প্রণয়ের_রূপকথা (৭৮)
দীপ্র সন্ধ্যায় ফিরে এসে দেখল কুহু তখনো ঘুমে। গায়ে জড়ানো ওর শার্ট। ও আশ্চর্য হয়ে পড়ল। ছোট্ট শরীরটা নরম বিছানায় মিশে আছে। দীপ্র দু হাতে ওকে তুলে নিল। ঘুমুঘুমু ভাবে কুহু বলল,”কী? আবার উঠালেন কেন? একটু ঘুমাই না?”
একটু ঘুমাই না বলে দীপ্রর গলা জড়িয়ে ধরল কুহু। ওর এহেন আচরণে দীপ্র অবাক না হয়ে পারে না। মেয়েটির মাঝে অনেকটা পরিবর্তন লক্ষ্য হয়। ও আগে, দূরত্ব চাইত। এখন কেমন কাছাকাছি থাকতে চায়। দীপ্র এক হাতে মেয়েটির পিঠ বুলিয়ে বলল,”নিজের জামাকাপড় রেখে, আমার শার্ট পরেছিস কেন?”
“ভালো লাগছে তাই। মনে হচ্ছে আপনি সাথেই আছেন।”
ওর কথায় হেসে ফেলে দীপ্র। কুহু এবার মুখ তুলে চায়। দেখে দীপ্রর মুখখানা। তারপর বলে,”বাড়িতে সবার সামনে, আপনার কাছাকাছি আসতে লজ্জা করত।”
“এখন লজ্জা করছে না?”
“করছে। তবে একটু একটু।”
দীপ্র হাসে। মেয়েটির রহস্য বুঝতে পারে। বলে,”তাহলে, বাড়ি গিয়ে আবার দূরত্ব তৈরি করে ফেলবি?”
“হুম।”
“তাহলে তো বাড়ি ফিরবই না।”
“আচ্ছা।”
বলে দীপ্রর সাথে ঘেঁষে যায় কুহু। দীপ্র আদুরে হাতে মাথায় হাত বুলায়।
“তৈরি হয়ে নে। বের হব।”
পোশাক বদলে এসে কুহু বলে,”আপনার শার্টেই তো ভালো লাগছিল।”
“হ্যাঁ, হট লাগছিল।”
কুহু নজর ঘুরায়। বলে,”এসব বলবেন না।”
“কেন? বললে কী হবে?”
“বললে, মাথা নষ্ট হবে। বুকের ভেতর কেমন যেন লাগে।”
“তাই? আর তুই যে সকাল থেকে জ্বালাতন করলি? যতবার বুকের কাছে এসেছিস, আমি যে পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম। সেই বেলায়?”
কুহু আর জবাব দেয় না। চুপ করে থাকে। যেন বিড়াল হয়ে গেছে। দীপ্র চুল সেট করে, আসে কুহুর কাছে। কুহু তখন দুল পরছিল। মানুষটার উপস্থিতি বুঝে ওর হাত থেমে যায়। দীপ্র আলগোছে মেয়েটির চুল গুলো পিঠ থেকে সরিয়ে দেয়। জামার ফিতাটি বেঁধে দিতে দিতে বলে,”বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে তোর সাথে আলোচনা করা হয়নি সেভাবে। কোনো স্পেশাল ইচ্ছে আছে?”
কুহু মিনমিনে সুরে বলে,”নেই।”
“কিচ্ছু নেই?”
“উহু। সব ভালো হলেই হবে।”
“এখনো ভয় লাগে?”
কুহুর গলাটা ধরে যায়। ও বলে,”লাগে। অনেক বেশি ভয় হয় আমার।”
কুহুর মন একটু বেশিই খারাপ হয়। দীপ্র আলোগোছে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে। ভরসা দিয়ে বলে,”সব ঠিক হবে। হতেই হবে। আমি আছি তো? ভরসা করিস তো আমায়?”
কণা লিখল,”আপনি কি এখনো রাত্রিপুকে নিয়ে ভাবেন?”
মেয়েটার আগ্রহ খেয়াল করেছে রাগীব। ও জানে না কী করে চলেছে। রাত্রিকে হারিয়ে ছোট এই মেয়েটির সঙ্গ ওর ভালোই লাগছে। ও লিখে,”হ্যাঁ। আমি ওকে ভালোবাসতে শুরু করেছিলাম।”
“এত দ্রুত?”
“দ্রুত? ভালোবাসা তো চোখের পলক ফেলতে ফেলতেও হতে পারে। আর রাত্রির সাথে তো আমার বিয়ের কথা চলছিল।”
কণা নিশ্বাস ফেলে। ও রাগীবের অনুভূতি বুঝে। তবে মেনে নিতে পারে না। ও লিখে,”আপনার উচিত নিজের জীবন গুছিয়ে নেয়া।”
“হুম। সেটা তো নিতেই হবে। বাসায় অলরেডি খোঁজ চলছে।”
“খোঁজ চলছে?”
তড়িঘড়ি করে লিখল কণা। ওর বুকের ভেতর ধকধক করে। রাগীব জবাব দেয়,”খোঁজ করবে না? আমার বয়স তো কম হলো না। অলরেডি একত্রিশ চলছে। কদিন পর সেটাও পেরিয়ে যাবে। আর রাত্রি পালিয়ে যাওয়ায়, আমাদের যে অসম্মান হলো।”
কণা কি বলবে বুঝে না। ও হারিয়ে যায় কোথাও। সীন করে। তবে রিপ্লাই দেয় না। খানিক বাদে রাগীব বলে,”কণা, তুমি খুব ভালো একটা মেয়ে। ছোট, আদুরে। তবে তুমি যেটা চাও, সেটা সম্ভব নয়।”
হুট করে রাগীব এমন কিছু বলবে তা কণা ধারণাও করতে পারেনি। ও দুঃখে ও লজ্জায় রাগীবকে ব্লক করে দেয়। রাগীব তাকিয়ে থাকে ফোনের স্ক্রিনে। ওর আরো আগেই বিষয়টা খোলসা করা উচিত ছিল। কিন্তু মেয়েটির সঙ্গ ওকে আটকে দিয়েছিল। ও ফোঁস করে দম ফেলে। নিজের জীবনটি কেমন যেন অগোছালো হয়ে গেল। অতীতে প্রেম করা হয়নি। ব্যবসার প্রতি ছিল তুমুল আগ্রহ। অথচ এখন মনে হচ্ছে, অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের আশায় না থেকে, যদি সঠিক সময়ে একটা প্রেম করত, তবে জীবনটা অন্য রকম হোতো।
দিল্লির এখানে ওখানে ঘুরল ওরা। তারপর একটা রেস্টুরেন্টে বসে রাতের খাবার খেল। খাওয়া দাওয়া শেষে বের হতেই কুহু বলল,”আপনি কি আমাকে ছোট বেলা থেকেই পছন্দ করতেন?”
“প্রেমিকা হিসেবে?”
“হু,হু।”
“এটা বলা মুশকিল।”
“কেন?”
“তাহলে একটু গভীর চিন্তা করতে হবে।”
কুহু না বুঝে চেয়ে রইল। দীপ্র ওকে নিয়ে একটা জায়গায় বসল। তারপর বলল,”প্রেমিকা মানে বুঝিস তো? তুই আমার পুরো আট বছরের ছোট। তুই যখন বাচ্চা, আমি তখন কিশোর। যদি প্রেমিকা হিসেবে চিন্তা করতাম, তাহলে তোর প্রতি অন্যায় হয়ে যেত। কন্ট্রোল কিন্তু কিশোর বয়স থেকেই থাকে না।”
এত সময় দীপ্রর দিকে চেয়ে থাকলেও এবার কুহু নজর ঘোরাল। ওর একটু লজ্জা লাগছে। দীপ্র হাসল। বলল,”লজ্জা পাচ্ছিস কেন?”
আড়াল হয়েও লাভ হলো না। দীপ্র ভাই ঠিক ই ধরে ফেলেছেন! কুহু মিনমিনে সুরে বলল,”আমি কিন্তু….
ওর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে দীপ্র বলল,”ছোট থেকেই পছন্দ করতি আমায়। তাই তো?”
কুহু জবাব দিতে পারে না। শুধু মাথা দোলায়। একটু বাদে বলে,”আপনি কীভাবে জানলেন?”
দীপ্র হাসে। আকাশের দিকে চেয়ে বলে,”আমি অনেক কিছুই জানতাম। এই যে যেমন, আমি যখন বিদেশে, তখন একটি ফেইক আইডি আমাকে ম্যাসেজ দিত। আমার সব পোস্টে কমেন্ট করত। অন্য মেয়েদের বকা দিত। এগুলো সব ই জানতাম আমি।”
কুহু এবার আর বসে থাকতে পারে না। দাঁড়িয়ে পড়ে। দীপ্র ওর হাতটা টেনে ধরে। এক টানে নিজের কাছে নিয়ে আসে। কুহুর এত লজ্জা লাগছে, ও মুখ লুকিয়ে ফেলে দীপ্রর গলাতে। দীপ্র শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,”তোর কী মনে হয়? সবটা এত সহজে হয়েছে? আমি এত রিস্ক নিতাম? আমি তো জানতাম তুই আমাকে সেই ছোট বেলা থেকেই পছন্দ করতি। একদম বাচ্চাকাল থেকে। মাঝে ভুল বুঝে আর মানসিক ট্রমায় দূরত্ব নিয়েছিলি। এসব কারণেই তো আমি কাছে আসতে চাইলে গিল্টিফিল হোতো তোর। তুই দূরে সরে যেতি। তাই তো?”
দীপ্র ভাই কী ম্যাজিক জানেন? হয়তো জানেন। না হয় এত সব কীভাবে বলে দিচ্ছেন? কুহু ওভাবেই দীপ্রর গলা জড়িয়ে রাখে। বুক ভরে দম নিয়ে বলে,”আপনি কি ম্যাজিক জানেন দীপ্র ভাই? লাইক ম্যাজিশিয়ান?”
দীপ্র আদুরে ভাবে জবাব দেয়,”হুম। জানি তো। আমি তোর জীবনের ম্যাজিশিয়ান।”
সবার রেসপন্স দরকার। আমি হতাশ।
চলবে…
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি
Share On:
TAGS: প্রণয়ের রূপকথা, ফাতেমা তুজ নৌশি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ২০
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৪৭
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৭২
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৩৪
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ২৮
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৭
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ১
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ১০
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৭৩
-
প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৭০