Golpo romantic golpo বি মাই লাভার

বি মাই লাভার পর্ব ১৯


বি মাই লাভার

পর্ব-১৯

সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)

প্রত্যয়,রিয়ান এরপর নৈঋতার সাথে দেখা করতে এলো খুশবু। খুশবু অনুমতি না নিয়েই নৈঋতার বেডরুমে প্রবেশ করলো।নৈঋ তখন সবে মাত্র ফ্রেশ হয়ে বেরিয়েছে। খুশবুকে দেখে এক মন যেমন খুশি হলো অপর মন কু গাইলো। আজ চার দিন দিলশাদকে সে দেখেনি। এই প্রথম চার দিন দিলশাদ নেই।পরপর দুই বার যে সে চলে গিয়েছিল তখনও ওই মানুষটা তাকে খুঁজে বের করেছে। তবে এখন কই সে?

“কিড্ডো! কত দিন পর তোমার সাথে দেখা।”
“কেমন আছো খুশবু আন্টি।”
“আমি তো ভালো আছি, তুমি বলো তুমি কেমন আছো?হুট করে প্রতিবাদী হয়েছো শুনলাম?পালালে কেন?”

“পালাতে আর পারি কই?সেই তো খুঁজে এনে ঘরে বন্দী করে।”

“বন্দী নয়, আগলে রাখে। আচ্ছা চলো মিস.শাযলীন ব্রেকফাস্ট করতে বাহিরে যাওয়া যাক।”

নৈঋতা ভ্রু-কুঁচকে তাকিয়ে রইল।খুশবু দিলশাদের অনুপস্থিতিতে তাকে ভিলার বাহিরে নিয়ে যেতে চাইছে? যেখানে দিলশাদ নিজে উপস্থিত থাকতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল? তার এতে কোনো আপত্তি নেই। ডুপ্লেক্স এই ভিলার নিচতলায় নামতেই দেখতে পেল রিয়ান আজও এখানে আছে।

“এসো নৈঋতা।চলো আজ বাহিরে যাওয়া যাক।”
“না।”
“কেন?”
“ইচ্ছে করছে না। তোমার বন্ধু কোথায়?”

রিয়ানের দিকে নৈঋতার ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নে খানিকটা অস্বস্তির আভাস দেখা গেল ওর চোখে মুখে।মুহুর্তেই সে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বলল,
“ও একটু ব্যস্ত আছে।কেন তুমি কি আমাদের এখানে আসাটায় খুশি নও?”

“কখনো এতো দিন তো বাইরে থাকে না।যেখানেই থাকুক আমার সাথে…..

” স্বাভাবিক নয় কি? তুমি বার বার ওর অবাধ্য হয়েছো সোনামেয়ে। তাই একটু অভিমান করেছে।”

খুশবুর কথায় এবার মনে হলো নৈঋতা কেঁদে ফেলবে।ঠিক সেই সময় খুশবু হেসে তার গলা জড়িয়ে ধরে বলল,
“বোকা মেয়ে! ও একটা কাজে গেছে।যে দেশে আছে সেখানে ও নিজের নামে সিমটা নিতে পারেনি।কিছু ইস্যুর জন্য।”

“কিন্তু হানি বিয়ারের তো ইন্টারন্যাশনাল….

” এতো ভাবতে হবে না।চলো আজ তোমার হাতে মেহেদী দিয়ে দিচ্ছি।”

নৈঋতা আরো অনেক কিছু বলতে গিয়েও বললো না।সদর দরজার দিকে তাকিয়ে রইল খানিক সময়।ঠিক সেদিন থেকেই নৈঋতার কেন যেন খাওয়া কমে গেল। গত রাতের এক অদ্ভুত স্বপ্ন।যে স্বপ্নে সে দেখেছে দিলশাদ কোথাও একটা পড়ে আছে, ওর চারপাশে অনেক অনেক র’ক্ত। মেয়েটার ঘুম উবে গেছে। দিনের পর দিন যাচ্ছে, একেক দিন দিলশাদদের বন্ধু মহলের একেক জন আসে। সবাই ইলহামের কাছের বন্ধু, যাদের কাছে নৈঋতা বেশ আদরের।

আজ বিকেলে আবার প্রত্যয় এলো। ভিলার সিকিউরিটি টিমের আজ শিফট পরিবর্তন হবে। পরিবর্তন হবে প্রতিটি পরিচারিকা, কেবল নৈঋতার খেয়াল রাখে এমন বিশেষ কয়েকজন বাদ দিয়ে। এই নিয়মটা বেশ অদ্ভুত লাগে ওর কাছে। প্রতি দুই মাস পর পর পুরো সিকিউরিটি টিম পরিবর্তন হয়ে যায়, ড্রাইভার, মালি এমনকি শেফ অবধি।আবার দুই মাস পর তারা আসে৷ আজ যারা চলে যাচ্ছে তাদের একজনের সাথে কথা বলেছে সে। তেমন কিছু জিজ্ঞেস করেনি।করলে জবাব দিতে বাধ্য ছিল। কিন্তু সে কেবল জিজ্ঞেস করেছে,

“বাড়ি যাবে?”
“ইয়েস লেডি। আমরা আগামী সাত দিন আমাদের পরিবারের সাথে কাটাবো।”
“আর বাকী দিন?”
“আমাদের নিজেকে প্রস্তুত রাখতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।”

আর কথা বাড়ায়নি নৈঋতা। ছাদে দাঁড়িয়ে তাদের চলে যাওয়া দেখছিল।সারি সারি গাড়ি প্রবেশ করলো, আবার বেরিয়ে গেল। অন্তত এই দিনটা দিলশাদ কোথাও থাকে না। আজ প্রত্যয় এসব করছে। কি এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ ওর?


মাদাগাস্কারে অমৃতা শাযলীনের সাথে এক অলিখিত চুক্তির উদ্দেশ্যে গিয়েছিল দিলশাদ। চুক্তির নাম নৈঋতা। একছত্র অধিপত্য চাই তার নিজের কিড্ডোর উপর।কিন্তু কে জানতো অমৃতা অবধি পৌঁছানোর আগেই কেউ একজন তার জন্য মৃত্যু ফাঁদ তৈরি করে রেখেছে। সেই রাতের অতর্কিত আক্রমণ জ্যাক সমেত কয়েকজন সামাল দিয়েছে কিন্তু শেষ মুহুর্তে দিলশাদের মাথায় আঘাত লাগে। মাদাগাস্কারে সবচেয়ে উন্নত হাসপাতালে নিয়ে সাময়িক চিকিৎসা দেওয়ার সময় প্রত্যয়কে সবটা জানানো হয়, ঠিক সেই সময় রিয়ান ছিল সিঙ্গাপুর, এয়ার এম্বুল্যান্স ঠিক সময়ে পৌঁছেছিল। কয়েক ঘন্টা সফর করার পর যখন তারা পৌঁছালো তাকে দ্রুত আই সি ইউ তে রাখা হয়েছে। রিয়ান ফেরার পর প্রত্যয় ছিল। দিলশাদের জ্ঞান তখনো ফেরেনি। ফিরবে কি না কে জানে? প্রত্যয় ভেবেছিল দিলশাদের আসা না আসা নিয়ে নৈঋতার কোনো চিন্তা থাকবে না। কিন্তু দেখা গেল দুই চার দিন পর থেকেই মেয়েটা অস্থির। আজ পনেরো দিন হয়ে গেছে।কেমন শুকিয়ে গেছে মেয়েটা।কেবল গেটের দিকে তাকিয়ে থাকে। ইদানীং না কি সদর দরজা বন্ধ করতে নিষেধ করেছে।

“মামণি!”
“হু?” অন্যমনস্ক নৈঋতা জবাব দিলো।
” আজ ডক্টর আসবে।রেগুলার চেকাপ তোমার।ঘুম না কি হচ্ছে না?”
“হুম।”

চেকাপের পর দেখা গেল নৈঋতার শরীর বেশ খারাপ। আইভি সিডাটিভ দেওয়ার কথা জানালে প্রত্যয় আপত্তি করলো না।ক্লান্ত নৈঋতা মুহুর্তেই ঘুমিয়ে গেল।প্রত্যয় ভয় পাচ্ছিলো ওর সামনাসামনি থাকতে।অন্তত মেয়েটা ঘুমে থাকলে তার সাথে মিথ্যে অভিনয় করতে হবে না।কিন্তু কতো দিন?

ঘুমের মাঝেই নৈঋতা অনুভব করতে পারলো কেউ একজন ধীর পায়ে তার মাথার কাছে এসে বসলো।জ্যাকের গলা শুনতে পাচ্ছে কী? সে প্রাণপণে চেষ্টা করছে চোখ খোলার কিন্তু পারছে না অথচ চেনা গন্ধ এসে নাকে লাগছে। তার কপালে কারোর চেনা স্পর্শ অথচ এই ঘুম!

পরদিন ভোরবেলা যখন ঘুম ভাঙলো তখন এক ফালি রোদ তার ফ্লোরে হাবুডুবু খাচ্ছে। গতরাতের কথা মনে পড়লো তার। কেউ একজন বসে ছিল পুরো রাত, কিন্তু এখন কেন নেই? ঘুম ঘুম চোখে সে নিজের বারান্দায় এসে দাঁড়ালো।নিচে লনের ওদিকটায় কারোর স্পষ্ট ছায়া ।এক মুহুর্ত অপেক্ষা না করে সে দৌড়ে নিচে নেমে এলো।লনের বসার জায়গাটায় কয়েকজন বসে আছে।রিয়ান, খুশবু সহ কয়েক জন। প্রত্যয় দাঁড়িয়ে আছে আর তার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে সে। নৈঋতাকে আসতে দেখে জ্যাক এগিয়ে গিয়ে কিছু একটা বলল, আর ঠিক সেই মুহুর্তে দিলশাদ পিছন ফিরে চাইলো। আলোর বেগে ছুটে আসা নৈঋতা ঝাপিয়ে পড়লো ওর বুকের উপর।দুই হাতে গলা আকড়ে ধরে।এক হাতে দিলশাদ তাকে শক্ত করে ধরেছে।বেচারার অন্য হাত স্লিং এ। বা হাতটা যে সামান্য ফ্র‍্যাকচার হয়েছে। অথচ এক হাতে উঁচু করে ধরেছে তার কিড্ডোকে।ভর সামাল দিতে দুই কদম পিছিয়েও গেল। প্রত্যয় এগিয়ে যেতে চাইলেও চোখ দিয়ে ইশারা করলো।দৌড়ে আসার কারণে শ্বাস ফুলে গেছে মেয়েটার। বাকীরাও উঠে দাঁড়িয়েছে। নিজের বুকের সাথে লেপ্টে থাকা নৈঋতার কানের কাছে মুখ নিয়ে কেবল ফিসফিস করে সে বলল,

“কিড্ডো! মাই রেইন বো! রিল্যাক্স মাই কুইন।”

নৈঋতা আরো শক্ত করে গলা জড়িয়ে ধরতেই খুশবু বলল,
“ও অসুস্থ নৈঋতা। ব্যথা পাবে তো।”

দিলশাদ ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
” ব্রিথ মাই প্রিন্সেস। এই মুহুর্তে আর কিছুই ভাবার প্রয়োজন নেই তোমার।”

চলবে?( রেসপন্স করবেন)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply