Golpo romantic golpo প্রেয়সীর অনুরাগ

প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১৫


প্রেয়সীর_অনুরাগ

লেখনিতে —#সাদিয়াজাহানসিমি

পর্ব_১৫

( কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ❌ আর যদি করেন আপনি কাউয়া কাদের 😵‍💫 সাবধান!)

সবাই এসে গাড়ির সামনে দাঁড়ালো। রাফসা ওদের থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। মাহিন বাইকে উঠে বসলো। রাফসা এসে দাঁড়াতেই মাহিন বাইক স্টার্ট দিয়ে বলল, “আয়, হ্যালমেট পড়িয়ে দিচ্ছি।”

“ওফ! মাহিন ভাই, আমি তখন তো বললামই পড়বো না। হিজাব কুঁচকে যাবে এটা পড়লে।”

সবাই ততক্ষনে গাড়িতে উঠে বসেছে। উদ্যান ডাইভিং করবে। পেছনে জায়িন,জারা,ঊষা বসেছে। রোহান বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। ফোনে কাউর সাথে মেসেজ করছে। হাত চলছে স্কিনে অনবরত। ঊষা গাড়ির ভেতর থেকে রাসভারী কন্ঠে বলে, “রাফসা, আমরা একসাথে যাবো। তুই চলে আয়। মাহিন ভাইয়ের সাথে যাওয়া লাগবে না।”

জারা তাল মিলিয়ে বলে, “হ্যাঁ আপু। চলে আসো , আমরা অনেক মজা করব।”

“রাফসা তো বললই, আমার সাথে যাবে। তোরা চলে যা। আমরা আসছি।”

মাহিনের কথায় রোহান ফোন হতে চোখ তুলে তাকাল। উদ্যান সামনের দিকে স্টিয়ারিংয়ে হাত চেপে শক্ত চোখে তাকিয়ে রইল। রাফসা বাইকে উঠতেই নিবে,রোহান তড়িঘড়ি করে এগিয়ে এলো। “রাফসা,তুই গাড়ি করে যা। অনেকদিন হয় বাইকে ঘুরি না। আমি মাহিনের সাথে আসছি।”

“তুমি যাবে? আচ্ছা,যাও। আমি গাড়িতেই গেলাম।”

রাফসা গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াল। জায়িন ব্যাকসিট থেকে নেমে ফ্রন্ট সিটে গিয়ে বসে। রোহানও গিয়ে মাহিনের সাথে বসে পড়ল।মাহিন অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। বেচারা ভেবেছিল কি, আর হচ্ছে কি! রাফসাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে উদ্যান শক্ত কন্ঠে ধমকে বলে, “এখানে অযথা সময় নষ্ট করছে কেন? ঊষা ওকে উঠে বসতে‌ বল। নয়তো ফেলে চলে যাবো এখন।”

উদ্যানের কথায় রাফসা কটমট করে তাকালো। এই‌ লোকের কথা শুনলে গা জ্বলে ওঠে।
“আপু, চলে যাও। আমি যাবো না। বাসায় গিয়ে ঘুমাবো। ভালো লাগছে না।”

মুহূর্তেই উদ্যানের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। বড় বড় কয়েকটি নিঃশ্বাস ফেলে ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা করছে নিজেকে।রোহান বাইক থেকে নেমে আসে।
“রাফসা, এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি উঠ। আর ঝামেলা করিস না।”

রাফসা শক্ত কন্ঠে জবাব দেয়, “আমি মোটেই ঝামেলা করছি না মেজো ভাইয়া। তোমরা চলে যাও। আমি যাবো না।”

“কেউ পায়ে ধরছে না যাওয়ার জন্য। না গেলে নেই।”

উদ্যানের কথায় রাফসা চোখ বুঝল। নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। ঊষা ভাইয়ের পানে চেয়ে বলল, “ভাইয়া এমন করছো কেন? ও ছোট মানুষ। তুমি জেদ ধরলে হবে?”

“তুই চুপ কর , সোনামনির চামুচ। ওর হয়ে কেউ সাফায় গাইলে,চড়িয়ে দাঁত ফেলে দেবো।”

নিমিষেই মুখটা চুপসে গেল ঊষার। রাফসা উল্টো ঘুরে যেতে নিলেই রোহান হাত চেপে ধরে। “রাফসা, দেখ ছেলেমানুষী করিস না। উদ্যানের মাথা কোনো এক কারণে খারাপ হয়ে আছে। এখন তুই আর বিগড়ে দিস না। ফুফু অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।চল, বনু। রাগ করিস না প্লিজ।”

“আমি যাবো না,মানে যাবো না। ওই লোকের মাথা কি সারাজীবন খারাপ থাকে নাকি? প্লিজ জোর করো না আমায়। আমি যাচ্ছি না।”

রোহান যেন এবার অসহায় হয়ে পড়ল। এই দুইজনকে নিয়ে পাগল হয়ে যাবে বোধহয়। উদ্যান রাগে গজগজ করতে করতে জোরে স্টিয়ারিংয়ে ঘুষি মেরে বসে।
“এসব ফা*কিং ড্রামা চলতে থাকুক। সময় হলে সুদে আসলে ফিরিয়ে দেবো। মাইন্ড ইট!”

কথাটা বলে আর এক মুহূর্ত দেরি করেনি। মুহূর্তেই ধোঁয়া উড়িয়ে বেরিয়ে গেল উদ্যানের গাড়িটা। রোহান অসহায় হয়ে সেদিকে তাকিয়ে দেখলো। রাফসাও আর দাঁড়ায়নি। ধুপধাপ পা ফেলে চলে যায় বাড়ির দিকে । রোহান মাহিন পেছন থেকে বারবার করে ডাকলেও ফিরেনি। বাধ্য হয়ে চলে যায়।


শব্দ করে ঘরের দরজা খোলে ভেতরে ঢুকে রাফসা ।নিচে মা চাচীরা রান্না ঘরে ছিল বিধায়, ওকে দেখেনি। তাই কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়নি। বিছানায় বসে রাফসা রাগে গজগজ করছে। হাত বাড়িয়ে হিজাব পিনগুলো খুলতে খুলতে কটমট করে বলে, “শালা জাউরা, দেখিস তোর বউ উঠতে বসতে তোকে ঝাড়ু পিঠা করবে! যদি না করে আমার নাম রাফসা নয়।”

গা থেকে বোরকা হিজাব ছাড়িয়ে ওয়াশরুমে গেল। মিনিট দশেক পরে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসে। ভেজা মুখ মুছতে মুছতে রাফসার ফোনটা শব্দ করে বেজে উঠলো। রাফসা ভাবলো হয়তো ঊষা বা রোহান ফোন করছে । তাই রাগে ফোনটা আর রিসিভ করেনি।ফোনটা বাজতে বাজতে কেটে গেল। পুনরায় ঘর কাঁপিয়ে ফোন বেজে উঠলো। রাফসা একপ্রকার বিরক্ত হয়ে ফোনটা হাতে তুলে দেখে আশরাফুল কল করেছে। বিরক্তির ভাজ মুহূর্তেই চলে গেল ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটে ওঠে ওরা একে অপরের জান দেখলে হয়তো লোকজন বলবে আপন ভাই বোন। আজ যেহেতু আশরাফুল সাকারুল কোচিংয়ে আসেনি কথা হয়নি দেখাও হয়নি। ফোনটা রিসিভ করে বলল, “এই হারামজাদা, কোথায় ছিলি! কোচিংয়ে আসলি না কেন আজ?”

“আর বলিস না। ফুটবল খেলা ছিল আজ। জিতে গেছি সাদি! একটা কাজ কর!’

রাফসা ভ্রু কুঁচকে বলে , “হ্যাঁ বল, কি কাজ!”

ওপাশ থেকে আশরাফুল বলে, “তুই কোথায় আছিস এখন?”

“কেন, জেনে কি করবি?”

“আরে বলনা,কোথায় আছিস? দরকার আছে!”

“বাসায় আছি ।আর কোথায় থাকবো! এবার বল কেন?”

“শোন অলংকার একটা নতুন রেস্টুরেন্ট খুলেছে। চল, গিয়ে ভরপুর কব্জি ডুবিয়ে খেয়ে আসি।”

রাফসা ভাবল বসে থেকে কি বা করবে ঘরে। আজ জিনিয়া আপুর প্রাইভেট নেই। পড়তেও ইচ্ছে করছে না। উদ্যানের ওই ব্যবহার মনে পড়লে মাথা বিগড়ে যাচ্ছে ওর।রাফসাকে কিছু বলতে না দেখে আশরাফুল পুনরায় ওপাশ থেকে বলে উঠলো, “কিরে, যাবিনা? চল, হাতে টাকা আছে আজ।”

আশরাফুলের কথায় রাফসা নড়েচড়ে উঠলো। নখ কামড়ে বলে, “শালা আর একটু আগে কল দিতে পারলি না! আমি মাত্র বোরকা খুলে ফ্রেশ হয়েছি। তুই তো জানিসই, বোরকা পরা আমার জন্য কত একটা ভেজাল লাগে! এই ভেজালে কোন দিকে যেতে ইচ্ছা করে না।”

“আচ্ছা, বোরকা পরিস না। কিছু একটা পড়ে চলে আয় না।হাতের টাইম কম!”

“আচ্ছা, আসছি। কিন্তু সায়মা সাবিকুন, ওরা যাবে না?”

“আরে টেনশন করিস না।ওই শালীদের ম্যানেজ করতে টাইম লাগবে জানতাম। তাই আগে ওদের ম্যানেজ করে নিয়েছি। ওরা বোধহয় রেডি হয়ে গেছে। তুই এখন জলদি রেডি হয়ে আয়।”

রাসফসা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো। কোথাও যাওয়ার সময় সাবিকুন সায়মার বিপত্তি বাজে।রাফসা আচ্ছা বলে ফোন কেটে দিল। একটা কফি কালার ড্রেস বের করে পড়ে নিল। হাঁটু অব্দি গিয়ে ঠেকে তা। সাথে কফি কালার প্লাজু। লম্বা চুলগুলো আঁচড়িয়ে ক্লিপ দিয়ে বেঁধে নিল। আলমারি খুলে সবগুলো হিজাব বের করে আনে। বুঝতে পারছে না কোন কালারটা মিলিয়ে পড়বে। তাই একপ্রকার বিরক্ত হয়ে কালো হিজাব দিয়ে কাজ সারিয়ে নিল । মুখে মাক্স পড়ে নেয় সাথে ফোন এবং হ্যান্ডব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।

রাফসা সিঁড়ি বেয়ে নিচে আসতেই ওকে দেখে রোহানের মা চমকে উঠে, “এ কি মা! তুই যাসনি, তুই উপর থেকে আসলি কেন?”

বড় জায়ের কথায় দুজন চোখ ঘুরিয়ে পেছনে তাকালো।উনারা বসে চা খাচ্ছে। বাড়িতে এই তিনজনই আছে ।ওরা ফুফুর বাসায় গিয়েছে বিধায় ঘরটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। কর্তারা বাড়িতে নেই।
হুমাইরা ফরাজী হতভম্ব হয়ে শুধায়, “তুই যাস নি? তোর জন্য ওরা রেডি হয়ে কতক্ষণ বসে ছিল। দেখলাম তো বেরিয়েছিলি এক সাথে।”

“এমনিই যাইনি আম্মু। ভালো লাগছেনা তাই।”

“ওরা সেই কখন চলে যেতে চেয়েছিল। রিশান অফিস থেকে তোর ফুফুর বাড়ীতে যাবে। তখন তোকে নিয়ে যেতে পারবে বলে, সবাই নাচানাচি করেছিল। উদ্যান ওদের ধমকে রেখেছিল। তুই আসলে তবেই যাবে।আর এখন দেখি তুই বাড়িতে!”

এহেন কথায় ভ্রু কুঁচকে যায় রাফসার। উদ্যান আঁটকে রেখেছিল ওদের । মুহূর্তেই ভাবে এই লোক অপমান করার জন্যই ছিল।

“গেলিই না যখন। তো,এখন কোথায় যাচ্ছিস?”

উদ্যানের মায়ের কথায় রাফসা চোখ ঘুরিয়ে তাকায়।
“একটু বাইরে যাচ্ছি মেজো আম্মু। আমার ফ্রেন্ডরা রেস্টুরেন্টে যাচ্ছে সবাই। ফোন দিয়ে বলল যেতেই হবে। তাই ওখানে যাওয়ার জন্যই বের হচ্ছি।”

“আচ্ছা যা। দেরি করিস না।”

রাফসা বিদায় নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।

পেইজ লিংক
https://www.facebook.com/share/1CEErx6SAX/


রাস্তায় বিভিন্ন গাড়ি আসা যাওয়া করছে। চাকুরিজীবী মানুষের ঢল নেমেছে। রেস্টুরেন্টের পাশেই বড় শপিং মল। বলতে গেলে নিচ তলায় রেস্টুরেন্ট। উপরে শপিং মল অবস্থান করছে। রেস্টুরেন্টে মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। কেউ কেউ শপিং শেষ করে রেস্টুরেন্টে ঢুকছে। কেউবা বন্ধ বান্ধবী নিয়ে আসছে। এক কোণে টেবিলে একজোড়া ছেলে মেয়ে বসা। টেবিলের উপর টকটকে লাল গোলাপ রাখা। তারপাশেই এক বক্স চকলেট রাখা। ছেলেটা মেয়েটাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিচ্ছে। মেয়েটা অনবরত এটা সেটা বলছে আর খাচ্ছে। ছেলেটিও হাসি মুখে তা শুনছে। আর মাথা নাড়িয়ে সায় দিচ্ছে।

ওরা গিয়ে বসল। সবার চোখ ওই কপোত কপোতীর পানে নিবদ্ধ। আশরাফুল খোঁচা মেরে বলল, “দেখ শালি, কি পিরিতি করছে ওরা। আর আমরা, ছ্যাহ! জিন্দিগি বরবাদ।”

“রোজ ডে উপলক্ষে গোলাপ তো দূরের কথা, একটা গোলাপের পাতাও পেলাম না। আর চকলেট ডে? চকলেট তো বিলাসীতা, চকলেটের পকেট পর্যন্ত কপালে জুটে নি।”

সায়মার কথায় ওরা চারজন হো হো করে হেসে উঠলো। কাচ্চি বিরিয়ানি খেয়ে সবাই বেরিয়ে আসে। ওরা চকলেট খাওয়ার জন্য পাগল করে ফেলেছিল, তাই সাতারুল আশরাফুল ওদের জন্য চকলেট আনতে চলে যায়। হঠাৎ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। ছেলেরা চেঁচামেচি করতে করতে ছুটছে। হয়তো কোনো সংঘর্ষ হচ্ছে। ওরা রাস্তার কিনারায় দাড়িয়ে ছিল। সাধারণ জনগণ ছুটছে। ইট ছুড়াছুড়ি করছে। ওরা পরিস্থিতি দেখে জায়গা থেকে নড়তে বেমালুম ভুলে বসেছে।হঠাৎ করে একটা ছোট পাথর এসে রাফসার মাথায় লাগে। সজোরে চেঁচিয়ে উঠলো রাফসা। বেশি ব্যাথা না পেলেও মোটামুটি পেয়েছে।রাফসাকে এক ছেলে দেখে চেঁচিয়ে উঠলো, “ভাই, ভাবী এখানে।”

আভিয়ানকে ঘিরে ধরে রেখেছিল কয়েকজন ছেলেপেলে। সেখান থেকেই এক ছেলে মেয়েলি আওয়াজ শুনে পিছন ফিরে রাফসাকে দেখে নিমিষেই চিনে ফেলে।ছেলেটার কথা শুনে আভিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলে, “কি বললি?”

“ভাই,ওই যে ভাবী। আমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে।”
আভিয়ান ঘাড় উঁচু করে দেখল। রাফসার মুখে এখন মাস্ক নেই। ভিড় কাটিয়ে আভিয়ান এগিয়ে আসে।

“অ্যাই আবাল,অ্যাই! কোন গজব পাথর মেরেছে আমায়? পেলে একদম মাথার চুল ছিঁড়ে হাতে ধরিয়ে দেবো।” লেখক – সাদিয়া জাহান সিমি

“কি হয়েছে? পাথর লেগেছে কোথায়? ব্যাথা পেয়েছো?”

আভিয়ানকে দেখে নিমিষেই চিনে ফেলে রাফসা। কটমট করে বলে, “পাথর এসে পড়েছে গায়ে। এইসব আবালদের জুলাই হত্যা মামলায় জেলে ঢুকিয়ে দেয় না কেনো? “

আভিয়ান চোখ গরম করে তাকালো পেছনে। ওদের পরে দেখে নিবে। ওর মায়াবীর শরীরে আঘাত করেছে। উদ্বিগ্ন হয়ে বলল, “চলো ডাক্তারের কাছে। এক্ষুনি নিয়ে যাই।”

“আহ,এতো ব্যস্ত হবেন না বড় ভাই। সামান্য লেগেছে।”

আভিয়ান স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এই মেয়ে আর কি ডাকবে! ওর তো এখন নিজের মাথায় নিজেই বারি মারতে ইচ্ছা করছে।

চলবে…?

বড় করে দেবো বলেও দিতে পারলাম না। সর্দি জ্বর লেগে আছে। আগামীকাল গল্প আসবে। আজ এইটুকু পড়ে নিন। আর ভালো নাও লাগতে পারে। কি লিখিছি,নিজেও জানি না। সরি!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply