Golpo romantic golpo বি মাই লাভার

বি মাই লাভার পর্ব ১৬


বি মাই লাভার

পর্ব- ১৬

সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)

ফ্লোর থেকে চাবিটা একজন গার্ড তুলে দিলো।দিলশাদ সেটা দিয়ে এক হাতে তালা খুলে অন্ধকার রুমে প্রবেশ করলো।নৈঋতাকে এক হাতেই তুলে এনেছে সে।মনে হচ্ছিলো এই কয়েক দিনে ওর ওজনটা আরো কমে গেছে।চুল, চোখ, গাল ক্লান্তির কথা বলছে অথচ মেয়ের কি তেজ! এই তেজে সে জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে।স্মিত হাসলো সে। আলো জ্বেলে তাকে আয়নার সামনা সামনি নিয়ে বলল,

“দেখে নাও নিজেকে। এই অবস্থায় কোথায় যাবে? কে বাঁচাবে তোমাকে?”

“মরে গেলেও আপনার কাছে ফিরবো না।”
” কিড্ডো! এভাবে কথ বলবে না।আমরা বের হচ্ছি এক্ষুনি।”
“আমি কোথাও যাচ্ছি না।”
“তুমি বড্ড বোকা ফুল মাই প্রিন্সেস।”

নৈঋতা ভীষণ ক্লান্ত তো ছিলই, এই মুহুর্তে তার শরীর এই মানসিক ধকল নিতে পারলো না।সে চকিতে জ্ঞান হারালো, এবার বিছানায় মাথা এসে লাগার পূর্বেই দিলশাদ এসে তাকে ধরে ফেলেছে।নৈঋতার জ্বর বাড়ছে ধীরে ধীরে। দিলশাদ তাকে কোলে তুলে নিয়ে এগিয়ে গেল বাহিরের দিকে। রিসিপশনে কানাঘুঁষা শোনা যাচ্ছে। কে এই মেয়ে?সাত সাতটা গাড়িতে করে লোক এসেছে কেবল এই মেয়ের খোঁজ করতে?কিছুক্ষণ পর যখন দেখা গেল যে অচেতন অবস্থায় কেউ একজন তাকে কোলে করে গাড়িতে তুলছে তখন আর কেউ কিছু বলার সাহস পেলো না।কেবল আফসোস করতে লাগলো,

“আহারে কোন মায়ের বুক যে খালি হলো কে জানে?হয়তো মেয়েটাকে আর বাঁচতে দিবে না।”
অথচ তারা জানেই না, এ যে রূপ কথার এক দৈত্য এসেছিল তার প্রাণভোমরা কে নিয়ে যেতে।

গাড়ির দরজা বন্ধ হতেই চারপাশের সব শব্দ কেটে গেল। ভেতরে শুধু নৈঋতার ভারী এবং দিলশাদের কঠিন নিঃশ্বাস। সে মেয়েটাকে নিজের কোলেই রেখেছে। মাথাটা তার বুকের কাছে হেলে আছে। জ্বরে পোড়া শরীরটা অস্বাভাবিক গরম। তার ব্যক্তিগত সহযোগী কে বলল,
” বাড়ি ফিরবো জ্যাক।”

জ্যাক একটা বার পিছনে ফিরলো।দিলশাদকে এক কয়েক দিনে দেখে বেশ ভড়কে গিয়েছিল সে।নৈঋতাকে পাওয়ার পর কুকুরের কথা বলেছিল না?হ্যাঁ সে কুকুরের মতোই চারপাশ ঘুরে বেরিয়েছে।কোথাও একটা যদি খোঁজ পাওয়া যায় এই লোভে। খাওয়া, ঘুম সব বাদ দিয়ে।কেবল সিগারেট ছিল সঙ্গী।অথচ নৈঋতার খবর পাওয়ার পর সে থমকে গেল। দূর থেকে দেখলো ব্রহ্মপুত্র নদের পাশে বসে থাকা মেয়েটাকে সে স্বস্তি পেল।ওই নদের পানিতে নেমেই গোসল সারলো, তার কিড্ডো সিগারেটের গন্ধ সইতে পারে না বলে। ব্যক্তিগত সহকারী হওয়ার কারণে সে দিলশাদের সব খবর জানে।এক জোড়া বাড়তি স্যুট ও বরাদ্দ রাখে সাথে,কখন কাজে লাগে! এই যে ডিসেম্বরের কনকনে শীতে জুবুথুবু নৈঋতাকে আঁকড়ে ধরে আছে, সে কি কয়েক ঘন্টা আগেও এতো শান্ত ছিল? তার ধ্যান ভঙ্গ হলো যখন গাড়ি চলতে শুরু করলো। দিলশাদ নৈঋতাকে আরও শক্ত করে বুকে টেনে নিল। মেয়েটার নিঃশ্বাস অনিয়মিত।জ্যাক স্পিড বাড়াতেই সে নিচু স্বরে বলল—
“ধীরে চালাও।”

নৈঋতার ঠোঁট নড়লো। অচেতন অবস্থাতেই সে মাথাটা আরও গুটিয়ে নিল দিলশাদের বুকে। এই সামান্য নড়াচড়ায় দিলশাদের বুকের ভেতর কিছু একটা মোচড় দিয়ে উঠছে। কোর্ট দিয়ে আরও শক্ত করে ঢেকে দিল মেয়েটাকে। চোখ না তুলে সে জ্যাকের উদ্দেশ্যে বলল,
“দেখেছো জ্যাক?এই মেয়েটা আমাকে কী করে শেষ করে দিচ্ছে।”

বাড়ি পৌঁছে পরিচারিকার সাহায্যে সর্বপ্রথম পোশাক বদলে ফ্রেশ হতে সাহায্য করলো তাকে। ডাক্তার এসে জানালো অতিরিক্ত না খেয়ে থাকা, ডি-হাইড্রেশন এবং মানসিক চাপের কারণে এমন হয়েছে। বিশ্রাম প্রয়োজন। ডাক্তার এসে দেখে যাওয়ার পর দিলশাদ নিজের রুমে ফিরলো।দ্রুত ফ্রেশ হয়ে ফিরে এলো। নৈঋতার মাথার কাছটায় বসেছিল সে।কখনোই তার ইচ্ছে ছিল না এই মেয়ের সাথে বাজে ব্যবহার করার কিন্তু সে রাতে হাসপাতালের সেই অনুভূতিটা?
ক্লান্ত ছিল বলে? নৈঋতার কোলে মাথা রেখে কেন ঘুমিয়ে পড়েছিল?অথচ সেই রাতের পর আর ঘুমাতে পারেনি এক মুহুর্তও।এতো এতো অসুস্থতা নিয়ে মেয়েটা হুট করে উধাও হয়েছিল।চার পাঁচ দিন ওকে কোথাও খুঁজে পায়নি। আগামীকাল অবশ্যই তাকে নিয়ে আবার চেকাপের জন্য যাবে কিন্তু তার এই অস্থিরতা?

নৈঋতার শুকিয়ে প্রায় ফেঁটে যাওয়া ঠোঁটের দিকে তাকালো সে। পাশ থেকে লিপবাম এনে খুব আলতো স্পর্শে ছড়িয়ে দিলো তার ঠোঁটে।কমলার কোয়ার মতোন নরম অধর। মুহূর্তেই হাত সরিয়ে নিতে বাধ্য হলো।মস্তিষ্কের কোথাও কেউ একজন বলছে,

“ও তোর বেস্টফ্রেন্ড, তোর কলিজার এক টুকরো সেই বন্ধুর ভাগ্নি।তোর কাছে আমানত দিলশাদ।তুই পারিস না তোর মৃত বন্ধুর শেষ স্মৃতির দিকে এমন নজর দিতে।”

চলবে(রেসপন্স করবেন)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply