বেলতুলি – [১৯]
লাবিবা ওয়াহিদ
[অন্যত্র কপি সম্পূর্ণ নিষেধ]
[যারা গল্পটি পড়ছেন, অবশ্যই নিচের নোট পড়বেন]
–“আপনি বড়োই নির্দয় নিবিড় ভাই। কীভাবে যে রত্না আপু আপনার জীবন সঙ্গিনী হবে।”
বুশরা সামনে থেকে ডাকল,
–“কী রে মৌনো, আয়!”
মৌনো শেষবার নিবিড়ের যাওয়ার পানে চেয়ে বলল,
–“আসছি।”
মৌনোর সেঝো মামার নাম ইয়াসিন। ইয়াসিন শেখ। ইয়ামিনের বড়োজনই হচ্ছেন উনি। স্বভাবে, কাজকর্মে বড্ড তড়তড়ে স্বভাবের। আলস্য তাকে সহজে ছুঁতে পারে না। কথা বলতে কিংবা নড়াচড়ায় সে বেশ সতেজ। বরাবরই প্রচন্ড শারীরিক চর্চায় এ প্লাস প্রাপ্ত মধ্যবয়সী মানুষ। যাকেই দেখবেন তাকেই জ্ঞান দেওয়া শুরু করবেন। এইত, বাড়ি এসে যখন রিমঝিমকে দেখলেন। তাকে দেখেই কপালে ভাঁজ ফেলে খুব চিন্তিত সুরে বললেন,
–“কি ব্যাপার? চেহারার এই হাল কেন? চোখের নিচে কালি মেখেছিস? ডার্ক সার্কেলের জন্য বেশি বেশি পানি খাবি, রাতে ঘুমোবি। বিয়ের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারিস না বুঝি? বিয়ে-টিয়ে ছাড়, এগুলা আ(১)ত্ম(১)ত্যা বই আর কিছু না। ইয়ামিন করতে যাচ্ছে বলে কি আমাদেরও দু হাতে তালি দিয়ে করতে হবে নাকি?”
খুব অজানা কারণে ইয়াসিনের বিয়ের প্রতি চরম অনীহা। সে কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি নয়। বিয়ের ভয়ে কয়েকবার সে বাড়িছাড়াও হয়েছে। কিন্তু তাকে কোনোভাবেই বিয়ের পিরিতে বসানো তো দূর, সামান্য মেয়ে দেখতে নিয়ে যাওয়াও সম্ভব হয়নি। মেয়ে যদি না-ই দেখে, সে বুঝবে কিভাবে কোনো মেয়ে তার জন্য ঠিক নাকি বেঠিক?
ইয়াসিনের পথেই হাঁটছিলেন ইয়ামিন। কিন্তু কেন যেন তিনি ইয়াসিনকে টপকাতে পারেনি। তাকে ধরে বেঁধে মেয়ে দেখতে নিয়ে যাওয়া হলো, এখন তার সাথেই বিয়ে। এ নিয়ে ইয়াসিনের পেটে হাত চেপে হাসাহাসি থামে না। ইয়ামিন এতে চরম অপমানবোধ করে। ভাইকে নাক ফুঁলিয়ে বললেন,
–“আমারও দিন আসবে। দেখবে ভাই, আমার এই বিসর্জন বৃথা যাবে না।”
ইয়াসিন তখন আরও হেসে বলেছিলেন,
–“বিসর্জন দেওয়ার পর মুখ আর মুখ থাকবে না। তখন বউয়ের আঁচলে ঢুকেই জীবন কাটাবি।”
–“আমার নাহয় আঁচল আছে, তোমার তো তাও নাই। পরে আবার আফসোস করে বোলো না ছোটো ভাইয়ের বউ আছে কিন্তু তোমার নেই।”
ইয়ামিনের কটাক্ষতে ইয়াসিনের নড়চড় হয়েছিল বলে মনে হয় না।
মৌনো ফ্রেশ হয়ে বুশরার সাথে নিচে নামছে। তাকে বেশ আনমনা দেখাচ্ছে। বুশরা তা লক্ষ্য না করেই বলল,
–“নেভি সাহেব সত্যি তোদের প্রতিবেশি?”
–“হুঁ।”
–“এমন সুন্দর প্রতিবেশি কী ঢাকাতেই পাওয়া যায়? আমাদের প্রতিবেশিতে তো আমি বাচ্চা আর আঙ্কেল ছাড়া কিছু দেখি না।”
বুশরার কথার সুর বুঝতে মৌনোর খুব একটা অসুবিধে হলো না। তবুও মৌনো প্রশ্ন করল,
–“কি বলতে চাচ্ছ আপা?”
–“নেভি সাহেবকে দেখে তো আনম্যারিড লাগল। কি বলিস? কিছুমিছু হতে পারে?”
মৌনো চমকাল না। গা ছাড়া ভাব নিয়ে এক শব্দে বলল,
–“এঙ্গেজড।”
বুশরার মনে হলো এক লহমার জন্য তার বুকে ছেদ করেছে কেউ। তাকে বেশ হতাশ দেখাল। মৌনো ভাবল, যেদিন কামরুল তাদের বাড়ি নিবিড়ের এঙ্গেজমেন্টের মিষ্টি নিয়ে আনল, সেদিনও কি মৌনোর চেহারার দশা এমন হয়েছিল? কামরুলও কী তার ভাঙা মুখটা দেখেছিল? মৌনোর সম্বিৎ ফিরল, নিজের মাথার কিছু চুল আড়ালে টেনে দিয়ে আপনমনে নিজেকে ধমকাল। সে এমন অদ্ভুত আচরণ করছে কেন?
ইয়াসিন মামার ঘরের সামনে এসেই ওরা থামল। ইয়াসিন মামা ঘরে নেই। কাজের লোক থেকে খোঁজ নিয়ে মৌনোর আবার খুড়িয়ে খুড়িয়ে উঠোনে যাওয়া লাগল। ইয়াসিনকে দেখেই সে স্বাভাবিক হাঁটার চেষ্টা করল। ইয়াসিনের সাথে আপাতত আর কেউ নেই। ইয়াসিন মৌনোর দিকে তাকাতেই সে আমতা আমতা করে সালাম দিল। সালামের উত্তর দিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়লেন মামা,
–“কোথায় গিয়েছিলি তোরা?”
বুশরা হাসার চেষ্টা করে বলল,
–“এইতো, মৌনোকে নিয়ে বেরিয়েছিলাম।”
–“সে তো আমিও জানি, কোথায় গিয়েছিলি জিজ্ঞেস করেছি।”
–“মোচড়ের দিকে গিয়েছিলাম, ফুচকার জন্য।”
–“তো ফুচকা খেতে এত দেরী হয়?”
এই প্রশ্নের জবাব ওরা দিতে পারল না। ইয়াসিন দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তিনি কখনই এমন কঠোর নয়। তবে মাঝেমধ্যে ভাব নিতে তো ক্ষতি নেই। তার নিজের রূপে ফিরতে বেশি সময় লাগল না।
–“বুশরা, যা তো। তিন কাপ চা করে আন। মুন, বোস পাশে।”
মৌনোকে কখনোই তিনি পুরো নামে ডাকেন না। এটা মৌনোর অন্যান্য মামাদের ক্ষেত্রেও। শুধু ইয়ামিনই তাকে ঠিকঠাক নামে ডাকে। মৌনো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বসল, বুশরাও গেল চা করতে। তার মৌনোদের সাথে বসার পরিকল্পনা নেই। সে নিজের চা নিয়ে রুমে চলে যাবে ঠিক করেছে। রিমঝিমের সাথে বসে দুঃখবিলাস করবে। সবেই তার অস্থায়ী মন ভেঙেছে। কারো রিজেক্ট শোনার চেয়েও বেশি দুঃখ কিসে? যখন শোনে পছন্দের মানুষটা আরেকজনের। এর চেয়ে বেশি দুঃখ, মন ভাঙা অনুভূতি আগে কখনোই হয়নি তার।
মৌনো বসতেই ইয়াসিন রিমঝিমের কথা জিজ্ঞেস করল,
–“এ দেখি আমাকে সালাম দিয়েই চলে গেছে। কারণ কী বল তো?”
–“কেন? তুমি কী আবার কিছু বলেছ?”
–“বললাম তো, ওর চোখের ছিঁড়ি দেখেছিস? বিয়ের চিন্তায় বুঝি ঘুমায় না।”
–“এজন্যই চলে গেছে। আপা কখনোই বিয়ে বিয়ে করেনি।”
ইয়াসিন হো হো করে হেসে দেন। পরপর খুব চিন্তিত দেখাল তাকে।
–“রিমঝিম সত্যিই ভালো আছে তো?”
–“হুঁ। বিয়ের কথা না উঠলেই আপা ভালো থাকে। তোমাদের ছায়া পড়েছে আপার উপর!”
–“কী বলতে চাচ্ছিস?”
–“তোমাদের শেখ বংশের মধ্যে বিয়ে না করার রোগ আছে, তা ঢের দেখতে পারছি।”
–“তো তুই কী বিয়ে করতে চাস নাকি?”
–“চাইব না কেন? বিয়ে করলেই তো স্বাধীনতা পাব।”
–“উলটো বললি না?”
মৌনো হেসে ফেলে। ইয়াসিনের সাথে সে কথাতে পারে না।
–“বিয়ে করতে ক্ষতি কী?”
–“রিমঝিমও একসময় এভাবে বলেছিল, দেখ এখন। ও নিজেই বিয়ে করতে চায় না। ব্যাপার কী বল তো, তুইও কী ঝিমের মতোই কোথাও আটকে গেছিস?”
মৌনো আচমকা চুপসে গেল। সে কি নিজের অজান্তেই ধরা খেল? মৌনো প্রখর আত্মবিশ্বাসের সাথে অসম্মতি জানাল। ইয়াসিনও মৌনোকে আর ঘাটলেন না। তিনি কপালে আঙুলের বিচরণ চালিয়ে বললেন,
–“আসলেই রে মুন, মেয়েটার পরিণতি এমন কেন হয়ে গেল? আমাদের বড়ো মেয়ে রিমঝিম। কত স্বপ্ন ছিল ওর চোখে, সব একটা দিনের মধ্যে বদলে গেল?”
মৌনো শূন্য চোখে আঁধারে নিমজ্জিত আকাশের পানে তাকাল। ইয়াসিনের গলার সুর এখনো হতাশায় ভরপুর। তবে মৌনো আপাতত বিষণ্ণতায় ডুবতে চাইল না। সে দ্রুত প্রসঙ্গ বদলাল,
–“তোমার ছোটো ভাইয়ের বিয়ে, তুমি এখানে বসে দুঃখের আলাপ করছ? কোথায় ডেকোরেশন দেখবে, বাজার দেখবে, বাবুর্চি সামলাবে। তা না, বোরহানি হবে তো?”
ইয়াসিন কুটিল হেসে বলল,
–“নিশ্চয়ই, ছোটো ভাইয়ের বিসর্জন আর বোরহানি হবে না তা কী করে হয়?”
মৌনো আবারও হাসল। ইয়াসিন এতক্ষণে মৌনোর চিকন অবস্থা খেয়াল করল,
–“এই কিরে, শরীরের এই অবস্থা কেন? আপা তোকে খেতে দেয় না?”
ঠিক এই সময়েই ভেতর থেকে এশার চিৎকার ভেসে আসল। সে সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে,
–“আম্মু, আব্বু। কোথায় তোমরা? মৌনো আপা ল্যাঙড়ার মতো হাঁটছে। নির্ঘাত আপা কিছু ঘটিয়ে এসেছে। তাকে আমার মতো পেটাচ্ছ না কেন?”
ফজরের কিছুক্ষণ পরপরই কামরুলের কল এলো নিবিড়ের মোবাইলে। নিবিড় তখন তার ইউনিফর্ম পরে ভাজি করছে। খেয়ে-দেয়েই বেরুবে সে ট্রেনিং-য়ের জন্য। নিবিড় ফোনের দিকে একপলক চেয়ে রিসিভ করল। ওপাশ থেকে লম্বা সালাম ভেসে আসে। নিবিড় সালামের উত্তর গম্ভীর সুরেই দিল।
–“জানতান আপনে জাইগা আছেন। আপনেরে তো আমি এহানেও রোজ দেখতাম ফজরের সময়ে উঠে যাইতে।”
–“কী বলবে বলো।” নিবিড়ের কাঠকাঠ গলা। ভাজির মশলা নাকে মুখে ঢুকতেই তার কাশি আসছে।
–“মৌনো আপারা যে চট্টগ্রামে গেছে আপনেরে কইছিলাম?”
–“হুঁ।”
–“হ হ। ওরা গেছে কার নাকি বিয়ে খাইতে। আপনের আব্বায় চা খায় আর তার ডাক্তার বন্ধুর কথা মনে করে। আর খালাম্মা মানে আপনের মায় এদিক দিয়া চিল্লায়।”
–“এগুলো আমাকে শোনাচ্ছ কেন?”
–“আপনেই তো কইছেন বাড়ির খবর কইতে!”
নিবিড় বুঝল কামরুল ইনিয়ে বিনিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছে।
–“কামরুল, কথা বাড়াবে না। যা বলতে চাও বলো। টাকা লাগবে?”
কামরুল জিভ কেটে বলল,
–“ছি, ছি। কি কন? আপনের লগে কি আমার ট্যাকার সম্পর্ক? রত্না আপা আপনের নামে চিঠি লিখে দিছে আমারে। কি করমু এইটারে বুঝে পাইতেছি না।”
–“ধরতে পারেনি তো তুমিই মোবাইল চুরি করিয়েছ?”
–“একদম না। কামরুল কোনো পোমাণ রাখে না ভাইজান। এক্কেবারে পাক্কা খেলোয়াড়!”
কামরুল থেমে আবারও বলল,
–“চিঠিডা কি করতাম, কইলেন না?”
–“ফেলে দাও প্রতিবারের মতো।”
কামরুল দাঁত বের করে হাসল। সে চিঠিটা পড়বেই। তার আবার রত্নার বিষয়ে গোপনীয়তা নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই। সে প্রতিবারই লুকিয়ে লুকিয়ে রত্নার চিঠি পড়ে আর খ্যাক খ্যাক করে হাসে। যে মহাদয় তাকে পাত্তাই দেয় না, তাকে এমন প্রেমের বুলি ঝাড়া কামরুলের জন্য অত্যন্ত হাস্যকর। নিবিড় আবার বলল,
–“মৌনোর সাথে আমার দেখা হয়েছে। তাই বিচলিত হবার কারণ নেই।”
কামরুলকে কিছু বলতে দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে নিবিড় কল কেটে দেয়।
নয়টা নাগাদ রিমঝিমের মোবাইলে নিবিড়ের কল আসে। মৌনো তখন রিমঝিমের পাশে ঘুমোচ্ছে। রিমঝিম তখন ফুরফুরে মনে জানালা দিয়ে বাহিরটা দেখছিল ধোঁয়া ওঠা চায়ের সাথে। নিবিড়ের অনাকাঙ্ক্ষিত কল দেখে রিমঝিম বেশ চমকাল। চা ভুলে দ্রুত কল রিসিভ করে বলল,
–“নিবিড় ভাইয়া?”
–“মৌনো আছে?”
–“জি জি পাশেই। দিচ্ছি দাঁড়ান।”
রিমঝিম সাবধানে চা-টা টেবিলে রেখে মৌনোকে ঠেলে উঠাল। মৌনোর চোখে তখনো ঘুম লেপ্টে।
–“কী হয়েছে?”
–“নিবিড় ভাই কল করেছে। নে ধর।”
বলেই রিমঝিম মৌনোর কানে মোবাইল চেপে ধরল। ওপাশ থেকে নিবিড় ডাকল,
–“মৌনো?”
মুহূর্তেই মৌনোর ঘুম উড়ে গেল। অস্ফুট স্বরে বলল,
–“কে?”
–“গর্ধব, আমি নিবিড়।”
মৌনো রিমঝিমের দিকে তাকাল। রিমঝিম আবারও চা নিয়ে বেশ আগ্রহের সাথে বাহিরটা দেখছে, অন্যমনস্ক। তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই নিবিড় কিংবা মৌনোর প্রতি।
মৌনো নিজেকে যথাসম্ভব সামলে বলল,
–“ব-বলুন।”
–“পা ঠিক আছে?”
–“হুঁ।”
–“আজ বিকাল পাঁচটায় বাড়ির বাইরে এসে দাঁড়াবি।”
মৌনোর এক মুহূর্তের জন্য রেললাইন ঘুরতে যাওয়ার বিষয়টা মাথা থেকে বেরিয়ে যায়। সে অস্ফুট স্বরে আবারও বলল,
–“কেন?”
ওপাশ থেকে নিবিড়ের রুক্ষ নিঃশ্বাস শুনতে পেল সে। যেন রাগ সামলানোর যুদ্ধ চলছে। মৌনোর হঠাৎ গতকালকের কথা মনে পড়ে গেল। নিবিড় কঠিন কিছু বলার আগেই মৌনো বলল,
–“ওহ হ্যাঁ হ্যাঁ। রেললাইন।”
–“ক’টা বাজে?”
–“পাঁচটায়।”
–“গুড! এক মিনিটও যেন দেরী না হয়।”
অতঃপর, মৌনোর মুখের ওপর কল কেটে দিল সে।
®লাবিবা ওয়াহিদ
চলবে~~~
[শুরুতেই আমি দুঃখিত, এত লং টাইম গ্যাপের জন্য। যারা গল্পটি পড়ছেন তাদের মধ্যে অনেকেই জানেন আমার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আগামীকালও পরীক্ষা আছে। এই পর্বটুকু আমার দুইদিন লাগিয়ে লেখা। আমি একবার আমার আইডিতে বলেছিলাম আমি আমার পড়াশোনা আর লেখালিখি ব্যালেন্স করতে অনেক হিমশিম খাই। তার উপর গত পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হওয়ার দরুণ আম্মুও আমার ওপর অনেক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তবুও আমি চেষ্টা করেছিলাম মাঝেমধ্যে লেখা দিতে, কিন্তু এর মাঝে আরেক বিপত্তি আসে। আমার পেজ হারানোর হুমকি আসে। আগে একবার পেজ হারিয়ে এমনিতেই আমার করুণ দশা, আবারও সেই একই হুমকি। এত কষ্ট করে লিখছি কি দুইদিন পরপর পেজ হারানোর জন্য? শেষ, মন ভেঙে গেল।
এজন্য আমি যে লেখালিখি করতাম, তা গিলে রেখে পরীক্ষার পিছে ছুটছি। কিন্তু জানেন তো, লেখাটা ঝুলিয়ে রেখে আমি শান্তি পাচ্ছিলাম না। এজন্য পড়াশোনা, এসাইনমেন্টের ফাঁকে ফাঁকে আপনাদের জন্য এই পর্বটা লিখলাম। ছোটো হলেও সই, আমি চাচ্ছিলাম না আপনাদের আরও অপেক্ষা করাতে। একটা সময় ছিল তখন পড়াশোনার এমন চাপ ছিল না, তখন রেগুলার লিখতাম আরাম করে। অথচ এখন খাওয়া-ঘুম সব উড়ে গেছে।
অনেকদিন পর লেখার কারণে আমার তাল কেটে গেছে। আবারও তাল ফিরাতে আমার বেশ কাঠখড় পোহাতে হবে। আপনারা যারা পড়ছেন একটু জানাবেন তো লেখার ধারাবাহিকতা ঠিক আছে কিনা। অনেকদিন লেখালিখি এবং বই পড়া থেকে দূরে থাকার কারণে বারবার আটকে গেছিলাম। আর হ্যাঁ আপনাদের এতদিন ধৈর্যধারণ করার জন্য কৃতজ্ঞতা। সাথে অত্যন্ত দুঃখিইইত!!😭🙏 বকতে ইচ্ছে করলে ইচ্ছেমতো বকুন। আমি জানি খুব অভিমান করেছেন আমার ওপর। আপনাদের সব অভিযোগ আমি শুনব। খুব মিস করেছি আপনাদের।
যারা পড়ছেন তারা রেসপন্স করবেন কাইন্ডলি। আমি অনেকদিন পেজে কিচ্ছু পোস্ট করিনি। রিচের বেহাল দশা. অনেক পাঠক নয়তো জানতেই পারবে না গল্প দিয়েছি। বেশি বেশি কমেন্ট করবেন প্রিয়রা। আর হ্যাঁ, আগামী পর্ব কিন্তু নিবিড়-মৌনো স্পেশাল হতে যাচ্ছে।❤️]
Share On:
TAGS: বেলতুলি, লাবিবা ওয়াহিদ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
বেলতুলি পর্ব ৬
-
বেলতুলি পর্ব ৭
-
বেলতুলি পর্ব ৮
-
বেলতুলি পর্ব ৩
-
বেলতুলি পর্ব ১৪
-
বেলতুলি পর্ব ১৫
-
বেলতুলি পর্ব ৪
-
বেলতুলি পর্ব ৯
-
বেলতুলি পর্ব ১৮
-
বেলতুলি পর্ব ১০