Golpo romantic golpo প্রিয় প্রণয়িনী

প্রিয় প্রণয়িনী ২ পর্ব ২২(প্রথমাংশ +শেষাংশ)


প্রিয়_প্রণয়িনী২

জান্নাত_নুসরাত

(২২) প্রথম অংশ

নাছির সাহেব আর ইসরাত বাড়ির বাহিরে বের হয়েছেন। সামনেরই গ্রোসারি শপে যাওয়ার জন্য। ইসরাত রেডি হয়ে আসতে আসতে নাছির সাহেব তার দৃষ্টিসীমার বাহিরে চলে গেলেন। ইসরাত দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করল। সৈয়দ বাড়ির ফটক পাড় করে যেতে নিবে জায়িন পেছন থেকে গম্ভীর গলায় বলে ওঠল,”দাঁড়ান!

ইসরাত পিছু ফিরে তাকানোর আগে জায়িন দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসলো। কোনো কথা ছাড়া একহাতে দিয়ে চেপে ধরল মেয়েলি নরম হাত। ইসরাত থমকে দাঁড়াল। চোখ উপরে তুলতেই, জায়িন ইশারা করল সামনে পা বাড়ানোর জন্য। ইসরাত কতক্ষণ নিজের জায়গায় স্থির দাঁড়িয়ে থেকে নিজেকে স্বাভাবিক করল। ঢোক গিলে অগ্রসর হলো সামনের দিকে। জায়িন কোনো কথা বলল না। চুপচাপ মাথা নিচু করে চলা ইসরাতের মিষ্টি মুখের দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে রইল।


নুসরাতের কথা শেষ হওয়ার আগেই তার গালে পরপর বাজিয়ে দুটো থাপ্পড় পড়ল। তারপর থেকেই পিনপতন নীরবতা। বদ্ধ রুমে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ইরহাম, মাহাদি। কোনো শব্দ ব্যয় করেনি দু-জন। বুঝেছে কথা বললেই তাদের উপর নুসরাতের রাগ ঝাড়বে এই লোক। তাই চুপ থাকাই শ্রেয় মনে হয়েছে দু-জনের নিকট।

আরশ এখনো নিজের জায়গায় চুপচাপ বসে সামনের ভদ্র মহিলাকে এক মনে দেখছে। নুসরাত থাপ্পড় খাওয়ার পর থেকে মুখে কুলুপ এঁটেছে। গালি দিতে চায়নি সে, আসলে দিতে চাইছিল কিন্তু মনে মনে। সেটা স্লিপ অফ ঠ্যাং হয়ে মনে মনে না হয়ে, জোরে বের হয়ে গেছে। এতে তার বেচারির দোষ কী! দোষ তো মুখের তাই না? তাহলে এই বেটা তাকে এত জোরে মারল কেন! তাই আবারো মুখ ফসকে ভুল কিছু বের হওয়ার ভয়ে ঠোঁট চেপে ধরে বসে আছে। তার নাজুক গালে আর থাপ্পড় খেতে চাচ্ছে না এই মুহুর্তে। জন্মের পরে এই প্রথম এত থাপ্পড় খেয়েছে মনে হয় সে। কীভাবে তার মতো একটা মেয়েকে এই লোক ধুমধাম করে মারছে। জামাই হয়েছে তো কী মাথা কিনে নিয়েছে নাকি! এই আরশ বেটাকে একটা শিক্ষা না দিলে, সে নুসরাত নাছির না! এই নিয়ে গণে গণে তাকে এই বেটা পনেরোটা থাপ্পড় মেরেছে। সব ফিরিয়ে দিবে সে!

গালি গালাজ শব্দটাই পছন্দ না আরশের। সে নিজেও গালি দেয় না আবার তার সামনে কেউ গালি দিক সেটাও সে পছন্দ করে না। এতে রাগ হয় প্রচুর! বর্তমানে তার চোখের সামনে নিস্তব্ধ হয়ে বসা নুসরাতের কিৎকাল পূর্বের গালি শুনে রাগ, বিরক্তি দুটোর একটাই হচ্ছে না। এতেও সে মহা বিরক্ত! কেন রাগ হচ্ছে না? কেন বিরক্তি আসছে না এই বেয়াদব মহিলার ওপর? সূক্ষ্ম গলা ভেজানোর জন্য ঢোক গিলে নিল। তাতে গলার এডামস অ্যাপলস উপর-নিচ বিট হলো। নিষ্প্রাণ চোখে স্থির চেয়ে থাকল বাজপাখির ন্যায় মেয়েলি মুখখানার দিকে। থাপ্পড় খাওয়ার জন্য গালে কিছুটা দাগ পড়েছে, সেদিকেই তার চোখ বারবার ঘুরে গিয়ে দৃষ্টিবদ্ধ হলো।

নুসরাত বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হলো। এতক্ষণ ধরে চুপচাপ বসে আছে এর মানে এই না আজ সারাদিন এভাবে বসে থাকবে সে। তাই নিজের বন্ধ রাখা মুখ খুলল কষ্ট করে। গাল দুটো অসাড় হয়ে আছে। নিজের রাগ ভেতরে চেপে সোজসুজি বসে প্রশ্ন ছুঁড়ল,”এই ভাই আপনার সমস্যা কী?

আরশ কথা বলল না। স্থির নিজের জায়গায় থাকল। কিন্তু চোখের মণি মুখ থেকে সরে এসে তা নাকে গালে স্থির হলো। নুসরাত অদম্য রাগ দাঁতের নিচে চাপা দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে কোনো রকম জিজ্ঞেস করল,”কী? সমস্যা কী আপনার? এমন করে বসে আছেন কেন? আচ্ছা বাদ দিন, আপনি বসে থাকেন এভাবে, আমাকে যেতে দিন! আমার তো একটা মান-সম্মান আছে, সারাদিন এভাবে বাহিরে থাকলে মানুষ ভালো বলবে না।

সামনা সামনি এই কথা বললেও মনে মনে নুসরাত তার উল্টো বিড়বিড় করল,”যার যা ভাবার ভাবুক, আমি নুসরাত নাছির এসবের পরোয়া করিনা।

আরশ নুসরাতের কথায় হয়তো একটু বিরক্ত হলো। তাই মুখের শান্ত ভঙ্গিমায় একটু বিরক্তি ফুটিয়ে তুলে ইরহামের উদ্দেশ্যে বলে ওঠল,”ওই বেয়াদ্দব মহিলার মুখ ভালো করে বেঁধে রাখ। কখন থেকে স্বামী সমান অবিভাবকের ওপর চিৎকার করতেই আছে।

ইরহাম নুসরাতের মুখে কাপড় বাঁধতে নিবে আরশ চোখ রাঙাল। গম্ভীর গলায় সর্তকতা জারী করে বলল,”মোলায়েম করে বাঁধবি, যাতে আমার মিসেস একদম ব্যথা না পায়। যদি সামান্য ব্যথা পায়, তাহলে…

ইরহামকে আর বলতে হলো না, সে মাথা ঝাঁকিয়ে বোঝাল বুঝে গেছে। নুসরাতের মুখে কাপড় বাঁধার আগেই আরশ তা থাবা মেরে নিয়ে নিল। ফুস করে ওঠে ইরহামকে ধমকাল,”তোকে বলেছি আমি কাপড় বাঁধতে?

ইরহাম আরশের দু-কথায় তব্ধুল হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। মাহাদি কোনো কথা না বলে আরেকটা চেয়ের টেনে নুসরাতের সামনাসামনি বসতে যাবে আরশ ঠেলে দূরে সরিয়ে দিল। ইশারায় কোণোর একটা জায়গা দেখিয়ে বলে ওঠল,”ওইখানে গিয়ে বস। এদিকে কী মধু লাগানো আছে?

নুসরাত বারবার বিরক্তের উপর বিরক্ত হলো। কিন্তু তা বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর সুযোগ না পেয়ে দাঁত কামড়ে বসে থাকতে হলো। একে হাত নাড়াতে পারছে না তার ওপর এই আপদ। আরশ এবার কিছু বলতে নিবে নুসরাত পুরুষালি ঠোঁটের দিকে চোখ স্থির রেখে জিজ্ঞেস করল,”সিগারেট খান?

আরশ নির্দ্বিধায় স্বীকারক্তি দিল,
“হু!

নুসরাত চোখ সরু করে আবারো শুধাল,
” মদ খান?

“না, কিন্তু বগলের নিচে নিয়ে ঘুরি।

নুসরাত মুখ দিয়ে বাহ বাহ দিল। হাত নাড়াতে না পারায়, হাত তালি দিতে না পেরে প্রচুর ব্যথিত হলো। আবারো প্রশ্ন করল,”আর কী কী বগলের নিচে নিয়ে ঘুরেন আপনি?

“মেয়ে মানুষও বগলের নিচে নিয়ে ঘুরি।

নুসরাত কিৎকাল আরশকে অবলোকন করল। অতঃপর মৃদু স্বরে মিষ্টতায় পরিপূর্ণ কন্ঠে আওড়াল,
” হাতে ব্যথা পাচ্ছি, খুলে দিন।

আরশ ইরহামকে ভ্রু দিয়ে ইশারা করে গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠল, “খুলে দেয়!

ইরহাম অবাক কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,
” খুলে দিব?

আরশ শব্দ করে শ্বাস ফেলল। চোখের ইশারায় বলল খুলে দিতে। ইরহাম হাতের বাঁধনে হাত দিতেই আরশ থামিয়ে দিল। অবজ্ঞার সাথে দু-হাত তুলে আড়মোড়া ভেঙে বলল,”হাত খুলে দিস না।

ইরহামের দড়ির কাছে থাকা হাত থমকাল কিছুক্ষণের জন্য। সোজা হয় দাঁড়িয়ে অবাক কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,
“কেন?

আরশ নিজের ক্লিনসেভ ধারালো চোয়ালে হাত বুলিয়ে গম্ভীর আওয়াজে আওড়াল,” খুলে দিলেই ফড়িং এর মতো তিড়িংতিড়িং করবে। এরচেয়ে ভালো এভাবেই বাঁধা থাকুক। শান্ত-শিষ্ট করুণ দেখতে ভালোই লাগছে, আমার মিসেসকে।

নুসরাত গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ওঠল। আরশকে তাচ্ছিল্য নিতে না পেরে, দাঁতে দাঁত চেপে কটমট করে বলে ওঠল,”আমি করুণ না।

কথা শেষ করতেই ধপাস করে দরজা খুলে গেল। মাহাদি, নুসরাত আর ইরহামের চোখ দরজার দিকে ঘুরে গেল। আরশ নিজের চেয়ারে পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকল। পেছন ফিরে দেখার প্রয়োজন বোধ করল না কে এসেছে ।

আরশ সঠান হয়ে সামনা সামনি বসায় নুসরাতের দৃষ্টি তাকে ভেদ করে দরজার কাছে গেল না। উঁকি ঝুঁকি মারল কে এসেছে দেখার জন্য, কিন্তু অক্ষিপট সে অবদি পৌঁছাল না। একবার পা বাঁধা ভুলে গিয়ে ওঠে দাঁড়াতে গিয়েও থেমে গেল। টনক নড়ল পা তো বাঁধা। তাই আরশের দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে বলে ওঠল,”আরশ ভাই, দেখব!

আরশ বুকে আড়াআড়ি হাত বেঁধে চোয়াল শক্ত করে জিজ্ঞেস করল,”কী দেখবি?

নুসরাত সামন্য কপাল কুঞ্চিত করে বলে ওঠল,
“কে এসেছে তা!

আরশ গম্ভীর কন্ঠে বলল,
“দেখার দরকার নেই, আমাকে দেখ।

নুসরাতও তৎপর গতিতে কথার পিঠে কথা ফিরিয়ে দিল,”আপনাকে দেখার কিছু নেই। গত একঘন্টা যাবত অনেক দেখেছি! দেখার মতো বিশেষ কিছু খুঁজে পাইনি।

আরশ চোখ বড় বড় করে ধমকে কিছু বলতে নিবে পেছনের কথায় থেমে গেল। ঘাড় ঘুরিয়ে সামান্য পেছনে তাকাল। আবিরকে এমন হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কপালে ভাঁজ পড়ল আরশের।

আবির নুসরাতকে চেয়ারের সাথে বসা দেখে অবাক হলো। না চাইতেও মুখ দিয়ে বের হয়ে আসলো,” তুমি?

আরশ ঝটপট আবিরকে শুধরে দিয়ে বলে ওঠল,
“What are you? call her mam!

আবির মাথা নিচু রেখে আরশের কথার প্রতিত্তোর করল,” কিন্তু স্যার..

আরশ কথা কেটে দিয়ে বলে ওঠে,
“কোনো কিন্তু না, ম্যাম বলবে ও’কে।

নুসরাত আবিরের চুপসানো মুখের দিকে তাকাতেই হে হে করে হেসে ওঠল। নুসরাতের এমন হাসির মানে আরশ খুঁজে পেল না। আবির নুসরাতের দিকে চোখ তুলে তাকাতে নিবে আরশ ধমকে ওঠল,” ওর দিকে চোখ তুলে তাকাচ্ছ কেন? চোখ নিচের দিকে রাখো!

আবির মিনমিন করে বলে ওঠল,
“ওকে স্যার!

নুসরাতকে হাসতে দেখে আরশ বিরক্ত হলো। ইরহামকে ডেকে ওঠে,” ইরহাম!

ইরহাম জি ভাই বলতেই আরশ বলল,
“যা একটা লাঠি নিয়ে আয়, এই মহিলাকে দু ঘা মনে হচ্ছে দিতে হবে। দাঁতগুলো ঢুকছেই না ঠোঁটের ভেতরে।

নুসরাত আরশের কথায় থামল না। দ্বিগুণ শব্দে হেসে ওঠল। আবিরের বেচারা মার্কা মুখ দেখে নুসরাতের ইচ্ছে করছে মাটিতে গড়াগড়ি খেয়ে হাসতে। শুধুমাত্র হাত পা বাঁধার জন্য পারছে না। নাহলে এখানেই শুয়ে পড়ত সে।


নিজাম শিকদার আর সুফি খাতুনের ঝগড়া লেগেছে জম্বেশ। একপ্রকার সেটা জমে ক্ষীর হওয়ার মতো। ঝগড়া লাগার কারণ কেউ জানে না। সৌরভি ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করছে কিন্তু তা থামাতে গিয়ে দু-জনের কথার তোপে পড়তে হচ্ছে সৌরভিকে। আহান সুফি খাতুনের পাশে দাঁড়িয়ে ঠোঁটে হাত চেপে হাসছে মুচকি মুচকি। ঝগড়া দেখতে ভালোই লাগছে তার নিকট। সুফি খাতুনের সাথে কথায় কোনোভাবে পেরে ওঠলেন না নিজাম শিকদার। তবুও হার মানতে রাজী নন তিনি। শয়তান ভদ্র মহিলাকে আজ একটা উচিত শিক্ষা না দিলে এই মহিলা মাথায় ওঠে বসবে। গতবার ও তার গাছের ফুল চুরি করেছে আর এবারো। একটা হেস্তনেস্ত করেই ছাড়বেন নিজাম শিকদার। তাই নতুন উদ্যোগে ঝগড়া করতে ব্যস্ত হলেন উনারা। সৌরভি নিজের দাদাকে থামানোর চেষ্টা করলেও আহানের মধ্যে সেই মনোভাব পরিলক্ষিত নয়। আহান বাড়ির বাহিরে বসার জন্য চেয়ার পাতা ওখান থেকে একটা চেয়ার এনে বসে গেল আরাম করে। গালে হাত দিয়ে দেখতে মনোযোগী হলো টানটান এই ঝগড়া। মাঝে মাঝে মুখ দিয়ে শব্দ বের করে চিয়ার আপ ও করল। সৌরভি বুঝে গেল আজ আর এই ঝগড়া থামবে না। এই দু-জনের থামাতে গিয়ে বিনা কারণে নিজের এনার্জি নষ্ট করার কোনো মানে হয় না, তার চেয়ে ভালো বসে দু-জনের হাড্ডা-হাড্ডির লড়াই দেখা। সৌরভি ও আরাম করে ঝগড়া দেখার জন্য চেয়ার টেনে বসল। আহানের মতো গালে হাত দিয়ে মনোযোগী হলো ঝগড়া দেখায়।

নিজাম শিকদার রাগে চিৎকার করে বলছেন,
“আপনাকে না করার পর কেন আপনি আমার গাছে হাত দিয়েছেন?

সুফি খাতুন তার থেকে দ্বিগুণ জোরে চিৎকার করে বলছেন,” দিয়েছি বেশ করেছি। গাছগুলো বাহিরে রাখলেই তো আমরা হাত দিব।

নিজাম শিকদার ক্ষুভে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে বললেন,”তো কী গাছগুলো বাড়িতে ঢুকিয়ে রেখে দেব?

” হ্যাঁ রাখুন, আমরা কী না করেছি !

সুফি খাতুন মুখ ঝামটা দিয়ে চলে গেলেন। আহান নিজেও পাতা চেয়ার হাতে তুলে নিয়ে নানির পেছনে যেতে যেতে নিজাম শিকদারের মুখের উপর গট করে দরজা লাগাতে ভুলল না।

চলবে….

প্রিয়_প্রণয়িনী২

জান্নাত_নুসরাত

(২২) শেষ অংশ

মেঘের আধাঁরে ঢাকা আকাশ। মৃদু বাতাস বইছে চারিদিকে। ঠান্ডা বাতাসের স্পর্শে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাওয়ার মতো। গ্রোসারি শপের গ্লাস বেয়ে ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে বৃষ্টির ঝিরঝিরে কণা। তা আলগোছে স্পর্শ করছে দূর্বা ঘাসগুলোকে। বাহিরের বৃষ্টির জন্য গ্রোসারি শপের স্লাইডিং দরজা টানা হয়েছে অনেক আগে। ইসরাত শপিং কার্ট ঠেলে নিয়ে বিভিন্ন মশলার আইটেম সেখানে রাখল। একবার চোখ বুলিয়ে নিল সবগুলো আইটেম রাখা আছে কিনা তা দেখার জন্য। তারপর আবারো অগ্রসর হলো চকলেট, চিপস, নেওয়ার উদ্দেশ্যে। জায়িন চুপচাপ বিল কাউন্টারে দাঁড়িয়ে আছে। ইসরাতকে নিশ্চিন্তে জিনিস কিনতে দিচ্ছে। মেয়েটার সাথে এসেছিল এক পলক দেখার জন্য, এখানে দাঁড়িয়ে থেকে সে খুব ভালো দেখতে পারছে মেয়েটাকে।

ইসরাত জায়িনকে পাশ কাটানোর সময় অভ্যাসবশত নিজের গলায় ঝুলানো মিনি ব্যাগ হাতালো। কিছু খুচরা নোট ছাড়া আর কিছু পেল না। তাই চকলেট কিনার জন্য অগ্রসর হওয়া পা থামিয়ে ফিরে আসলো আবারো নিজের জায়গায়। জায়িন নিষ্প্রভ দৃষ্টিতে তাকিয়ে সব কিছু লক্ষ করল। চুপচাপ এগিয়ে গিয়ে ইসরাতের হাতের মুঠোয় থাকা শপিং কার্ট নিজের কাছে হস্তান্তর করল। মেয়েটাকে ওভাবেই বিল কাউন্টারের কাছে দাঁড় করিয়ে রেখে শপিং কার্ট নিয়ে সেদিকে চলে গেল। ইসরাত না করার পূর্বেই জায়িন বড় বড় পা ফেলে অদৃশ্য হয়ে গেল গ্রোসারি শপের ভেতর। দশ মিনিট পাড় হওয়ার পর দেখা মিলল জায়িনের। দু-হাতে একটা ভর্তি শপিং কার্ট ঠেলে নিয়ে আসছে। তার সাথে আরেকজন সেলসম্যান। যে জায়িনের পেছন পেছন আরেকটা শপিং কার্ট ঠেলে নিয়ে আসছে। ইসরাত বাকরুদ্ধ চোখ মুখ নিয়ে তাকিয়ে থাকল। নিজের সামনে এগিয়ে আসা গম্ভীর মুখাবিশিষ্ট লোকটাকে এভাবে এতকিছু নিয়ে আসতে দেখে নির্বাক বনে গেল। জায়িন ততক্ষণে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ক্যাস কাউন্টারে থাকা মহিলা জিনিসপত্র গুলো স্ক্যান করে জায়িনের উদ্দেশ্যে বলল,”স্যার, আপনার বিল ত্রিশ হাজার টাকা হয়েছে।

ইসরাত কিছু বলতে যাবে জায়িন ঠোঁটে আঙুল রেখে চুপ দেখাল। গম্ভীর কন্ঠে মহিলাকে জিজ্ঞেস করল,
“কার্ড হলে চলবে?

মহিলাটি বিনয়ী সুরে বলে ওঠল,
” জি স্যার!

মহিলাটির কথা শেষ হতেই জায়িন পকেট হাতড়ে বিল পেমেন্ট করার জন্য কার্ড বের করল। ইসরাত মিনমিন করে বলল,”এতকিছুর প্রয়োজন ছিল না।

জায়িন ভ্রু সামান্য বাঁকাল। ইসরাতের এমন মতবাদ পছন্দ না হওয়ায় গম্ভীর ভঙ্গিতে পাশ ফিরে তাকিয়ে শুধাল,”আর ইউ সিওর?

ইসরাত মাথা উপর নিচ নাড়ানোর পূর্বেই জায়িনের উদ্দেশ্য মহিলাটি ডেকে ওঠল। হাতের POS মেশিন এগিয়ে দিল পিন দেওয়ার জন্য। জায়িন নিজের এটি-এম পিন ইসরাতকে দেখিয়ে চাপতে চাপতে বলে ওঠল,”আপনাকে আমি পরে দেখে নিব ইসরাত।

ইসরাত চোখ উল্টালো জায়িনকে দেখিয়ে। জায়িন গম্ভীর চোখ মেয়েলি মুখে স্থির রেখে নিজের শক্ত চোয়ালে হাত বুলালো। কোনো শব্দ করল না। বিড়বিড় করল কিছু একটা।


আবির হাতে একটা ফাইল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সামনা সামনি বসা দু-জনকে চুপচাপ দেখছে সে। মনে মনে ভাবছে নানা চিন্তা। জোরা দিচ্ছে নুসরাত আর আরশের কী সম্পর্ক হতে পারে। নুসরাতকে দু-একটা গালি ও দিল। তার স্যারের মতো মাটির মানুষকে এই শয়তান মেয়েটাকেই গার্লফ্রেন্ড করতে হলো! বাহবা ও দিল নুসরাতকে। এই মেয়ের কী ট্যালেন্ট স্যারের মতো বড়লোক মানুষ পটিয়ে ফেলেছে। এবার তো বস্তি থেকে একদম হাই প্রোফাইলে চলে যাবে। আবির দ্বিধাদ্বন্দে ভরা কন্ঠে আরশকে প্রশ্ন করল,”স্যার, ম্যাম কী আপনার গার্লফ্রেন্ড?

আরশ ধমকে ওঠল আবিরকে। শক্ত চোখ তার দিকে নিক্ষেপ করে বলে ওঠল,”গার্লফ্রেন্ড হতে যাবে কেন, আমার মিসেস ও! আর তুমি বারবার ওর দিকে চোখ তুলে তাকাচ্ছো কেন, চোখ নিচের দিকে স্থির রাখো, আমার বউয়ের দিকে না।

নুসরাত গা দুলিয়ে খিকখিক করে হেসে ওঠল। আবির নুসরাতের হাসিতে বিরক্ত হলো। মাস্তিষ্কে কত কথা জমল। তার মধ্যে এমন একটা কথা জমল তা তাকে ভাবাল। বিড়বিড় করল,” কী চতুর মেয়ে স্যারকে বিয়ে করে নিয়েছে। নির্ঘাত সম্পত্তি দেখে পটিয়ে নিয়েছে মাটির মানুষটাকে। পটাবে কীভাবে কালো জাদু করেছে নিশ্চিত! নাহলে এমন পেত্নী মেয়ে স্যারের বউ হবে নাকি। স্যার আরো সুন্দরী মেয়ে ডিজার্ভ করেন।

সামনা-সামনি জিজ্ঞেস করল আরশকে বিপরীত প্রশ্ন।

“স্যার কবে বিয়ে করলেন আমাদের দাওয়াত দিলেন না?

আরশ কপাল কুঞ্চিত করে তাকাল আবিরের দিকে। তিক্ত বিরক্ত কন্ঠে বলে ওঠল,”তোমার ম্যামকে আমি আজকাল বিয়ে করেছি নাকি, আজব! তোমার জন্মের আগে বিয়ে করেছি। আই মিন তেরো বছর আগে বিয়ে করেছি।

আবিরের চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। শুধাল,
” তাহলে ম্যামকে এভাবে বেঁধে রেখেছেন কেন?

“এটা আমাদের পার্সোনাল ব্যাপার তোমাকে বলতে যাব কেন?

আবির ওপর নিচ মাথা নাড়াল। মনে অনেক প্রশ্ন জাগল কিন্তু ভয়ে মুখ ফুটে বের হলো না। আরশের কাছ থেকে পারমিশন নিতে বলল,” স্যার লাস্ট একটা প্রশ্ন!

আরশ হু বলতেই, আবির শুধাল,
“আপনাদের বিয়ে হলো কীভাবে?

“আমার মরহুম দাদা আমার সাথে তোমার ম্যামের জোর করে বিয়ে দিয়েছেন। আমি করতে চাইনি, কিন্তু আমার মরহুম দাদা সম্পত্তি থেকে বেদাখিল করে দিবেন বলে ভয় দেখানোর জন্য বিয়ে করেছি।

ইরহাম আবিরের মুখ দেখে ঠোঁট টিপে হাসল। নুসরাত এতক্ষণ হাসলেও এবার মুখ বন্ধ করে চেয়ে আছে দু-জনের দিকে। মন দিয়ে শুনছে দু-জনের কথা। মাহাদি আরশকে টিপ্পনী কাটার জন্য মাঝ থেকে এমনভাবে বলল যেন আবিরকে বোঝাচ্ছে সে। তেরছা সুরে টেনে টেনে বলল,”ম্যাম হলেন আপনার স্যারের একমাত্র দায়িত্ব। এছাড়া আর কিছু না বুঝেছেন। তাই দায়িত্ব বুঝে নিতে আপনার স্যার এসেছেন। এর বেশি কিছু না। শুধু দায়িত্ব।

আরশ নুসরাতের দিকে চুপচাপ তাকিয়ে আছে। ভ্রু সামান্য বাঁকা হয়ে আছে সামনের লোকটার। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে মাহাদির কথায় বিরক্ত। নুসরাত এসবের পরোয়া করল না মাহাদির কথায় রুম কাঁপানো হাসি দিল। আবির নুসরাতের দিকে না তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,”স্যার ম্যাম সম্পর্কে আপনার কী হন?

আরশ চ্যাত করে ওঠল। বলল,
“তা জেনে তোমার লাভ কী! চুপ করে থাকো আর প্যানপ্যান বন্ধ করো।

ইরহাম ঠোঁট কামড়ে হাসছে। মাহাদি কোনোরকম বলে ওঠল,”এখনো বোঝোনি গাধা, ম্যাম হলেন আপনার স্যারের দ্বি-মাত্র চাচাতো বোন।

আবিরের মাথায় অজান্তেই বম ফাটিয়ে মাহাদি হেসে ওঠল। আবিরের মুখটা দেখার মতো কালো হলো। নুসরাত আর ইরহাম দু-জন গলা মিলিয়ে হাসতে লাগল এতে করে আরো বেশি। আরশ তা দেখে অভ্যাসবশত নিজের ধারালো গম্ভীর সুরে কিৎকাল আগের প্রশ্ন আবার ছুঁড়ল,”কার সাথে রিলেশনে ছিলি?

নুসরাত হাসতে হাসতে ভুলে বসেছে আরশ সামনে। আরশকে ইরহাম মনে করে, আবিরের দিকে আঙুল তুলে বলে ওঠল,”ওই ব্যাটার সাথে।

কথাটা শেষ করেতেই ঠোঁট থেকে ফুস করে হাসি উধাও হয়ে গেল। চোখ তুলে আরশের দিকে তাকাল। আরশও তার দিকে তাকিয়ে আছে। মুখের অবস্থার কোনো ভাবাবেগ নেই! আগের মতোই গম্ভীর, শক্ত করে রাখা ক্লিনসেভ চোয়াল। পুরুষালি চোখ দুটোতে কিছু একটা জ্বলজ্বল করছে। তা ঠাওর করতে পারল না নুসরাত। ঠোঁট কামড়ে একবার আবিরের দিকে তাকায় নুসরাত, মুখটা বেচারা করে রেখেছে। চোখ নিচু করে চোরের মতো একবার আরশকে দেখছে তো একবার তাকে। নুসরাত উপরে উপরে নির্বিকার থাকার চেষ্টা করলেও ভেতরে ভেতরে ঠিকই ভয়ের দানা বাসা বাঁধল। ঠোঁট চেপে কিছু বলতে নিবে আরশ অত্যাধিক হিমায়িত কন্ঠে বলে ওঠল,”হাত খুলে দে!

মাহাদি এগিয়ে এসে খুলে দিতে যাবে আরশ চোখ রাঙাল। শাসানোর সুরে হিসহিসিয়ে বলল,”তোকে বলেছি? ওর থেকে গণে গণে বিশ ফুট দূরে থাকবি তুই!

মাহাদি ঠাট্টা করে বলল,
“ঠিক আছে দূরে থাকব,কিন্তু বিশ ফুট হয়েছে কীভাবে জানব?

আরশ কথার উত্তর দিল না। জিহ্বা দিয়ে গাল ঠেলল। । নীরবে কিছু একটা ভাবতে বসল। ইরহাম নুসরাতের হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে পায়ের বাঁধন খুলতে যাবে তার পিঠে শক্তি দিয়ে একটা কিল বসাল নুসরাত। দাঁতে দাঁত চেপে ধরল। এত শক্ত করে ধরল দাঁতগুলো দাঁতের সংঘর্ষের ফলে যে আওয়াজ হলো তা এসে কানে লাগল ইরহামের৷ ইরহাম নুসরাতের নীরবে করা রাগ তার প্রতি কতটুকু হয়েছে তা উপলব্ধি করাচ্ছে এভাবে। কোনো কথা না বলে নির্লিপ্ততার সহিত নুসরাতের পায়ের বাঁধন খুলে দিল। নুসরাত সুর গলার নিচে নামিয়ে ইরহামের শোনার মতো করে আওড়ায়,”তোর সাথে সম্পর্ক আমার এখানেই শেষ।

নুসরাত এসব বললেও আধঘন্টা পর তাদের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। তাই ইরহাম ও নুসরাতের কথায় মোটেও বিচলিত হলো না। ইরহাম নুসরাতের পা খুলে দিতেই ওঠে দাঁড়ায়। এতক্ষণ পা বাঁধা থাকায় অসাড় হয়ে আছে। তাই নাড়ানোর সক্ষমতা হারিয়েছে অনেক আগে। নিজের জায়গায় আবারো বসে গিয়ে পা ঝাড়া দেয়। মুখ ব্যথাতুর বানিয়ে ওঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালালে আরশ তার দিকে কিছু একটা ছুঁড়ে মারে। গমগমে স্বরে বলে ওঠে,” ক্যাচ!

নুসরাত ক্যাচ ধরার আগে তা পাশ কাটিয়ে চলে যায়। বিরক্ত হয়ে নুসরাত পিছু ফিরে, তখনই মাহাদি হাত বাড়িয়ে চাবি একটা নুসরাতের হাতে ধরিয়ে দেয়। নুসরাতের কানে এসে বারি খায় একটা কথা। আরশ পেছন থেকে শক্ত গলায় বলছে,”তোকে বলেছি আমি চাবি খুঁজে দিতে? আরেকবার দেখেনেই তোকে ওর আশেপাশে, তোকে আমি কোপাবো! আই এগেইন রিপিট দেট, মাহাদি তোকে আমি কোপাবো!

আবিরের অবস্থা নাজেহাল। ভয়ে হাত-পা সব অসাড় হয়ে আসছে। অস্বাভাবিক কাঁপা কাঁপছে তার হাত-পা। ঘামাক্ত মুখ একহাত দিয়ে মুছে নিল। নুসরাত সেদিকে তাকিয়ে আবিরের উদ্দেশ্যে গুড বায় হাত নাড়াল। হেসে হেসে বলে ওঠল,”আপনার দিনটা ভালো কাটুক, এই হালুমের সাথে। বেঁচে থাকেন যদি অবশ্যই আমি নুসরাত নাছির বস্তির মেয়ে ফল নিয়ে আপনার সাথে দেখা করতে আসবো। আপনার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। এছাড়া আর কোনো দোয়া এই মুহুর্তে করতে পারছি না।

ইরহাম আর নুসরাত দু-জন একসাথে দু-হাত তুলে মুখের সামনে ধরল। সমসুরে বলে ওঠল,”আমিন!

বলে দু-জন দু-হাত দিয়ে মুখের মধ্যে হাত বুলালো। মাহাদি দু-জনের কান্ড দেখে হাসছে। আরশ নিজের চেয়ারে চুপচাপ বসে থেকে ভ্রু বাঁকিয়ে লক্ষ করছে দু-জনের কান্ড। নুসরাত এবার আরশের দিকে তাকিয়ে কপালে হাত ঠেকাল। অত্যন্ত বিনয়ের সহিত সালাম ঠুকল,”আসসালামু আলাইকুম বড় ভাই!

আরশ চুপচাপ তাকিয়ে থাকল নুসরাত পানে। নুসরাত দরজা দিয়ে বের হতে যাবে আরশ আদেশ দিল,”দাঁড়া..!

নুসরাত ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই আরশ গম্ভীর স্বরে বলে ওঠে,”সোজা হয়ে দাঁড়া!

নুসরাত সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঠোঁট এলিয়ে হাসার পূর্বেই নিজের বাঁ-গাল দিয়ে বয়ে গেল জোরালো থাপ্পড়। থাপ্পড়ের জোরে নুসরাতের মুখ ঘুরে গেল অন্যপাশে। আবারো মুখ তুলে তাকাতেই আজকের দিনের মধ্যে চতুর্থ থাপ্পড় পড়ল নুসরাতের গালে। নুসরাত বিমূর্ত! বিস্ময়ে কোটর থেকে চোখ বের হওয়ার মতো। দু-ইঞ্চি হা করে তাকিয়ে আছে আরশের দিকে।

ইরহাম চোখ নিচের দিকে নামিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। আরশ বা নুসরাতের কোনো কথায় বা কাজে হস্তক্ষেপ করল না। চোখ নিচের দিকে স্থির থাকতে থাকতে কান বাজানো আরেকটা থাপ্পড় পড়ল। সেই থাপ্পড়ের শব্দ পুরো রুমে প্রতিধ্বনি হলো। ইরহাম ভয়ে ভয়ে নুসরাতের দিকে চোখ তুলে তাকাল। মনে করল এইতো গালে পাঁচ আঙুলের ছাপ বসানো মেয়েটার, কিন্তু তেমন কিছু নেই। আড় চোখ সামনে ঘোরাল। দেখল সঠান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আরশের উজ্জ্বল শ্যাম গালে থাপ্পড়ের চিহ্ন। ইরহাম শঙ্কিত হওয়া চোখ আবারো ঘুরিয়ে নিল নুসরাতের দিকে। নুসরাত একহাত কোমরে রেখে কিছু না হওয়ার ভঙ্গিতে বলে ওঠল,”কী বাচ্চাদের মতো থাপ্পড় মারছেন? থাপ্পড় মারতে হয় এভাবে, পুরো রুম কাঁপিয়ে। এভাবে শিশুদের মতো থাপ্পড় মারলে চলে?

ইরহাম নুসরাতকে টেনে পেছনে সরিয়ে নিতে চাইল, নুসরাত হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ইরহামকে দূরে সরিয়ে দিল। বিরক্তি ভরা কন্ঠে আওড়াল,”এই সমস্যা কী তোর? দেখছিস না, বড় দু-জন মানুষ কথা বলছে? এর মধ্যে তুই ছোট মানুষ তোর নাক ঢোকাস কেন?

আরশের দিকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বিনয়ী হাসল নুসরাত। অতঃপর অত্যন্ত নম্র গলায় বলে ওঠল,”ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আজ তাহলে আসি বড় ভাই?

নুসরাত জিজ্ঞেস করল যাওয়ার কথা কিন্তু, আরশের উত্তরের পরোয়া না করে রুম থেকে বের হয়ে গেল। ঠা করে খোলা দরজা দিয়ে নুসরাত বের হওয়ার ত্রিশ সেকেন্ড পর বের হলো আরশ। করিডোরে কাচের তৈরি রেলিঙের সামনে গিয়ে টানটান হয়ে দাঁড়াল। চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণতায় পরিপূর্ণ। দো-তলা থেকে দাঁড়িয়ে, নিচে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নুসরাতের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছুঁড়ল। ইরহামের সাথে কিছু একটা নিয়ে কন্ঠ খাদে নামিয়ে ঝগড়া করতে ব্যস্ত সে। ইরহাম ক্ষীণ স্বরে কিছু একটা বলে ঝাড়ি মারছে নুসরাতকে। তারপর নিজের হাতের মুঠোয় থাকা নুসরাতের হাত ঝটকা মেরে ফেলে দিয়ে হনহন করে চলে যাচ্ছে। নুসরাতও একহাত উপরে তুলে অন্যহাত কোমরে রেখে হেলেদুলে ইরহামের পেছন পেছন গান গেয়ে গেয়ে বের হচ্ছে। ঠোঁটে লেগে আছে মারাত্মক হাসি, ইরহামকে জ্বালাতে পারায় এই হাসি হয়তো আয়ত্ত করেছে নুসরাতের ঠোঁট। আরশ হুডির ক্যাপ মাথায় তুলল একহাতে টেনে। নির্মিশেষ দৃষ্টি তখনো স্থির নুসরাতের দিকে। নিজের দু-হাত অলস ভঙ্গিতে প্যান্টের পকেটে পুরে ব্ল্যাক কার্ড বের করল। তর্জনী আর মধ্যমা আঙুলের মধ্যে রেখে তা ঘোরাল কয়েক সেকেন্ড। চোখ ব্ল্যাক কার্ডের ওপর স্থির রেখে ঘাড় বাঁকা করল। মড়মড়ে শব্দ হলো তাতে। কার্ড আঙুল দিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে মাহাদির উদ্দেশ্যে শক্ত কন্ঠে উচ্চারণ করল,”শুট হিম!

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply