প্রিয়তার_পূর্ণতা
Nadia_Afrin
১০
বাবার বার্থডের একটা ছোট-খাটো অনুষ্ঠান।
আমি আর প্রলয় এসেছি।
আমার পরণে একটা পার্পেল রঙের গর্জিয়াস শাড়ি।সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছি।
এটা গিফট পেয়েছি বিয়েতে।প্রলয় আজ পড়তে বলল।
তার পরণে আবার সাদামাটা অফহোয়াইট পাঞ্জাবী।
আমি বারবার হোচট খেতে নিচ্ছি।প্রলয় দু-বার সামলেছে।একবার শাড়ির কুচি ঠিক করে দিয়েছে।হাইহিল পড়ে এসেছিলাম।শাড়ির জন্য হাঁটতে পারছিলাম না।প্রলয় ওর জুতা আমায় দিয়ে সে খালি পায়ে শশুর বাড়িতে প্রবেশ করেছে।ওর ব্যবহারে আমি মুগ্ধ।ভীষণ কেয়ারিং।
প্রলয় হাতে সেই যে একটা ব্যাগ বাড়ি থেকে এনেছে,ব্যাগটা রাখার নাম নেই।
পথে অবশ্য একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম এতে কী আছে।
উনার সাফ উত্তর,”সেটা আপনার জানতে হবেনা।”
এরপর আর জিজ্ঞেস করিনি।
আসার পথে একটা শপিংমলে থেমে বাবার জন্য পাঞ্জাবি,ব্রান্ডেড হাতঘড়ি,টি-শার্ট সহ কেক ফল মিষ্টি নিয়েছে।বহুবার বলেছি এতোকিছু না নিতে।
উনার জবাব,আমি ছোটলোক নই।
শাশুড়ি মা আবার আসার সময় বলে দিয়েছে বেশি খরচ যেন না করি।কেজি দুয়েক মিষ্টি আর একটা গ্লাস সেট কিনে যেন দাওয়াত খেয়ে আসি।
আমিও জবাব দিয়েছি,’আমার বাবার বাড়িতে গ্লাস সেট আছে।আমি বরং নিয়ে আসবো একটা আপনাদের জন্য।
উনি আর কিছু বলেনি।
আমার বাড়িতে এসে প্রলয়কে দেখে মনেই হচ্ছেনা যে সে নতুন জামাই।
এসেছে থেকে আমার ভাই-বোনদের সঙ্গে হই-হুল্লোর করছে।ডাইনিং রুমটা ডেকোরেট করেছে সকলের সঙ্গে।
সন্ধ্যা নাগাদ বাবা কেক কাঁটলেন।মাকে প্রথম খাইয়েই প্রলয়কে খাওয়ালেন।
আমি সঙ্গে সঙ্গে অভিমানি কন্ঠে বললাম,”আমি তো এখন পর।প্রতিবার আমায় আগে খাওয়াতে।”
বাবা গাল টেনে দিয়ে বলে,”এজন্যই এবার জামাইকে খাওয়ালাম।তুই তো প্রতিবার প্রথম বাইট নিসই।”
সবাই একে একে গিফট দিতে লাগলো।
আমি আমার বাবার জন্য বেশ আগে একটা কমপ্লিট সেট কিনেছিলাম।সেটা দিলাম।মা দিল পার্ফিউম ও চশমা।
একে একে সবাই দিল।
এবার প্রলয় এগিয়ে গেল।
বাবার হাতে গিফট গুলো দিয়ে মাকে ডাকলো।
মা এগিয়ে যেতেই প্রলয় তার হাতের ব্যাগটা মায়ের হাতে দিল।
মা একটু অবাকই হলো।
আমার দিকে তাকালো।আমি নিজেই অবাক।
কিঞ্চিৎ হেসে মা বললেন,”আমায় কেন দিচ্ছো বাবা?
যার জন্মদিন তাকে তো দিলেই।”
“জন্মদিন একজনের হলেও আপনারা দুজন মিলেই পরিচয় আমার কাছে।
এজন্য দুজনের জন্যই ছোট্ট ছোট্ট উপহার।
তবে মা শর্ত একটাই।এটা খুলবেন আমরা চলে যাওয়ার পর।”
আমি এগিয়ে গিয়ে ব্যাগটা নিতে যেয়ে বললাম,”মা পরে দেখবে।আমি বরং আগে একটু দেখি।”
প্রলয় ছো মেরে ব্যাগটা নিয়ে আবারো মায়ের হাতে দিয়ে বলল,”যার জিনিস সেই দেখবে আগে।”
আমি নাক-মুখ কুচকালাম।
চলে যেতে যেতে বললাম,”দেখতে হবেনা কারো গিফট।আমার বার্থডেতে গিফট পেলে আমিও কাউকে দেখাবোনা।”
সবাই হাসলেন।
আমি গিয়ে খাবার টেবিলে বসলাম।নিজে নিজেই খাবার বেড়ে খেতে লাগলাম।রাগ হয়েছে আমার।
এক ছোটবোন খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করল,”এই আপু আগে কেন খাচ্ছো তুমি?ভাইয়াকে খেতে দাও।”
চোখ বাকিয়ে বললাম,”আমি কী তাকে ধরে রেখেছি?বসে খেয়ে নিক।আমার ক্ষিদে পেয়েছে আমি খাচ্ছি।”
প্রলয় সামান্য হাসে।
আমার পাশে এসে বসে সে।
মা আমায় তাকে খেতে দিতে বলে সবাইকে নিয়ে চলে যায় ঘরে।
প্রলয় ‘উহুম’ করে একটু শব্দ করে।
খাওয়া থামিয়ে আড় চোখে একনজর তাকালাম।
এরপর ওর প্লেটে খাবার বেড়ে দিতে নিলে প্রলয় নিষেধ করে।
বলে,”আমি স্পেশাল গেস্ট নই যে বেড়ে,গুছিয়ে খাওয়াতে হবে।
আমি নিজে খেতে জানি।”
হাত সরিয়ে নিয়ে নিজের খাওয়ায় মননিবেশ করি।
প্রলয় নিজের পরিমাণ মতো সবকিছু নিয়ে এক লোকমা ভাত মুখে নেয়।
নিয়ে বলে,”ঐ ব্যাগেতে কিন্তু অনেক চকলেট আছে জানেন!”
খাওয়া বন্ধ করে সরু চোখে তাকালাম তার দিকে।
তার মুখে মুচকি মুচকি হাসি।
বললাম,”মায়ের চকলেট পছন্দ নয়।”
“সমস্যা নেই।জামাই এনেছে।খেয়ে দেখবেই।”
আমি কিছুপল চুপ থেকে গম্ভীর স্বরে বললাম,”চকলেট খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।”
সম্পূর্ণ গল্পটি আমার পেইজে দেওয়া আছে।নাদিয়া আফরিন ইংরেজিতে লিখে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন আমার পেইজ।
ফলো দিয়ে সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ুন।
ফলো না করলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
“আপনি খেলে ভালো?”
কড়া চোখে তাকাই আমি প্রলয়ের দিকে।
প্রলয় ফট করে হেসে ফেলে।
আমি গাল-মুখ কুচকে খেতে লাগলাম।
প্রলয় ও খেল।খাওয়া শেষে কিছুক্ষণ বসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।অর্ধেক পথ যেতেই মায়ের কল।
রিসিভ করতেই মা বলল,’জামাই এটা কী করেছে প্রিয়তা?তুই কিছু জানতিনা?’
আমি একবার প্রলয়ের দিকে তাকিয়ে মাকে প্রশ্ন করলাম,”কী করেছে?আর কী জানবো?”
‘আমার যেই গহনাগুলো বিক্রি করে তোর জন্য ফার্নিচার কিনেছিলা,সেই সব গহনা প্রলয় দিয়ে গেছে ঐ ব্যাগে করে।’
চমকে উঠে বললাম,’হোয়াট!
বলছো কী এসব?’
‘হ্যা রে মা সত্যি বলছি।কীভাবে এইকাজ করলো প্রলয়?
ওগুলো ও পেলো কোথায়?
আমি তো সব বিক্রি করে দিয়েছিলাম।’
‘আমিও কিছু বুঝতে পারছিনা।ওয়েট মা।
আমি তোমায় পরে কল দিয়ে সবটা জানাবো।
প্রলয়ের সঙ্গে কথা বলছি আমি।”
কল কেঁটে প্রলয়ের দিকে বড়ো বড়ো চোখ করে তাকালাম।
প্রলয় হাই তুলতে তুলতে বলল,”কী হলো?এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?”
“মা এসব কী বলছে?”
“যা বলছে ঠিকই বলছে।”
“আপনি এই কাজ কবে করেছেন?আমায় বলেননি কেন?আর গহনাগুলো পেলেন কোথায়?”
পুরো গল্পটি নাদিয়া আফরিন পেইজে দেওয়া আছে।ফলো দিয়ে পড়েনিন।
নাহলে হারিয়ে ফেলতে পারেন।
এছাড়াও আমার লেখা সব গল্প পাবেন আমার পেইজে।
“মা যেদিন বিক্রি করেছে সেদিনই কিনে নিয়েছিলাম।গহনার ঐ দোকানটা আমার বন্ধুর ছিল।
আমি আসলে মাকে ফলো করছিলাম।
আপনাদের যেই ব্যাংকে টাকা রাখা,সেই ব্যাংকের ম্যানেজার আমার আঙ্কেল হয়।
আমিই তাকে সব পরিচয় দিয়ে বলেছিলাম মাকে যেন ফিরিয়ে দেয়।টাকা উঠাতে না দেয়।
আসলে আমি চাইনি ফার্নিচার মা দিক।
ভেবেছিলাম মা থেমে যাবে।কিন্তু উনি থেমে না গিয়ে বরং গহনা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিল।
আমিও উনাকে ফলো করলাম।বিক্রি করে উনি চলে আসার পরপরই বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে সেই টাকা দিয়েই গহনাগুলো কিনে নিয়েছিলাম।
সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম এজন্য আপনাকে জানাইনি।কোনো একটা প্রোগ্রামের সুযোগ খুঁজছিলাম উপহার করে দেওয়ার জন্য ।আজ পেয়ে গেলাম।”
অবাক হয়ে এতোক্ষণ তার কথা শুনছিলাম আমি।
সুধালাম,”কিন্তু এটা আপনি কেন করলেন?”
“কারণ আমি চাইনি আপনার বাড়ি থেকে কোনো যৌতুক আসুক আমার বাড়িতে।গহনা হলো নারীদের ভূষণ।তা খোয়া গেলে সারাজীবন আক্ষেপ থেকে যায়।
এমনিতেই আমি আপনার মা-বাবার কাছে ভীষণ ঋণই।
তারা তাদের সবচেয়ে মূল্যবান রত্নকে আমায় দিয়েছে।”
“আর কী সেটা?”
“কেন আপনি।”
থমকে গেলাম আমি।
প্রলয় সহসা হাসলো।ওর হাসিতে আমি মুগ্ধ হলাম।
মাথা নিচু করলাম লজ্জায়।এরপর ওর হাতটা ফট করে ধরে বললাম,”ধন্যবাদ আপনাকে।আপনি ভীষণ ভালো।”
প্রলয় আমার হাতে হাত রাখে।
বলে,”ভালো তবে খুব বেশি নয়।গহনাগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি বলে ভাববেন না আপনাকেও ফিরিয়ে দেব।
আপনাকে আমি সারাজীবন রেখে দেব।
বহু কাজ বাদ আছে আপনার।শক্ত হতে হবে।আমার পরিবারকে শায়েস্তা করতে হবে।এবং একজনের ওপর হওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে হবে।”
“কার অন্যায়ের?”
প্রলয় চুপ গেল।মাথা নত করে দু-দন্ড সময় নিয়ে বলল,”অদিতির।”
আমি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলাম।প্রলয় আর কিছু বলল না।
হাতটা সরিয়ে নিল।
গাড়ির সিটে হেলান দিল।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি।আমি জানি প্রলয় একসময় নিজেই বলবে আমায় সবটা।
আমি সেদিনের অপেক্ষা করছি।
বাড়ি ফিরে এলাম।
প্রলয় আমায় ভেতরে ঢুকতে বলে সে ডিকি থেকে কী যেন বের করতে গেল।
গুনগুন করতে করতে ভেতরে ঢুকছি সবে,মা বলে উঠলো,”এলে তাহলে?”
“হ্যা মা।”
“কেমন কাঁটালে সময়?”
অতি উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বললাম,”ভীষণ ভালো মা।আপনারা গেলে আরো মজা হতো।”
মা মুখ বাকিয়ে বললেন,”হ্যা সেই তো!
আমরা গেলে তো আর ওসব করতে পারতেনা।”
অবাক স্বরে বললাম,”কী করেছি মা?”
উনার ঝাঁঝালো উত্তর,”কী করেছো জানোনা?
ন্যাকা সাঁজছো?
তোমায় বলেছিলাম টাকা কম খরচ করতে।তোমাদের ভবিষ্যৎ সুন্দরের জন্যই বলি।
আর তোমরা কিনা সোনার গহনা গিফট করে এলে বাপের বাড়িতে!
বলি টাকা কী উড়ে উড়ে আসে বউমা?”
আমি কিছু বলার আগেই প্রলয় বলে উঠলো,”না মা।টাকা পরিশ্রমের ফলে আসে।আর সেই পরিশ্রমটা করি আমি।
আমার পরিশ্রমের ফসল আমি খাবো নাকি কাউকে দেব সেটা আমার ব্যাক্তিগত ম্যাটার।”
“সবই যদি তোদের ব্যাক্তিগত বিষয় হয় তাহলে এক সংসারে থেকে লাভ কী?
আর প্রলয় আমি তোদের ভালোর জন্য বলছি।
এখনই এভাবে টাকা উড়ালে ভবিষ্যৎ এ কী করবি?”
“আমার ভবিষ্যৎ এর চিন্তা তোমার করতে হবেনা মা।এতোকাল যেহেতু করোনি,এখনো করতে হবেনা।”
সুমা আপু পাশ থেকে বলল,”তোমার ছেলের সঙ্গে কথা বলে জিততে পারবেনা মা।
প্রলয়ের যেহেতু এতোই টাকা হয়েছে,শশুরের জন্মদিনে শাশুড়িকে সোনার গহনা গিফট করছে তো আমরা বাড়ির লোক বাদ যাবো কেন?
আমার মাকেও ঐসব গহনা গড়িয়ে দে প্রলয়।সঙ্গে আমার জন্য একটা কানের দুল বানিয়ে দে।আমার একটা ডিজাইন পছন্দ হয়েছে।
আর রিপার জন্য হাতের আংটি দে।”
প্রলয় উপহাস সূচক হেসে বলল,”তুই বরং দুলের ডিজাইনটা তোর বরকে দিস।দিয়ে বলিস বানিয়ে দিতে।
আর রিপার আংটি আছেই।”
সঙ্গে সঙ্গে রিপা বলে,”আমার চার আঙুলের আংটি আছে।আর একটা নেই।”
“ঐ এক আঙুল কেঁটে ফেল।”
মা তেড়ে এসে বললেন,”কী বললি তুই প্রলয়!
এতো বড়ো কথা?”
“কথা নয় মা।এটা হলো জবাব।”
“এতো জবাব না দিয়ে নিজের মাকে গহনা দে।
আগের গুলো আমার পুরোনো হয়ে গেছে।”
“সর্ণ আবার পুরোনো হয় নাকি?
আর শোনো মা,তোমাদের বিলাসিতার পেছনে আর একটা টাকাও খরচ করতে পারবোনা।
যার প্রতি যা দায়িত্ব সব আমি পালন করেছি।এবার মৌলিক কর্তব্য বা ভরণপোষণ ছাড়া আমি আর কাউকে কিছু দিতে পারবোনা।
এখন আমাকে আমার বউয়ের ভবিষ্যৎ এর দিকে নজর দিতে হবে।”
মা শুরু করলো হাই হুতাশ।
প্রলয় ঘরে যেতে নিল।
হঠাৎ পেছনে তাকিয়ে বলল,”গহনার বিষয়টি তোমরা জানলে কী করে?কে বলল?”
“কে বলেছে সেটা বড়ো কথা নয়।সত্য কথাই তো বলেছে।তোর তুষার কাকা বলেছে।”
ভ্রু উচিয়ে প্রলয় তাকায় ড্রাইভারের দিকে।উনি আমার শাশুড়ির ফুফাতো ভাই।
তুষার কাকা মাথা নিচু করে।
প্রলয় দু-পা এগিয়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,”তুমি দেখলে কী করে?”
সে আমতা আমতা করে বলল,”ঐ আর কী মানে তোমরা ঐ ব্যাগটা গাড়িতে রেখে পাঞ্জাবী কিনতে গেলে যখন তখনই আর কী কৌতুহলবশত দেখেছিলাম।”
“তার মানে তুমি আমার ব্যাক্তিগত জিনিস লুকিয়ে দেখো?
তোমার সাহস কী করে হয় এসব করার?
অসহায় দেখে মায়ের কথায় তোমায় কাজে রেখেছিলাম।তুমি তো দেখছি বোনেরই মতন দু-মুখো।”
মা চিৎকার করে প্রলয়ের নাম ধরে ডাকলেন।
রাগান্বিত স্বরে বললেন,”কিছু বলিনা দেখে বেশি বুঝছিস তুই।
লজ্জা করেনা নিজের মায়ের ব্যাপারে এমন কথা বলতে?”
“করেতো মা।তবে তোমার আচরণে।”
মা প্রলাপ শুরু করেন।
প্রলয় পাত্তা দেয়না।সে তার মতো ঘরে যেতে লাগে।সিড়ি বেয়ে ওঠার সময় পেছন ফিরে আমায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে,” আপনি আবার দাঁড়িয়ে আছেন কেন?
ঘরে আসুন ফাস্ট।”
মাথা নাড়িয়ে চলে আসলাম ঘরে।
বিছানায় বসলাম।প্রলয় ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এলো।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করতে করতে বলল,”আপনার পাশেই দেখুন একটা ব্যাগ আছে।খুলুন সেটা।”
“আবারো ব্যাগ?”
হাতে নিয়ে খুললাম।অনেক চকলেট।সবগুলো আমার পছন্দের।
প্রচন্ড খুশি হলাম আমি।চকলেট আমার সবচেয়ে প্রিয়।প্রলয় জানলো কী করে?
জিজ্ঞেস করলাম তাকে।
ও উত্তর দিল আপনার কাজিন বলেছিল।
“কিন্তু নাম জানলেন কী করে চকলেট গুলোর?”
“প্রথমবার আপনাদের বাড়িতে গিয়ে আপনার ঘরের খাটের তলায় আমার কানের ব্লুটুথটা পড়ে গিয়েছিল।সেটা খুঁজতে গিয়েই খাটের তলায় এসব চকলেটের খোসা দেখেছিলাম।”
আমি লজ্জা পেলাম।
দাঁতে জিভ কেঁটে মিনমিনে স্বরে বললাম,”রাতে বসে বসে চকলেট খেতাম আর মুভি দেখতাম।”
প্রলয় কিছু বলল না আর।
আমি এক প্যাকেট চকলেট খুলে যেইনা মুখে দিতে যাবো ওমনি নিচ থেকে প্রচন্ড চিৎকারের আওয়াজ।
খাওয়া বাদে দুজনেই ছুট লাগালাম।
প্রলয় বিরবিরিয়ে বলছে,”আবার নতুন নাটক শুরু হলো।”
নিচে আসতেই শুরু হলো আরেক কাহিনী।
ইবুক,,,,”আই এ্যাম স্যরি।আমার এটা করা উচিৎ হয়নি।”
“উহু।স্যরিতে হবেনা।অন্যকিছু লাগবে।”
ভ্রু কুচকে নিশা বলে,”কী?”
তিহান সঙ্গে সঙ্গে নিশার কোমর জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা রাখে।
নিশার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায় দ্রুত।ঘামতে লাগে সে।শরীর কেপে ওঠে তিহানের স্পর্শে।
তিহান শুনতে পায় নিশার বুকের তীব্র ধড়ফড়।সামান্য হাসে সে।
নিশা কাপা স্বরে বলে,” ছা ছাড়ুন আমায়।”
তিহান ছেড়ে দেয়।
নিশা যেন প্রাণ ফিরে পায়।দ্রুতই সরে আসে।
নিচে যেতে নেয় সে।কী যেন ভেবে একবার পেছনে তাকায়।
তিহানকে উদ্দেশ্য করে বলে,”ব্যাথা হতে পারে।একটা পেইনকিলার খেয়ে নেবেন।”
“আমার পেইনকিলার ও তুমি সুইটহার্ট।একটা চুমু দিয়ে যাও।সব ব্যাথা সেরে যাবে তাহলে।”
পড়ুন, ই-বুক “প্রেমনেশা”
https://link.boitoi.com.bd/k9mh
প্রিয়তার পূর্ণতা টাইপ গল্প আরেকটি পড়তে আমার #বড়োজা বইটি কিনতে পারেন মাত্র ২৯৯ টাকায়।
প্রতারিত হওয়া এক নারীর বিষয়ে জানতে পারবেন।
অর্ডার করুন বইবাড়ি রোম্যান্টিক বুকশপ বইবাড়ি রোম্যান্টিক বুকশপ বা যেকোনো বুকশপে।
জিতে নিন বুকমার্ক ও চিঠি।
(#প্রেমনীতি কাল বা পরসু আসবে।)
Share On:
TAGS: নাদিয়া আফরিন, প্রিয়তার পূর্ণতা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৯
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৫
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ১
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৬
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৭
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৩
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৪
-
প্রিয়তার পূর্ণতা গল্পের লিংক
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ৮
-
প্রিয়তার পূর্ণতা পর্ব ২