প্রেমবসন্ত_২ ।১৯।
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
অর্ণর ঘরে কায়নাত মুখ কালো করে বসে আছে আদির পাশে।আদি বুকে হাত গুঁজে বড় মামুর মতোই গম্ভীর হয়ে বসে।আর তাদের ঠিক সামনে অর্ণ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথার চুল ঠিক করছে।সে আড়চোখে ওদের দেখল।ফের গম্ভীর দৃষ্টি সরিয়ে নিল।আদি এবার ভীষণ বিরক্ত হলো নীরবতা দেখে।সে বলল,
“মামু।”
অর্ণ তাকায়।আদি বলে,
“তোমাকে আজ সুন্দর লাগছে।”
“ড্রামা বাদ দিয়ে বলো কী লাগবে!”
“মাকে বলো আমায় যেন না মারে।”
“স্কুলে দুষ্টুমি করেছ কেন?”
“আমি তো কিছু করিনি।যা করার শেহের ভাই আর স্বার্থ ভাই করেছে।”
“ওদের ফোন নাম্বার স্কুলে দিয়েছিলে কেন?”
আদি মুখ কালো করল।মামুর কথা এখন তার ভালো লাগছে না।সে উত্তর না দিয়ে বসে রইল সেখানেই।কায়নাত বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল।ওয়াশরুম থেকে অর্ণ আর আদির ভেজা কাপড় বারান্দায় গিয়ে ছড়িয়ে দিয়ে এলো।অর্ণ গিয়ে বসল বিছানায়।পা টানটান করে খাটের সাথে হ্যালান দিয়ে বুকে হাত বাঁধল।আদিও তার দেখা-দেখি তাই করল।কায়নাত ঘরের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে রইল বোকার মতন।অর্ণ কম্বল টেনে শরীরে জড়িয়ে ফের তাকাল কায়নাতের দিকে।মেয়েটা বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছে এখনো।অর্ণ হালকা গলা কেঁশে বলল,
“আপনার কাজ শেষ না?এখন ঘুমান গিয়ে।”
কায়নাত মাথা নেড়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।অর্ণ ভাবল মেয়েটা বোধহয় ঘর থেকে বেরিয়ে যাবে।কায়নাত তার ভাবনায় এক বালতি পানি ঢেলে ঘরের দরজা বন্ধ করে পিছু ফিরল।গুটি গুটি পায়ে বিছানার নিকট এগিয়ে এসে অর্ণকে ঠেলে বিছানার মধ্যে পাঠাল।অর্ণ হতবাক।হকচকিয়ে কিছু বলার আগেই কায়নাত কম্বল টেনে গায়ে জড়িয়ে অর্ণর পাশে শুয়ে পড়ল।ওপাশ থেকে আদি বিড়াল ছানার মতো মাথা উঁচিয়ে কুটুরকুটুর চোখে কায়নাতের কান্ড দেখে মুখ গোঁমড়া করে বলল,
“তুমি আমার মামুর পাশে শুলে কেন?”
কায়নাত কম্বলের ভেতর থেকে মুখ বের করে বলল,
“আমার জামাইয়ের পাশে শুয়েছি আমি,তাতে তোমার কী?”
“তোমার জামাই কী?আমার মামুর পাশে তুমি কেন শুবে?এক্ষণই উঠো।”
আদি রাগে অর্ণর শরীরের উপর উঠে এলো।কায়নাতকে পারলে ধাক্কা দিয়ে বিছানা থেকে ফেলে দেয় সে।কায়নাত ঝাঁপটে ধরল অর্ণর সুঠাম দেহ।অর্ণ দু’জনের কান্ডে আশ্চর্য হলো।দু’টোই বাচ্চা,আর বাচ্চা দু’টো বাঁদরামি করছে তার সাথে।
আদি রাগে যেন ছোট্ট পাহাড়।অর্ণর বুকের উপর উঠে কায়নাতকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দিতে উদ্যত।
কায়নাত তৎক্ষণাৎ অর্ণর বুক আঁকড়ে ধরল;যেন সেই-ই এখন তার শেষ নিরাপদ জায়গা।
অর্ণ দুই হাত তুলে বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।
“তোমরা দু’জন পাগল নাকি?”তার চোখেমুখে বিরক্তি।
কায়নাত দাঁত চেপে আদিকে ধরল,
“নামো। আমার জামাইয়ের উপর উঠে কী করছো?”
আদি গর্জে উঠল,
“তোমার জামাই না, আমার মামু! তুমি সরে যাও!”
কায়নাত এবার আদিকে চেপে ধরে অর্ণর বুক থেকে নামিয়ে আনল।আদি নাক ফুলিয়ে, হাত বেঁধে, চোখের কোণে রাগ জমিয়ে পাশে গিয়ে ধপ করে শুয়ে পড়ল।মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রেখেছে,ঠিক সেই ভঙ্গিতে যেমন বাচ্চারা রাগ দেখায়।
কায়নাত চোখ পাকিয়ে বলল,
“তোমার এই রাগের ভঙ্গি আমার কাছে চলবে না। মামুর পাশে আমি-ই শোবো।”
আদি “হুঁ” শব্দ করে আরও মুখ গুঁজে নিল বালিশে।কায়নাত পুরো শরীরটা কম্বলের ভেতর গুটিয়ে অর্ণর পাশে গিয়ে জড়িয়ে ধরল।
মেয়েটার ছোট্ট হাত দু’টো অর্ণর বুকের উপর শক্ত করে বাঁধা;যেন কেউ এসে টেনে নিলে ছাড়বে না।
অর্ণ স্থির হয়ে গেল।চোখ দু’টো ধীরে ধীরে বন্ধ হলো।ওপাশে আদি চোখ বন্ধ করে রাগ ধরে থাকার ভান করছে,কিন্তু তার কানে কানায় কানায় ভরে যাচ্ছে দু’জনের নিঃশ্বাসের শব্দ।
কায়নাত হঠাৎ অনুভব করল কোমরের কাছে একটা শক্ত,উষ্ণ,ভারী ছোঁয়া।তার শ্বাস থেমে গেল মুহূর্তেই।অস্থির হলো হৃদয়।
অর্ণর হাত।নরম নয়—দখলদারিত্বের,
অধিকারবোধের, গভীর অস্থিরতার হাত।কায়নাত চোখ বড় করে গায়ের উপরের কম্বল আঁকড়ে ধরল।
গলা শুকিয়ে এলো গভীর লাজে।
কায়নাতের পুরো শরীর জমে বরফ।
অর্ণর হাতটা নিঃশব্দে তার কোমরের গাঁথুনি জড়িয়ে ফেলেছে।
একটুও নড়ছে না,কিন্তু তার স্পর্শে বুকের ভেতর ঢিপঢিপ শব্দ যেন আরও জোরে শোনা যাচ্ছে।
ওপাশে শুয়ে থাকা আদি চোখ আধখোলা করে তাকাল।দেখে মুখ উলটে আবার বালিশে মুখ গুঁজে দিল।বাচ্চাটার মুখ-চোখে অভিমান।
সে আর সহ্য করতে না পেরে উঠে বসল।জোর করে ওদের মধ্যে ঢুকে কম্বলের নিচে শুয়ে পড়ল।কায়নাতের লজ্জায় মরি মরি অবস্থা।সে লজ্জায় চোখ তুলে তাকানোর সাহস পেল না আর।আদি অর্ণর গলা জড়িয়ে ধরে বুকের সাথে লেপ্টে শুয়ে চোখ বন্ধ করল।অর্ণ ঠোঁট কামড়ে ধরল।চোখ তুলে মেয়েটার দিকে দৃষ্টি রেখেও তার লাজুক বদন দেখতে পারল না।
•
আকাশটা তখন হালকা সোনালি রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে। দূরের বিল্ডিংগুলোর কাঁচে সূর্যের শেষ আলো ঝিলমিল করছে, আর চারদিক জুড়ে একটা হালকা ঠান্ডা কুঁয়াশার পর্দা। রাস্তায় ট্রাফিকের শব্দ কমে এসেছে কিছুটা।মনে হয় যেন শহরটা একটু থেমে থেমে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। রাস্তায় হাঁটলেই বোঝা যায় শীত নেমে এসেছে।
চা দোকানের কেটলি থেকে টুকটুক করে বাষ্প উঠছে, পথচারীরা হাত গুঁজে হাঁটছে, আর বাতাসে ভেসে আসছে ভাজা পিয়াজুর গন্ধ। গাছগুলোর ডাল বেয়ে নামছে ঠান্ডা আলো, আর রোদের শেষ রেখাটা যেন বিল্ডিংয়ের ফাঁক গলে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে।
নিশা শেহেরের সাথে স্বার্থর বাড়িতে এসেছে খানিকক্ষণ আগেই।বাইকে আসার ফলে শরীর জমে বরফ হয়ে আছে।স্বার্থর মা তাদের দু’জনকে গরম গরম কফি এনে দিলেন।মেয়েটা তখন ব্যস্ত হয়ে স্বার্থকে খুঁজছে।লোকটা এখনো নিচে নামেনি।স্বার্থর মা এসে বসলেন নিশার পাশে।তিনি নিশার মাথায় হঠাৎ করেই হাত রাখলেন।নিশা হকচকিয়ে পাশে ফিরল।স্বার্থর মা মিষ্টি হেসে বললেন,
“তুমি কিন্তু ভীষণ মিষ্টি।”
নিশা লজ্জায় শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,
“শুকরিয়া।”
“তোমার মা অনেকদিন ধরে আমাদের বাড়িতে আসেন না।আজ গিয়ে বলবে আমি বলেছি আসতে,কেমন?”
নিশা মাথা নাড়ল।তিনি বললেন,
“তোমার বিয়ের প্রস্তাব আসে বাড়িতে?”
নিশা বলল,
“মা-বাবা তো এখন এসব পছন্দ করে না আন্টি।আর ভাইয়ারাও চায় না এত তাড়াতাড়ি কিছু করতে।”
“বেশ ভালো।পড়ছো,পড়তে থাকো।তোমার বোনের কী অবস্থা?”
পাশ থেকে শেহের হালকা নড়েচরে বসল।নিশা বলল,
“আপু আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছে আন্টি।”
“ওর বিয়ের ব্যপারে কিছু ভেবেছে তোমার ফ্যামিলি?
“একচুয়ালি আপু চাচ্ছে না নতুন কোনো সম্পর্কের জড়াতে।আব্বু-আম্মুও আপুকে জোর করে না।ওর লাইফ ওর উপর ছেড়ে দিয়েছে।”
মহিলা মাথা নাড়লেন।বয়স হয়েছে বেশ।বেহরুজ বেগমের স্কুল ফ্রেন্ড ছিলেন তিনি।দুই ছেলের জননী হলেও একটা মেয়ের ভীষণ শখ ছিল তার।বড় ছেলেকে বিয়ে করাতে চাচ্ছেন,তবে ছেলে জেদ ধরেছে অবাধ্য এক জিনিসের।কী করে তিনি ছেলের ইচ্ছা পূরণ করবেন?দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি।তখন সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলো স্বার্থ।সবে গোসল করেছে সে।গায়ে ট্রাউজার আর হুডি।নিচে নিশা আর শেহেরকে দেখে সে ভীষণ অবাক হলো।নিশার বেহায়া চোখ তখন স্বার্থর কুঁচকে যাওয়া মুখের দিকে।
“তোরা কখন এলি?”
শেহের বলল,
“একটু আগেই এসেছি।”
“আমায় জানাসনি কেন?”
“প্ল্যান করে আসিনি।”
স্বার্থ নিঃশব্দে নিশার দিকে তাকাল।নিশা সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিল।ভীষণ লজ্জা লাগে স্বার্থ যখন তার দিকে তাকায়।স্বার্থ ঠিক বুঝল মেয়েটার লাজের কারণ।ওরা বাড়ি থেকে বের হলো খানিকক্ষণ পর।শেহের স্বার্থর কাছে নিশাকে দিয়ে চলে গেছে অন্য রাস্তায়।নিশা চোখ পাকিয়ে পাকিয়ে চোখের ইশারায় বুঝিয়েছে শেহেরকে চলে যেতে।
সন্ধ্যা নেমে এসেছে।টিমটিম করে জ্বলছে রাস্তার লাইট গুলো।লেকে এসেছে ওরা।পাশা-পাশি হাঁটছিল নিঃশব্দে।কারোর মুখে কোনো কথা নেই।নিশা হালকা গলা কাঁশল।বলল,
“শোনো!”
স্বার্থ বলে,
“বল।”
“তুমি বিয়ে করবে কবে?”
“যেদিন বউকে খুঁজে পাব।”
“এখনো পাওনি?”
“পেলে কী আর এভাবে তোর সাথে ঘুরতাম?”
“চোখের সামনে এত মেয়ে থাকতেও কেন তুমি চোখে দেখো না?”
স্বার্থ অবাক হওয়ার ভান করে বলল,
“আমার সামনে এত মেয়ে কোথায়?বিয়ের জন্য তো একটা মেয়েও পাচ্ছি না।”
মুখ কালো করল মেয়েটা।সে খুব বুঝতে পারছে,স্বার্থ সব বুঝেও নাটক করছে।
“তোমার চোখ ন’ষ্ট!”
স্বার্থ ঠোঁট টিপে হাসল।ওকে নিয়ে বসল একজায়গায়।দু’জনের হাতে গরম গরম চায়ের কাপ।নিশা পুরো সন্ধ্যা কাটাল তার সাথে।বাড়ি থেকে ফোন আসছে ঘনঘন।স্বার্থ নিশাকে নিয়ে গেল চৌধুরী বাড়ি।
নুসরাত নিজের ঘরে বসে বসে চুল ঠিক করছিল।ছেলেটা ভয়ে সারাদিন ঘরে আসেনি।কায়নাত বসে আছে তার পাশে।মেয়েটার মনে হয় কায়নাত তার ভাবি না হয়ে বোন হলে বেশি ভালো হতো।মেয়েটা যেমন চঞ্চল ঠিক তেমন দায়িত্বশীল।কায়নাত খুলনা যাবে এই সপ্তায়।কলেজ থেকে কল এসেছিল তার।কলেজে কিছু কাজ আছে তার দরকারি।নুসরাত চুল ঠিক করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।হঠাৎ নুসরাতের ফোন বেজে উঠল শব্দ করে।সে ফোন হাতে নিতেই ভীষণ বিরক্ত হলো।কায়নাত ভ্রু কুঁচকে ফেলল।বলল,
“কেউ কি তোমায় বিরক্ত করছে আপু?”
“আদির বাবা বেশ কয়েকদিন ধরে ভীষণ জ্বালাচ্ছে আমায়।”
“কেন?”
“জানি না।কথা বলি না আমি।”
নুসরাত ফোন বন্ধ করে রাখল।আদির সাথে মাঝে মধ্যে ওর বাবার কথা হয় টুকটাক।বাচ্চাটা নিজেও বাবার সাথে কথা বলতে চায় না।শাওন কল করলেই সে আজে-বাজে বকা-বকি করে।নুসরাত লম্বা শ্বাস টানল।নিচ থেকে সাঈমা এসে জানাল তাদের নিচে ডাকছেন বেহরুজ বেগম।ওরা দু’জন নিচে নামতেই স্বার্থর সাথে দেখা হলো।স্বার্থ ভদ্র ছেলের মতো বসে আছে।পাশেই আদি বকবক করছে একা একা।বেহরুজ বেগম স্বার্থর সাথে কথা বলছিলেন।স্বার্থ সবার সাথে দুষ্টুমি করলেও কখনো বেহরুজ বেগম কিংবা মাশফিক চৌধুরীর সামনে ফাজলামি করতে পারেনি।
নিশা মুখ কালো করে বসে আছে পাশে।বেহরুজ বেগম বললেন,
“তোমার বাসা তো ওর ভার্সিটির কাছেই।কোথায় যায় না যায় খেয়াল রেখো একটু।”
স্বার্থ মাথা নেড়ে বলে,
“জি আন্টি।একটা কথা বলার ছিল।”
“কী?”
স্বার্থ সিরিয়াস হলো।চোখ মুখ কেমন কাঠিন্য হয়ে এলো।
“নিশার ভার্সিটির একজন টিচার আমাদের বন্ধু।ও আমাকে জানিয়েছে নিশা একটা ছেলের সাথে একটু বেশি মেলা-মেশা করছে।ছেলেটা ওদের সিনিয়র যতদূর জানি।”
নিশার চোখ কপালে।সে কোন ছেলের সাথে মিশল?এখানে নিধিও নেই যে সাক্ষী দিয়ে বলবে, “স্বার্থ ভাই বানিয়ে বানিয়ে এসব কথা বলছে।”
বেচারি শুকনো ঢোক গিলল।বেহরুজ বেগম কপাল কুঁচকে ফেললেন।
“সিনিয়র?”
“জি,ওদের ভার্সিটির।”
নিশা বলল,
“আমি কোনো ছেলের সাথে মিশি না আম্মু।স্বার্থ ভাইকে কে কী বলেছে সত্যি আমি বুঝতে পারছি না।”
বেহরুজ বেগম গম্ভীর হলেন।
“ছেলে বন্ধু থাকা দোষের কিছু নয়।তবে আমি আশা করব সেটা বন্ধুত্ব অব্দিই থাকবে।”
নিশা ঠোঁট উল্টে ফেলল ভয়ে।মা নিশ্চিত আজ ভাইদের এসব বলে কান ভাঙাবে।অর্ণ একটু বকা দিলেও প্রেম ধরে এক আছাড় মারবে।
কায়নাতরা নিচে নেমে আসতেই বেহরুজ বেগম বসতে বললেন তাদের।কায়নাত বসতেই তিনি জিজ্ঞাসা করলেন,
“তোমার শ্বশুর আব্বু বলেছেন কিছু?”
কায়নাত মাথা নাড়ায়।তিনি বলেন,
“বাবা তোমায় কালই খুলনা যেতে বলছেন।সেখানে সপ্তা খানিক থাকতে বলছেন।”
কায়নাত খুশি হলো ভীষণ।মাথার আঁচল ঠিক করে বলল,
“তাহলে আমি আজই সব গুছিয়ে রাখব?”
“আগে অর্ণর সাথে কথা বলো।তাকে জানাও তুমি খুলনা যাবে।”
তিনি কিছুক্ষণ কথা বলে চলে গেলেন।স্বার্থ বাড়ি ফিরবে অর্ণর সাথে দেখা করে।যদিও এটা বাহানা।সাঈমা তাদের হালকা নাস্তা এনে দিল।নিশা কটমট করে তাকাল স্বার্থর দিকে।দাঁত চেপে বলল,
“কোন মহাপুরুষের সাথে আমি কথা বলেছি?আম্মুকে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যে কেন বললে?তুমি জানো,ভাইয়াদের এসব বললে আমাকে কী করবে?”
স্বার্থ আরাম করে হ্যালান দিয়ে বসল।বলল,
“কাব্য ছেলেটা কে?”
“তুমি চেনো তাকে?”
স্বার্থ উত্তর না দিয়ে কেমন দাঁত চেপে তাকায় মেয়েটার দিকে।কায়নাত উঠে গেছে সেখান থেকে।অর্ণ হয়তো ফিরবে কিছুক্ষনের মধ্যেই।নুসরাত আদিকে নিয়ে গেছে উপরে।বাচ্চাটার গায়ে জ্বর এখনো।ড্রয়িংরুম খালি হতেই নিশা শুকনো ঢোক গিলে উঠে দাঁড়ায়।সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালে স্বার্থর গমগমে কণ্ঠস্বর ভেসে আসে।
“তোর রুহু টে’নে ছিঁড়ব আমি।যদি একবার কিছু উল্টো-পাল্টা কানে আসে।”
নিশার পা থেমে গেল।স্বার্থর গমগমে কণ্ঠস্বর যেন ঘরজুড়ে ধ্বনিত হয়ে উঠল।মেয়েটা ধীরে ধীরে পিছন ফিরল।স্বার্থ সোফার ধারে বসা অবস্থায় দু’হাত জোড়া করে তাকিয়ে আছে ক্ষুব্ধ, স্থির, অথচ কোথাও যেন ভীষণ ভ্রান্ত চোখে।
নিশা ছোট্ট কণ্ঠে বলল,
“আমি কিছু করিনি।”
স্বার্থ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল,
“করিসনি,করার সাহসও দেখাস না।”
তখন অনেক রাত।স্বার্থ বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেছিল অর্ণর জন্য।শেষে দেরি হয়ে যাওয়ায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।ঢাকার বাইরে যাবে ব্যবসার কাজে।স্বার্থর বাবা এবং মাশফিক চৌধুরীর বিজনেস ডিল নিয়ে একটা মিটিং আছে সিলেট।কবে যাবে সেটা এখনো ঠিক হয়নি।
কায়নাত ড্রয়িংরুমে অপেক্ষা করছিল অর্ণর জন্য।সোফায় বিড়াল ছানার মতো গুটিয়ে শুয়ে আছে সে।সামনেই টিভি চলছে।মেয়েটা ঘুমিয়েছে গেছে।অর্ণ সদর দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখ গেল বিশাল ড্রয়িংরুমের ডান পাশের ছোট্ট কিশোরীর দিকে।এই শীতের মধ্যেও মেয়েটা শুধু শাড়ি গায়ে জড়িয়ে গুটি মেরে শুয়ে আছে।অর্ণর কপালে ভাঁজ পড়ল।নিঃশব্দে এগিয়ে গেল কাছে।টিভি বন্ধ করে ডাকল বেশ কয়েকবার।কায়নাত পিটপিট করে চোখ খুলতেই চমকে উঠল অর্ণকে দেখে।তাড়াতাড়ি সোফা ছেড়ে উঠতে গেলে ঠাস করে পড়ে গেল ফ্লোরে।ব্যথায় দাঁত চাপল মেয়েটা।অর্ণ ফোঁস করে চাপা নিঃশ্বাস ফেলে ঝুঁকে এলো নিচে।
“আপনি আমায় সাহায্য না করে এভাবে বসে আছেন কেন?”
অর্ণ গম্ভীর গলায় বলল,
“আপনার কারোর সাহায্যের দরকার হয়?বেয়াদব মহিলা,এত রাতে ড্রয়িংরুমে কী হচ্ছে?”
“আপনার জন্যই তো অপেক্ষা করছিলাম।আপনার দোষ ,আমার নয়।”
“আমি বলেছি অপেক্ষা করতে?”
কায়নাত কষ্ট করে উঠে দাঁড়াল।আঁচল ঠিক করে বিরক্ত গলায় বলল,
“বেশি বেশি মিষ্টি খাবেন,তাহলে মুখ দিয়ে মধুর মতো বাক্য বের হবে।আপনার তো গর্বে বুক ফে*টে যাওয়া উচিত।আজ-কলকার দিনে আমার মতো বউ কোথায় পাবেন বলুন তো?নিজে না ঘুমিয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম এখানে,আর আপনি আমায় কথা শোনাচ্ছেন?”
অর্ণ ঠোঁট চেপে বলল,
“কিন্তু আপনি তো অপেক্ষা না করে এখানে ঘুমাচ্ছিলেন।”
কায়নাত থমথমে মুখে উত্তর দিল,
“এত ভুল ধরতে বলেছি আমি?মুখে বলেছি অপেক্ষা করছিলাম,কাজেও যে করে দেখাব সেটা তো বলিনি।”
“ইডিয়ট!”
(#প্রেমবসন্ত_২ কী ভালো লাগছে না?নাকি আমার লেখা নষ্ট হয়ে গেছে🙁💔)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৬
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৬
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১০
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৯
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ গল্পের লিংক
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৪