প্রেমবসন্ত_২ ।৪৪।
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
নাস্তার টেবিলে সকলে বসে আছে গোল হয়ে। সবাই চুপচাপ খাবার খাচ্ছিল। স্বার্থ বসেছিল নিশার পাশে। নিশাকে এটা ওটা এগিয়ে দিচ্ছিল সে। দূর থেকে অর্ণ এই দৃশ্য দেখে হঠাৎ গলা পরিষ্কার করে বলল,
“স্বার্থ, ফ্রি হয়ে একটু আমার সাথে দেখা করিস।”
স্বার্থ মাথা নাড়ল। খাওয়া দাওয়া শেষে ওরা যে যার ঘরে যাওয়ার পর স্বার্থ গোসল সেরে এলো ওয়াশরুম থেকে। বিছানার উপর সব জামা কাপড় দিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। স্বার্থ কপাল কুঁচকে বিরক্ত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল। এত জামা কাপড় এখানে আসার পর কেনা হয়েছে। সে কেনেনি, নিশা বাচ্চাদের মতো পিংক কালার শার্ট,টি-শার্ট কিনে ভরে ফেলেছে। দীর্ঘশাস ফেলতেই হঠাৎ চোখ গেল দরজার সামনে নিচে বসে বসে কেউ উকি মারছে ভেতরে। স্বার্থ শব্দহীন পায়ে এগিয়ে গিয়ে দরজা ধরে টান দিতেই বাইরে থেকে নিশা চমকে উঠে ভয়ে স্বার্থর কোমরে জড়িয়ে রাখা তোয়ালে চেপে ধরতেই স্বার্থ কিছু বুঝে ওঠার আগে কোমর থেকে তোয়ালে খুলে নিচে পড়ল। নিশা হতভম্ব হয়ে ঘাড় উঁচু করতেই এক বিকট চিৎকার দেয়ার আগেই স্বার্থ ওর মুখ চেপে ধরল। কোনোরকম তোয়ালে এক হাতে নিয়ে কোমরে প্যাঁচিয়ে দরজা চাপিয়ে দিল। নিশা ঘরের ভেতর পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে চোখ খোলা রেখে। দেখে মনে হচ্ছে বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। স্বার্থ নিশার সামনে এসে দাঁড়াল। লিলিপুটের মতো মেয়েটার চিবুক উঁচিয়ে ধরল যত্ন করে।
“কাঁপছিস কেন এমন করে?”
নিশা শুকনো ঢোক গিলে জড়াল গলায় বলল,
“আমি কিছু দেখিনি স্বার্থ ভাই।”
স্বার্থ কপাল কুঁচকে হঠাৎ ঠোঁট টিপে হেসে ফেলল। ওর মাথাটা উন্মুক্ত বুকে চেপে ধরে মাথায় চুমু এঁকে বলল,
“আচ্ছা। বিয়ের পর প্রত্যেকদিন দেখাব, শরমের কিছু নেই।”
লজ্জায় শিরশির করে উঠল শরীর। ভয় পেয়েছে সে। ভয়ে চোখের কোণে পানি জমেছে। স্বার্থ ওকে ছেড়ে দিয়ে বলল,
“সোনা, বিছানার কাপড় গুলো গুছিয়ে ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখ। আমি বের হব একটুপর।”
নিশা নিজেকে স্বাভাবিক করে স্বার্থর জামা কাপড় ভাঁজ করতে করতে একবার তাকাল আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা লোকটার দিকে। গাঢ় ছাই রঙের শার্ট পরেছে সে। সুন্দর করে চুল আঁচড়াচ্ছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। নিশা ঠোঁট উল্টাল। গুটি গুটি পায়ে স্বার্থর পাশে গিয়ে দাঁড়াল। স্বার্থ নিচু হয়ে নিশাকে দেখে প্রশ্ন করল,
“কিছু বলবি সোনা?”
নিশা স্বার্থর শার্ট ঝাঁকিয়ে বলে,
“আমরা বিয়ে করব কবে? তোমাকে ছাড়া আমার ভালো লাগে না।”
স্বার্থ অবাক হলো। অবাক হলো নিশার মুখে বারবার এই বিয়ের কথা শুনে। সে তো ৪ হিটলার শালা- সুমন্ধিদেরি জন্য কিছু করতে পারছে না। সঙ্গে তো শ্বশুরটা আছেই। মেয়ের হাত চাইতে গেলেই গম্ভীর গলায় বলবেন, “আমার মেয়ে এখনও অনেক ছোট। হরলিক্স খাওয়ার বয়স যায়নি আর তুমি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছ? তোমার মতো এক বুড়োর সাথে আমি আমার মেয়ের বিয়ে দিব ভাবলে কী করে?”
স্বার্থ কী তখন বুক টানটান করে বলবে? “শ্বশুর আব্বা, আপনার মেয়ে হরলিক্স খাওয়ার বয়সে জামাইকে খেতে চাচ্ছে। দিন রাত জামাইকে বুকে টেনে নেয়ার জন্য নাক টেনে কাঁদে।”
তখন কী অর্ণর শ্বশুরের মতো তার শ্বশুরের উত্তর হবে, “বেয়াদব ছেলে, তোমার মতো বেয়াদবের হাতে আমি আমার মেয়েকে দেব না।”
স্বার্থ মাথা চুলকে বলল,
“চল কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে সেরে আসি।”
নিশা মুখ কালো করল।
“আব্বু-আম্মুকে ছাড়া বিয়ে করব না আমি।”
স্বার্থ নিশার অভিমানী মুখ খানার দিকে তাকিয়ে আচমকা দুহাতে কোলে তুলে নিল ছোট্ট দেহটা। নিশা হকচকিয়ে উঠল। স্বার্থ বিছানায় বসে ওকে ঊরুর উপর বসাল। নিশার খোলা চুল গুলো কানের পিঠে গুঁজে দিয়ে বলল,
“বিয়ে করলে মরতে হবে। এই স্বার্থর ভালোবাসার প্রখরতা সহ্য করতে করতে মরতে হবে।”
নিশা ঠোঁট কামড়ে মাথা নিচু করল লজ্জায়। হাঁসফাঁস করল কোল থেকে নামার জন্য।
“ছাড়ো, কেউ চলে আসলে খারাপ ভাববে।”
“ভাবুক।”
“বলবে স্বার্থর চরিত্র খারাপ।”
“বলুক।”
“আমার ভয় করছে।”
“করুক।”
“ছাড়ো, দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার।”
“তোর বাচ্চার বাপ লাগি আমি। ভয় পাচ্ছিস কেন?”
“আমাদের এখনও বিয়েই হয়নি বাচ্চা আসবে কোত্থেকে?”
“বিয়ে কী করব না?”
“আগে করো।”
স্বার্থ আড়ালে হাসল। ফিসফিসিয়ে বলল,
“May I give you a kiss, darling?”
মেয়েটা লাজুক লতার ন্যায় মিইয়ে এলো। স্বার্থ অনুমতির অপেক্ষা করেও যখন উত্তর পেল না, তখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিশার মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে বলে,
“It’s alright, sorry. Why are you getting scared of me?”
নিশা চোখ তুলে তাকাল। শুকনো ঢোক গিলে উঠে দাঁড়াতে চাইল সোজা হয়ে। পারল না স্বার্থর বাঁধন হতে। শুঁকনো গলায় মিনমিন করে বলল,
“আমি বাইরে যাব স্বার্থ ভাই।”
স্বার্থ নরম চোখে তাকাল মেয়েটার দিকে। ভীতু হরিণীর ন্যায় দৃষ্টি অস্থির হচ্ছে। ওর লজ্জা দিতে ইচ্ছে করল খুব। কিন্তু হাতে মোটেও সময় নেই।
“আচ্ছা, আজ আমরা রিসোর্টে গিয়ে সকালে ঢাকা ব্যাক করব। যা আছে সব গুছিয়ে রাখিস।”
নিশা মাথা নাড়ল। মিনমিনে স্বরে বলল,
“ছাড়ো।”
স্বার্থ ছেড়ে দিল। নিশা সোজা হয়ে দাঁড়াল। আড়চোখে স্বার্থকে দেখে গুটিগুটি পায়ে বিড়ালের মতো বেরিয়ে গেল। দরজার বাইরে গিয়ে ফিরে তাকাল। স্বার্থ ওর যাওয়ার দিকেই তাকিয়ে ছিল। নিশা শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে চিৎকার করে বলল,
“I totally hate you, father of my unborn child! You’re such a meanie.”
দৌঁড়ে বেরিয়ে গেল মেয়েটা। স্বার্থ আব্দ করে হেসে ফেলল। মাথা রাখল বিশাল বিছানায়। এই বিচ্ছুটাকে কবে নিজের অর্ধাঙ্গিনী বানিয়ে বুকে ঠাঁই দেবে? কবে যত্ন করে বুকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু এঁকে বলবে,
“সোনা, খুব ভালোবাসি।”
•••
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যের দেখা মিলেছে। ওরা রিসোর্টে এসেছে খানিকক্ষণ আগেই। অর্ণ,স্বার্থ এবং শেহের বেরিয়েছে রিসোর্ট থেকে। বাইরে হালকা হালকা বাতাস বইছে। বিশাল এক রেস্টুরেন্টের বড় কেবিনে বসে আছে ওরা। ফ্লোরটা খুব সম্ভবত ৪ তলা হবে। স্বার্থর সাথে শেহের কাল থেকে কথা বলছে না। স্বার্থ অবশ্য এসবে পাত্তা দিল না। অর্ণ ঘড়িতে সময় দেখে বলল,
“এত লেট হচ্ছে কেন উনাদের? রিসোর্টে ফিরতে হবে তাড়াতাড়ি।”
স্বার্থ দাঁত কেলিয়ে বলল,
“বউকে মিস করছিস সোনা? আমি থাকতে আবার তোর বউ লাগে?”
অর্ণ কপাল কুঁচকে তাকাল। ঠোঁট চেপে বলল,
“বউ আর তুই এক হলি?”
“হলাম না? তোর বউ আসার আগে কিন্তু আমিই তোর কলিজা ছিলাম। তোকে কত ভালোবাসি আমি জানিস?”
“জানার দরকার নেই।”
“কেন নেই? বউ পেয়ে এক্স বউকে ভুলে যাবি? কী স্বার্থপর তুই।”
“তুই আমার কোন জন্মের বউ ছিলি?”
“ছিলাম না বলছিস? আমার সাথে এত কিছু করে এখন অস্বীকার করছিস?”
শেহের বিরক্ত হলো অর্ণর সাথে সাথে। অর্ণ বলল,
“রাতে আসিস, পুষিয়ে দেব।”
স্বার্থ কিছু বলতে সবে মুখ খুলেছে, তখনই সেখানে উপস্থিত হয় দুজন মেয়ে এবং দুজন মধ্যবয়স্ক লোক। ওরা উঠে দাঁড়াল। সামনেই আলতাফ দেওয়ানের মেয়ে ঈশা এবং তার এসিসটেন্ট দাঁড়িয়ে আছে। বাকি দুজন কোম্পানির লোক। ঈশা ওদের দেখে মুচকি হেসে হাত মেলাল। অর্ণর দিকে হাত বাড়ালে অর্ণ গম্ভীর মুখে সোফায় বসল চুপচাপ। ঈশা অপমানিত বোধ করল এতে। চোয়াল শক্ত হলো তৎক্ষণাৎ। নিজেকে স্বাভাবিক করে বসল সোফায়। শেহের নরম গলায় বলল,
“Did you have any trouble finding the place?”
ঈশা মাথা ঝাঁকিয়ে বলল,
“না। ভালো আছেন আপনারা?”
“আল্লাহ রেখেছে।”
ঈশা দৃষ্টি ঘুরিয়ে অর্ণর দিকে তাকাল। ঠোঁটে হাসি টেনে বলল,
“So Mr. Chowdhury, how’s it going?”
অর্ণ গম্ভীর গলায় বলল,
“চলছে। কাজের কথায় আসা যাক?”
“কাজের জন্যই এসেছি, কিন্তু আপনার ব্যবহার আমাকে অপমান করছে বলে মনে হচ্ছে।”
“অপমান করার মতো কিছু বলেছি বলে আমার মনে হচ্ছে না।”
অর্ণর সরাসরি উত্তরে কেবিনের আবহাওয়া মুহূর্তেই থমথমে হয়ে গেল। ঈশা আলতাফ দেওয়ানের মেয়ে, যেখানেই যায় বিশেষ খাতির পায়, সেখানে অর্ণর এই ব্যবহার তাকে রীতিমতো জ্বালিয়ে দিচ্ছে। স্বার্থ পরিস্থিতি সামাল দিতে একগাল হেসে বলল,
“আরে ম্যাম, ডোন্ট টেক ইট পার্সোনালি। ও আসলে বউকে ছাড়া বেশিক্ষণ থাকতে পারে না তো, তাই মেজাজটা একটু বিগড়ে আছে। আপনি কিছু মনে করবেন না।”
ঈশা অর্ণর দিকে একপলক তাকিয়ে তচ্ছিল্যে হাসল। এরপর নিজের ফাইলটা টেবিলের উপর রেখে বলল,
“বউঅন্তপ্রাণ হওয়া ভালো, কিন্তু প্রফেশনাল লাইফে পার্সোনাল ইমোশন টেনে আনাটা কি খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ, মিস্টার অর্ণ? আমাদের প্রজেক্টটা কিন্তু বেশ বড়।”
অর্ণ এবার সরাসরি ঈশার চোখের দিকে তাকাল। শান্ত গলায় বলল,
“আমার ইমোশন নিয়ে ভাবার জন্য আমি আছি। আপনি এখানে কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে এসেছেন, সাইকোলজিস্ট হিসেবে নয়। সো, বিজনেস ডিলটা নিয়ে কথা বললে সবার সময় বাঁচত।”
ঈশার ফর্সা মুখটা রাগে লাল হয়ে উঠল। সে শেহেরের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আপনাদের পার্টনার কি সবসময়ই এমন রুড?”
শেহের মৃদু হেসে পরিস্থিতি ঠান্ডা করার চেষ্টা করল,
“অর্ণ আসলে কাজের ব্যাপারে একটু বেশিই সিরিয়াস। চলুন, আমরা ডিজাইনের ব্লু-প্রিন্টটা দেখি।”
মিটিং শুরু হলো ঠিকই, কিন্তু ঈশার পুরো মনোযোগ রইল অর্ণর উপর। অন্যদিকে, স্বার্থ টেবিলের নিচ দিয়ে অর্ণর পায়ে একটা খোঁচা মেরে ফিসফিস করে বলল,
“শালা, একটু তো ভদ্রতা দেখা! মেয়েটা যে এখনই তোকে গিলে খাবে!”
অর্ণ কোনো উত্তর দিল না। মিটিং শেষ হতে হতে প্রায় ঘণ্টা খানিক সময় লাগল। বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে এলো। জায়গাটা বেশ জমজমাট। বিশাল বড় জায়গা জুড়ে মার্কেট বানানো হয়েছে বলা যায়।
রাস্তার ওপাশে নিশা, জারা আর কায়নাত একটা চুড়ির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। ওরা বের হয়েছিল কেনা-কাটা করতে। কায়নাত হঠাৎ কী মনে করে যেন রাস্তার এপাশে তাকাল। রাস্তা বেশি একটা বড় নয়। খুব সহজেই নজরে এলো দুটো মেয়ের সাথে অর্ণরা দাঁড়িয়ে কথা বলছে।
কায়নাতের দেখাদেখি জারা আর নিশাও তাকাল। নিশা ভ্রু কুঁচকে তাকাল স্বার্থর দিকে। মুখ থেকে হাসি যেন সরছেই না। কায়নাত শুষ্ক ঢোক গিলে বলল,
“ওটা তোমার ভাই না?”
নিশা বলল,
“তাই তো দেখছি।”
এপাশ থেকে তখন শেহের ওদেরকে দেখে বলল,
“নিশারা এখানে কী করছে?”
অর্ণ শেহেরের কথা শুনে কপালে ভাঁজ ফেলে রাস্তার ওপাশে তাকাল। কায়নাত কালো বোরকা পরে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ দুটো অর্ণর দিকেই স্থির। ঈশাও ওদের দেখাদেখি কায়নাতদের দেখে বলল,
“আপনাদের পরিচিত?”
স্বার্থ বলল,
“আমাদের ফ্যামিলি। ওই কালো বোরকা পরা মেয়েটা মিসেস অর্ণ।”
ঈশার চোখ সরু হলো। অর্ণ দীর্ঘশ্বাস ফেলে গম্ভীর গলায় বলল,
“আবার দেখা হবে মিস ঈশা। ভালো থাকবেন।”
অর্ণ সামনে পা বাড়ালে হঠাৎ ঈশা অর্ণর হাত চেপে ধরে। অর্ণ থেমে যায়। রাস্তার ওপাশে কায়নাত তখন দম আঁটকে দাঁড়িয়ে আছে। দেখছে শখের পুরুষকে অন্য এক নারী ছুঁয়েছে। অর্ণর মুখ ভারী হলো। হাত ছাড়াতে চাইলে ঈশা ঠোঁট টেনে হেসে বলল,
“আবার দেখা হবে। ঢাকা যাচ্ছি আমিও।”
(aaaa রেসপন্স করো সবাই। পেইজের অবস্থা খারাপ। কালকেও গল্প আসবে ইনশাআল্লাহ। মন্তব্য করো গল্প নিয়ে।)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৭.১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৫
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ গল্পের লিংক
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৯