প্রেমবসন্ত_২ ।পর্ব:১৮।
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
রাত ঘন হয়ে এসেছে তখন।ছোট্ট নববধূর পাশে বসে আছে অর্ণ।খানিকক্ষণ আগেই বাড়ি থেকে বের হয়েছেন কদ্দুস কাজী।অর্ণ এবং কায়নাতের বিয়ে পড়িয়ে তারপরেই বের হয়েছেন তিনি।অর্ণর চোখ-মুখ শক্ত।বাচ্চা একটা মেয়ের সাথে জোর করে বিয়ে দেয়া হলো তাকে।আজগর চৌধুরী কায়নাতকে দেখানোর জন্যই অর্ণকে ডেকেছিলেন গ্রামে।অর্ণ গোনাক্ষরেও টের পায়নি দাদার চালাকি।বাচ্চা একটা মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে তার ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছেন।সে আশ্চর্য না হয়ে পারেনি।পৃথিবীতে এত মানুষ থাকতে সে কেন?কেন বাড়ির আরও ছেলে থাকতে তার সাথেই বাচ্চা একটা মেয়ের বিয়ে দেয়া হলো?
ছোট্ট কায়নাত ঠাণ্ডায় থরথর করে কাঁপছে।শরীর গুটিয়ে নিয়েছে অর্ণর বুকে।বাইরে বৃষ্টির তীব্রতা বেড়েছে আগের থেকেও বেশি।
অর্ণ কিছুটা নড়েচড়ে বসল। বুকের ভেতর নিঃশ্বাস ফেলে নিঃশব্দের মতো ঘুমিয়ে আছে কায়নাত। শাড়ির আঁচল ভিজে গিয়ে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগছে তার গায়ে। বৃষ্টির শব্দে ঘরটা যেন আরও শূন্য, আরও ভারী হয়ে উঠছে। অর্ণর দৃষ্টিটা গম্ভীর হয়ে কায়নাতের গোলাপি নাকের ডগায় স্থির হলো।
এ মেয়েটা কি আদৌ জানে আজ তার জীবনে কী ঘটলো?বিয়ে!একটা পূর্ণাঙ্গ শব্দ, যার বোঝা সে নিজেও কখনো বুঝতে পারবে কিনা সন্দেহ।
অর্ণ ধীরে। খুব ধীরে কায়নাতের কাঁধে পড়ে থাকা ভেজা আঁচলটা সরিয়ে দিল।
তার কণ্ঠে কোনো কোমলতা নেই, কিন্তু ভেতরের কোথাও এক অচেনা টান তৈরি হচ্ছে।যা সে স্বীকারই করতে চায় না।বাইরে বজ্রপাত হলো। কায়নাত ভয়ে কুঁকড়ে উঠল, অচেতন স্বরে গুঙিয়ে উঠল, তারপর আবার শক্ত করে আঁকড়ে ধরল অর্ণর জামার বর্ডার। যেন সেই তার নিরাপত্তা।
অর্ণ চোখ বন্ধ করে মাথা পেছনে ঠেকাল।
“বাচ্চা।”
এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত শব্দ। বিরক্তি আছে, অভিমান আছে, আবার অদ্ভুত এক দায়বদ্ধতাও লুকিয়ে আছে।নিমেষের জন্য মনে হলো, এই হাত-পা কাঁপা, ভিজে গোঁফ লাগা ছোট্ট নববধূর জন্য আজ সে পৃথিবীর কাছে দায়ী হয়ে গেছে।
হঠাৎ বারান্দার দরজায় টুপটাপ বৃষ্টির জলের শব্দে কায়নাত সামান্য নড়ল। ঠোঁট শুকনো, গলাটা কাঁপছে। অর্ণ ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাল।মেয়েটা কবুল পড়ার সময় খিলখিল করে হাসছিল।তার লাটসাহেব তাকে বিয়ে করছে বলে কী খুশিটাই না হয়েছিল।
কিন্তু মেয়েটা কী আদৌ জানত?তার সদ্য কবুল করা স্বামী তার হাত ছেড়ে চলে যাবে তাকে ছেড়ে।এতটাই দূরে যাবে যে সে তার স্বামীর মুখটাও মনে রাখতে পারবে না কয়েক বছর পর।ঠিক এমনটাই ঘটেছিল ছোট্ট কিশোরীর সাথে।অর্ণ সেইদিন বিয়ে অস্বীকার করেছিল।বউ অস্বীকার করেছিল।ছোট্ট এক মেয়েকে নিয়ে সংসার করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।সে বারণ করেছিল পরিবারের কাউকে বিয়ের কথা না জানাতে।কায়নাতের সকল খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছিল সে।ছোট্ট কায়নাত প্রথম কয়েকদিন স্বামীর জন্য কান্না-কাটি করলেও ধীরে ধীরে মুছে যেতে থাকে সেই মধুময় স্মৃতি।দিন গেল,মাস গেল,ধীরে ধীরে বছরও পেরিয়ে গেল।কিশোরী এখন সপ্তদশী।
সপ্তদশী কিশোরী কন্যা।আজ ৭টা বছর পর কায়নাত তার স্বামীর সামনে বসে আছে।এই লোকটা একটা সময় তাকে ছেড়ে চলে এসেছিল।আজ হয়তো সবাই বিয়ের কথা জেনেছে বলে বাধ্য হয়ে কায়নাতকে নিজের বাড়ি নিয়ে এসেছে।একটা সময় এই মানুষকে সে চিৎকার করে “আমার লাটসাহেব” বলে ডাকত।তার এসব কিছুই মনে নেই।প্রথম দেখায় স্বামীকে চিনতে না পেরে দেবরকে নিজের স্বামী ভেবেছিল।কী লজ্জা,কী লজ্জা!আজ সে প্রেমের সামনে যেতে পারে না লজ্জায়।
অর্ণ ডাইনিং টেবিলে বসে আছে।সকালের খাবার খাচ্ছে সে।কায়নাত আড়চোখে সেদিকে একবার তাকাল।মেয়েটার মনে অভিমান লুকিয়ে আছে পাহাড় সমান।আজ হঠাৎ করেই মনে হয়েছে,অর্ণ তার খোঁজ-খবর নেয়নি এই ৭ বছরে।একটাবারও খবর নিয়ে জানতে চায়নি তার বিয়ে করা ছোট্ট বউ আদৌ ভালো আছে কিনা।কেন জানতে চায়নি সে?আজও কী এই বিয়েটা সে অস্বীকার করে?
ছোট্ট আদির স্কুল থেকে আজ কল এসেছে।শেহেরকে কল করে জানিয়েছেন স্কুলে উপস্থিত হতে।বাড়ির কেউ এই খবর জানেন না।নুসরাত খাবার খাইয়ে দিচ্ছে ছেলেকে।অর্ণ ঘড়িতে সময় দেখে নিল।সে আজ বনানী যাবে কিছু দরকারে।কয়েকদিনের মধ্যে ঢাকার বাইরে যাবে ব্যবসার কাজে।আজ সেই বিষয়েই হয়তো একটা মিটিং বসবে।সে উঠে দাঁড়াল।
অর্ণ উঠে দাঁড়াতেই কায়নাতের বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল।
একবারও তার দিকে তাকাল না লোকটা!দরজার কাছে পৌঁছে অর্ণ বলল,
“আমি বের হচ্ছি।”
নুয়ে থাকা গলায় কায়নাত জিজ্ঞেস করল,
“আপনি আজ ফিরবেন তো?”
তার কণ্ঠটা যেন ভাঙা বাঁশির মতো।হতাশ, লজ্জায় মোড়া,আবার খানিকটা অভিমানও আছে।অর্ণ থামল।কিন্তু ফিরে তাকাল না।শুধু ঠাণ্ডা, গম্ভীর গলায় বলল,
“ফিরে আসলে বুঝবে।”
শব্দগুলো ছিল না কঠোর,কিন্তু অদ্ভুত দূরত্ব মিশে ছিল।যেন এই সম্পর্কটা তার নিয়তি,তার পছন্দ নয়।কায়নাত নিচে তাকাল।
মনে হচ্ছে একটু পরেই কেঁদে ফেলবে,কিন্তু সে কান্না চেপে রাখল।আজ বাড়ির সবাই জানে সে অর্ণ চৌধুরীর বউ।তবু অর্ণর চোখে কি সে সত্যিই বউ?
না কি সাত বছর আগের সেই ভুলের বোঝা?
অর্ণ বেরিয়ে গেলে বাড়িটা আরও দূরত্বময় হয়ে গেল।মেয়েটা লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।অর্ণ চৌধরীকে বোঝার মতো ক্ষমতা তার এখনো হয়নি।
সকাল ১০টার সময় আদির স্কুলে উপস্থিত হয়েছে শেহের ও স্বার্থ।শেহের ও স্বার্থ বসে আছে প্রিন্সিপালের রুমে।আদি শেহেরের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ গোঁমড়া বানিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।তাদের সামনেই প্রিন্সিপাল।ভীষণ মোটা লোকটা।চোখে ইয়া বড় একটা চশমা পরেছেন তিনি।স্বার্থ গম্ভীর হয়ে কপাল কুঁচকে প্রিন্সিপালের কাহিনি দেখছে।খানিকক্ষণ পর শেহের হালকা গলা কেঁশে বলল,
“আদিত্য কী করেছে স্যার?কোনো অন্যায় হয়েছে তার দ্বারা?”
প্রিন্সিপাল গম্ভীর চোখে আদিকে দেখলেন।বললেন,
“আপনি আদির বাবা,রাইট?”
শেহের খুঁকখুঁক কেঁশে উঠল।বলল,
“জি।”
“আপনার ছেলে বয়সের তুলনায় একটু বেশিই দুষ্টু।সে স্কুলে এসে ছোট ছোট বাচ্চাদের আজে-বাজে কথা শেখায়।অলরেডি কয়েকজন স্টুডেন্টদের গার্ডিয়ান এসে কমপ্লেইন করে গেছেন।”
স্বার্থ নাক-মুখ কুঁচকে বলল,
“বললেই হলো?আমরা আমাদের ছেলেকে ওসব বাজে কথা শেখাইনি।”
আদি ঘনঘন মাথা নাড়িয়ে বলল,
“তুমি ঠিক কথা বলেছ মা।”
উপস্থিত তিনজনই চমকে উঠল আদির কথা শুনে।প্রিন্সিপাল কপালের ভাঁজ আরও গাঢ় করলেন।
“হোয়াট?আপনাকে সে মা ডাকছে কেন?”
স্বার্থ চোখ পাকিয়ে আদির দিকে তাকাল।আদি মুখ বাঁকাল।শেহের আদির একহাত চেপে ধরে ক্ষমা চেয়ে বলল,
“মাফ করবেন স্যার।আমি বুঝতে পেরেছি আমার ছেলের জন্য আপনাদের হয়রানি হয়েছে।”
“আপনার ছেলেকে বোঝান।এমন ভাবে চলতে থাকলে আমি তাকে এই স্কুল থেকে টিসি দিতে বাধ্য হব।”
স্বার্থ গম্ভীর মুখে চেয়ারে সোজা হয়ে বসল।
বলল,
“স্যার,আপনি টিসি দিলেও আমরা ওকে এই স্কুল থেকে নিয়ে যাব।”
শেহের ধাক্কা মারল স্বার্থকে,
“চুপ থাক তুই! আর একটা কথাও বলবি না!”
আদি দুষ্টু দুষ্টু চোখে তাকাল দু’জনের দিকে।ফিসফিস করে বলল,
“বাবা,মা আমার বিরুদ্ধে সবাই মিথ্যা বলে।”
শেহের গলা চড়িয়ে বলল,
“একটা মারব কানের নিচে।বাঁদরামি করছো কেন?”
প্রিন্সিপাল চমকে উঠলেন,
“আপনারা দম্পতি ?”
শেহের মাথায় হাত দিল।
“না, স্যার! আমরা দম্পতি না।এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি।স্বার্থ হচ্ছে আমার…”
স্বার্থ আগেই বলে উঠল,
“আমি ওর ওয়াইফ।আমার পেটে ওর বাচ্চা আছে।”
রুমটা নিস্তব্ধ।প্রিন্সিপালের চোখের চশমা নাকের ডগা থেকে প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।শেহের দাঁত চেপে বলল,
“আমি তোর কী?!”
“আমার হাসব্যান্ড।তুই জামাই না মানলেও আমার কী দোষ? আমি তো সমাজে স্বীকৃতি চাই।”
“চুপ! চুপ! চুপ!”
শেহের এত জোরে বলল যে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আদি পর্যন্ত চমকে উঠল।
প্রিন্সিপাল টেবিলের উপর হাত চাপড়ে রাগে বললেন,
“এটা স্কুল! নাটকের স্টেজ না! আপনারা কি বুঝতে পারছেন আপনাদের জন্য পুরো অফিস ডিস্টার্ব হচ্ছে?”
শেহের দ্রুত বলল,
“মাফ করবেন স্যার।দয়া করে রাগ করবেন না।আমরা এখনই যাচ্ছি।”
স্বার্থ দাঁড়াতে গিয়ে আবার বলে উঠল,
“স্যার, প্লিজ টিসি দিয়ে দিন।আমাদের সং..”
শেহের আর সহ্য করতে পারল না।স্বার্থর কথা শেষ হওয়ার আগেই কলার চেপে টেনে বের করতে লাগল।
আদি ছোট্ট শরীর নিয়ে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে তাদের পেছনে গেল।প্রিন্সিপাল হা করে তাকিয়ে রইলেন।
“এরা কি মানুষ? নাকি চিড়িয়াখানার বাঁদর!”
তিনি ভেবেই ফেললেন আদিকে আর এই স্কুলে রাখবেন না।
স্বার্থ স্কুলের বাইরে এসে দাঁড়াতেই শেহের তাকে ধাক্কা দিল।
“তুই কি পাগল? প্রিন্সিপালের সামনে এসব কী বলে এলি?”
স্বার্থ রাগে ঠোঁট চাপল।
“আদি আমাকে ‘মা’ কেন ডাকবে? এত্ত বড় অপমান!”
আদি শান্ত গলায় বলল,
“তুমি তো মা-ই।”
“চুপ কর!” দুইজন একসঙ্গে চিৎকার করল।
আদি হতাশ মুখে বলল,
“ঠিক আছে।আর ডাকব না মা।”
আদিকে নিয়ে ওরা অর্ণর অফিসে এলো।অর্ণ খানিকক্ষণ আগেই বনানী থেকে ফিরেছে।ফিরতেই ওদের সাথে দেখা।আদিকে ওদের সাথে দেখে সে কপালে গাঢ় ভাঁজ ফেলল।আদি মন খারাপ করে শেহেরের বুকে শুয়ে আছে সোফায়।অর্ণ কপাল কুঁচকে বলল,
“তিন বাঁদর আজ এত চুপ কেন?আদি না এই সময়ে স্কুলে থাকে?ওকে অফিসে কেন নিয়ে এসেছিস?”
স্বার্থ শুকনো ঢোক গিলল।সে তো আদিকে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার ব্যবস্থা করে এসেছে।এখন যদি এসব কাণ্ডর কথা অর্ণর কানে যায়,তাহলে কী হবে?সে প্যান্ট চেপে ধরে হঠাৎ করে উঠে দাঁড়াল।দরজার নিকটে গিয়ে অস্থির গলায় বলল,
“তোর অফিসের ওয়াশরুম ভীষণ নোংরা,সোনা।আমি বাড়ি যাচ্ছি।ভীষণ চাপ পেয়েছে।”
স্বার্থ একপ্রকার দৌঁড়ে বের হলো।শেহের শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে নিল আতঙ্কে।ঘটে যাওয়া কাহিনি সে অর্ণকে বলতে পারবে না।আদি শেহেরের কোল থেকে নেমে অর্ণর কাছে গেল।অর্ণ নিজের চেয়ারে বসে ছিল।আদি নিকটে এগিয়ে আসতেই সে হাত বাড়িয়ে টেবিলের উপরে বসাল তাকে।আদি ঠোঁট উল্টে মিনমিন করে বলল,
“মামু,বাড়ি যাবে কখন?”
অর্ণ বলল,
“একটু পরেই যাব।”
ওরা অফিস থেকে বের হলো দুপুর দিকে।বাড়ি ফিরতেই নুসরাত আগে দু’ঘা বসিয়েছে ছেলের গায়ে।স্কুল থেকে প্রিন্সিপাল কল করে তাকে সব জানিয়েছে।আদি গলা ফা টিয়ে কাঁদছে।যদিও সেটা নাটুকে কান্না!শেহের এগিয়ে এসে নুসরাতের থেকে আদিকে সরিয়ে নিল।নুসরাত যেন ভীষণ রেগে আছে।সে চোখ রাঙিয়ে শেহেরের দিকে তাকাল।বলল,
“তোমরা কেন গিয়েছিলে স্কুলে?জানো,স্যার কত কথা শুনিয়েছে আমায়?তোমরা সবাই মিলে আমার ছেলেটার মাথা খাচ্ছ।”
শেহের নুসরাতের কথায় পাত্তা দিল না।অর্ণ উপরে উঠে গেছে বাড়ি ফেরার পরেই।ড্রয়িংরুমে তখন কায়নাত,নিশা,নিধি উপস্থিত।কায়নাতরা সোফায় বসে বসে ওদের ঝগড়া দেখছে।শেহের শান্ত গলায় বলল,
“চিৎকার করছো কেন রাত?ভুল কিছু করেছি আমি?”
“করনি বলছো?”
“কী করেছি?”
“তুমি আদির বাবা?আমার হাসব্যান্ড তুমি?”
থমথমে হয়ে এলো চারপাশ।শেহের ঠোঁট কামড়ে নুসরাতের রাগান্বিত আনন দেখছে।নুসরাত কিছু মুহূর্ত পার হতেই নিজের কথায় হতবুদ্ধি হলো।আদি চোখ উঁচিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোমরা বিয়ে করে ফেলো মা।চলো তোমাদের বিয়ে করিয়ে দেই।”
নুসরাত ধমকে উঠল ছেলেকে।
“কে শেখায় তোমাকে এসব?কতবার বলেছি দুষ্টুমি করবে না?”
“আমি দুষ্টুমি কোথায় করলাম?শেহের ভাই তো ভালো ছেলে।”
নুসরাত দাঁত চাপল।শেহের পরিস্থিতি বুঝে আদিকে নিয়ে দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল।
“শোনো রাতপাখি!রেগে গেলে তোমায় বাচ্চাদের মতো লাগে।এত রেগে আছো কেন?বাবার পরিচয় দিয়েছি,তার মানে এই নয় আমি আদির বাবা।”
নুসরাত রেগে সেখান থেকে প্রস্থান করল।সে আর কথা বাড়াতে পারছে না।নিশা এতক্ষণ বোনের রাগ দেখে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিল।সে কিছু বলতে গেলেই আপু ধরে কানের নিচে বসাত।শেহের কায়নাতকে বলল আদিকে একটু ফ্রেশ করিয়ে খাবার দিতে।কায়নাত মাথা নাড়িয়ে আদিকে সাথে করে উপরে উঠে গেল।নিশা শেহেরকে টেনে ধরে নিজের পাশে বসাল।শেহের জানে নিশা এখন কী জিজ্ঞেস করবে।
“তোমার বন্ধু কই?সে কেন আসে না?”
“ওকে দিয়ে তোর কাজ কী?”
“নাটক কম করবে শেহের ভাই।বলো না,সে কোথায়?”
“বাড়িতেই আছে।”
“আমায় নিয়ে যাবে তোমার সাথে?”
“কেন?”
“একটু দেখা করতে যাব।”
পাশ থেকে নিধি নাক ছিঁটকে বলল,
“বেহায়া প্রেমিকা।তুই পিছু পিছু না ঘুরে স্বার্থ ভাইকে তোর পেছনে ঘোরা।বলদ একটা।”
শেহের হেসে ফেলল।যে পুরুষ আঠার মতো লেগে আছে তাকে আবার পেছনে লাগানো যায়?শেহের উঠে দাঁড়াল।নিশার কপালে গাট্টা মেরে বলল,
“চল,তোকে তোর আশিকির কাছে নিয়ে যাই।”
•
কায়নাত আদিকে অর্ণর ঘরে নিয়ে এসেছিল তখন।আদি তার মায়ের ঘরে যাবে না মানে যাবেই না।ছেলেটা একটু হলেও মাকে ভীষণ ভয় পায়।এখন ঘরে গেলে দরজা বন্ধ করে ইচ্ছে মতো মারবে।কেউ আঁটকাতে গেলে তাকে ধরেও মারতে পারে।কোনো সন্দেহ নেই!অর্ণ শুধু ট্রাউজার পরে ঘরের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে আছে কপাল কুঁচকে।মুখের ভাব-ভঙ্গি ভীষণ গম্ভীর।ভেজা চুল থেকে টুপটাপ করে পানি ঝরছে।আদি অর্ণর তোয়ালে নিজের কোমরে গুঁজেছে।কায়নাত তাকে গোসল করিয়ে দিয়ে বিছানার উপর দাঁড় করিয়েছে।পেছন থেকে অর্ণ আদির দিকে গম্ভীর চোখ তাক করেছে,তো অন্যদিকে আদি মুখ কালো করে মামুর গম্ভীর মুখ দেখছে।
কায়নাত আদিকে ফ্রেশ করিয়ে দিতেই হিম-শিম খেয়েছে এতক্ষণ।বাচ্চাটা খুব জ্বালায়।সে নিজের শাড়ির আঁচল টেনে আদির মাথা মুখিয়ে দিতে দিতে বলল,
“তোমার মামুরা তো তোমার মতো এত বাঁদর নয়।তুমি এমন বাঁদর হলে কী করে?”
আদি গম্ভীর গলায় বলল,
“ইউ ইস্তুপিট!বাঁদর কাকে বলছো?”
কায়নাত আশ্চর্য হলো।আঁচল ছেড়ে কোমরে হাত দিয়ে রাগ নিয়ে বলল,
“ফাজিল ছেলে,কাকে স্টুপিড বলছো?আমি তোমার মামি হই।”
“সে তো আমার মামুও তোমাকে বোকে।”
“তোমার মামা আমার জামাই হয়।”
“তুমিও তো আমার ভাবি হও।”
“আবার বাঁদরামি করছো!”
পেছন থেকে অর্ণ এগিয়ে এলো ওদের নিকটে।হঠাৎ হাত বাড়িয়ে ঝুঁকে এলো কায়নাতের দেহের কাছে।মেয়েটার কোমরে গুঁজে রাখা আঁচল টেনে বের করতেই চমকে উঠল কায়নাত।হঠাৎ অর্ণ মাথা ঝুঁকিয়ে মেয়েটার ভেজা আঁচল দিয়ে নিজের মাথা মুছতে মুছতে বলল,
“তোমাদের নাটক শেষ করো।”
অর্ণর ছোঁয়া সেই হাতের স্পর্শ যেন এখনো কোমরে লেপ্টে আছে।শরীর শিরশির করছে মেয়েটার।লাজে মিইয়ে এলো তৎক্ষণাৎ।অর্ণ মাথা মুছে সোজা হয়ে দাঁড়াল।খালি গায়ে কায়নাতের সামনে তখন সুঠাম দেহের অর্ণ দাঁড়িয়ে আছে।ফরসা বুক খানা উকি দিচ্ছিল পিটপিট করে।তার বেহায়া চোখ সরল না তবু।অর্ণ চোখ ছোট ছোট করে ফেলল।
“এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন,ম্যাডাম?”
কায়নাত হকচকিয়ে শুকনো ঢোক গিলে বলল,
“আপনার বয়স কত?”
“৩২।”
“ইয়া আল্লাহ,আপনি দেখি বুড়ো হয়ে গেছেন।এখন যদি আমার বাচ্চা হয় তাহলে তো সবাই বলবে,বুড়ো বয়সে অল্প বয়সী সুন্দরী বউ বিয়ে করেছে অর্ণ।আর বাচ্চা নিয়েছে বুড়ো হওয়ার পর।”
“আমি কী বলেছি আমার বাচ্চা লাগবে?”
“আপনার বলতে হবে কেন?এখন বাচ্চা না নিলে আমার বাচ্চা-কাচ্চারা একটা বুড়ো বাপ পাবে।মা হয়ে আমি কীভাবে তাদের কষ্ট সহ্য করব বলুন তো?”
“ইডিয়ট,কী যা-তা বলছো?”
“যা বলেছি ঠিকই তো বলেছি।আপনিই বলুন,আপনি বুড়ো হয়ে যাচ্ছেন না?আমাদের উচিত তাড়াতাড়ি বাচ্চা-কাচ্চা নেয়া।”
(ইডিয়ট পাঠকগণ রেসপন্স না করলে কুব দুক্কু পাব।সবাই রেসপন্স করো।)
চলবে…?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৫
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৬
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ গল্পের লিংক
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৭(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৭
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৭.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ১৩
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২