Golpo romantic golpo প্রণয়ে গুনগুন

প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২৭


প্রণয়ে_গুনগুন

পর্ব_২৭

মুন্নিআক্তারপ্রিয়া


ঢাকায় আসার পর সবাই পুরোদমে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। গুনগুন ব্যস্ত ওর পড়াশোনা নিয়ে। কিছুদিন পরই ওর ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবে। তাই এ কদিন যা গ্যাপ দিয়েছিল, তা এখন পুষিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে প্রণয় ও মাসুদ ওদের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। সিলেটের ঘটনার পর থেকে ব্যবসা আরো রমরমা হয়েছে। ক্রেতা বেড়েছে। সাথে একটু যন্ত্রণাও বেড়েছে। প্রতিদিন এই ব্লগার, সেই ব্লগার আসতেই থাকে। ভিডিয়ো করে, প্রণয়ের সাথে কথা বলে সেগুলো আবার অনলাইনে ছাড়ে। অনেকে সেসব ভিডিয়ো নিয়ে আবার পোস্ট করে, শেয়ার করে। কোনো মেয়ে পোস্ট শেয়ার দিলে গুনগুন রেগেমেগে ফা’য়া’র হয়ে যায় তখন। প্রণয় কখনো কখনো এসব উপভোগ করে তো কখনো আবার একটু বিরক্তও হয়। তবে কিছু খারাপের পেছনে হয়তো কিছু ভালোও থাকে। ব্যবসার উন্নতি দেখে প্রণয় মনে মনে ভাবছে, এবার একটা রেস্টুরেন্ট দিয়ে ফেলবে।


গুনগুন বিকেলে ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরছিল। বাসায় যাওয়ার আগে প্রণয়ের ফুডকার্টে গেল একবার। শিহাব আর শিশির বসে খাচ্ছিল তখন। গুনগুনকে দেখেই শিহাব দৌঁড়ে এসে জড়িয়ে ধরল। জিজ্ঞেস করল,

“কেমন আছো আপু?”

“ভালো আছি। তুই কেমন আছিস?”

“আমিও ভালো আছি।”

“বাসার সবাই কেমন আছে?”

“ভালো আছে।”

খাবারের প্লেট রেখে শিশিরও এগিয়ে এলো। হেসে জিজ্ঞেস করল,

“ভালো আছো আপু?”

গুনগুন শিশিরের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

“হ্যাঁ, সোনা। তুমি কেমন আছো?”

“ভালো। তোমাকে অনেক মিস করি। তুমি আর বাসায় আসো না কেন?”

“যাব একদিন। শেলী আন্টি কেমন আছে?”

“ভালো আছে। আম্মু মাঝে মাঝে তোমার কথা জিজ্ঞেস করে।”

“একদিন আন্টিকে নিয়ে শিহাবের সাথে আমার বাসায় এসো।”

“তুমি চলো আজ আমাদের সাথে।”

“না, সোনা! ভার্সিটি থেকে এসেছি তো এখন আমি ভীষণ ক্লান্ত। অন্য একদিন যাব। তোমরা এখন খাওয়া শেষ করো।”

ওরা দুজনে আবার খেতে বসলে প্রণয় গুনগুনকে জিজ্ঞেস করল,

“ভার্সিটিতে খেয়েছিলে কিছু?”

“হ্যাঁ। দুপুরে রাধিকার সাথে ক্যান্টিনে খেয়েছি। আপনি খেয়েছিলেন?”

প্রণয় দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল,

“হাহ্! না খেয়ে আর কতদিন থাকব বলো? বউ তো এখন ব্যস্ত হয়ে গেছে।”

“এত নাটক করছেন কেন? পড়াশোনা কি করব না?”

“অবশ্যই করবে। আমার বউ যত পড়তে চাইবে আমি পড়াব। তু্মি অনেকদূর এগিয়ে যাও, আমি তো এটাই চাই। শুধু আমাকে ছেড়ে যেও না কখনো।”

“হু! বাসায় গেলাম আমি।”

“কিছু বানিয়ে দেই? বাসায় নিয়ে যাও।”

“না, বাসায় গিয়ে একটু শোবো। ক্লান্ত লাগছে খুব।”

“আচ্ছা তুমি তাহলে যাও। আমি গিয়ে দিয়ে আসবনে।”

“আচ্ছা।”

গুনগুন শিহাব ও শিশিরকে বলল,

“তোরা বাসায় আসিস পরে।”

শিহাব মাথা নাড়িয়ে বলল,

“আচ্ছা।”

বিদায় নিয়ে গুনগুন চলে যাচ্ছিল। তখন মাসুদ ওকে পেছন থেকে ডাকল। ঢাকায় ফিরেছে আজ চারদিন হবে। এরমধ্যে ইসরাতের সাথে ওর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। কেউ কারো ফোন নাম্বার, ফেসবুক আইডি কিছুই নেয়নি। তবে ঢাকায় যেদিন পৌঁছিয়েছিল সেদিন সকালে গুনগুনের ফোন নাম্বার নিয়েছিল। প্রায়ই ইসরাতের কথা ওর মনে পড়ে। কিন্তু গুনগুনকে কিছু বলার সাহস পায় না। আজ সাহস জুগিয়ে জিজ্ঞেস করল,

“ইসরাতের সাথে কি তোমার আর কথা হইছিল?”

গুনগুন ঠোঁট উলটে বলল,

“না। কল তো দেয়নি। কেন?”

“না, এমনি।”

“মিস করছেন?”

“আরে না, না! কী কও!”

গুনগুন ঠোঁট টিপে হাসছে। মাসুদের চোরা দৃষ্টিই বলে দিচ্ছে যে, সে ঠিকই ইসরাতকে মিস করছে। হাসি লুকিয়ে গুনগুন বলল,

“আপনি চাইলে ওর ফোন নাম্বারটা নিতে পারেন। আমার কাছে আছে। ঐদিন নাম্বার নিয়ে ঠিক আছে কিনা চেক করতে কল দিয়েছিল। আমি সেইভ করে রেখেছিলাম।”

“না, আমারে নাম্বার দিতে হইব না। পারলে তুমি একবার কল দিয়া খবর নিও।”

“আচ্ছা।”

“বাসায় যাও তাইলে।”

গুনগুন চলে যাওয়ার পর মাসুদও দোকানে এলো। প্রণয় কাবাব রেডি করছিল। জিজ্ঞেস করল,

“আমার বউয়ের সাথে লুকিয়ে লুকিয়ে কী কথা বললি?”

“পলানোর প্ল্যান করতাছি। সমস্যা তোর?”

“তোর মনে হয় জানের মায়া নাই।”

“তোর কি আমার ওপর কোনো বিশ্বাস নাই?”

“আছে বলেই কিছু বলিনি এখনো। কিন্তু ওর থেকে দূরে দূরে থাকবি। এমন লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বলবি না। আমার হিংসা হয়।”

মাসুদের মেজাজ চিড়বিড় করছে। সে দাঁত কিড়মিড় করে বলল,

“হায় আল্লাহ্! তোরে যে আল্লাহ কোন মাডি দিয়া বানাইছে!”

.
.

সন্ধ্যায় গুনগুন পড়ছিল। প্রণয় তখন দোকান থেকে ওর জন্য নাস্তা নিয়ে আসে। দেখে মনে হচ্ছিল প্রণয় ভীষণ ব্যস্ত। খাবারগুলো টেবিলের ওপর রেখে বলল,

“খেয়ে নিও। আমি দোকানে যাচ্ছি। আজও অনেক কাস্টমার। মাসুদ একা সামলাতে পারবে না।”

গুনগুন প্রণয়ের হাত ধরে বলল,

“আজকাল একটু বেশিই ব্যস্ত থাকছেন না আপনি?”

“হ্যাঁ, একটু! বিজনেসের ভালো সময় যাচ্ছে এখন বলতে পারো।”

“সময় থাকলে একটু বসুন।”

প্রণয় খাটের ওপর বসল। গুনগুন চেয়ারে বসা।

“কী হয়েছে? মন খারাপ?” জিজ্ঞেস করল প্রণয়।

গুনগুন জবাবে বলল,

“আপনি কি ফেসবুকে যান না?”

“সেইভাবে তো সময় হয় না। কেন? কী হয়েছে?”

“কিছু হয়নি।”

“বলো আমাকে।”

“আপনার সাথে হয়তো অনেক খারাপ হয়েছে। আমার জন্য অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। থানায় পর্যন্ত যেতে হয়েছে। ফেসবুকেও ভাইরাল হলেন। যদিও আপনাকে সবাই পজিটিভভাবেই নিয়েছে। এসবের কিছুটা খারাপ দিক হলেও, ভালো দিকটা হলো আপনার বিজনেসের উন্নতি। এই উসিলায় বিজনেস ভালো চলছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌। আমি ভীষণ খুশি। কিন্তু ফেসবুকে কিছু কিছু মেয়ে যে আপনাকে নিয়ে অনেক মাতামাতি করে, ক্রাশ, ক্রাশ বলে। আমার কেন জানি এসব ভালো লাগে না। খারাপ লাগে।”

প্রণয় চুপচাপ শুনল। গুনগুনের হাত ধরে বলল,

“তুমি এসব নিয়ে ভেবো না। ভয় পেও না। প্রণয় শুধু তোমার।”

“আমার হারানোর কিছু নেই। হারানোর ভয়ও নেই। তবে আপনাকে যে আমি ভালোবাসি এ কথা ধ্রুব সত্য। আমার সেই ভালোবাসাকে যদি আপনি কখনো অবহেলা করেন, অপমান করেন সেদিন আর আপনাকে হারানোর ভয় পাব না আমি। আমাকে আপনি চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলবেন।”

ভারী দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো প্রণয়ের বুকচিরে। সে গুনগুনকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

“এমন কিছুই কখনো হবে না। তোমাকে ছাড়া আমি শূন্য। আমার পুরো দুনিয়ায় আপন বলতে শুধু তুমিই আছো। আর কিছু নেই, কেউ নেই।”

গুনগুন প্রণয়ের বুক থেকে মাথা তুলে হাসল। বলল,

“এখন দোকানে যান।”

“তোমাকে খাইয়ে দিয়ে যাই?”

গুনগুন হেসে বলল,

“এখন ব্যস্ত আছেন, এখন দরকার নেই। রাতে একসাথে খাব আমরা।”

“শিওর?”

“ড্যাম শিওর।”

“পরে আবার রাগ করবে না তো?”

“উঁহুম! একদম না।”

“ঠিক আছে। আসছি আমি। নাস্তা করে তারপর পড়তে বসো।”

“আচ্ছা।”

প্রণয় চলে যাওয়ার পর গুনগুনও ভারী দীর্ঘশ্বাস নিল। সবকিছু এখন আগের চেয়ে তুলনামূলক ভালো হচ্ছে। তবুও কেন জানি গুনগুনের মনটা এরকম কু ডাকছে! সামনে কি কোনো খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে কিনা কে জানে!


সন্ধ্যায় ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। অল্পবয়সী থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী অনেকে এসে ভিড় জমায় প্রণয়ের দোকানে। এলাকার মুরুব্বি যারা প্রণয়কে চেনে তারা ওর খুব প্রসংশা করে এখন। সাথে গুনগুনকে ক্রেডিট দিতেও ভোলে না। আজ প্রণয়ের এত পরিবর্তন তা কেবলমাত্র গুনগুনের জন্যই তো সম্ভব হয়েছে। এজন্যই হয়তো মানুষজন বলে থাকে যে, একটা নারী চাইলে যেমন ঘর গড়তে পারে, তেমনই চাইলে ঘর ভাঙতেও পারে। গুনগুন প্রণয়ের জীবনে সেই নারী; যে কিনা বখাটে প্রণয়কে ঘরমুখো করেছে। দায়িত্বশীল করেছে।

আগামীকাল শুক্রবার বিধায় আজ অনেকে এসেছে প্রণয়ের দোকানে। আগামীকাল আরো বেশি ভিড় থাকবে। আজ একজন ফুড ব্লগারও এসেছে। ছেলেটা অল্পবয়সী। গুনগুনের থেকেও অনেক ছোটো। মাত্র ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে। এর আগেও দুবার এসেছিল। ভীষণ হাসি-খুশি একটা ছেলে। নাম তামিম। আজও এসেই জিজ্ঞেস করতেছে,

“কেমন আছেন মেয়েদের ক্রাশ?”

প্রণয় হেসে বলল,

“ভালো আর থাকতে দিচ্ছ কোথায় তোমরা?”

“কী বলেন ভাই? আমরা কী করেছি?”

“এইযে তোমাদের ভিডিয়োর চক্করে আমার ঘরে অশান্তি।”

তামিম হেসে ফেলল। বলল,

“কেন ভাবি কি মা’রে আপনাকে?”

“এসব কথা কিছু বলা যাবে না তোমাদের। পরে এটাও তোমরা ভাইরাল করে দেবে। যাই হোক, ক্যামেরা ধরো। আজ যেচে ইন্টার্ভিউ দেবো।”

তামিম এ কথা শুনে খুশি হয়ে গেল। কারণ প্রণয় ক্যামেরার সামনে আসতে চায় না। কিছু বলেও না। তামিম লুকিয়ে-চুরিয়ে যতটুকু পারত ওর ভিডিয়ো ক্লিপ নিত। এরপর খাবারের ভিডিয়ো করত, রিভিউ দিত। তামিম ক্যামেরা ধরে বলল,

“বলেন ভাই।”

প্রণয় বলা শুরু করল,

“ভাই আপনাদের মন চাইলে আপনারা আসবেন। কথা বলবেন আমার সাথে। আমরা একসাথে আড্ডা দেবো, চা খাব। আমার দোকানের খাবার খাওয়াব। কিন্তু এসব ভাইরালের পাল্লায় আমাকে ফেইলেন না। ভিডিয়ো কইরেন না আর। আমার বউ এসব পছন্দ করে না। আর মেয়েদেরও বলতে চাই যে, আপনারা দয়া করে আমাকে নিয়ে কোনো মাতামাতি কইরেন না। আপনাদের এসব কাহিনি দেখে আমার বউয়ের খারাপ লাগে। ওর মন খারাপ দেখলে আমার কষ্ট হয়। আমি দোয়া করি, আপনাদের জীবনে আমার থেকেও অনেক ভালো ছেলে আসুক, যারা আপনাদের আগলে রাখবে, ভালোবাসবে। কিন্তু প্রণয়ের মতো পাবেন না কাউকে। ইফতেখার প্রণয় রেহমান একজনই, তাও শুধু তার বউ গুনগুনের।”

প্রণয়ের দোকানে বিবাহিত কয়েকটা কাপল ছিল। ওরা প্রণয়ের কথা শুনে ভীষণ অভিভূত হলো। একজন তো তার স্বামীকে তখন বলেই ফেলল,

“দেখো, শোনো ছেলেটার কথা। কিছু শেখো ওর কাছ থেকে।”

বেচারা স্বামী মুখে কিছু বলতে পারল না। কেবল দীর্ঘশ্বাস নিয়ে মনে মনে বলল,

“কে বলছি ভাই আপনারে এমন বউপাগল হইতে? এখন আমাদের সংসারে অশান্তি।”


রাত দশটা নাগাদ রাধিকার কল এলো। বই বন্ধ করে গুনগুন কল রিসিভ করতেই রাধিকা ওপাশ থেকে হড়বড় করে বলা শুরু করল,

“কী করছিস?”

“পড়ছি। তুই?”

“আমি তো তোর জামাইর ভিডিয়ো দেখছি।”

“প্রণয়ের?”

“তাছাড়া আর কে? তোর আরো কয়েকটা জামাই আছে নাকি?”

“ধুর! কী হয়েছে আবার? আগের ভিডিয়ো?”

“না, নতুন। আজকেরই মনে হয়। ত্রিশ মিনিট আগে ছেড়েছে একটা পেইজে। তুই আমাকে আজ একটা সত্যি কথা বলবি?”

“বল।”

“তুই কি ভাইয়াকে কোনো ব্ল্যা’ক ম্যা’জি’ক করেছিস?”

গুনগুন বিস্মিত কণ্ঠে বলল,

“পাগল হয়ে গেছিস নাকি তুই?”

“পাগল তো আমি না, ভাইয়া হয়েছে। তাও তোর জন্য। একটা মানুষ এতটা বউপাগল হয় কীভাবে?”

দুজনের কথার মধ্যেই প্রণয় বাড়িতে এসেছে। গুনগুনকে কলে কথা বলতে দেখে কিছু জিজ্ঞেস করল না। সোজা ফ্রেশ হতে চলে গেল। গুনগুনও ওকে কিছু না বলে রাধিকাকে বলল,

“ভিডিয়োর লিংক আছে? থাকলে দে আমাকে।”

“আচ্ছা ম্যাসেঞ্জারে দিচ্ছি দেখ।”

কল কেটে রাধিকা ওকে লিংক পাঠাল। প্রণয় ফ্রেশ হয়ে এসে তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে জিজ্ঞেস করল,

“এখনো পড়ছ?”

গুনগুন এ কথার কোনো জবাব দিল না।রাধিকার পাঠানো ভিডিয়োটা দেখে বলল,

“আপনি যা বলেন তা-ই দেখি ভাইরাল হয়ে যায়।”

প্রণয় অবাক হলো কিছুটা। হেসে বলল,

“তাই নাকি?”

“কেন? আপনি সোশ্যাল মিডিয়া দেখেন না?”

“এখন তো সময়ই পাই না। বিজনেস অনেক ভালো চলতেছে আলহামদুলিল্লাহ্‌। বাইরে দোকান দেখি, বাসায় বউকে দেখি। বাকি কখন কী দেখব আর?”

“ঠিক আছে এখন দেখেন।”

গুনগুন ভিডিয়োটা দেখাল। প্রণয় দেখে বলল,

“আসলেই আমি যা বলি তা ভাইরাল হয়?”

গুনগুন মুখ গোমড়া করে বলল,

“হু।”

প্রণয় আর কিছু বলল না। তোয়ালেটা রেখে নিজের ফোন নিয়ে ফেসবুকে ঢুকল। অনেক মেনশন, রিকোয়েস্ট, ফলোয়ার বেড়েছে আইডিতে। এরা যে কোথা থেকে ওর আইডি খুঁজে পেয়েছে আল্লাহ মালুম! প্রণয় ওর ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে গেল। ধীরে ধীরে অনেক মানুষ জয়েন হয়েছে। গুনগুন কিছুই বুঝতে পারছে না। শুধু বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে। প্রণয় তখন লাইভে গিয়ে বলল,

“আমার বউ বলেছে, আমি নাকি যা বলি তা-ই ভাইরাল হয়ে যায়। তাই আজ স্বেচ্ছায় লাইভে একটা কথা বলতে এসেছি। আমার বউকে আমি অনেক ভালোবাসি। গুনগুন ছাড়া প্রণয় কিছুই না। আজকে যেই ড্রিমি হাজবেন্ড, বউপাগল ছেলেটাকে আপনারা চেনেন, তাকে চেনার কারণটাও গুনগুন। আমার বউ না থাকলে, আজ আপনারা আমায় চিনতেন না। এত ভালোবাসা দিতেন না। এজন্য সকল ক্রেডিট, আমার বউ গুনগুনের।”

গুনগুন গোল গোল চোখ করে তাকিয়ে আছে। প্রণয় ওর দিকে তাকিয়ে একবার হেসে বলল,

“আমার বউ আমার দিকে যেভাবে তাকিয়ে আছে, আপনাদের সাথে থাকা আর সম্ভব নয়। আমি যাচ্ছি বউয়ের কাছে। আল্লাহ্ হাফেজ।”

লাইভ কেটে প্রণয় গুনগুনের দিকে তাকাল। গুনগুন জিজ্ঞেস করল,

“এটা কী হলো?”

“কিছু হয়েছে কিনা জানিনা। তবে চাই, কিছু হোক। তুমি না বললে আমি যা বলি তা-ই ভাইরাল হয়ে যায়? তাই আমি চাই, আমি যে তোমাকে খুব ভালোবাসি এবং শুধু তোমাকেই ভালোবাসি এটা ভাইরাল হয়ে যাক। সবাই জানুক, সব মেয়েরা জানুক, ইফতেখার প্রণয় রেহমান শুধু তার গুনগুনের।”

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply