প্রিয়তার_পূর্ণতা
Nadia_Afrin
৬
সেই কাক ভোরের কথা!
ঘুমে তলিয়ে আছে প্রলয়।আমার চোখে ঘুম নেই।আজ প্রথম রাত আমরা এক ঘরে।বিছানার দু-প্রান্তে শুয়ে আছে দুটো মানব-মানবী।
আমার মনে অজানা এক ভীতি কাজ করছে।
ঐপাশ ফিরে শুয়ে চোখ বন্ধ করে আছি শুধু।
হঠাৎ প্রলয়ের কন্ঠস্বর শুনলাম।
পাশ ফিরে তাকালাম।
প্রলয় শুয়ে আছে জড়ো হয়ে।
বারবার বলছে,’অদিতি তোমায় আমি যেতে দেবনা আমায় ছেড়ে।
প্লিজ ফিরে এসো।’
উনি ঘামছে।কাঁপছে।বাববার একই কথা বলছেন।
আমি উঠে বসে তার পিঠে হাত দিয়ে ডাকলাম।
তার ঘুম ভাঙলো। ধড়ফড়িয়ে উঠলো।
উঠে আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো কিছুপল।এরপর হুট করে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে।উনি জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।আমায় আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরছে।ভয় পেলে যেমনটা হয়।
আমি মূর্তির মতো বসে।
মিনিট দুয়েক পার হলে প্রলয়ের কাঁপুনি কমে।নিজ থেকেই ছেড়ে দেয় আমায়।
আমতা আমতা করে বলে,”আই আই এ্যাম স্যরি।”
আমি একটু মাথা নাড়লাম।
উঠে গিয়ে তাকে পানির গ্লাস হাতে দিলাম।
সে পানি পান করে।কপালের ঘাম মোছে।এসির ঠান্ডা হাওয়াতেও সে ঘামছে।
বসে রয় বিছানাতে।
আমি প্রশ্ন করি,”খারাপ স্বপ্ন দেখেছেন?”
উনি মাথা ঝাঁকায়।
“অদিতিকে নিয়ে?”
উনি এবার গোলগোল চোখ করে তাকালেন আমার দিকে।
বললেন,”আপনি ওর নাম জানলেন কী করে?”
“জানি যে কোনো ভাবে।”
প্রলয় চুপ গেলেন।মাথা নুয়ে রইলেন।
আমি তার পাশে বসে বললাম,”তাকে খুব ভালোবাসতেন তাইনা?”
প্রলয় মাথা নত করেই রইলেন।
আমি আর কিছু বললাম না।
সরে গেলাম।নিজের জায়গায় গিয়ে বসলাম।
প্রলয় শুয়ে পড়ে।
গায়ে কাঁথা টেনে বলেন,”এসির রিমোট মাথার কাছে।বেশি ঠান্ডা লাগলে অফ করে দেবেন।”
সে আবারো চোখ বন্ধ করে।আমি বালিশে মাথা রেখে কোনোমতে এক কোণায় শুয়ে থাকি।
সকাল হয়।
আলো এসে চোখে পড়ে জানালা দিয়ে।লাফ দিয়ে উঠি।
প্রলয় ও উঠলো দেখলাম।
আমার দিকে পাশ ফিরে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বলল,”ঘুমোননি সারারাত?”
“আসেনি ঘুম।”
সে উঠে বাইরে যায়।
আমিও ফ্রেশ হয়ে নিচে আসি।সবে দাঁড়িয়েছি ডাইনিং এ।রিপা টেনে নিয়ে গেল কিচেনে।ইয়া বড়ো বড়ো দুটো মাছ রাখা।সামনেই বটি।
আমায় বলল,”মাছটা কেঁটে ফেলো চটপট।এটাই নিয়ম।
শশুরবাড়ি এসে নতুন বউকে সর্বপ্রথম মাছ কাঁটতে হয়।”
মিনমিনে স্বরে বললাম,”এতো বড়ো মাছ আমি একা কীভাবে কাঁটবো?”
পাশ থেকে শাশুড়ি বললেন,”ওমা!কীভাবে কাঁটবে মানে?বাপের বাড়ি থেকে কিছু শিখে আসোনি?”
আমি মাথা নত করে রইলাম।সত্যিই শিখে আসিনি আমি।
পেছন থেকে প্রলয় বলে,”না শিখে আসেনি।তোমার মেয়েরা কী শিখে যায়?”
“আমার মেয়েরা সব শিখেছে।সব পারে ওরা।”
প্রলয় এগিয়ে আসতে আসতে বলল,”সত্যিই সব পারে তোমার মেয়েরা।বিয়ে হয়ে দু-দিন না যেতেই শাশুড়িকে ভাত ছাড়া করতে পারে।
একমাসের ননদের সঙ্গে চুলাচুলি করে তাড়াতে পারে।পরিশেষে বাপের বাড়ি উঠতে পারে।”
মা হুংকার দিয়ে বললেন,”খবরদার প্রলয় আমার মেয়েদের নিয়ে কোনো কথা বলবিনা তুই।
আমি মেনে নেব না এসব।”
“ঠিক তেমনি আমিও মেনে নেবনা আমার বউয়ের অসম্মান।
আমার বউ সে।কাজের মেয়ে নয় যে সবকাজ জেনে আসতে হবে।”
”বাহ!তোর দেখছি বউয়ের প্রতি বেশ দরধ!”
প্রলয় কিঞ্চিৎ হেসে বলে,”তা তো হবেই।কালেমাকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করেছি তাকে।দরধ তো করতেই হবে।
তোমার মেয়ের দরধ করার জন্য তুমি আছো,আমার বউয়ের দরধ করার তো কেউ নেই এখানে আমি ছাড়া।এজন্য আমাকেই রুখে দাঁড়াতে হবে।”
“শোন প্রলয় আমি ওতোকিছু শুনতে চাইনি।
আমার সংসারে থাকতে হলে তোর বউকে আমার মতো হয়েই চলতে হবে।”
“হোয়াট?
তোমার সংসার!
সংসারে রুজি করি আমি।টাকা দেই আমি।সবই আমি করি।তো সংসারও এখন আমাদের।”
মা এবার নরম গলায় বললেন,”তুই এটা বলতে পারলি আমায় প্রলয়?তাও একটা বাইরের মেয়ের জন্য। ওর কী অধিকার আছে এই সংসারে?
“বাইরের মেয়ের জন্য?ও বাইরের মেয়ে হলে তুমিও তো তাই মা।তুমিও কিন্তু এ বাড়িতে প্রথমে বউ হয়েই এসেছিলে।তারপর তো সব হলো।”
“আমায় কী মনে করিস তুই প্রলয়?কী করেছিস তুই আমার জন্য?বড়ো বড়ো কথা তো বলছিস খুব।”
“পরিবারের সদস্য মনে করি।এজন্যই তোমাদের সব দায়িত্ব পালন করি।অসুখ হলে চিকিৎসা করাই।ভাত-কাপড় দেই।শখ-আল্লাদ পূরণ করি।
আর কী করার বাকি আছে?”
মা এবার ধপ করে বসে পড়ে বললেন,”শোন প্রলয় এতো কথা আমি শুনতে চাইনা।তোর বউকে বল মাছ কাঁটতে।এটা নিয়ম।নতুন বউকে শশুর বাড়িতে এসে প্রথমবার মাছ কাঁটতে হয়।”
প্রলয় কিছুপল চুপ থেকে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,”বসুন মাছ কাঁটতে।”
আমি বাধ্য মেয়ের মতো তার কথা শুনলাম।কিন্তু কাঁটি কী করে একা?এতো বড়ো মাছ!
প্রলয় আমার পাশে বসে।মাছটা উচু করে ধরে।
আমায় বলে মাছটা বটির সঙ্গে ধরতে।
এভাবেই মাছটা কেঁটেছি আমি।সাহায্য করেছে সে।
উনি আমার সম্মান বাঁচিয়েছে।তার প্রতি আমি মুগ্ধ!
এই মানুষটা আর যাই হোক,আমার খারাপ চাইবেনা কখনোই।
সুতরাং এবার থেকে আমি তার কথা শুনবো।তাকে বোঝার চেষ্টা করবো।
মাছ কাঁটা শেষ হতেই মাকে দেখলাম উঠে দাঁড়ালো।এঁঠো প্লেট গুছিয়ে নিতে নিতে বলল,”ধুয়ে ফেলি এগুলো।আমি আবার আর পাঁচজন শাশুড়ির মতো প্রথম দিন এসেই বউকে দিয়ে বাসন মাজাবো না।”
বললাম,”প্রথম দিন এসেই যেহেতু মাছ কাঁটিয়ে নিলেন,বাসন কটাও মাজতে পারবো আমি।”
শাশুড়ি বড়ো বড়ো চোখ করে আমার দিকে তাকালো।আশা করেনি আমি এমন জবাব দেব।
সুমা আপু এগিয়ে এসে বলল,”মাছ কী তোমায় দিয়ে শখে কাঁটিয়েছি?নিয়ম দেখে করতে বলেছি।
সামান্য মাছ কেঁটেই এমন কথা বলছো?
আমার শশুর বাড়ি হলে প্রথম দিনে যেয়েই বাড়ির সমস্ত কাজ করাতো।”
“তাই বুঝি আপু?আপনি করে ছিলেন?
আপনার শাশুড়ি কিন্তু বিয়ে উপলক্ষ্যে আমাদের বাড়িতেই আছে।ঐতো ঐদিকের ঘরে।
জিজ্ঞেস করে আসবো?”
আপু আমতা আমতা করতে লাগলেন।
দূর থেকে এ দৃশ্য দেখলো প্রলয়।বেসিং এ হাত ধুচ্ছিলো সে।মুচকি হাসে সে।
হাত ধুয়ে ঘরে যায়।আমি ডাইনিং এ গিয়ে সবে একগ্লাস পানি হাতে নিয়েছি এমন সময় মায়ের চিৎকার।
আৎকে উঠেছি আমি।হাত থেকে গ্লাসটা পড়ে গেছে।ভেবেছি উনি হয়ত পড়ে গেছে।বা কোনো বিপদ হলো নাকি!
ছুটে গেলাম।পিছে পিছে সুমা আপুও।
মাকে দেখলাম দিব্যি দাঁড়িয়ে।হাতে থাল।
থাল সামনে ধরে বললেন,”এতে বিরিয়ানির অবশিষ্ট কেন?কে খেয়েছে এটা?”
ধীর স্বরে বললাম,”আমি খেয়েছি।”
“পেলে কই?বাড়িতে তো বিরিয়ানি রান্না হয়নি।”
আমতা আমতা করে বললাম,”প্রলয় নিয়ে এসেছিল।”
“বাহ নতুন বউ!দু-দিন না এসেই লুকিয়ে-চুরিয়ে খাওয়া শুরু করছো?
এ কেমন কাজ তোমার?
বাড়িতে দু-দুটো ননদ তোমার।তাদের রেখে এভাবে লুকিয়ে খাও?
শোনো বউ,আমার বাড়িতে এসব স্বার্থপরতা চলবেনা।এক ভাতে খেতে হলে সবার সঙ্গে মিলেমিশে একসঙ্গে খেতে হবে।”
“এটা কী শুধু আমার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নাকি আপনাদের ক্ষেত্রেও?”
মা ভ্রু কুচকে বললেন,”মানে?”
“মানে আপনাদের থেকেই তো শিখলাম নিজের ভাগেরটা নিজে আগে খাওয়া।কারো কথা চিন্তা না করা।
পরিবারের একজনকে দাঁড় করিয়ে রেখে নিজেরা খেয়ে নেওয়া।”
মায়ের মুখখানা থমথমে হয়ে গেল।
হতভম্বের মতো আমার দিকে তাকিয়ে রইলো সে।
সুমা আপুকে দেখলাম চুপচাপ সরে গেল।
মাও থালা নিয়ে চলে গেল।
আমি একটু হাসলাম।
নিজের ঘরের দিকে যেতে লাগলাম।
সিড়িতে ওঠার সময় শুনলাম সুমা আপু রিপাকে বলছে,”নতুন বউয়ের মুখ খুলছে কিন্তু ধীরে ধীরে।”
রিপা উত্তরে বলছে,”তাই তো দেখছি।কোনো কথাই ছাড় দিচ্ছেনা।”
ওদের কথা শুনে না শোনার ভান করে ঘরে গেলাম।
প্রলয় বিছানাতে বসে কিছু পেপার্স নিয়ে কাজ করছিল।
আমি ওর সামনে দিয়ে হেঁটে আলমারি থেকে জামা নিতে যাচ্ছিলাম।হঠাৎ পাপসের সঙ্গে পা বেধে গেলাম প্রলয়েল পায়ের ওপর পড়ে।
এক কোণে বসে ছিল প্রলয়।আমিও পড়েছি পায়ের একদিকে।পড়ে যেতে নেই নিচে।প্রলয় তার এক হাতে আমার কোমর জড়িয়ে ধরে।
মূহুর্ত্তের মাঝে শরীর যেন ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে আমার।
দু-দন্ড সময় চুপ থেকে নড়ে উঠি।সরে বসি।প্রলয় আমার দিকে তাকিয়ে বলে,”আর ইউ ওকে?”
আমি মাথা ঝাঁকাই।তবে প্রকৃত অর্থে আমি ঠিক নেই।পায়ে লেগেছে ভীষণ।মচকে গেছে।
হাত দিয়ে নিজের পা নিজেই নাড়ানোর চেষ্টা করি।লাগছে।মৃদু আর্তনাদ করি।
প্রলয় উঠে দাঁড়ায়।পায়ের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,”মচকে গেছে।ওয়েট আমি দেখছি।”
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
অন্য কোনো গ্রুপে বা পেইজে আর গল্পটি পাবেন না।সুতরাং সম্পূর্ণ গল্প পড়তে এবং আপডেট পেতে মূল লেখিকাকে ফলো দিয়ে রাখুন।
মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে সে।পা হাতে নেয়।আমি নিষেধ করি।উনি বলেন,”চোখ বন্ধ করে সহ্য করে নিন।একটু লাগবে।”
চোখ বন্ধ করতেই উনি পা টা যেন কীভাবে ঘুরিয়ে দেয়।প্রচন্ড লাগে আমার।খপ করে উনার বাহু খামচে ধরেছি।
চোখ বন্ধ তখনো।ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছি।
প্রলয় শান্ত স্বরে বলে,”হয়ে গেছে চোখ খুলুন।”
তাকাই আমি।নিজের হাতটা প্রলয়ের হাতে দেখে সরিয়ে নেই দ্রুত।লজ্জা হচ্ছে ভীষণ।পাশ ফিরে রই।প্রলয় উঠে দাঁড়ায়।
হেঁটে দু-পা সামনে গিয়ে ফোন হাতে নেই।
বলল,”দশটা বেজে গেছে।আমি বাইরে যাবো একটা কাজে।আপনি সাবধানে থাকবেন।
বোর লাগলে বই পড়ুন।
আমার বুকশেলফে সব রকমের বই আছে।
সেটা না করলে ঘুমিয়ে নিন একটু।রাতে ঘুমাননি।
তা না হলে আর্ট করুন।ড্রয়ারে দেখুন রং-তুলি আর্টপেপার সবই আছে।
তাও নিচে গিয়ে সবার সঙ্গে গল্প জুড়বেননা।
গল্পর নামে আপনি আবার দান-খয়রাত করে দিতে পারেন সব।আগে শক্ত হন।এ বাড়ির পরিবেশ বুঝুন।
আপাতত ঘর থেকে বের হওয়ার দরকার নেই।”
উনি চলে যায়।
আমি ঘরে হাঁটাহাঁটি করি দু-দন্ড।
এরপর ড্রয়ারের কাছে যাই।
প্রলয়ের দেওয়া শেষ অপশন আমি বেছে নিয়েছি।আর্ট করবো আমি।যা আমার পছন্দ।
ড্রয়ার খুলতেই অবাক হলাম আমি।প্রচুর কালার পেন্সির,রং এর বক্স,তুলি থেকে শুরু করে আর্টের সবকিছু।প্রলয় ও হয়ত আমার মতন আর্ট পছন্দ করে ভীষণ।
নিজের পছন্দ মতো রং তুলি ও পেপার নিয়ে নিলাম।কিন্তু আঁকবো কী?
ভাবতে ভাবতেই আনমনে নিচের ড্রয়ারটা খুলে ফেললাম।এতে প্রলয়ের কাপড় ভাজ করা।বন্ধ করতে নিলে খেয়াল করলাম একটা সুন্দর পুতুল।তার বুকের ওপর লেখা,’love is everything.’
হাতে নিলাম সেটা।ঘুরিয়ে দেখলাম।এটাই আমি আঁকবো।ভীষণ পছন্দ হয়েছে এটা আমার।আঁকতে বসে পড়ি।ছোট্ট একটা জিনিস।সহজ।
কিছু সময়ের মাঝেই হয়ে গেল।
আর্টে তখন ফিনিশিং টাচ দিচ্ছি,দরজায় নকের শব্দ।
উঠে দাঁড়িয়ে দরজা খুলি।
সুমা আপু এসেছে।ভেতরে উকি দেয় সে।
বলে,”প্রলয় নেই ঘরে?”
“নাহ।উনি বাইরে গেছে।”
ভেতরে এলেন তিনি।
ঘর ঘুরে দেখতে লাগলেন।ঘরে নতুন ফার্নিচার শিফ্ট করা হয়েছে।
উনি বিছানায় বসে বলল,”প্রলয় নেই তো আমাদের সঙ্গে এসে গল্প করবে নিচে এসে।
আমি বললাম,”ঐ একটু আর্ট করছিলাম আর কী!এজন্য যাইনি।”
উনি কিছুপল চুপ থেকে বললেন,”আচ্ছা প্রিয়তা তুমি তো তোমার মা-বাবার একমাত্র মেয়ে।তো তোমার নামে কিছু করা নেই?
আই মিন টু সে জমি-জায়গা,ব্যাংক-ব্যালেন্স।”
সম্পূর্ণ গল্পটি আমার পেইজে দেওয়া আছে।নাদিয়া আফরিন ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন আমার পেইজ।
ফলো দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
ফলো না করলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
ভ্রু কুচকে তাকালাম তার দিকে।
সে বলল,”না মানে এমনি জানতে চাইছিলাম।”
বললাম,”আসলে আমাদের কিচ্ছু নেই তেমন।ঐ কটা গহনাই ছিল শুধু।আর বাড়িটা।”
সুমা আপু ‘ও’ বলে কথা শেষ করে।
আমি একটু হাসলাম।এটুকু বুঝেছি আমি।সব কথা সবখানে বলতে নেই।
ঢাকা শহরে দুটো বাড়ি আমাদের।একটা নানাবাড়ি,যা আমার মায়ের নামের।
আর একটা আমার বাবার নিজের তৈরির।
যেখান থেকে বিয়ে হয়েছে সেটা আমার দাদার ভিটা।ঢাকার বাড়ি দুটো ভাড়ায় চলে।একটার ভাড়া আসে আমার এ্যাকাউন্টে।অন্যটা মা-বাবার কাছে।
আপু চলে গেলেন।মুখটা গম্ভীর ছিল।
আমার অর্থবিত্তের সঙ্গে তাদের কী সম্পর্ক বুঝলাম না।
আমি গিয়ে আবারো আগের জায়গায় বসলাম।
প্রলয়ের দূর সম্পর্কের এক কাকি এলো।
এসে আমার হাতে একটা শাড়ি দিয়ে বলল,”এই নাও অদিতি তোমার বিয়ের উপহার।”
আমি সরু চোখে তাকালাম।
উনি জিভে কামড় দিয়ে বললেন,”ওহ স্যরি!
আসলে অদিতি বলে বলে প্রলয়ের বউ হিসেবে প্রিয়তা নামটা মনে ছিল না।”
আমি মাথা নত করলাম।মনের মাঝে চাপা কষ্ট অনুভব হচ্ছে।জানিনা কেন এ অনুভূতি!
উনি আমায় বললেন,”তুমি অদিতির বিষয়ে কিছু জানো?”
থমথমে মুখে বললাম,”না।শুধু জানি উনার অকাল মৃত্যু হয়েছিল।”
কাকি কিছুক্ষণ ড্যাপড্যাপ করে আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,”শুধু এটুকুই শুনেছো?”
আমি মাথা ঝাঁকালাম।
সে আর কিছু না বলে চলে যায়।
মনে মনে ভাবলাম,আরো কিছু ছিল নাকি?
সময় পার হলো।
প্রলয় ঘরে এলো।হাতে একটা ব্যাগ।ব্যাগটা আলমারিতে রেখে আমার দিকে ফিরে তাকিয়ে বলল,”সময় কেমন কেঁটেছে আপনার?”
“ভালো।”
“আচ্ছা প্রিয়তা আপনার মা মানে আমার শাশুড়ির বার্থডে কবে?সামনের কোনো ডেটে?”
“না কেন?
“কবে বলুন।”
আমার বিয়ের চারদিন আগে ছিল।
উনার মুখে হতাশা এলো।
একটু ভেবে আবারো বললেন,”মা বাবার বিবাহ বার্ষিকী কবে?”
“সেটাও সামনের মাসে পার হয়ে গেছে।কিন্তু কেন এসব বলছেন?”
“ঐ আরকি শশুরবাড়িতে দাওয়াত খেতে ইচ্ছে হচ্ছে।”
আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না উনার কথা।প্রসঙ্গ পালটে উনি বললেন,”যেই গহনাগুলো আপনার চুরি গেছে সেগুলোর ছবি আছে?”
“আছে।গায়ে পড়া ছবি।”
আর কিছু বলল না প্রলয়।
আগ বাড়িয়ে আমি প্রশ্ন করলাম,”বিয়ের রাতে আপনি আমায় তুমি বলছিলেন।এরপর থেকে আপনি কেন বলেন?”
“কারণ তখন ভেবেছিলাম আপনি আমার টাইপ।
তারপর বুঝলাম আপনি আমার টাইপের না।এখনো হতে পারেননি।এজন্য দূরত্ত্ব বজায় রাখতে চেষ্টা করছি।তুমি ডাকটা ভীষণ কাছের।”
উনি চিন্তায় ডুবে যায়।
আর্ট করা ছবিটি অতি উৎসাহ নিয়ে প্রলয়কে দেখালাম।প্রলয় ভ্রু কুচকায়। মুখাকৃত পরিবর্তন হয় তার।
পেপারটি নিয়ে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে সে।
মেঝেতে হাটু মুড়ে বসে হুহু করে কেঁদে ওঠে বাচ্চাদের মতো করে।
সন্তান হিসেবে শুন্য তুমি,স্বামী হিসেবে কলঙ্ক,মানুষ হিসেবে অভিশাপ তুমি,এবার পিতা হয়ে কুৎসিত হইয়ো না।
তাহলে বিলীন হয়ে যাবে তুমি।
পড়ুন ই-বই “আধারে অনন্যা”
https://link.boitoi.com.bd/hmWh
মাত্র ৩০ টাকা
(প্রতিবাদি পর্ব কেমন লাগলো?প্রিয়তা এভাবেই ধীরে ধীরে প্রতিবাদি হবে।
এই পর্বের জন্য টার্গেট 4k রিয়েক্ট।তাহলেই নেক্সট তাড়াতাড়ি ও বড়ো পর্ব আসবে।
সবাই দ্রুত রিয়েক্ট করুন।পড়ের পর্বে চমক আসছে।)
(লেখা রাতেই হয়েছিল।কিন্তু পোস্ট দিইনি কারণ রাত অনেক ছিল তাই।অনেকে পড়তে পারতেন না।
পরবর্তী পর্ব আমি এখনই লেখা শুরু করে দেব।
তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবেন।ধৈর্য্য নিয়ে গল্পটা পড়ুন।মন ছুয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।সামনে আরো চমক আছে।শুধু পড়তে থাকুন।পড়া শেষে রিয়েক্ট দেবেন সকলে।
টার্গেট 3k।এই রিয়েক্ট হলেই গল্প দ্রুত চলে আসবে।)
Share On:
TAGS: নাদিয়া আফরিন, প্রিয়তার পূর্ণতা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৩
-
প্রিয়তার পূর্ণতা গল্পের লিংক
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ২
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৫
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৪
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৭