প্রিয়তার_পূর্ণতা
Nadia_Afrin
৪
আজ আমার পুরো বাড়িতে এক ছোট-খাটো অনুষ্ঠান হচ্ছে।বিয়েটা পারিবারিক ভাবে হয়েছে আমার।তাই এবার বিয়ের পর মা-বাবা নিকট কিছু আত্মীয়দের দাওয়াত করেছেন।
আমি ঘরে বসে।প্রলয় ওয়াশরুমে ছিল।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রলয়ের দেওয়া গহনাগুলো খুলছিলাম।এখন একটু সিম্পল থাকতে চাই।সারাদিন ভীষণ ক্লান্তিতে গিয়েছে আমার।
রিপাকে দেখলাম একবার দরজার বাহির থেকে ভেতরে উকি দিল।
আয়না দিয়ে তা চোখে পড়েছে আমার।
ডাক দিয়ে বললাম,”ঘরে এসো রিপা।কিছু প্রয়োজন তোমার?”
ও গুটিসুটি পায়ে ভেতরে এসে চারপাশ আবারো দেখলো একবার।
কিছুপল চুপ থাকলো। ওয়াশরুমের ভেতর থেকে শাওয়ারের আওয়াজ আসছে অনবরত।
রিপা আমার সামনে একটা ভ্যানিটি ব্যাগ রেখে বলল,”এটা আমার ভ্যানিটি।গহনাগুলো খুলে এটাতে রাখবে।
আর যেহেতু তোমার বাড়িতেও অনুষ্ঠান,গিফট যা পাবে সবই তো মনে হয় নিয়েই যাবে।ক্যাশ টাকা আর সর্ণ পেলে এই ব্যাগেতেই জমাবে।
অনুষ্ঠান বাড়ি তোমাদের!
কতো আত্মীয়স্বজন আসবে।কার মনে কী আছে বলা যায়?
এজন্য গুছিয়ে রাখতে হবে সব।নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারো।
এমনিতেই আমাদের বাড়িতে গিয়েছো থেকে শনি নাচছে শুধু।চুরি-চামারি হচ্ছে।”
আমি ভ্রু কুচকে বললাম,” এসব কী বলছো রিপা?কী বোঝাতেই বা চাচ্ছো?সব কিছুর জন্য আমি দায়ী?”
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেইজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
এছাড়াও আমার লেখা সব গল্প পাবেন আমার পেইজে।
“আমি তো সেটা বলিনি ভাবি।আমি শুধু তোমায় সতর্ক করলাম আরকি!”
“সেটার প্রয়োজন নেই।আমার বাড়ির বিছানাতেও যদি লাখ টাকা রেখে দেই তাহলেও কেউ ছুয়ে দেখবেনা।
আমার সে বিশ্বাস আছে।
আর আমার জিনিস আমি গুছিয়ে রাখতে পারি।তোমার ব্যাগের প্রয়োজন নেই।সো প্লিজ তুমি আমার বাড়ির লোককে অসম্মান করে কোনো কথা বলোনা।”
“অসম্মানের কী আছে ভাবি?
আমিতো শুধু তোমার সুরক্ষার জন্যই কথা গুলো বললাম।”
সামান্য হেসে বললাম,”আমি ছোট বাচ্চা নই রিপা।
পড়াশোনা জানা শিক্ষিত একটি মেয়ে আমি।নিজের সুরক্ষা করার মতো শক্তি-সামর্থ্য আমার আছে।”
রিপা মুখটা থমথমে করে চলে যায়।
তখনই ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসে প্রলয়।
মাথা মুছতে মুছতে আসছে সে।
খালি গা।শুধু একটা টাউজার পরণে।
আমি সঙ্গে সঙ্গে ওপাশ ঘুরলাম।মিনমিনে স্বরে বললাম,”আপনি মেইবি ভুল করে বেরিয়েছেন।”
প্রলয় নিজের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলে,”ওহ স্যরি।আমার মনে ছিলনা।নিজের ঘরের ওয়াশরুম মনে করে ফেলেছিলাম।”
সে আবারো বাথরুমে গিয়ে শার্ট পড়ে হাতা ফোল্ড করতে করতে বেড়িয়ে আসে।
আমি তখন গলার হার খোলার চেষ্টা করছি।চুলের সঙ্গে পেচিয়ে গেছে সেটি।
উনি বললেন,”রিপা এসেছিল?”
“হ্যা।”
“কী কারণে?কিছু চাইতে এসেছিল?”
উনার সরু দু-চোখ উত্তরের আশায়।
বললাম,”না নাহ।ঐ এমনি এসেছিল।আমার সব জিনিস যেন গুছিয়ে রাখি সে কথা বলতে এসেছিল।”
প্রলয় আর কোনো জবাব দিল না।
আমিও চুপ রইলাম।
ওদিকে গলার হারটা তখনো খুলতে পারিনি।কারো হেল্প নিতে হবে।কিন্তু কাজের বাড়িতে এখন কাকে ডাকি?
বাহিরে একবার উকি দিলাম।কেউ নেই আপাতত।সবাই বাইরে রান্না আর প্যান্ডেলের কাছে।
বিরক্ত হয়ে ড্রয়ার থেকে কেচি বের করে চুল কেটে ফেলতে নেই।প্রলয় বাধা দিয়ে বলে,”এতো অধৈর্য্য কেন আপনি?সামান্য হারটা খোলা নিয়ে এতো গুলো চুল কেটে ফেলবেন?
কাউকে ডাকলেই তো হয়।”
নত মুখে বললাম,”কেউ নেই।”
“আমি কে?মানুষ না?”
প্রলয় এগিয়ে এলো সাহায্যে।চুল গুলো ধীরে ধীরে ছাড়াতে লাগলো।উনার স্পর্শ আমার পিঠে লাগছে।সর্বাঙ্গে ঝাঁকুনি দিয়ে উঠছে আমার।
উনি চুলগুলো ছাড়িয়ে দিল।
আমি তাকে ধন্যবাদ দিয়ে ঘর থেকে প্রয়োজনীয় সব জিনিস নিয়ে চাচাতো বোনের ঘরে গেলাম।এ ঘরেই সাজবো।আমার ঘরে প্রলয় তৈরি হচ্ছে।আমরা স্বামী-স্ত্রী হলেও সম্পর্কটা সেভাবে এগোয়নি।
সুন্দর করে তৈরী হয়ে নিচে এলাম।
আমার এক কাকি ডাকলেন।
এগিয়ে গিয়ে সালাম দিয়ে বললাম,”শরিফা কাকি ভালো আছেন?”
সম্পূর্ণ গল্পটি আমার পেইজে দেওয়া আছে।নাদিয়া আফরিন ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন আমার পেইজ।
ফলো দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
ফলো না করলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
উনি মুখটা বাকিয়ে উত্তর দিল,”আছি ভালোই।তোমার কথা আর জিজ্ঞেস করলাম না।বউ মরা লোককে বিয়ে করেযে কেমন থাকবে,তা আমার জানা আছে। এই সুন্দর মেয়েটাকে কী লোকের সঙ্গে বিয়ে দিল? আমার ছেলেটার সঙ্গে দিলে কী এমন ক্ষতি হতো?কী কম ছিল আমার ছেলের মাঝে? সরকারি চাকরি পেয়েছে।আঠারো হাজার বেতন। ছয়লাখ ঘুস দিয়ে নিয়ে দিলাম।টাকা-পয়সা কম আছে নাকি আমাদের? হয়ত তোমাদের থেকে একটু কম পজিশনে আছি আমরা।কিন্তু আমার ছেলেটা তোহ ভালো।অবিবাহিত! যাকগে সেসব।মরা ছেলে নিয়ে কেঁদে লাভ নেই।
তোমার বরকে দেখিনি।দেখতে কেমন?
তোমার আঙ্কেলের বয়সের?মাথায় চুল-টুল আছে?গায়ের রং তো মনে হয় কালো।বেটে করে নাকি?”
আমি কিছু বলার আগেই পাশে এসে দাঁড়ায় প্রলয়।
বলে,”আপনার কথাগুলো শুনলাম দূর থেকে।
আপনার দেখছি উনার স্বামী নিয়ে বহুত মাথা ব্যাথা।
শুনলে হয়তো ব্যাজার হবেন,উনার স্বামীর বয়স আঠাশ।গায়ের রং ফরসা।হাইট পাঁচ ফিট নয় ইঞ্চি।মাথা ভর্তি কালো চুল আছে।
আর আপনার ছেলের যে টাকা মাসিক বেতন,সেই টাকায় উনার পকেট খরচও হয় না।
যেই ছয়লাখ টাকা দিয়ে চাকরি নিয়ে দিয়েছেন,ওমন ছয়লাখ টাকা উনার স্টাফদের মাসিক বেতন লাগে।”
মহিলা চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে শুনছিল শুধু।
হুট করে প্রশ্ন করলো,”তুমি কে?”
সে আমার দিকে একনজর তাকালো।
এরপর সামনে তাকিয়ে বলল,”পরিচিত একজন।”
উনি চলে যায়।
কাকি হতভম্বের মতো হা করে তাকিয়ে আছে।
কিছুপল সময় নিয়ে স্বাভাবিক হয়ে আমার হাত দুটো ধরে বলল,”তাহলে তো তোমার বড়ো ঘরেই বিয়ে হয়েছে।আমার কথায় কিছু মনে করোনা।
ভুলে যাও।বাদ দাও।
এই সুন্দর করে ছেলেটা কে?দেখতে কী হ্যান্ডসাম!মনে হয়না বিয়ে-শাদী হয়েছে।
পোশাক দেখে মনে হচ্ছে ভালো ঘরের।মোটা টাকা।
এক কাজ করো মা।ছেলেটা তোমার পরিচিত হলে তোমার বোন মানে আমার মেয়েটার সঙ্গে বিয়ে ধরো।ছেলেটাকে ভীষণ পছন্দ হয়েছে আমার।”
উনার কথা শুনে আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম।এতোক্ষণ যাকে নিন্দা করছিল,এখন তার সঙ্গেই নিজের মেয়ের বিয়ে দিতে চাচ্ছে?
কাকিমা আমায় বারবার বলছে একই কথা।
আমি শুধু মাথা নেড়ে কোনো মতে সেখান থেকে চলে এলাম।
প্রলয়কে দেখলাম আমার ফুফাতো ছোট ভাইয়ের সঙ্গে গল্প করছে।ওর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললাম একটু কথা ছিল।
প্রলয় সরে এলো।
বললাম,”পরিচয় কেন দিলেন না কাকিকে?”
“পরিচয় আপনা-আপনিই পাবে।আপাতত এক চমক পেয়েছে কাকি।আরেকটা পেলে হার্ট এ্যাটাক হয়ে যেতে পারে।”
উনি হাসলেন।সঙ্গে আমিও।উনি ভীষণ সুন্দর করে হাসেন।
হাসি থামিয়ে বললাম,”কিন্তু আপনি মিথ্যা কেন বললেন?বিষয়টা শো অফের দিকে চলে গেল।”
“কোনোটাই মিথ্যা বলিনি।আমাদের পারিবারিক ব্যাবসা আছে,যেটা নামে শুধু পারিবারিক।ওটা পুরোটাই আমার একার তৈরী।
সঙ্গে জব করি আমি।পাশাপাশি এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট বিজনেসও আছে।আসলে আমি কাজের মধ্যে থাকতে পছন্দ করি।সবসময় ব্যস্ত থাকতে চাই।কাজের মাঝে থাকলে কিছু অপ্রিয় স্মৃতিচারণের হাত থেকে বেচে যাই।”
“কোন স্মৃতি?”
উনি এবার মুখটা থমথমে করে নিল।
কোনো জবাব না দিয়ে চলে গেল।
এমন কেন ইনি?
অনুষ্ঠান শুরু হলো।
আমি আর প্রলয় পাশাপাশি দাঁড়ালাম।মা আমাদের পরিচয় করিয়ে দিলেন সবার সঙ্গে।
বিশ্বাস করুন,তখন কাকির চেহারা ছিল দেখার মতো।
আমি খেয়াল করেছি প্রলয়কে।উনি খুব বদমেজাজিও নয়।
আমার পরিবারের সকলের সঙ্গে ভীষণ ভালো আচরণ করেছে।কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে বা প্রশ্ন করলে হাসিমুখে জবাব দিয়েছে।
একসঙ্গে এক টেবিলে খেয়েছে।আত্মীয়রা সকলে জামাই নিয়ে বেশ খুশি।আমার পরিবারের সকলে প্রলয়কে ভীষণ পছন্দ করেছে।
উনি সবার সঙ্গে এতো ভালো,আমার সঙ্গে কেন নয়?সবসময় রাগ কেন দেখায় আমার সঙ্গে?
নিজ মনেই এসব ভাবছিলাম।
হুট করে মা এলো আমার কাছে।আড়ালে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,”তোর ননদের কী হয়েছে রে?অনুষ্ঠানে একবারো এলোনা।
আমি ডাকতে গিয়েছিলাম আসছি বলেও এলো না।কিছু হয়েছে?কিছু বলেছিস ওকে?”
বললাম,”না।তেমন কিছুনা।আমি দেখছি।”
মা সামান্য হেসে আমার কাধে হাত রেখে বললেন,”আমি জানি তুই অত্যন্ত নরম মনের।হয়ত এই বিয়েটা নিয়ে মনে রাগ বা অভিমান আছে তোর মনে।
তবুও বলছি একটু মানিয়ে নে মা।তোর বোন নেই।সারাজীবন আক্ষেপ করেছিস।ননদকে বোনের নজরে দেখবি।প্রলয়ের বোন তোরও বোন।ও কোনো ভুল করলে বা বললে বোঝাবি।ক্ষমা করে দিবি।রাগ জেদ চেপে রেখে সংসারে অশান্তি করবিনা।
ঐ বাড়িই এখন তোর আসল ঠিকানা।লাল কাপড়ে গিয়েছিস,সাদা থানে বের হবি।
আর পাঁচজনের মতো আমি নই যে মেয়ের কানে মন্ত্র দিয়ে সংসারে অশান্তি বাধাবো।
আমি চাই আমার মেয়ে শান্তিতে থাকুক।এতে আমার যা দিতে হয় দেব।যা করতে হয় করবো।
তুই মা ভালো থাক।
প্রলয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা কর।ছেলেটা ভালো।”
আমি শুধু মাথা ঝাকিয়ে রিপার ঘরের দিকে যেতে নিলাম।
প্রলয় কেমন ভাই?সারাদিন গেল বোনের খোঁজ নিল না।
যাকগে সব।সেসব তাদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার।আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাবো।
ওর ঘরে গিয়ে নক করলাম।মেয়েটা শুকনো মুখে দরজা খুলল।ভেতরে এসে বললাম,”খেয়েছো?”
ও ‘হুম’ বলে জবাব দিয়ে থেমে গেল।
বিছানায় বসলাম আমি।
হাতে একটি ব্যাগ।রিপার দিকে তাকালাম একবার।মেয়েটার থমথমে মুখ।রাগ করে আছে হয়ত।আমার তখনের বলা কথা ওর মাইন্ডে লেগেছে।কিন্তু আমিও ঠিক কথাই বলেছি।
ব্যাগ থেকে দুটো শাড়ি বের করে রিপার সামনে রেখে বললাম,”এগুলো তোমার গিফট।আমি উপহার দিলাম তোমায়।”
মেয়েটা ড্যাপড্যাপে চোখে তাকিয়ে থাকলো।
দুটোই হাতে নিয়ে একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে বলল,”ভালোই আছে কিন্তু আমার পছন্দ তোমার লাগেজের ঐ মেরুন আর পিংক রঙের শাড়িটা।”
এক মূহুর্ত্তের জন্য আমি যেন ‘হা’ হয়ে গেলাম।
ঐ শাড়িদুটো ভীষণ এক্সপেনসিভ।এবং আমার খুব পছন্দেরও।রিপার ঐ শাড়ি দুটোই পছন্দ হলো!
মুখ ফুটে চেয়েছে।না করি কীভাবে?ছোট থেকে এই এক স্বভাব আমার।কেউ কিছু চাইলে মুখের ওপর না করতে পারিনা।
দিয়ে দিলাম।ঘর থেকে শাড়ি আনতে গেলে প্রলয় দেখেনি।রিপার ঘরে শাড়ি নিয়ে ঢোকার সময় দেখেছে সে।
শাড়ি দিয়ে আমি বের হওয়ার পর যখন ঘরে এলাম,তিনি আমায় একপ্রকার চেপে ধরলেন।
বললেন,”শাড়ি কেন দিলেন ওকে?”
“এমনিই।গিফট হিসেবে দিলাম।”
উনি কর্কশ কন্ঠ বললেন,”শুনুন মানুষকে বেশি লাই দিতে নেই।বেশি মাথায় তুলতে গেলে নিজেরই ক্ষতি।দেখবেন মাথায় উঠে কাঁঠাল ভেঙে খাবে।নিচে নেমে চুল ধরে ঘোরাবে।”
বললাম,”এসব কেমন কথা?মেয়েটা ছোট মানুষ।বড়ো ভাবির থেকে একটা জিনিস চেয়েছে আর আমি সেটা দিয়েছি।তাতেই এমন করছেন আপনি?
ওটা না আপনার বোন!কোথায় আপনি আরো আমাকে বোঝাবেন।”
উনি কিছুপল আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,”যা পারেন করেন।লোকের ভালো করতে নেই।
আকারে ইঙ্গিতে অনেক কিছু বোঝাবার চেষ্টা করলাম।কোনো লাভ হলোনা।
এবার থেকে আমি আর কিছু বলবোনা।আপনি যা পারেন করতে থাকুন।শেষে সেই আমার কথাই মানতে হবে।”
উনি চলে যায়।
আমি আগা-মাথা কিছুই বুঝিনি।উনিকি উনার পরিবারকে খারাপ মিন করতে চাচ্ছে?
ছেলে হয়ে কী করে উনি উনার পরিবারকে খারাপ বানাতে চায়।এ কেমন মানুষ?
আসলে সমস্যা কী উনার?
চারপাশে দেখি ছেলেরাই আরো বোঝায় তাদের স্ত্রীদের,যেন পরিবারের সঙ্গে মিলেমিশে থাকে।
আর উনি কিনা আমায়!
আর কিছু ভাবার সময় পেলাম না।
মা ডাকছেন কোনো কারণে।
গেলাম আমি।
রাত হলে ঘুমিয়ে গেলাম।প্রলয় আর একটাও কথা বলেনি আমার সঙ্গে।
আমিও যেচে বলিনি।
সকাল হতেই দেখলাম বাড়ির উঠোনে দুটো ট্রাক এসে দাঁড়ালো।প্রলয় তখন সবে উঠেছে।উঠে বাইরে এসেছে।
ট্রাক থেকে মা নেমে এলেন।
প্রলয় ভ্রু কুচকায়।মায়ের কাছে এগিয়ে যায়।
উনি এতো সকালে এখানে?আমাদের নিতে এলো নাকি?কিন্ত এতো সকাল কেন?
প্রলয় তার মায়ের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,”এতো সকালে তুমি কেন এখানে?”
মা হেসে হেসে উচ্চস্বরে বললেন,”ওমা বেয়ানবাড়ি আসবোনা ঘুরতে?
আসতে আবার কারণ লাগবে নাকি?
কী বলেন বেয়ান?”
আমার মা মেকি হেসে মাথা নাড়লেন।
শাশুড়িমা এসে আমার মাকে জড়িয়ে ধরে।কুশল বিনিময় করে বললেন,”ঐ গাড়ি নিয়ে চলে এলাম।বিয়ের দিনই তো মালসামারি মানে ঘরসাজানো জিনিস দেওয়ার কথা ছিল।বিয়েতে তো দেননি।সম্ভবত মনে নেই আপনাদের।
তাই আজ গাড়ি নিয়ে এলাম আপনাদের উপকার করতে।যাতে গাড়ি ভাড়াটা বেচে যায়।”
মা বিব্রত হলেন।সঙ্গে লজ্জাও পেলেন।আসলে মা-বাবা ভেবেছিল কদিন পর দিয়ে দেবে ফার্নিচার।যেহেতু বিয়েতে কথা হয়েছে এ বিষয়ে।
বিয়েতে অনেকগুলো টাকাই খরচ হয়েছে।এজন্য ছয়-সাতদিন পর ফার্নিচার দেওয়ার কথা ভেবেছিল।
শাশুড়িমা আবারো বললেন,”কী হলো বেয়ান?ঘরে ডাকবেন না?”
মা আমতা আমতা করে ভেতরে আসতে বলে তাকে।দরজা থেকে সরে দাঁড়ায়।
উনি রিপাকে ডাকতে ডাকতে ভেতরে যায়।
মা অসহায়ের দৃষ্টিতে তাকায় আমার দিকে।
আমি প্রলয়ের দিকে তাকাই।
প্রলয় রক্তবর্ণ চোখ নিয়ে তার মাকে দেখছে।
এই যেন চোখ থেকে টপ করে এক ফোঁটা রক্ত গড়িয়ে পড়বে।
সবাই ভেতরে এলাম।শাশুড়িমা রিপার কাছে গেলেন।গিয়ে গল্প করতে লাগলেন।
প্রলয় ভেতরে ঢুকে সবে ‘মা’ বলে কিছু বলতে যাবে তার আগেই শাশুড়িমা চিৎকার করে আমার মাকে ডাকতে লাগলেন।
প্রলয় তাকে থামিয়ে দিয়ে নিচু বললেন,”কাজটা ঠিক হচ্ছেনা মা।তুমি এমন ছোট লোক কেন?তুমি যদি এক্ষুনি এখান থেকে চলে না যাও আমি ঝামেলা করবো বাড়ি গিয়ে।তুমি কিন্তু আমায় চেনোনা মা।”
আমি শুধু তাকিয়ে আছি ডাইনিং রুম থেকে।ওরা কথা বলছে দেখতে পাচ্ছি,শুনতে পাচ্ছিনা।
আমার মা ঘরে ঢুকলেন।
মাকে দেখে শাশুড়িমা বললেন,”আমার ছেলেটা বড্ড লাজুক জানেন বেয়ান।মুখ ফুটে কিচ্ছু বলতে পারেনা।
শুধু লজ্জা পায়।”
প্রলয় বলে,”মা আমাদের কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই।আপনি প্লিজ আমার মায়ের কথায় কিছু মনে করবেন না।যৌতুক মহা পাপ!”
“ওমা সে কী কথা!
এসব বললে হয় নাকি?দেখলেন বেয়ান আমার ছেলে কতো লাজুক?
বলি প্রলয়, এইসব কী তোকে যৌতুক হিসেবে দেবে নাকি?দেবে উপহার হিসেবে।
শশুর-শাশুড়ি উপহার দিলে না নিলে তাদের অসম্মান করা হয় বাবা।”
প্রলয় আর কিছু বলল না।মায়ের দিকে তাকিয়ে সে শুধু।
আমার মা বলল,”জ্বী।আপনারা চিন্তা করবেননা।আমি দেখছি কী করা যায়।প্রিয়তার বাবা বাড়ি নেই।গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজে কাল রাতে অন্য জেলায় গেছে।
আমি একা আছি আপাতত।”
মা একা আছে জেনেও শাশুড়িমা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়না।
উল্টে আমার মা চলে আসতে নিলে বলে,”খাটটা বক্স খাট দেবেন।না মানে ছেলের বক্স খাট পছন্দ।”
উনার বলা এই কথাটি আমার কানে গেল।প্রলয় মাথা নুয়ে দাঁড়িয়ে।তারমানে উনারও সায় আছে এসবে।
এখন তো দেখছি ইনি নিজেই লোভী।শুনছেই তো আমার বাবা বাড়ি নেই।তবুও কীভাবে চাপ দিচ্ছে?
এমন তো না যে দেবেনা বা পালিয়ে যাবে।কটাদিন পরে জিনিস গুলো নিলে কী এমন হতো?
এই এদের এতো প্রভাব প্রতিপত্তি!মন এতো ছোট কেন?কথায় বলেনা,কিছু লোক আছে এদের ঘরে বিরিয়ানি থাকলেও অন্যের ঘরের এঠো ভাতও সুযোগে ছাড় দেয়না।
মানে অন্যেরটার প্রতি লোভ বেশি।
আমি মাকে গিয়ে বললাম,”অনেক হয়েছে মা।আর নয়।তুমি সোজাসুজি বলে দাও কিচ্ছু দিতে পারবোনা।
আমরা এগুলো না দিলে ওরা মেঝেতে শোবে নাকি?এতোদিনও তাই করেছে?আমার ও বাড়িতে তো ঘর ভর্তি ফার্নিচার।এগুলো নিয়ে কোথায় রাখবে?
আমি সরাসরি কথা বলছি ওদের সঙ্গে।
আর নয়।আর সম্ভব নয়।”
(আমার বাবুটা অসুস্থ।একটু দোয়া করবেন।
সকলের কাছে ক্ষমা চাইছি লেটের জন্য।)
(ধৈর্য্য নিয়ে গল্পটা পড়ুন।মন ছুয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।সামনে আরো চমক আছে।শুধু পড়তে থাকুন।পড়া শেষে রিয়েক্ট দেবেন সকলে।
টার্গেট 3k।এই রিয়েক্ট হলেই গল্প দ্রুত চলে আসবে।)
Share On:
TAGS: নাদিয়া আফরিন, প্রিয়তার পূর্ণতা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১
-
প্রিয়তার পূর্ণতা গল্পের লিংক
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ২
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৩