Golpo romantic golpo প্রণয়ের রূপকথা

প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৬৫


প্রণয়ের_রূপকথা (৬৫)

একটি উষ্ণ চুমু কুহুর মন মস্তিষ্ককে ভীষণ ভাবে প্রভাবিত করল। সেই রাতে ওর ঘুম হলো না। একদমই হলো না। সারাটা রাত এপাশ ওপাশ করে ফিরল। ভোরে রাত্রির ঘুম ভাঙলে ও ঘুমুঘুমু ভাবে শুধাল,”তুই এখনো ঘুমাসনি?”

কুহু চমকাল। থমকে রইল কিছু সময়। তারপর আমতা আমতা করে বলল,”না মানে।”

“কী মানে? ঘুমাসনি কেন? কী হয়েছে বোন?”

যা হবার তো হয়েছেই। এটা যে বলা যায় না। কুহু আবারো আমতা আমতা করতে থাকল। রাত্রি ভ্রু কুঞ্চিত করে বলল,”ঠিক আছিস বোন?”

“হুম, ঠিক আছি।”

“ঘুমা তাহলে। একটু বাদেই তো অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে হবে।”

“আর ঘুমাব না রাত্রিপু। নতুন জায়গা বিধায় ঘুম আসেনি। এই আর কি।”

“অহ। আমার তো আবার এসব নিয়ে সমস্যা হয় না। জানিসই তো আমি ঘোড়ার পিঠে শুয়েও ঘুমাতে পারব।”

এ কথায় ওরা দুজনেই হেসে ফেলল। রাত্রি বলল,”ফ্রেশ হয়ে আসি।”

ও চলে যেতেই কুহু বুক ভরে দম নিল। তারপর ভাবল, আজ কীভাবে দীপ্র ভাইয়ের মুখোমুখি হবে? এত বেশি লজ্জা লাগছে ওর।

সকালের খাবার খেতে গিয়ে মুখোমুখি পড়তেই হলো। ও নজর ফিরিয়ে বসল চেয়ার টেনে। খাবার দেওয়া হলো। দীপ্র বসেছে ওর মুখোমুখি ভাবে। কুহু যথাসম্ভব নিজের নজর লুকিয়ে রাখতে চাচ্ছে। কিন্তু যখন টেবিলের নিচ থেকে নিজের পায়ে কিছু একটার স্পর্শ পেল ও তৎক্ষণাৎ চোখ বড়ো বড়ো করে ফেলল। দীপ্র এক টুকরো পরোটা মুখে তুলে বলল,”তোরা কখন অনুষ্ঠান করতে চাচ্ছিস?”

রাত্রির দিকে দৃষ্টি দেওয়া ছিল, এবার নজর ফেরাল কুহুর দিকে। চোখাচোখি হলো। কুহুর চোখ তখনো বড়ো বড়ো। হবে নাই বা কেন? দীপ্র ভাই ওর পা আটকে রেখেছেন।

“চাচ্ছি একটু বাদেই শুরু করতে। রাতে আবার হলুদের অনুষ্ঠান।”

“অরণ্য, আন্টি – আঙ্কেল কতদূর আছেন?”

“চলে আসবে। আর একটু।”

কুহু কি করবে বুঝতে পারছে না। ও চোখ পিটপিট করতে থাকে। খাবার না খেয়ে ওমন ভাবেই বসে থাকে। রাত্রি নজর ফিরিয়ে বলে,”কুহু। খাচ্ছিস না কেন?”

ও ফ্যালফ্যাল করে চায়। দীপ্র এমন একটা ভাব করে যেন কিছুই জানে না।

“আসলেই তো। খাচ্ছিস না কেন?”

ও উসখুস করে। পা সরানোর চেষ্টা করে। তবে দীপ্রর সাথে পেরে ওঠে না। কুহু এবার মেকি হাসার মতন বলে,”এই তো।”

“তোর চেহারাটা ওমন লাগছে কেন?”

মা বলতেই কুহু চেহারা ঠিক করার প্রয়াস করল। তবে খুব একটা ঠিক হলো না। দীপ্র -কুহুর চোখের দৃষ্টি খেয়াল করেছে আয়ানা। ওর মুখটা অন্ধকার হয়ে আছে। ও একটু ঝুঁকতেই যা দেখার দেখে নেয়। কটমট করে চাঢ়। কুহু এবার শক্তি বাড়িয়ে ফট করেই বসা থেকে ওঠে যায়। ওর এমন আচরণে ডাইনিংয়ের সকলে ভ্রু কুঁচকে ফেলে। ও বলে,”খাওয়া শেষ।”

“খেলিই তো না।”

“পেট ভরে গেছে বড়ো মা। আমি যাই।”

ও দ্রুত স্থান ত্যাগ করল। দীপ্র খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে ওঠতেই জেবা বললেন,”তুই আবার কোথায় যাস?”

“ওকে খাওয়াতে।”

ডাইনিং থাকা সবাই ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে। দীপ্র মাঝে মাঝে এত লজ্জাহীন হয়ে পড়ে! দাদিজান মুচকি হাসেন। বলেন,”একেই বলে ভালোবাসা। তোমরা খাও নিজেদের মতন।”

কুহু ঘরে এসে বসেছিল। দীপ্র ওর পেছন পেছন এল। মেয়েটি ওকে দেখে বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ল। চোখের দৃষ্টি এদিক সেদিক ঘোরাল।

“আপনি….মানে।”

“না খেয়ে ওঠে গেলি কেন?”

আবারো একই ভাব তার। যেন কিছুই জানে না সে। অথচ কাজ গুলো তো তারই ঘটানো!
কুহু কি বলবে বুঝে না। দীপ্র কিছুটা এগোয়। কুহুর নজর তখন এদিক সেদিক ঘুরপাক খাচ্ছে।

“কুহু।”

ও নজর ফেরায় না। দীপ্র এবার সামান্য ঝোঁকে। অধরে মৃদু হাসি এনে বলে,”আমার হাতে খাওয়ার বাহানা নাকি?”

চোখ বড়ো হয়ে যায় মেয়েটির। শুকনো ঢোক গিলে। তাতে অনেকটা অস্বস্তির উপস্থিতিও আছে। দীপ্র আবারো বলে,”তুই চাইলে, আমার কিন্তু সমস্যা নেই।”

“আমি এমন কিছু মিন করিনি তো।”

“তবে ওঠে এলি কেন?”

দীপ্র চাচ্ছে কুহু নিজের মুখেই বিষয়টা বলুক। কিন্তু ও বলতে পারছে না। কুহু পিঠ ঘুরায়। বলে,”জানি না। এমনি এসেছি।”

“উহু, অন্য কারণে। কিন্তু স্বীকার তো করছিস না।”

“দীপ্র ভাই, আপনি…

“হুস। বলেছি না, দীপ্র ভাই না। শুধু দীপ্র। এর সাথে চাইলে আরো কিছু এড করতে পারিস। লাইক, বাবু, সোনা, জান।”

কুহু চোখ মুদিত রাখে। ওর কান গরম হয়। এই দীপ্রর যেন কি হয়েছে। কুহু তো চিনতে পারছে না তাকে। লোকটার মাথা গেল নাকি? গতকাল চুমু খেল। আজ আবার…কুহু আর ভাবতে পারে না। ওর বুকের ভেতর বিশাল একটা ঢেউয়ের আগমন হয়। ও ঘাড় ফেরাতে গিয়ে বুঝে, দীপ্র ভাইয়ের মুখটা ওর ঠিক ঘাড়ের কাছে। নিশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কুহুর হৃদয়ে দামামা বাজে। দীপ্র ফিসফিস করে বলে,”অনেক গুলো দিন তো দিয়েছি জান। নাউ আই ওয়ান্ট টু লাভ ইউ ডেসপারেটলি। এসব তারই এক ঝলক।”

সম্পর্ক যখন পবিত্র হয়, তখন সবকিছুই অন্যরকম লাগে। দীপ্র ভাইয়ের বলে যাওয়া কথা গুলো কুহুর হৃদয়ে আলোড়ন সৃজন করে। মানসিক দ্বন্দ্বের কারণে ও অনেক কিছুই ধরতে পারেনি। তবে এটা তো অস্বীকারের উপায় নেই, ও যে মানুষটাকে পছন্দ করে। মানুষটাকে চায়। ও মেহেদি অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি হচ্ছিল। রাত্রিপু আগেই বের হয়েছে। কণা এসে বলল,”রাত্রিপু ডাকছে।”

“আসছি।”

ও দ্রুত তৈরি হয়ে নেমে এল। রিসোর্টের একপাশে খোলা অংশটিতে দারুণ ভাবে মেহেদি স্টেজ সাজানো হয়েছে। রাত্রি আর হেরা পাশাপাশি বসা। ওদের মেহেদি পরানো শুরু হয়ে গেছে। কুহু গিয়ে হেসে বলল,”বাহ, আমাকে রেখেই শুরু করে দিলে। বেশ ভালো। ননদ-ভাবি আমাকে ভুলে গেছ।”

ওর কথা শুনে হেরা বলল,”তোমার জন্য এত সময় বসেছিলাম। লেট হচ্ছে দেখে বসলাম। এই রাগ করলে নাকি?”

“না, না। আমি তো মজা করছিলাম।”

“এই কুহু, বোস। তোকেও মেহেদি পরানো শুরু করুক।”

কুহু গিয়ে বসল। বেশ কজন মেহিদি আর্টিস্ট আনা হয়েছে। কুহুর হাতে সুন্দর মতন মেহেদি পরাচ্ছে মেয়েটি। সেই সাথে বেজে চলেছে, মিউজিক। মেহেদি পরানো যখন প্রায় শেষের দিকে, আর্টিস্ট মেয়েটি বলল,”আপু, কি নাম লিখব?”

কুহু প্রথমে বুঝল না। তাকিয়ে রইল। মেয়েটি আবারো বলল,”মানে, আপনার হাজবেন্ডের নাম কী?”

“ওহ।”

বলে কুহু একটু থামল। বুকের ভেতরটা কেমন লাগছে। ও মিনমিনে সুরে বলে,”দীপ্র দেওয়ান, আমার হাজবেন্ডের নাম।”

চলবে….
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply