প্রেমবসন্ত_২ ।২২।
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
অর্ণর মেজাজ এই মুহূর্তে ভীষণ খারাপ।সে খানিকক্ষণ আগে এসেই কোনোরকম বালিশে মাথা রেখেছিল।কায়নাত গুটিয়ে নিল নিজেকে।আপছা অন্ধকারে অর্ণর রাগী মুখখানা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।এখন কী করে বলবে, “আপনি ঘুমান।সত্যি বলছি,আর বিরক্ত করব না।” এইটুকু বলার মতো সাহস তার আছে?একটুও নেই।অর্ণ লম্বা শ্বাস টেনে ধীরে বালিশে মাথা রাখল।তারপর গম্ভীর গলায় বলল,
“আমার মাথা ব্যথা করছে।”
কায়নাত হামাগুড়ি দিয়ে নিকটে এগিয়ে এসে তার মাথায় ছোট ছোট হাত রেখে মৃদু গলায় বলল,
“আমি টিপে দিচ্ছি।”
অর্ণ চোখ বন্ধ করে।ঘুমে চোখ খোলা রাখতে পারছে না।
রোদটা তখনও পুরো জেগে ওঠেনি।ঘন কুঁয়াশার চাদরে মোড়ানো গ্রামটা যেন আধঘুমে আছে।খেজুর গাছের ডগা ছুঁয়ে সূর্যের হালকা আলো নামতে নামতে কুঁয়াশা ভেদ করে পড়ছে উঠোনে।শীতের শেষ সকালগুলোর একটা আলাদা আবেশ থাকে—ঠান্ডা আছে, কিন্তু কাঁপুনি নেই; শিরশিরে হাওয়া, অথচ মিষ্টি।
এই ঠান্ডার মাঝেও উষ্ণ তাপ অনুভব করছে কায়নাত।অর্ণর মাথাটা তার বুকে।কোমর,পিঠ জড়িয়ে আছে অর্ণর স্পর্শ।গভীর ঘুমে লোকটা।কায়নাত আলতো করে হাত রাখল তার চুলের ভাজে।লোকটা জেগে থাকলে নিশ্চিত বকাবকি করত।
কায়নাত নিঃশব্দে নড়ে উঠল।হঠাৎ নড়াচড়ায় অর্ণর ভ্রু কুঁচকে এলো,কিন্তু সে জাগল না।ঘুমের মধ্যেও লোকটার হাতটা আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ওর পিঠে, যেন হারিয়ে যাবে।এই ভয়েই আঁকড়ে ধরেছে।
কিন্তু অর্ণ জাগেনি।বরং কপালটা কায়নাতের বুকে আরও গুঁজে নিল।তার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা কাপড় ভেদ করে ছুঁয়ে যাচ্ছে বুকের ভেতর।কায়নাতের বুক ধকধক করে করছে।
বাইরে ধীরে ধীরে কুঁয়াশা পাতলা হচ্ছে।মুরগির ডাক ভেসে আসছে দূর থেকে।কায়নাত জানালার ফাঁক দিয়ে আলো ঢুকতে দেখে বুঝল, সকাল অনেকটাই গড়িয়েছে।
সে আবার অর্ণর চুলে হাত বোলাতে লাগল।আঙুলের ছোঁয়ায় অর্ণর কপালে হালকা ভাঁজ পড়ল।এইবার সে চোখ মেলে তাকাল।কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল কায়নাতের দিকে।চোখ দুটো ঘুমে লাল, কণ্ঠ ভারী।
“এখনও ঘুমাওনি?”
কায়নাত একটু ঘাবড়ে গেল।মাথা নেড়ে বলল,
“আপনার মাথা ব্যথা করছিল।ভেবেছিলাম, যদি একটু আরাম পান।”
অর্ণ খানিকক্ষণ চুপ থেকে উঠে বসল বিছানায়।কথা না বাড়িয়ে আলমারি খুলে রেখে যাওয়া জামা-কাপড়ের মধ্যে থেকে কাপড় নিয়ে ঢুকল ওয়াশরুমে।কায়নাত লজ্জায় আঁচল দিয়ে মুখ ঢাকল।মধ্যরাতে অর্ণ যখন ঘুমিয়ে ছিল,তখন সে একটা চুমু খেয়েছিল অর্ণর ঠোঁটে।এটা যদি অর্ণ জানে,তাহলে তার খবর আছে।সে লজ্জা রেখে শাড়ি ঠিক করে বিছানা গুছিয়ে ফেলল।বিছানায় বসে লম্বা চুল খুলে দিয়ে মাথায় চিরুনি দিতেই অর্ণ বেরিয়ে এলো ওয়াশরুম থেকে।বেহায়া লোক শুধু ট্রাউজার পরে পেরিয়েছে।কায়নাত বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে অর্ণর খালি ভেজা শরীরের দিকে তাকিয়ে রইল।বেহায়া চোখ যেন সরছেই না।সে জোর করে সরাতে চাইলেও চোখ গুলো ধমক দিয়ে বলছে,
“তোরই তো জামাই।তুই দেখবি নাতো কে দেখবে?”
কায়নাতকে এমন করে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে অর্ণ গম্ভীর স্বরে বলে,
“হা করে তাকিয়ে আছো কেন,ইডিয়ট? “
মেয়েটা হঠাৎ মুখ ফসকে বলে ফেলল,
“আপনার কালো কালো কয়লা দেখে আমার লজ্জা লাগছে।”
অর্ণ আশ্চর্য হয়ে বলে,
“হোয়াট? “
থমথমে মুখটা কায়নাত আঁচল দিয়ে ঢেকে ফেলল।কথা ঘুরিয়ে বলল,
“এই শীতের সকালে গোসল করলেন কেন?”
অর্ণ ঠোঁট চেপে নরম গলায় বলল,
“স্বপ্নে আমার বউ এসেছিল।”
“আপনার বউ তো আমি।আমি এসেছি তাতে কী হয়েছে?”
“তোমার সাথে কথা বলা আমার ভুল হয়েছে।”
কায়নাত মুখ কালো করে চুপ করে রইল।অর্ণ তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে আয়নার সামনে দাঁড়াল।আয়নায় চোখ পড়তেই দেখল,বিছানার একপাশে বসে থাকা মেয়েটা ঠোঁট কামড়ে চোখ নামিয়ে বসে আছে।
“এভাবে মুখ গোমড়া করে বসে থাকলে কী হবে?”
কায়নাত ধীরে মাথা তুলল।
“আপনি এভাবে কথা বলেন কেন?”
অর্ণ উত্তর দিল না।তোয়ালে নামিয়ে চেয়ারে রেখে দিল।তারপর বিছানার দিকে এগিয়ে এসে দাঁড়াল।কায়নাতের সামনে দাঁড়িয়েও সে একটু দূরত্ব রাখল।এই মানুষটার ভেতরে সবসময়ই একটা অদৃশ্য দেয়াল থাকে!ছোঁয়া যায়, কিন্তু টপকানো যায় না।
“কাল সারারাত ঘুমাওনি?”
কায়নাত মাথা নাড়ল।অর্ণ হঠাৎ মেয়েটার চোখে চোখ রাখল।দু’জনের দৃষ্টি কেমন নরম মিষ্টির মতন।কায়নাত দৃষ্টি সরিয়ে নেয়।অর্ণ বলে,
“বেয়াদব মহিলা,তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হও।কলেজে যাবে না?”
কায়নাত উঠে দাঁড়াল।কাল অব্দি সে অর্ণকে মিস করছিল;তবে এখন ভীষণ বিরক্ত লাগছে।লোকটার মুখের ভাষা এত তেতো,যে হজম করতে কষ্ট হয়।কায়নাত ওয়াশরুমে ঢুকলে অর্ণ ঘরের বাইরে পা বাড়ায়।দো’তলার বড় বারান্দায় তখন জারা দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিল মায়ের সাথে।এত সকালে হঠাৎ অর্ণকে দেখে চমকে উঠল সে।কল কেটে একপ্রকার দৌঁড়ে এলো নিকটে।অর্ণ দাঁড়ায় জারাকে দেখে।জারা অবাক গলায় জিজ্ঞেস করে,
“আপনি এখানে কী করছেন?কখন এসেছেন?আমাকে তো বললেন না।”
অর্ণ গম্ভীর গলায় সংক্ষিপ্ত উত্তর দেয়,
“রাতে এসেছি।”
“আমাদের সাথে কেন এলেন না?”
“মন চায়নি।”
“আমাকেও তো একবার বলতে পারতেন।”
“তোমায় বলব কেন?”
অর্ণর এহেন ব্যবহারে জারা অভ্যস্ত।তখন কায়নাত বের হলো ঘর থেকে।ঘরের সামনে অর্ণ আর জারাকে দেখে কদম স্থির হলো তার।জারা ভ্রু কুঁচকে কায়নাতকে দেখে অর্ণকে জিজ্ঞেস করে,
“এটা তো কায়নাতের ঘর।আপনি এই ঘর থেকে বের হলেন যে?”
অর্ণ সিঁড়ির দিকে পা বাড়িয়ে বলল,
“এটা আমার ঘর।”
সে হনহন করে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল।জারার কথা-বার্তা কিছু বুঝতে পারছে না কায়নাত।জারা কী জানে না,কায়নাত অর্ণর স্ত্রী?জারা কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই নিচ থেকে দাদির ডাক পড়ল কায়নাতের।কায়নাত ছুটে গেল সেদিকে।জারা দাঁড়িয়ে রইল একজায়গায়।
নিচে বাড়ির প্রত্যেকে উপস্থিত।সবাই অবাক হয়েছেন অর্ণকে খুলনা দেখে।এই ছেলেকে তো হাজার বলেও খুলনা আনা যায় না;অথচ আজ কাউকে না জানিয়েই চলে এসেছে।ফারিহা সবাইকে খাবার দিচ্ছে।হাসান বসেছিল দাদার পাশে।জারাও তখন এসে উপস্থিত হয়েছে।আজগর চৌধুরী বললেন,
“তুমি যে আসবে আমাদের আগে জানাবে না?”
অর্ণ বলল,
“আসার প্ল্যান ছিল না।”
“তাহলে হঠাৎ?”
অর্ণ খাওয়া বাদ দিয়ে কপাল কুঁচকে বলল,
“এখন কী এই বাড়ি আসার জন্য আমার অনুমতি লাগবে,দাদা?”
“সে কথা কখন বললাম?”
অর্ণ রেগে যাচ্ছে দেখে আতিয়া বেগম চুপ করতে বললেন স্বামীকে।
অন্যদিকে জয়া কাল থেকে লুচির মতো ফুলেই যাচ্ছে।নাজনীন ঘরের বারান্দায়।হাতে জ্বলন্ত সিগারেট।
“তোকে বলেছি না ঘর থেকে বের হতে?কোলে করে নিয়ে যাব এখন?”
জয়া বলল,
“আপনাকে কিছু বলেছি আমি?শুধু শুধু গরুর মতো চেঁচিয়ে যাচ্ছে কেন?”
“তুই কী একটু শান্তিতে থাকতে দিবি না?”
“অশান্তিতে আছেন নাকি?এত সুখ দিয়েছি তবু মন ভরে না?”
হাঁটু সমান একটা মেয়ে মুখের উপর সারাটা দিন কথা বলতেই থাকে।এর থামাথামির কোনো নাম নেই।জয়া নিকটে এগিয়ে এসে নাজনীনেরও হাতের সিগারেটটা নিচে ফেলে দিয়ে বলল,
“এসব খেয়ে মুখ তো আরও নোংরা বানাচ্ছেন।”
নাজনীন দাঁত চেপে বলল,
“কী করলি এটা?”
“ফেলে দিয়েছি।”
“কেন ফেললি?”
জয়া খানিক্ষণ ভাবল কিছু।কালকে বলা কায়নাতের কথা খানা মনে করে বলল,
“এখন এসব খাওয়ার জিনিস নাকি?তোমার বুঝি বয়স হচ্ছে না?এই বয়সে মানুষ কী করে জানো?”
নাজনীন কপাল কুঁচকে বলে,
“কী করে?”
“এই বয়সে মানুষ নাতি-পতি নিয়ে খেলে।অথচ নাতি তো দূরের কথা,তোমার তো বাচ্চাই নেই।”
নাজনীন দেয়ালে হ্যালান দিয়ে দাঁড়াল।বুকে হাত গুঁজে বলল,
“বাচ্চাটা হয় কোত্থেকে?”
জয়া উত্তর দেয়,
“পেট থেকে।”
“কার পেট থেকে?”
“মায়ের পেট থেকে।”
“তাহলে আমার বাচ্চাদের মা কে?”
“আমি।”
দাঁত কটমট করে দাঁড়িয়ে রইল নাজনীন।জয়া বুঝতে পারল না এই প্রশ্ন গুলো করার কারণ।বেচারি ডান হাতের নখ কামড়ে মিনমিনে গলায় বলল,
“ভুল কিছু বলেছি?আপনি বাবা হলে আমি মা হব না?”
“তোর দুধের দাঁত পড়েছে এখনও?আবার দেখছিস মা হওয়ার স্বপ্ন।”
জয়া মুখ কালো করল।নাজনীন ওকে ঠেলে ঘরের বাইরে যেতে যেতে একবার পিছু ফিরে আফসোসের স্বরে বলল,
“তোকে বিয়ে করে ভুল করে ফেলেছি।ছুঁতে গেলে চ্যাং টাকির মতো শুধু লাফাস।কবে যেন আরেকটা বিয়ে করে নিয়ে আসব দেখে নিস।”
নাজনীন ঘরের বাইরে পা রাখলে জয়া রেগে চিৎকার করে বলে,
“পানিতে গিয়ে ডুব দাও।তুমি না মরলেও তোমার ওই স্বপ্ন ঠিকই ডুবে মরবে।আর যদি তাতেও কাজ না হয়,তাহলে আমি গ লা টি পে মারব।শালা ফাজিল।”
•
প্রেম গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে বাড়ির বাইরে।আজ তার ডিউটি নেই।নিশা আর নিধিকে যাবে ভার্সিটি দিয়ে আসতে।খানিকক্ষণ পর দুই বোন বেরিয়ে এলো বাড়ি থেকে।নিধি বসেছে সামনে।প্রেম আড়চোখে নিধিকে দেখে গাড়ি স্টার্ট দিল।মার্কেটের মোড় থেকে গাড়িতে উঠল স্বার্থ।নিশা অবাক হলো এই সময়ে স্বার্থকে বাইরে দেখে।ঘুমঘুম চোখে কোনোরকম চলে এসেছে।নিশার সাথে পেছনে বসেছে সে।
নিশা শুকনো ঢোক গিলে নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল,
“তোমার বোধহয় ঘুম হয়নি।এত সকালে বাইরে এসেছ কেন?”
সামনে থেকে প্রেম বলল,
“প্রেমের বড় জ্বালা।”
নিশা কপাল কুঁচকে বলে,
“কীসের জ্বালা?স্বার্থ ভাইয়ের কী ব্রেকআপ হয়েছে?”
“স্বার্থ ভাই আবার প্রেমও করত নাকি?আমার তো জানা ছিল না।”
স্বার্থ পেছন থেকে দাঁত চেপে বলল,
“তোর মুখ বন্ধ রাখবি?”
প্রেম ‘উহুম’ বলে মাথা নড়িয়ে বলল,
“শোন তোরা,সামনে সপ্তায় স্বার্থ ভাইয়ের ডেলিভারি হবে।আমাদের চুক্তি হয়েছে মেয়ে হলে আমার কাছে থাকবে,আর ছেলে হলে স্বার্থ ভাইয়ের কাছে।”
নিশা বিরক্ত হয়ে নাক-মুখ কুঁচকে ফেলল।নিধি বলল,
“আপনি কী ভালো হবেন না?এভাবে যে এই কথাটা রটাচ্ছেন,পরে দেখা গেল সবাই সত্যি’ই না এটা সিরিয়াস ভেবে বসে।”
“তোর মতো যাদের মাথায় গোবর আছে তারা তো ভাববেই।”
“আপনি আমায় অপমান করছেন?”
“তোর যদি গায়ে লাগে তাহলে অপমানই করছি।”
নিধি মুখ ফুলিয়ে অন্যদিকে ফিরল।প্রেম ঠোঁট টিপে হাসল।আর আর যাদের ভার্সিটি যাওয়া হলো না।
প্রেম হঠাৎ গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে অন্য রাস্তায় ঢুকে পড়ল।
নিধি সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল,
“এই!ভার্সিটি তো ওইদিকে!”
প্রেম নির্বিকার গলায় বলল,
“আজ ক্লাস নেই।”
নিশা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“কার ক্লাস নেই?”
“তোদের।”
“তুমি কোথায় নিয়ে যাচ্ছ?”
“চুপচাপ বসে থাক।”
ওরা গিয়ে থামল একটা রাস্তার পাশে।সামনে লম্বা সরু রাস্তা।জায়গাটা ঠিক কোথায় নিধি বুঝতে পারল না।রাস্তার দুইপাশে ফুলগাছ।শীত আর বসন্তের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একটা নরম সময়।চারপাশের হালকা বাতাসও যেন মধুর মতো লাগছে।ওরা গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়।গিয়ে বসে একটা চায়ের ছোট্ট ছনের দোকানে।
চায়ের দোকানটা খুবই সাদামাটা।ছনের চাল,বাঁশের বেঞ্চ,আর সামনে ধোঁয়া ওঠা কেটলি।দোকানের পাশে দু’টো কৃষ্ণচূড়া গাছ-পাতার ফাঁকে ফাঁকে লালচে কুঁড়ি, যেন বসন্ত লুকোচুরি খেলছে শীতের সঙ্গে।ফেব্রুয়ারির শেষের দিকের এই সকালটা অদ্ভুত নরম।রোদ আছে, কিন্তু তীব্র নয়; হাওয়া আছে, কিন্তু শীতল কাঁপুনি নেই।
প্রেম গিয়ে বেঞ্চে বসতেই ডাক দিল,
“চাচা,চার কাপ লিকার চা দেন।একদম কড়া।”
নিধি বিরক্ত মুখে বসে বলল,
“এত সকালে আমাদের এখানে এনে চা খাওয়ানোর দরকার কী ছিল?”
প্রেম হালকা হাসল।
“মন ভালো করার থেরাপি।”
নিশা চারপাশটা তাকিয়ে দেখছে।রাস্তার ওপাশে ধানক্ষেত,কচি সবুজ রঙে ভরা।এই জায়গাটা শহরের কোলাহল থেকে অনেক আলাদা।
স্বার্থ বেঞ্চে হেলান দিয়ে বসে চোখ বন্ধ করল।
“এখানে এসে মাথার ভেতরের ঝাঁঝটা একটু কমে।”
নিধি তাকাল ওর দিকে।
“কী ঝাঁঝ?”
স্বার্থ চোখ না খুলেই বলল,
“জীবনের।”
চা এসে গেল।ধোঁয়া ওঠা কাপ হাতে নিয়ে নিশা চুমুক দিতেই বলল,
“ভালো চা।”
প্রেম তাকিয়ে বলল,
“ভালো জায়গায় খেলে সবই ভালো লাগে।”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“আমরা হয়তো সামনে মাসে সিলেট যাব ভাইয়ার সাথে।সেখানে বেশ কিছুদিন থাকা হবে।ভাইয়ার সাথে এটা নিয়ে কথা হয়েছিল আমার।”
স্বার্থ বলল,
“তোদের নিয়ে যাব একবারও বলেছি আমরা?”
“তুমি বললেই কী না বললেই কী?আমি যাব আমার বাপের টাকায়।”
“সেইতো!তুই তো ফকির,এখনও বাপের টাকায় চলিস।”
প্রেম মুখ কালো করে বলল,
“আমি এত বড় একজন ডক্টর।তুমি আমাকে ফকির বলছো?আমার একদিনের ইনকাম কত জানো?”
স্বার্থ উত্তর দিল না।খানিকক্ষণ পর ওরা উঠে দাঁড়াল।চারজন সরু রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছে পাশাপাশি।সামনে প্রেম আর নিধি,পেছনে স্বার্থ আর নিশা।নিশা লাজুক পায়ে পা মেলাচ্ছে।পাশেই লম্বাটে স্বার্থ চুপচাপ হেঁটে যাচ্ছে সরু রাস্তায়।নীরবতা ভেঙে নিশা বলল,
“কাল না তোমার ভার্সিটির সামনে আসার কথা ছিল?এলে না যে?”
স্বার্থ নিশার সাথে কথা বলছে না গতকাল থেকে।এটা সে বেশ বুঝতে পারছে।কিন্তু কেন বলছে না সেটা বুঝতে পারছে না।স্বার্থ বলল,
“গিয়েছিলাম।”
“তাহলে দেখা করলে না কেন?”
“তোর জন্য তোর সিনিয়র ভাই কাব্য অপেক্ষা করছিল।”
“কাব্য ভাই?কী যা-তা বলছো?উনার সাথে আমার কখনো কথা হয়েছে?”
“আমি কী করে বলব?”
“তুমি আমার সাথে কথা কেন বলছো না?কাল রাতে তোমায় কতগুলো মেসেজ দিয়েছি দেখেছ?”
“দেখেছি।”
“তাহলে রিপ্লাই করনি কেন?”
স্বার্থ গাম্ভীর্য বজায় রেখে সামনে হেঁটে যায়, ওকে রেখেই।পায়ের গতি বাড়িয়ে দেয় সে, যেন এই কথোপকথনটুকু থেকেও নিজেকে আলাদা করে নিতে চায়। সরু রাস্তার ধুলো হালকা করে উড়ছে তার পায়ের নিচে।
নিশা এক মুহূর্ত থমকে দাঁড়ায়। বুকের ভেতরটা কেমন খালি খালি লাগছে। এতক্ষণ যে নরম সকালটা ভালো লাগছিল, হঠাৎ করেই সেটার উষ্ণতা কমে আসে। সে দু’পা এগিয়ে আবার থেমে যায়। ডাকবে কি? ডাকলে যদি আরও দূরে সরে যায়?
নিশা জোর করে পা চালায়। স্বার্থের পেছনে পেছনে হেঁটে যায় সে। কিছু দূর যাওয়ার পর নরম গলায় ডাকে,
“শোনো না!”
স্বার্থ থামে না।নিশা এবার একটু জোরে বলে,
“এই! কথা বলছো না কেন?”
স্বার্থ হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে। এমন হঠাৎ যে নিশা গিয়ে প্রায় ধাক্কা খেয়ে পড়েই যাচ্ছিল। স্বার্থ ঘুরে তাকায়। চোখে কোনো রাগ নেই, আছে অদ্ভুত এক কঠিন শান্ত ভাব।
“কথা বলার মতো কিছু থাকলে বলতাম।”
সংক্ষিপ্ত উত্তর।
নিশার গলা কেঁপে ওঠে।
“আমি কী এমন করেছি?”
“যা আমার পছন্দ নয়।”
[২.৫k😒!সবাই শুনুন।#প্রেমবসন্ত সিজন ১ এর মতো এটা নয়।আমি গল্প শুরু করার আগেই বলেছি সিজন ২ সবাইকে নিয়ে লেখা হবে।এই গল্পের প্রত্যেকটা চরিত্র আমার ভীষণ আদরের।তাদের নিয়ে লিখতে আমার বিরক্ত লাগে না।যারা সব চরিত্র ভালোবেসে আগাতে পারবেন,শুধু তাদেরই বলব গল্পটা কন্টিনিউ করুন।আর হ্যা,সবাই রেসপন্স করুণ।]
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৬
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৬(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৫
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৭.১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২০