প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান
পর্ব : ১২
সানজিদাআক্তারমুন্নী
তিনতলার সেই কাঙ্ক্ষিত রুমের সামনে এসে দাঁড়ায় ওয়াহেজ। বুকের ভেতর কুড়ে যাচ্ছে অস্থিরতায়। কলিং বেল কয়েকবার চাপতেই ভেতর থেকে কেউ দরজা খুলে দেয়, কিন্তু সামনে কাউকে দেখা যায় না। দরজাটা আনভিই খুলেছে। ওর ফ্রেন্ড ইভা একটা কাজে বাইরে গেছে, তাই রুমে সে এখন একা। ইভা ফিরেছে ভেবেই দরজাটা খুলে সে পাল্লার পেছনে আড়াল হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কই, কেউ তো ভেতরে ঢুকছে না! আনভি কিছুটা অবাক হয়। তাহলে কে এল?ওয়াহেজ সামনে কাউকে দেখতে না পেয়ে ধীর কণ্ঠে বলে ওঠে, “আমি এখানে সামাইরার সাথে দেখা করতে এসেছি। ওর সাথে কি একটু দেখা করা যাবে?”
সুপরিচিত এই কণ্ঠস্বর শুনে আনভি রীতিমতো আঁতকে ওঠে। বুকের ভেতর সযত্নে জমিয়ে রাখা অভিমানের দাহ যেন দপ করে জ্বলে ওঠে। এখন কী করবে সে? ইভা ভেবে দরজা তো খুলে দিয়েছে, কিন্তু এখন এই লোকটাকে কী বলবে? এটা লেডিস হোস্টেল, সামান্য একটু এদিক-ওদিক হলে বড়সড় ঝামেলা হয়ে যাবে। না চাইতেও এবার ধীরে ধীরে দরজার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে আনভি। চোখের সামনে তাকে দেখে ওয়াহেজ এক ঘোরের মাঝে চলে যায়। আনভি কে দেখার পর বুকের ভেতরের পাগলপারা অস্থিরতাটা নিমেষেই শান্ত হয়ে আসতে থাকে তার। আনভি কঠিন চোখে ওয়াহেজের দিকে তাকিয়ে বলে, “কেন এসেছেন এখানে? আমি তো সব ফিরিয়ে দিয়ে এসেছি। আমার কাছে আর কোনো প্রমাণ নেই।”
ওয়াহেজ আনভির চোখের দিকে কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তারপর গভীর কণ্ঠে বলে, “তুমি সব দিয়ে এসেছো ঠিকই, কিন্তু আমার একটা জিনিস নিজের সাথে করে নিয়ে এসেছো। সেটাই নিতে এলাম।”
কথাটি শুনে আনভি বেশ অবাক হয়। সে ভেবেছিল ওয়াহেজ হয়তো তাকেই নিতে এসেছে, কিন্তু না। সে নিচু স্বরেই ঝাঁঝিয়ে ওঠে, “কী নিয়ে এসেছি আমি? আপনার কিচ্ছু নিয়ে আসিনি। এমনকি আপনার পরানো বিয়ের আংটিটাও আমি খুলে রেখে এসেছি।”
“না, তুমি নিয়ে এসেছো।”
“কী নিয়ে এসেছি?”
“আমার সুখ, আমার শান্তি তুমি নিয়ে এসেছো।”
এটুকু বলেই ওয়াহেজ ঘরের ভেতর ঢুকতে চায়, কিন্তু আনভি তাকে ঢুকতে দেয় না। হাত বাড়িয়ে তাকে দরজাতেই থামিয়ে দিয়ে বলে, “আর নাটক করতে হবে না। আমি তো আপনার সাথে সবকিছু ক্লিয়ার করেই এসেছি। দয়া করে এখানে সিন ক্রিয়েট করবেন না। আপনাকে কেউ এখানে দেখে ফেললে আমার সমস্যা হবে, সেটা তো আপনি বোঝেন! প্লিজ, আমি রিকোয়েস্ট করছি, আপনি চলে যান।”
ওয়াহেজ হাঁসফাঁস করে ওঠে। অস্থির কণ্ঠে বলে, “সামাইরা, তুমি আমার পুরো কথাটা অন্তত শোনো। আমি মানছি আমি ভুল করেছি, কিন্তু আমাকে একটু এক্সপ্লেইন তো করতে দাও! প্লিজ, শোনো আমাকে বলতে দাও।”
“আমি আগেও বলেছি, আমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই। অযথা এই অভিনয়ের কোনো মানে হয় না। আমি আর আপনার কোনো কাজেই আসব না।”
“তুমি আমার ওয়াইফ! তুমি কোনো কাজের বস্তু নও যে ‘কাজে আসবে না’! এসব বোলো না সামাইরা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। প্লিজ, আমার সাথে চলো। আমি তোমায় সব বুঝিয়ে বলব।”
“ওয়াও! কী সুন্দর কথা! আমি আপনার ওয়াইফ? সত্যি আমি আপনার ওয়াইফ? আপনি তো শুধু আমায় মেনে নেওয়ার নাটক করেছেন। পুরোটাই নাটক! মন থেকে তো কখনোই বউ হিসেবে ট্রিট করেননি। চলে যান চলে যান এখান থেকে। আমার ব্যথাটাকে আর দগ্ধ করবেন না।”
কথাগুলো ছুঁড়ে দিয়েই আনভি সশব্দে মুখের ওপর দরজাটা লাগিয়ে দেয়। ওয়াহেজকে আর একটা কথাও বলার সুযোগ দেয় না সে। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে ওয়াহেজের ভেতরটা শূন্য হয়ে যায়। আনভি তার কোনো কথা শোনার প্রয়োজনই মনে করল না! ওয়াহেজ অনেকটা সময় বদ্ধ দরজার বাইরে স্থাণুর মতো দাঁড়িয়ে থাকে। বারবার কলিং বেল বাজানোটাও উচিত হবে না, চারপাশের পরিবেশটা মহিলাদের। একজন অচেনা পুরুষের এভাবে এখানে দাঁড়িয়ে থাকাও খুব একটা শোভন নয়। ওয়াহেজ দিকভ্রান্তের মতো দাঁড়িয়ে থাকে, কী করবে সে কিছুই বুঝতে পারে না। ঠিক তখনই তার পেছনে এসে দাঁড়ায় ইভা। আনভির রুমমেট, যে একটু আগে কাজের জন্য বাইরে গিয়েছিল। অচেনা এক পুরুষকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে পেছন থেকেই বলে ওঠে, “কে আপনি?”
কণ্ঠস্বর শুনে ওয়াহেজ পেছনে ফেরে। মেয়েটির দিকে একবার তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলে, “আমি সামাইরার হাসবেন্ড। ওর সাথে দেখা করতে এসেছি।”
কথাটি শোনা মাত্রই ইভার হাতের ব্যাগগুলো সশব্দে মেঝেতে খসে পড়ে। ইভা খুব ভালো করেই জানে, আনভির বিয়ে কার সাথে হয়েছে। খোদ প্রেসিডেন্টের সাথে! আনভি তো তাকে খুব জোর গলায় আর অটল বিশ্বাস নিয়ে বলেছিল “দেখিস, সে আমার খোঁজ নেওয়া তো দূরের কথা, একটা ফোন দিয়েও জিজ্ঞেস করবে না আমি কেমন আছি।” আর এখন ইভা নিজের চোখে কী দেখছে? স্বয়ং প্রেসিডেন্ট সোজা এই হোস্টেলে চলে এসেছেন আনভিকে খুঁজতে! এটা তো ঘোরতর বিস্ময়ের ব্যাপার! বিস্ময়ে ইভার মুখ দিয়ে কোনো কথাই বের হয় না। তাকে এভাবে হতবাক হয়ে থাকতে দেখে ওয়াহেজ কিছুটা ইতস্তত কণ্ঠে বলে ওঠে, “আপনি আপনি প্লিজ কোনো সিন ক্রিয়েট করবেন না বা কাউকে কিছু বলবেন না। আমি এখানে আমার ওয়াইফকে মানাতে এসেছি, কিন্তু সে কিছুতেই দরজা খুলছে না।”
ওয়াহেজের মুখে এমন কথা শুনে ঘোর কাটে ইভার। বিস্ময়ের ধাক্কাটা সামলে নিয়ে তড়িঘড়ি করে মেঝে থেকে পড়ে যাওয়া ব্যাগগুলো তুলে নেয় সে। তারপর সামনে এগিয়ে গিয়ে নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে রুমের তালা খোলে। ঢোক গিলে কিছুটা নার্ভাস গলায় বলে ওঠে, “স স স্যার, যান। আপনি ভেতরে যান।”
ইভার এই অভাবনীয় সহযোগিতায় ওয়াহেজের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে। মৃদু স্বরে ধন্যবাদ জানিয়ে সে দরজার দিকে পা বাড়ায়। ভেতরে প্রবেশ করার ঠিক আগমুহূর্তে ইভার দিকে ফিরে বলে, “আমাকে শুধু পাঁচটা মিনিট সময় দিন।”
ইভা দ্রুত মাথা নেড়ে সায় দেয়, “আচ্ছা, আচ্ছা। কোনো সমস্যা নেই। আমি আপাতত অন্য রুমে গিয়ে বসছি।”
“প্লিজ, কাউকে বলবেন না যে আমি এখানে এসেছি।”
“না না স্যার, কাউকে কিচ্ছু বলব না,”
ইভা আশ্বস্ত করে অন্যদিকে পা বাড়ায়। ইভা চলে যেতেই ওয়াহেজ অতি সাবধানে রুমের দরজাটা ভেতর থেকে আটকে দেয়। আনভি এতক্ষণ বিছানায় শুয়ে ছিল। হঠাৎ দরজার শব্দে তাকাতেই ওয়াহেজকে ভেতরে ঢুকতে দেখে এক লাফে উঠে দাঁড়ায় সে। তার চোখের তারায় অবিশ্বাস আর ক্ষোভের মিশেল। ওয়াহেজ ধীরপায়ে আনভির দিকে এগিয়ে যায়। আনভি একটুও না দমে সোজা ওয়াহেজের চোখে চোখ রেখে তীক্ষ্ণ গলায় প্রশ্ন করে, “কী সমস্যা আপনার? কী চাই আপনার? কেন এমন করছেন আমার সাথে?”
ওয়াহেজ এক মুহূর্ত স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আনভির দিকে। তারপর গাঢ় স্বরে জবাব দেয়, “তোমায় চাই। শুধু তোমায়!”
কথাটা আনভির রাগের আগুনে যেন ঘি ঢেলে দেয়। সে দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “আপনি চলে যান বলছি এখান থেকে!”
আনভির এই রুদ্রমূর্তি দেখে ওয়াহেজ বেশ বুঝতে পারে, এই মেয়ে এত সহজে মানার পাত্রী নয়। সে আনভির একদম সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। তার চোখে চোখ রেখে আকুল স্বরে বলে, “আমাকে একটু বোঝানোর সুযোগ দাও প্লিজ! আমি তো তোমায় বলছি, তুমি একটু বোঝার চেষ্টা করো। তুমি তো একজন বুঝদার মানুষ।”
কথাটা বলে ওয়াহেজ পরম মমতায় আনভির দুই বাহুতে হাত রাখে। কিন্তু পরমুহূর্তেই আনভি সজোরে ঝটকা মেরে তার হাত সরিয়ে দিয়ে। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে ওঠে, “বিশ্বাসঘাতক! আপনি আমাকে একদম ছোঁবেন না। কেন এসেছেন এখানে? কেন আবার নতুন করে নাটক করছেন? আমি সব জানি।”
ওয়াহেজ নাছোড়বান্দা। সে আবারও আনভির বাহু চেপে ধরে কিছুটা মরিয়া হয়ে বলে, “কী জানো তুমি? তুমি কিচ্ছু জানো না সামাইরা! তোমার বাবা নিখুঁত প্ল্যান করে তোমার সাথে আমার বিয়ে দিয়েছেন। সারাকে তিনি নিজেই রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। আর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে আমার মনে হয়েছিল, এই সবকিছুর সাথে তুমিও হয়তো জড়িত। সামাইরা আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে একবার ভাবো তো, এটা মনে করাটা কি খুব অস্বাভাবিক ছিল? তুমিই বলো, আমার এই সন্দেহটা কি খুব অমূলক ছিল?”
আনভির ভেতরটা রীতিমতো তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে । ওয়াহেজের কথাগুলোতে যথেষ্ট যুক্তি থাকলেও, তার অবাধ্য মন কোনো যুক্তিই মানতে নারাজ। মস্তিষ্কের প্রতিটি স্নায়ু শুধু একটা শব্দই জানান দিচ্ছে বিশ্বাসঘাতকতা! আনভি ওয়াহেজের দিকে ফিরেও তাকায় না। দৃষ্টি অন্যদিকে নিবদ্ধ রেখেই বরফের মতো শক্ত গলায় বলে, “আর কিছু মনে করানোর দরকার নেই। আমার সাথে যে নাটকটা করলেন, ভালোই করেছেন। ধরে নিন, আমিও আমার বাবার সাথে এসবের মাঝেই জড়িত ছিলাম। আমার মনটা একদম ভালো নেই ওয়াহেজ। আমাকে আর কিছু মনে করাবেন না, দয়া করে চলে যান এখান থেকে।”
ওয়াহেজের কণ্ঠে চরম অনুনয় ঝরে পড়ে, “না, আমি যাব না সামাইরা! এটা সত্যি যে আমি সত্যটা জানার জন্যই তোমাকে মেনে নিয়েছিলাম, কিন্তু সবকিছু পুরোপুরি নাটক ছিল না। তোমাকে ভালোবেসে তোমার কপালে চুমু খাওয়া, তোমার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকা সবই ছিল সত্যি। আমার একদম মন থেকে। তারপরও আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আমাকে মাফ করে দাও, প্লিজ। আমি তোমার সাথেই বাঁচতে চাই।”
আনভি সোজা সাপটা জবাব দেয়,
“কিন্তু আমি চাই না! আমি আপনার সাথে বাঁচতে চাই না, আপনি চলে যান এখান থেকে। আমাকে তালাক দিয়ে দিন।”
আনভিকে মানানোর আর কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে ওয়াহেজ ধীরপায়ে তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। দুহাতে আনভির কোমর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার পেটে মাথা গুঁজে দিয়ে আর্দ্র গলায় বলতে থাকে, “তুমি আমার ঘরের রহমত। তোমাকে ছাড়া আমি বাড়ি ফিরি কী করে? তোমাকে না নিয়ে আমি যাব না, সামাইরা। তোমার পায়ে পড়ছি, আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। চলো বাড়ি ফিরে যাই। সেখানে গিয়ে যা শাস্তি দেবে, আমি মাথা পেতে নেব।”
আনভি ওয়াহেজের কোনো কথাই কানে তোলে না। মূর্তির মতো নির্বাক দাঁড়িয়ে থেকে শুধু বলে, “প্রয়োজন নেই, এসবের কোনো প্রয়োজন নেই। যান এখান থেকে। চলে যান।”
ওয়াহেজও হাল ছাড়ার পাত্র নয়, আর আনভিও সহজে গলে যাওয়ার মানুষ নয়। ওয়াহেজ আনভির পেটে মুখ গুঁজে রেখেই অনর্গল উচ্চারণ করতে থাকে, “সরি সামাইরা, আমায় মাফ করে দাও। আমার ভুল হয়ে গেছে, আমাকে শুধু একবার মাফ করে দাও।”
ওয়াহেজের এই আকুতিতেও আনভি এতটুকু গলে না। উল্টো ওয়াহেজকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দিয়ে বলে, “সরুন এখান থেকে!”
ওয়াহেজ তবুও মাটি কামড়ে বসে থাকে। সে যাবে না, আনভিকে ছাড়া সে কিছুতেই ফিরবে না। আনভিও ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, মনে মনে পণ করে দেখি উনি কতক্ষণ এভাবে বসে থাকতে পারেন!
প্রায় আধঘণ্টা কেটে যায়। ওয়াহেজ আনভির পা জড়িয়ে বসে থাকলেও আনভির মাঝে কোনো হেলদোল দেখা যায় না। হঠাৎই ওয়াহেজের পকেটে থাকা ফোনটা বেজে ওঠে। ওই বসা অবস্থাতেই সে ফোনটা রিসিভ করে। ইয়াহিয়াকে অ্যারেস্ট করার যে নির্দেশ সে দিয়ে এসেছিল, তারই আপডেট এটা। ইয়াহিয়াকে অ্যারেস্ট করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এখন ওয়াহেজকে সেখানে যেতেই হবে। খবরের আকস্মিকতায় ওয়াহেজের হাতের বাঁধন সামান্য আলগা হতেই আনভি দ্রুত তার থেকে সরে দাঁড়ায় আর তীক্ষ্ণ স্বরে বলে, “যান, গিয়ে ওই লোকের ফাঁসি কার্যকর করুন। আমার পা ধরে বসে থাকলে চলবে না। আপনি একজন প্রেসিডেন্ট, আপনার দায়িত্ব সবার আগে।”
অবশেষে ওয়াহেজ আনভির জেদের কাছে হার মানে। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। আজ তাকে আনভির কাছে হেরেই যেতে হলো। উঠে দাঁড়িয়ে সোজা আনভির চোখে চোখ রেখে সে দৃঢ়কণ্ঠে বলে, “আমি আবার আসব। আর তোমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাব।”
“আমি যাব না!”
“আমার বুক ছাড়া তোমার আর কোথাও আশ্রয় হবে না,”
এটুকু বলেই ওয়াহেজ দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। তার ভেতরটা এখন রীতিমতো তোলপাড় হচ্ছে আনভি তাকে সত্যিই মাফ করল না! মেয়েটা এত বেশি অভিমানী না হলেও তো পারত। ওয়াহেজ বেশ বুঝতে পারে, এখন আনভিকে কোনোভাবেই মানানো সম্ভব নয়। তাছাড়া, এখন তাকে ইয়াহিয়াকেও দেখতে হবে। ওই কালপ্রিটকে থেরাপি দিয়ে তার সব কুকর্ম বের করে আনতে হবে। এতদিন সে প্রমাণের অভাবে তাকে ধরতে পারেনি, আর লোকটা যে এতটা জঘন্য হতে পারে, সেটাও তার ধারণার বাইরে ছিল।
রাত দশটা।
এশার নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে ওয়াহেজ একেবারে নীরব, মনমরা হয়ে বসে আছে নিজের ঘরে। পরিবারের সবাইকে সে একটা মিথ্যের আড়ালে সান্ত্বনা দিয়েছে আনভি নাকি তার খালামণির বাসায় থেকে গেছে। সত্যিটা এখনো কারো সামনে উন্মোচন করার সাহস বা শক্তি কোনোটাই তার নেই। বুকের ভেতরটায় এক অচেনা শূন্যতা হাহাকার করছে। ওয়াহেজ চাইলেই এই মুহূর্তে ছুটে যেতে পারে আনভির কাছে, কিন্তু তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সেখানে আরো মেয়েরা আছে, এই অসময়ে তার উপস্থিতি তাদের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
রাতটা কোনোমতে পেরোলেই হলো। আগামীকাল বিকেলেই আনভির বাবার গর্দান ফেলা হবে। রাষ্ট্রের নিয়ম ওয়াহেজের করা নিয়ম। বড় কঠিন কেউ খুন করলে, দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে, কিংবা ড্রাগস ও মদের চোরাচালানে জড়িত থাকলে প্রকাশ্যে তার ঘাড় থেকে মাথা আলাদা করে দেওয়া হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। আগামীকাল ঠিক এই শাস্তিটাই কার্যকর হবে। আর আজ সারারাত তার ওপর চলবে অমানুষিক টর্চার, বের করে আনা হবে তার সাঙ্গপাঙ্গদের নাম, জানা হবে এই চক্রের ঠিক ওপরে আর কার কার হাত রয়েছে। এই মুহুর্তে ওয়াহেজের বুকের ভেতরটা ফেটে যেতে চাইছে আনভি কে ছাড়া। এক দলা কষ্ট গলার কাছে আটকে আছে, এক বিন্দু খাবারও গলা দিয়ে নামছে না তার। ওয়াহেজ একটা নতুন সিম তুলে নেয়। আনভির পুরনো নাম্বারে নিজের রেগুলার সিম থেকে ফোন দিলে সে কিছুতেই ধরবে না। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সে নিজের হাতের মুঠোয় থাকা ফোনটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে। বাহ্যিকভাবে দেখতে এটি নিতান্তই সাধারণ একটি ম্যাট-ব্ল্যাক স্মার্টফোন, কিন্তু এর নিরেট আবরণের ভেতর লুকিয়ে আছে এক অবিশ্বাস্য প্রযুক্তি। ফোনটির নাম ‘শেকড়’। নামটার মতোই এর অস্তিত্ব এই ডিভাইসটিতে ভিনদেশি প্রযুক্তির এক সুতো পরিমাণ ছোঁয়াও নেই।
যখন পুরো বিশ্ব গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের ওপর অন্ধভাবে নির্ভরশীল, ঠিক তখন দেশের একদল তরুণ বিজ্ঞানী সম্পূর্ণ গোপন একটি ল্যাবে এই ফোন তৈরি করেছে। এর প্রসেসরের সিলিকন পরিশোধন করা হয়েছে খোদ এদেশেরই নদীর বালু থেকে। এর ডিসপ্লে প্যানেল এবং সার্কিট বোর্ড তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ নিজস্ব আর দেশীয় উপাদানে। তবে ‘শেকড়’-এর সবচেয়ে অভিনব দিকটি হলো এর অপারেটিং সিস্টেম ‘প্রজেক্ট একুশ’। এটি সাধারণ কোনো গতানুগতিক কোডিং ভাষায় লেখা নয়। এর এনক্রিপশন লজিক তৈরি হয়েছে আস্ত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ এবং ধ্বনিতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে। বাইরের কোনো দেশের বাঘা বাঘা হ্যাকারও যদি এই ফোনে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা করে, ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি জটিল ‘ডিজিটাল গোলকধাঁধা’ তৈরি করে ফেলে। হ্যাকারের অ্যালগরিদম সেই বাংলা লজিক গেটের ভেতরে ঘুরপাক খেতে খেতে একসময় চিরতরে অকেজো হয়ে যায়।
এমনকি এই ফোনের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ আলাদা। এটি সাধারণ কোনো মোবাইল টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং কাজ করে সম্পূর্ণ নিজস্ব এনক্রিপ্টেড ফ্রিকোয়েন্সিতে। যে ফাইলে দেশের একটি যুগান্তকারী মেগা-প্রজেক্টের নকশা রয়েছে, সেটি এখন পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত ভল্টে বন্দি আর সেই ভল্টটি হলো ওয়াহেজের পকেটে থাকা এই শতভাগ দেশীয় স্মার্টফোনটি। বাইরের বিশ্বের কোনো পরাশক্তি তার একটি সামান্য ডেটাও স্পর্শ করার ক্ষমতা রাখে না।
কিন্তু এতসব অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সুরক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে বসেও ওয়াহেজের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে। তার ভীষণ কাঁদতে ইচ্ছে করছে, বুক ফাটানো কান্নায় ভেঙে পড়তে ইচ্ছে করছে। এত সুন্দর করে গুছিয়ে তোলা একটা সংসার চোখের পলকে এভাবে এলোমেলো হয়ে গেল! এত মিষ্টি আর পবিত্র একটা সম্পর্ক এমন নির্মমভাবে হোঁচট খেল! আনভি কতটা বিনয়ী, কতটা সরল! স্মৃতিরা এসে ভিড় করে ওয়াহেজের মস্তিষ্কে। ওয়াহেজ বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত আনভি একদানা খাবারও মুখে তুলত না। বিয়ের পর থেকে নিজের হাতে খাওয়াটাই ওয়াহেজ ভুলে গিয়েছিল যেদিন সবাই মিলে একসাথে খেতে বসত না, সেদিন আনভি নিজের হাতে পরম মমতায় তাকে খাইয়ে দিত। গোসল করে বেরোনোর পর ওয়াহেজের ভেজা চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে সযত্নে মুছে দিত আনভি। এমনকি জায়নামাজে বসে দুহাত তুলে মোনাজাতেও ওয়াহেজকে জড়িয়ে রাখত সে। এই তো, মাত্র চারদিন আগেও আনভি ওয়াহেজের প্রশস্ত বুকে মাথা রেখে ফিসফিস করে বলেছিল, “أنت أجمل فصل في قدري” (আন্তা আজমালা ফাসলিন ফি ক্বাদারি) আপনি হলেন আমার তাকদিরের সবচেয়ে সুন্দরতম অধ্যায়।
আজ সেই অধ্যায়ের পাতাগুলো এক কালবৈশাখী ঝড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। আজ তারা দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই মেরুর বাসিন্দা। আনভি বিছানার হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে নিথর হয়ে বসে আছে। ওয়াহেজের সেই আচমকা এসে ক্ষমা চাওয়ার দৃশ্যটা বারবার তার মনের পর্দায় ভাসছে, আর পুরো ব্যাপারটাই কেমন বড্ড ঘোলাটে আর অবাস্তব ঠেকছে তার কাছে। বারবারই একটা কথাই মস্তিষ্কে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে সবই হয়তো প্রতারণা, নিছক কোনো ছলনা! আনভি কিছুতেই কোনো স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছে না। এক অদ্ভুত, দমবন্ধ করা গ্লানি আর অন্তর্দ্বন্দ্ব তাকে ভেতরে ভেতরে কুরে কুরে খাচ্ছে।হঠাৎ ঘরের নৈঃশব্দ্য ভেঙে বেজে ওঠে আনভির ফোন। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা অচেনা নম্বরটা দেখে সে বিন্দুমাত্র অবাক হয় না। সে খুব ভালো করেই জানে, ওপাশে কে আছে। ওয়াহেজ ছাড়া এই মুহূর্তে তাকে ফোন করার মতো আর কেউই নেই পৃথিবীতে। দুবার রিং হওয়ার পরই অত্যন্ত ধীর হাতে ফোনটা রিসিভ করে কানে তুলে নেয় আনভি।ফোন রিসিভ করেও আনভি একদম নিশ্চুপ থাকে, মুখ ফুটে টুঁ শব্দটিও করে না। ওপাশের মানুষটাও অদ্ভুতভাবে নীরব। ওয়াহেজ মূলত ফোনটা করেছে শুধু আনভির উপস্থিতিটুকু অনুভব করার জন্য কারণ সে খুব ভালো করেই জানে, তার নিজের গলার আওয়াজ শোনামাত্রই আনভি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে কলটা কেটে দেবে। এভাবেই ভারী নীরবতার চাদরে ঢাকা পড়ে যায় দীর্ঘ দশটি মিনিট। কেউ কাউকে কিচ্ছু বলে না, অথচ না-বলা কথাগুলোর ভার জমতে থাকে দুই প্রান্তের ইথারে।
অবশেষে আনভির ধৈর্যের বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে যায়। বুকের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ আর বিরক্তি ছিটকে বেরিয়ে আসে তার শীতল, কাঠখোট্টা গলায়, ‘ফোন দিয়েছেন কি স্রেফ তামাশা করতে? কী জন্য ফোন দিয়েছেন আমায়?’
আনভির কথা শুনে ওয়াহেজ রীতিমতো থমকে যায়। ওর কণ্ঠে ঝরে পড়ে একরাশ বিস্ময়, “তু তুমি কীভাবে বুঝলে যে এটা আমি?”
“বুঝি বলেই তো আজ এই পরিস্থিতি!”
এই নিস্পৃহ উত্তর শুনে ওয়াহেজের বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে। চরম বিষণ্ণ এক মিনতির স্বরে সে বলে, “আমাকে কি একটা সুযোগ দেওয়া যায় না? ভুল হয়ে গেছে মাফ করা যায় না?”
আনভির ভঙ্গিতে এক নিষ্ঠুর নিরাসক্তি ভর করে আছে। শান্ত অথচ কঠোর গলায় সে জবাব দেয়, “সম্ভব নয়।”
কথাটা শুনে ওয়াহেজ ভীষণ রকম ব্যাকুল হয়ে পড়ে। সারা শরীর অবশ হয়ে আসে তার, মনে হয় ভেতরকার হৃদয়টা কেউ ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে। আকুল কণ্ঠে ও অনুনয় করে ওঠে, “সারাজীবন তোমার পায়ে পড়ে থাকব, তাও তাও আমাকে মাফ করে দাও।”
আনভির গলা শুষ্ক করে বলে, “এসব কথা বাদ দিন। আমি আপনার ফোন ধরেছি শুধু একটা প্রয়োজনে।”
“কী প্রয়োজনে?”
অনুভূতিহীন এক যান্ত্রিক স্বরে আনভি জিজ্ঞেস করে, “বাবার শাস্তির কী হলো? আমি তাঁর সাথে একটিবার দেখা করতে চাই। পারব? আইনে আছে এমন কিছু?”
ওয়াহেজ নিভু নিভু গলায় জবাব দেয়, “পারবে। কাল ন’টার দিকে চলে এসো থানায়। তুমি চাইলে আমি গিয়ে তোমাকে নিয়ে আসব?”
ওয়াহেজের কথায় আনভি বেশ বিরক্ত হয়। এই হঠাৎ গজিয়ে ওঠা দরদ তার কাছে নেহায়েত আদিখ্যেতা ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না স্থির কণ্ঠে ও আওড়ায়, “থাক, প্রয়োজন নেই এই মিথ্যা দরদের।”
“আমার ভালোবাসা মিথ্যা ছিল না, সামাইরা! তুমি কেন বুঝতে পারছ না? আমি কী করতাম? আমার জায়গায় তুমি থাকলে কী করতে?”
“আপনার জায়গায় আমি থাকলে যাই করি না কেন, অন্তত নাটক করতাম না! এমন করে কাউকে ঠকাতাম না।”
“আমি তোমার সাথে সত্যিই থাকতে চাই। তুমি এমন একজন মানুষ, যার অভাবে আমার এই পুরো দুনিয়াটা শূন্য লাগে।”
আনভি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে আর বলে, “মিথ্যা বলবেন না, প্রেসিডেন্ট সাহেব। আমার মতো সাধারণ একজন কী করে আপনার জন্য এত কিছু হতে পারে? আমি অতটাও জরুরি কেউ নই।”
আনভির কথায় ওয়াহেজ আকুল গলায় বলে , “পুরো পৃথিবী হয়তো তোমাকে সাধারণ একজন মানুষ হিসেবেই দেখে, কিন্তু তুমি আমার কাছে ঠিক প্রথম দুটো শব্দের মতো!”
কথাগুলো আনভির কাছে নিছক উপহাস মনে হয় ও তাচ্ছিল্যভরে বলে, “আমার মতো একজনকে এসব বলে লজ্জা দেবেন না। চেহারাও তো এমন কিছু ভালো নয়, কী দেখে আপনি আমার প্রতি আকৃষ্ট হলেন যে এখন আমাকেই লাগবে বলে এমন একটা ভাব করছেন? নাটক শেষ করুন না! আর নাটক করে কী করবেন? আমার তো দেওয়ার মতো কিছুই নেই আপনাকে।”
আনভির কথা শুনে ওয়াহেজ অনুনয়ভরা কণ্ঠে বলে ওঠে, “মহব্বত যদি চেহারার সৌন্দর্য দেখেই হতো,তবে রব নিশ্চয়ই মানুষের অন্তরকে এত গভীর করে গড়তেন না। তুমি আমার কাছে কী, জানো? তোমার সঙ্গ আমায় কতটা শান্তি দেয়, তোমার ভালোবাসা, তোমার আগলে রাখায় আমি যে কতটা শান্তিতে বেঁচে ছিলাম, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমার কাছে স্বপ্নের মতো।”
একটু থেমে অসহায় গলায় সে আবারও বলে, “ফিরে এসো না, প্রিয়তমা!”
“সম্ভব নয়।”
কথাটা বলেই আনভি খট করে ফোনটা কেটে দেয়।
সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে ওর। হাতের মুঠোয় থাকা নিষ্প্রাণ যন্ত্রটার দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয় কিছুক্ষণ, বুকের ভেতরটা মনে হচ্ছে কেউ নিষ্ঠুরভাবে দুমড়েমুচড়ে দিচ্ছে। এক তীব্র, অসহনীয় কষ্ট গলা বেয়ে উঠে আসতে চাইছে। ওর ভীষণ কান্না পাচ্ছে, দু’হাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। নিস্তব্ধ ঘরের নীরবতা ভেঙে কানে এখনো বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ওয়াহেজের বলা সেই আকুল, আর্দ্র স্বর “ফিরে এসো না, প্রিয়তমা!” শব্দগুলো জাদুমন্ত্রের মতো আনভির অন্তর কে আচ্ছন্ন করে ফেলতে চাইছে। মনের গহিন থেকে একটা অন্ধ, অবুঝ ইচ্ছে প্রবলভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠছে। মনে হচ্ছে, পৃথিবীর সব হিসেব-নিকেশ ভুলে, সব যুক্তি জলাঞ্জলি দিয়ে এক দৌড়ে ওয়াহেজের কাছে চলে যায়। গিয়ে ওই মানুষটার বুকে মুখ লুকিয়ে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। বলে দেয়, সে-ও ভালো নেই তাকে ছাড়া!
কিন্তু না! ঠিক তখনই মস্তিষ্ক তার তীক্ষ্ণ ঘণ্টা বাজিয়ে সতর্ক করে দেয় আনভিকে। অবুঝ অন্তরেরর দুর্বলতায় সজোরে আঘাত করে বাস্তবতার নির্মম স্মৃতি। মস্তিষ্ক বারবার ফিসফিস করে বলছে, “বোকা মেয়ে, আবার গলে যেয়ো না! এসবই মিথ্যা, এসবই মরীচিকা। ওই মায়াবী কণ্ঠ আর আকুলতার আড়ালে হয়তো লুকিয়ে আছে নতুন কোনো চাল, নতুন কোনো ভয়ংকর শয়তানি।”
আনভি দুই হাঁটুতে মুখ গুঁজে নেয়। চোখ ছাপিয়ে নেমে আসা তপ্ত পানি গাল ভিজিয়ে দেয় তার। একদিকে ওয়াহেজের প্রতি তার অমোঘ টান, অন্যদিকে ঠকে যাওয়ার ভয়ংকর অভিজ্ঞতা এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে আনভির সত্তা রুপান্তর হচ্ছে আস্ত একটা রণক্ষেত্র। সে জানে না, এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কার জয় হবে অবুঝ অন্তরের, নাকি সতর্ক মস্তিষ্কের!
চলবে।
কেমন হলে বলবেন গঠনমূলক মন্তব্য চাই।
Share On:
TAGS: সানজিদা আক্তার মুন্নী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তুষারিণী গল্পের লিংক
-
তুষারিণী পর্ব ৮
-
প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান পর্ব ১০
-
তুষারিণী পর্ব ৬
-
প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান পর্ব ৪
-
প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান পর্ব ৩
-
তুষারিণী পর্ব ৩
-
প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান পর্ব ৬
-
তুষারিণী পর্ব ১০
-
প্রেসিডেন্ট ওয়াহেজ ইবনান পর্ব ২