Golpo romantic golpo প্রণয়ের রূপকথা

প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৭৬


প্রণয়ের_রূপকথা (৭৬)

রাত্রির হস্তক্ষেপে ঠিক হলো কুহু যাবে দীপ্রর সঙ্গে। তবে দেখা গেল মেয়েটি দীপ্রকে এড়িয়ে চলছে। দীপ্র দেখেও চুপ করেছিল এতদিন। ভেবেছে একান্তে পেলে, সব ঠিক হবে। গাড়ি চলছে অনেকটা সময় ধরে। অথচ কোনো কথা নেই। এবার আর পারল না ছেলেটি। ফট করেই ব্রেক ধরল। যার ফলে কুহুও খানিকটা চমকে গেল। দীপ্র কটমট করে চাইতেই মেয়েটি পুরোপুরি ভীত হয়ে পড়ল।

“কী সমস্যা? কদিন ধরেই এড়িয়ে যাচ্ছিস। কতক্ষণ ধরে পাশে আছিস। একটা কথাও বলছিস না। সমস্যা কী তোর?”

প্রথমে একটু ভয় লাগলেও এবার ভয় লাগল না কুহুর। ও অন্যপাশ ফিরে বলল,”কোনো সমস্যা নেই।”

দীপ্র আশ্চর্য হয়ে পড়ল। এই মেয়েটি কী চায়? চায় সে ম রে যাক? ওর খুব রাগ হচ্ছে। ও এবার মেয়েটিকে টেনে ঘুরাল নিজের দিকে। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটি কেঁদে ফেলল। দীপ্রর যতটা রাগ ছিল, তা মুহূর্তেই গলে পড়ল। নরম হয়ে বলল,”কী হয়েছে বলবি তো? না বললে বুঝব কীভাবে?”

“কেন বুঝবেন না? সব ই তো বুঝেন। সব কিছুই তো আপনার ইচ্ছেতে হয়।”

দীপ্র এবার সত্যিই ধরতে পারেনি। ওর হাতটা গালে এসে পৌঁছায়। আদুরে ভাবে বলে,”কেন এত অভিমান হলো শুনি?”

“অভিমান হবে না বুঝি? সবাই জানত আপনি ইন্ডিয়ায় যাবেন। শুধু আমাকেই জানান নি। সেদিন দাদিজানের থেকে না শুনলে, হয়তো চলে যাওয়ার সময় ও বলতেন না।”

দীপ্র ফোঁস করে দম ফেলে। চোখের জল মুছিয়ে বলে,”ঠিক এই কারণেই বলিনি। কারণ জানতাম, আপনি কান্নাকাটি করবেন। আপনার কষ্ট হবে। আর আমিও সেই কষ্টে, কাজ ফেলে থেকে যাব। তখন আরো বিপদ হোতো। সেই জন্যই আগে জানাইনি।”

কুহুর অভিমান তবু ভাঙে না। এসব কোনো লজিকই হলো না। ওর হিঁচকি উঠে গেছে। দীপ্র এবার সত্যিই বিপাকে পড়ে। এই মেয়েটি মাঝে মাঝে বাচ্চাদের মতন করে। অবুঝ হয়ে পড়ে। অথচ, সে নিজেই বাচ্চার মা হওয়ার যোগ্যতা রাখে।

দিল্লি এয়ারপোর্টে নামার পর,বেশ বড়ো একটা জার্নি করে তবেই হোটেলে পৌঁছাল ওরা। ভীষণ ক্লান্ত দুজনেই। দীপ্রর কোল ঘেঁষে লাউঞ্জে বসে ছিল কুহু। মেয়েটির খুব মাথা ব্যথাও করছে। একজন স্টাফ এসে বলল,”স্যার, রুম রেডি।”

চাবিটা হাতে তুলে দিতেই কুহু দেখল, দুটো রুমের চাবি। ও মিনমিন সুরে বলল,”আমরা কি একসাথে থাকব না?”

দীপ্র স্বাভাবিক ভাবেই বলল,”না।”

কুহু আর কথা খুঁজে পেল না। আগ বাড়িয়ে বলল ও না একসাথে থাকার কথা। ওর মনটা ভারী খারাপ হয়ে গিয়েছে। নির্দিষ্ট ফ্লোরে এসে দীপ্র আড়ে আড়ে দেখে নিল মেয়েটির অনুভূতি।
“একা থাকতে পারবি তো?”

এসব ঢংয়ের কোনো মানে হয়? নিজেই দুই রুম নিয়েছে। এখন জিজ্ঞেস করে একা থাকতে পারবে কি না! কুহু দীপ্রর হাত থেকে চাবিটা তুলে নিল। দরজার কাছে এসে বলল,”না পারার কী আছে।”

“ওহ।”

কুহু দরজার লক খুলতে যেতেই, দীপ্র এসে হাত আটকে ধরল। ও চাইল ফ্যাল ফ্যাল করে। ছেলেটির হাত ওর গাল ছুঁয়ে গেল। ধীরে ধীরে কিছু অগোছালো চুল গুছিয়ে দিল। তারপর বলল,”তুই কি খুব ক্লান্ত?”

এ কথার মানে বুঝে নি মেয়েটি। ও চেয়ে থাকে ওভাবেই। দীপ্রর আঙুল গুলো ওর ঠোঁটের কাছে এসে থামে। ও মোহগ্রস্তের মতন হয়ে কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। তারপর বলে,”ফ্রেশ হয়ে নে।”

কুহুকে রুমে দিয়ে দীপ্রও নিজের রুমে এসেছে। তবে ওর সবকিছু অস্থিরতায় ডুবে। ও শেষমেশ না পেরেই কুহুর দরজায় এসে দাঁড়াল। নক করতে গিয়েও করল না। স্বীয় মনকে বুঝ দিয়ে চলে এল নিজের ঘরে। ওর চলে আসার মিনিট দুয়েক পরেই ওর দরজায় নক পড়ল। কুহু সবে গোসল সেড়ে এসেছে। ভেজা চুল গুলো থেকে টপটপ করে পড়ছে পানি। দীপ্রর শ্বাসের গতি বেড়ে যায়। কুহু আড়চোখে মানুষটাকে দেখে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। দীপ্র শুধায়,”কিছু লাগবে?”

কুহু মাথা নাড়ায়। ছোট করে বলে,”না।”

দীপ্র আরো দু একটা অযাচিত কথা বলে। যার কোনো মানেই নেই। কুহু সবটা দেখে ফ্যালফ্যাল করে। দীপ্র আর পারে না। এবার বলে,”যদি কিছু না লাগে, তবে কেন এলি?”

কুহুর থেকে জবাব আসে না। এদিকে দীপ্রর ভেতরে তাণ্ডব শুরু হয়ে গেছে। ও নত স্বীকার করে বলে,”অনেস্টলি বলব? তুই আমার কাছে থাকলে, আমি কন্ট্রোল রাখতে পারি না। ঠিক এই কারণেই এত দিন দূরত্ব রেখেছি। চাইনি, বাড়ির সবার সামনে অন্য কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক। আজও সেইম ফিলিংস। সেই জন্যই দুটো রুম নিয়েছিলাম। এতটা জার্নি করে এসেছিস। তোকে কষ্ট দিতে চাচ্ছিলাম না। বাট, আমি বোধহয় এখন আর নিয়ন্ত্রণে নেই। তুই কি খুব ক্লান্ত জান?”

বলতে বলতে মেয়েটির কাছে চলে আসে দীপ্র। চাহনিও এলোমেলো হয়ে এসেছে। মেয়েটি সদ্য গোসল করে আসা শরীর থেকে এত মারাত্মক মোহ আসছে যে ওর দু চোখ স্থির থাকে না। বেহায়ার মতন এদিক সেদিক চোখ বুলায়। আর যতবার চোখ বুলাচ্ছে, ততবারই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। কুহুর যে কি হয়, ও ফট করেই দীপ্রর খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। ছেলেটির পায়ের ওপর পা রেখে, একদম গলা জড়িয়ে ধরে। ওর সঙ্গ পেয়ে দীপ্রর হাত খানাও মেয়েটির কোমরে এসে পৌঁছায়। ছুঁয়ে যায় অশান্ত ভাবে। শক্তপোক্ত ভাবে আকড়ে ধরতেই, কুহু অভিমানের মতন বলে,”এমনিতেই তো কাছে আসেন না। আজও দূরত্ব রাখতে চাচ্ছেন। আপনি এত খারাপ কেন দীপ্র ভাই?”

দীপ্র বুঝতে পারে মেয়েটিও তার মতন অশান্ত হয়ে পড়েছে। দুজনের নিশ্বাসই ভারী হয়ে গেছে। ও দৃষ্টি নামায়। দীপ্র ডাকে,”সোনা, আমি ভেবেছি তোর কষ্ট হবে। এত জার্নির তো অভ্যাস নেই। তার ওপর সমস্ত রাস্তায় ক্লান্ত ছিলি। মাথা ব্যথাতে কেমন শুয়ে ছিলি। আমি ধৈর্য ধরতে ধরতে এখন এতটা অধৈর্য হয়েছি যে আর নিজেকে ভরসা করতে পারি না। তাই, ভেবেছিলাম আজ আলাদা রুমে রেস্ট নে। কিন্তু এখন, এখন তুই যখন এলি, আমি নিজেও কন্ট্রোলে নেই। তোর সঙ্গ, আমাকে বন্য করে তুলেছে। এখন আর পেছন ফিরতে পারব না। তুই চাইলেও না। তোর কি খুব কষ্ট হয়ে যাবে জান? কষ্ট হলেও একটু সহ্য করে নিতে পারবি না? পারবি না বল?”

বলতে বলতে দীপ্রর এক হাত কুহুর হাঁটুতে চলে যায়। কায়দায় মেয়েটিকে পাজাকোলে তুলে নেয়। কুহুর মুখ এসে ঠেকে দীপ্রর বুকে। হাত দুটো শক্ত করে গলা জড়িয়ে রেখেছে। দীপ্র ডাকে,”কুহু, আমার জান। আই প্রমিস, ইভেন ইফ টুনাইট ফিলস পেইনফুল, দ্য জয় ওয়েটিং ফর আস আফটারওয়ার্ড উইল বি ফার মোর বিউটিফুল। জাস্ট হোল্ড অন টু মি।”

চলবে….
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply