বজ্রমেঘ . ❤
পর্বসংখ্যা_২৬ .
ফাবিয়াহ্_মমো .
ঘৃণায় বিকৃত হলো মুখ। প্রচণ্ড কাঁপছে কোমল দেহ। শাওলিন বিশ্বাস করতে পারল না কেমন বিচ্ছিরি দৃশ্য দেখল! দুহাতের আড়াল থেকে কাতর মুখটা বের করবে হঠাৎই ঠক ঠক! চকিতে চোখদুটো দরজার দিকে পড়ল। কে এসেছে? এবার কী তাহমিদ? শব্দটা বাড়ছে। ক্রমাগত ঠক ঠক হচ্ছে। শাওলিন মৃদু পায়ে ঢোক গিলে আস্তে করে দরজায় কান পাতে। শব্দটা শুনতে চায়। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করে, শব্দ আর নেই। বুকের ভেতর খামচে উঠল ভয়। প্রচণ্ড আতঙ্কে শিউরে উঠল শাওলিন! তবু সাহস সঞ্চয় করে ছিটকিনিটা নিঃশব্দে খুলে দিল। অল্প খুলে যাওয়া দরজার বাইরে যখন তাকাল, দুচোখ বিস্ফোরিত হল। আঁতকে ওঠা কণ্ঠে শাওলিন বলল,
- তাশফিয়া তুমি? তুমি এদিকে কী করছ?
প্রশ্নটা শুনে চোখ ডলা থামায় তাশফিয়া। বড়ো বড়ো চোখদুটো ঘুমে সরু দেখাচ্ছে। একটা ছোট্ট হাই তুলে বলল,
- ভাইয়া পাঠিয়েছে। তোমার কাছে থাকতে বলল। তুমি নাকি ঘুমোতে পারছ না, তাই এখানে পাঠিয়ে দিল।
শেষটা কথাটা শুনতে দেরি, সঙ্গে সঙ্গে দরজার বাইরে তাকায় শাওলিন। ‘পৌঁছে দিল’ শব্দ দুটো ওকে বুলেটের মতো বিঁধেছে। কে ছিল তা বুঝতে বাকি থাকল না। কিন্তু ঘুটঘুটে অন্ধকারে ব্যাকুল দৃষ্টি ফেলে দেখল, সেখানে কেউ নেই। যে ছিল সে প্রস্থান করেছে। ব্যর্থ চাহনিতে তাশফিয়ার দিকে তাকায় শাওলিন। হালকা গলায় ধীরভাবে শুধোল,
- মানুষটা কে ছিল তাশফি? কোন ভাইয়া?
তাশফিয়া সরলভাবে বলে উঠল,
- বড়ো জন। সবার বড়ো ভাইয়া।
বুকের হৃৎপিণ্ড যেন মোচড় দিয়ে উঠল। কান আরো গরম। শাওলিন সহসা কিছু বলল না। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ঠাণ্ডা গলায় শুধাল,
- শোয়েব?
নাম উচ্চারণ করতেই যেন কানদুটো ঝিমঝিম করে উঠেছে। বুকের ভেতর অস্থির দামামা! হাতদুটো থরথর করে কাঁপছে। মুষ্টিযোগে থামিয়ে রাখল কাঁপুনিটা। তাশফিয়া সম্মতিতে মাথাটা হ্যাঁ বোধক নাড়িয়ে বলল,
- হ্যাঁ, ভাবী। শোয়েব ভাইয়া।
এরপর আর কিছু বলার নেই। এই ব্যক্তি শেষটুকু দিয়ে নির্ভরতা পৌঁছে দিয়েছে। একটু আগে যে নৃশংস ব্যাপারটি ঘটে গেছে, তার সুরক্ষা নিশ্চিতে তাশফিয়াকেই এখন পাঠানো হয়েছে। তাশফিয়া হয়ত কিছুই জানে না, কিন্তু উক্ত ব্যক্তি জানে, এই মুহুর্তে শাওলিন ভীতগ্রস্ত। পরিস্থিতি ও পরিবেশের কাছে একদম অচল। এক্ষুণি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে না। আবার রাতে ঘুমটাও হবে না ঠিকমতো। শাওলিনকে চুপ দেখে উদ্বিগ্ন চোখে তাকাল তাশফিয়া। ভাবীর ওড়নায় মৃদু ঝাঁকুনি দিয়ে প্রশ্ন করে উঠল,
- কি হয়েছে ভাবী? তুমি এখনো ঘুমাওনি কেন?
ছোটো বোনের মতো সরল মেয়েটার প্রশ্নে শাওলিন হেসে তাকায়। দরজায় ছোট্ট ছিটকিনিটা তুলে দিতে দিতে বলল,
- কিছু হয়নি। পরিবেশ বদলালে ঘুম হয় না। একটু অস্থির লাগে। তখন হাঁটাহাঁটি করি। তোমার সেই ভাইয়া আমাকে চেনেন? আজ তো কথাবার্তা, পরিচয় কিছুই সেভাবে হয়নি। উনি কী করে জানলেন আমি এখনো জেগে আছি? ঠিক ঘুমোতে পারছি না? কিছু একটা সমস্যা হয়েছে?
শাওলিন ইচ্ছে করে একটু আগের ঘটনা, চেনা পরিচয়ের সত্যটা গোপন করল। ওর মুখ থেকে শুনতে চাইছে সেই ব্যক্তি কীভাবে সবটা সামাল দিয়েছে ওকে। তাশফিয়া দোনোমনা করল না। সরল কণ্ঠে বড্ড চপল ভাবে জানাল,
- ভাইয়া অনেকক্ষণ ধরেই তোমার পায়ের শব্দ পাচ্ছিল। এই নিচের রুমটাই তার রুম। তুমি যে প্রচণ্ড টেনশনে পায়চারি করছ এটা বুঝতে দেরি হয়নি। তারপর আমাকে কল দিল। সবটা জানাল। বাকিটা তো বুঝতেই পারছ। চলে এসেছি!
এ কথায় কিছুটা অন্যমনষ্ক হলো শাওলিন। মুহুর্তে তাশফিয়া কী একটা বুঝে, চট করে আরেকটি ব্যাপারে বলে উঠল। প্রসঙ্গটা ফিচেল হাসিতে জানালো,
- শোনো। তুমি যে খাস পরিচিত নও, কথা হয়নি, বিষয়টা ঠিক তা নয়। মানুষটা সবার প্রতিই সজাগ যত্নশীল। সেটা নানী হোক, বাইরের কেউ হোক, অথবা বাড়ির কাজের লোক। এটাকে মন্দ কিছু ভেবো না। হয়ত চিন্তা করছ, চিনি না, জানি না, অথচ আমার প্রতি খেয়াল কেন? তাহলে একটা ঘটনা বলি। এইতো, আজ রাতেরই ঘটনা। আমি তখনো জেগে। তুমি তখন দরজা লাগিয়ে ফেলেছ। শামছুন খালা তিনতলা থেকে নামছেন। উনার প্রচণ্ড বাতের ব্যথা। হাঁটুর গিটগুলো ফুলে মারাত্মক কষ্ট পাচ্ছে। তিনতলা থেকে নামতে দেখে ভাইয়া দোতলা থেকে জিজ্ঞেস করে,
- ‘ আপনি কোথায় যাচ্ছেন? ‘
শামছুন খালা তখন বলেন,
- ‘ নিচতলায়। পানি আনতে যাই বাবা।’
উনার অবস্থা দেখে ভাইয়ার কিছু বুঝতে বাকি থাকে না। উনি বুজুর্গ মানুষ। তার ওপর যারা বাতের রোগী, সিঁড়ি ভাঙছে, তাদের এমনি ঠিক বোঝা যায়। ভাইয়া উনাকে সেখানেই থামিয়ে পরপর জিজ্ঞেস করে,
- আপনি পানির জন্য তিনতলা থেকে নিচতলায় যাচ্ছেন? উপরে পানির ব্যবস্থা নেই?
সামছুন খালা তখন ভেঙে বলেন,
- আছে। তয় ওই পানি আমগোর জইন্যে না বাবা। আমগোর পানি খাওন লাগে নিচে যাইয়া। নিচে কল আছে। কলস ভইরা আনি। আজকা পানি ফুরায় গেছে। এইজন্য নিচে যাই বাবা।
এরপর খালাকে নামতে দেয় কেউ? ভাইয়া সোজা খালাকে ঘরে পাঠিয়ে দিল। একটু পর নিজেই দু কলস পানি ভরে উনার ঘরে পৌঁছে দিল। ঘটনা এদিকেই কিন্তু শেষ নয়। রেবেকা আপুকে সামনে রেখে বাবাকে সরাসরি বলে দিয়েছে, পানি নিয়ে এরকম ঝামেলা দ্বিতীয়বার না হয়। এগুলো ভালো চিন্তার পরিচয় দেবে না। শামছুন খালা এই ঘটনা শুনেই কান্নাকাটি! এ বাড়িতে সারাজীবন খেটেখুটে কাজ করলেন। এভাবে তো কেউ ভাবল না উনার জন্য। উনার একটা ছেলে ছিল জানো? কত কষ্ট করে একমাত্র ছেলেকে মানুষ করেছেন। লেখাপড়া শিখে সেই ছেলে বিদেশ গেল। কিন্তু এখন আর পাত্তা নেই। খোঁজটুকুও নেয় না মা বেঁচে আছে না মরে গেল। এইতো গেল শামছুন খালার ঘটনা। এমন আরো কত ঘটনা আছে! হয়ত তাকে হো হো করে আড্ডায়, আনন্দে, মজলিশে মিশতে দেখবে না, কিন্তু কিছু কিছু কাজ এমন নিঃশব্দে করবে, সে কথা কখনো ভুলবে না। এজন্য বলছি অন্যভাবে নিয়ো না। ভাইয়া ওরকমই সজাগ। আসো শুয়ে পড়ি। রাত অনেক হয়েছে। ঘুমানো দরকার।
মিষ্টি হাসিতে কথা শেষ করে তাশফিয়া। বিছানায় গা এলিয়ে মেয়েটা শুয়ে পড়ে। পাশ থেকে বোবা শাওলিন অদ্ভুত শ্রোতার ন্যায় শুনল। কোনো শব্দ উচ্চারণ করল না। বিছানায় বসে সেই বাথরুমে চোখ ফেলল, যেখানে কিছুসময় আগে ভয়ংকর ফাঁদটা ওঁত পেতে ছিল। যদি সে মানুষটা সজাগ না থাকতো, তাহলে কেমন হতো ঘোর অর্নথটা? ক্যামেরাটা নিজ হাতে ভেঙে, কয়েক টুকরো করে, সেই ভাঙা অংশগুলো সাথে নিয়ে গেছে। এটা কী শুধুই চিরচেনা সজাগ দায়িত্ব? নাকি এর চেয়েও বেশি কিছু? যে মানুষটার বুকের ভেতর অমন একটা মন আছে, সেই মনের ভেতর কী প্রবেশাধিকারে সুযোগ আছে?
উত্তরটা জানা নেই।
.
পরদিন সকালে রেবেকার কপালে ভাঁজ পড়ল কোথায় যেন বিরাট গলদ। নাশতার টেবিলে শাওলিনকে সুস্থ দেখাচ্ছে না। রাত জাগলে, দুশ্চিন্তা করলে, অস্থিরতায় থাকলে এরকম ছাপ ফুটে ওঠে। মেয়েটার চেহারায় তারই জ্বলজ্বলে নির্দশন। ও কি কিছু নিয়ে দুর্ভাবনায় আছে? কী নিয়ে সেটা? প্রণয়ঘটিত কিছু নয়, এটা জানে সে। বিয়ে নিয়ে শত অভিযোগ করেছে, কিন্তু রেবেকা গা করেনি। নয়ত কস্মিনকালেও বিয়ে করবে না এই মেয়ে। প্রেম নেই, পছন্দ নেই, দিনকে দিনে শুধু নির্লিপ্ততা। এমন হাড় জ্বালানো কর্মকাণ্ড কী সহ্য হয়? অপরদিকে তাহমিদ কিছু কারণে স্বাভাবিক ছিল না। ক্ষিপ্ত মেজাজে বাড়ি মাথা তুলে অফিসের জন্য বেরিয়ে গেল। কারণ জিজ্ঞেস করলে খোলাখুলি কিছু বলল না। একটা গুরুত্বপূর্ণ কেস নিয়ে প্রচণ্ড ঝামেলা হচ্ছে, যেটা খাটাচ্ছে, রাগাচ্ছে, অসহনীয় করছে। ব্যস। এর বেশি কিছু বলল না। তবে এ কথা সত্যি, সকাল সকালই একটা বাজে খবর পেয়েছে তাহমিদ। সেই ভয়ানক কেসটা বড্ড ভীতিকর দিকে মোড় নিচ্ছে! কেউ বা কারা অতি পুরোনো এক ঘটনা টেনে আনতে চলেছে। যার সূত্র নিষিদ্ধ ২০০৯ সাল। তাহমিদ তৎক্ষণাৎ অফিসের জন্য বেরিয়ে পড়ে। পথিমধ্যে শুনে নেয় আদতে কি ঘটেছে। ওপাশ থেকে এক অধঃস্তন কর্মী প্রচণ্ড চিন্তিত সুরে জানায়,
- স্যার, এই মুহুর্তে অফিসে চলে আসেন। ফোনে কিছু বলা সম্ভব না। অ্যান্টনি স্যারও খিলগাঁও থেকে রওনা দিয়েছে। আপনি জলদি আসেন স্যার।
- হ্যাঁ আসছি। আমি আধঘণ্টার মধ্যেই আসছি। কিন্তু হঠাৎ কী হয়েছে? রিপোর্টটা ঠিকঠাক করোনি? রাশেদ, ইমাম, অশোক ওরা বেরিয়েছে? ওদের সঙ্গে কথা বলেছ?
- জ্বি স্যার। রাশেদরাও আসছে। মিটিং শুরু হবার আগেই কথাগুলো বলতে হবে স্যার। নইলে বিপদ! কী থেকে কী হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে একটা গুরুতর সমস্যা হাজির হতে যাচ্ছে।
তাহমিদ এবার বিচলিত। দীর্ঘদিন একটা কেসের খাতিরে এই টিমের সঙ্গে যুক্ত। সেই কেসটার অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট আজই কার্যালয়ে পেশ করার কথা। কিন্তু হঠাৎ কী এমন হলো? ওরা সবাই আলাদা ভাবে গোপনে মিটিং চাচ্ছে কেন? দলীয় ব্যাপারটায় কীসের বিপত্তি? তাহমিদ মাথাভরা প্রশ্নগুলো উহ্য রেখে ত্রস্ত সুরে বলল,
- অমল, তোমরা জায়গামতো পৌঁছে ডিভাইস বন্ধ রাখো। আমি আর কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছাচ্ছি। খবরদার, লোকেশন যেন কেউ ট্রেস না করে। আমি ওয়ার্ন করছি!
ওপাশ থেকে অমল কর্মকার পেশাদার ভঙ্গিতে বলে,
- রজার স্যার। সতর্ক থাকব। ফোন রাখছি।
কলটা কেটে গাড়ির গতি তুঙ্গে তুলল তাহমিদ। এক মিনিটও দেরি করল না। এখন ওরা ডিজিএফআইয়ের কার্যালয়ে না। গন্তব্য এখন উত্তর মালিবাগ। গাড়িটা দ্রুত হাঁকিয়ে ভয়ংকর ভাবে ওভারটেক করে গন্তব্যে পৌঁছল সে। পায়ে হেঁটে কিছুটা পথ সামনে এগোয়। এলাকাটা ভীষণ নির্জন। ঘড়িতে সকাল সাড়ে দশ। তাহমিদ গাড়ি থেকে প্রায় বিশ মিনিটের মতো হাঁটা দিয়েছে। এরপর যে স্থানে আসে, সেটি একটি পরিত্যক্ত গার্মেন্টস বিল্ডিং। আশেপাশে জনমানব নেই। দুটো নেড়ি কুকুর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তাহমিদ চারপাশে নজর বুলিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে লাগল। চোখ সজাগ, কান সতর্ক, হাত একটা কোমরের ডানদিকে ফোলা অংশের ওপর। সাবধানে পথটুকু ডিঙিয়ে মূল ভবনের একেদম ভেতর ঢুকল। সেখানে একজন উর্দিপড়া দারোয়ান। লোকটার চুল ছোটো করে ছাঁটা, একটা স্যালুট ঠুকে দরজা খুলে দিল। এভাবে প্রায় চারটি দরজা একই নিরাপত্তা সিস্টেমে পার করল। অবশেষে একটি স্ক্যানার মেশিনে পাঞ্চকার্ড ধরতেই যন্ত্রচালিত দরজাটা খুলে গেল। তাহমিদ দেখল, সেই বিশেষ ঘরটিতে অশোক, অমল, ইমাম, রাশেদ ও অ্যান্টনি বসে আছে। অ্যান্টনি সবাইকে এক কাপ করে কফি দিচ্ছিল বোধহয়, হঠাৎ বসের জন্য আরো এককাপ আনতে ছুটে গেল। তাহমিদ ভণিতা ছেড়ে সরাসরি মোদ্দাকথায় আসে,
- কী হয়েছে? কী ব্যাপার? আজ না তোমাদের কার্যালয়ে যাবার কথা? হঠাৎ মিটিংয়ের আড়াই ঘণ্টা আগে এমন তলব কীসের!
তাহমিদের হম্বিতম্বি কণ্ঠে ওরা নড়চড়ে বসে। মানুষটা লিড অ্যানালিটিক অফিসার হিসেবে কঠোর। এর ওর দিকে দৃষ্টি বিনিময় করে অশোকই প্রথম কথাটা বলে,
- স্যার, আপনি বসুন। আপনাকে সবই খুলে বলছি। আমরাও ব্যাপারটাতে খুবই অপ্রস্তুত। কিন্তু এই নিয়ে যদি ডিসকাস না করি, তাহলে ফলাফল ভালো কিছু আনবে না।
ভ্রুঁতে সামান্য চিন্তার খাঁজ জমল। তাহমিদ চেয়ার টেনে বসতেই অ্যান্টনির দিকে মুখ ঘুরিয়ে বলল,
- এই অ্যান্টনি? কী নিয়ে সমস্যা হচ্ছে বলো তো? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। যে কেসটা নিয়ে এতোদিন সবকিছু কালেক্ট করা হলো, সেই কেসটা নিয়ে এমন দূর্গতির দশা কেন? হোয়াট হেপেণ্ড টেল মি নাউ!
অ্যান্টনি ওয়ান টাইম সাদা পেপার কাপে কফি ভরে আনল। ছোট্ট ধোঁয়া ওঠা কাপটা তাহমিদের সমুখে রেখে একটা কাশি দিয়ে বলল,
- স্যার, আমাদের অপারেশনটা আগাগোড়াই ভুল। এই রিপোর্ট যদি ডিপার্টমেন্টে জমা হয়, তাহলে অনেকগুলো মানুষ ডেড হবে।
- স্পষ্ট ভাষায় ঝেড়ে কাশো! আমি তোমার হেঁয়ালি শুনতে আসিনি!
অ্যান্টনি মাথা নিচু করে হাতের ফাইলটা এগিয়ে দিল। তাহমিদের সামনে খুলে দিল ওটা। একটা জায়গায় তর্জনী রেখে কিছু দেখাল অ্যান্টনি। সেখানে শিরোনাম অংশে বড়ো বড়ো বোল্ড হরফে লেখা – OPERATION TRACKDOWN. ব্যাপারটা দেখে আরো তুঙ্গে চড়ে তাহমিদের রাগ! কটমট করে বলতে নিবে, তার আগেই অ্যান্টনি কঠোর গলায় বলল,
- এটা অপারেশন ট্র্যাকডাউন না স্যার। এটা অপারেশন ক্র্যাকডাউন। CRACKDOWN! আমরা এই সেকেণ্ড ওয়ার্ড শত্রু নিধনের জন্য ব্যবহার করি। এই ফাইলের লোকগুলো কী শত্রু? আপনিই বলুন, এখানে পলিটিক্যাল আইডেন্টিটি নিয়ে ফুল ডিটেলস আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত! অথচ এখানে পাঁচজনের নাম লিস্টেড। রেড মার্ক সাইন।
কথাগুলো অ্যান্টনি এমন সুরে বলছিল, যেন এই ফাইল, এই রিপোর্ট ‘তাদের’ হাতে পড়ে গেলে ধ্বংস অনিবার্য। এক ঘোর অনর্থের সূচনা। অ্যান্টনিকে থামতে দেখে পেছন থেকে অশোক অনুযোগ করে বলল,
- স্যার, আমরা এ পর্যন্ত অনেক কাজ করেছি। মুখে উচ্চারণ করা যাবে না, এমন কাজও। কিন্তু আজ যদি এই ফাইল আড়াই ঘণ্টা পরে উনাদের কাছে পৌঁছায়, আমরা হয়ত প্রোমোশন পাব স্যার, ভালো ভালো অনেক সুযোগ সুবিধা পাব। কিন্তু এই লিস্ট যদি বাস্তবায়ন করা হয়, আমরা কেউ আল্টিমেটলি বাঁচব না।
অশোকের কণ্ঠে তখন কী ছিল, তা কেউ মুখ ফুটে উচ্চারণ করল না। শুধু সুক্ষ্ম এক বোধ তাদের ভেতরে কাঁটা দিয়ে উঠছিল। এমন সময় কফির কাপটা দূরে ঠেলে দিয়ে চোখ বুজল ইমাম। গভীর এক শ্বাস ছেড়ে বলে উঠল,
- এই পাঁচজন কোন কোন ক্ষেত্রে কাজ করছে, এটা আমরাও জানি, তারাও জানেন স্যার। কিন্তু চোখের সামনে ওরা টোপ দিয়ে বসে আছে, আর আমরা সেই টোপ মুখে নেয়ার জন্য যুদ্ধ করছি। প্রতিযোগিতা করছি কে কার আগে পা চাটায় জিতব। এভাবে কতদিন স্যার? শেষ কোথায়?
ইমামের দিকে তৎক্ষণাৎ চক্ষু ইশারা করল রাশেদ। ভাষাটা বিকৃত করা যাবে না। সুন্দর, স্পষ্ট মার্জিত হতে হবে। রাশেদ পরিস্থিতিকে দক্ষ ভাবে সামাল দিয়ে তুলল। অ্যান্টনির দিকে তাকিয়ে বলল,
- অ্যান্টনি রিল্যাক্স হও। কথা সবাই বলবে। কিন্তু অমন ছাপোষা সুরে না। যা বলার দৃঢ়কণ্ঠে বলো। মানুষের মতো বুকটান করে বলো। এই ফাইলে দশজনের নাম কথার ছিল। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত, অনেকগুলো নামেরই অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা কে, কারা, কোত্থেকে এসেছে, এ ব্যাপারে কোনো ক্লু নেই। ফার্মগেট থেকে যে লোকটা হাওয়ায় মিলিয়ে গেল, সেও এই ক্যাটাগরিতে পড়ছে। তাকে আমরা কেউই খুঁজে বের করতে পারিনি। আমাদের শেষ ইনফর্মার মাহবুব বিশ্বাস সেদিন খাগড়াছড়িতে কী দেখেছিল, এটা আজও অন্ধকারে ঢাকা। কেউ এটা উদঘাটন করতে পারেনি। কিন্তু মাহবুব আমাদের শেষ মুহুর্তে একটা ক্লু দিয়ে যেতে পেরেছে। কিন্তু আফসোস, ওর সেই ফোনকলের পর ওর লাশটাও নিখোঁজ। আমরা জানি মাহবুবের লাস্ট ক্লু ছিল – SFM.
.
ঢাকার আগারগাঁওয়ের ধূসর দালানটার ভেতরে অস্বাভাবিক নীরবতা। দুপুর হলেও করিডোরে লোকজন কম। জানালার কাঁচে স্বর্ণালি আলো ঝাপসা হয়ে লেগে আছে। দালানটির একটি নির্দিষ্ট রুমে বসে আছে শোয়েব ফারশাদ। টেবিলের ওপর মোটা ফাইলটা খোলা। সেখানে ডানহাত ফেলে কলমে কিছু লিখে দিচ্ছে সে।
“Illegal Timber Transit — Internal Route Mapping”
এরপর শেষ পাতায় এসে কলম থামায় শোয়েব। কয়েক সেকেণ্ড চোখ বন্ধ রাখল। মাথার ভেতর ভেসে উঠল ভাঙা ক্যামেরার টুকরো… বাথরুমের দরজা… কাঁপতে থাকা এক জোড়া ডাগর চোখ। চোয়াল শক্ত হলো। দ্রুত নিজের মনকে সংযমে বাঁধল শোয়েব। দায়িত্বের জায়গায় অন্যকিছু ভাবা নিষেধ। কলম ঘুরিয়ে নিচে সই করল। তারপর ফাইলের ডান কোণায় লাল কালি দিয়ে মার্ক করে দিল — CONFIDENTIAL – DIRECT CHANNEL . সামনের ডেস্কে বসা স্টাফ অবাক হয়ে তাকাল। কণ্ঠে বিস্ময় ঢেলে বলল,
- স্যার, এটা কি সার্কেল অফিসে ফরওয়ার্ড করব?
শোয়েব মাথা নাড়ল। গলা ঠাণ্ডা। বজ্রকণ্ঠটা গমগম করে বলে উঠল,
- না। এটা সার্কুলার রুটে যাবে না।
- জ্বি স্যার?, বুঝতে পারল না সেই স্টাফ।
শোয়েব কলম বন্ধ করে তাকাল। চোখদুটোতে স্থির কাঠিন্য। কণ্ঠে হিমশীতল ভঙ্গিটা দৃঢ় রেখে বলল,
- সোজা যাবে কনজার্ভেটর, ঢাকা সার্কেল-এর হাতে। পার্সোনাল রিসিভিং। কোনো কপি না।
স্টাফ একটু থমকায়। সামনে বসা এই মানুষটিকে মাপা চোখে দেখে। কী বুঝল কে জানে, হঠাৎ সম্ভ্রম চোখে সমীহের গলায় বলল,
- স্যার, বিষয়টা কি সেন্সটিভ?
শোয়েব ফাইল বন্ধ করল। ঠেলে দিল স্টাফের সমুখ বরাবর। মাথা ফের হ্যাঁ ভঙ্গিতে নাড়িয়ে সেই হিম জাগানো ভারি গলাটায় বলল,
- স্টাফ আহমেদ, সেন্সেটিভ না হলে আমি নিজে ঢাকা আসতাম না। প্লিজ, ফাইলটা দ্রুত পৌঁছাবেন। নো ডিলে উইল বি টলারেটেড।
টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে সুউচ্চ দেহি মানুষটা। পকেটে পুড়ে রাখে একটি খাম। খামটি ভাঁজ করে নিয়েছে। দৃঢ় পায়ে বিশেষ ভবনটি থেকে বেরিয়ে যেতেই নিচে পার্কিং এরিয়ায় পৌঁছল। সেখানে গাড়ির গায়ে পিঠ ঠেকিয়ে রাফান দাঁড়ানো। দুহাত তার বুকের ওপর আড়াআড়ি বদ্ধ। স্যারকে দেখেই হাতদ্বয় শিথিল করে সটান হল সে। শোয়েব কাছে এসে গাড়ি স্টার্ট দিতে ইশারা করে। রাফান ভেতরে ভেতরে যে দ্বিধা যুদ্ধে ভুগছিল, তা থেকে যেন নিষ্কৃতি দিতেই শোয়েব ব্যাক ডোর খুলতে বলল,
- এই কী হয়েছে জানাও। ভেতরে ভেতরে ওভাবে ছটফট করবে না। পার্থ কোথায়? ও এখনো আসেনি?
রাফান দাঁত দিয়ে নিচের অধর কামড়ায়। কী মসিবত! ওর মুখে কী কারণ লেখা? চেহারা দেখে কী করে ভেতরের খবর পড়ল? রাফান ড্রাইভার সিটে বসে কোণাকুণি সিটবেল্টটা বেঁধে বলল,
- স্যার অন দি ওয়ে। আসছে। কুমিল্লায় এখন। সাইনবোর্ড পৌঁছে ইনফর্ম করবে।
- এরপর? তোমার খবরটা জানালে কোথায়? ছটফটাচ্ছ কেন?
- আপনাকে প্রশ্নটা করা সমীচীন হবে না। আই ওয়ান্ট টু স্কিপ দ্যাট টপিক স্যার।
- কৌতুহল জাগিয়ে যদি ‘স্কিপ দ্যাট’ বলো, তখন একটা মানুষের কী প্রচণ্ড রাগ হয় জানো? কী বলতে চেয়েছ, বলো। নয়ত গাড়ি চালাতে হবে না, খাগড়াছড়ি ব্যাক করো।
তাওয়া গরম বুঝতে পেরে রাফান সাবধানী হলো। একটু এদিক-ওদিক হলে ঘাড়ে গর্দান থাকবে না। সেই বাগদানের রাত থেকেই কেমন চটানো মেজাজে উষ্কে আছেন স্যার। এমনটা আগে কালেভদ্রে হতো, কিন্তু এতোটাও বিপজ্জনক না। রাফান গলা খাঁকারি দিয়ে মৃদুস্বরে বলল,
- আপনি রাগবেন না, এই শর্তে প্রশ্ন করছি।
শোয়েব হ্যাঁ, না কোনো উত্তর দিল না। গাড়িটা মসৃণভাবে ড্রাইভ করছে রাফান। ওই ফাঁকে গলাটা কাশি দিয়ে বলল,
- স্যার, আজ মঙ্গলবার। শুক্রবার বিয়ে। আপনি কী বিয়ের দিন ডিউটিতে যাবেন?
- সম্ভাবনা আছে। একটা মিটিং ফিক্সড হয়েছে। অ্যাটেণ্ড করা দরকার।
- কিন্তু সেদিন শুক্রবার . . . আচ্ছা। কথা অনুযায়ী আমরা সতর্ক আছি। কিন্তু মনে হচ্ছে তাহমিদ নজরদারিতে আছে। সেদিন ওদের প্রোফাইল ডিটেলিং নিয়ে রিপোর্ট জমা দেবার কথা। কিন্তু কাজটা এক্সটেণ্ড। অর্থাৎ রিপোর্ট জমা পড়েনি।
- জমা পড়েনি? এটা শনিবারের কথা না?
- জ্বি স্যার। শনিবার এটা। শুক্রবার অ্যাঙ্গেজমেন্টটা হয়। তার ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ শনিবারে ওটা জমা দেবার কথা।
এবার শোয়েব যেন আঁধারে আলো পেল। বাগদানের পরদিনই ছিল শনিবার। আর শনিবারই তাহমিদ বাড়ি মাথায় তুলে হুলস্থুল বাঁধিয়ে অফিসে চলে গিয়েছিল। তাহলে আজ তৃতীয় দিন। আর বিয়ের ডেট আসছে শুক্রবার। কিছু একটা গভীরভাবে ভাবতে ভাবতে অন্যমনষ্ক গলায় বলল শোয়েব,
- প্রিসাইসলি একটা বড়ো ধরণের সমস্যা হবে রাফান। সর্বোচ্চ সাবধান থাকো। তাহমিদ কিছু জানায়নি মানে এটা নয়, ওর টিমের লোকগুলো লয়্যাল। আমি জানি না, তাহমিদ ওর টিমের সঙ্গে কী আলোচনা করেছে। কিন্তু ব্যাকস্ট্যাব করলে খুব খারাপ হবে। আমি সম্ভাবনাটা সেদিকে দেখতে পাচ্ছি। কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করবে।
- এখন তাহলে উপায়? আপনি তো ওকে প্রোটেকশন দিতে পারবেন না। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট ওসব ভেতরকার জটিলতায় হস্তক্ষেপই করে না। আপনার ডিউটি এখনো চলমান। ডিপার্টমেন্টে ছুটি বাকি আর পাঁচদিন। রবিবারে শেষ হচ্ছে সেই ছুটি।
- আমি ঢাকায় দুটো কারণে এসেছি রাফান। এ দুটোর একটাও ব্যর্থ হওয়া যাবে না। প্রথম কারণ, ওই রিপোর্ট মন্ত্রণালয় পর্যন্ত ছেড়েছি। আরেকটা, তাহমিদ কাকে লিস্টে ঢোকাচ্ছে জানা। আপাতত আমাদের কাজ শেষ। তুমি চাইলে সতর্ক হয়ে বিয়েতে লেগপিস, বাটন রেজালা খেতে পারো। অনুমতি দিলাম।
ঠোঁটের কোণে তেরছা হাসি ফুটেই তা আবার মিলিয়ে গেল। রাফান মৃদু ভঙ্গিতে হাসিটা আঁটকাল। যদিও খাবার-দাবার নিয়ে মাথাব্যথা নেই। কিন্তু ওর দৃষ্টি বলছে, স্যার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ উল্লেখ্য করেননি। ওটা তিনি করবেনও না। অথচ রাফান তা জানে।
সেদিন শোয়েব যখন মর্তুজা মেনশনে প্রবেশ করল, ঠিক সেদিনই রাত সাড়ে এগারোটায় রাফানের আগমন। পার্থ আসতে পারেনি। কিছু জরুরি কাজে আঁটকে ছিল। রাফান এসে ক্লান্ত শরীরে সেদিন অবশ্য ঘুমিয়েও পড়ে। কিন্তু বিপত্তিটা বাঁধে ঠিক মাঝরাতে। হঠাৎ বডি ডিহাইড্রেশন জনিত সমস্যায় ভুগছিল। প্রচণ্ড রূপে পানিশূন্যতার উপক্রম শরীরে হানা দিল। ফলে বাধ্য হয়ে বিছানা ছেড়ে উঠতে হয়। ট্রাভেল ব্যাগ থেকে এক প্যাকেট গ্লুকোজ নিয়ে বাইরে বের হয়। রান্নাঘরটা খুঁজে সেখানে চটপট এক বোতল গ্লুকোজ ওয়াটার বানিয়ে ফিরছিল সে, হঠাৎ আচমকা পা থমকে ওঠে। হোঁচট খেতে খেতে ভ্রুঁদ্বয় আচানক কুঁচকে যায়। তিনতলা থেকে দোতলায় নিজ ঘরে ঢুকছে স্যার। দৃশ্যটা দেখে প্রায় ভূত দেখার মতো চমকে উঠেছিল রাফান। তিনতলায় মেয়েরা, সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় আসছেন স্যার, নিজ ঘরে ঢুকছেন, ব্যাপারটা বুঝতে দেরি হয় না। রাফান হঠাৎ ভাবনা থেকে বাস্তবে পা দিল। মনোযোগ রাখল পিচঢলা সড়কে। চোখটা সামনের ফন্ট মিররে বুলিয়ে পেছনে বসা মানুষটাকে দেখল। ধবধবে ইস্ত্রি যুক্ত সাদা শার্ট, ওপরে কালো ওয়েস্ট কোট, নিচে কালো ফর্মাল প্যান্ট, কোমরে শোভা পাচ্ছে বেল্ট। শোয়েব ডানদিকের জানালা দিয়ে বাইরেটা দেখছিল। হঠাৎ খাকারি দিয়ে রাফান তীড়ের মতো প্রশ্নটা ছুঁড়ল,
- স্যার, আপনি কী মিস এস.এ.এস. কে মিসেস এস.এফ.এম বানাতে চান?
ভয়ংকর ভাবে চমকে তাকাল শোয়েব। তার চাহনি জুড়ে বিস্ফোরণ! রাফান দুষ্টুমির হাসি হাসছে। একটু থেমে শেষ বুলেটটা জায়গামতো বিঁধিয়ে বলল,
- যে বনের শিকারি, তার বাড়িতেও হামলা করা দরকার। বন ও বাড়ি দুটোই উইন উইন ব্যাপার। আপনি কেন স্মুথ অ্যাণ্ড স্টেডি বসে থাকবেন? শুক্রবারকে বনবিভাগ থেকে অফিশিয়াল ডেট ঘোষণা করাই। অনুমতি দিন।
FABIYAH_MOMO .
Share On:
TAGS: ফাবিয়াহ্ মমো, বজ্রমেঘ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
বজ্রমেঘ পর্ব ৭
-
বজ্রমেঘ পর্ব ২০
-
বজ্রমেঘ পর্ব ১৭
-
বজ্রমেঘ পর্ব ২৫
-
বজ্রমেঘ পর্ব ৬
-
বজ্রমেঘ পর্ব ১৯
-
বজ্রমেঘ পর্ব ৪
-
বজ্রমেঘ পর্ব ১০
-
বজ্রমেঘ পর্ব ১১
-
বজ্রমেঘ পর্ব ২৪