Golpo romantic golpo প্রণয়ে গুনগুন

প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৯


প্রণয়ে_গুনগুন

পর্ব_১৯

মুন্নিআক্তারপ্রিয়া


ভাইরাল শব্দটা কিছু ক্ষেত্রে যেমন নেগেটিভিটি নিয়ে আসে, ঠিক তেমনই কিছু ক্ষেত্রে পজিটিভিটিও নিয়ে আসে। এই যেমন, সেদিনের মা’রা’মা’রি’র ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর থেকে গত দুদিন ধরে প্রণয়ের ফুডকোর্টে প্রচুর কাস্টমার আসছে। কীভাবে কীভাবে যেন কিছু মানুষ প্রণয়ের খোঁজ করতে করতে এতদূর অবধি চলে এসেছে। প্রণয়কে কাছ থেকে দেখার জন্য অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে। ওর সাথে সাথে তখন ছোট্ট এই ফুডকোর্টও ভাইরাল হয়ে যায়। প্রতিদিনের কাস্টমারের পরিমাণ এত বেশি বাড়তে থাকে যে, প্রণয়কে এবার বাধ্য হয়ে সাথে একটা দোকানও ভাড়া নিতে হয়। খাবারের আইটেমও সে কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে দোকানে। মানুষজন আসে, খাওয়া-দাওয়া করে, ভিডিয়ো করে, প্রণয়কে দেখে, ওর সাথে কথা বলে এসবই চলছে এখন। তবে প্রণয় কখনো কোনো ইন্টার্ভিউ দেয়নি। এমনকি অনেকেই এসে অনুরোধ করত, গুনগুনকে দেখার জন্য। ওর সাথে কথা বলার জন্য। প্রণয়ের তখন উত্তর থাকে, ‘আমাকে দেখেই মন ভরান, ভাই। বউ আমি কারো সামনে আনব না। তাছাড়া আমার বউ খুব স্ট্রিক্ট। এসব ওর পছন্দ না।’ প্রণয়ের কৌতুকের সুরে বলা ছোটো ছোটো কথাগুলোও মানুষদের পছন্দ হতে থাকে।

দুজনের ছোট্ট সংসারটা এখন আগের থেকে ভালো চলছে। বাসায় একটা ফ্রিজের অভাব ছিল। প্রণয় এবার ফ্রিজ-ও কিনে ফেলেছে।

দুপুরে টিউশন শেষ করে প্রণয় বাসায় গিয়ে দেখে গুনগুন নেই। কল দিয়ে জানতে পারল, গুনগুনের ক্লাস এখনো শেষ হয়নি। একা একা খেতে প্রণয়ের ভালো লাগে না। গুনগুনকে ছাড়া তো সে একদম থাকতেও পারে না।

এখন বাজে দুপুর একটা। দেড়টায় গুনগুনের ক্লাস শেষ হবে। বাড়িতে আসতে আসতে দুটো বাজবে অলমোস্ট। তাই প্রণয় ভাবল, গুনগুনের জন্য সে অপেক্ষা করবে।


গুনগুন ক্লাস শেষ করে রাধিকার সাথে বের হয়েছে। প্রচণ্ড ক্ষুধা লেগেছিল। রাধিকা বলল,

“চল, ক্যান্টিন থেকে কিছু খেয়ে যাই?”

গুনগুন বলল,

“না রে। একদম বাসায় গিয়ে খাব।”

“কেন?”

“আবার কেন? গিয়ে দেখ, তোর ভাইয়া হয়তো না খেয়ে বসে আছে।”

“তাই বলে এতক্ষণ অপেক্ষা করবে নাকি? চল তুই হালকা-পাতলা কিছু খাবি আমার সাথে।”

“উম না! যদি দেখি অপেক্ষা করেনি, তাহলে তো নাই। আমি বাসায় গিয়েই খাব।”

রাধিকা পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে বলল,

“সোজা কথা বল যে, তুই এখন ভাইয়ার হাতে ছাড়া খেতে পারিস না।”

“ছি! এত আদিখ্যেতা আমি করতে পারি না।”

“ওমা এটা আদিখ্যেতা কেন হতে যাবে, পাগলি? এটা তো ভালোবাসা। আমি জানি, তুইও ভাইয়াকে ভালোবাসতে শুরু করেছিস। তাছাড়া ভাইয়া তো মানুষই এমন, যাকে ভালো না বেসে থাকা যায় না।”

গুনগুন রাধিকার বিরোধিতা ঘোষণা করে জোর গলায় বলল,

“কচু! এসব কিছুই না।”

জোর গলায় কথাটা বললেও কোথাও যেন একটু বাঁধল সে। রাধিকা কি আসলেই ভুল কিছু বলেছে?

দুজনে মেইন গেইট দিয়ে বের হয়ে দেখল, প্রণয় বাইকের ওপর বসে আছে। রাধিকা বিস্ময় নিয়ে বলল,

“ভাইয়া দেখি এখানে!”

“কোথায়?”

“ঐযে সামনে! দেখ।”

গুনগুন সামনে তাকাতেই দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেল। মিষ্টি করে হাসল প্রণয়। গুনগুন ও রাধিকা এগিয়ে গেল কাছে। প্রণয় রাধিকাকে দেখে জিজ্ঞেস করল,

“ভালো আছেন আপু?”

রাধিকা দুঃখ পাওয়ার ভান ধরে বলল,

“ভালো আর থাকি কীভাবে ভাইয়া? আমার গুনগুনকে তো এখন পুরোপুরি নিজের করে নিয়েছেন।”

“বুঝলাম না ঠিক।”

“আর কীভাবে বোঝাব? গুনগুন তো এখন আপনাকে ছাড়া কিছুই বোঝে না। এমনকি আপনাকে ছাড়া এখন আমার সাথে খাচ্ছে…”

পুরো কথা বলার আগেই গুনগুন দুহাতে রাধিকার মুখ চেপে ধরে বলল,

“মিথ্যে বলবি না একদম।”

রাধিকা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। প্রণয় ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে। দুই বান্ধবীর ল’ড়া’ই দেখে প্রণয় বলল,

“আরে ছাড়ো, বেচারির দম আটকে যাবে তো।”

গুনগুন ছেড়ে দিল। রাধিকা লম্বা শ্বাস নিয়ে বলল,

“সত্যি কথা বললেই দোষ, না?”

“তুই বাসায় গিয়ে ভাত খা, যা।”

এরপর প্রণয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

“আর আপনি চলুন।”

প্রণয় মাথা নাড়িয়ে বাইক স্টার্ট দিচ্ছিল। রাধিকা তখন চলে যাওয়ার আগে গুনগুনের কানে কানে বলল,

“আর তুই বাসায় গিয়ে জামাইর আদর খা।”

গুনগুন মা’র’তে গেলে রাধিকা হাসতে হাসতে দৌঁড়ে চলে যায়। গুনগুন বাইকে ওঠার পর প্রণয় জিজ্ঞেস করল,

“রাধিকা তখন কী বলতে চাইল?”

“আরে কিছু না। মজা করছিল। বাদ দিন।”

প্রণয় মনে মনে হাসল। গুনগুন যতই সবকিছু আড়াল করার চেষ্টা করুক না কেন, সে নিজেও বুঝতে পারে যে গুনগুন ধীরে ধীরে তার প্রেমে পড়ছে।

“হঠাৎ ভার্সিটির সামনে এলেন যে?” জিজ্ঞেস করল গুনগুন।

“তোমায় নিতে এলাম। বাসায় একা একা ভালো লাগছিল না।”

“এতটুকু অপেক্ষাও সহ্য হচ্ছিল না?”

“তোমাকে ছাড়া আমার এক সেকেন্ড অপেক্ষাও সহ্য হয় না।”

গুনগুন নিশ্চুপ। প্রণয় বলল,

“যতটা সময় তোমাকে রেখে আমি বাইরে থাকি, ততটা সময় আমার মন তোমার কাছেই পড়ে থাকে।”

গুনগুন এবারও কিছু বলল না। মুচকি হাসছে সে। বাইক একটা ফুলের দোকানের সামনে দিয়ে যেতেই গুনগুন ঘাড় ফিরিয়ে পেছনে তাকাল আবার। উচ্ছ্বাসিত হয়ে বলল,

“কী সুন্দর!”

“কী সুন্দর বলছ?”

“ফুল। সূর্যমুখী ফুলের কথা বলছিলাম। একটা দোকানে দেখলাম।”

“তোমার পছন্দ?”

“হু।”

“তুমি নিজেই তো একটা ফুল। নিজে এক ফুল হয়ে আরেক ফুলকে পছন্দ করার কী আছে?”

গুনগুন চোখ-মুখ কুঁচকে বলল,

“ঢপবাজ!”

বাসায় গিয়ে গুনগুন ফ্রেশ হতে হতে প্রণয় তরকারি গরম করে ফেলল। প্লেটে করে খাবার এনে গুনগুনকে খাইয়ে দিয়ে সে নিজেও খেয়ে নিয়েছে। খাওয়ার পর যেন পুরো শরীরটা একদম ছেড়ে দিয়েছে গুনগুনের। ঘুমে দুচোখ বুজে আসছিল। ভাতঘুম দেওয়ার জন্য গুনগুন বালিশে মাথা রাখতেই প্রণয় বলল,

“এই ঘুমাচ্ছ নাকি?”

“হু।”

“দাঁড়াও। একটা জিনিস দেখাই। পরে ঘুমিও।”

গুনগুন উঠে বসল। জিজ্ঞেস করল,

“কী জিনিস?”

প্রণয় আলমারির কাবার্ড থেকে দুটো প্যাকেট বের করল। একটা প্যাকেট গুনগুনকে দিয়ে বলল,

“এটা তোমার।”

“কী এটা?”

“বের করে দেখো।”

গুনগুন প্যাকেট বের করে দেখে সাদা রঙের একটা শাড়ি। শাড়িতে রয়াল ব্লু কালার ফুল এমব্রয়ডারি করা। সাথে কাস্টমাইজড করা খুব সুন্দর একটা ব্লাউজ। গুনগুন খুশি হয়ে বলল,

“কবে কিনলেন?”

“আজই। তোমার পছন্দ হয়েছে?”

“ভীষণ!”

“এখন এগুলো দেখো তো কেমন হয়েছে।”

গুনগুন প্রণয়ের হাত থেকে প্যাকেট নিয়ে দেখল ভিন্ন ডিজাইনের সাদা রঙের তিনটা শার্ট। গুনগুন জিজ্ঞেস করল,

“এতগুলো সাদা শার্ট কেন এনেছেন?”

“কারণ তুমি বলেছিলে, তোমার চোখে সাদা শার্টে আমাকে হ্যান্ডসাম লাগে। আর আমি চাই, সবসময় তোমার চোখে সুন্দর থাকতে।”

তারপর একটু থেমে বিড়বিড় করে বলল,

“এতে যদি, তোমার মনে আমার জন্য একটু দয়া-মায়া হয়!”

গুনগুন প্রত্যুত্তরে শুধু হাসল। শাড়িটা এক সাইড করে রেখে চুপচাপ শুয়ে পড়ল সে। তার পিরিয়ড ভালো হয়েছে বেশ কয়েকদিন। তবুও প্রণয় কখনো ই’ন্টি’মে’ট হওয়ার জন্য জোর করেনি। হঠাৎ জড়িয়ে ধরা, হুটহাট চুমু খাওয়া পর্যন্তই প্রণয়ের যতটুকু জোরজবরদস্তি। কখনো সেভাবে গুনগুন ওকে সায় দেয়নি, আবার প্রণয়ও ওকে জোর করেনি।


আজ রাতে গুনগুন সবাইকে ওর বাসায় রাতে ডিনারের দাওয়াত দিয়েছে। বিপ্লবও এসেছে ছুটিতে। কুলসুম, বিপ্লব আর মাসুদ এসেছে রাতে। ওরা আসার আগেই প্রণয় ও গুনগুন মিলে রাতের রান্না করে ফেলেছে। এখনো চেয়ার-টেবিল কেনা হয়নি বলে সবাই ফ্লোরে পাটি বিছিয়ে গোল হয়ে বসেছে। বিপ্লব বলল,

“কতদিন যে ফ্লোরে বসে খাই না! গ্রামে গেলে আমি কখনো ফ্লোরে বসে খাওয়া মিস করি না জানো? আজ অনেকদিন পর আবার ফ্লোরে খেতে বসলাম। একসাথে সবাই মিলে খাওয়ার কিন্তু আলাদা মজা আছে।”

মাসুদ চোখ-মুখ শক্ত করে বলল,

“রান্না কে করেছে রে?”

প্রণয় বলল,

“দুজনে মিলেই করেছি। কেন?”

“না, গুনগুন একা রান্না করলে হসপিটালে সিট বুকিং করে রাখতাম।”

গুনগুন চোখ পাঁকিয়ে তাকাতেই মাসুদ বলল,

“একদম আমার দিকে ঐভাবে তাকাবে না।”

গুনগুন জেদি কণ্ঠে বলল,

“একশো বার তাকাব। কী করবেন?”

“কী আর করব? ভয় পাব।” মিনমিন কণ্ঠে বলল মাসুদ।

কুলসুম হাসতে হাসতে বলল,

“এখনো তোদের দুজনের মধ্যে ভাব হলো না, মাসুদ?”

“কীসের ভাব হবে? ও তো আমার শ’ত্রু। তবুও শ’ত্রুর বাসায় খেতে এসেছি শুধুমাত্র আমার দোস্তের জন্য।”

বিপ্লব বলল,

“গুনগুন কী করেছে তোমার সাথে?”

“এটা আপনি কী বললেন ভাই? ও তো আমার থেকে আমার বন্ধুরে কাইড়া নিছে।”

“শোনো, যখন তুমি বিয়ে করবে তখন তুমিও এরকম বউয়ের আঁচলের নিচে ঘুরবে।”

“ইশ না, ভাই। জীবনেও না।”

গুনগুন তখন হেসে বলল,

“ওনাকে বিয়ে করবে কোন মেয়ে?”

মাসুদ চিড়বিড় করে বলল,

“দেখছেন ভাই কেমনে অভিশাপ দেয়? একই তো এলাকায় আসার পর থেকে আমারে মা’ই’রের ওপরে রাখছে, আমার বন্ধুরে কাইড়া নিছে, এখন আবার অভিশাপও দিতাছে। আমিও তোমারে অভিশাপ দিলাম, তোমার জমজ বাচ্চা হইব। সারাদিন খালি হাউকাউ করব আর তোমারে জ্বালাইব। তুমি রাইতে শান্তিতে ঘুমাইতে পারবা না।”

“তাই? ভালো তো। জমজ বাচ্চা অবশ্য আমার পছন্দ। তবে আমি কিন্তু রাতে শান্তিতেই ঘুমাব। দুটো বাচ্চা আপনারা দুই বন্ধু মিলে রাখবেন। আমার আর টেনশন কী?”

মাসুদ দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল,

“ক্রি’টি’ক্যা’ল মেয়ে মানুষ!”

ঝগড়াঝাঁটি শেষ হলে বিপ্লব বলল,

“প্রণয়, এই মাসে শেষেরদিকে কুলসুম সিলেটে আসবে আমার কাছে। তুমিও ওর সাথে গুনগুনকে নিয়ে চলে আসো। এমনিও তো তোমরা হানিমুনে কোথাও যাওনি।”

প্রণয় মনে মনে বলল,

“আর হানিমুন! কপালে যেই বউ জুটেছে, তাতে হানি একদিকে দৌঁড় দেয়, আর মুন অন্যদিকে।”

কিন্তু মুখে বলল,

“দেখি ভাই। এখন তো একটু কাজের চাপ বেশি। মাসুদ একা সামলাতে পারবে না। সম্ভব হলে ওকেও সাথে করে নিয়ে যাব। দোকান বন্ধ রাখব কয়েকদিন।”

মাসুদ ঘোর আপত্তি জানিয়ে বলল,

“এই না, না! আমি ক্যান যামু? আমারে ক্যামেরাম্যান বানাবি? পারুম না কাবাব মে হাড্ডি হইতে।”

কুলসুম বলল,

“আরে চিন্তা করিস না। তুই আমাদের সাথে ঘুরবি “

“আচ্ছা তাইলে ভাইবা দেখুম।”

খাওয়া-দাওয়ার পরও অনেক রাত পর্যন্ত সবাই মিলে গল্পগুজব করেছে আজ। হাসি-ঠাট্টা গল্পগুজবের মধ্যে খুব সুন্দর একটা সময় কাটিয়েছে সবাই।

মাসুদ, বিপ্লব, কুলসুম চলে যাওয়ার পর প্রণয় ছাদে গেল সিগারেট খাওয়ার জন্য। বিয়ের পর এখনো পর্যন্ত গুনগুনের সামনে সে সিগারেট খায়নি। ধীরে ধীরে সে সিগারেটের অভ্যাসও ছাড়ার চেষ্টা করছে। এমন না যে, গুনগুন ওকে নিষেধ করেছে খেতে। প্রণয় নিজে থেকেই ছাড়ার চেষ্টা করছে কারণ গুনগুনের অপছন্দ সিগারেট।

সিগারেট খেয়ে বাসায় এসে দেখে গুনগুন ঘুমিয়ে পড়েছে। ওয়াশরুমে গিয়ে দাঁত ব্রাশ করে, ভালোমতো হাত-মুখ ধুয়ে এসে সেও গুনগুনের পাশে শুয়ে পড়ে। গুনগুনের ঘুমন্ত মুখটার দিকে কয়েক পলক তাকিয়ে থেকে আলতো করে কপালে চুমু খেল প্রণয়। এরপর গুনগুনকে টেনে কাছে এনে জড়িয়ে ধরে সে নিজেও ঘুমের দেশে পাড়ি জমাল।


সকালে যখন গুনগুনের ঘুম ভাঙে, তখন দেখতে পায় বিছানা ফাঁকা। প্রণয় নেই। রুমও অন্ধকার। গুনগুন পিটপিট করে চোখ মেলে উঠে বসল। প্রণয় এলো তখন রুমে। পর্দা সরিয়ে, জানালা খুলে দিতেই অন্ধকার রুমটা পুরোপুরি আলোকিত হয়ে গিয়েছে। গুনগুন হা করে তাকিয়ে আছে। পুরো রুমজুড়ে সূর্যমুখীর ছড়াছড়ি। এমনকি দেয়ালেও স্কচটেপ দিয়ে লাগানো আছে। যেদিকে চোখ যাচ্ছে সেদিকেই শুধু সূর্যমুখী ফুল।

“একি অবস্থা!” বিস্ময়ে হতবাক গুনগুন।

প্রণয় বলল,

“তুমি না বলেছিলে সূর্যমুখী তোমার পছন্দ? তাই সকাল সকাল গিয়ে নিয়ে এসেছি।”

“তাই বলে এত?”

“এত আর কোথায়? মাত্র তো রুমটা সাজিয়েছি। তোমার জন্য পুরো ফ্ল্যাট যদি সূর্যমুখী ফুল দিয়ে সাজাতে পারতাম তাহলে শান্তি পেতাম।”

“আপনি একটা পাগল।”

“হ্যাঁ, সবাই বলে।”

“কী বলে সবাই?”

“এইযে আমি একটা বউপাগল।”

গুনগুন হাসছে। সত্যি বলতে সে ভীষণ খুশি হয়েছে। প্রণয়ের এসব ছোটো ছোটো এফোর্ট গুনগুনকে মুগ্ধ করে। ভাবায়। প্রণয় কেন ওকে এতটা ভালোবাসে?

প্রণয় গুনগুনকে তাড়া দিয়ে বলল,

“যাও ফ্রেশ হয়ে আসো।”

“যাচ্ছি।”

“একটা কথা?”

“কী?”

“আজ দুপুরে বাইরে লাঞ্চ করব আমরা।”

“কেন?”

“এমনিই। ইচ্ছে হলো।”

গুনগুন চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে বলল,

“সব আমার মন গলানোর ধান্দা বুঝি তো।”

প্রণয় বুকের ওপর হাত রেখে বলল,

“ঐভাবে তাকিও না তো! আমি প্রেমে পড়ে যাই। মন তখন গেয়ে ওঠে, ‘কী নামে ডেকে বলব তোমাকে/ মন্দ করেছে আমাকে ঐ দুটি চোখে…’ বুঝলে লক্ষ্মী বউ?”

গুনগুন কোনো জবাব দিল না। সে ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানায় বসতেই প্রণয়ের ফোনের মেসেজ টোনটা বেজে উঠল। সে কখনো প্রণয়ের ফোন চেক করেনি। প্রয়োজনও মনে করেনি। প্রণয় রান্নাঘরে গেছে নাস্তা আনতে। ওখান থেকেই গলার স্বর বাড়িয়ে বলল,

“গুনগুন, দেখো তো কয়টা বাজে?”

গুনগুন ফোনে সময় দেখতে গিয়ে দেখল, হোয়াটসএপে ‘হিয়া’ নামে সেইভ করা একটা নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে,

“আজ আসবেন তো? আমি কিন্তু আপনার অপেক্ষায় থাকব।”

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply