Golpo romantic golpo প্রণয়ের রূপকথা

প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৭


প্রণয়ের_রূপকথা (৭)

কুহুর মনে জেদ জেগেছে। এই দীপ্র নামক মানুষটিকে দু চোখে দেখতে পারছে না ও। মানুষটাকে বাড়ি থেকে বের করতে পারলে শান্তি হতো। কিন্তু সেটা তো ওর হাতে নেই। আচ্ছা, বাবা বেঁচে থাকলে এই মানুষ গুলোর সাথে একই বাসায় থাকতেন কি? কুহুর মনে হয় থাকতেন না। চাচারা যে অন্যায় করেছেন এরপর এই মানুষ গুলোর সাথে থাকা যায় না। কুহু ছোট করে নিশ্বাস ফেলে। সে সেজেছে অল্প। না সাজার মতন করেই। অন্যদিকে কণা সেজে চলেছে। একটার পর একটা জিনিসপত্র মেখে চলেছে। গায়ে ওড়না টেনে নিয়ে কুহু বলে,”হলো তোর?”

“আর একটু আপু।”

বলে চোখে কাজল টেনে নেয় কণা। বলা বাহুল্য কুহুর ত্বকের রং আর কণার ত্বকের রং কাছাকাছি। দুজনেই ফর্সা। তবে কণার থেকে কুহুর চেহারায় মায়া বেশি। মেয়েটাকে তাই তো বোকা বোকা লাগে। অথচ কুহু কিন্তু বোকা নয়। ও আসলে ভালো মানুষ। এই ভালো মানুষির সুযোগই নিয়েছে চারপাশের মানুষ গুলো। কুহু চেয়ে চেয়ে কণার সাজগোজ দেখে। কণা নিজের ওড়না খানা পরে নিয়ে ঘুরে তাকায়। ভারী অবাক হয়ে বলে,”একি রে!”

“কী?”

“আপু, তুই তো সাজলিই না।”

“এত সেজে কী হবে? যাচ্ছি তো গ্রাম ঘুরতেই।”

“ইস। তুই বুঝতে পারছিস না। দীপ্র ভাইকে ইমপ্রেস করতে হবে তো।”

“তোর কেন মনে হলো আমি ওনাকে ইমপ্রেস করতে চাই?”

এ কথায় মিইয়ে গেল কণা। কুহু ছোট করে নিশ্বাস ফেলে বলল,”তোদের মনে হয় না, একটা মানুষ আমাকে এতটা অপমান করার পরও বাড়ির লোক গুলো তাকে মাথায় তুলে নেচে যাচ্ছেন? মাও এই বিষয়ে নির্বিকার।”

কুহুর গলাটা ধরে আসে। মায়ের অবশ্য দোষ নেই। নারীটি শোকে যে কাতর। তিনি তো ভালোই চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন সবটা সুন্দর করতে। কিন্তু বাস্তবতা যে ভিন্ন।

আয়ানাকে দেখে মনে হলো সে বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছে। নতুন জামা। ভারী মেকাপ। চোখে সানগ্লাস। রাত্রি তো না পেরে বলেই ফেলল,”মনে হচ্ছে তোর বিয়ে লেগেছে।”

“উফ, এভাবে বলছো কেন? সাজ কি অনেক বেশি হয়েছে?”

“না, না। ঠিকই আছে।”

বলে মুখ টিপে হাসে রাত্রি। আয়ানা বিরক্ত হয়। সে যথেষ্ট সুন্দরী। না সাজলেও তো তাকে সুন্দর লাগে। তবে সে সেজেছে নিজেকে আরেকটু গোছানো, স্মার্ট দেখাতে। এদিকে রাত্রিপু। শ্যাম ত্বকের মেয়ে। চেহারা মোটামুটি ভালো। তবে তাকে সাজলেও যেমন লাগে, না সাজলেও তেমনই লাগে। আহামরি পরিবর্তন নেই। তাই তো সে সাজে না। অথচ অন্যের বিষয়ে অধিক কথা বলতে আসে। আয়ানা মুখ বাঁকায়।

“আরে কুঞ্জ যে!”

কুঞ্জ কে সবাই ভালোবাসে। এর কারণ বাচ্চাটা বাড়ির সবথেকে ছোট সদস্য। দেখলেই আদর দিতে ইচ্ছে করে। রাত্রির কাছে এসে কুঞ্জ বলে,”আমায় কেমন লাগছে রাত্রিপু?”

“কুঞ্জকে তো রাজপুত্রই লাগে সব সময়।”

“জামাটা ভালো না?”

“খুব ভালো।”

“এটা জন্মদিনের গিফট ছিল। মামা দিয়েছে। তুমি জানো রাত্রিপু,আমার জন্ম‍দিনে কত মানুষ হয়েছিল। ইয়া বড়ো একটা কেক আনা হয়েছিল। খুব মজা। কিন্তু তোমরা তো আসোনি।”

বলে কুঞ্জ একটু মন খারাপ করল বোধহয়। এদিকে আয়ানা চোখ দিয়ে অনেক কিছু বলার চেষ্টা করছিল। তবে কুঞ্জর যে সেদিকে খেয়ালই নেই। ও এবার একটু রাগার মতন করে বলল,”তোর কোনো কাজ নেই না? যা মায়ের কাছে যা। পরে আসবি। পাকামো খালি।”

বলেই কুঞ্জকে তাড়িয়ে দিল আয়ানা। রাত্রি কিছু বলল না। ও খুব বুঝতে পেরেছে আয়ানা কেন এমন করেছে। আসলে বিশাল আয়োজন করে কুঞ্জর জন্মদিন পালন করা হলেও এ বাড়ির কাউকেই যে দাওয়াত করা হয়নি। এমনকি রাত্রিদের ও না। অথচ মেজো মামা প্রায়দিনই কল করে মাকে বলতেন,”আপা, আমি তো চাই সব ঠিক হোক। সবাই মিলেমেশে থাকি। তোমরা ছাড়া আমাদের কেউ আছে নাকি?”

অথচ এ কথাটা কেবল কথার কথা ছিল। এই বাড়ির মানুষ গুলো ছাড়া মেজো মামার সবাই ‘ই ছিল।‍

কুঞ্জ বসেছে দীপ্রর পাশে। এটা নিয়ে আয়ানা বেশ একটা রাগারাগি করলেও দীপ্র ভাই এসে যাওয়াতে সেই আগুনে ভাটা পড়ে যায়। পেছনের সিটে বসতে হয়েছে কুহু, কণা, রাত্রি ও আয়ানার। চারজনই শুকনো হওয়াতে তিন সিটে বেশ ভালো ভাবেই বসতে পেরেছে তারা। দীপ্র’র এই গাড়ি খানা নিজের টাকায় কেনা। বেশ দামিও। আয়ানা নিজের উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে ব্যর্থই হলো। বলল,”গাড়িটা একদম সেরা। তোমার পছন্দ সবসময়ই ভালো দাদাভাই।”

সামনে থেকে দীপ্র বলল,”আসলেই পছন্দ ভালো?”

“অবশ্যই। এই কালারটাও একদম পারফেক্ট।”

দীপ্র সামান্য হাসল। পেছন থেকে কণা এবার বলল,”বোর হয়ে যাচ্ছি। গান কোথায়?”

“কী গান শুনবি?”

“এই পথ যদি না শেষ হয়।”

“না,না। এসব বাংলা গান নয়। তুমি বরং ‘ওয়েক মি আপ’ দাও।”

বাঁধা দিয়ে বলল আয়ানা। কণার মুখটা শুকনো হলো। ও আবার বলল,”ওসব ইংরেজি গান ভালো লাগে না।”

“না ভালো লাগার কী আছে? তুই কি ইংরেজি বুঝিস না?”

আয়ানা সস্তা রসিকতা করে হেসে ওঠল। কুহুর খুব লাগল কথাটা। বোনের হয়ে ও বলল,”ইংরেজি কেন বুঝবে না আয়ানাপু? আর না বুঝলেও তাতে দোষের কী?”

“এই রে। তুই কি মাইন্ড করলি নাকি কুহু? আমি কিন্তু এমনি এমনি বলেছি।”

কুহু আর কিছু বলল না। ওর মেজাজ আসলে এখন ঠিক নেই। নিজের জন্য না হলেও, বোনের জন্য সে রুখে দাঁড়াতে পারে। তবে দীপ্র নামক মানুষটা থাকায় আর কিছু বলতেও ভালো লাগছে না। এদিকে রাত্রি কিছু একটা বলতে যেতেই দীপ্র বলল,”পাকিস্তানি গান দিচ্ছি।”

বলেই পাকিস্তানের বেশ জনপ্রিয় একটা গান চালাল। আতিফ আসলামের গাওয়া। শুনতে খারাপ লাগছে না। ওরা সবাই চুপ হয়ে গেল। কতক্ষণ যেতেই কুঞ্জ বলল,”আমরা কি গাড়িতেই থাকব দীপ্র ভাই?”

“না,না। বড়ো রাস্তায় গাড়ি পার্ক করে তারপর ঘুরতে নামব।”

“আর কতক্ষণ?”

“এসেই গেছি।”

বলে দীপ্র ড্রাইভিং এ মনোযোগ দিতে যাচ্ছিল। তখনই লুকিং গ্লাসে ওর চোখ পড়ল। যেখানে কুহুকে দেখা যাচ্ছে। মেয়েটির চোখের দৃষ্টিতে তীব্র ক্ষোভের আগমন হয়েছে। এই ক্ষোভের কারণ শুধুই কি আয়ানা? নাকি দীপ্র নিজেও।

দীপ্র গাড়ি থামাতেই কুঞ্জর গলা,”এসে গেছি?”

“হ্যাঁ।”

“ইয়েহ, এসে গেছি। এসে গেছি।”

কুহু এত সময় জানালা দিয়ে বাইরেটা দেখছিল। ওদের এলাকাটা একদমই ছোট নয়। বিশাল এলাকায় সম্ভাবনার অনেক কিছুই রয়েছে। গ্রামের এক পাশে নদী ও ধানি জমি হওয়াতে এখানে চাষের কাজ ভালো হয়। কিন্তু চাষ করার লোকের অভাব। বছরে তিন ফসল ফলানো সম্ভব হলেও, ধানি জমি গুলোর অনেক জমিই খালি পড়ে থাকে সারা বছর। শোনা যায় এখানে নাকি বিশাল কোনো প্রজেক্ট নিয়ে আসার প্ল্যান চলছে। অথচ এতে করে যে নদীর ক্ষতি হয়ে যাবে সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই। কুহু ছোট করে নিশ্বাস ফেলে গাড়ি থেকে নেমে আসে। বাকিরা আগেই নেমে এসেছে। আয়ানা চটপট কটা সেলফি নিয়ে বলে,”ছবি গুলো সুন্দর এসেছে তো। এই কণা, দীপ্র দাদাভাইয়ের সাথে একটা ক্লিক করে দে তো।”

বলেই কণার হাতে ফোন তুলে দেয় আয়ানা। তারপর এসে দাঁড়ায় দীপ্রর পাশে। একটা ক্লিকের পর দীপ্রর বাহু টেনে ধরে কিছুটা ঘনিষ্ঠ হয়ে বলে,”এবার তোল।”

এই মুহূর্তে আয়ানার চোখে মুখে অন্য রকম উচ্ছ্বাস। যদিও স্বাভাবিক দৃষ্টিতে বিষয়টা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কণার বড়ো মেজাজ গরম হচ্ছে। ওর ইচ্ছে করছে আয়ানাপুর ফোনটা ছুড়ে ফেলে, ভাঙতে। কিন্তু ইচ্ছে হলেই কি সব করা যায়?

সুন্দর,সুন্দর মন্তব্য চাই। আর আমার আইডির খোঁজ করেন যারা তাদের জন্য লিংক দিচ্ছি। ফলো করতে পারেন।👇

লেখালেখির আইডি:
https://www.facebook.com/fatema.tuz.9469

পার্সোনাল আইডি:
https://www.facebook.com/profile.php?id=61576999547137

চলবে….
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply