প্রেমবসন্ত_২ ।৪৩।
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
আজ আকাশের চাঁদটা ঘোলাটে রূপ ধারণ করেছে শেষ রাতের দিকে। নুসরাতের ঘরটা আজ বড্ড নীরব। ছোট বোন ভয়ে আর এদিকে পা ফালায়নি। ছোট্ট আদি বোধহয় শেহেরের কাছে। নুসরাত বারান্দার মেঝেতে বসে আছে চুপটি করে। হাঁটু ভাঁজ করে জড়িয়ে ধরেছে হাত দিয়ে। ফোন হাতে নিয়ে খানিকক্ষণ ঘেঁটে সেখান থেকে হঠাৎ একটা ছবি জ্বলজ্বল করে উঠল স্ক্রিনে। নুসরাতের বিয়ের ছবি। লাল টুকটুকে বউ সেজে বসে আছে শাওনের সাথে। ঠোঁট উল্টে এলো মেয়েটার। নাকের পাতা ফুলতেই আধো স্বরে বলে উঠল,
“দুঃখ গুলো নিজের মাঝেই তো রাখতে চেয়েছিলাম আল্লাহ। এই জীবনে অন্য কাউকে জড়িয়ে তার জীবন নষ্ট করতে চাইনি কখনোই। তবে কেন আজ এসব হলো? কেন ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে ভাই নামক সেই লোকটাকে কবুল করতে হলো? আদৌ এই সম্পর্ক ছিন্ন করা সম্ভব?”
কোন উত্তর আসে না। মেয়েটা চোখের পানি মুছে চোখ বন্ধ করে। আজ বড্ড ক্লান্ত লাগছে নিজেকে। গর্ভের বাচ্চাটাও পুরো জ্বালিয়ে ছেড়েছে তাকে। রাতে শেহের অনেকবার এসেছিল কথা বলতে,নুসরাত সেই সুযোগটাই দেয়নি।
আদি মায়ের ঘরের সামনে ভোর সকাল থেকে বেশ কয়েকবার ঘুরঘুর করেছে। দরজা চাপিয়ে রাখা হলেও সে সাহস করে ঘরে যেতে পারছে না। কাল যা করেছে এরপরও কী একটা মারও মাটিতে পড়বে? তবু ছোট্ট বাচ্চার মনটা মায়ের বুকে যেতে ইচ্ছে করছে। আদি মাথা চুলকে মিনমিন করে ডাকল মাকে।
“ও মা! মা।”
ভেতর থেকে কোনো শব্দ এলো না। আদি দরজা খুলে গুটি গুটি পায়ে ভেতরে ঢুকে দেখল, নুসরাত বিছানায় পা গুটিয়ে বসে আছে। শুকিয়ে গেছে মুখটা। মাথার চুল গুলোও কেমন এলোমেলো। নুসরাত চোখ তুলে একবারও ছেলের দিকে তাকাল না। আদি এগিয়ে গিয়ে বিছানার চাদর খামচে বিছানায় উঠল। ছোট্ট শরীর মায়ের শরীর ঘেঁষে বুকে মাথা রেখে জড়িয়ে ধরল গলা। তবুও নুসরাত আদুরে হাত রাখল না ছেলের মাথায়। আদি ভয় পেল। কান্না চেপে বলল,
“ও মা, আমার খিদে পেয়েছে।”
নুসরাত চুপ করে তাকিয়ে ছিল বিছানার দিকে। আদি মাথা উঁচু করে মায়ের নীরব বদন দেখে নাক টেনে গালে চুমু খেল। বলল,
“তুমি চুপ করে আছো কেন মা?”
নুসরাত এবার লম্বা শ্বাস টেনে জোর করে ছেলেকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে শক্ত গলায় বলল,
“ঘর থেকে যাও আদি, বিরক্ত হচ্ছি আমি।”
আদি শুনল না। করুণ চোখে মাকে দেখে মিনমিন করে বলল,
“আমি তোমার কাছে থাকি?”
নুসরাত রেগে তাকাল ছেলের দিকে। কিছুটা চওড়া গলায় বলল,
“তোমাকে মানুষ না বানিয়ে অমানুষ বানিয়ে ফেলেছি আমি। কী চাও তোমরা বাপ-ছেলে? জীবনটা তো এমনিই নষ্ট করেছি, বাকি জীবনটুকু শান্তিতে থাকতে দেবে না আমায়?”
আদি কাঁদো স্বরে বলল,
“আমি কী করেছি?”
“এত কিছুর পরও বলছ কী করেছ? আদি, আমার চোখের সামনে থেকে যাও,নাহলে একটা মারও মাটিতে পড়বে না।”
আদি হালকা শব্দ করে কেঁদে উঠল। মা কখনও এভাবে রেগে যায় না। ভয়ে আদি জোর করে নুসরাতকে জড়িয়ে ধরল। নুসরাত ছাড়াতে চাইল ছেলেকে, পারল না। গলায় আঁটকে থাকা কান্না ছিঁটকে এলো বাইরে। দরজার সামনে তখন শেহের এসে দাঁড়িয়েছে। স্বামী হিসেবে অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন না হলেও সে দরজায় কড়া নাড়ল। নুসরাত ভেজা চোখ মেলে তাকাল সামনে। লম্বা চওড়া শেহেরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মুখ ফিরিয়ে নিল।
“কী চাই?”
শেহের ঘরে প্রবেশ করে সামনে এগিয়ে এসে আদির মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
“আদি, মায়ের সাথে আমার কথা আছে। তুই নিচে যা মামুদের কাছে।”
আদি ভীতু গলায় বলল,
“মা বকবে।”
“কিছু করবে না। তুই যা।”
আদি হেলে-দুলে ঘরের বাইরে যেতেই শেহের খট করে দরজা লাগিয়ে দিল। নুসরাত চমকে উঠল ভয়ে।
“দরজা লাগাচ্ছ কেন?”
শেহের পিছু ফিরে নুসরাতের দিকে তাকাল। কান্নায় মুখ শুকিয়ে ফেলেছে মেয়েটা। শেহেরকে নিজের দিকে আগাতে দেখে গুটিয়ে এলো সে। শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,
“বিরক্ত লাগছে শেহের ভাই। আমাকে একটু একা থাকতে দাও।”
শেহের নিঃশব্দে বিছানায় বসল ওর পাশে। আকাশি রঙের শার্টের হাতা টা গুটিয়ে রাখা অনেকটা। হাতের ফোনটা পাশে রেখে সে শান্ত স্বরে বলল,
“তুমি কী চাও? তোমার উপর আমি কোন কিছু চাপিয়ে দেব না। যদি..যদি তুমি মানে..”
নুসরাত ব্রুকুটি করে তাকাল। শেহের কথা গুলিয়ে ফেলছে। তবু নিজেকে শক্ত করে বলল,
“যদি চাও তাহলে আমি ডিভোর্সের ব্যবস্থা করব। জোর করে তো আর ভালোবাসা হয় না। সংসারও হয় না।”
নুসরাত ঠোঁট চেপে বলল,
“আমি কোনোদিনও স্বার্থ ভাইকে ক্ষমা করতে পারব না।”
শুকনো ঢোক গিলে ফের বলল,
“তোমরা কেন এমন করলে বলো তো? আমি আমার পরিবারকে এখন কী বলব? কোন মুখে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলব আমি বিয়ে করেছি? তাও আবার বড় ভাইয়ের বন্ধুকে। সমাজ কী বলবে ভেবেছ একবারও? তোমার পরিবার মানবে এক ডিভোর্সি মেয়েকে? যার কিনা একটা সন্তান আছে।”
শেহের কপাল কুঁচকে তাকাল ওর দিকে। দরজায় বারবার কে যেন শব্দ করছে। বিরক্ত হলো শেহের। নুসরাত হেঁচকি তুলে চোখের পানি মুছল। একবার চোখ তুলে শেহেরের দিকে তাকাল। শেহের বুকে হাত গুঁজে গম্ভীর গলায় বলল,
“সমাজ তোমায় খাওয়াবে নাকি আমি? তোমার অতীত নিয়ে আমার সমস্যা না থাকলে সমাজ দিয়ে আমি বাল ছিঁড়ব? তোমার সন্তানকে আমি আমার সন্তানের স্থান দিলে বাকিরা এখানে কথা বলার সাহস পাবে কোত্থেকে? আর রইল ফ্যামিলি, ফ্যামিলি নিয়ে তোমাকে ভাবতে বলেছি আমি?”
নুসরাত নাক টেনে দুপাশে মাথা ঝাঁকাল। শেহের মৃদু হেসে নুসরাতের মাথায় হাত বুলিয়ে নরম গলায় বলল,
“শোনো রাতপাখি, ভালোবাসলে দুনিয়া ভুলে যেতে হয়। যাকে ভালোবেসে দুনিয়া ভুলেছি, আজ তাকে নিজের করে পেয়ে সেই নিষ্ঠুর দুনিয়াকে আপন করে নেব? আমি শেহের সৈয়দ, আজ তোমার চোখে চোখ রেখে কথা দিচ্ছি—যতদিন এই দেহে প্রাণ থাকবে,ততদিন তোমার এবং আমাদের সন্তানের দিকে কেউ আঙুল তোলার সাহস পাবে না। শুধু একটাবার সাহস করে আমার হাত আঁকড়ে ধরেই দেখো, সুখের কমতি রাখব না।”
নুসরাত হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল সামনের মানুষটার দিকে। এমন পুরুষ এখনকার দিনে আদৌ হয়? নুসরাতের মাঝে তো এমন কিছু নেই—যার জন্য শেহের বিয়ে করতে চাইবে। বরং তার একটা জঘন্য অতীত আছে, গায়ে কলঙ্ক আছে আর আছে এক আকাশ সমান দুঃখ। এই দুঃখ গুলো কী সে ভাগ করতে পারবে শেহেরের সাথে?
•••
ভোরের আলোটা বেশ মিষ্টি। জয়া ভেজা চুল মেলে দিয়েছিল বারান্দায়। হঠাৎ নাজনীনের ডাকে কপাল কুঁচকে ফেলল মেয়েটা। নাজনীন ওয়াশরুম থেকে গলা ছেড়ে সমান তালে ডেকে যাচ্ছে তাকে।
“এই জয়া, তোয়ালে টা দিয়ে যা।”
জয়া ঝাড়া মেরে আঁচল কোমরে গুঁজে ঘরের ভেতর ঢুকতে ঢুকতে বলল,
“ল্যাংটা হয়ে গোসল করতে গেছ নাকি?”
“এক চড় মারব। যেটা বলেছি সেটা কর।”
জয়া সোফার উপর থেকে তোয়ালে নিয়ে ওয়াশরুমের সামনে গেলে নাজনীন হাত বাড়িয়ে দিলে জয়া ভেতরে উকি মেরে বলে,
“আপনাকে সুন্দর লাগছে দেখতে। এভাবে থাকলেই তো পারেন।”
নাজনীন হতবাক বউয়ের কথায়। বেচারা কোনোরকম তোয়ালে কোমরে গুঁজে ঘরে এসে ফ্যানের নিচে দাঁড়াল। কোমরে হাত রেখে কপাল কুঁচকে গম্ভীর চোখে তাকাল জয়ার দিকে। ঠোঁট কামড়ে বলল,
“তুই কী লজ্জা-শরম সব গিলে খেয়েছিস?”
জয়া চেয়ার টেনে নাজনীনকে বসতে বলল সেখানে। নাজনীন বসতেই সে আঁচল টেনে নাজনীনের ভেজা মাথায় রেখে বলল,
“ইচ্ছে আছে তোমাকে এক ডজন ছাও উপহার দেব। লজ্জা থাকলে এটা সম্ভব হবে?”
“শেষ বয়সে আছি, এখন এত ছাও আসবে কোত্থেকে?”
“আমার পেট আছে না?”
নাজনীন মাথা নিচু করে ঠোঁট চাপল। দুটো বোনের মাথায় গোবর ছাড়া কিচ্ছুটি নেই। জয়া ওকে হাসতে দেখে চোয়াল দুহাতের মুঠোয় নিয়ে নিজের দিকে ফেরাল। কড়া গলায় বলল,
“এভাবে হাসবে না। হাসির কিছু বলেছি আমি?”
নাজনীন কোমর চেপে ধরল ওর। জয়ার পেটে নাক ঘষে হঠাৎ উচ্চস্বরে হেসে উঠল। রাগ হলো মেয়েটার। হাসির কিছু বলেছে সে? এমন পাগলের মতো হাসার কারণ কী? নাজনীন ওকে ঘুরিয়ে কোলে বসাল। ছোট্ট শরীরটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মাথায় চুমু এঁকে বলল,
“বড় হবি কবে? আজীবন এমন বাচ্চা সেজে বসে থাকলে আমার সংসার পানিতে ডুববে।”
জয়া বলল,
“আমি কী বড় হইনি?”
“উহুম! এখনও সেই আগের ছোট্ট জয়াই রয়ে গেছিস। আর একটু বড় হো তাড়াতাড়ি, তারপর তোর কোলে একটা পুঁচকু সোনা এনে দেব।”
জয়া লাজুক হাসল। সেটা নাজনীনের আড়ালে। সোজা হয়ে বসে ওর গলা জড়িয়ে ধরে মাথা রাখল ঘাড়ে।কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
“তোমাকে একটা চুমু খাই?”
নাজনীন ঠোঁট টিপে বলল,
“আমার বউ আমাকে মারবে। বড্ড ফাজিল, স্বামীর গায়ে হাত তোলে।”
জয়া কামড় বসাল ঘাড়ে। নাজনীন সয়ে নিল ব্যথাটুকু। যেমন শ্বশুর ঠিক তেমন শ্বশুরের মেয়ে। এ জীবনে এর চেয়ে বেশি আশা করা বোকামি।
•••
কায়নাত সবে চোখ বন্ধ করেছিল। হঠাৎ অর্ণ টেনে তাকে বিছানায় বসাল। কায়নাত চোখ খিঁচে রেখে বলল,
“একটু ঘুমাতে দিন। এখন না ঘুমালে আমার মাথা ব্যথা করবে।”
অর্ণ গায়ে শার্ট জড়িয়ে কায়নাতকে টেনে বিছানা থেকে নামাল। তৎক্ষণাৎ অর্ণ কায়নাতকে ফ্রেশ হয়ে আসতে বলে। মেয়েটা ঘুমঘুম চোখে ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানায় বসতেই অর্ণ কপাল কুঁচকে কায়নাতের চুলের দিকে তাকায়। একদম বাঁদরের লেজের মতো লাগছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে। আজ সে লাস্ট মিটিং-এ জয়েন করবে। খুব সম্ভবত রাতে মিটিং ফিক্সড করা হয়েছে।
“এই মেয়ে, পাশে এসে বসো।”
কায়নাত পাশে গিয়ে বসল। অর্ণ চিরুনি এনে কায়নাতের লম্বা চুলে রাখল। কালো কাজলের মতো চিকচিক করছে চুল গুলো। অর্ণ চুলে নাক ঘষল। কায়নাত পিছু ফিরে বলল,
“কী সমস্যা? ঘুমে আমার মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আর আপনি নাটক করছেন?”
“তোমার একা ঘুম পাচ্ছে, আমার পাচ্ছে না? তুলে কিন্তু আছাড় মারব,বেয়াদব মহিলা।”
কায়নাত কথা বলল না। অর্ণ লম্বা চুল গুলো কোনোরকম বেণী গেঁধে গাল ভরে হাসল। বাচ্চাদের মতো বেনীর গোছা টেনে ধরতেই কায়নাত ব্যথায় আহাজারি করে উঠল।
“আপনি আমায় মারছেন কেন?”
অর্ণ তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে আবার ঝুঁকে এসে মেয়েটার গাল ঠেসে চুমু খেল।তারপর তৈরি হলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
নির্জন জায়গায় শুধু একটা অদ্ভুত ধরনের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তার দুপাশে ধানের ক্ষেত। সবে বড় হচ্ছে ওগুলো। কায়নাত এদিক ওদিক চোখ বুলিয়ে বলল,
“আপনি আমাকে কোথায় নিয়ে এলেন? চারপাশে তো কেউ নেই।”
অর্ণ একটু ঝুঁকে ছোট্ট বউয়ের কানের পাশে এলোমেলো চুল গুঁজে দিয়ে বলল,
“আপনি পাখি ভালোবাসেন?”
কায়নাত লজ্জায় মাথা ঝাঁকাল। অর্ণ বলল,
“খাঁচায় বন্দি পাখি পছন্দ নাকি খোলা আকাশের স্বাধীন পাখি?”
“অবশ্যই স্বাধীন পাখি।”
অর্ণ মুচকি হেসে কায়নাতের হাত চেপে ধরল। পা বাড়াল সামনের গাড়িটার দিকে। বিশাল বড় একটা গাড়ি। ভোর বেলার সূর্যের আলোয় চারপাশটা তখন সোনালী রঙে রাখিয়েছি চারপাশ। গাড়ির ড্রাইভার সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল। অর্ণ তাকে কিছু ইশারা করতেই তিনি গাড়ির সাইডের কালো পর্দার ফিতা কায়নাতের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,
“ম্যাম, এটা ধরে টানলেই হবে।”
কায়নাত বোকা চোখে ঘাড় উঁচু করল। বিড়াল ছানার ন্যায় ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,
“আমি কিছু বুঝতে পারছি না।”
অর্ণ বলল,
“দড়ি ধরে টান দাও।”
কায়নাত তাই করল। কালো রঙের দড়িটা টান দিতেই গাড়ির ডান সাইড উন্মুক্ত হলো। সঙ্গে সঙ্গে কিছু রঙিন পাখি সাঁই সাঁই করে ঝাঁকিয়ে বেরিয়ে আকাশে উড়ে গেল। মুহূর্তেই মনে হলো পুরো আকাশ রঙিন পাখিতে ভরে গেছে। তারা দল ধরে উড়ে যাচ্ছে খোলা আকাশে। যেখানে পুরো দুনিয়াটাই তাদের কাছে স্বাধীন। কায়নাত চোখ বড় বড় করে অবাক নয়নে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। তার ঠিক পেছনে অর্ণ ট্রাউজারের পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে। কায়নাত ঝট করে পিছু ফিরল। আনন্দে প্রায় লাফিয়ে উঠে চিৎকার করে বলল,
“এসব কী ছিল? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।”
অর্ণ বলল,
“পছন্দ হয়েছে?”
কায়নাত ঘনঘন মাথা নাড়িয়ে বলল,
“আমাকে একটা বাগান বাড়ি বানিয়ে দিবেন। সেখানে পাখি পালব আমি।”
অর্ণ চুপ করে মেয়েটার চোখের আনন্দ উপভোগ করছিল। আবার সে আকাশ পানে তাকিয়েছে। উরু উরু মনটা কেমন ছটফট করছে।
( নোট পড়বেন সবাই। #প্রেমবসন্ত_২ নিয়ে আবার কিছু কথা বলি। গতকাল রাতে আমি একটা পোস্ট করেছিলাম এই বিষয়ে। সময়ের অভাবে কারোর রিপ্লাই এখনও করা হয়নি। গত সিজনে যেহেতু কিছু জুটির পূর্ণতা আমি দিইনি, এবং #প্রেমবসন্ত যে আমি বইয়ের পাতায় আনব কখনও এটাও ভাবিনি। বই বের করার সিদ্ধান্ত হঠাৎ নিয়েছিলাম। ওই সিজন যেহেতু বইয়ে আসবে কিছুটা চেঞ্জ করে তাই ভেবেছিলাম সিজন-২ এ ওদের পূর্ণতা দিব। আমার লেখা প্রত্যেকটা চরিত্র আমার পাঠকদের বড্ড প্রিয়। ওদের অপূর্ণতার জন্য অনেক পাঠক মন খারাপ করেছিল। শেষে যখন এই সিজন লেখা শুরু করলাম কিছু পাঠকদের মতামত ভিন্ন হতে শুরু করল। আমার রিকোয়েস্ট, আমি যেভাবে লিখছি আমাকে লিখতে দিন। যদি কারোর বোরিং ফীল হয় তাহলে গল্প স্কিপ করুন। খুব শীঘ্রই নতুন জুটি এবং নতুন প্লট নিয়ে ফিরব।)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৭.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪.১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৬(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৩