প্রেমবসন্ত_২ ।৩১.১।
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
অর্ণ জয়ার কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে দাঁড়িয়ে রইল।ভাব খানা এমন যেন সে দুধে ধোঁয়া তুলসী পাতা।জয়া এগিয়ে এসে ঘাড় উঁচু করে বলল,
“আমার বোন বুঝি ঠোঁটে আজ বেশি লিপস্টিক মেরেছিল?”
কায়নাত রান্নাঘর থেকে আঁচল চেপে বের হলো তখন।নাজনীন,নুসরাত সবাই ড্রয়িংরুমে উপস্থিত সেই সময়ে।জয়া বাঁকা চোখে কায়নাতকে দেখল।অর্ণ আড়চোখে কায়নাতকে দেখে ওর আঁচল টেনে ঠোঁট মুছতে মুছতে বলল,
“নেক্সট টাইম এসব রঙ ঠোঁটে লাগাবে না,বেয়াদব মহিলা।”
কায়নাত মুখ কুঁচকে আঁচল টেনে মুখ ঢাকল।কী নির্লজ্জ লোক!অর্ণ সোজা হয়ে নাজনীনকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“বউকে মানুষ বানাও নাজনীন ভাই।তোমার বউ মানুষের সংসার ভাঙবে।”
জয়া মুখ কালো করে বলল,
“আমি করলাম টা কী?আপনি আমার বোনের লিপস্টিক খেয়েছেন,সেটা বললেও দোষ?”
কায়নাত নাক কুঁচকে বাড়ির বাইরে ছুটে যাওয়ার আগে দাঁত চেপে বলল,
“তোর জামাইকে এখন তুইও খাওয়া।”
কায়নাত প্রস্থান করলে অর্ণও বাঁকা চোখে জয়াকে দেখে সিঁড়ির দিকে যেতে যেতে বিড়বিড় করে কিছু বলে।ওরা দুজন সরতেই ড্রয়িংরুম জুড় হাসির শব্দে ফেটে পড়ে।নিশা হাসতে হাসতে পেট চেপে ধরেছে।জয়া কপাল কুঁচকে নাজনীনের দিকে তাকায়।নাজনীন বুকে হাত গুঁজে গম্ভীর চোখে জয়ার দিকে তাকিয়ে ছিল।জয়া হালকা গলা কেঁশে ফিসফিস করে বলল,
“আমি তো ওসব রং টং মাখি না।আপনাকে চুমু খেলেও কেউ ধরতে পারবে না।”
নাজনীন অদ্ভুত চোখে জয়াকে দেখে বলে,
“তুই কী আদৌ মানুষ হবি না?”
“আমি আবার কী করলাম?”
“সবার সামনে অমন গলা ফাটিয়ে এসব বলার খুব দরকার ছিল?”
“কেন বলব না?দেখেছেন অর্ণ ভাইয়ার অবস্থা?”
“তাতে তোর কী?”
জয়া মুখ কালো করল।একটা মানুষ তাকে বোঝে না।রেগে-মেগে হাঁটা ধরল বাইরে।রান্নার কাজ যখন চলমান,তখন অর্ণ নিজের ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাগানে তাকিয়ে ছিল।কায়নাত মাথায় লম্বা কাপড় দিয়ে শাশুড়িদের সাথে বসে হাতে হাতে কাজ করছিল।হঠাৎ ফোন বেজে উঠল তার।স্বার্থ কল করেছে।অর্ণ ফোন কানে ধরে খানিকক্ষণ কথা বলল।স্বার্থ আর শেহের খুলনা এসেছে আজ।ওরা সবাই খুলনা থেকেই সিলেট যাবে।সে ঘর থেকে বেরিয়ে বাড়ির বাইরে বের হলো।সদর দরজা পেরিয়ে যখন বাগান পেরিয়ে যাচ্ছিল,তখন বাগান থেকে ডাক পড়ল তার।প্রেম বড় দোলনায় পা ভাঁজ করে শুয়ে শুয়ে ফল খাচ্ছিল আরাম করে।অর্ণ নিকটে আসতেই প্রেম সোজা হয়ে বসে বলল,
“যাচ্ছ কোথায়?”
অর্ণ বলল,
“বিয়ে করতে।”
কায়নাত আতঙ্কে পাশ থেকে উচ্চস্বরে আওয়াজ করে বসল।বটি ছিল পাশে।যেটা দিয়ে সে মাংসের জন্য আলু কাটছিল।কায়নাতের ব্যথাতুর শব্দ কানে পৌঁছাতেই অর্ণ পাশ ফিরে তাকাল।বেহরুজ বেগম কায়নাতের হাত ধরে ধমক দিয়ে বললেন,
“কতবার বলেছি এসব করতে হবে না?এখন গেল তো কেটে?”
কায়নাত দাঁত চাপল ব্যথায়।অর্ণ ফোঁস করে চাপা নিশ্বাস ফেলে বসল কায়নাতের পাশে।তার হাত টেনে ধরতেই কায়নাত হাত টেনে নিতে চাইল।পারল না।অভিমানী মুখ তখন একটু হয়ে আছে।কায়নাতকে উঠিয়ে দিলেন বেহরুজ বেগম।অর্ণ হাতে ব্যান্ড-এইড লাগিয়ে বের হলো বাড়ি থেকে।বাড়ি ভর্তি মানুষ হলো দুপুর বেলায়।চৌধুরী বাড়ির সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেন মতিউর চৌধুরী।সাথে ছিলেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী।দরজার সামনে নাজনীন দাঁড়িয়ে ছিল কাজের জন্য।আব্বাকে বাড়ির ভেতর আসতে দেখে মুখ খানা কঠিন হলো খানিক।মতিউর চৌধুরী নিকটে এগিয়ে আসতেই নাজনীন সালাম করল তাকে।তিনি সালামের উত্তর নিতেই সালেখা বেগম,অর্থাৎ মতিউর চৌধুরীর দ্বিতীয় স্ত্রী নিজ থেকেই আগ বাড়িয়ে বললেন,
“বড় তো আমিও,সালাম করবে না নাজনীন?”
নাজনীন ভীষণ নরম গলায় বলল,
“দুজনকে একসাথেই করেছি ছোট আম্মা।ভেতরে আসুন।”
তাদের ভেতরে নিয়ে যেতেই মহলের পরিবেশ অন্যরকম হয়ে উঠল।নিধি কিংবা মাহি কারোর মুখেই হাসি নেই।সুহা দৌঁড়ে এসে আব্বার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল।মতিউর চৌধুরী কিছুটা হতভম্ব হয়ে আচমকা প্রশ্ন করে বসলেন,
“কে তুমি?”
সুহা আশ্চর্য হয়ে আব্বার কুঁচকে আসা মুখ খানা দেখল।লজ্জায় সরে এলো দূরে।নিজের বাবাই যখন নিজের সন্তানকে চিনতে পারে না,তখন সেখানে বলার আদৌ কিছু থাকে?
দূরে রেখা বেগমের বুক কামড়ে ধরেছে এই দৃশ্য দেখে।কী পাপ যে তিনি করেছিলেন,আজ অব্দি বুঝতে পারলেন না।এমন একটা মানুষকে তিনি নিজের জীবন সঙ্গী করেছিলেন,যিনি নিজের সন্তানকেই চিনতে পারছেন না।পাশে হাসান দাঁড়িয়ে ছিল।এই দৃশ্য দেখে যেন ভীষণ আঘাত পেয়েছে সে।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সে সুহার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
“শাড়ি-গয়না পরেছে বলে হয়তো আব্বা সুহাকে চিনতে পারেনি।আজ অন্যরকম লাগছে আমার বোনকে,তাই না?”
মতিউর চৌধুরী থমথমে মুখে ছোট কন্যার দিকে তাকালেন।তিনি সত্যিই নিজের ছোট সন্তানকে চিনতে পারেননি।বাড়ি ভর্তি মানুষ কানাঘোষা করছেন।আতিয়া বেগমও দূর থেকে ছেলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।মন টানছে না আজ ছেলের কাছে যেতে।তবুও মায়ের হৃদয় তো আর বেঁধে রাখা যায় না।তিনি এগিয়ে এসে বললেন,
“ভালো আছিস?”
মতিউর চৌধুরী হেসে বললেন,
“আছি আম্মা।আপনারা সবাই ভালো আছেন?”
“আল্লাহ রেখেছে।”
“আব্বা কোথায়?”
“গেছে বাইরে বোধহয়।”
সালেখা বেগম এতক্ষণ চুপ থাকলেও চাপা স্বরে বললেন,
“সবাই দেখি ছেলেকে নিয়েই পড়ে আছেন।বাড়িতে যে বড় বউ এসেছে সেটা চোখে দেখছেন না?”
আতিয়া বেগম চোখ নিচু করে আঁচলের চাবি ভালো করে গিট দিয়ে তাকালেন তার দিকে।বললেন,
“তোমার মতো আমার গায়ের চামড়া অত মোটা নয়।যাকগে,ভেতরে এসো।বসো।”
শাশুড়ির কথা যেন ভীষণ গায়ে লাগল সালেখা বেগমের।তিনি চোখ গরম করে স্বামীর দিকে তাকালেন।মতিউর চৌধুরী তাকে উপেক্ষা করে সোফায় গিয়ে বসলেন নীরবে।কায়নাত ট্রে-তে ঠান্ডা পানি নিয়ে এলো দুই গ্লাস।সে সামনে এসে সালাম দিয়ে ট্রে নামাল নিচে।মতিউর চৌধুরী সালামের উত্তর নিয়ে বললেন,
“তুমি কে?”
কায়নাত শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।উত্তর জানা থাকলেও মুখ ফুটে তা বলা হলো না।ওর নীরবতা দেখে আতিয়া বেগম বললেন,
“আমার অর্ণর বউ,কায়নাত।”
মতিউর চৌধুরী আশ্চর্য হয়ে বললেন,
“অর্ণ বিয়ে করেছে?”
“হ্যা।”
তিনি কায়নাতের দিকে তাকালেন।পুতুলের মতো বাচ্চা একটা মেয়ে বাঙালি নিয়মে শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছে সামনে।লাজে মুখখানা লাল হয়ে এসেছে।তিনি দৃষ্টি সরালেন।একে একে অনেকের সাথেই কথা হলো।শুধু কথা হলো না নিধির সাথে।নিধি সেখানে উপস্থিত থাকলেও বাবার দিকে তাকাল না একটাবারও।আর না কথা বলল এগিয়ে এসে।মতিউর চৌধুরীও যেন বড় কন্যার কথা ভুলে বসেছেন।
প্রেম নিধির পাশে বুকে হাত গুঁজে দেয়ালে হ্যালান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।নিধির নীরবতা দেখে বলল,
“এতদিন পর চাচা এসেছে,তুই কথা বলবি না?”
নিধি গলা নিচু করে উত্তরে বলল,
“আব্বা তো একবারও আমার কথা জিজ্ঞেস করল না।”
(কালকে আরেকটা পর্ব দিব।২.৫k রিঅ্যাক্ট পূরণ করার চেষ্টা করবেন।আমি এখনও বাসার বাইরে।😩আগামীকাল আরও একটা পর্ব পাবেন।)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৭.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪