প্রেমবসন্ত_২
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
৮.
নিশা শাড়ি পরা তেমন একটা পছন্দ করে না।কখনো সেইভাবে পরাও হয় না।তবে আজ মায়ের কথায় একখানা শাড়ি পরেছে সে।গাঢ় খয়েরী রঙের শাড়ি।কোমর সমান চুল গুলো খোঁপা করে সেখানে কাঁচা ফুলের গাজরা লাগিয়েছে।মেয়েটা বাড়ির বাইরে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে নিধির সাথে।বাড়ির প্রত্যেকে একে একে বের হচ্ছে।স্বার্থরা হাসি-তামাশা করতে করতে এগিয়ে আসছে বাড়ির গেটের নিকটে।হঠাৎ স্বার্থর চোখ আঁটকে গেল এক নারীর উপর।খয়েরী রঙের শাড়ি গায়ে জড়িয়ে নিজের সৌন্দর্য আরও দ্বিগুণ করেছে।স্বার্থ ঠোঁট কামড়ে হেসে দৃষ্টি সরিয়ে নিল।কাছে এগিয়ে গিয়ে ভ্রু কুঁচকে ওকে পর্যবেক্ষণ করে বলল,
“নেশা কী আজ সবাইকে নেশা লাগিয়ে দিবি?”
নিশা স্বার্থর কথা শুনে ছোট্ট করে জবাব দিলো,
“যদি তুমি নেশা করতে রাজী হও তাহলে আমি নেশা করাতে রাজী।”
“মানে?”
নিশা মুখ ভার করে অন্য দিকে ঘুরে দাঁড়াল।স্বার্থ বুঝল না মেয়েটা হঠাৎ রেগে গেল কীসের জন্য।সে আর একটু এগিয়ে এলো।নিধি ওদের থেকে দুরত্ব রেখে দাঁড়াল।স্বার্থ নিশার কানের কাছে হালকা ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল,
“রাগ করেছিস?”
“হুম!”
“কেন?”
“জানি না।”
“আমার দোষে?”
“বুঝোই যখন,তখন জিজ্ঞেস করো কেন?”
“আমার দোষ’টা কী?”
নিশা ঘুরে দাঁড়াল।ঘাড় উঁচিয়ে স্বার্থর চোখে চোখ রেখে আবার নামিয়ে নিল।হাতের চুড়িতে ঝনঝন শব্দ করে আবার আড়চোখে স্বার্থর দিকে তাকায়।হালকা স্বরে বলে,
“তুমি বড্ড বোকা।”
স্বার্থ ঠোঁট কামড়ে আড়ালে হাসে।বোকা যে এই মেয়ে।কিচ্ছুটি বোঝে না।দূরে সদর দরজা দিয়ে আদি দৌঁড়ে এলো সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা গায়ে জড়িয়ে।মূলত সে সব সময় অর্ণকে কপি করে চলবে।অর্ণ সাদা পাঞ্জাবি ব্যতীত অন্য রঙের পাঞ্জাবি পরিধান করে না বলে সে নিজেও সব সময় কান্না কাটি করে সাদা রঙের জামা কাপড় কেনে।আদি দৌঁড়ে এসে শেহেরের কোলে উঠে এলো।এত বড় বাচ্চাটা কোলে উঠেছে ভাবা যায়?শেহের চোখের চশমা ঠিক করে গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“দুষ্টুমি করছিস আবার?”
আদি ঘনঘন মাথা নাড়িয়ে বলল,
“তুমি যে কী বলো না?আমি কী দুষ্টু?আমি তো গুড বয়।”
শেহের ওকে নামিয়ে দিয়ে তার ছোট হাত আঁকড়ে ধরলো।নুসরাত আসছে মায়ের সাথে।মেয়েটাকে সেই আগের মতোই বাচ্চা লাগে শেহেরের কাছে।সেই কিশোরী রাতপাখির মতো আজও বাচ্চা বাচ্চা লাগে।নুসরাত এগিয়ে এসে শেহেরের পাশে দাঁড়াল।শেহের মৃদু হেসে বলল,
“আজ তোমায় ভীষণ সুন্দর লাগছে,রাতপাখি।”
নুসরাত মুচকি হাসল।
“শুকরিয়া।তোমাকেও কিন্তু ভীষণ সুন্দর লাগছে।”
“সুন্দর আর আছি কই?বুড়ো হয়ে যাচ্ছি তো।”
আদি নীচ থেকে মাথা উঁচু করে মা আর শেহেরকে দেখে বলল,
“তোমরা দু’জনেই তো বুড়ো-বুড়ি।চলো তোমাদের বিয়ে করিয়ে দেই।”
নুসরাত বিস্মিত চোখে ছেলের দিকে তাকাল।রেগে দাঁত চেপে বলল,
“এসব কেমন কথা আদি?বেয়াদব হচ্ছো দিন দিন?”
আদি মুখ বাঁকিয়ে শেহেরের কোমর জড়িয়ে ধরে নিভু গলায় বলল,
“বিয়েটা করে ফেলো মা।শেহের ভাই কিন্তু গুড বয়।”
শেহের ঠোঁট কামড়ে মা ছেলের কাণ্ড দেখছে।পাশ থেকে স্বার্থ নিচু হয়ে আদির কানে কানে ফিসফিস করে বলল,
“শেহেরকে আব্বা বলে ডাক আদি।”
আদি তাই করল।শেহেরের খড়খড়ে হাতে নিজের ছোট হাত ঢুকিয়ে মায়ের দিকে মাথা উঁচিয়ে বলল,
“বাবাকে বিয়ে করে ফেলো মা।”
নুসরাত ধমক দিয়ে বলল,
“সে তোমার মামা হয় আদি।দুষ্টুমি করছো কেন?”
আদি ভীষণ বিরক্ত হলো।শেহেরের হাত টেনে ধরে বলল,
“শেহের ভাই,আমার মাকে বিয়ে করবে তুমি?তাহলে তোমাকে আমি বাবা বলে ডাকব।”
শেহেরের মায়া হলো খুব।সে শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে নুসরাতের বিব্রতকর মুখখানা দেখে কথা এড়িয়ে গিয়ে বলল,
“সবাই কোথায়?অনেকটা দেরি হয়ে গেল তো।”
সবাই রওনা হলো কিছুক্ষণ পর।গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে।চৌধুরী বাড়ির কেউ’ই পার্সোনাল গাড়ি ব্যবহার করেন না।যার জন্য গাড়ি ভাড়া করতে হয়েছে।প্রেম আর নিধি পাশাপাশি বসেছে।মেয়েটা সাধারণ জামা কাপড় পড়ে মাথায় হিজাব বেঁধেছে।প্রেম ভ্রু কুঁচকে নিধির কানে কানে বলল,
“কিরে রঙিলা,আজ সাজলি না কেন?”
নিধি বলল,
“আমায় কবে সাজতে দেখেছেন?”
“তাই বলে আজও পেত্নী সেজে থাকবি?”
“ভালোলাগে না।”
প্রেম মুখ কুঁচকে বলল,
“নিশুকে দেখ,বজ্জাত কী সেজেছে।”
নিশা ওদের অন্যপাশে স্বার্থর সাথে বসেছিল।প্রেমের খোঁচা মারা দেখে ঠোঁট চেপে ধরল।প্রেম আতঙ্কে নিজের কান চেপে ধরে বলল,
“মাফ কর নিশু।আর কোনোদিনও কিছু বলব না।তবু চিৎকার করিস না।”
স্বার্থ ছোট্ট নিশার মাথায় বাম হাত রাখল।মাথা ঝুঁকিয়ে তার দিকে ফিরে বলল,
“ওর কথায় কাঁদছিস কেন?আমি বলেছি না,তোকে সুন্দর লাগছে?”
মূলত নিশার মনটা খারাপ।সাজার পর স্বার্থ তাকে দেখার পর একবারও প্রশংসা করেনি।এখন ভাইয়ের কথা তার খারাপ লেগেছে বলে স্বার্থ তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে।নিশা একটা কথাও বলল না।হাত বাড়িয়ে মাথা থেকে স্বার্থর হাত সরিয়ে বাইরে তাকাল।স্বার্থ কিছু বলল না।মেয়ের বাড়ি পৌঁছে ওরা সবাই গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াল।অর্ণ ফোনে কারোর সাথে কথা বলছিল।বাড়ি ভর্তি মানুষ গিজগিজ করছে।চৌধুরী বাড়ির সবাইকে কায়নাত হারিয়ে ফেলেছে।সে আতঙ্ক ভরা চোখে সাদা পাঞ্জাবি পরা অর্ণকে দেখে একপ্রকার দৌঁড়ে এলো।অর্ণর পাঞ্জাবির হাতা টেনে ধরে বলল,
“শুনুন না?”
অর্ণ ফোন কানে চেপে পাশে মাথা নত করে তাকায়।কায়নাত বলে,
“বাড়ির কাউকে তো খুঁজে পাচ্ছি না।”
অর্ণ গম্ভীর মুখে ফোনে কিছু একটা বলে কল কেটে দিলো।
“তো আমি কী করব?”
কায়নাত বলল,
“আমায় দিয়ে আসুন তাদের কাছে।”
“এইটুকু জায়গার মধ্যে তাদের খুঁজে পাচ্ছেন না?”
কায়নাত আসলে জানে,সে ভেতরে গেলেই সবাইকে খুঁজে পাবে।কিন্তু উঠোনে যে একগাদা ব্যাটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে,সেখানে কোনো মহিলা মানুষ নেই।কায়নাত আর একটু কাছে এগিয়ে এসে মিনমিন করে বলল,
“আমি না আপনার বউ?দিয়ে আসুন না?ওই উঠোনে তাকিয়ে দেখুন—সব পুরুষ মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।আমি তাদের সামনে দিয়ে যাই কী করে?”
অর্ণ কপাল কুঁচকে বাড়ির বিশাল বড় উঠোনে তাকাল।সত্যি’ই সব পুরুষ মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন।খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা উঠোনেই করা হয়েছে।আর তার জন্যই এখানে এত মানুষ।অর্ণ চোখ ফিরিয়ে হাঁটা ধরলো বাড়ির ভেতর।কায়নাত পাশে থেকে তার হাত আঁকড়ে ধরলো।অর্ণ সেদিকে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে বলল,
“পুরুষ তো আমিও।আমাকে আপনার ভয় হচ্ছে না?”
কায়নাত বলল,
“আপনাকে দেখে ভয় হবে কেন?স্বামীকে দেখে কোন মেয়ে ভয় পায়?”
অর্ণ গম্ভীর গলায় বলল,
“আমাদের কোনো বিয়ে হয়নি ইডিয়ট।”
কায়নাত আশ্চর্য হয়ে বলল,
“সবাই তো বলে বিয়ে হয়েছে।আমার মাও বলেছিল।”
“না,হয়নি।”
মেয়েটা অর্ণর হাত ছেড়ে দিলো।ততক্ষণে ওরা বাড়ির ভেতর চলে এসেছে।মেয়েটা দুদিন আগে অব্দি কনফিউজড ছিল আসল জামাই নিয়ে।এখন সেই জামাই বলছে তাদের বিয়েই হয়নি।মাথা’টা খারাপ হয়ে যাচ্ছে তার।বদমাইশ লোক নিশ্চিত তাকে ভুল-ভাল বোঝাচ্ছে।কায়নাত তাকে পাত্তা না দিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকতে ঢুকতে বলল।
“বেশ হয়েছে।এবার তাহলে ইচ্ছে মতো প্রেমটা করতে পারব।এতদিন ভুয়া মার্কা জামাইয়ের জন্য প্রেম করতে পারিনি।”
সে চলে গেল ভেতরে।অর্ণ সেদিকে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে বিরক্তকর চাপা নিঃশ্বাস ফেলল।
প্রথমে খাওয়া দাওয়া হবে তারপর বিয়ে।কথামতো তাই হলো।খাওয়ার ব্যবস্থা করা হলো।আদি শেহের আর কায়নাতের মাঝখানের চেয়ারে বসেছে।কায়নাত এরই মধ্যে আদির সাথে একচোট ঝগড়াও করেছে।বাচ্চাটা তাকে ভীষণ জ্বালায়।আদি হাত দিয়ে কিছুতেই খাবে না,আবার মায়ের হাতেও খাবে না।সে মূলত শেহেরের হাতে খাবার খাবে।স্বার্থ বলেছে শেহেরকে বাবা বানাতে হলে সব সময় শেহেরের সাথে চিপকে থাকতে হবে।বিচ্ছুটা মায়ের বিয়ে দেয়ার জন্য একদম উঠে-পড়ে লেগেছে।শেহের বড় মাছের কাটা বেছে সাদা ভাত দিয়ে আদির মুখের সামনে ধরলো।বাচ্চাটা পোলাও খায় না।আদি ছোট মুখ বড় করে হাঁ করল।নুসরাত সামনে থেকে এই দৃশ্য দেখে খাওয়া থামিয়ে বলল,
“শেহের ভাই,ওকে হাত দিয়ে খেতে দাও।ওকে খাওয়াতে গেলে তোমার খাওয়া হবে না।”
আদি চোখ ছোট ছোট করে ফেলল।শেহের মাছের কাটা বাছতে বাছতে বলল,
“সমস্যা নেই।”
আদি বলল,
“মা,তোমার কী জ্বলছে?তুমিও এদিকে আসো।বাবা তোমায় খাইয়ে দিবে।”
টেবিল ভর্তি মানুষ তখন।সবাই খাওয়া থামিয়ে আদির দিকে তাকাল।শেহের খুঁকখুঁক করে কেঁশে উঠল।নুসরাত রেগে ছেলেকে ধমক দিয়ে বলল,
“থাপ্পড় মেরে বাঁদরামি বের করে ফেলব আদি।কতবার বলেছি উনাকে মামা বলে ডাকতে?”
আদি ঠোঁট উল্টে শেহেরের একহাত চেপে ধরলো।সেখানে মুখ লুকিয়ে মিনমিন করে বলল,
“বাবা বললে সমস্যা কোথায়?”
সেখানে বাড়ির বড় সদস্যরাও ছিলেন।শেহের ও নুসরাত দু’জনেই বেশ লজ্জা পেয়েছে আদির কাণ্ডে।রাহেলা বানু গম্ভীর হলেন।আড়চোখে তাদের দেখে খাওয়ায় মনোযোগী হলেন।বেহরুজ বেগম বললেন,
“শেহের,কিছু মনে করো না।জানোই তো বিচ্ছুটা কত দুষ্টু।”
শেহের জোরপূর্বক হাসল।
“কিছু মনে করিনি আন্টি।”
ওদের খাওয়া দাওয়া শেষে বিকেলের দিকে বিয়ে পড়ানোর সময় চলে এলো।কনের ঘরে চিন্তিত মুখে পায়চারী করছেন মেয়ের বাবা।বউ যে পালিয়েছে এই কথা ছেলের বাড়ির মানুষদের জানাবেন কিভাবে?হাকিম সাহেব রাগে দুঃখে বিছানায় বসে পড়লেন।ওদিকে যে খাওয়া দাওয়া প্রায় শেষের দিকে।ঘরের মধ্যে চাপা গুঞ্জন চলছে আত্মীয়দের মধ্যে।বউ কখন পালিয়েছে কেউ বলতে পারছে না।হাকিম সাহেব স্ত্রীর সাথে ভীষণ রাগারাগী করছেন।এখন এই মুখ মানুষকে দেখাবেন কী করে?মেয়ে যে এভাবে মুখে কালি দিয়ে বিয়ের দিন ঘর ছাড়বে,সেটা তিনি কল্পনাতেও ভাবতে পারেননি।অন্তত গ্রাম হওয়ায় তার এসব মাথায়’ই আসেনি।
বিকেলের হালকা আলোটা জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরে ঢুকছে।ঘরের ভেতরে এখন নিস্তব্ধতা—তার মাঝেই হাকিম সাহেবের ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।ঘরের কোণে কান্না চেপে বসে আছেন তার স্ত্রী সালমা খাতুন।মেয়ের খোঁজ নেই ছেলের বাড়ির মানুষ আসার পর থেকে।
তিনি বারবার নিজের মাথায় হাত দিচ্ছেন,
“ওরে আল্লাহ,আমার মেয়েটা কোথায় গেল?”
হাকিম সাহেব দাঁত চেপে বললেন,
“তোদের লজ্জা বলে কিছু আছে?বিয়ের দিন ঘর ছেড়ে পালায় কিভাবে?এই কীর্তিটা ঐশী করতে পারল?”
সালমা খাতুন কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন,
“ও এমনটা করবে আমি বুঝতেও পারিনি।”
হাকিম রেগে উঠে দাঁড়ালেন,
“চুপ করো সালমা!তুমি না থাকলে এইসব বাড়াবাড়ি হত না।তুমি যদি ওকে একটু শক্ত করে মানুষ করতে তাহলে আজ এ অপমানটা সহ্য করতে হত না।”
দরজার বাইরে তখন কারা যেন বলছে,
“বউ নাকি পালিয়েছে!”
“কি বলিস!এ তো কেলেঙ্কারি বাপু!”
শব্দগুলো কানে গিয়ে লাগল হাকিম সাহেবের।তিনি চেয়ার ঠেলে উঠে দরজার দিকে গেলেন।কিন্তু দরজা পার হতেই আজগর চৌধুরী ঢুকে পড়লেন ভেতরে।
আজগর চৌধুরীর মুখ গম্ভীর,চোখ দুটোতে হালকা রাগের ছাপ।
“কি হয়েছে?”
হাকিম সাহেব মুখে কিছু বলতে পারলেন না।নিচু চোখে মাথা নাড়লেন।আজগর চৌধুরীর দৃষ্টি পড়ল ফাঁকা খাটের দিকে,তারপর দরজার পাশে কাঁদতে থাকা সালমা খাতুনের দিকে।সব বুঝে গেলেন তিনি।
“মেয়ে পালিয়েছে?”
হাকিম সাহেব আজগর চৌধুরীর দুই হাত মুঠোয় নিয়ে বললেন,
“চাচা,আপনাকে আমি কিভাবে এই মুখ দেখাব?আমার মেয়েটা যে এমন এক কেলেঙ্কারি ঘটিয়ে বসবে আমি কল্পনাও করিনি।”
“বাড়ি ভর্তি মানুষ।তাদেরকে কী উত্তর দেবো আমি এখন?”
“আমার মান-সম্মান যে মাটিতে মিশে যাবে চাচা।”
আজগর চৌধরী হাসানকে দিয়ে নাজনীন,অর্ণ,আব্দুর চৌধুরী এবং মাশফিক চৌধুরীকে ডেকে পাঠালেন।বিয়ে বাড়ি তখনও জমজমাট।সবাই হইহুল্লোড়ে ব্যস্ত।বউয়ের ঘরের দুইঘর পেছনের ঘরে চৌধুরী বাড়ির মেয়েদের বসার জায়গা করে দেয়া হয়েছে।কায়নাতরা সবাই সেখানেই। মেয়েরা বাইরে গিয়ে হইহুল্লোড় করবে এটা আজগর চৌধুরী পছন্দ করেন না ।জয়া আজ নিশার সাথে ম্যাচিং করে সেম শাড়ি পরেছে।কায়নাত আর জয়া কিছুটা একই রকম মায়ের মতো দেখতে।সে কায়নাতের পাশে গিয়ে বসল।খেয়ে দেয়ে তার পেট উঁচু হয়ে আছে।কায়নাত দেখল তার ছোট বোনকে।মিষ্টি মাখা চেহারা মেয়েটার।একদম কায়নাতের মতো বিচ্ছু বাঁদর।সে বলল,
“আপা,বিয়ে কখন হবে?আমি আর এই বাড়িতে বন্দি হয়ে থাকতে পারছি না।”
কায়নাত বলল,
“এখনই হয়তো বিয়ে পড়ানো শুরু হবে।”
নিশা গাল ফুলিয়ে বিছানার এক কোনায় বসে আছে।তারা এখন অব্দি বউয়ের মুখ দেখতে পারেনি।বউকে দেখতে গেলে কেউ না কেউ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়েছে।
হঠাৎ ঘরে সুহা ঢুকল তাড়াহুড়ো করে।সে বাইরে ওয়াশরুমে গিয়েছিল।দরজা চাপিয়ে হাঁপিয়ে ওঠে বলে,
“শুনেছিস তোরা,বাইরে কী হয়েছে?”
নিধি কপাল কুঁচকে বলল,
“কী হয়েছে?”
“বউ নাকি পালিয়ে গেছে?মেজ চাচিরা এসব নিয়েই তো কথা বলছেন।বাড়িতে এখনও এই খবর ছড়ায়নি।”
সুহার কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে জয়া চিৎকার করে উঠল।
“আলহামদুলিল্লাহ,আলহামদুলিল্লাহ।”
নিধি চোখ পাকিয়ে তাকায়।কায়নাত বোনের হাত চেপে ধরে।রাগ দেখিয়ে বলে,
“হাসছিস কেন তুই?ভাইয়ের বিয়ে ভাঙতে চলেছে আর তুই মজা করছিস?”
জয়া মুখ বাঁকিয়ে বলল,
“বেশ হয়েছে।খুশি হয়েছি আমি।বদমাইশ লোক একটা।”
পাশ থেকে মাহি রেগে গিয়ে বলল,
“আমার ভাই তোর বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছিল?”
বোনদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়ে গেল।নিধি রেগে গিয়ে ধমক দিতেই সবাই চুপ।বাইরে থেকে কোনো খবর তো আসছে না।কায়নাত আর নিধি বের হলো ঘর থেকে।বউয়ের ঘরের সামনে গিয়ে দেখল ঘরের ভেতর চৌধুরী বাড়ির প্রায় বড় সদস্যরা উপস্থিত সেখানে।সবার মুখে চিন্তার ছাপ।আব্দুর চৌধুরী কিছু একটা নিয়ে বাবার সাথে কথা কাটাকাটি করছেন। কায়নাত দেখল অর্ণ বুকে হাত গুঁজে গম্ভীর বদনে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।সে ঠোঁট জোড়া জিভ দিয়ে ভিজিয়ে কিছুটা নিচু গলায় ডেকে উঠল,
“এইযে লাটসাহেব।শুনছেন?”
অদ্ভুত সম্বোধনে অর্ণ ভ্রু-কুঁচকে পেছনে তাকায়।দরজার আড়ালে লাল টুকটুকে বউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভাঁজ পড়া কপাল সোজা হয়।অর্ণকে কাছে আসতে না দেখে কায়নাত হাতের ইশারায় কাছে ডাকে।
(১লাখ+ রিচ হয়েও রিয়াক্ট এত কম কেন?অন্তত ২k রিয়াক্ট সম্পূর্ণ করবেন।যদি প্রত্যেক পর্বে ২k রিয়াক্ট ওঠে তাহলে নেক্সট পর্ব থেকে আরও বড় পর্ব দিব।একটিভ পাঠক খুব কম।লেখার আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে।#প্রেমবসন্ত_১ এ কী সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করতো সবাই।🙂)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৫
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৯
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৬(প্রথমাংশ +শেষাংশ)