীটির সামনে ভেবেচিন্তে কথা বলতে হয়। এরকম ইস্পাত মানবী তিনি জীবনে কমই দেখেছেন।
উর্মি ভুঁইয়া বইটি বন্ধ করে চশমা খুলে রাখলেন। তারপর উঠে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। ইহাবের দরজায় নক করলেন। খানিকক্ষণ পর ইহাব দরজা খুলে বললো,
“কিছু বলবে আম্মু?”
উর্মি ভুঁইয়া বললেন,
“ভিতরে আসবো?”
“আসো।”
ছেলের খাটের উপরে বসে ছেলেকে তার কাছে ডাকলেন। ইহাব মায়ের কোলে মাথা দিয়ে বললো,
“আম্মু মাথাটা মালিশ করে দাও তো।”
উর্মি ভুঁইয়া মাথা মালিশ করে দিতে দিতে বললেন,
“তোমার নিজস্ব কোনো পছন্দ আছে ইহাব?”
ইহাব ঘাড় ঘুরিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
“হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন আম্মু?”
“ছেলেকে তো বিয়ে দিতে হবে। বয়স তো তোমার কম হলো না।”
ইহাব আস্তে করে বললো,
“যদি বলি পছন্দ আছে তাহলে কি তুমি রাগ করবে?”
উর্মি ভুঁইয়ার হাত থেমে গেলো খানিকক্ষণের জন্য। তারপর ছেলের কপাল টিপে দিতে দিতে বললেন,
“রাগ করবো কেন? কে সে নাম বলো? তোমার বাবার সাথে কথা বলবো তাহলে এই বিষয়ে।”
“সময় হলে বলবো।”
উর্মি ভুঁইয়া ভেবে চললেন কে সেই মেয়ে যাকে পছন্দ করে তার ছেলে? ইহাব তো প্রেম করে না যতটুকু তিনি জানেন কিন্তু পছন্দ আছে সেটা তো জানতেন না। অন্যদিকে ইহাব নিজের প্ল্যান অনুযায়ী আগাচ্ছে ভেবে মনে মনে হাসলো। পাপাকে রাজি করানো একটু ঝামেলার হলেও আম্মু সেটা সামলে নেবে তা ইহাব ভালো করে জানে।
______
—-
“আস সুব হু বাদা মিন ত্ব’ল আ তিহি…
ওয়াল লাইলু দাযামিও ওয়াফরাতিহি…
হে নূরে সাহার চেহেরে সে তেরে…
অর শাব কি রওনাক জুলফ হে…
আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহ…
আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহু আল্লাহ…”
নিশাত কাজের ফাঁকে ফাঁকে গজল, নাশিদ ইত্যাদি প্রায়ই গায়। তার কণ্ঠ মাশাআল্লাহ। মারওয়ানও মাঝে মধ্যে মন্ত্রমুগ্ধের মতো শোনে সুললিত কণ্ঠের সেই গজল। আজকেও সে রান্না করছে আর ছেলেকে গজল গেয়ে শোনাচ্ছে। নাহওয়ান মায়ের কোলে চুপটি করে বসে থেকে শ্রুতিমধুর এই গজলটি শুনে চলছে।
মারওয়ান আজকে সকালেই উঠে গেছে। রান্নাঘরের দরজায় এসে স্ত্রীর গজলটি শুনে থেমে গেলো তার পা। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনলো। তারপর নিশাত আচমকা থেমে যাওয়ায় বিরক্ত হলো বেশ। নাহওয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে বাবাকে দরজায় দাড়ানো দেখে মায়ের কোলেই লাফিয়ে উঠে বললো,
“উইত্তো বাবা।”
নিশাতও ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো মারওয়ান দাঁড়িয়ে আছে। বললো,
“ওখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? ছেলেকে নিন।”
মারওয়ান রান্নাঘরে ঢুকে ছেলেকে কোলে নিলো। নাহওয়ান বাবাকে দেখেই ঝাঁপিয়ে পড়লো একেবারে। নিশাত এতক্ষণ ঠিক করে কাজ করতে পারছিল না। এখন একটু রিল্যাক্স লাগছে তার। মারওয়ান উঁকি দিয়ে চুলোর দিকে চাইলো। কড়াইয়ে মাছ ভাজা হচ্ছে। তার নাক কুঁচকে গেলো। মাছ তেমন একটা পছন্দ না তার। নাক কুঁচকে রেখেই বললো,
“প্রতিদিন মাছ রাঁধতে হবে কেন? গোশতের আকাল পড়েছে?”
নিশাতের চলন্ত হাত থেমে গেলো। মুখ কঠিন করে বললো,
“প্রতিদিন গোশত খাওয়ার শখ থাকলে কামাই করে খান। আপনাকে কেউ বাঁধা দিবে না। নিজের অল্প ইনকামে যা পারি তাই-ই আনি। সংসারের খরচটা তো আমাকেই দেখতে হয়। দুই একদিন বাজার করে দেখুন সবকিছুর দাম কত চওড়া। মুখ খালি খেতেই চায়, হাত পা কাজ করতে চায়না তাই না?”
কথাটুকু বলে নিশাত আবার রান্নায় মনোনিবেশ করলো। তাকে আবার রেঁধে বেড়ে স্কুলে যেতে হবে
আজাইরা আলাপ করার সময় নেই তার। মারওয়ান মুখ কঠিন করে তাকিয়েই থাকলো। কোনো কথার জবাব দিলো না। ছেলেকে কোল থেকে নামিয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। বিরক্ত লাগছে সবকিছু। নাহওয়ান কান চুলকে বাবার যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে। তারপর মায়ের পা জড়িয়ে ধরলো। নিশাত দেখলো মারওয়ান ছেলেকে রেখে গেছে। রাগ উঠলো তার। কথা বলেনি তো কি হয়েছে? ছেলেকে রেখে গিয়ে ঝাল মিটাচ্ছে। অভদ্র পুরুষ। নাহওয়ানকে বললো,
“আব্বা, বাবার কাছে যান।”
নাহওয়ান মায়ের কথা মেনে বাবার কাছে চলে গেলো। মারওয়ানকে শুয়ে থাকতে দেখে নিজেও খাটের উপরে উঠে বাবার বুকের উপরে বসলো। মারওয়ান চোখ থেকে হাত সরিয়ে ছেলেকে দেখে বললো,
“আমার কাছে কি? যা মায়ের কাছে যা। কিছু বলেও শান্তি পাই না। সব মায়ের কাছে সাপ্লাই করার জন্য বসে আছে মায়ের গুপ্তচর। তোর মা পাঠিয়েছে তাই না? যেন কি কি বলি সব খবর তার কানে পৌঁছিয়ে দিতে পারিস। বদ ছেলে।”
নাহওয়ান কিছুই বুঝলো না। সে ঠোঁট বাকিয়ে ঘাড় নেড়ে বললো,
“বড বাবা।”
মারওয়ান বললো,
“পাজি, হতচ্ছাড়া, নচ্ছার।”
নাহওয়ানও বাবার সাথে আওড়ালো,
“পাজি, হটচারা, নচ্চার।”
“এই তোর মাথায় এতো বুদ্ধি কেন?”
নাহওয়ান হাত নাড়িয়ে বললো,
“বুড্ডি নাই।”
বলেই ফিচ ফিচ করে হেঁসে দিলো। মারওয়ান ছেলেকে শুধালো,
“বাইরে যাবি?”
নাহওয়ানের চোখ চকচক করে উঠলো। বাবার উপর থেকে নেমে লাফ দিয়ে বললো,
“যাবো। টলো যাই।”
“আরে এখন না। তোর মা আগে স্কুলে যাক। শোন আমরা বাপ, বেটা বাইরে খেতে যাবো। এসব খাবার খাওয়া যায়? তুই কিচ্ছু খাবি না বুঝলি?”
“আচ্চা।”
“আর মাকে বলবি না। বল বলবো না।”
“বনবো না।”
“এবার ঠিক আছে।”
_____
নিশাত আজকে ছেলেকে কিছুতেই খাওয়াতে পারলো না। ছেলে আর ছেলের বাবা ঘাপটি মেরে শুয়ে আছে। নিশাতের স্কুলের সময় যাচ্ছে। তাই সবকিছু ঢেকে রেখে স্কুলে চলে গেলো। নিশাতের যাওয়ার আওয়াজ শুনে বাপ ছেলে চোখ খুলে একে অপরের দিকে চাইলো। তারপর ফিক করে হেঁসে দিলো। মারওয়ান গেট আটকিয়ে এসে নিজের ফোনের বিকাশ একাউন্ট চেক করলো। পাঁচ হাজার টাকা আছে। হয়ে যাবে বাপ, ছেলের আজকের খাওয়া। ছেলেকে রেডি করিয়ে নিজে তৈরি হলো। তারপর নাহওয়ানকে কোলে নিয়ে দরজা আটকে বাপ, ছেলে নিজেদের গন্তব্যে রওনা হলো।
এলাকার মধ্যে হাবিব ভাইয়ের পরোটা ভাজি বিখ্যাত। হোটেলে ঢুকে চারটে পরোটা, ডিম ও গরুর কলিজা ভুনা অর্ডার দিলো মারওয়ান। সাথে একটা বুটের ডালও অর্ডার করলো। নাহওয়ান বাবার কোলে বসে এপাশ ওপাশ চেয়ে দেখছে। একটুপর সবকিছু চলে আসলে মারওয়ান ছেলেকে ডিম দিয়ে পরোটা খাইয়ে দিতে লাগলো। নিজেও পাশাপাশি কলিজা ভুনা, বুটের ডালের সংমিশ্রণে পরোটা খেলো। মুখে দেয়ার সাথে সাথে চোখ তৃপ্তিতে মুদে গেলো তার। একটু ঝাল ঝাল লাগছিল যদিও তবে স্বাদের কোনো তুলনা হয়না।
কলিজা থেকে মসলা ছাড়িয়ে ছেলেকে খাইয়ে দিলো। নাহওয়ানও মাথা নাড়িয়ে মজা করে খেতে লাগলো। বাপ ছেলে সকালের নাস্তা ভালোভাবেই শেষ করলো।
হোটেল থেকে বেরিয়ে পার্কের উদ্দেশ্যে হাঁটতে লাগলো মারওয়ান। এই পার্কটা তাদের বাবা, ছেলের ভীষণ পছন্দের। কত সুন্দর প্রকৃতি! পার্কে ঢুকেই মারওয়ান ছেলেকে কোল থেকে নামিয়ে দিলো। নাহওয়ান ছাড়া পেয়ে দৌঁড় দিলো সামনে। তাদের বাপ বেটার জন্য এই জায়গাটা একটা ট্যুরের মতো। চারপাশে সুন্দর সুন্দর ফুলের গাছ। রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, বেলি, শিউলি, অশোক, জারুল ইত্যাদি বিভিন্ন ফুলের গাছে ভরা এই পার্কটি। ছেলেকে নিয়ে প্রায়ই তার আসা হয় এখানে। নাহওয়ান অনেক দূর দৌঁড়ে গেছে। মারওয়ান জোরে ডাক দিয়ে বললো,
“তুই থাক। আমি গেলাম।”
বলেই সে উল্টো ফিরে হাঁটতে লাগলো। নাহওয়ান বাবার কথা শুনে ভয় পেয়ে গেলো। লাফিয়ে লাফিয়ে দৌঁড়ে আসতে লাগলো মারওয়ানের কাছে। মারওয়ান আড়চোখে ছেলেকে লাফিয়ে লাফিয়ে আসতে দেখে আড়ালে হাসলো। নাহওয়ান দৌঁড়ে এসে বাবার পা জড়িয়ে ধরলো। মারওয়ান হেঁসে বললো,
“পেঙ্গুইন একটা।”
ছেলে ভয় পেয়েছে দেখে তাকে কোলে নিয়ে পার্কের বিভিন্ন জায়গা ঘুরলো। তারপর ছেলেকে নিচে নামিয়ে বললো,
“বাবাকে ধর তো ফাইয়াজ।”
বলেই দৌঁড়ে একটু দূরে চলে গেলো। নাহওয়ান হেঁসে দৌঁড় দিলো ধরার জন্য। এভাবে বাপ,ছেলের দৌড়াদৌড়ি, হাসি মজায় সকালটা পার হলো।
_____
দুপুর দেড়টা বাজে। বাপ, ছেলে খাবার খাওয়ার জন্য হাত ধুয়ে বসলো। গরম গরম খিচুড়ি, মুরগি ভুনা অর্ডার দিয়েছিল। চেয়েছিল গরুর গোশত অর্ডার করতে কিন্তু টাকা বেশি খরচ করলে সমস্যা। তাই মুরগিটাই করেছে। ছেলেকে খাইয়ে দিলো। বাচ্চাটা মজা করে খেলো। মারওয়ান জিজ্ঞেস করলো,
“কেমন রে ফাইয়াজ?”
“মুজা মুজা।”
“তোর মায়ের রান্নার চেয়ে মজা না?”
“হু।”
বাচ্চা মানুষ অতকিছু ভেবে বলেনি। মুখে মজা লেগেছে দেখে এটাই মজা লাগছে তার কাছে। নিশাতের রান্নাও দারুন মজার। মারওয়ান স্বীকার করুক আর না করুক মায়ের পর নিশাতের রান্না ছাড়া কারো রান্নাই তার তেমন পছন্দের না। মারওয়ানের চোখে হঠাৎ করেই ক্লান্ত বিধ্বস্ত হয়ে ঘরে ফেরা নিশাতের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠলো। কি মনে করে খিচুড়ি, মুরগি ভুনা পার্সেল করে দিতে বললো।
বাসায় ফিরে বাপ, ছেলে গোসল দিলো। তারপর ঘুমিয়ে পড়লো। যেহেতু সারাদিন বাইরে ছিল তাই ঘুম সহজেই চোখে ধরা দিলো বাবা ছেলের।
______
নিশাত গোসল করে নামাজ পড়লো। ছেলে ঘুমিয়ে আছে। মারওয়ান দরজা খুলে আবারও ঘুমিয়ে পড়েছে। ভাত খেতে গিয়ে দেখলো একটু ভাতও পাতিল থেকে কমেনি। নিশাত চমকে গিয়ে ভাবলো,
“বাপ বেটা কিছু খায়নি? তার বাচ্চাটা এখনো না খেয়ে আছে?”
সে দ্রুত রুমে গিয়ে তাদের ডাকতে যাবে সেই সময় টেবিলের উপর প্যাকেট দেখে প্যাকেটটা খুললো। ভিতরে খিচুড়ি আর মুরগি ভুনা। নিশাত বুঝলো বাপ, বেটা বাইরে খেয়েছে। তার জন্যও নিয়ে এসেছে আবার। টাকা পেলো কই? নিশাত মারওয়ানকে ঠেলে ডাকলো। মারওয়ান চোখ খুলে বললো,
“কি সমস্যা?”
“এসব যে এনেছেন টাকা পেয়েছেন কোথায়?”
“তোর জানতে হবে? এনেছি খাবি ব্যাস।”
“আশ্চর্য টাকা কোথায় পেলেন জানতে হবে না? যদি হারাম টাকা হয়? এই টাকার খাবার আমি জীবনেও খাবো না। বাবার কাছে তো টাকা চাওয়ার কথা না তাহলে এই টাকা পেলেন কোথায়? চাকরি তো ছেড়ে দিয়েছেন শুনেছিলাম। আরেকটা জুটিয়েছেন নাকি?”
মারওয়ান চোখ বন্ধ করেই বিরক্তিকর শব্দ করলো। বললো,
“ওটা হারাম টাকার কোনো খাবার না। খেতে ইচ্ছে না করলে রেখে দে।”
নিশাত ভেবে পেলো না কি বলবে। রেখে দিয়ে নিজের রান্না করা ভাতই বেড়ে খেতে বসলো সে। নিশাতের সন্দেহ হচ্ছে টাকা পেলো কোথায় এই ভাদাইম্মা? তাকে না জানিয়ে কি কাজ করছে যে বলছে না? নিশাত আর না ভেবে নিজের খাবার শেষ করলো।
______
রাত দশটা। মারওয়ান বাইরে থেকে এসে দেখলো নাহওয়ান খেলছে। পুরো শরীর তার ঘামে ভিজে গেছে। শার্ট খুলে ফেললো সে। নাহওয়ান বাবাকে উদোম দেখে বললো,
“বাবা নাঙ্গা কেনু? “
মারওয়ান গরমে ত্যক্ত হয়ে বললো,
“নাঙ্গা থাকার শখ জেগেছে তাই। আয় তোকেও নাঙ্গা করে দেই।”
বলেই ছেলের দিকে এগিয়ে আসতে নিলো। নাহওয়ান দৌঁড় দিয়ে মায়ের কাছে যেতে যেতে বললো,
“ইন না। টওবা, টওবা।”
চলবে…
(আসসালামু আলাইকুম। কেমন লেগেছে আজকের পর্ব? গঠনমূলক মন্তব্যের অনুরোধ।)
Share On:
TAGS: তাজরীন ফাতিহা, ভবঘুরে সমরাঙ্গন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৫৩+৫৪
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ২৮
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৪৩+৪৪
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৩৯+৪০
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ১১+১২
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ১৩+১৪
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ২২+২৩
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব (৪৯.১+৪৯.২)
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন পর্ব ৬
-
ভবঘুরে সমরাঙ্গন ১৫+১৬