প্রেমবসন্ত_২ ।৪৬।
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
কায়নাত হতবুদ্ধি হয়ে খানিকক্ষণ অর্ণর ঘুমঘুম মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। নাক ছিঁটকে বলল,
“আপনি খুব খারাপ। মা নিচে সবাইকে ডাকছে। ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি নিচে চলুন।”
অর্ণ উঠে বসল। ফোনে সময় দেখে ছুটল ওয়াশরুমে। আজ অফিসে যেতে হবে, নাহলে সমস্যা হবে। কায়নাত বিছানা গুছিয়ে অর্ণর জামা-কাপড় সব বের করে রাখল। অর্ণ গোসল সেরে এসে তৈরি হয়ে নিচে নামল কায়নাতের সাথে। ডাইনিং টেবিলে তখন বাড়ির প্রত্যেকে বসেছেন। মাশফিক চৌধুরী কপাল কুঁচকে একটা ফাইল ঘাটছিলেন বসে বসে। অর্ণ চেয়ার টেনে বসতে বসতে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,
“কিছু হয়েছে?”
মাশফিক চৌধুরী দৃষ্টি ফেরালেন। বললেন,
“তোমাকে ডিল পাকা করার জন্য সিলেট পাঠিয়েছিলাম আমি, ক্যান্সেল করার জন্য নয়।”
“হোয়াট? ক্যান্সেল হবে কেন?”
“তারা ডিল ক্যান্সেল করতে চাচ্ছে। আমাদের কাজে তারা সন্তুষ্ট নয়। তুমি বুঝতে পারছ এটা কত বড় প্রজেক্টের কাজ? আমার কত টাকা জলে যাবে ভেবেছ?”
মাশফিক চৌধুরীকে উত্তেজিত হতে দেখে অর্ণ গম্ভীর গলায় বলল,
“তোমার টাকা আমি দিয়ে দেব।”
“টাকার গরম দেখাচ্ছ আমাকে? কত টাকা আছে তোমার? এর ধারের কাছেও তো যেতে পারবে না, আবার এসেছ টাকার গরম দেখাতে। আমি তোমাকে ঘুরতে নয় কাজের জন্য পাঠিয়েছিলাম।”
অর্ণ দাঁত চাপল। বাবার কথা বেশ গায়ে লেগেছে তার। কায়নাত ঠোঁট কামড়ে অর্ণর পিছনে তখন ভিতু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বেহরুজ বেগম পরিস্থিতি বুঝে বললেন,
“আহা! হচ্ছে কী মাশফিক? তোমার ব্যবহার রুড হয়ে যাচ্ছে।”
মাশফিক চৌধুরী হাতের ফাইল টেবিলে ছুড়ে মেরে উঠে দাঁড়ালেন। দাঁত চেপে বললেন,
“দুটো বছর নষ্ট করেছি এই প্রজেক্টের জন্য। এই ছেলের জন্য আজ সব জলে যাবে।”
তিনি হনহন করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন। ড্রাইভারকে ডেকে গাড়িতে উঠে চলে গেলেন অফিসের উদ্দেশ্যে। ডাইনিং টেবিল জুড়ে থমথমে নীরবতা নেমে এলো। ভাই-বোন সবাই বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে বসে আছে। আজ অব্দি মাশফিক চৌধুরী অর্ণর সাথে এভাবে কথা বলেননি। অর্ণ চোখ বন্ধ করে ঘাড় চুলকে উঠে যেতে চাইলে কায়নাত বাঁধা দিয়ে বলে,
“না খেয়ে যাবেন না প্লিজ।”
অর্ণ লম্বা শ্বাস টেনে চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াল। লম্বা চওড়া মানুষটার রাগী মুখ খানা দেখতে কায়নাত ঘাড় উঁচু করে হাত জড়িয়ে ধরে করুণ গলায় বলল,
“এভাবে না খেয়ে যাবেন না।”
অর্ণর তখন রাগে মুখ লাল হয়ে গেছে। সে জোর করে কায়নাতকে ছাড়িয়ে ধমক দিয়ে বলল,
“তুমি খাও সব। বিরক্ত করো না আমাকে।”
এই বলে সে গটগট পায়ে বেরিয়ে গেল সদর দরজা হতে। কায়নাত ছলছল চোখে অর্ণর প্রস্থান দেখল। বেহরুজ বেগম হতভম্ব হয়ে গেলেন বাড়ির এই পরিবেশ দেখে। তিনি কায়নাতকে অভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বললেন,
“মন খারাপ করো না। একটু পরই মাথা ঠান্ডা হয়ে যাবে। তুমি বরং খেয়ে নাও,তোমার টিচার আসবে কিছুক্ষণ পর।”
কায়নাত ধরা গলায় বলল,
“আমি এখন খাব না আম্মু। আপনারা খেয়ে নিন।”
কায়নাত এক প্রকার দৌঁড়ে গেল সিঁড়ির দিকে। আদি কায়নাতের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বেহরুজ বেগমকে বলল,
“নানী, ভাবি কী কাঁদে?”
বেহরুজ বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। বাপ-ছেলের যুদ্ধের মধ্যে বেচারি ফেঁসে গেছে। সবার সামনে এমন ব্যবহার করার কোনো দরকার ছিল? বাপ-ছেলের কারোর কী মাথা একটু ঠান্ডা থাকে না?
উত্তপ্ত দুপুরে রোদের হলুদ আলো এসে অর্ণর অফিস রুমটা ভরে গেছে। অর্ণ নিজের চেয়ারে বসে কিছু ফাইল চেক করে ছুড়ে মারল মেঝেতে। ওর এসিসটেন্ট রাহুল শুকনো ঢোক গিলে ফাইল গুলো তুলে কাচুমাঁচু হয়ে বলল,
“স্যার, ৩টায় মিটিং ঠিক করা হয়েছে। আপনি কী এটেন্ড করবেন?”
অর্ণ ধমকে উঠল।
“কতবার এক কথা বলবে? যাব না আমি মিটিং-এ। বলে দাও তোমার স্যারকে।”
“কিন্তু স্যার তো রেগে যাবেন।”
“তুমি যাবে আমার চোখের সামনে থেকে?”
রাহুল মাথা নেড়ে বেরিয়ে গেল কক্ষ হতে। খানিকক্ষণ পর সেখানে অফিসিয়াল গেট-আপে প্রবেশ করল স্বার্থ।
“সোনা, আজ পার্টি আছেরে।”
বলতে বলতে চেয়ার টেনে বসল ও। অর্ণ কপাল স্লাইড করতে করতে টেবিলে ফোন ঠুকছে ক্রমাগত। স্বার্থ ঠোঁট উল্টে বলল,
“কী ভাবছিস? কিছু হয়েছে?”
অর্ণ বলল,
“ঈশা ডিল ক্যান্সেল করতে চাচ্ছে। তুই বুঝতে পারছিস, মেয়েটা কী করছে?”
“হোয়াট? আমার বাপ জানলে আমাকে কবর দেবে। এত টাকার প্রজেক্ট আমাকে বিক্রি করলেও পাবে না ভাই।”
অর্ণ উঠে দাঁড়াল। পকেটে হাত গুঁজে কাঁচ ঘেরা দেয়ালের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। খানিকক্ষণ চুপ থেকে রুক্ষ গলায় বলল,
“ঈশাকে ইনভাইট কর। দেখা না করলে হচ্ছেই না।”
“ওকে।”
তখন রুমে প্রবেশ করলেন মাসফিক চৌধুরী। স্বার্থ তাকে দেখে সালাম দিয়ে বলল,
“ভালো আছেন আব্বু?”
মাশফিক চৌধুরী গম্ভীর মুখে স্বার্থর দিকে তাকালেন। মেজাজ তার এমনিতেই খিঁচে আছে। তিনি কিছুটা চওড়া গলায় বললেন,
“তোমার শ্বশুর লাগি আমি?”
স্বার্থ ধমক খেয়ে থমথমে গলায় বলল,
“আপনি চাইলে আমার জামাই হতে কোনো সমস্যা নেই আব্বু।”
“এক চড় মারব। কাজের জন্য এসেছ নাকি তামাশা করতে?”
স্বার্থ মুখ কুঁচকে অর্ণর দিকে ফিরল। সমুন্ধি আর শশুর দুটো আজ একসাথে চেতেছে কেন? মাঝ দিয়ে তাকে ঝাড়ি খেতে হচ্ছে। এই শশুর আদৌ তার মেয়েকে তার হাতে তুলে দেবে? ভাব দেখে তো মনে হচ্ছে না। মেয়ের বদলে আবার কপালে জুতো না জুটে যায়। মাশফিক চৌধুরী অর্ণর দিকে তাকালেন। এই প্রথম তিনি ছেলের কাজে বিরক্ত হয়েছেন। তিনি গম্ভীর হয়ে বললেন,
“মিটিং আছে আজকে। কথা না বাড়িয়ে ভদ্র ছেলের মতো তোমাকে মিটিং রুমে চাই আমি।”
অর্ণ জবাব না দিয়ে চেয়ারে চুপচাপ বসে রইল। এতে আরও একধাপ বিরক্তি প্রকাশ করলেন তিনি। শব্দ করে দরজা লাগিয়ে দিতেই স্বার্থ বুকে থুথু দিয়ে বলল,
“তোর শান্ত-শিষ্ঠ বাপ এমন ভিলেনের মতো ব্যবহার করছে কেন? এত সুন্দর করে আব্বু বলে ডাকলাম, হিটলার বাপ আমাকে সম্মানই দিল না।”
অর্ণ বলল,
“আমার বোনকে তোর সাথে বিয়ে দিয়েছি?”
“না।”
“তাহলে কোন হিসেবে আব্বু ডাকিস?”
“কী বলিস সোনা? বিয়ে করেছি তো! স্বপ্নে বিয়ে করে দশ-বারোটা বাচ্চার বাপও হয়ে গেছি। আমার গোয়াল ঘরের মধ্যে এত গুলো ছাও নিয়ে সংসার করার পরও কিভাবে বলছিস এসব ছোটলোকি কথা-বার্তা?”
“তুই কী মানুষ হবি না?”
“আমি কী অমানুষ? আমার মতো সুন্দর হ্যান্ডসাম ছেলে পাবি তোর বোনের জন্য? তোর ময়দা সুন্দরী বোনের এত নখরা আমি ছাড়া আর কে সহ্য করবে বল তো?”
“তুই বের হো আমার রুম থেকে।”
“আমি কাজে এসেছি মিস্টার, ঝগড়া করতে নয়।”
অর্ণ হার মানল। কথা বাড়াল না আর।
••
সন্ধ্যার আজান শেষ হয়েছে খানিকক্ষণ আগে। কায়নাত কোচিং থেকে বের হয়ে গেটের সামনে এসে দাঁড়াল। বেহরুজ বেগম আজ তাকে দিয়ে গেছে প্রথম দিন বলে। সামনের বড় রোডে নিশা আর নিধির ভার্সিটি। পেটে ব্যাথায় মেয়েটা করুণ চোখে এদিক-ওদিক তাকাল। আজ সারাদিন কিচ্ছুটি পেটে পড়েনি।
“হেই সুবাহ!”
হঠাৎ পুরুষালী কণ্ঠস্বর কানে পৌঁছাতেই কায়নাত পাশ ফিরে দাঁড়াল। সেই যে মার্কেটে দেখা হয়েছিল ধ্রুবর সাথে। ছেলেটা হাসি মুখে এগিয়ে আসছে। পরনে সাধারণ পোশাক। কায়নাত সালাম দিল। ধ্রুব সালামের উত্তর নিয়ে বলল,
“অনেকদিন পর দেখলাম তোমাকে।”
কায়নাত বলল,
“আপনাকেও। আপনি এখানে কী করছেন?”
“আমার বাসা এই পাশেই। তুমি এখানে কেন এই সময়ে? চারপাশে অন্ধকার নেমে এসেছে।”
“কোচিং-এ এসেছিলাম।”
“কারোর জন্য অপেক্ষা করছ?”
কায়নাত মাথা নাড়ল। ধ্রুব বলল,
“আশেপাশে তো কাউকে দেখছি না। তুমি মাইন্ড না করলে আমি দিয়ে আসব?”
কায়নাত তাড়াহুড়ো করে বলল,
“তার কোনো দরকার নেই। আমি যেতে পারব।”
ধ্রুব শব্দ করে হাসল। কায়নাত কপাল কুঁচকে সেই হাসি দেখে মুখ ফিরিয়ে নিল।
“আমাকে বিশ্বাস করতে পারো। আমরা কিন্তু একই গ্রামের।”
কায়নাত ভাবল কেউ হয়তো আসবে না। তবু ধ্রুবর সাথে যেতে চাইল না। বেশ খানিকক্ষণ পর সেখানে বাইক নিয়ে হাজির হলো আদাল। একদম কায়নাতের সামনে ব্রেক কষে হেলমেট খুলে বলল,
“সরি সরি! রাস্তায় এত জ্যাম ছিল যে আসতে লেট হয়ে গেল।”
ধ্রুব অদ্ভুত চোখে আদালকে দেখল। কায়নাত আদালকে শান্ত হতে বলল প্রথমে। তারপর আড়চোখে ধ্রুবকে দেখে বলল,
“আজ আসি।”
আদাল আগ বাড়িয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করল না। বাড়ি থেকে বেহরুজ বেগম কলের উপর কল দিয়েই যাচ্ছেন। কায়নাত বাইকে উঠে বসল। সঙ্গে সঙ্গে বাইক স্টার্ট দিল আদাল। ধ্রুব তখন পেছনে প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে তাকিয়ে আছে তাদের যাওয়ার দিকে।
চৌধুরী বাড়ি ফিরতে বেশি সময় লাগল না ওদের। আদাল গাড়ি থেকে নেমে কায়নাতের কাঁধের ব্যাগ হাতে নিয়ে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করতে করতে বলল,
“ভাবি, ছেলেটা কে ছিল?”
কায়নাত বলল,
“আমাদের গ্রামের পরিচিত একজন ভাইয়া।”
“ওহ!”
“কোন ছেলের কথা বলা হচ্ছে?” সদর দরজার সামনে থেকে অর্ণর কণ্ঠস্বর শুনতেই কায়নাত চমকে উঠল। এখনও অর্ণ অফিসের পোশাক পরেই আছে। আদাল ভাইয়ের প্রশ্নে জবাবে বলে,
“ভাবির কোচিং-এর সামনে একজন পরিচিত ভাইয়ের সাথে দেখা হয়েছিল। গিয়ে দেখলাম তারা কথা বলছে।”
অর্ণ তীক্ষ্ণ চোখে কায়নাতকে পর্যবেক্ষণ করল। কায়নাত শুকনো ঢোক গিলে আড়চোখে অর্ণকে দেখে বাড়ির ভেতর ঢুকতে গেলে অর্ণ গম্ভীর হয়ে বলে,
“দাঁড়াও।”
তারপর আদালকে বলে,
“তুই যা।”
আদাল মাথা নাড়িয়ে প্রস্থান করল। কায়নাত পা খুড়িয়ে বাড়ির ভেতরে তাকাল। কেউ নেই! ভয় হলো তার। অর্ণ পিছু ফিরে বুক টানটান করল।
“আপনাকে নিশ্চয়ই বাইরে পর-পুরুষদের সাথে আড্ডা দেয়ার জন্য পাঠাইনি?”
কায়নাত বলল,
“আমার পরিচিত।”
“সো হোয়াট?”
“পরিচিত কেউ এগিয়ে আসলে উপেক্ষা করব কিভাবে?”
“সেটা আমাকে শিখিয়ে দিতে হবে?”
কায়নাতের রাগ হচ্ছে এবার। নাক ফুলিয়ে মাথা নিচু করল। অর্ণ ওর চিবুক টেনে মুখের সামনে ধরে দাঁত চেপে বলল,
“তোমার বোরকা কোথায়? এই জামা পরে বাইরে গিয়েছিলে কেন?”
অর্ণর রাগ দেখে কায়নাতের চোখ ছলছল করে উঠল। কয়েকদিন ধরে লোকটার সাথে ঝামেলা লেগেই আছে। এই মুহূর্তে অর্ণর সাথে তর্ক করার সাহস হলো না। সকাল থেকে এমনিতেই রেগে আছে লোকটা। সে হালকা গলা পরিষ্কার করে মিনমিনে গলায় বলল,
“আর পরব না।”
বাড়ির ভেতর থেকে বেহরুজ বেগম সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে এই দৃশ্য দেখলেন। কঠিন করলেন নিজের চোয়াল। নিকটে এসে বললেন,
“এখন কী বউয়ের গায়ে হাত তোলা বাকি রেখেছ? এমন করে মুখ চেপে ধরেছ কেন?”
অর্ণ মায়ের কথার উত্তর না দিয়ে বাড়ির ভেতর যেতে যেতে কায়নাতকে বলল,
“ঘরে আসো একখনি।”
অর্ণ চলে গেল। বেহরুজ বেগম কায়নাতকে নিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকতে ঢুকতে বললেন,
“এত দেরি হলো কেন?”
কায়নাত বলল,
“রাস্তায় জ্যাম ছিল।”
“হাত-মুখ ধুইয়ে নিচে এসো।”
কায়নাত মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল। অর্ণর ঘরে না গিয়ে নিশার ঘরে ঢুকল। নিশা ভিডিও কলে স্বার্থর সাথে কথা বলছে, তো অন্যদিকে নিধি পড়ার টেবিলে মুখ গুঁজে দিয়েছে। কায়নাত মুখ ফুলিয়ে বিছানায় গিয়ে বসল। নিধি ওর এই অবস্থা দেখে ঘাড় ঘুরিয়ে বলল,
“হলো কী ভাবিজান? মুখটা শুকিয়ে গেছে কেন?”
কায়নাত নিশাকে আড়চোখে দেখে হায়-হুতাশ করে বলল,
“তোমার ভাই আস্ত একটা শয়তান। ওই লোকের সাথে সংসার করা যায়?”
“ভাইয়া আবার কী করল?”
“সকাল থেকে বোম হয়ে আছে। সব রাগ আজ আমার উপর ঝাড়ছেন।”
“বউ তুই তাহলে তোর সাথে রাগ করবে না?”
“একদম ভাইয়ের সাপোর্ট কাটবে না। বদমাইশ লোক একটা! সারাক্ষণ নাকের ডগায় রাগ লেগেই থাকে।”
নিশা বারান্দার সামনে সোফায় বসে বসে তখন কলে ব্যস্ত। কায়নাতের ডাক পড়ল তৎক্ষণাৎ। অর্ণ চিৎকার করে ডাকছে তাকে। মেয়েটা কাঁদো কাঁদো মুখ করে দৌঁড়ে বের হলো ঘর থেকে। নিধি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আড়চোখে নিশাকে পরখ করে আবার দৃষ্টি রাখল বইয়ে। নিশা হাঁটতে হাঁটতে বারান্দায় এলো। আপছা আলোয় তখন ওর মুখ টুকু জ্বলজ্বল করছে। স্বার্থ ঠোঁট টিপে ওপাশ থেকে বলল,
“সোনা, রাতে ঘুমাস না। তোর সাথে দেখা করতে আসব।”
নিশা হতবুদ্ধি হয়ে বলল,
“এত রাতে আসার দরকার নেই। কাল এসো।”
“আমার তো তোকে এখনি দেখতে ইচ্ছে করছে। কাছে থাকলে একটু আদর করে দিতাম।”
“তুমি বড্ড বেহায়া স্বার্থ ভাই। কতবার বলেছি চলো বিয়েটা করে ফেলি। তুমিই তো প্রস্তাব নিয়ে আসছ না।”
“তোর বাপের সামনে যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না। শালাদের মতো শ্বশুরটাও বড় ফাজিল। ভেবেছিলাম নরম শরম একটা শশুর পাব।”
নিশা রেগে বলল,
“এই, একদম বাবাকে নিয়ে বাজে কথা বলবে না।”
“আচ্ছা বলব না। রাতে কিন্তু ঘুমাবি না। দেয়াল টপকে তোকে আদর করতে আসব।”
নিশা নাক ছিঁটকে খট করে কল কেটে দিল। বারান্দা থেকে ঘরে ফেরার জন্য দরজার সামনে আসতেই হতভম্ব হয়ে গেল প্রেম আর নিধিকে ঘরে দেখে। প্রেম গম্ভীর হয়ে ছোট বোনের দিকে তাকাল। বুকে হাত গুঁজে বলল,
“প্রেম না করে একটু পড়তে বসলেও তো পারিস। পরীক্ষায় ফেইল করলে তোকে কে বিয়ে করবে?”
নিশা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
“তোমার বাচ্চার মা আছে না? সে বিয়ে করবে। এমনিতেও আমার পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করে না ভাইয়া। তুমি বরং বাবাকে বলে স্বার্থ ভাইয়ের সাথে আমার বিয়েটা দিয়েই দাও।”
“এক চড় মেরে দাঁতের চাপা ভেঙে দেব। প্রেম না করে পড়তে বোস। আর নিধি, আমার সাথে চল।”
নিধি বোকার মতো পলক পিটপিট করে বলল,
“কোথায় যাব?”
“জাহান্নামে যাবি। এবার চল।”
নিধি প্রেমের সাথে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। প্রেম ওকে নিয়ে বাড়ির বাইরে এসে আদালের বাইক বের করে গেটের সামনে এসে নিধিকে বলল,
“গাড়িতে ওঠ।”
নিধি লক্ষ্মী মেয়ের মতো পেছনে উঠে বসল। প্রেম দাঁত চাপল।
“আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধর।”
নিধি শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। এমন ভাবে ধরল যেন এখনি ওর দেহের মধ্যে ঢুকে যাবে। প্রেম ঠোঁট কামড়ে হেসে বাইক স্টার্ট দিয়ে বেরিয়ে গেল ঝড়ের বেগে।
(আমি রেগুলার গল্প দিচ্ছি তবু রিচ ডাউন। রেসপন্স এত কম হলে কেমনে কী🫠)
চলবে..?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪.১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৫
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৬
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৫
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৫