প্রণয়ে_গুনগুন
পর্ব_২৩
মুন্নিআক্তারপ্রিয়া
সকালের দিকে ঢাকার বাসটি সিলেট পৌঁছিয়েছে। গুনগুন তখনো আঁটশাট হয়ে ঘুমাচ্ছিল প্রণয়ের বুকে। ওকে সামলাতে গিয়ে প্রণয়ের রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি। সে আলতো করে গুনগুনের গালে হাত রেখে ডাকল,
“গুনগুন? এই? ওঠো।”
তিনবার ডাকার পর গুনগুনের ঘুম হালকা হলো। সে নিভু নিভু দৃষ্টি মেলে তাকাতেই প্রণয় বলল,
“আমরা এসে পড়েছি। ওঠো।”
গুনগুন সোজা হয়ে বসল। হাই তুলল কয়েকবার। রাতে ঘুম ভালো হয়েছে ওর। মনেই হয়নি বাসে ঘুমিয়েছে।
অন্যদিকে মাসুদ মুখ হা করে ঘুমাচ্ছে। কুলসুম কতবার ডাকল, ধাক্কা দিল তাও ঘুম ভাঙার কোনো নামই নেই। প্রণয় উঠে ওর গালে একটা থা’প্প’ড় দিতেই হকচকিয়ে উঠে বলতে লাগল,
“কে, কে, কে!”
“আর কত ঘুমাবি শা’লা? ওঠ এবার।”
মাসুদ মুখটা কালো করে বলল,
“দিনদিন তুই গুনগুনের মতো হইয়া যাইতাছস। মুখের থেকে হাত বেশি চলতাছে।”
গুনগুন তেলে-বেগুনে জ্ব’লে উঠে বলল,
“আমার সাথে ঝগড়া না করলে কি আপনার পেটের ভাত হজম হয় না? সবসময় সব কিছুতে শুধু আমাকে টানেন। ঘুম থেকে উঠেও আমার নাম।”
“তুমিই তো বানাইছ আমার বন্ধুরে এমন।”
কুলসুম পাশ থেকে বলল,
“ঝগড়া বাদ দিয়ে নামবি এখন? বিপ্লব এসে দাঁড়িয়ে আছে।”
“এই হলো আরেক জামাই পাগলি! আইতে না আইতেই জামাইর জন্য পাগল হইয়া গেছে।”
“থা’প্প’ড় খাবি কিন্তু। কথা না বলে ওঠ জলদি।”
প্রণয় আগে বাস থেকে নেমে গুনগুনের হাত ধরে নামাল। বিপ্লব এতক্ষণ অপেক্ষা করছিল ওদের জন্য। এবার এগিয়ে এসে প্রণয়ের সাথে কোলাকুলি করল। গুনগুনকে জিজ্ঞেস করল,
“ভালো আছো?”
গুনগুন মৃদু হেসে জবাব দিল,
“আলহামদুলিল্লাহ্, ভাইয়া। আপনি ভালো আছেন?”
“হ্যাঁ।”
বিপ্লব দুই রুমের একটা ফ্ল্যাট নিয়ে একাই থাকে এখানে। সে যেমন ঘনঘন ঢাকায় যায়, তেমনই আবার প্রায় কুলসুমও এখানে আসে। দুজনের একসাথে থাকার সুবিধার্থেই সে ফ্ল্যাটে একা থাকে।
সবাই আসবে বলে গতকাল রাতেই বুয়াকে দিয়ে রান্না করিয়ে রেখেছিল বিপ্লব। সবাইকে ফ্রেশ হতে পাঠিয়ে দিয়ে বিপ্লব খাবার গরম করছিল। কুলসুম ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে এসে জিজ্ঞেস করল,
“কী করছ?”
“এইতো খাবারগুলো গরম করছি। ফ্রেশ হয়েছ?”
“হ্যাঁ। সরো আমি গরম করছি।”
“আরে সমস্যা নেই। পারব আমি।”
“সরো তো!”
খাবার গরম করে খাওয়ার সময় বিপ্লব গুনগুনের উদ্দেশে বলল,
“আমি কিন্তু কুলসুম আর প্রণয়ের মতো রান্নাবান্না জানিনা। তাই গরম গরম রান্না করে খাওয়াতে পারলাম না। রাতে বুয়া এসে রান্না করে গেছে। কিছু মনে কোরো না আবার।”
গুনগুন কিছু বলার আগেই মাসুদ বলল,
“ভাই, আপনি আমার কথা বললেন না ক্যান? আমিও তো এহন রানতে পারি। প্রণয় কি এহন দোকানে রান্দে? ওয় সারাক্ষণ ঘুরে বউয়ের আঁচল ধইরা।”
বিপ্লব হেসে বলল,
“আচ্ছা আমার ভুল হয়ে গেছে।”
গুনগুন মাসুদকে বলল,
“আশা করছি এখন আপনার পেটের ভাত হজম হবে।”
কুলসুম ওদের ঝগড়া বাড়তে না দিয়ে বিপ্লবকে বলল,
“আমরা ঘুরতে যাব কখন?”
প্রণয় গুনগুনকে খাইয়ে দিচ্ছিল। কথার মাঝে ফোঁড়ন কেটে বলল,
“দুপুরের পর প্লিজ! রাতে ঘুম হয়নি আমার একটুও। আমি এখন ঘুমাব।”
মাসুদ বলল,
“ঘুমাবি কেমনে? বউ নিয়ে তো…”
মাসুদ পুরো কথা বলার আগেই গুনগুন দ্রুত প্লেট থেকে তরকারির একটা আলু নিয়ে মাসুদের মুখে ঢুকিয়ে দিল। এরপর দাঁতে দাঁত পিষে বলল,
“কোনো ফা’ল’তু কথা বলবেন না বলে দিচ্ছি!”
বিপ্লব হেসে বলল,
“ঠিক আছে। তাহলে আমরা দুপুর থাকতেই বের হবো। এখান থেকে রাতারগুল কাছে। আগে কোনো একটা রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করব। তারপর রাতারগুল যাব।”
প্রণয় মাথা নাড়িয়ে বলল,
“আচ্ছা।”
মাসুদের মুখের খাবারটুকু শেষ হওয়ার বলল,
“উমম! মজা। দাও তো আর দুইটা আলু দেও আমারে গুনগুন।”
খাওয়া-দাওয়া শেষ করেই প্রণয় বিছানায় গা এলিয়ে দিয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে ঘুমিয়েও পড়েছে ছেলেটা। গুনগুন প্রথমে চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে ছিল। যদিও সে পুরো রাত ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই এসেছে, কিন্তু হাত-পা ব্যথা করছে। শরীরটা একটু টানটান করা প্রয়োজন। তাই সেও প্রণয়ের পাশে শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ এপাশ-ওপাশ করে ঘুমন্ত প্রণয়কে জড়িয়ে ধরল সে। ঘুমের মধ্যেই প্রণয়ও তখন গুনগুনকে জড়িয়ে ধরল।
ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছে বিপ্লব। ওর কোলে মাথা রেখে কুলসুম সোফায় শুয়ে আছে। দুজনে টিভি দেখছিল। যদিও কুলসুম কিছুটা ক্লান্ত, কিন্তু বিপ্লবের সাথে কথা বলতে, সময় কাটাতে ভালো লাগছিল ওর। মাসুদ ঘুমাচ্ছে পাশের রুমে। ও অবশ্য ড্রয়িংরুমেই ঘুমাতে চেয়েছিল। কিন্তু বিপ্লব ও কুলসুম রাজি হয়নি। শত হোক, মাসুদ ওদের গেস্ট। ওকে তো আর বাইরে ঘুমাতে দেওয়া যায় না।
.
.
রাতারগুল জলের বুকে ভাসা এক সবুজ স্বপ্ন।
বর্ষার শেষে কিংবা ভরা মৌসুমে এই জায়গাটা যেন পৃথিবীর বুকের ওপর ভাসমান এক রহস্যময় সবুজ রাজ্য। চারপাশে শুধু পানি আর পানি। সেই পানির ভেতর দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য হিজল-করচ গাছ। তাদের কাণ্ড ডুবে আছে পানির মধ্যে। মাথা উঁচু করে ছুঁয়ে আছে আকাশ। পানির মধ্যে নৌকা এগোতে থাকে ধীরে ধীরে।
এখন পানি তেমন নেই। ঘাটে এসে দেখা গেল, নৌকা অনেক নিচে বেঁধে রাখা। মাঝখানে সরু পথে পানি। গুনগুন ঠোঁট উলটে বলল,
“এইটুকু পানি?”
প্রত্যুত্তরে বিপ্লব হেসে বলল,
“আরে নাহ্! সামনে বেশি পানি। চলো গেলেই দেখতে পাবে।”
ওরা পাঁচজন তাই একটা নৌকাতেই হয়ে গেছে। পানি কিছুটা সবুজাভ ও ঘোলাটে। গুনগুন আজ একটা মেরুন রঙের থ্রি-পিস পরেছে। সবুজের মাঝে গুনগুনের ড্রেসটা একদম ফুটে উঠেছে। প্রণয় একটু পরপর মুগ্ধ হয়ে তাকাচ্ছে ওর দিকে। নৌকার মাঝি অল্প বয়সী একটা ছেলে। খুব সুন্দর করে পানির মধ্যে বৈঠা চালাচ্ছে। গুনগুন জিজ্ঞেস করল,
“পানিতে কি সাপ আছে?”
ছেলেটা উত্তর দেওয়ার আগেই মাসুদ বলল,
“থাকলেও তো সমস্যা নাই। তুমি হইতাছ সাপেদের রানি। আর ওরা হইল তোমার প্রজা।”
গুনগুনের মেজাজ চিড়বিড় করছে মাসুদের কথা শুনে। প্রণয় এটা বুঝতে পেরে মাসুদের পিঠে কিল দিয়ে বলল,
“তুই ইদানীং বেশি বেশি করতেছিস, মাসুদ।”
“ও বাবারে বাবা! বউয়ের লেইগা দরদ দেহি উতলাইয়া পড়ে একদম।”
কুলসুম বলল,
“আচ্ছা তুই কেন সবসময় মেয়েটার পেছনে লাগিস বল তো?”
“তুই বুঝবি না। ওয় কি আমারে কম জ্বালাইছে? কম মারছে? কিচ্ছু ভুলি নাই আমি। আমার সব মনে আছে।” বলল মাসুদ।
কুলসুম দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল,
“বিপ্লব, তুমি এবার মাসুদের জন্য একটা মেয়ে দেখো তো। নয়তো ও শোধরাবে না কখনো।”
বিপ্লব মাথা নাড়িয়ে বলল,
“ঠিক আছে, বিষয়টা মাথায় রাখব আমি।”
গুনগুন পানিতে হাত ডুবাতেই অবাক হয়ে গেল। এত রোদের মধ্যেও পানি এত ঠান্ডা! গুনগুনের ভীষণ ভালো লাগছে। ওর আনন্দিত মুখটা দেখে প্রণয় বলল,
“দাঁড়াও তোমার ছবি তুলে দেই। তুমি পানিতে হাত রাখো।”
গুনগুন হাত দিয়ে পানি নাড়ছিল। পাশ দিয়ে তখন একটা নৌকা যাচ্ছিল। গুনগুনের উদ্দেশে মাঝিটি বলল,
“পানিত হাত দিও না রে, কুকোডাইল আছিইন গো।”
উনি এত দ্রুত কথাটি বলে নৌকা নিয়ে চলে গেল যে, গুনগুন ঠিকমতো বুঝতেই পারল না সে কী বলেছে। প্রণয় আর বিপ্লব হাসছে। গুনগুন বলল,
“কী বলল উনি? কুকোডাইল কী?”
প্রণয় হাসতে হাসতে বলল,
“ক্রোকোডাইল। কুমিরের কথা বলেছে।”
ভয় পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাত উঠিয়ে নিল গুনগুন। আতঙ্কিত হয়ে ওদের মাঝিকে জিজ্ঞেস করল,
“সত্যিই কুমির আছে?”
ছেলেটি হেসে বলল,
“মজা করছে।”
গুনগুন মাথা নাড়াল। অনেকক্ষণ ধরে দূর থেকে গানের শব্দ ভেসে আসছিল। এবার গানের উৎসটি আরো প্রবলভাবে শোনা যাচ্ছে। ওদের নৌকার পেছনেই আরেকটা নৌকা আসতে দেখা গেল। একঝাঁক তরুণ ছেলে-মেয়ে সেই নৌকায়। গিটার বাজিয়ে সবাই সমস্বরে গাইছে,
“কবে তুমি নাম ধরে ডাকবে,
কবে তুমি হাতে হাত রাখবে?
সেই আশাতে, দিন কাটাতে মন শুধু চায়,
সেই আশাতে, দিন কাটাতে মন শুধু চায়।
এই ভালোবাসা তোমাকেই পেতে চায়,
ঐ দুটি চোখ যেন কিছু বলে যায়।”
নৌকাটি ওদের ছাড়িয়ে আগে চলে গেল। গুনগুন মুগ্ধ হয়ে ওদের দেখছিল। সবাই কত আনন্দ করছে। সে কখনো এভাবে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ট্যুর দেয়নি, ঘুরতে যায়নি। যাবেই বা কীভাবে? তার তো একঝাঁক বন্ধুই ছিল না কখনো। হঠাৎ করেই গুনগুনের মনটা খারাপ হয়ে গেল। রাধিকাকে মিস করছে সে। এখন যদি রাধিকা থাকত, তাহলে ভীষণ মজা হতো।
এখন পানি কম তাই দ্বীপে নামতে পারে সবাই। অনেকেই নেমেছে, ছবি তু্লছে। গুনগুনের ভাবনার মাঝেই মাঝি ছেলেটা জিজ্ঞেস করল,
“আপনারা দ্বীপে নামবেন?”
মাসুদ বলল,
“অবশ্যই ছোটো ভাই। পয়সা উসুল করব না?”
সবাই ধীরে ধীরে নৌকা থেকে নামল। গুনগুন খালি পায়ে নেমেছে। এখানকার মাটিও যেন অদ্ভুত শীতল ও ঠান্ডা। প্রকৃতির এত কাছে আসা গুনগুনের হয়তো এটাই প্রথম। সে যা দেখতে তাতেই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিশাল বিশাল গাছগুলোর পাতার ফাঁকফোকর গলে যে মিঠে রোদ্দুর এসে পড়ছে দ্বীপের মাটিতে, এটাও গুনগুনের ভীষণ ভালো লাগছে। প্রণয় অনেকগুলো ছবি তুলে দিয়েছে গুনগুনকে, ভিডিয়ো করে দিয়েছে। গুনগুন আজ ভীষণ খুশি, ভীষণ।
ফিরে আসার সময় নৌকায় উঠে গুনগুন আনমনে বলল,
“এই জায়গাটা দেখে মনে হলো, গল্পের কোনো বই থেকে তুলে আনা।”
প্রণয় মৃদু হেসে বলল,
“তুমি থাকলে সব জায়গাই গল্প হয়ে যায়।”
নৌকা যখন সরু জলপথ দিয়ে ফিরে যাচ্ছিল, দু’পাশের গাছ তখন যেন মাথা নিচু করে বিদায় জানাচ্ছিল গুনগুনকে। দূরের গাছগুলো থেকে পাখিদের ডাক ভেসে আসছে। গুনগুন আবেশিত কণ্ঠে বলল,
“আজকের দিনটা আমার মনে থাকবে সারাজীবন।”
প্রণয় গুনগুনের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,
“সাথে আমিও থেকে যাব সারাজীবন, তোমার সাথে, তোমার পাশে।”
রাত নয়টা কি সাড়ে নয়টা নাগাদ কুলসুম বায়না ধরেছে, সে ফুচকা খেতে যাবে। মাসুদ চিপস্ খাচ্ছিল আর টিভি দেখছিল। সন্ধ্যায় রাতারগুল থেকে ফিরে এসে একটা ঘুম দিয়েছিল সে। একটু আগেই উঠে সবাই মিলে একসাথে ডিনার করেছে। এখন একটু চিপস্ খাচ্ছিল। কুলসুমের কথা শুনে চোখ দুটো গোল গোল করে বলল,
“ঐ তুই কত খাইতে পারস রে? মাত্রই তো ভাত খাইলি।”
কুলসুম ধমক দিয়ে বলল,
“তুই চুপ থাক।”
এরপর বিপ্লবকে আহ্লাদী হয়ে বলল,
“চলো না!”
বিপ্লব বলল,
“ঠিক আছে, চলো।”
কুলসুম খুশি হয়ে বলল,
“থ্যাঙ্কিউ সো মাচ। এই সবাই তাড়াতাড়ি রেডি হ।”
মাসুদ বলল,
“রেডি হমু মানে? আমি যামু না। একটুও এনার্জি নাই অহন।”
গুনগুনও সায় দিয়ে বলল,
“আমিও যাব না, আপু। ভালো লাগছে না।”
“তা বললে কি হয়? আমি একা খাব নাকি? চলো না যাই। আমরা তো এখানে ঘুরতেই এসেছি।”
প্রণয় উঠে দাঁড়াল। গুনগুনের দিকে হাত বাড়িয়ে বলল,
“চলো। রেডি হতে হবে না। এভাবেই যাব আমরা।”
“উঁহুম! আমি যাব না। আপনারা যান।” বলল গুনগুন।
“তুই রেডি হবি?” কুলসুমকে জিজ্ঞেস করল প্রণয়।
জবাবে বিপ্লব বলল,
“রেডি হতে হবে না। একটু সামনেই দোকান আছে।”
“ঠিক আছে। চলো।” গুনগুনকে বলল প্রণয়।
গুনগুন বলল,
“বললাম তো যাব না।”
প্রণয় আর কথা না বাড়িয়ে গুনগুনকে কোলে তুলে নিল। বাকিদের বলল,
“আয় তোরা।”
কুলসুম মিটমিট করে হাসছে। বিপ্লবকে বলল,
“চলো।”
বিপ্লব উঠে দাঁড়িয়ে মাথার তুলে হাত বুলাল। এরপর সেও কুলসুমকে কোলে তুলে নিয়ে বলল,
“চলো।”
কুলসুমের লজ্জায় ম’রি, ম’রি অবস্থা। পেছন থেকে তখন মাসুদ বলল,
“কী আশ্চর্য ব্যাপার-স্যাপার আমারে এহন কোলে নিব কেডা?”
ফুচকা খেতে বাইরে আসার পর এক দোকানে জানতে পারল মেলা হচ্ছে। ব্যস! এখন কুলসুম মেলাতেই যাবে। বিপ্লব বারবার বুঝিয়ে বলল,
“এখন অনেক রাত হয়েছে। আমরা কাল যাই?”
কুলসুম বলল,
“সাড়ে নয়টা কি কোনো রাত হলো? ঢাকায় তো আমরা এসময়কে সন্ধ্যা বলি।”
“এটা ঢাকা না। গ্রাম।”
“আমি জানি না কিছু।”
কুলসুমের জেদের কাছে পরাস্ত হয়ে শেষমেশ মেলাতেই যেতে হলো সবাইকে। যতটা অনিচ্ছা নিয়ে এসেছিল, আসার পর এখন ততটাই ভালো লাগছে। বেশ জমজমাট আয়োজন এখানে। অনেক রকমের খাবার, জিনিস, খেলনা অনেক কিছু আছে। কেনাকাটা পরে করবে বলে আগে সবাই খেতে গেল। বেশি করে বোম্বাই মরিচের ঝাল দিয়ে ফুচকা অর্ডার দিয়েছে কুলসুম। প্রণয় গুনগুনকে বলল,
“এত ঝাল খেও না তুমি।”
গুনগুন ওকে আশ্বস্ত করে বলল,
“আরে আমি ঝাল খেতে পারি। সমস্যা হবে না।”
মাসুদ দুটো ফুচকা খেতেই চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করেছে। গুনগুনের চোখ টলমল করছিল। লাল হয়ে গেছে। প্রণয় পানি এগিয়ে দিল। মাসুদ ফুচকার প্লেট রেখে বলল,
“আর পারুম না ভাই! ম’ই’রা গেলাম। মাগো!”
প্রণয় উঠে চলে গেল। মেলায় একজনকে ডাব বিক্রি করতে দেখেছিল। সেখানেই যাচ্ছে সে। এটা দেখে মাসুদ খুশিতে গদগদ হয়ে বলল,
“অওওও! কী কিউট! আমারে কত ভালোবাসে আমার বন্ধু।”
খুশিতে মাসুদও পিছু পিছু গেল। প্রণয় ডাব কাটিয়ে হাতে নিয়ে বিল দিচ্ছিল। মাসুদ তখন বলল,
“তুই আসলেই অনেক ভালো বন্ধু। দে খাই।”
প্রণয় ডাবটা সরিয়ে নিয়ে বলল,
“উঁহুম! এটা গুনগুনের জন্য।”
মাসুদ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।
গুনগুন সবগুলো ফুচকা খেয়ে উঠে প্লেটটা বালতি ভরা পানিতে রাখল। মানুষজন অনেক দেখে সে একসাইডে দাঁড়িয়েছে। বিপ্লব গেছে তখন ঠান্ডা পানি আনতে। কুলসুমের অবস্থা নাজেহাল ঝালে।
ফুচকার দোকানে ওরা যখন এসেছিল, তখনই অনেক ভিড় ছিল বলা চলে। ধীরে ধীরে ভিড় বাড়ছে বই কমছে না। এখন আরো অনেকে এসেছে। গুনগুন আরো একটু সরে দাঁড়াল ভিড় এড়াতে। ঠিক তখনই কোনো একটা হাত অসৎ উদ্দেশে গুনগুনের শরীর ছুঁয়ে যেতেই গুনগুনের চোখ-মুখ শক্ত হয়ে গেল। তার শরীর কিছু সময়ের জন্য স্থির হয়ে গেলেও ব্রেইন সচল ছিল। ঐ মুহূর্তেই পেছনে না ঘুরেই গুনগুন ভিড়ের মধ্যে হাতটা ধরে ফেলল। পেছনে ঘুরেই শার্টের কলার ধরে স’জো’রে থাপ্পড় দিল ছেলেটার গালে। দ্বিতীয় থা’প্প’ড় দেওয়ার আগেই গুনগুনের হাত থেকে থাবা মেরে ছেলেটাকে মাঠের মাঝখানে নিয়ে গেল প্রণয়। আগেপাছে কোনো কিছু আর না ভেবে ডাবের ভ্যান থেকে আনা দা দিয়ে ছেলেটির হাতে কো’প দিয়ে বলল,
“ইউ বা’স্টা’র্ড!”
চলবে…
Share On:
TAGS: প্রণয়ে গুনগুন, মুন্নি আক্তার প্রিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২২
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ৮
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১২
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২১
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২৫
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৮ (১ম অংশ)
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৮ (২য় অংশ)
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ২৬
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১১
-
প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৫