Golpo romantic golpo প্রণয়ে গুনগুন

প্রণয়ে গুনগুন পর্ব ১৮ (১ম অংশ)


প্রণয়ে_গুনগুন

পর্ব_১৮

মুন্নিআক্তারপ্রিয়া


(১ম অংশ)

প্রণয় যেভাবে ছেলেটার চোখে-মুখে মা’র’ছে তাতে সত্যি সত্যিই ওর মুখের বারোটা বেজে যাবে। ভ্যানচালক এগিয়ে গিয়ে প্রণয়কে থামানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছে না। প্রণয় মনের সমস্ত রাগ মিটিয়ে মে’রে’ই যাচ্ছে।

উপায়ন্তরহীন হয়ে গুনগুন নিজেই এগিয়ে গেল। প্রণয়কে ধরে বলল,

“ছেড়ে দিন প্লিজ!”

প্রণয় এক পলক গুনগুনের দিকে তাকিয়ে ছেলেটাকে ছুঁড়ে রাস্তায় ফেলে দিল। এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে পকেট থেকে মানিব্যাগ করল। ভ্যানওয়ালাকে একশো টাকা দিয়ে একহাতে সবগুলো বাজার নিল। অন্য হাতে গুনগুনের হাত ধরল। গুনগুন নিচু কণ্ঠে বলল,

“কিছু ব্যাগ আমার হাতে দিন।”

প্রণয়ের চোখে-মুখে তখনো স্পষ্ট রাগ। জেদ কমেনি। কিন্তু গুনগুনের সাথে সে উচ্চবাচ্য করল না। শীতল কণ্ঠে বলল,

“সমস্যা নেই। আমি পারব।।”

কিছুটা পথ এগিয়ে গিয়ে প্রণয় রিকশা নিল। বসার পর গুনগুনকে জিজ্ঞেস করল,

“তুমি ঠিক আছো?”

গুনগুন নিস্তেজ কণ্ঠে বলল,

“হু।”

বাসায় পৌঁছে কিছু বাজার রেখে বাকিগুলো নিয়ে প্রণয় নিচে চলে গেল। গুনগুনকে কিছু বলার সুযোগও দিল না। প্রণয় ওর ওপর রেগে আছে কিনা কে জানে!

গুনগুন ফ্রেশ হয়ে বিছানায় বসতেই বাসার কলিংবেলটা বেজে উঠল। দরজা খুলে দেখল কুলসুম এসেছে। চোখে-মুখে আ’ত’ঙ্ক। ভেতরে এসে জিজ্ঞেস করল,

“বাজারে আজ কী হয়েছিল?”

গুনগুন দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল,

“কী থেকে যে কী হলো!”

“প্রণয় তো দেখছি খুব রেগে আছে। মাসুদের কাছে আমি শুনলাম কিছু কিছু। তুমি বলো তো পুরো ঘটনা। কী হয়েছিল?”

শুরু থেকে সবটা বলল গুনগুন। কুলসুম বিস্ময় নিয়ে বলল,

“এত মে’রে’ছে?”

“হুম।”

“সর্বনাশ হয়েছে! এমনিতেই তো এত রাগ। তার ওপর আবার তোমাকে নিয়ে ঝামেলা হয়েছে।”

“আমার হয়তো ওর সাথে যাওয়া ঠিক হয়নি।”

“আরে না! এখানে তোমার কোনো দোষ নেই। বিয়ের পর আমি আর বিপ্লব কত গিয়েছি একসাথে বাজারে! এখনো তো যাই। সমস্যা হলো রাস্তার কুকুরগুলোর। মেয়ে দেখলে আর হুশ থাকে না। যাই হোক, বাদ দাও এসব। যা হওয়ার হয়েছে। তুমি তো ঠিক আছো?”

“হুম।”

“চিন্তা কোরো না কিছু। একটু রেস্ট নাও। আমি আছি তোমার সাথে।”

“আপনাকে প্রণয় আসতে বলেছে তাই না?”

কু্লসুম হেসে বলল,

“তাছাড়া আর কে বলবে? তুমি যদি প্যানিকড হও, তাই আমাকে পাঠিয়েছে। ও যা রেগে আছে এখন! তাই আসছে না। রাগ কমলে পরে আসবে।”

“আমার ওপর রেগে আছে?”

“না। তোমার তো দোষ নেই। ঐ বে’য়া’দ’বগুলোর ওপর রেগে আছে নিশ্চয়ই।”

গুনগুন একদম ঘুমুতে চায়নি। কিন্তু বালিশে মাথা রাখতেই কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে। টেরও পায়নি। সন্ধ্যায় প্রণয় নাস্তা নিয়ে এসে দেখে গুনগুন তখনো ঘুমিয়ে আছে। কুলসুমকে জিজ্ঞেস করল,

“কখন ঘুমিয়েছে?”

“বিকেলেই। আমি আসার পরপরই।”

“খুব বেশি প্যানিকড করছিল?”

“না। তবে কিছুটা মন খারাপ করেছে হয়তো।”

“কেন?”

“তুই বাজার থেকে এসে তখন ওর সাথে আর কথা বলিসনি তাই। নিজেকে দোষারোপ করছে। ভাবছে, ও তোর সাথে গিয়েছে বলেই এমন হয়েছে। আমি অবশ্য ওকে সবটা বুঝিয়ে বলেছি। বাকিটা তুই সামলে নিস। আমি তাহলে এখন উঠি।”

“কোথায় যাচ্ছিস? বোস। নাস্তা করে যা।”

“না রে। আমার ঘরেই নাস্তা বানানো আছে। ওগুলো পরে কে খাবে? তুই গুনগুনকে নিয়ে খেয়ে নে।”

কুলসুম চলে যাওয়ার পর প্রণয় খাবারগুলো টেবিলের ওপর রেখে গুনগুনের পাশে বসল। ওর ঘুমন্ত মুখটা দেখে হাসল কিছুক্ষণ। মেয়েটা যখন রেগে যায় তখন একদম বাঘিনী হয়ে যায়। আর এখন কীরকম বিড়ালছানার মতো গুটিসুটি মেরে ঘুমাচ্ছে! প্রণয় আলতো করে গুনগুনের চুলে হাত বুলিয়ে আস্তে আস্তে ডাকল,

“গুনগুন?”

গুনগুনের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। প্রণয় আবার ডাকল,

“গুনগুন? বউ? গুনগুন? এই বউ?”

গলার স্বর কিছুটা বাড়িয়ে ডাকার জন্য গুনগুনের ঘুমটা ভেঙে গেছে। সে চোখ পিটপিট করে তাকাল প্রণয়ের দিকে। প্রণয় হাসিমুখে ওর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

“ঘুম হয়নি এখনো?”

গুনগুন কোনো কথা বলছে না। প্রণয় নিজেই বলল,

“ওঠো। ফ্রেশ হয়ে আসো। নাস্তা করব।”

গুনগুন চোখ বন্ধ করে বলল,

“খাব না এখন। ক্ষুধা নেই।”

“তোমার জন্য আমি না খেয়ে আছি। আর তুমি খাবে না?”

“আমি তো আর খাবারের ওপর বসে নেই। আপনার খাবার আপনি খেয়ে নিন।”

প্রণয় শব্দ করে হাসছে। হাসতে হাসতেই গুনগুনের দুই বাহুতে ধরে জোর করে উঠিয়ে বসাল। জিজ্ঞেস করল,

“এত রাগ কেন?”

“রাগ নেই।”

“তাহলে কি অভিমান?”

“কিছুই না।”

“একবেলা একটু কথা বলিনি বলে এত রাগ-অভিমান করে বসে আছো। আবার মুখে ঠিকই বলো যে, ভালোবাসো না।”

“বাসিই তো না।”

“আচ্ছা সমস্যা নেই। আমি তো ভালোবাসি তোমাকে। লাভ ইউ।”

“হেইট ইউ।”

“মাই প্লেজার! এখন যাও প্লিজ ফ্রেশ হয়ে আসো। আমাকে আবার দোকানে যেতে হবে। মাসুদ একা আছে।”

“তো যান মাসুদের কাছে। মাসুদকে কোলে নিয়ে বসে থাকেন। আমার কাছে এসেছেন কেন?”

“ছি! আমি কি গে নাকি? আমার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। তুমি নিজে এটা প্রমাণ করতে দিচ্ছ না, আবার উলটা-পালটা অপবাদ দিচ্ছ!”

গুনগুন উঠে যাচ্ছিল, প্রণয় জিজ্ঞেস করল,

“কোথায় যাও?”

“আপনার এসব আজগুবি কথা শোনার চেয়ে উঠে ফ্রেশ হওয়া ভালো।”

“তাহলে এরকম আজগুবি কথা আমার প্রতিনিয়ত বলা উচিত। কী বলো?”

গুনগুন মুখ ভেংচি দিয়ে চলে যাচ্ছে। প্রণয় বিড়বিড় করে গানের কলি গাইছে,

“না রে না
আর তো পারে না,
মন আমার নাস্তানাবুদ;
একজনেরই দায়!”

গুনগুন ফ্রেশ হয়ে আসার পর ওকে দেখে গলার স্বর আরো বাড়িয়ে দিয়ে গাইছে,

“আরে আমি তো ফ্রি-তেই নাজেহাল
এক ললনা করেছে ইন্দ্রজাল,
কে সামলায় আমায় এই অবস্থায়!”

গুনগুন তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বলল,

“বেসুরো কণ্ঠ নিয়ে আবার এত জোরে জোরে গান গাচ্ছেন?”

প্রণয় হেসে বলল,

“বউয়ের সামনে আমি সব পারি।”

নিজের দোকান থেকে চাউমিন আর চা নিয়ে এসেছে প্রণয়। গুনগুন ফ্রেশ হয়ে আসতে আসতে চা হালকা গরমও করে নিয়ে এসেছে রান্নাঘর থেকে। গুনগুন বলল,

“চা আমি খাই না জানেন না?”

“জানি। আগে তো একা থাকতে, ঘুম না আসলে সমস্যা ছিল। বিরক্ত লাগত। এখন তো ঘুম পাড়ানোর জন্য আমি আছিই। চা খাও। হালকা লাগবে একটু।”

গুনগুন কথা না বাড়িয়ে চা পান করে কাপটা টেবিলের ওপর রাখল। প্রণয় কাঁটাচামচে খুব সুন্দর করে চাউমিন প্যাঁচিয়ে গুনগুনের মুখে তুলে দিল। পরেরবার আবার একইভাবে চামচে চাউমিন প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে প্রণয় বলল,

“আচ্ছা তুমি ওদের মা’র’তে গেলে কেন বলো তো? ওরা যদি তোমার গায়ে হাত তুলত? সবাই তো আর প্রণয় না যে ছেড়ে দেবে।”

গুনগুন মুখের খাবারটুকু শেষ করে বলল,

“আমার তো সাহস ছিল।”

প্রণয় মৃদু রাগ দেখিয়ে বলল,

“কীসের সাহস?”

গুনগুন হেসে বলল,

“এইযে আমার একটা ব’খা’টে স্বামী আছে। এটাই আমার সাহস।”

চলবে…

[বিঃদ্রঃ ১৮ নং পর্বের ২য় পর্ব আগামীকাল দেবো ইন-শা-আল্লাহ্।]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply