প্রণয়ে_গুনগুন
পর্ব_২৯
মুন্নিআক্তারপ্রিয়া
হঠাৎ বাইক থামানোর জন্য টাল সামলাতে না পেরে দুহাতে শক্ত করে প্রণয়কে আঁকড়ে ধরল গুনগুন। কিছু চুল সামনে এসে চোখ-মুখ ঢেকে ফেলেছে। ভয় পাওয়া মুখটা চুপসে আছে একদম। প্রণয়ের কোনো প্রতিক্রিয়া সে দেখতে পাচ্ছে না। নিজেকে ধাতস্থ করে জিজ্ঞেস করল,
“কোনো সমস্যা?”
প্রণয় লম্বা শ্বাস নিল। হৃদয়ের উথালপাতাল হওয়া যন্ত্রণাটুকু গুনগুনকে বুঝতে দিল না। সত্যটা লুকিয়ে বলল,
“না, কিছু না। তুমি ঠিক আছো?”
“হুম।”
“ভালো করে ধরে বসো।”
গুনগুন এবার আগের চেয়েও শক্ত করে প্রণয়কে ধরে বসল। প্রণয় বাইক চালাচ্ছে। কিন্তু মাথায় ঘুরছে গুনগুনের বলা কথাগুলো। গুনগুন যদি দেশের বাইরে চলে যায় তাহলে তার কী হবে? সে কীভাবে থাকবে এখানে?
বাড়িতে ফিরে দম আটকে আসছিল প্রণয়ের। হাঁসফাঁস লাগছিল ভীষণ। সে গুনগুনকে কীভাবে নিষেধ করবে বুঝতে পারছে না কিছু। আর গুনগুনই বা কেন এরকম একটা সিদ্ধান্ত নিতে গেল? হাত-মুখ ধুয়ে এসে গুনগুন প্রণয়ের উদ্দেশে বলল,
“যান ফ্রেশ হয়ে আসেন। ভাত খাব।”
গুনগুন রান্নাঘরে যাচ্ছিল। তরকারি গরম করতে হবে। প্রণয় খাটের এক সাইডে বসে ছিল। হঠাৎ উঠে দাঁড়াল সে। বলল,
“তোমার বাইরে পড়তে যাওয়াটা কি মেন্ডাটরি গুনগুন?”
দরজা পর্যন্ত গিয়ে গুনগুন থমকে দাঁড়াল। প্রণয়ের প্রতিক্রিয়া আজ খুব অচেনা লাগছে হঠাৎ করে। কখনো তো সে এই টোনে কথা বলে না ওর সাথে। আজ হঠাৎ কী হলো? ম্রিয়মাণ কণ্ঠে গুনগুন জানতে চাইল,
“মানে?”
প্রণয় অস্থির হয়ে সামনে এগিয়ে গেল। গুনগুনের হাত ধরে ভেতরে এনে খাটের ওপর বসাল। নিজে বসল মেঝেতে গুনগুনের পায়ের কাছে। হাতদুটো গুনগুনের কোলের ওপর রেখে বলল,
“তুমি এই পর্যন্ত যা চেয়েছ আমি তোমাকে দিয়েছি। তোমার ছোটো ছোটো ইচ্ছেগুলোও পূরণ করেছি। কিন্তু তোমার বাইরের দেশে চলে যাওয়াতে আমার সায় নেই, গুনগুন। আমি চাই না তুমি আমাকে ছেড়ে যাও। দেখো, মাস্টার্স করতে চাও করো। আমার কোনো সমস্যা নেই। চাইলে তুমি আরেকটা ডিগ্রী নাও। কিন্তু সেটা দেশেই। আমার কাছে থেকে। দেশের বাইরে যাওয়াটা তো জরুরী নয় বলো?”
“দেশের বাইরে যাওয়া জরুরী নয়। এটা আমার ইচ্ছেও নয়। আমার স্বপ্ন। আপনাকে বলেছিলাম না, আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল এটা? আপনি আমার জীবনে আসার অনেক আগে থেকেই এই স্বপ্নটা আমি দেখে আসছি। আমি জানি, আপনি আমাকে অনেক ভালোবাসেন। তাই বলে তো এই ভালোবাসাকে পুঁজি করে আমার স্বপ্ন আমি বিসর্জন দিতে পারব না।”
“আমি কি তোমার জন্য এনাফ নই গুনগুন?”
“বাচ্চাদের মতো প্রশ্ন করছেন কেন আপনি? এখানে তুলনা শব্দটা কেন আসছে? আমি পড়তে যাচ্ছি। আরেকটা বিয়ে তো আর করতে যাচ্ছি না।”
“মেয়েরা বিয়ের আগে কত স্বপ্নই তো দেখে। সব কি পূরণ হয়? সংসারের জন্য, স্বামীর জন্য তারা কতকিছু ছেড়ে আসে। আমি তো তোমাকে সব ছাড়তে বলছি না। শুধু বলছি তুমি দেশের বাইরে যেও না।”
“আমি ঐ টাইপের টিপিক্যাল মেয়ে নই, প্রণয়! আমার গোল, স্বপ্ন কখনোই শুধু একটা ভালো বউ হওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল না। আমার স্বপ্ন বড়ো, জেদ প্রখর। এই স্বপ্নটা পূরণের জন্য আমি অনেক পরিশ্রম করেছি, সাফার করেছি।”
প্রণয়ের চোখ-মুখ শক্ত হয়ে উঠল। সে র’ক্তচক্ষু দ্বারা গুনগুনের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তার মানে তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে এটাই তোমার শেষ কথা?”
গুনগুন লম্বা শ্বাস নিল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে প্রণয়ের ভীত হওয়া মুখটার দিকে তাকাল সে। গুনগুন জানে, বোঝে প্রণয় ওর জন্য কতটা পাগল। কতটা ভালোবাসে প্রণয় ওকে সে সব জানে। এবং এটাও বোঝে যে, প্রণয়ের ভয়টা আসলে কোথায়। দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে গুনগুন প্রণয়ের হাত ধরে বলল,
“আপনি একটা ভুল কথা বারবার বলছেন। আপনাকে ছেড়ে চলে যাব বলছেন কেন? আমি আপনাকে ভালোবাসি। আমার স্বামী আপনি। আপনার কথার বিরুদ্ধে, ইচ্ছের বিরুদ্ধে তো আমি যেতে পারব না। যেতে চাইও না। এবং এটাও চাই না যে, আমার ভালোবাসার মানুষটাই আমার ডানা কে’টে দিক। বরং আমি সবসময় চাই, আপনি আমার ডানা হয়ে আমাকে মুক্ত আকাশে উড়তে দিন। আমার ছায়া হয়ে আমার সাথে থাকুন, পাশে থাকুন। আপনাকে ছেড়ে আমি কোথাও যাব না। আপনাকে নিয়েই যাব। সাথে সাথে হয়তো সম্ভব না। কিছুটা সময় লাগবে। এরপর স্পাউজ ভিসায় আপনিও আমার কাছে চলে আসবেন। শুধু অল্প কিছু সময় আমাদের দূরে থাকতে হবে। বুঝেছেন?”
প্রণয় নিরুত্তর। গুনগুন এবার আলতো করে ওর পেলব হাতখানা প্রণয়ের গালের ওপর রেখে বলল,
“মা মা’রা যাওয়ার পর থেকে এই দেশে আমি শান্তভাবে শ্বাস নিতে পারি না। প্রতিটা মুহূর্তে আমার দম আটকে আসতো। তখন থেকেই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, এই দেশে আর আমি থাকব না। মায়ের স্বপ্নকে নিজের স্বপ্নে রূপান্তর করে তখন থেকেই আমি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এরপর একদিন ভোরের শিশিরভেজা কুয়াশা হয়ে আপনি এলেন আমার জীবনে। আমার এলোমেলো জীবনটা আপনার ভালোবাসা দিয়ে গুছিয়ে দিলেন। আস্তে আস্তে রঙিন হতে শুরু করল সব। আমি আবার বাঁচতে শিখলাম। ভালোবাসতে শিখলাম। কিন্তু তবুও এখানে থাকার দৃঢ়তা আনতে পারিনি। এই দেশ আমার আর ভালো লাগে না। বুক ভার হয়ে আসে। কষ্ট হয়। কোথাও কোনো সেইফটি নেই মেয়েদের। স্বস্তি নেই কোথাও। আমি সত্যিই চাই না এখানে থাকতে। তারচেয়েও বড়ো কথা আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। প্লিজ একটু বুঝুন আমায়?”
প্রণয় নিষ্পলক দৃষ্টিতে গুনগুনের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। এরপর ওর হাতটা ধরে বলল,
“ঠিক আছে। তুমি যা ভালো বোঝো। ফ্রেশ হয়ে আসছি আমি।”
গুনগুন ভীষণ খুশি হলো। কিন্তু প্রণয় মোটেও খুশি নয়। সে কেবল গুনগুনকে স্বাভাবিক করতেই আপাতত বিষয়টা নিয়ে আর কথা বাড়ায়নি। কিন্তু প্রতিটা সেকেন্ডের সাথে পাল্লা দিয়ে যেভাবে তার ভেতরের অস্থিরতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, এরপর আর কতক্ষণ সে এই স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে পারবে নিজেও জানে না।
বিকেলে মাসুদের ফোন এলো। প্রণয় গুনগুনকে নিয়ে শুয়ে ছিল। প্রণয়ের বুকে ছোটো হয়ে ঘুমিয়ে আছে গুনগুন। ঘুম হারাম হয়ে গেছে শুধু প্রণয়ের। সে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে নানান রকম চিন্তা-ভাবনা করছে। কিন্তু কোনো কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছে না। মাসুদের কল আসায় দ্রুত রিসিভ করল প্রণয়। পাছে ফোনের রিংটোনে গুনগুনের ঘুম না আবার ভেঙে যায়!
“বল।” কল রিসিভ করে বলল প্রণয়।
ফোনের ওপ্রান্ত থেকে মাসুদ বলল,
“রেস্টুরেন্ট আয় একটু। ডেকোরেশন সব শ্যাষ। আইসা একটু দেইখা যা। কিছু ঠিক করন লাগব নাকি দেখ।”
“আসছি।”
বলে কল কেটে দিল প্রণয়। আস্তে করে গুনগুনের মাথাটা ধরে বালিশের ওপর রেখে সে উঠে গেল। গুনগুনের ঘুমন্ত মুখটার দিকে একবার তাকিয়ে অস্থিরচিত্তে বেরিয়ে এলো বাড়ি থেকে।
রেস্টুরেন্টের ডেকোরেশন দেখে মন কিছু সময়ের জন্য হালকা হলো প্রণয়ের। ডেকোরেশনের থিম রেখেছে সূর্যমুখী ফুলের। আর্টিফিশিয়াল সূর্যমুখী ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। দেয়ালে সূর্যমুখী ফুলের পেইন্টিং। প্লেট, গ্লাসগুলোও কাস্টমাইজড করে বানানো হয়েছে সূর্যমুখীর থিম রেখে। প্রণয় এ সবকিছু করেছে গুনগুনকে খুশি করতে, ওর পছন্দমতো। যদিও গুনগুন এখনো এটা জানে না। সারপ্রাইজ হিসেবে রেখে দিয়েছে প্রণয়।
চারদিক ঘুরে ঘুরে দেখার পর মাসুদ জিজ্ঞেস করল,
“কেমন? সব ঠিক আছে?”
প্রণয় মাথা দোলাল। প্যান্টের দুপকেটে তার হাত ঢোকানে। রেস্টুরেন্টটি তিন তলায়। একপাশে কাচের থাই লাগানো সম্পূর্ণ। এখান থেকে বাইরের ভিউটা খুব সুন্দর দেখা যাচ্ছে। একপাশে আর্টিফিশিয়াল সূর্যমুখী ফুলের লতাপাতা ঝুলছে। প্রণয় সেদিকে ফিরে তাকিয়ে বলল,
“হুম সব ঠিক আছে।”
“আলহামদুলিল্লাহ্। আগামীকাল তাইলে ওপেন করতাছি আমরা?”
“ইন-শা-আল্লাহ্।”
প্রণয়ের মাঝে কোনো উচ্ছাস নেই। অথচ সেদিনও প্রণয় কতটা খুশি ছিল, যখন ওরা সবাই মিলে এই ফ্লোরটা দেখতে এসেছিল। সবকিছু কেনাকাটা করছিল। আর আজ সব কাজ শেষ অথচ প্রণয়ের মুখে হাসি নেই। কেন?
“তোর কি কিছু হইছে?” জিজ্ঞেস করল মাসুদ।
প্রণয় সংবিৎ ফিরে পেয়ে বলল,
“না। কী হবে?”
“মনে হইতাছে মন খারাপ। ঝগড়া করছস গুনগুনের লগে?”
“আরে না! এমন কিছুই না।”
“তাইলে এত কী ভাবতাছস?”
“কিছু না। বাদ দে। দোকান খুলতে হবে আজ। বাসায় চল। আমি সন্ধ্যায় গুনগুনকে নিয়ে একটু মার্কেটে যাব। তুই দোকান সামলাতে পারবি না?”
“পারুম। তুই আইবি না রাতে আর?”
“আসব। কেনাকাটা করে ওকে বাসায় দিয়ে চলে আসব।”
“আইচ্ছা।”
আগামীকাল রেস্টুরেন্ট ওপেন করবে বলে গুনগুনের জন্য একটা শাড়ি কিনবে প্রণয়। তাই সন্ধ্যায় ওকে নিয়ে বের হয়েছে। গুনগুন অবশ্য জানে, ওরা খেতে যাচ্ছে বাইরে। বাইক শপিংমলের সামনে থামার পর গুনগুন নেমে গেল। প্রণয় বাইক পার্কিং করে হেঁটে হেঁটে আসছিল। দূর থেকে গুনগুনকে দেখে বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠছে আবার। কালো জর্জেট শাড়ি পরেছে আজ গুনগুন। কালো ব্লাউজ, হাতে কালো কাচের চুড়ি। দুচোখে কাজল। কী সুন্দর লাগছে গুনগুনকে! এই মেয়েটাকে ছাড়া সে এক মুহূর্তও নিজেকে কল্পনা করতে পারে না। গুনগুন যদি সত্যিই চলে যায় তাহলে সে কীভাবে থাকবে? কোনোভাবে যদি সম্ভব হতো তাহলে সত্যিই সে গুনগুনকে বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখত।
প্রণয় কাছাকাছি চলে আসতেই ওকে দেখে হাসল গুনগুন। চোখদুটোও হাসছে মেয়েটার। গুনগুন বলল,
“খাওয়ার কথা বলে শপিংমলে আসলেন কেন?”
“এখানে তো খাবারও পাওয়া যায়।”
“জানি। কিন্তু শুধু খাওয়ার জন্য হলে তো রেস্টুরেন্টেই যেতেন।”
প্রণয় কথা না বাড়িয়ে বলল,
“চলো।”
দুজনে পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে ভেতরে ঢুকল। গুনগুনের হঠাৎ মনে পড়ল বিকেলে ইসরাত ওকে কল করেছিল। সে উচ্ছাসিত কণ্ঠে বলল,
“জানেন, আজ না ইসরাত আমাকে কল করেছিল।”
“তারপর?”
“তারপর আর কী? আমাদের অনেকক্ষণ কথা হয়েছে। ও বাড্ডায় থাকে। কাল যে আমাদের রেস্টুরেন্ট ওপেন হবে ওকে বলেছি। দাওয়াত দিয়েছি। ইসরাত বলেছে যে, আসবে। মাসুদ ভাইয়াকে কিন্তু এখনই কিছু বলবেন না। কালকে সারপ্রাইজ দেবো। দেখব সারপ্রাইজ পেলে তার রিয়াকশন কেমন হয়?”
কথাগুলো বলতে বলতে গুনগুন খিলখিল করে হাসছে। প্রণয়ের মন ও দৃষ্টি কোনোটাই এখন গুনগুনের দিকে নেই। তার মনোযোগ সামনে একজোড়া অবাক চোখের চাহনিযুক্ত যুবকের দিকে স্থির। ছেলেটা আর কেউ নয়। মাহবুব! মাত্র একবারের জন্য মাহবুবকে দেখলেও প্রণয় সারাজীবন ওর চেহারা মনে রাখবে। তাই আজ দেখামাত্রই সে চিনে ফেলেছে। মাহবুবও গুনগুনকে দেখেছে। শুধু দেখেছে বললে ভুল হবে। মাহবুব অবাক হয়ে, বিস্ময় নিয়ে গুনগুনের দিকে তাকিয়ে আছে। প্রণয় তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে একবার গুনগুনের দিকে তাকাল। গুনগুনের দৃষ্টিও সামনে থাকলেও মনে হচ্ছে, ইচ্ছে করেই সে মাহবুবের অস্তিত্ব অস্বীকার করছে। মাহবুব যে ওর সামনেই, এটা যেন গুনগুন দেখতেই পাচ্ছে না। প্রণয়ও আগ বাড়িয়ে কিছুই বলছে না। কেবল সে দেখতে চাচ্ছে সামনে কী হয়।
মাহবুব ও গুনগুন এখন অনেকটা কাছাকাছি চলে এসেছে। যেই মুহূর্তে মাহবুব গুনগুনকে ডাকতে যাবে, ঠিক তখনই গুনগুন প্রণয়ের হাত ধরল। হাত ধরে মাহবুবকে পাশ কাটিয়ে এমনভাবে ইগনোর করে চলে গেল যেন সে মাহবুবকে চেনেই না। এমনকি একটাবারের জন্যও সে মাহবুবের দিকে তাকায়নি। অন্য র্যান্ডম পাবলিকের মতো মাহবুবও যেন একজন। প্রণয় গুনগুনের ধরে রাখা হাতটার দিকে একবার তাকাল। মাহবুবের ভোঁতা মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠতেই মাথা নত করে হাসল প্রণয়।
চলবে…
Share On:
TAGS: প্রণয়ে গুনগুন, মুন্নি আক্তার প্রিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২৪
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৪
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২৭
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৫
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১০
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৮
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৬
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৩
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২৩
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১২