প্রণয়ে_গুনগুন
পর্ব_২৫
মুন্নিআক্তারপ্রিয়া
মাসুদ একটু ফেসবুকে ঢুকেছিল। তখনই দেখল আজকের ভিডিয়ো ফেসবুকে অহরহ। যারা ওদের সাথে থানায় গিয়েছিল তাদের মধ্যে একজন ছিল যিনি একজন ব্লগার। ফেসবুকে এবং ইউটিউবে তার চ্যানেল আছে। কথায় কথায় মাসুদকে নিজের আইডি ও চ্যানেলের নাম বলেছিল। কী মনে করে যেন তাকে খুঁজতে ফেসবুকে এসেই ভিডিয়োগুলো দেখতে পেল মাসুদ। গতবারের ভাইরাল ভিডিয়ো থেকেও আজকের ভিডিয়োটা রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গেছে বেশি। অনেকে প্রণয়কে আগে থেকেই চিনত। এবার চেনার সংখ্যা আরো বেড়েছে। সবাই প্রণয়ের পক্ষে। দেশের আইন ব্যবস্থা যে কতটা দুর্বল এটা কারোরই অজানা নয়। আইন যখন নিজের কাজ করতে জানে না, তখন একজন স্বামী হোক কিংবা ভাই, বাবা তাদেরই এগিয়ে আসতে হয়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রণয় আজ যা করেছে একদম ঠিক করেছে এটাই সবার মতামত।
ফেসবুকে অহরহ পোস্ট, শেয়ার। সবাই সবার মতামত শেয়ার করছে। আজকাল প্রায় সব মেয়েরাই এভাবে হ্যা’রা’স’মে’ন্টে’র শিকার হয় রাস্তায়, বাসে, ভিড়ের মধ্যে। সবাই প্রতিবাদ করতে পারে না। আবার সবার তো আর প্রণয় থাকে না যে কিনা প্রতিবাদ করবে। কত, শত মেয়ে এভাবে হ্যা’রা’স’মে’ন্টে’র শিকার হয়ে বাসায় এসে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদে! কাউকে কিছু বলতেও পারে না। কিন্তু সবসময় আসলে মুখ বুজে সহ্য করতে হয় না। মাঝে মাঝে প্রতিবাদও করতে হয়। প্রণয় যা করেছে, ঠিক করেছে। পুলিশের ওকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে নেই কেউ। সবাই প্রণয়ের মুক্তি চেয়ে ফেসবুকে ঝড় তুলেছে এখন।
মাসুদ তড়িঘড়ি করে বিপ্লবকে ভিডিয়োগুলো দেখাল। বিপ্লব কী বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না। আপাতত এখন তার একমাত্র লক্ষ প্রণয়কে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনা।
সকাল নয়টা নাগাদ বিপ্লব, গুনগুন, কুলসুম ও মাসুদ থানায় যাওয়ার জন্য বের হয়েছে। উকিল সরাসরি থানায় চলে যাবে। গতকাল স্থানীয় যারা সাথে ছিল তারাও আজ থানায় আসবে বলে জানিয়েছিল। এখন সত্যিই আসবে কিনা তা কে জানে! গুনগুন মুখ শুকনো করে বসে আছে। কুলসুম ওর হাতের ওপর হাত রেখে বলল,
“চিন্তা কোরো না। সব ঠিক হয়ে যাবে।”
গুনগুন কোনো জবাব দিল না। নিরুত্তর রইল সে।
থানায় গিয়ে স্থানীয় সেই ছেলেগুলোকে বাইরে দেখতে পাওয়া পেল, যারা গতকাল এসেছিল। এখন শুধু তারাই নয় বরং তাদের সাথে আরো অনেক ছেলে-মেয়ে আছে। সাথে আছে মিডিয়ার লোকজন। যেই ব্লগার ছেলেটা ছিল তার নাম সিয়াম। ওদের আসতে দেখে সে এগিয়ে এসে বলল,
“কোনো চিন্তা করবেন না। ওনার জামিন হয়ে যাবে।”
“এত মানুষ কারা?” প্রশ্ন করল বিপ্লব।
জবাবে সিয়াম বলল,
“গতকালের ভিডিয়ো ইন্টারনেটে ছাড়ার পর বেশ সাড়া পেয়েছে। সবাই প্রণয়ের পক্ষে। ওদেরই অনেকেই আজ তাই সাথে এসেছে।”
“মিডিয়ার লোকজন কেন এখানে?”
“আমার পেইজে ভিডিয়ো দেখে ওরাই আমার সাথে যোগাযোগ করেছিল।”
বিপ্লব একবার গুনগুনের দিকে তাকাল। কুলসুমের সাথে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে। এরপর সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বলল,
“দেখুন, এভাবে পারমিশন ব্যতীত কারো ভিডিয়ো করে পেইজে ছাড়া একদম ঠিক না। জানি, আপনি এটা না করলেও বাকিরা ঠিকই পোস্ট করত। কারণ অনেকেই ভিডিয়ো করেছিল। আমি আসলে গুনগুনকে নিয়ে বেশি কনসার্ন। মেয়েটা এমনিতেই অনেকটা ভেঙে পড়েছে। প্রণয়ের জামিন হবে কিনা এখনো শিওর না আমরা। এই অবস্থায় আমি চাচ্ছি না, ও কোনো প্রশ্নের মুখে পড়ুক। এখন মিডিয়ার লোকজন গুনগুনকে দেখলেই হুমড়ি খেয়ে পড়বে। আমি এসব কিছু চাচ্ছি না। দয়া করে এটা একটু খেয়াল রাখবেন। কেউ যাতে ওকে কোনো প্রশ্ন না করে প্লিজ!”
সিয়াম মাথা নাড়িয়ে বলল,
“ঠিক আছে, ভাই। আমি দেখছি বিষয়টা।”
বিপ্লব গুনগুন, কুলসুম এবং মাসুদকে নিয়ে থানার ভেতরে ঢুকল। মিডিয়ার একজন গুনগুনের সাথে কথা বলতে চাইলেও বিপ্লব বলতে দেয়নি। সিয়ামও তাকে নিষেধ করেছে গুনগুনকে কিছু জিজ্ঞেস না করার জন্য।
প্রণয়ের পক্ষের উকিল সব কাগজপত্র রেডি করেই এনেছেন। তাদের সামনে ওসি তানিম শিকদার বসে আছে। কাগজপত্রে হালকা চোখ বুলিয়ে টেবিলের ওপর রেখে বলল,
“কাগজ দেখে আর কী হবে? প্রণয়ের জামিন তো এমনিও হয়ে যেত মনে হচ্ছে।”
বিপ্লব বলল,
“ঠিক বুঝলাম না।”
চেয়ারে গা এলিয়ে বসে তানিম শিকদার হেসে বলল,
“খুবই সহজ ভাষায় তো বললাম। ফেসবুকজুড়ে তো এখন শুধু প্রণয়ের গুনগান। আসার সময় দেখলাম বাইরে অনেক মানুষজন দাঁড়িয়ে আছে, যারা সবাই প্রণয়ের মুক্তি চায়। সাথে দেখলাম মিডিয়ার লোকজনও আছে। এই ঘটনা টিভিতেও হয়তো প্রচার হবে। তাহলে আর ওনার জামিন কে আটকায় বলুন?”
ওদের পক্ষের উকিল তখন বলল,
“তাহলে এবার প্রণয়কে ছেড়ে দিন।”
তানিম শিকদার মাথা নাড়িয়ে বলল,
“হ্যাঁ, তা তো অবশ্যই।”
এরপর একজন কনস্টেবলকে বলল প্রণয়কে নিয়ে আসার জন্য।
প্রণয় আসার পর গুনগুন উঠে ওর কাছে গেল। ওর চোখ ছলছল করছে। প্রণয় তখন গুনগুনের মাথায় হাত রেখে বলল,
“কী হয়েছে? তুমি ভালো আছো?”
তানিম শিকদার একবার ওদের দিকে তাকিয়ে হাসল। তারপর প্রণয়ের উদ্দেশে বলল,
“শুনুন মিস্টার প্রণয়, এভাবে কোথাও আর মা’রা’মা’রি কইরেন না। এবার ভাগ্য আপনার সহায় ছিল। কিন্তু সবসময় ভাগ্য সহায় না-ও থাকতে পারে। বউকে নিয়ে শান্তিতে সংসার করুন।”
প্রণয় জবাবে কিছুই বলল না। বিপ্লব বলল,
“আমরা তাহলে আসছি।”
“ঠিক আছে।”
সবাই চলে যাওয়ার সময় ওসি প্রণয়কে ডেকে বলল,
“আপনি একটু শুনুন তো। আর আপনারা বাইরে গিয়ে দাঁড়ান।”
গুনগুন প্রণয়ের হাত ধরে বলল,
“কেন?”
ওসি হেসে ফেলল। বলল,
“ভয় পাবেন না ম্যাডাম। আমরা ওনাকে আটকে রাখব না। একটু কথা ছিল।”
প্রণয় গুনগুনকে আশ্বস্ত করে বলল,
“তুমি ওদের সাথে যাও। আমি আসছি।”
গুনগুন প্রণয়ের কথা শুনে দোনোমনা করে বাইরে গেল। ওসি প্রণয়কে চেয়ার দেখিয়ে বলল,
“বসুন।”
প্রণয় বসল। ওসি এবার ঝুঁকে টেবিলের ওপর দুহাত রেখে বসল। ফিসফিস করে বলল,
“কী আর বলব দুঃখের কথা বলুন তো? আমার বউও আপনাদের ভিডিয়োটা শেয়ার দিয়ে আপনার মুক্তি চেয়েছে। আমাকে থ্রে’টও করেছে আপনাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। আপনি তো এখন সব মেয়েদের চোখে হিরো।”
প্রণয় হেসে বলল,
“স্যার, আমি সব মেয়েদের চোখে হিরো হতে চাই না। আমি শুধু আমার বউয়ের চোখে হিরো হতে চাই। আমার বউয়ের হিরো হতে চাই।”
ওসি হেসে প্রণয়ের বাহু চাপড়ে বলল,
“বউ পাগলা ছেলে! সুখে থাকুন দোয়া করি।”
প্রত্যুত্তরে প্রণয় মুচকি হেসে চলে এলো। বাইরে আসার পর মিডিয়ার লোকজন প্রণয়কে প্রশ্ন করার জন্য এগিয়ে এলো। বিপ্লব এড়িয়ে যেতে চাইল প্রণয় ইশারায় গুনগুনকে এখান থেকে নিয়ে যেতে বলল। বিপ্লবও আর কথা না বাড়িয়ে গুনগুন ও কুলসুমকে নিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসল তখন। প্রণয়ের পাশে এখন উকিল আর মাসুদ দাঁড়িয়ে আছে। সাংবাদিক তখন প্রশ্ন করল,
“আপনি তো একজনের হাত প্রায় কে’টে ফেলেছেন, শুধুমাত্র আপনার স্ত্রীর গায়ে হাত দিয়েছে বলে। আমি যতটুকু জানি, আপনি ঢাকা থেকে বেরাতে এসেছেন। তো আপনার কি একটুও ভয় করেনি? আপনার সাথে তো অনেক বড়ো কিছুও হতে পারত।”
“আমার ওয়াইফ আমার জান। ওর দিকে কেউ হাত বাড়ালে সেই হাত কেন, তার গলাও কে’টে দিতে পারব আমি। এরজন্য এটা ভাবব না যে, এই এলাকা আমার নাকি না! প্রয়োজনে নিজে ম’র’ব তবুও ঐ বা’স্টা’র্ডকে আগে মা’র’ব। আমার কোনো বোন নেই। আমার মা, আমার স্ত্রীর দিকে যারা কুনজর দিবে তার নজর ও জান দুটোই কেড়ে নেওয়ার মতো সাহস আমার আছে। আমি আল্লাহ্ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাই না। আমার মায়ের ও বউয়ের সম্মানই হলো আমার সম্মান। সেই সম্মান-ই যদি আমি রক্ষা করতে না পারি, প্রতিবাদ করতে না পারি তাহলে আমি কেমন ছেলে? কেমন স্বামী?”
“আপনার সেই ভিডিয়ো তো রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। প্রায় সবাই আপনার পক্ষে। অনেকে আজ আপনার মুক্তির জন্যও এখানে এসেছে। এই বিষয়ে আপনার অভিমত কী?”
“যারা প্রকৃত মানুষ তারা স্বাভাবিকভাবেই অন্যায়কে অন্যায় বলবে এটাই তো স্বাভাবিক। যারা আমাকে সাপোর্ট করেছে, আমার পক্ষ নিয়ে কথা বলেছে তারা প্রত্যেকেই মানুষ। তাদের বোধবুদ্ধি আছে।”
সাংবাদিক আরো প্রশ্ন করতে গেলে প্রণয় তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
“যারা আমার হয়ে কথা বলেছে তাদের ধন্যবাদ। বাকি আর কিছু বলার নেই। আমায় এখন যেতে হবে। আমার বউ অপেক্ষা করছে।”
সাংবাদিক ওর শেষ কথাটা শুনে হেসে ফেলল।
বাড়িতে গিয়ে প্রণয় ও গুনগুনকে আলাদা স্পেস দিয়ে মাসুদ, বিপ্লব ও কুলসুম অন্য রুমে চলে গেল। প্রণয়ের সাথে ওরা পরেও কথা বলতে পারবে। তার আগে ওদের দুজনের কথা বলাটা জরুরী। গুনগুনের মানসিক চাপ কমাতে হবে।
পাশের রুমে গুনগুন ও প্রণয়। গুনগুনের চোখ-মুখ ফুলে আছে। প্রণয়কেও ক্লান্ত দেখাচ্ছে। সারারাত ঘুমায়নি সে। গুনগুন জিজ্ঞেস করল,
“ওরা কি আপনাকে মে’রে’ছে?”
“কারা?”
“পুলিশ।”
“আরে নাহ্!”
“সত্যি বলছেন?”
“হ্যাঁ। কিন্তু তোমার চোখ-মুখ এত শুকিয়ে গিয়েছে কেন? খাওনি?”
গুনগুন রেগেমেগে প্রণয়ের বাহুতে ধাক্কা দিয়ে বলল,
“আপনি কীভাবে এতটা স্বাভাবিক হয়ে কথা বলছেন হ্যাঁ? আপনি কীভাবে ভাবলেন, আপনার এরকম অবস্থায় আমার গলা দিয়ে খাবার নামবে? কী ভাবেন কী আপনি আমাকে?”
গুনগুনের রাগ দেখে প্রণয় হাসছে। হাসতে হাসতে বলল,
“তোমাকে আমি মিসেস ইফতেখার রেহমান ভাবি, আমার বউ ভাবি।”
“একদম নির্লজ্জের মতো হাসবেন না।”
“আচ্ছা হাসব না।”
“আমার সাথে কথাও বলবেন না।”
“আচ্ছা বলব না।”
রাগে-জিদ্দে গুনগুনের মাথা ফেটে যাচ্ছে। প্রণয় কীভাবে বলল, কথা বলবে না? কী করবে না করবে গুনগুন কিছুই বুঝতে পারছে না। সে রাগের বশীভূত হয়ে প্রণয়কে ইচ্ছেমতো কি’ল, ঘু’ষি দিয়ে বলল,
“আমি আপনার সাথে থাকব না। চলে যাব আমি ঢাকায়। আজই।”
গুনগুন রুম থেকে বের হতে চাইলে প্রণয় হাত টেনে ধরল। রাগে গুনগুন জোরে কা’ম’ড় দিল প্রণয়ের হাতে। ব্যথা পেয়ে প্রণয় গুনগুনের হাত ছেড়ে দিল। তবে যেতে দিল না। দরজা লক করে সামনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রণয় বলল,
“ব্যথা পেয়েছি।”
“ব্যথা পাওয়ার জন্যই দিয়েছি।”
“কই ভাবলাম তুমি আমার জন্য উতলা হয়ে থাকবে! এখন তো দেখছি তুমি হিং’স্র হয়ে গিয়েছ।”
“আপনি আমাকে হিং’স্র বানিয়েছেন। আপনি কীভাবে বললেন, আমার সাথে কথা বলবেন না?”
“আমি কোথায় বললাম? তুমিই তো বললে।”
“আমি বললেই আপনার শুনতে হবে?”
“হ্যাঁ। আমি তো তোমার সব কথাই শুনি।”
গুনগুন রাগে ফুঁসছে। প্রণয় বলল,
“আচ্ছা সরি বউ। চলো ঝগড়াঝাঁটি বাদ দিয়ে আমরা মিলেমিশে যাই।”
“কীসের মিলেমিশে যাওয়া? আমি আপনার সঙ্গে থাকব না।”
গুনগুন আবার চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হতেই প্রণয় আবার ওর হাত ধরে আটকাল। গুনগুন এবার কা’ম’ড় দিল, থা’প্প’ড় দিল, কি’ল দিল, ঘু’ষি দিল। কিন্তু প্রণয় আর এবার গুনগুনকে ছাড়েনি। হাঁপিয়ে গিয়ে গুনগুন যখন স্থির হলো, প্রণয় তখন ওর হাত ছেড়ে কোমরে হাত রেখে কাছে টেনে এনে বলল,
“একবার যখন কবুল বলে আমার বউ হয়েছ, তখন আমার মৃ’ত্যুর আগপর্যন্ত আর আমায় ছেড়ে যেতে পারবে না। আমি তোমায় ছেড়ে যেতে দেবো না।”
গুনগুন হঠাৎ করে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করল। প্রণয় ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“কাঁদছ কেন? ব্যথা পাচ্ছ?”
উত্তরের আগেই প্রণয় গুনগুনের কোমর ছেড়ে দিল। গুনগুন তখন কাঁদতে কাঁদতে প্রণয়ের বুকে মা’র’তে লাগল আর বলল,
“আপনি কেন ঐ ছেলের হাতে কো’প দিতে গেলেন? আপনি তো ওকে মে’রেই ফেলতেন। এরপর আপনার যদি কিছু হয়ে যেত? তখন আমার কী হতো? আপনি কেন আমার কথা ভাবেননি একটাবার?”
প্রণয় অবাক হয়ে গুনগুনকে দেখছে। কাঁদতে কাঁদতে গুনগুনের হেঁচকি উঠে গেছে। গুনগুন হঠাৎ-ই প্রণয়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। শক্ত করে জড়িয়ে ধরল প্রণয়কে। বিস্ময়ে হতবাক প্রণয়। গুনগুন নিজেই প্রণয়ের দুহাত ধরে ওর কোমরে রাখল। কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“ভালোবাসি।”
প্রণয় যেন ভুল শুনছে। জিজ্ঞেস করল,
“কী বললে?”
“ভালোবাসি আপনাকে।”
প্রণয়ের কান্না পাচ্ছে খুশিতে। অবশেষে তার বউয়ের মন গলেছে। ভালোবাসার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এক জীবনে আর কী চাই তার? প্রণয়ের চোখ টলমল করলেও দুষ্টুমি করে বলল,
“কাঁদতে কাঁদতে কী বলছ, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।”
গুনগুন এবার জোরে বলল,
“আমি আপনাকে ভালোবাসি। আই লাভ ইউ।”
প্রণয় ঠোঁট টিপে হেসে বলল,
“ওহ আচ্ছা। হেইট ইউ।”
গুনগুন কান্না থামিয়ে মাথা তুলে তাকাল। প্রণয় জিজ্ঞেস করল,
“কী?”
“আপনি কী বললেন?”
“কী বললাম? আমি তো উত্তর দিলাম।
“ইউ হেইট মি?”
“লাভ ইউ এর উত্তর তো হেইট ইউ-ই। তুমিই তো সবসময় আমাকে বলো।”
গুনগুন চোখ গরম করে তাকিয়ে আছে। প্রণয় হেসে বলল,
“আচ্ছা সরি। আই লাভ ইউ। এন্ড বিলিভ ইট অর নট, আই লাভ ইউ মোর দ্যান ইউ লাভ মি।”
গুনগুন আর কিছু ভাবল না। এক হাতে প্রণয়ের শার্টের কাঁধের অংশ খাঁমচে ধরে, অন্য হাত প্রণয়ের গালে রেখে ঠোঁটে চুমু খেল। প্রণয় সত্যি বলতে এটার জন্য প্রস্তুত ছিল না। গুনগুন চুমু খেয়ে সরে যেতে চাইলে প্রণয় তখন আরো শক্ত করে গুনগুনকে জড়িয়ে ধরল। গুনগুনের গলায় এক হাত ও কোমরে অন্য হাত রেখে কাছে টেনে এনে চুমু খেতে লাগল। দুজনের এই শুরুটুকু ওদের জীবনের একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে লাগল। এই অধ্যায়ের নাম কাছে আসার সূচনা, ভালোবাসার সূচনা।
চলবে…
Share On:
TAGS: প্রণয়ে গুনগুন, মুন্নি আক্তার প্রিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৮ (১ম অংশ)
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১১
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৫
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৩
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৬
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১২
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৪
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৮
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৭