Golpo romantic golpo প্রেমবসন্ত প্রেমবসন্ত সিজন ২

প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪১


প্রেমবসন্ত_২ ।৪১।

হামিদাআক্তারইভা_Hayat

বাগান টা বেশ নীরব। আর সেই বাগানেই অবস্থান গেড়েছে এক সপ্তদশী। রঙিন লাইট খানা হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে খানিকক্ষণ আগে। সে ভীতু গলায় বলল,
“শুনছেন?”

পাশ থেকে অর্ণর গম্ভীর স্বর ভেসে এলো,
“বলুন।”

“চলুন না ঘরে যাই। আমার ভয় করছে অনেক।”

“ঘরে গেলে ভয় লাগবে না?”

“ওমাহ! ঘরে কী হয়েছে? ভয় লাগবে কেন?”

“সেখানে তোমার হাসব্যান্ড একা।”

কায়নাত নাক ফুলিয়ে বলল,
“আপনি জানেন,আপনি যে একটা খারাপ লোক?আপনাকে আমি এতদিন ভালো ভেবেছিলাম।”

অর্ণ নিজের কাজে মন দিয়ে বলল,
“সে তুমি ভাবতেই পারো,কিন্তু আমি কোনোদিনই ভালো ছিলাম না।আর যাইহোক মিসেস অর্ণ চৌধুরীর বেলায় তো একদমই নয়।”

কায়নাতের ইচ্ছে করছে অর্ণকে বেশ কটা কথা শুনিয়ে দিতে।কিন্তু বেহায়া লোকটার বেহায়া মুখ থামবে না সে চুপ না করলে।অর্ণ ঠোঁট টিপে হাসল।বাইরের অন্ধকারে চারপাশ দেখা বড্ড কষ্ট। হঠাৎ কায়নাত অনুভব করল, অর্ণর বলিষ্ঠ শরীরটা একদম ঘেঁষে এসেছে ওর দিকে। কায়নাত কিছু বুঝে ওঠার আগেই অর্ণর তপ্ত আঙুলগুলো ওর নিকাবের পাশ দিয়ে কানের পেছনের চুলে আলতো স্পর্শ করল। অর্ণ যত্ন করে একটা তাজা লাল গোলাপ কায়নাতের কানের চুলে গুঁজে দিতে দিতে ফিসফিসিয়ে বলল,

“আপনাকে আজ অর্ণ চৌধুরীর একান্ত এক টুকরো নিষিদ্ধ স্বর্গ মনে হচ্ছে, বেয়াদব মহিলা।”

থরথর করে কেঁপে উঠল মেয়েটা। লাজে খানিক গুটিয়ে নিল নিজেকে। লজ্জাবতীর ন্যায় মাথা নোয়াল। অর্ণকে সে নতুন রূপে দেখছে। লোকটা এত গম্ভীর, এত একরোখা টাইপের, সেই লোক কিনা ভালোবাসা উজাড় করে দিচ্ছে। ছোট্ট বাচ্চার মতো করে বুকে ঝাঁপটে ধরছে। পা শিরশির করছে তার। এমন নয় যে সে চায়নি অর্ণ তাকে ভালোবাসুক, বরং সব সময় চেয়েছে বুকে যত্ন করে আগলে রাখুক। কিন্তু আজ বড্ড অভিমান হয়েছিল তার। অভিমানে সারাটা দিন লোকটার সাথে সে কথা বলেনি। অর্ণর উন্মাদনা প্রখর—যা তার সহ্যের বাইরে। অর্ণ কী এটা বোঝে? একটুও না! সে শুকনো ঢোক গিলে খানিক নিভু স্বরে বলল,

“ঘুম পাচ্ছে আমার।”

অর্ণ ফোন পকেটে ঢুকিয়ে উঠে দাঁড়াল। কায়নাতকে নিয়ে বাড়ির ভেতর গিয়ে দোতলার একটা ঘরে প্রবেশ করল। ছোট একটা ঘর, কী মারাত্মক সৌন্দর্যে ঘিরে আছে। কায়নাত লাজুক চোখে একবার অর্ণকে দেখে দরজা লাগিয়ে দিল। গায়ের বোরকা খুলে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে ঘড়িতে সময় দেখে নিল। গত কয়েকদিন ধরে তার নামাজ-কালাম লাটে উঠেছে। ভাবল এখন পড়বে। অর্ণ তখন কায়নাতকে নামাজে দাঁড়াতে দেখে মিনিট তিনেক পর পরিষ্কার হয়ে এসে তার পাশে দাঁড়াল। কায়নাত অনুভব করছিল কিছু একটা। অর্ণ এই প্রথম তার সাথে দাঁড়িয়েছে। কায়নাত যখন হাত তুলে মোনাজাত ধরেছিল, তখন শব্দ করে হু হু করে ডুকরে উঠেছিল। অর্ণ লম্বা শ্বাস টেনে কায়নাতের কোলে মাথা রেখে শুলো। কান্নায় মেয়েটার নাকের পাতা ফুলে উঠেছে। ভেজা দৃষ্টি নত করে অর্ণর চোখে চোখ রাখতেই অর্ণ কেমন অদ্ভুত নরম গলায় বলল,

“আপনি কাঁদছেন কেন?”

কায়নাত চোখ মুছে বলল,
“এমনি।”

অর্ণ খানিকক্ষণ চুপ থেকে পকেট থেকে একটা টিস্যুতে মুড়িয়ে রাখা কিছু একটা বের করল। তারপর সেখান থেকে চকচকে স্বর্ণের একটা নাকফুল বের করল। অর্ণ বোধহয় একটু লজ্জা পাচ্ছে কথা বলতে। তবু লজ্জা পাশে রেখে কায়নাতের হাতে ওটা দিয়ে বলল,
“দাদি বলেছিল তোমায় একটা নাকফুল কিনে দিতে। স্বামীরা নাকি দেয়। আমি তো আগে জানতাম না এটা।”

কায়নাত অবাক চোখে তাকিয়ে তখন। অর্ণ নিজে কিনে এনেছে এটা? কায়নাতকে অমন করে তাকিয়ে থাকতে দেখে অর্ণ উঠে বসল। কায়নাতের চিবুক উঁচিয়ে ধরে আবদার করে বলল,
“আমি পরিয়ে দেই? ব্যথা পাবে?”

কায়নাত উত্তর দিল না। অর্ণও আর অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন বোধ করল না। কায়নাতের চিবুক উঁচিয়ে খুব সাবধানে সময় নিয়ে সেটা পরিয়ে দিল। এখন দেখে মনে হচ্ছে নতুন বউ। কায়নাত শুকনো ঢোক গিলে উঠে দাঁড়াল। জায়নামাজ ভাঁজ করে আড়চোখে একবার আয়নার দিকে তাকিয়ে খোলা জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। দখিনা হাওয়া এসে সর্বাঙ্গ ছুঁয়ে দিচ্ছিল তার। অর্ণর বোধহয় বড্ড হিংসা। সামান্য বাতাসকে লোকটা সহ্য করতে পারে না? সে মেয়েটার একদম সামনে এসে দাঁড়াল। কায়নাত মুখ তুলে লাজুক চোখে তাকাল। চাঁদের আলোয় মেয়েটার মুখ খানা রুপোর মতো চিকচিক করছে। কায়নাত দুপা পিছিয়ে যেতেই অর্ণ হঠাৎ তার হাত খোঁপ করে ধরে ফেলল। টেনে কাছে এনে উল্টো করে জড়িয়ে ধরল বুকের সাথে। কায়নাতের পিঠ তখন অর্ণর শক্ত-পোক্ত বুকের সাথে লেপ্টে আছে।

“ম্যাডাম!”

চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলল মেয়েটা। লজ্জায় কাঁদো কাঁদো মুখ তার। অর্ণর গম্ভীর কণ্ঠস্বর আজ বড্ড আলাদা। অর্ণ লম্বা শ্বাস টেনে ফিসফিস করে বলল,
“গতকাল রাতে আপনি আমাকে একটা গান গেয়ে শুনিয়েছিলেন। মনে আছে ম্যাডাম?”

কায়নাত ফ্যালফ্যাল করে ঘাড় উঁচু করে পেছন থেকে অর্ণকে দেখে বলল,
“বাঁশের গলায় গানও গেয়েছিলাম?”

“একটা নয়,দুটো গেয়েছিলেন।”

“কী গান?”

অর্ণ ঠোঁট টিপে হালকা ঝুঁকে এসে কানের পিঠে মুখ গুঁজে বলল,
“একটা আমার প্রেমে পুড়তে চেয়েছিলেন। আরেকটা…”

কায়নাত চমকে উঠে বলল,
“আরেকটা?”

অর্ণ হেসে ফেলল। পাশের চেয়ারে আরাম করে বসে হঠাৎ কায়নাতকেও কোলে বসাল। লজ্জায় মেয়েটার থুবুথুবু ভাব। পারলে এখনই ছুটে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। অর্ণ তার চিবুক উঁচিয়ে ধরল—যেন আরও লজ্জা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি চলছে। হঠাৎ একদম হঠাৎ করেই অর্ণ গলায় স্বর তুলল আলিঙ্কে অর্ধাঙ্গিনীকে আঁকড়ে ধরে।

  “মরণ দেখি আমার ওগো তোমার ঐ চোখে..!
   পাগল দাও না করে এই রাতে আমাকে..!

     তৃষ্ণা, এত তৃষ্ণা প্রেমে হইনি যে আগে..!
    উতল করো আমায়, আজ বন্য সোহাগে!”

কায়নাত হতভম্ব হয়ে বরফের মতো চোখ বড় বড় করে অর্ণর নেশাতুর আঁখি জোড়ায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। অর্ণ ঠোঁট চেপে বউয়ের চোখের দিকে তাকাল। মেয়েটার গলা শুকিয়ে কাঠকাঠ অবস্থা। সে কী সত্যি এই গান গেয়েছিল? নাকি অর্ণ মজা করছে তার সাথে? মোটেও না! অর্ণ বলল,
“মিসেস অর্ণ, আপনার গলায় গান টা বেশি মানাচ্ছিল।”

কায়নাত লজ্জায় আঁচল মুখে চেপে বলল,
“অসম্ভব! এমন বেহায়া গান আমি জীবনেও গাইনি। আপনি বাজে কথা বলছেন।”

“আপনার মনে হচ্ছে আমি বানিয়ে বানিয়ে বলছি এসব?”

“অবশ্যই।”

অর্ণ চোখ ছোট ছোট করে তাকাল। বেয়াদব একটা বউ জুটেছে কপালে। বড্ড অবাধ্য নারী। অর্ণ চৌধুরীর একান্ত ব্যক্তিগত অবাধ্য বেয়াদব নারী। কেটেছে অনেকটা সময়। কারোর মুখেই কোনো কথা নেই। অর্ণ চেয়ারে হ্যালান দিয়ে একহাত ভাঁজ করে মুখের উপর রেখে অন্যহাত কায়নাতের কোমরে রেখেছে। মেয়েটার চোখে ঘুমু ঘুমু ভাব। প্রায় ঢোলে পড়ে যাচ্ছে। অর্ণ বুকে জড়িয়ে ধরল তাকে পাঁজাকোলে নিয়ে। কায়নাত পা ভাঁজ করে বিড়ালের মতো গুটিয়ে এলো ওর বুকে। মনে হচ্ছে যেন স্বামীর এই শক্ত বুকটাই যেন একমাত্র ভরসার জায়গা। শান্তির জায়গা।

•••

নাজনীন অতিষ্ট হয়ে ঘরে বসে আছে। আব্দুর চৌধুরী লাগাতার কল করে যাচ্ছে তাকে। বেচারা ভেবে পাচ্ছে না কোন শ্বশুর এমন সময় জামাইকে বিরক্ত করে? ঘটে কী একটুও বুদ্ধি নেই? তার খুব করে বলতে ইচ্ছে করল, “শ্বশুর আব্বা,আপনি দয়া করে আপনার মেয়েকে নিয়ে যান। নাহলে বাপ-মেয়ের জ্বালায় বয়সের আগেই কবরে যেতে হবে আমার।” সে কী আর বলতে পারে এসব? জয়া কানে ফোন নিয়ে গুটি গুটি পায়ে নাজনীনের সামনে এসে ফোন বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“আব্বা কথা বলবে আপনার সাথে।”

নাজনীন চোখের ইশারায় মানা করেও কাজ হলো না। জয়া জোর করে ওর কানে ধরিয়ে দিল। নাজনীন দীর্ঘশ্বাস ফেলে সালাম দেয়ার আগেই ওপাশ থেকে আব্দুর চৌধুরী ধমক দিয়ে বললেন,
“বেয়াদব ছেলে! কোনো শিক্ষা-দীক্ষা নেই তোমার?”

নাজনীন হতভম্ব হয়ে বলল,
“আমি আবার কী করলাম চাচা?”

“আবার মুখে মুখে তর্ক করছো? সালাম দিয়েছ একবারও?”

নাজনীন নাক মুখ কুঁচকে বলল,
“ওই সময় টুকুও তো আপনি দেননি।”

“আবার চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলা হচ্ছে? তোমাদের মতো ছেলেদের সাথে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে ভুল হয়েছে আমার। আরেক বেহায়া বেয়াদব ছেলে তো আমার কলই ধরছে না। কী সমস্যা তোমাদের?”

নাজনীন বলল,
“আপনি সব সময় এমন আগুন হয়ে থাকেন কেন? ছোট আম্মার সাথে ঝগড়া হয়েছে?”

“এক চড় মারব বেয়াদব।”

নাজনীন বিরক্ত হয়ে কল কেটে বিছানায় ছুড়ে মারল। সঙ্গে সঙ্গে ফের ফোন বেজে উঠল শব্দ করে। জয়া সেটা ধরতে গেলে নাজনীন দাঁত চেপে ধমক দিয়ে বলল,
“হাত-পা ভেঙে গলায় ঝুলিয়ে রাখব জয়া। বাপের চামচামী করলে ভুলে যাব তুই আমার বউ।”

জয়া কপাল কুঁচকে সামনে বিছানায় পা গুটিয়ে বসে থাকা নাজনীনের চোয়াল ছোট্ট হাত দিয়ে চেপে ধরে বলল,
“তুমি আমায় ভয় দেখাচ্ছ? তুমি জানো আমি কে?”

নাজনীন চোখ পাকাল। জয়া দ্বিগুণ চোখ পাকিয়ে বলল,
“একদম চোখ গরম করবে না। তোমাকে আমি ভয় পাই না। আব্বার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না একদম। দিন শেষে এই আমার কাছেই ফিরতে হবে।”

নাজনীন জয়ার হাত সরিয়ে দিয়ে বলল,
“জীবনের বড় ভুল তোকে বিয়ে করে বউ বানানো।”

জয়া মুখ বাঁকিয়ে বিছানায় উঠে বালিশে মাথা রাখল। নাজনীন ঘরের লাইট বন্ধ করে এসে পাশে শুয়ে হালকা গলা পরিষ্কার করে বলল,
“মনটা বউ বউ করছে।”

এই বলে জয়ার কাঁধে হাত দিতেই জয়া ঝাঁমটা মেরে হাত সরিয়ে দিল।
“নাটক করো নাতো! এই ভালোবাসা রাত হলেই বেড়ে যায় নাকি? কাছে আসবে না একদম।”

“এমন করছিস কেন? তোকে ভালোবাসি না আমি?”

“ওমাহ! তুমি আমায় ভালোবাসো? এই মাত্র না বললে আমাকে বিয়ে করা তোমার জীবনের বড় ভুল? এখন আবার সোহাগ উথলে উঠছে কেন?”

নাজনীন বিরক্ত হলো এই মেয়ের বাড়তি কথা শুনে। সে আর এগোতে সাহস পেল না ,উল্টো ফিরে শুয়ে গমগমে গলায় বলল,
“তোর সাথে সংসার করে শান্তি পাচ্ছি না। আরেকটা বিয়ে করব দাঁড়া।”

জয়া কাঁথা শরীরে জড়িয়ে বলল,
“বিয়ে তো করবেই, তবে তার আগে দুজনের জন্য দুটো কবর খুঁড়ে রেখো। তোমার আর তোমার ওই নতুন বউয়ের।”

নাজনীন দাঁত কিড়মিড় করে নিজের বালিশটা ঠিক করে নিয়ে বিড়বিড় করল,
“বাপের মতো মেয়েও একটা আস্ত হিটলার!”

•••

“এই রাত করে চুপি চুপি আমাকে বাগানে ডাকার অর্থ কী?”

আদাল কপাল কুঁচকে ফেলল।
“অপরাধ হয়েছে?”

জারা দোলনায় বসে পা নাড়িয়ে বলল,
“অপরাধ নয় বলছো? আমি কিন্তু একটা মেয়ে মানুষ। এত রাতে একটা ছেলের সাথে একা বসে কথা বলা বুঝি খুব স্বাভাবিক নজরে দেখবে মানুষ?”

“তুমি আজ-কাল একটু বেশিই মানুষের কথা ভাবছ বলে মনে হচ্ছে না?”

জারা জোরপূর্বক হাসল। খোলা আকাশ পানে দৃষ্টি রেখে বলল,
“বদনাম হলে সর্বনাশ আমার হবে, তোমার নয়।”

আদাল তার পাশে বসে বলল,
“আর যদি সেই বদনাম আমার নামে যুক্ত হয়?”

জারা বুঝল না। ফ্যালফ্যাল করে তাকাল আদালের দিকে। বলল,
“বড্ড বেশি বকবক করো তুমি। বলো তো কেন ডাকলে আমায়?”

আদাল হাত ঘড়ির দিকে দৃষ্টি রেখে বলল,
“সবে বাজে ১১টা। স্বার্থ ভাই তো এখনও বাড়ির বাইরে। আর তোমার কাছে এটা খুব বেশি রাত মনে হচ্ছে?”

জারা বলল,
“স্বার্থ ভাই কোথায় গেছে?”

“জানি না। বলল কিছু কাজ আছে।”

জারা উঠে দাঁড়াল। আদাল বলল,
“চলে যাচ্ছ?”

জারা উল্টো ফিরেই বলল,
“তুমিও যাও, অনেক তো রাত হলো।”

জারা গুটি গুটি পায়ে প্রস্থান করল। আদাল তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইল অনেকটা সময়। অনুভূতি গুলো আয়ত্তে রাখা বড্ড কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আদৌ এই অবাধ্য,নিষিদ্ধ অনুভূতির কী নাম দেয়া যায়? শুধু ভালোলাগা নাকি..?

রাত পেরিয়ে সকাল হলো। দিন গিয়ে ধরণীতে নামল সন্ধ্যা। আজ রিসোর্টে ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও যাওয়া হয়নি জারার জন্য। সে কাছে পিঠেই এক আত্মীয়র সাথে দেখা করতে গেছে। সন্ধ্যা নাগাদ স্বার্থ হেলে-দুলে ড্রয়িংরুমে নেমে এলো। সেখানে উপস্থিত অনেকেই ছিল। আদি শেহেরের কোলে উঠে মায়ের ফোন দিয়ে গেম খেলছে। স্বার্থ ঠাস করে সোফায় বসে পড়ল নিশার পাশে। প্রেম ওপাশ থেকে দাঁত কিরমির করে বলল,
“তুমি আমার বোনের ধারের কাছে এত চিপকে থাকবে না স্বার্থ ভাই।”

স্বার্থর সুন্দর ফুরফুরে মেজাজ খিঁচে এলো। সে নিশার কাঁধ জড়িয়ে ধরে বলল,
“এক চটকানা মেরে তোর চৌদ্দ গুষ্টির নাম ভুলিয়ে দেব।”

নিশা স্বার্থর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বলল,
“ভাইয়া তো ঠিকই বলেছে। বিয়ে করতে তোমার এত সমস্যা কীসের?”

স্বার্থ ঠোঁট টিপে নিশার দিকে তাকাল। বাচ্চা মেয়েটা কপাল কুঁচকে রেখেছে। আজ নিজ থেকে বিয়ের আবদারও করছে। স্বার্থ বলল,
“বিয়ে করতে চাচ্ছিস?”

নিশা মাথা নাড়ায়। প্রেম বলে,
“বেহায়ার সঙ্গ পেয়ে আমার বোনটাও বেহায়া হয়ে গেছে। বলি তোদের কী শরম লজ্জা নেই? কোন মুখে বড়দের সামনে এমন বেহায়ামি করছিস?”

স্বার্থ মাথা নাড়িয়ে উঠে দাঁড়াল। শেহেরের কোল থেকে আদিকে উঠিয়ে শেহেরকে বলল,
“চল, বাইরে গিয়ে একটু হেঁটে আসি। গ্রামটা নাকি বেশ সুন্দর।”

শেহের উঠে দাঁড়াল। নিশা নুসরাতকে বলল,
“চল না আপু, শেহের ভাইদের সাথে একটু হেঁটে আসি।”

নুসরাত মানা করল না। তারও বিরক্ত লাগছে বাড়িতে। ওরা সবাই বেরিয়ে এলো বাংলো থেকে। গ্রামের একটু ভেতরে এই বাংলো টা। আশেপাশে বেশ কয়েকটা বাড়ি আছে। ছোট্ট বাজারটা মাঝারি বাগান পরিয়ে যেতে হয়।

•••

নির্জন রাস্তার দুধারে ঘন ঝোপঝাড় আর বড় বড় গাছগুলো অন্ধকারের বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে। চাঁদের আলো এখানে গাছের পাতার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে, ফলে চারপাশটা বড্ড বেশি ছমছমে। নুসরাত ভয়ে শেহেরের শার্টের হাতা খামচে ধরে কুঁকড়ে আছে। শেহের নিজের পকেট কয়েকবার হাতড়েও ফোনটা পেল না। সে বিরক্তি নিয়ে বলল,
“ধ্যাত! ফোনটা স্বার্থর কাছেই ফেলে এসেছি মনে হয়। তুমি তোমার ফোন দিয়ে ওকে একটা কল দাও তো রাতপাখি।”

নুসরাত নিচু স্বরে মিনমিন করে বলল,
“আমার ফোন তো আদির কাছে। ও গেম খেলছিল।”

শেহের একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চারপাশটা দেখল। স্বার্থ আর নিশা ওদের একটু আগে এই নির্জন রাস্তার দিকে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই দুজন কোথায় যেন গায়েব হয়ে গেল। হঠাৎ অন্ধকারের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঝোপের আড়াল থেকে কয়েকটা ভারী পায়ের শব্দ পাওয়া গেল। নুসরাত ভয়ে শেহেরের পেছনে লুকাল। শেহের সতর্ক হয়ে গলা উঁচিয়ে ডাকল,
“স্বার্থ? নিশা? মজা বন্ধ কর, সামনে আয়!”

কোনো উত্তর এলো না। তার বদলে তিন-চারজন অপরিচিত মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এলো। তাদের একজনের হাতে জ্বলন্ত টর্চ, যা সে সরাসরি শেহেরের চোখের উপর ধরল। নুসরাত আতঙ্কে চিৎকার দিতে চাইল, কিন্তু ভয়ে ওর গলা দিয়ে কোনো স্বর বেরোল না। পেছন থেকে প্রায় গুটিয়ে এলো ওর নিকট।

(একটু ছটফট করো আগামী পর্বের জন্য। অনেক রেসপন্স চাই কিন্তু। তোমরা কীপটামি করলে আমিও করব😚)

চলবে..?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply