প্রেয়সীর_অনুরাগ
লেখনিতে —#সাদিয়াজাহানসিমি
পর্ব_০৫
রাফসা যাকে বুকের ভেতর ঘর বানিয়ে রেখেছিল, আজ সেই মানুষটার হাতে তার আত্মসম্মান ছিন্ন ভিন্ন। সে চিৎকার করে কাঁদতে পারছে না — কারণ চোখের জলও যেন লজ্জা পেয়েছে। ঠোঁট কাঁপছে, বুক ভারি হয়ে আসছে, আর হৃদয়ের ভেতর জমে উঠছে অসীম শূন্যতা। যে মানুষটার জন্য এতদিন অল্প অল্প করে ভালোবাসা বুনেছে, সে আজ পদে পদে ভেঙ্গে দিচ্ছে। ভালোবাসা সব সময় নিরাপদ নয়, কিছু ভালোবাসা মানুষকে বাঁচায় না— বরং ধীরে ধীরে ভেঙে ফেলে। উদ্যানের অপমান, অবহেলায় বিগত রাতগুলো দগ্ধ আগুনে পরিণত হয়েছে। প্রথম ভালোবাসা সব সময় ভুল মানুষের প্রতি সৃষ্টি হয়। রাফসার মাথা ঘুরছে। চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসছে। এতোটা সাফার আজ প্রথম করছে। ভুল মানুষকে ভালোবেসে। সকালে না খেয়ে এসেছে তার ওপর এত বেলা। যেন এক্ষুনি রাস্তায় মাথা ঘুরে পড়ে যাবে। নিজেকে ভাঙতে চাইছে না তবুও সেই মানুষটা বারেবারে ওকে ভেঙে দিয়ে যায়। পুরুষ মানুষ কি কখনো নারীকে বুঝবে না? হয়তো না। রাফসা একটা রিকশা দাঁড় করায়। রিক্সায় উঠে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রাস্তার শরীর ঘৃণায় রি রি করছে। কখনোই উদ্যানের পানে আর ফিরে চাইবে না।
আজ ফরাজী বাড়িটা যেন আলাদা আলোই জ্বলছে। সকাল থেকেই অতিথির যাতায়াত, দরজায় দরজায় কাজিনদের কোলাহল— আজ যে মেহমান আসছে আর তার মাঝে লুকিয়ে গভীর আবেগের দিন। ফরাজী বাড়ির বড় ছেলে বিদেশ চলে যাবে, এই খবরটা আনন্দ আর বিষাদের এক অদ্ভুত মিশ্রণ হয়ে সবার মনে গেথে আছে। রান্নাঘরটা সকাল থেকে ব্যস্ত বড় চুলায় হাড়ি চাপানো ভাতের ঢাকনা তুলে বাষ্প বেরোচ্ছে। মুরগির ঝোলের মসলা কষানোর ঘ্রাণে পুরো বাড়ি ভরে গেছে, কোথাও বিরিয়ানির চাল ধোয়া হচ্ছে, কোথাও আবার পোলাওর জন্য ঘি গরম। খালামণি আর ফুফুরা উদ্যান কে নিয়ে গর্ব করছে। কেউ সালাত কাটছে, কেউ মিষ্টির প্লেট সাজাচ্ছে রান্নাঘরে। এই ব্যস্ততায় যেন সবাই নিজের কষ্টটা লুকিয়ে রাখছে। ড্রয়িং রুম আর বারান্দা জুড়ে কাজিনদের আড্ডা । কেউ ছোটবেলার গল্প টানছে, কে কাকে মারতো, কে কার খেলনা ভেঙেছিল।হঠাৎ হেসে উঠছে ,সবাই আবার হঠাৎ করে কথার মাঝখানে থেমে যাচ্ছে । কেউ কেউ বড় ভাইকে ঘিরে আলাদা একটা ভিড়— বিদেশের গল্প, নতুন জীবনের স্বপ্ন, আর সাবধানে লুকানো উৎকণ্ঠা। কেউ ঠাট্টা করে বলছে বিদেশ গিয়ে আমাদের ভুলে যাবে। দুপুরের আগেই মেহমান আসতে শুরু করেছিল।উঠোনে চেয়ার পাতা হয়েছে পান সুপারির প্লেট সাজানো হয়েছে বয়স্করা দয়া করে ছোটরা কৌতুহলী চোখে সব পরখ করছে। রাহেলা ফরাজীর চোখ বারবার ভিজে উঠছে ।কিছু বলতে চাই কিন্তু বলতে পারেনা ।বাবা চুপচাপ বসে থাকলেও চোখের গভীরে চাপা গর্ব আর শূন্যতার ছায়া। রাফসা বাড়ি এসে এত মানুষ দেখে বিরক্ত হয়। ও জানে আজ বাড়িতে এত মানুষ কিসের। বুক ভেঙে আসছে না চাইতেও। ড্রয়িং রুমে গিয়ে দেখে কাজিনরা সোফায় বসে আড্ডা দিচ্ছে। রাফতার পানে সবার আগে মাহিনের চোখ পরে। ওকে দেখতে এক গাল হাসে। সোফা থেকে উঠে এসে রাস্তার সামনে দাঁড়ায়। রাফসার থেকে ব্যাগ কেড়ে নেয়। উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল।”তোর চোখ মুখের হাল বেহাল কেন? কিছু হয়েছে?”
রাফসা মাথা নাড়িয়ে বলল।”কিছু হয়নি। খিদে পেয়েছে। সকালে খেয়ে যাইনি। তাই হয়তো এমন লাগছে।”
ঊষা,মাইশা এগিয়ে আসে। ওরা সকলে জানতো, আজ রাফসা স্কুলে যাবে না। ও তো পড়া চোর। স্কুলে যেতে চায় না। বাহানা দিতেই থাকে এটা সেটা। আজ যেহেতু বাড়িতে মেহমান আসবে, ও তো আরো বাহানা করতো। সবাই এটাই ভেবে রেখেছিল।তবে,ওদের ভাবনা ভুল করে, সকালেই বেরিয়ে পড়ে। কাল অনেক রাতে ঘুমানোর ফলে আজ ওরা দেরিতে উঠেছে। সেই আগের রাফসা হলে এখনো ঘুম থেকে টেনে তোলা যেতো না।কাল রাতে মাইশা,রাফসা, ঊষা একসাথে ঘুমিয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাফসাকে পাশে না পেয়ে খুব আশ্চর্য হয়। বাড়ির প্রত্যেকে বেশ অবাক। রাফসার এহেন পরিবর্তনে।
ঊষা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল।”তুই আজ স্কুলে কেনো গিয়েছিস?জানিস না,আজ বাড়িতে মেহমান আসবে।সব কাজিন কতদিন পর একসাথে হয়েছি। ভেবেছি আড্ডা দিব ভরপুর। কিন্তু, তুই পাকামো করে স্কুলে চলে গেছিস।”
মাইশা ওর বাহুতে দুম করে একটা থাপ্পড় মেরে বলল।”এতো পড়াশোনা করতে হবে না। তুই কি রাফসা চন্দ্র বিদ্যাসাগর হতে চাইছিস?তোর জন্য আজ আমরা মজা করতে পারিনি।”
রাফসা বাহুতে হাত বুলিয়ে শান্ত স্বরে বলল।”আমি দেখছি,তোমরা দিব্যি মজা করছো। আমি না থাকলে কি হবে?”
মাহিন ওদের কথায় বিরক্ত হয়ে গেল। মেয়েটার চোখ মুখ শুকিয়ে আছে। সেই দিকে চোখ নেই।এসেছে পর থেকে তর্ক করেই যাচ্ছে। ওদের ধমকে বলে ওঠে।”মা’র খাবি তোরা। দেখছিস না, রাফসার চোখ মুখ শুকিয়ে আছে। সকালে না খেয়ে গেছে। আর তোরা এখানে ঝগড়া কম্পিটিশন করছিস।”
মাহিনের ধমকে কেঁপে উঠলো ওরা। ঊষা মুখ বাঁকিয়ে বললো।”তোমার কি তাতে?”
মাহিন পুনরায় ধমকে উঠে।ওর ধমকে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে ঊষা। মাহিন রাফসার পানে চেয়ে বলল।”গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে। তারপর খাবি।”
রাফসা বাধ্য মেয়ের মত মাথা নাড়ালো। ব্যাগটা নিতে চাইলে মাহিন বাঁধা দিয়ে বলল।”তুই নিজেই হেঁটে যেতে পারবি না। ব্যাগ কি করে বয়ে নিবি?চল, আমি নিয়ে যাচ্ছি।”
রাফসা মৃদু হাসে। এই ব্যাগ আর এমন কি। ব্যাগের ভার না হয় বয়ে নিবে। তবে, মনের একতরফা ভালোবাসা কি করে বয়ে নিবে। ভালোবাসা সহজে সহজে ভোলা যায় না।রাফসা আর বিরোধীতা করেনি। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যায়। ওর পেছনে মাহিন পা ফেলে এগিয়ে যায়। যেন কোনো কেয়ারিং প্রেমিক। এমন সময় দরজায় এসে হাজির হয় উদ্যান। এসেই সেদিকে চোখ যায়। রাফসার পেছনে মাহিন ব্যাগ নিয়ে ছুটছে। ভ্রু কুঁচকে সেদিকেই তাকিয়ে রইল। হাত জোড়া শক্ত করে চেপে ধরে। মাসাল গুলো যেন ফুলে উঠেছে। কালো শার্টের উপর তা বিদ্যমান। বোঝা যাচ্ছে না অভিব্যক্তি। চোখ মুখ একদম শান্ত। চোখ দুটো ছুরির মতো ধারালো। চিবুক শক্ত করে দাঁড়িয়ে রইলো।
রাফসা রুমে আসে। ওর পেছন পেছন মাহিনও ঢুকে। টেবিলের উপর ব্যাগ রেখে রাফসার পানে তাকালো। ঘেমে গেছে একদম। শ্যামলা মুখে মায়া উঁকি দিচ্ছে।রাফসা ওর পানে তাকিয়ে ক্লান্ত গলায় বলল।”ভাইয়া তুমি যাও এখন। আমি ড্রেস চেঞ্জ করবো।”
“হ্যাঁ যাচ্ছি। তুই তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নে। আমি ঊষাকে বলে শরবত পাঠাচ্ছি ।”
রাফসা মৃদু হাসে। মাহিন একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে যায়। রাফসা ধীরে ধীরে হিজাবের পিন ছুটায়। অন্যমনস্ক থাকায় অসাবধানতায় ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে পিন ঢুকে গেল। ঘোর থেকে ছিটকে বেরোয়। রক্ত বের হচ্ছে। প্রায় অনেকটাই কেটেছে। আড়াআড়ি ভাবে লম্বা হয়ে কেটেছে। ক্ষতটা একটু গভীরই। রাফসা রক্তের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল।”এই রক্ত সারাদিন সেই পুরুষের নামে ধমনিতে চলে। সেই পুরুষের নামে, রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করে।”
ব্যথা পাওা না দিয়ে উঠে দাড়ালো। মনের ব্যাথার কাছে, এই ব্যাথা কিছুই না। হাতের ব্যাথা লাঘব করতে পারবে। তবে — মনের ব্যথা লাঘব করবে কি করে। সকালে ঘুম থেকে উঠে সময় কম পায়। গোসল করে যেতে পারেনি। তাই শরীরটা টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যায় শাওয়ার নিতে। ঝর্ণার নিচে দাড়াতেই ঠান্ডা অনুভব করে। পানির সাথে চোখের অবাধ্য নোনাজল গড়িয়ে পড়ে। পানির আড়ালে তা অপ্রকাশিত। আজকের অপমান বোধহয় হ্নদয়ে গভীর দাগ কেটেছে।পানির সাথে মনের সকল কষ্ট ধুয়েমুছে যাচ্ছে যেন।
গোসল করে বেরিয়ে রাফসা বিছানায় ঊষাকে বসে থাকতে দেখে। মাইশা আসেনি। টেবিলে এক গ্লাস শরবত রাখা। রাফসা কালো থ্রি পিস পড়েছে। চুলে টাওয়াল বাঁধেনি। যার দরুন চুল থেকে টপটপ করে পানি ঝড়ছে। ঊষা উঠে এসে হাত ধরে ওকে বিছানায় বসিয়ে দেয়। হাত থেকে টাওয়াল নিয়ে চুল মুছতে শুরু করলো। রাফসা নির্বিঘ্ন হয়ে বসে রইল। কোনো প্রতিক্রিয়া নেই ওর। যেন একটা জড় বস্তু। ঊষা ওর চুলে টাওয়াল চালাতে চালাতে নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ জিজ্ঞেস করল।”ভাইয়াকে ভালোবাসিস?”
ঊষার এহেন প্রশ্নে ধ্যান ভাঙ্গে রাফসার। আকস্মিক প্রশ্নে থতমত খেয়ে গেল। ঊষার দিকে অবাক হয়ে তাকালো। ঊষা ওর চোখে চোখ রেখে মৃদু হেসে বলল।”তোর চোখ বলে, তুই ভালোবাসিস আমার ভাইকে। এতো টুকু বোঝার ক্ষমতা আমার আছে।”
ভেতর থেকে কান্না দোলা পাকিয়ে বের হয়ে আসছে। চোখ টলমল করছে। ঠোঁট কামড়ে শান্ত করার চেষ্টা করছে নিজেকে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে কঠিন গলায় বলল।”তোমার ভাইকে কেনো আমি ভালোবাসবো?তাকে ভালোবেসে আমার লাভ কি ?”
রাফসার কথায় মৃদু হাসে উষা। ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল।”আমার ভাই, তোর ভাই না? এমন ভাবে বলছিস, যেন ননদের কাছে স্বামীর নামে অভিযোগ করছিস।”
রাফসা ওর কথা থেকে টললো না এক পা। কঠিন হয়ে পুনরায় বলল।”আমি ভালোবাসি কাউকে। আর তোমার ভাই তো প্রশ্নই আসে না।”
“তুই না হয় মিথ্যা বলছিস। তবে, তোর চোখ? সে আখিদ্ধয় কখনো মিথ্যা বলে না রাফসা। আচ্ছা, বাদ দে। আমি অনুমান করে বললাম।”
রাফসা আর কিছু বলেনি। চুপ করে গেল। ঊষা ওর চুল মুছে দিয়ে বারান্দায় টাওয়াল শুকাতে দেয়। পুনরায় রুমে ফিরে রাফসা কে নিয়ে নিচে চলে যায়।
.
দুপুর প্রায় তিনটের কাছাকাছি। সকল মেহমান খেয়ে ফেলেছে। বাড়ির গুটি কয়েক সদস্য বাকি। তার মধ্যে সকলেই কাজিন। এক জন আরেকজন কে রেখে খেতে বসতে চাইছে না। ওরা নিচে নেমে দেখে টেবিলে কাজিনরা বসে পড়েছে। ওরা সেদিকে এগিয়ে যায়। রাফসা টেবিলের দিকে এগিয়ে যেতে মাহিন একটা চেয়ার টেনে দেয়। ইশারা করে বলে বসতে। রাফসা বসে পড়ে। তার পাশের চেয়ারে মাহিন বসে। এপাশে জিয়ার খালি না থাকায় ঊষা দিয়ে অপর পাশে বসে। উদ্যান চোখ তুলে এক পলক তাকিয়ে, চোখ নিচে নামিয়ে ফেলে। সবাই খেতে খেতে টুকটাক গল্প করছে। রাফসা খাবারে হাত লাগাতেই হাত জ্বলে ওঠে। ডান হাত বিধায় খেতে সমস্যা হবে। মাহিন ভ্রু কুঁচকে বলল।”খাচ্ছিস না কেন?”
রাফসা মাথা নিচু করে আস্তে করে বলল।”পিন ঢুকে হাত কেটে গেছে। জ্বলছে খুব। আমি নাহয় আম্মুর হাতে খেয়ে নেবো।”
মাহিন বাঁধ সাধলো। ওর প্লেটটা নিজের কাছে টেনে নেয়। ভাত মাখাতে মাখাতে বলল।”মামানি বিজি। এখন পারবে না খাইয়ে দিতে। আমিই বরং খাইয়ে দিচ্ছি।”
কথাগুলো বলতে বলতে লোকমা তুলে রাফসার মুখের সামনে ধরল। রাফসা অস্বস্তিতে পড়ে যায়। সকলের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়াটা খারাপ দেখা যায়। বাধ্য হয়ে মুখ খুলে লোকমা নেয়। মাহিন হাসে। ও যেন খুশি হয়েছে বেশ। উদ্যান নিজের খাওয়া ফেলে ওদের পানে তাকিয়ে রইল। চোখ মুখ স্বাভাবিক। আবার খাওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়। সবাই খেতে খেতে হাসছে, কথা বলছে।
খেয়ে রাফসা ছাদে চলে আসে। একাই এসেছে। সবাই নিচে আছে। মানুষ জনের ভিড়ে অসহ্য লাগছে। রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে রইল। কিছুর আওয়াজ পেয়ে পেছনে ফিরে তাকালো। উদ্যানকে দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেলে। এই মানুষটাকে দেখলে যেমন বুক ফেটে কান্না আসে, তেমন ঘৃণায় শরীর কাঁপে। উদ্যান ওর সামনে এসে দাঁড়ায়। উদ্যানকে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলেই বাঁধ সাধে সে। রাফসার হাত উপরে তুলে জিজ্ঞেস করল।”এই হাতটা কেন রেখেছিস? কেটে ফেললেই পারিস। কোনো কাজেই তো লাগে না। গিলিস তো অন্য ছেলের হাতে।”
“তো?”
উদ্যান শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল।”তুই এতো বেহায়া কেন? ছেলেদের সাথে সারাদিন চিপকে থাকিস। আচ্ছা,তোর কি লজ্জা শরমের বালায় নেই?
রাফসা অন্যদিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল।”না। আমি নির্লজ্জ,তাই লজ্জা নেই।”
“তুই না বললি, আমায় ভালোবাসিস?তাহলে ছেলেদের সাথে এমন চিপকে থাকিস কেন?”
উদ্যানের কথায় উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো রাফসা। তাচ্ছিল্যের স্বরে জিজ্ঞেস করল।”কবে বলেছি? আমার তো মনে পড়ছে না । আমি তো ভালোবাসি না।”
রাফসার এমন তুচ্ছতাচ্ছিল্য কথার চিবুক শক্ত হয়ে আসে উদ্যানের। রাফসার ধরে রাখা হাতটা জোরে চেপে ধরলো। দাঁত খেচিয়ে বলল।”দু’দিন পর পর তো নতুন ছেলে ধরিস। কয়টাকে মনে রাখবি?”
রাফসা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে।”তাতে কি?”
“শোন,,,
রাফসা ওর হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বলল। নট ইন্টারেস্ট।”
কথাটা বলেই গটগট পায়ে ছাদ থেকে নেমে যায়। উদ্যান জ্বলন্ত চোখে তাকিয়ে রইল। হাতের মুঠো শক্ত করে চেপে ধরে।
.
.
সোফার উপর বসে রয়েছে এক যুবক। সাদা পাঞ্জাবি পড়ে আছে। হাতে কালো ফিতের ঘড়ি। দৃষ্টি ছুরির মতো ধারালো। ঠোঁট কামড়ে কিছু ভাবছে। মুহূর্তে আবার হেসে উঠছে । চোখে গভীর কিছু খেলে যাচ্ছে। ঘরের দরজা ঠেলে প্রবেশ করে এক ছেলে। সোফায় বসা যুবকটি চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে বসে আছে। যেন কিছুর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ছেলেটি ডাকে।
“ভাই।”
ডাক শুনে চোখ মেলে তাকাল যুবকটি। সামনের ছেলেটি কে দেখে সোজা হয়ে গেল। ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো। চুলে হাত বুলাতে বুলাতে ঠান্ডা গলায় বলল।”খোঁজ পেয়েছিস?”
“হ্যাঁ ভাই। মেয়েটা…
যুবকটি ওর কথা থামিয়ে দিয়ে হুমকি দিয়ে বলল।”মেয়ে না। ভাবী বল।”
ছেলেটি মাথা নাড়িয়ে বলল।”জ্বী ভাই। ভাবীর নাম রাফসা। দশম শ্রেণীর ছাত্রী। ওনি, ফরাজী বাড়ির ছোট মেয়ে। রাজীব ফরাজীর মেয়ে।”
ফরাজী বাড়ির নাম শুনে বেশ চমকে উঠল যুবকটি। উচ্চ স্বরে হেসে উঠলো। ঘাড়ে হাত বুলিয়ে বলল।”ইন্টারেস্টিং। শএু বাড়ির মেয়ের প্রেমে পড়লাম। সবই দয়ালের খেলা।সে যেই হোক। আমার মন কেড়েছে। ওকে তো আমি, আমার করেই ছাড়বো।”
ছেলেটি চলে যায়। যুবকটি হেসে উঠলো।
“মিস রাফসা। তৈরি হতে থাকুন ধীরে ধীরে, ‘মিসেস আভিয়ান’ হবেন আপনি। আমার মায়াবী।”
.
.
অতিথিরা খেয়ে দেয়ে বিকেলেই চলে গেছে। এখন রাত নয়টা। উদ্যানের ফ্লাইট বারোটায়। এয়ারপোর্ট কাছে হওয়ার দরুন এতো দেরিতে বের হচ্ছে। সবাই বিদায় দিতে এসে দাঁড়ায়। সকলের চোখে পানি। রাহেলা ফরাজী ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। উদ্যান মাকে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দেয়। সবার থেকে বিদায় নিয়ে গাড়ির দরজা খুলে। উঠে বসার আগে কি মনে করে ঘাড় বাঁকিয়ে রাফসার বারান্দার পানে তাকালো। মৃদু জিরো লাইটেই আলোয় মুখটা অস্পষ্ট। রাফসা নিচে আসেনি। বাহানা দিয়ে । বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইল। উদ্যান কিছু সময় তাকিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। ধোঁয়া উড়িয়ে বেরিয়ে পড়ে গাড়িটা। গাড়িটা বিলীন হয়ে যেতেই রাফসান বুক কেঁপে উঠলো। কি যেন হারিয়ে ফেলেছে। ওর হ্নদয়টা নিয়ে যাচ্ছে লোকটা। না চাইতেও চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। রাতের অন্ধকার আকাশের পানে তাকিয়ে মৃদু হাসে। বিড়বিড় করে বলল।
“প্রেম ভোলা যায়। তবে, ভালোবাসা ভোলা যায় না। ভালোবাসা জন্ম নেওয়ার প্রথম ধাপ — মায়া। প্রেম ক্ষণস্থায়ী মোহ, তবে মায়া চিরস্থায়ী।”
চলবে…?
হাত কেঁপে কেঁপে উঠছে শীতে। চলেছেই না। দেরি এবং ছোট হওয়ার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। বানান ভুল হলে মেনশন করবেন।
প্রেয়সীর_অনুরাগ
লেখনিতে —#সাদিয়াজাহানসিমি
পর্ব_৫ (অংশবিশেষ)
রাফসা রাতের অন্ধকার আকাশের পানে তাকিয়ে মৃদু হাসে। বিড়বিড় করে বলল।
“প্রেম ভোলা যায়। তবে, ভালোবাসা ভোলা যায় না। ভালোবাসা জন্ম নেওয়ার প্রথম ধাপ — মায়া। প্রেম ক্ষণস্থায়ী মোহ, কিন্তু মায়া চিরস্থায়ী।”
বারান্দার গ্রিল ধরে রাফসা নিচে তাকিয়ে আছে। বাগানের লাইটের আলোয় ঝলমল করছে। সবার চোখে পানি। মুখ বিষন্নতায় ভরে উঠল। রাহেলা ফরাজী অনবরত কাঁদছেন। একমাত্র ছেলেকে আজ বিদায় দিয়েছে। সামনাসামনি নয়ন ভরে আর দেখবে না। আম্মু বলে ডাক দিবে না। রাফসার মা ওনাকে ধরে বাড়িতে ঢুকানোর চেষ্টা করছে। ডিগ্রী অর্জন করতে গিয়ে যে মায়ের কাছ থেকে দূরে সরে গেল। সবাইকে কাঁদিয়ে গেছে সে।একে একে সকলে বাড়ির ভেতরে চলে যায়। শুধু বারান্দায় দাড়িয়ে রইল একজন। কলিজা ফেটে কান্না আসছে।
ভালোবাসা এতো কষ্টের,আগে জানলে বোধহয় কেউ একতরফা ভালোবাসতো না। উদ্যানের গাড়ি যে রাস্তায় গিয়েছে, সেই পানেই স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রাফসা। বুকটা জ্বালা করছে। অনবরত ধুকপুক করছে হার্টবিট।লোকটাকে ওর ঘৃণা করা উচিত। তবে, ভালোবাসার মানুষকে ঘৃণা করা — মুখের কথা নয়।
নিশ্চুপ রাফসা এইবার শব্দ করে কেঁদে উঠলো। ওর দৌড়ে গিয়ে উদ্যানকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে। মুখ ফুটে চিৎকার বলতে ইচ্ছে করছে।
“তুমি আমায় ভালো না বাসো। কিন্তু, আমার থেকে দূরে যেও না। তুমি ভালো নাই বাসলে, তবে আমি ভালোবাসি তো। তুমি এতো পাষান পুরুষ কেনো হলে? অন্তত আমাকে ভালোবাসতে দাও। তোমায় আমি কখনো বলব না — আমায় একটুখানি ভালোবাসো। আমি একতরফা ভালোবেসে যাবো। কখনো কোনো দাবি করব না। আমি নীরবে ভালোবেসে দুমড়ে মুচড়ে শেষ হয়ে যাবো। কখনো ভালোবাসা ভিক্ষা চাইবো না। জানো পুরুষ মানুষ খুব পাষান। তোমার মতো উদ্যানরা আমার মতো রাফসাকে তিলে তিলে শেষ করে দেয়। ওরা মুখ ফুটে বলতে পারে না,ওদের ও কষ্ট হয়। বিশ্বাস কর— নারী ও কাঁদে। ওদের একটা সুপ্ত মন আছে। সেই সুপ্ত মন পুরুষরা ভেঙে চুরমার করে দেয়। নারীরাও মানুষ।
ওরাও তো মানুষ।তোমরা কেনো নারীকে এতো কষ্ট দাও
ভালো না বাসো, কিন্তু ওদের অপমান করো কেনো?
নারীর ভালোবাসা সবসময় নিরাপদ নয় — কিছু ভালোবাসা নারীকে বাঁচায় না, ধীরে ধীরে শেষ করে দেয়।
তুমি এতো হিংসুটে কেনো? ভালো তো বাসো না,চোখের সামনে দেখতাম — সেটাও তোমার সহ্য হলো না। তুমি অন্য কারো হয়ে গেলে আমি সহ্য করতে পারব না। তুমি বরং আমায় মেরে ফেলো — তারপর আমার লাশের উপর দিয়ে জীবনসঙ্গী আনতে যাবে। নারীর ধৈর্য্য শক্তি অনেক, তবে — ভালোবাসার মানুষ চোখের সামনে অন্য কারো হালাল পুরুষ হয়ে যাবে । সেটা সহ্য করার মতো ক্ষমতা, ধৈর্য্য শক্তি ওদের নেই।
পুরুষ তুমি নারীকে জীবন্ত লাশ বানিয়ে ছেড়ে দাও সমুদ্রের তলদেশে। একটা বার ফিরে তাকাও না।
উদ্যান ভাই তুমি ফিরে এসো। তোমাকে হারিয়ে বাঁচার মতো শক্তি আমার নেই।
রাফসা কাঁদতে কাঁদতে গ্ৰিল ধরে নিচে বসে পড়ে। হ্নদয়টা নিয়ে যে চলে গেল লোকটা। আমরা যে জিনিসটা কখনোই নিজের করে পাবো না। সেই জিনিসের প্রতিই আমাদের দুর্বলতা তৈরি হয়।
নারীর ভালোবাসার কোনো দাবি নেই, কোনো অধিকার নেই, তবুও সে ভালোবাসে। কারণ — নারীর একতরফা ভালোবাসা শুধু স্বার্থহীন। নারী পাওয়ার জন্য নয়, টিকে থাকার জন্য ভালোবাসে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক হলো, নারী কষ্ট পেয়েও অভিযোগ করে না।
হেঁচকি ওঠে গেছে। অনবরত বুক উঠানামা করছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এমন সময় দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে ঊষা। রুমে রাফসাকে না দেখে, বারান্দায় যায়। লাল রঙের জিরো লাইটের আলোয় রাফসার হাল বেহাল দেখে আটকে উঠলো। জলদি ওর কাছে গিয়ে, বসে । উৎকণ্ঠা হয়ে জিজ্ঞেস করল।
“এই রাফসা! কি হয়েছে? কাঁদছিস কেন? বল আমাকে।”
রাফসা নিরবে কাঁদছে। চোখ বেয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। রাফসাকে কথা বলতে না দেখে মৃদু গলায় বলল।”ভাইয়ার জন্য কাঁদছিস?”
কথাটা শুনতেই কান্নার বেগ বেড়ে গেল। ঊষার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাফসার চোখের পানিতে ঊষার বুকের জামাটা ভিজে গেছে। এইবার বোধহয় আগের তুলনায় দ্বিগুণ শব্দ করে কাঁদছে।রাফসা কাঁদতে কাঁদতে বলল।
“তোমার ভাই পাষাণ। আমার..আমার হ্নদয়টা নিয়ে গেছে। তোমার ভাইকে আমার হ্নদয়টা দিয়ে যেতে বলো না । নয়তো আমাকে একটু ভালোবাসতে বলো। উনি একেবারে শেষ করে দিয়েছে আমায়। ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়ে — উনি আমার হাতটা ছেড়ে দিল। পালিয়ে গেছে আমার থেকে। নিয়ে এসো না আপু। ওনাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না। এই,, এই দেখো আম,, আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।আমাকে পাগল বানিয়ে উনি পালিয়ে গেছে। তোমার ভাই খুন করে ফেলেছে আমায়। জীবন্ত লাশ বানিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে গিয়েছে। নি,,নিয়ে আসো না আপু। উনি যা বলবে, আমি তাই করবো। বাধ্য মেয়ের মত থাকবো। একটুও দুষ্টুমি করবো না।”
রাফসার এমন গভীর কথায় হতবাক হয়ে গেল ঊষা। ও বুঝতে পেরেছিল, রাফসা ওর ভাইকে ভালোবাসে। তবে এতোটা ভালোবাসে তা কখনো ভাবেনি। রাফসার কান্না দেখে পুনরায় চোখ ভিজে ওঠে ঊষার। ওর ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। রাফসাকে সামলাতে হবে। ওর পিঠে হাত বুলিয়ে শান্তনা দিয়ে বলল।”কাঁদিস না পাগলী। এভাবে ভেঙে পড়িস না প্লিজ। ভাইয়া খুব দ্রুত ফিরে আসবে। তখন তোদের বিয়ে হবে দেখিস ।”
রাফসা নিজেকে সামলায়। ঊষা কে ছেড়ে দেয়। চোখে পানি নিয়ে হেসে বলল।”তোমার ভাইকে আমি পাবো না কখনো। সে যে অনেক দামি। আমার মতো মেয়ে সে ডির্জাভ করে না।”
“আচ্ছা। দেখিস, ভাইয়া তোকে ভালবাসবে। মিলিয়ে নিস।”
রাফসা উঠে দাঁড়ায়। গ্ৰিলের পানে ফিরে শূন্য আকাশের দিকে তাকায়। ভাঙ্গা কন্ঠে বলল।”তোমার ভাই খুব দামী। তাকে আমি পাবো কিভাবে? তাকে চাওয়া মানে, চাঁদ চাওয়া। তোমার ভাই চাঁদের চেয়েও বেশি দামী। চাইলে চাঁদ দেখতে পারবো, তোমার ভাইকে আর চাইতে পারবো না। “
ঊষা উঠে রাফসার কাঁধে হাত রেখে বলল।”শক্ত হো। আল্লাহ চাইলে, দুনিয়ার কোনো শক্তি — তোদের এক হওয়া আটকাতে পারবে না।”
রাফসা কিছু বলে না। এক ধ্যানে রাতের তারা বিহীন আঁকাশের পানে তাকিয়ে রইল। উষা ওর হাত ধরে টেনে ঘরে নিয়ে যেতে যেতে বলল।” আর ভাবতে হবে না। এখন থেকে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যা। ডাক্তারের বউ, ফেল্টুস হলে ভাইয়া মেরে তোর হাড়গোড় ভেঙ্গে দিবে।”
রাফসা মৃদু হাসে ওর কথায়। ওয়াশরুম ফ্রেশ হতে যায়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে তাচ্ছিল্যে হাসে। টেপ ছেড়ে মুখে পানি দেয়। সেই পানিতে হয়তো চোখের পানি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। তবে পানির আড়ালে তা দেখা যায়নি। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসে ঊষাকে বসে থাকতে দেখে । মৃদু গলায় বলল।
“ঘুমাচ্ছো না কেন? ঘুমিয়ে পড়ো। রাত কম হলো না।”
ঊষা ওর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এই ছোট্ট মেয়েটার মনে এতো কষ্ট বুঝতেই পারেনি। চোখ মুখ লাল হয়ে আছে। ফুলে উঠেছে চোখজোড়া। ঠোঁটজোড়া এখনো তিরতির করে কাঁপছে। বোধহয় কান্না আটকানোর চেষ্টা করছে।
“আজ আমি তোর সাথে শুবো। কোথাও যাচ্ছি না। শুয়ে পড় আমার পাশে।”
রাফসা হাসে। জানে, কেনো থাকতে চাইছে। ঘরের লাইট অফ করে জিরো লাইট জ্বালিয়ে দেয়। ঊষা শুয়ে পড়েছে। রাফসা ওর পাশে শুয়ে পড়ল। ঊষা ওর মাথাটা বুকে তুলে নেয় হাত বাড়িয়ে। চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল ধীরে ধীরে। রাফসার চোখ ভিজে উঠল পুনরায়। ঊষা বুঝতে পেরে চেপে জড়িয়ে ধরে। এইবার আর বাঁধা দেয়নি কাঁদতে। কাঁদলে মন হালকা হবে। ঊষার আস্কারায় এইবার জোরে কেঁদে উঠে আবার। তিন রাত অঘুমা থাকায়, শরীরটা ছেড়ে দেয়। নিস্তেজ হয়ে গেল। কিন্তু কানে বাতাসের সাথে যে বাজছে।
রাতে চান্দের আলো ঝরে বন্ধু তোমারও ঘরে….
হায় আলো যে জ্বলে না, আমি একলা আন্ধারে..
বন্ধু বিব্রতি দে না, আমি খুঁজি তোমারে,
তুমি কোথায় আছো, কোথায় দেইখা যাও আমারে…
জিরো লাইটের আলো জ্বলছে শুধু। ঘরে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। এই নিস্তব্ধতার মাঝেও, যেন কান্নার আর্তনাদ বারি খাচ্ছে।
.
.
.
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর — শহরের কোন ঘেঁষে থাকা এক ব্যস্ত দরজা।যেখান দিয়ে প্রতিদিন কিছু গল্প উড়ে যায়, কিছু গল্প নেমে আসে।
টার্মিনালের ভেতরের ঘোষণার শব্দ ভেসে আসে। ফ্লাইট নাম্বার, বোর্ডিং কল। উদ্যান প্লেনে উঠে বসে। জানালার বাইরে তাকিয়ে ব্যস্ত রাস্তা দেখায় ব্যস্ত। যাএীদের ব্যাগ উঠানামা করছে শ্রমিকরা। শান্ত চোখের চাহনি। ফ্লাইট উড়াল দিতেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে। বুক ছিঁড়ে যাচ্ছে। পরিবার পরিজন রেখে এতোটা দূরে। সবার মুখটা সামনে ভেসে উঠল। বোঝা যাচ্ছে না অভিব্যক্তি। চিবুক শক্ত করে বসে রইল। আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে থাকে রাফসার শখের পুরুষ।
রাফসা ঘুমিয়ে কাঁদা। সকাল দশটা বেজে গেছে। বাইরে থেকে দরজা ঠেলার শব্দ আসছে। এতে ঘুম ভেঙ্গে যায় রাফসার। ঊষা এখনো ঘুমে। ওর কোনো হুঁশ নেই। রাফসা উঠে বসে। তখনও দরজায় কেউ করাঘাত করছে। জীর্ণ শরীরটা নিয়ে বিছানা ছাড়ল। হেলতে দুলতে দরজা দরজা খুলে দিল। ভাইকে দেখে বেশ অবাক হয়। রিশান বোনের চেহারার পানে তাকিয়ে রইল। ঠান্ডা গলায় বলল।
“রাতে খাসনি। অনেক বেলা হয়েছে। ফ্রেশ হয়ে নে। নাস্তা নিয়ে আসছি।”
রাফসা বাধ্য মেয়ের মত মাথা নাড়ালো। রিলান দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে যায়।
চলবে..?
আর বড় করা সম্ভব নয়। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। কাল বড় করে দেওয়ার চেষ্টা করব।
রাফসার আর্তনাদ গুলো হয়তো কিছু মানুষকে কাঁদিয়ে ছাড়বে।😌
Share On:
TAGS: প্রেয়সীর অনুরাগ, সাদিয়া জাহান সিমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৮
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১
-
প্রেয়সীর অনুরাগ গল্পের লিংক
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৭(প্রথমাংশ + দ্বিতীয়াংশ)
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১০
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৪
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৬
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ২
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৯