প্রেয়সীর_অনুরাগ
লেখনিতে —#সাদিয়াজাহানসিমি
পর্ববোনাসপার্ট
রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে উদ্যান রাফসার পানে। রাফসা নিজেও জ্বলন্ত চোখে তাকিয়ে আছে। উদ্যানের হাত এখনো রাফসার চিবুক শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে। দাঁত বোধহয় এবার ভেঙ্গেই যাবে রাফসার। দুহাত দিয়ে উদ্যানের বুকে ধাক্কা মেরে চেঁচিয়ে উঠলো, “সমস্যা কি আপনার, হ্যাঁ? মানুষ মনে হয় না আমাকে? খারাপ বিহেভিয়ার করার জন্য আমাকেই চোখে পড়ে আপনার? দূরে থাকতে বলেছি না আমার থেকে? হাত ধুয়ে আমার পেছনেই কেন পড়ে আছেন?”
রাফসার কথায় উদ্যানের কপালের রগ টান টান হয়ে উঠলো।অপর হাতটা গিয়ে রাফসার কোমরে ঠেকায়।রাফসাকে টেনে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে। হিসহিসিয়ে বলল, “দূরে থাকতে বলছিস কোন সাহসে? অবাধ্য হবি,মেরে পুঁতে ফেলবো। অবাধ্যতা আমার একদম পছন্দ নয় । চওড়া গলায় কথা বলবি না একদম।”
রাফসা ছাড়া পাওয়ার জন্য অনবরত ছটফট করছে। দুইহাত দিয়ে সজোরে এলোমেলো আঘাত বসায় উদ্যানের গ্ৰীবায়।বাম হাতের নখগুলো কিছুটা বড় হওয়ায় তা দিয়েই উদ্যানের গ্ৰীবায় খামচে ধরলো রাফসা। উদ্যানের মুখ থেকে ভিন্ন নাম শুনে ভ্রু কুঁচকালো রাফসা। উদ্যানের গলায় ধরে রাখা হাত কিছুটা শিথিল হলো।চোখ মুখ শক্ত করে জিজ্ঞেস করে, ” আমি আপনার কোনো প্রেমিকা নাকি? ভুলে আমায় বললেন। হুঁশে আসুন মিস্টার রাওদ। আমি রাফসা, আপনার প্রেমিকা নই। আপনি কোন অধিকারে আমার গায়ে হাত দিয়েছেন? ছাড়ুন বলছি অসভ্য লোক।”
রাফসার চোখে পানি টলটল করছে। দাঁতের ব্যথায় ককিয়ে উঠলো মেয়েটা। উদ্যান আখিযুগলের পানে তাকিয়ে হাতটা সরিয়ে আনলো। তবে তা গিয়ে ঠেকলো আঘাত প্রাপ্ত গালে। উদ্যানের বুড়ো খসখসে আঙুল দিয়ে সেখানটায় হালকা ঘেঁষে হাস্কিস্বরে বলে, “তুই আমার প্রেমিকা না, অন্যকিছু।আর কোন অধিকারে হাত দিয়েছি,সেটা তুই খুব ভালো করেই জানিস।তাই না?”
উদ্যানের কথায় রাফসা কিছুটা থমকালো। উদ্যানের এই ব্যবহার সহ্য হচ্ছে না ওর। কি বলছে এই লোক! নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে পুনরায় উদ্যানের বুকে ধাক্কা মেরে মৃদু কন্ঠে চেঁচিয়ে বলল, “এতো পিরিত দেখাতে হবে না অসভ্য লোক। ছাড়ুন বলছি, দূরে থাকবেন আমার থেকে। আমার আশেপাশে থাকলে মেরে ঠ্যাং ভেঙ্গে দেবো।”
রাফসার কথায় ঠোঁট বাঁকিয়ে সূক্ষ্ম হাসে উদ্যান। ঘাড় কাত হয়ে ঠোঁট কামড়ে ভ্রু নাচিয়ে বলে, “ইশ্,ভয় পেলাম আমি অ্যাশের মাম্মাম! এভাবে ভয় দেখালে তো হার্টফেল হবে।পরে আমি অকালে মরে গেলে কি হবে?”
রাফসা অবাক হয় উদ্যানের এহেন কথায়। চোখ যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। দুহাত বাড়িয়ে কোমরে থাকা উদ্যানের হাতজোড়া সরানোর চেষ্টা করে। রাস্তায় এখন কিছু মানুষ যাতায়াত করছে। তাই বাধ্য হয়েই উদ্যান ছেড়ে দিল রাফসাকে। রাফসা উল্টো ঘুরে হাঁটা দিল। রাফসার পেছনে উদ্যান ধীর কদমে পা ফেলছে। রাফসা তা বুঝতে পেরে পেছনে ফিরে তাকালো। ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে, “আমার পেছনে কি ? দূরে থাকতে বলেছি না?”
রাফসার কথায় ভ্রু কুঁচকালো উদ্যান। দুই হাত পকেটে ঢুকিয়ে রসিকতা করে বলে, “এটা বুঝি আপনার কেনা রাস্তা? কেউ হাঁটতে পারবে না এখানে?”
“ফাজলামো করছেন আমার সাথে?”
উদ্যান সোজা হয়ে দাড়ালো। গম্ভীর কন্ঠে বলে, “তোর সাথে ফাজলামো করার সময় আমার নেই। দ্রুত হাঁট, বাসায় ফিরতে হবে।”
রাফসা ঘাড় ঘুরিয়ে আবার হাটা শুরু করে। উদ্যান নিজেও ওর পেছন পেছন আসছে।রাফসা দাঁতের ব্যথা সহ্য করতে পারছে না। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো এইবার। রাফসার ফুপানোর আওয়াজ শুনে তড়াক করে উদ্যান ঝড়ের বেগে হাজির হয় ওর সামনে। রাফসাকে কাঁদতে দেখে বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করে, “কি হয়েছে? কাঁদছিস কেন? বেশি জোরে লেগেছে?”
রাফসা উদ্যানের প্রশ্নের উত্তর দিল না। ফুঁপিয়ে কাঁদছে। এই লোকের সামনে কাঁদতে চাইছে না। তবে দাঁতের ব্যথায় নিজেকে সামলিয়ে রাখতে পারেনি।রফসাকে জবাব দিতে না দেখে পুনরায় জিজ্ঞেস করল উদ্যান। তবে ফলাফল এবারও শূন্য। হঠাৎ করে উদ্যানের মাথায় কিছু এলো। রাফসা আগে কান্না করলে সবাই এভাবেই ওকে থামাতো। ও নিজেও বহুবার রাফসাকে এইভাবে থামিয়েছে ।তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই শান্ত স্বরে বলল,
“আর মারবো না। চকলেট খাবি? চল বাচ্চা, অনেক গুলো চকলেট কিনে দেবো।তাও কাদিস না আন্ডা বাচ্চা! আমার পাখি!”
উদ্যানের কথায় মুহূর্তেই কান্না থেমে গেল রাফসার। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল উদ্যানের পানে। রাফসার কথাটা হজম হলো না যেন। উদ্যানের ঠোঁটে মুচকি হাসি ফুটে উঠল। মেয়েটা তাহলে এখনো কান্না করলে এভাবে বললেই হয়। রাস্তায় কান্না করাটা খারাপ দেখায়। উদ্যান তাই এই বলে কান্না থামিয়েছে। কিন্তু উদ্যানটে ঝাড়ি মেরে মুহূর্তেই গটগট পায়ে স্থান ত্যাগ করে রাফসা। উদ্যানের মুখের হাসি ধপ করে নিভে গেল। ঐ নিজেও পেছন থেকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল রাফসার চলার পথে।অবাক হলো বেশ। বিড়বিড় করে বলল, “এই বাচ্চা কবে এতো বড় হয়ে গেল? চকলেটের কথা শুনেও এভাবে ঝাড়ি মারলো!”
( পর্ব লিখতে নিয়েছি, হাত ব্যাথা+রক্ত বেরিয়ে গিয়েছে। তাই আর লিখতে পারিনি।একটা হাতে চারটা ভাই এগুলো। তাই ঘুরিয়ে বোনাস দিলাম। ধামাকা আর দিতে পারলাম না।)
Share On:
TAGS: প্রেয়সীর অনুরাগ, সাদিয়া জাহান সিমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৭(প্রথমাংশ + দ্বিতীয়াংশ)
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৫(প্রথমাংশ + শেষাংশ)
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১১
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১৩
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৩
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৮
-
প্রেয়সীর অনুরাগ গল্পের লিংক
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ১০
-
প্রেয়সীর অনুরাগ পর্ব ৯