বাবরি চুলওয়ালা পর্ব ২৫
২৫
জীবনে এর চেয়ে পরিপূর্ণ কোনো সকাল হয় কি না জানি না। দীর্ঘ আরামভরা এক ঘুম শেষে চোখ মেলতেই নিজেকে খুঁজে পেলাম বাবরি চুলওয়ালার বাহুর ভেতর। তার কোমল উষ্ণতা আমাকে ঘিরে রেখেছে। আমার প্রাণটা কেমন করে হু হু করে উঠলো। শরীর আর মন জুড়ে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়লো এক গভীর সুখের আবেশ।
আহা কতকাল অপেক্ষা করেছি তার প্রিয়জন হবার জন্য! এখন সে আমার ভীষণ কাছে। এত কাছে যে তার ঘুমজড়ানো শরীরের ঘ্রাণ অনুভব করতে পারছি। ইচ্ছে করছে তার ঘুমটা ভাঙিয়ে দেই। তা মোটেও উচিৎ হবেনা। তার গলার কাছে মুখ গুজে বিড়ালছানার মতো আদর খুঁজতে লাগলাম।
পৃথিবীতে অনেক রকম আনন্দ আছে, সুখ আছে। কিন্তু নিজের সবচেয়ে আকাঙ্খিত মানুষকে আপন করে পাবার মতো সুখ আর কিছুতেই নেই!
হঠাৎ সে ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বললো, ‘মীরা, উঠে গেছো?’
‘হু।’
‘ডাকলে কি হতো?’
‘মাত্র ঘুম ভাংল।’
‘একা একা লাগছিলো?’
‘না তো। ভালো লাগছিল।’
‘যদি কখনো একা জেগে থাকতে একাকীত্ব বোধ করো, আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিবে। আমি আজ থেকে আর কোনোদিন এক সেকেন্ডের জন্যও তোমাকে একাকীত্ব বোধ করতে দিবো না।’
আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। নিঃসন্দেহে এমন প্রেমময় কথা শুনলে সকালটা আরও স্বপ্নীল হয়ে যায়! তবে হাসতে হাসতে বললাম, ‘তাই বলে একটা ঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে দেয়া কি ঠিক?’
‘শুধু তুমি ডাকলে একশোবার ঠিক। ফ্রেশ হও নি?’
‘না।’
না বলতেই বড্ড লজ্জায় পড়ে গেলাম। তড়িঘড়ি করে উঠতে গেলে সে আমার হাত টেনে ধরে বললো, ‘যাচ্ছো কই?’
‘ফ্রেশ হয়ে আসি।’
‘লাগবে না। বসো, তোমাকে একটু দেখি।’
‘মুখ ধুয়ে আসি তারপর দেখুন।’
‘লাগবে না মুখ ধোয়া। তোমাকে ঘুমালেও সুন্দর লাগে মীরা।’
আমি লজ্জা পেয়ে হাসলাম। সাদা পর্দা ভেদ করে সূর্যের সোনালী আলো ঘরে ঢুকে পড়েছে। এক ধরনের হলুদাভ আভা ছড়িয়ে আছে ঘরময়। সে চাইলো বলে আরও খানিকক্ষণ চুপচাপ শুয়ে রইলাম। মন বলে, এই মুহুর্ত চলতে থাকুক হাজার বছর ধরে। এমন সকাল আরও লক্ষবার জীবনে আসুক। যদি এই মুহুর্ত এখানেই থমকে যেতো, তাতেও কোনো আক্ষেপ ছিলো না।
আরেক দফা ঘুম দিয়ে যখন উঠে পর্দা সরিয়ে দিলাম, দেখলাম সূর্যের আলোয় চকচক করছে গাছের পাতা। বেলা কত হয়েছে কে জানে! গত রাতে দুই প্লেট ভাত খাওয়ার পরেও এত খিদে পেয়েছে কেন?
ঘর গুছিয়ে, গোসল সেরে আয়নার সামনে এসে বসলাম। এবার ছিলো নিজেকে দেখে লজ্জায় রক্তিম হয়ে ওঠার পালা। এই মীরা যেন অন্য কেউ। শরীরে প্রেমের চিহ্ন। চোখে মুখে লেপ্টে আছে সুখের প্রতিবিম্ব।
চুল আচড়াতে গেলে সে পেছনে দাঁড়িয়ে আমার হাত থেকে চিরুনি কেড়ে নিলো। তারপর পরম যত্নে চুলগুলো আচড়াতে লাগলো। আমি আয়নায় থাকা তার প্রতিবিম্বর দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘এভাবে কতদিন আচঁড়াতে পারবেন?’
‘সত্য বলবো নাকি তোমাকে খুশি করার জন্য বলবো?’
‘আগে সত্যটা বলুন?’
‘তুমি যেদিন বলবে, সামনে থাকলে আঁচড়ে দিবো।’
‘আর খুশি করার জন্য কোনটা?’
যতদিন একসঙ্গে আছি ততদিন আমি এভাবেই সবসময় তোমার চুল আঁচড়ে দিবো।’
আমি হাসতে হাসতে বললাম, ‘খুশি করার জন্য যেটা বললেন সেটা যে মিথ্যা এটা সব মেয়েই বোঝে। তবুও তারা কেন খুশি হয় জানিনা। আমি কিন্তু প্রথমটাতে খুশি হয়েছি। বউকে খুশি করতে মিথ্যা বলা লাগবে না।’
‘আমার বউ কিসে খুশি হয় এটা বুঝতে পারলেই আমি সেভাবে বলা শুরু করবো।’
‘আপনার বউ আপনার নিজস্বতায় খুশি হয়। আপনি যেমন, তেমনই ভালো লাগে আমার। অতিরিক্ত কিছু করার দরকার নেই।’
‘সত্যি মীরা? সত্যি আমাকে তোমার ভালো লাগে?’
‘কথা বন্ধ। চুল আঁচড়ান।’
‘উফফ বলো না মীরা? আমাকে সত্যি তোমার ভালো লাগে?’
‘ভালো না লাগলে আপনাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতাম?’
‘চুল আচড়ানো শেষ। চলো আবার জড়াজড়ি করে ঘুমাই।’
‘যান তো।’
‘তোমার ভালো লাগা এত দ্রুত শেষ হয়ে গেলো!’
আমি খপ করে তার হাত থেকে চিরুনি কেড়ে নিলাম। চুলগুলো পিঠের ওপর এলিয়ে দিয়ে পেছন ফিরতেই সে দুহাতে আমার মুখখানা ধরে বললো, ‘তুমি কি জানো মীরা? তুমি আমার অনেক আদরের। এভাবেই সারাজীবন তোমার চুল আচড়ে দিতে আমার কোনো ক্লান্তি আসবে না। সুযোগ থাকলে আমি অবশ্যই করবো। বিশ্বাস করলে করো, না করলে নাই।’
আমি ঠোঁট বাঁকা করে হেসে বললাম, ‘তাহলে বিশ্বাস করলাম না। এসব পামপট্টি দিয়ে মীরাকে বশ করা যাবে না।’
‘তাহলে কিভাবে বশ করতে হবে?’
আমার বলতে ইচ্ছে করলো, ‘মীরা অলরেডি আপনার বশেই আছে’। কিন্তু সেকথা বললাম না। মুখ টিপে হেসে বললাম, ‘মুখের কথায় মীরা গলে না। কাজে করে দেখাতে হবে।’
সে এক ঝটকায় আমাকে কোলে তুলে নিয়ে চোখে চোখ রেখে বললো, ‘এভাবে?’
‘ছাড়ুন ছাড়ুন। আপনার পা ভাঙা।’
‘এখনো তুমি বিশ্বাস করো আমার পা ভাঙা?’
কথাটা বলেই মুচকি হাসলো সে। আমি লজ্জা পেয়ে দুহাতে মুখ ঢেকে ফেললাম। এই বিব্রতভাব এড়াতে বললাম, ‘আমার খিদে পেয়েছে। নামিয়ে দিন। নিচে গিয়ে দেখি কি অবস্থা?’
সে আমাকে বিছানায় এনে শুইয়ে দিয়ে বললো, ‘তুমি রেস্ট নাও, আমি যাচ্ছি।’
‘আপনার কষ্ট হবে সিঁড়ি ভেঙে নিচে যেতে..’
‘বউয়ের জন্য এইটুকু কষ্ট করতে পারলে আমার ভালো লাগবে।’
সে বেরিয়ে গেলে আমি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। এ কেমন সুখের যন্ত্রণা! শীতের দুপুরে কাচামিঠে রোদ্দুর যেমন শরীরে এক ধরনের আরাম আরাম উষ্ণতা এনে দেয়, সে আমার জীবনে সেই উষ্ণতা হয়ে এসেছে। কয়েক সেকেন্ড পরেই আবার ছুটে এসে আমার ওপর ঝুঁকে বললো, ‘তুমি বললে তোমাকে কোলে নিয়েই সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারবো। চাও নাকি?’
‘উফফ যান তো প্লিজ।’
সে এবার দৌড়ে পালালো। আমি সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেললাম। দেহ মনে ছড়িয়ে থাকা সুখের আবেশ আমাকে প্রতিমুহূর্তে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, এই মুহুর্তটুকু সারাজীবন থাকবে না। সত্যিই তাই, মুহুর্তগুলো যদি বেঁধে রাখা যেতো!
সে ফিরে এলো ট্রেতে করে হালকা নাস্তা আর চা নিয়ে। জানালার পাশেই ছোট্ট টি টেবিলের ওপর নাস্তা সাজিয়ে আমাকে বললো, ‘মহারাণী, প্লিজ আসেন।’
‘আমি চাই রোজ সকালে আপনি এভাবে নাস্তা সাজিয়ে আমাকে ডাকুন।’
‘সকাল না, বিকেল।’
‘বিকেল?’
‘জি মহারাণী। এখন বিকেল চারটা বাজে।’
‘কিহ!’
আমি ঠিক বিশ্বাস করতে পারলাম না। অবশ্য পরক্ষণেই মনে পড়লো দুজনে ঘুমিয়েছি ভোরবেলা। সারা রাত জুড়ে আমাদের মধ্যকার প্রেমলীলা গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে। দুজন দুজনকে আবিষ্কার করেছি সম্পূর্ণ নতুনভাবে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে বুঝতে পেরেছি এটা শুধু বাসর রাত নয়, আমাদের যৌথ জীবনের প্রথম রাত। সারা রাত এত কথা বলেছি দুজন!
‘মীরা, কি ভাবছো?’
আমি চমকে উঠে তাকাই তার দিকে। চায়ের কাপ থেকে ধোঁয়া উঠছে। সে ইশারায় আমাকে চা খেতে ডাকলো। আমি তার মুখোমুখি বসতে গেলে এক ঝটকায় কোলের ওপর বসিয়ে নিলো আমায়। লজ্জামিশ্রিত কণ্ঠে বললাম, ‘আমি কি ছোট্ট বাচ্চা?’
‘আমার খেলার পুতুল তুমি।’
‘যেভাবে ইচ্ছে খেলা যাবে তাইনা?’
‘হু, সাজাবো যেমন খুশি। রাখবো যত্ন করে।’
‘আর খেলা শেষে ছুঁড়ে ফেলে দিবেন?’
‘ছি ছি মীরা, এসব কি বলছো? তুমি আমার ভীষণ আদরের। আজীবন বুকের মধ্যে আগলে রাখবো তোমাকে। এখন চা খাও পাখি, চা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।’
বাবরি চুলওয়ালার এমন রোমান্টিক আচরণের সঙ্গে আমি একেবারেই পরিচিত নই। তাই বারবার অবাক হই, মুগ্ধ হই, আর অজান্তেই হেসে ফেলি। আমি হাসতে হাসতে বললাম, ‘পাখিরা কি চা খায়?’
‘খায়। বউ পাখি চা খায়।’
‘মেয়ে পটানো এত কথা শিখেছেন কোথা থেকে?’
‘কি জানি! শিখিনি। চেষ্টা করছি রোমান্টিক হবার। ক্রিঞ্জ হয়ে যাচ্ছে নাকি?’
আমি হাসতে বললাম, ‘হলে হোক। শুনতে মজা লাগছে।’
‘তোমাকে মজা দেয়াটাই আমার কর্ম।’
বলেই আমার গালের সঙ্গে গাল লাগিয়ে আদর করে দিলো। আমি বাকরুদ্ধ হয়ে চেয়ে থাকি তার দিকে। যেমন মিষ্টি, তেমনি দুষ্টু একটা মানুষ। এই মানুষটা আমার বর! তার বাবরি চুল গুলোর দিকে চেয়ে রইলাম। এত কাছে এসেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। এই মানুষটা এখন আমার! একান্তই আমার। এরচেয়ে আনন্দের আর কিচ্ছু নেই জগতে..
খানিক বাদেই রুনি আপা গরম গরম ভাত তরকারি দিয়ে গেলো। নিজের হাতে খেতে হলোনা আমার। বাবরি চুলওয়ালা আমাকে তুলে খাওয়ালো। পেট ভরে ভাত খেয়ে আবার এসে বিছানায় গড়াগড়ি খেতে লাগলাম।
আহ! কী অদ্ভুত সুন্দর একটা জীবন এখন আমাদের। খাওয়া আর উলটে পালটে ঘুমানো। জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকা, একটুখানি উষ্ণ আদর আর খিলখিল করে হাসি। এমন মোহনীয় স্বপ্নের মুহুর্ত জীবনে আসবে, তা কি একবারও ভেবেছিলাম!
বাবরি চুলওয়ালা বললো, ‘তনয় চেয়েছিলো আমাকে জেলে বন্দি করতে। এমন সুন্দর জেলে বন্দি হলাম তোমার সঙ্গে, এই জেল থেকে আমি আর কখনো বের হতে চাইনা। এভাবেই পুরো জীবন কাটিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে।’
আমি তার বাহুর ভেতর নিজেকে আবদ্ধ করে বাচ্চাদের মতো বলি, ‘সময়টা এখানে থামিয়ে দেয়া যায় না?’
‘ইচ্ছে করছে সেটাই জানো? একটা জীবন যদি এভাবেই এই রুমে আমাদেরকে বন্দি করে রাখতো, তাতেও আফসোস ছিলো না। তোমাকে দেখেই তো এক যুগ কাটিয়ে দেয়া সম্ভব।’
‘আর আপনার স্বপ্নগুলো?’
‘সব ভুলে গেছি মীরা, তোমাকে পেয়ে জীবনের সব কিছু ভুলে গেছি।’
‘এক দিনেই আমার প্রতি প্রেমটা অনেক বেড়ে গেছে মনে হচ্ছে!’
‘হু। মনে হচ্ছে তোমাকে ছাড়া একটা দিন তো দূরের কথা, একটা সেকেন্ডও আর থাকা সম্ভব নয়। আই লাভ ইউ মীরা।’
আমি দুইহাতে তার বাবরি চুলগুলো এলোমেলো করে নাড়িয়ে দিলাম। আদরে, আবদারে, আলিঙ্গনে আমাদের মুহুর্তগুলো হয়ে উঠলো স্বপ্নের চেয়েও সুন্দর। যা কখনো কল্পনাও করিনি, তারচেয়ে রঙ্গিন। যা কখনো প্রত্যাশাও করিনি, তারচেয়েও সুখের। আমি ঠিক কতটা সুখে ভাসছি, তা কোন শব্দে বোঝানো সম্ভব আমি জানিনা! সত্যিই জানিনা।
রাত্রিবেলা বাবা আসলেন দেখা করতে। আমি ও বাবরি চুলওয়ালা একসঙ্গে নিচে নামলাম। বাবার মুখোমুখি দাঁড়াতে অন্যরকম এক লজ্জায় ভেসে যাচ্ছিলাম আমি। দেখা হতেই জড়িয়ে ধরে বললাম, ‘আব্বু তুমি ঠিক আছো?’
‘আছি রে মা। তোকে না দেখে বাবা কতটা ভালো থাকতে পারি বল?’
‘আমি ভালো আছি আব্বু। খুব ভালো আছি।’
বাবা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, ‘তুই সবসময় ভালোই থাকবি। আমার লক্ষী মেয়েটা ভালো থাকবে না তো কে থাকবে?’
এরপর বাবরি চুলওয়ালার সঙ্গে আলোচনায় মন দিলেন বাবা। তনয় টাকা পয়সা সংক্রান্ত মামলায় ফাঁসিয়েছে ওকে। সে খুব ব্যথিত কণ্ঠে বললো, এগুলো মিথ্যা। আমি ওর কাছে কখনো কোনো টাকা পয়সা নেইনি।
বাবা আশ্বস্ত করলেন। তনয়ের সঙ্গে এখনও দেখা হয়নি। তবে তনয় ওর বাবাকে বলেছে বিয়ে ভেঙে দেয়ার জন্যই সে এই কাজটা করেছে। যাতে পুলিশ এসে ওইদিনই মুনযিরকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। কিন্তু তার পরিকল্পনা এভাবে ব্যর্থ হবে এটা সে কল্পনাও করেনি। যত দ্রুত সম্ভব তনয়ের বাবা মামলা উঠিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। উনি ক্ষমাও চেয়েছেন বাবার কাছে।
সবকিছুর সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা দেখে আমরা বেশ স্বস্তি পেলাম। বাবা চলে যাওয়ার সময় জিজ্ঞেস করলেন, কিছু লাগবে কিনা?
আমি হাসতে হাসতে বললাম, ‘সব পেয়ে গেছি আব্বু। আর কিছুই চাইনা জীবনে।’
বাবা হাসলেন। অথচ ঠিকই দেখতে পেলাম তার চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো। চাদরে মাথা থেকে আগন্তুকের মতো বেরিয়ে গেলেন তিনি।
আমরা গেট বন্ধ করে দিয়ে ফিরছিলাম। করিডোরে আবছা অন্ধকার। বাবরি চুলওয়ালা হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে আমাকে এক ঝটকায় কাছে টেনে নিলো। তার চোখের দিকে তাকানো যায় না। কী যেন আছে সেই চোখে। আমি ভস্মীভূত হয়ে যাবো মনে হয়! সে খানিকটা এগিয়ে আসতেই আমি চোখ দুটো বন্ধ করে ফেললাম। এমন সময় কাশির শব্দ, দুজনেই চমকে উঠে দূরত্ব রেখে দাঁড়াই।
রুনি আপা বললো, ‘ভাই তোরা দোতলায় যা। তোদেরকে পুরা দোতলা দিয়ে দিছি! লাগলে বল আমি আর লাবিব বের হয়ে যাই। তোরা পুরো বাসা নিয়ে রোমান্স কর।’
আমি লজ্জা পেয়ে এক দৌড়ে পালিয়ে এলাম সেখান থেকে। বড় বিব্রতকর পরিস্থিতি উফফ! ভাগ্যিস রুনি আপা অনেক খোলামেলা মনের মানুষ। এইরকম পরিস্থিতি আমার বাড়িতে হলে নিশ্চিত বাবা মাকে মুখ দেখাতে পারতাম না!
রুমে ফিরে খানিকক্ষণ বকাঝকা করলাম বাবরি চুলওয়ালাকে। সে বকা শুনে হেসেই কুটিকুটি। আমি যতই রাগারাগি করি, সে ততই হাসিটে ফেটে পড়ে। একসময় আমি রাগ করে বললাম, ‘এই রুম ছেড়ে বের হবোনা আমি আর।’
‘আমি তো সেটাই চাই। ভাত খাওয়া ছাড়া আমিও এই রুম ছেড়ে বের হতে চাইনা।’
‘চুপ করুন তো। লজ্জা পান একটু?’
‘কাকে?’
‘আমাকে।’
সে আবারও উচ্চস্বরে হেসে উঠলো। হাসতে হাসতে বলল, ‘লজ্জা আবার কিভাবে পায় মীরা?’
‘এসব কিন্তু ঠিক না।’
‘ঠিক আছে, লজ্জায় আর তোমাকে ছুঁয়েও দেখবো না। তখন কিন্তু আবার অভিযোগ করতে পারবা না।’
‘সমস্যা নেই। আপনি লাজুক হলে আমি নির্লজ্জ হবো।’
সে হাসিতে ফেটে পড়লো। যেন এরচেয়ে মজার কথা কোনোদিন শোনেনি। আমি তাকিয়ে তাকিয়ে তার এই প্রাণখোলা হাসি দেখতে লাগলাম। একটা মানুষ এত সুন্দর করে হাসবে কেন! কি অদ্ভুত। এই মানুষটাকে সব অবস্থায় সুন্দর দেখায়। হাসলেও সুন্দর লাগে, কাঁদলেও সুন্দর লাগে, ঘুমেও সুন্দর, অসুস্থ হলেও সুন্দর। আর যখন খুব কাছাকাছি থাকে তখন সবচেয়ে বেশি সুন্দর!
আমিও অজান্তেই হেসে ফেললাম। তাকে পেয়ে যাওয়ার পর আমার মনে আর কোনো দ্বিধা নেই, কোনো ভয় নেই। যাকে পেয়ে বুঝতে শিখেছি ভালোবাসা কত সুন্দর, তাকে হারানোর ভয় থাকবে কেন! হারাতে দিবোই না। একদম আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখবো।
চলবে..
Share On:
TAGS: বাবরি চুলওয়ালা, মিশু মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
বাবরি চুলওয়ালা পর্ব ১৬
-
বাবরি চুল ওয়ালা পর্ব ১৩
-
বাবরি চুলওয়ালা পর্ব ২৪
-
বাবরি চুল ওয়ালা পর্ব ৩
-
বাবরি চুলওয়ালা পর্ব ২১
-
বাবরি চুল ওয়ালা পর্ব ৭
-
বাবরি চুল ওয়ালা পর্ব ৫
-
বাবরি চুলওয়ালা পর্ব ২২
-
বাবরি চুল ওয়ালা পর্ব ৯
-
বাবরি চুলওয়ালা গল্পের লিংক