Golpo romantic golpo প্রণয়ের রূপকথা

প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৫২


প্রণয়ের_রূপকথা (৫২)

দীপ্র কিংবা কুহু, দুজনের মনের ভেতর একটা কথাই চলছিল। রাত্রি পালিয়েছি। আর পালিয়েছে অরণ্য’র সাথে। কিন্তু ওদের ধারণা ভুল হলো। ওরা রাত্রিকে খুঁজতে বের হতেই খেয়াল করল মেয়েটি বসে আছে শান্ত ভাবে। কুহুর বাগানে। ওকে দেখে একে অপরের মুখের দিকে চাইল দীপ্র-কুহু। তারপর এগিয়ে গেল।

“রাত্রিপু।”

রাত্রি চাইল। সাধারণ তার দৃষ্টি। কুহু ওর কাছে এসে বসল।

“তুমি এখানে কী করছো? তোমাকে সারা বাড়ি খুঁজে আমি শেষ। আর তুমি কি না এখানে এসে বসেছ। অথচ আমি…

“অথচ তুই কী কুহু?”

পালানোর বিষয়টা বলতে গিয়ে আটকাল ও। রাত্রি হাসল। দীপ্র কোনো কথা বলেনি তখনো।

“এত রাতে একা এখানে এসে বসেছিস কেন? সদর দরজা অবধি খোলা।”

“আমি তো কাছেই বসা। সমস্যা হওয়ার তো কথা না।”

“তাই বলে এভাবে বেরিয়ে আসবি? এত রাতে? কুহু বাদে অন্য কেউ তোকে খুঁজলে, তখন তো নানান কথা ওঠে যেত।”

রাত্রি জবাব দিল না। দীপ্র ও আর বকল না। তবে কঠোর ভাবেই বলল,”চিন্তায় পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম।”

“চিন্তা কেন?”

“চিন্তা হবে না? বাড়ির মেয়ে বাড়িতে নেই। তবে….

“তবে কী দীপ্র ভাই? পালিয়ে গিয়েছ ভেবেছ?”

ওর মুখের কথা কেড়ে নেওয়া হলো। দীপ্র মৌনই রইল। রাত্রি হেসে ফেলল। কুহু চাইল দীপ্রর দিকে। রাত্রিকে কেমন যেন লাগছে। মেয়েটির মাথার ঠিক আছে?

রাত্রিকে না পেয়ে আরো বেশি চিন্তা হওয়ার কারণ, অরণ্য এক কাজের বাহানায় রাতের খাবার খেয়েই বাড়ি ছেড়েছে। সেই জন্যই মূলত চিন্তাটা বেশি লাগছিল। দীপ্র নিজের ঘরে যেতে যেতে কুহুকে ইশারা করল আজ যেন রাত্রির সাথে থাকে। কুহুও ইশারায় বোঝাল সে থাকবে। করিডোর পেরিয়ে রাত্রির রুমের সামনে আসতেই রাত্রি হাসল। কুহু সরল ভাবে শুধাল,”হাসো কেন?”

“তুই ও ভেবেছিস আমি পালিয়েছি?”

কুহু মিথ্যে বলল না। মাথা নাড়াল। রাত্রি ওর গাল ছুঁয়ে দিল।

“পালালে খুশি হতি?”

এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে কুহুর ভেতরটা কেমন করে ওঠল। একটা সময় ও চাইত রাত্রি আর অরণ্য’র সব ঠিক ঠাক হোক। কিন্তু এখন, এখন কুহু চেয়েও সেটা চাইতে পারছে না। সহসাই কুহুর খেয়াল হলো রাত্রির তো জ্বর। ওর গাল ছুঁয়ে রেখেছে। হাতের তালু থেকে তাপমাত্রা গালে অনুভব হচ্ছে।

“তোমার জ্বর তো কমেনি রাত্রিপু। দেখি তো।”

কপাল ছুঁয়ে দেখল কুহু। রাত্রির শরীরের তাপমাত্রা অনেকটা বেশি। কুহুর খুব মন খারাপ লাগছে।

“বুঝেছি, জ্বরের ঘোরেই বাহিরে চলে গিয়েছ।”

“না। আমি ঠিক আছি। এমনি গিয়েছি। ভালো লাগছিল না।”

“এটাই জ্বরের প্রভাবে।”

“কে জানে। তুই আমার সাথে থাকবি?”

“হ্যাঁ, সমস্যা হবে?”

“আরেহ! আমার কীসের সমস্যা। থাকলে বরং ভালো। আয় তাহলে।”

রাত্রি আর কুহু লক খুলে কক্ষে প্রবেশ করল। যেতে যেতে রাত্রি খেয়াল করল আয়ানার ঘরের আলো জ্বলছে।

একটা লম্বা ঘুমের পর রাত্রির জ্বর নেমে গেল। সকালে নাশতা মিস হয়েছে। বাড়িতে তখনো কাজ চলছে। সবাই এত ব্যস্ত। কুহু আগেই ওঠে গিয়েছে। প্রোগ্রামে থাকতে ইচ্ছে করছে না বাহানা দিয়ে কুহু আজ ভার্সিটিও গিয়েছে। এদিকে সব থেকে হায় হতাশ লাগছে কণার। ওর অসহ্য লাগছে। ও বসে আছে বসার ঘরে। রাত্রি এক কাপ চা হাতে ফিরল।

“মন খারাপ?”

“হুম।”

“কেন?”

“এমনি।”

“উম, এমনি তো না। কারণ তো আছে।”

“আছে একটা।”

“কী?”

“আয়ানাপুর এই আয়োজন ভালো লাগছে না।”

ওর কথার বিপরীতে কিছু বলার পূর্বেই রাত্রির ফোন খানা বেজে ওঠল। স্ক্রিনে ভাসল রাগীবের নাম।

“রিসিভ করছো না কেন?”

একটা ধ্যানের মতন লাগছিল রাত্রির। কণার কথায় ধ্যান ফিরল। ও হয়তো চাচ্ছিল না রিসিভ করতে। তবে কণা থাকায় রিসিভ করল।

“থ্যাংকস গড।”

“কেন?”

“এই যে কল ধরলে। না ধরলে তোমার ঐ বিচ্ছু বোনটাকে জ্বালাতে হোতো। ওটা তো ভীষণ দুষ্টু।”

কথাটা শুনতে পেল কণা। ও ফোঁস, ফোঁস করে ওঠল।

“এই, এই আপনি কী বললেন। আমি বিচ্ছু!”

“ওরে বাপ্রে! তুমি তোমার বোনের পাশেই বসা নাকি?”

“হাঁ, বসা। আপনি আমাকে দুষ্টু্ও বললেন। এসবের মানে হয় না। আমি ভদ্র বাচ্চা।”

“দারুণ ভদ্র। সেই জন্যই তো…

রাগীব পুরো কথাটা বলল না। আটকে গেল। কণা আরো কতক্ষণ ফোঁস ফোঁস করে ওঠে গেল। ওর ভালো লাগে না। চোখের সামনে আয়ানাপুর জন্মদিনের এই আয়োজন। আজ কুঞ্জটাও আয়ানার পেছন পেছন ঘুরঘুর করছে। ভালো লাগে না কিছু।

সায়েরকে চেয়েও সরানো যায় না। তাই কুহু চেষ্টাটা আর করে না। তবে সায়ের চেষ্টা করে বন্ধুত্বটা আগের মতন করতে। কুহু অবশ্য সাড়া দেয় না। লাবিবা,সায়ের আর কুহু ক্লাস শেষ করে বের হচ্ছিল। গন্তব্য ভার্সিটির পাশে নতুন এক রেস্টুরেন্ট হয়েছে। সেখানে খাওয়া দাওয়া করা। এরই মধ্যে কুহুর ফোনটা বাজল। দীপ্রর নাম্বার। ও রিসিভ হলো।

“হ্যালো।”

“কোথায় তুই?”

“আমি তো, বের হলাম মাত্র। কেন?”

“পার্কিংয়ের দিকে তাকা।”

“পার্কিংয়ে…

বলতে বলতে কুহুর চোখ গেল বা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বড়ো গাড়িটার দিকে। সেখানে দীপ্র ভাই বসে আছেন।

“চলে আয়।”

“আমি?”

“হুম,তুই।”

“আমি তো….

“তোকে নিতে এসেছি। আসবি না?”

কুহু কি বলবে বুঝল না। এদিকে লাবিবা আর সায়ের তাকিয়ে। কুহু ফোঁস করে দম ফেলে। কল কেটে তাকায় লাবিবার দিকে।
“কী? চল, যাই।”

“আসলে দোস্ত…”

“কোনো সমস্যা কুহু?”

সায়ের দিকে মুখ কালো করে তাকাল ও। এতে আর দ্বিতীয় বার কিছু বলতে পারল না সায়ের। লাবিবা কুহুর বাহু স্পর্শ করে বলল,”কী রে? যাবি না?”

“দীপ্র ভাই এসেছেন।”

বলে ইশারা করল কুহু। দীপ্র এবার গাড়ি থেকে নেমে এসেছে। সাদা রঙের ওপর কালো রং দিয়ে ডিজাইন করা একটি শার্ট পরা। ফর্সা ত্বক আর গাল জুড়ে ছোট করে রাখা রোমরাজি। সুন্দর পুরুষকে আজ আরো বেশি সুন্দর লাগছে। লাবিবা অদ্ভুত ভাবে হাসতেই কুহু চোখ পাকাল।

“অদ্ভুত! এসব কিছু না ভাই। তুই বেশি বেশি।”

“হুম, আমি বেশি বেশি। কোনদিন দেখব, বিবাহ করে বাচ্চা কাচ্চা…

“লাবিবা! তুই একটা, ধুর। আমি আসছি। পরে যাব একদিন।”

“ওকে কোনো ব্যাপার না।”

বলে সামনের দিকে যেতেই সায়ের বলে ওঠল,”আরেহ, ও কোথায় যায়?”

“ওর দিওয়ানার কাছে।”

“মানে?”

“আরে, ওর কাজিন এসেছে।”

সায়ের এবার সে পথে চায়। দেখতে পায় কুহু গিয়ে দাঁড়িয়েছে দীপ্রর পাশে। লম্বাটে দীপ্রর দৃষ্টি কুহুর দিকে। আর কুহুর দৃষ্টি নামানো। দৃশ্যটি সাধারণ হলেও, সায়েরের ভেতরটা কেমন করে ওঠল। ও শুধু বলল,”কুহু তো বিয়েটা করতে চায়নি। বিয়েটা হয় ও নি। তবে, এখন কেন গল্প অন্যদিকে যাচ্ছে?”

দীপ্রর শরীর থেকে দারুণ এক ঘ্রাণ নাকে এসে লাগছে। লুকিং গ্লাসে কুহুকে একাধিক বার দেখল দীপ্র। তারপর শুধাল,”আজ ভার্সিটি আসতেই হলো?”

“একটু কাজ ছিল।”

“অনেক গুরুত্বপূর্ণ?”

“কিছুটা।”

“সব কেমন চলছে?”

“ঠিক ঠাক।”

“আর সায়ের?”

এ কথায় কুহু থম ধরে রইল। দীপ্র সামনের দিকে দৃষ্টি রেখে বলল,”ও তোকে বিরক্ত করে?”

“না।”

“তবে?”

“কিছু না তো।”

“তোকে তো পছন্দ করে। অথচ ওর সঙ্গ তোকে বিরক্ত করে না?”

“আপনাকেও তো আয়ানাপু পছন্দ করে। আপনিও তো তার সঙ্গ বিরক্ত বোধ করেন না।”

দীপ্র বুঝল, কুহু বেশ ভালোই একটা প্যাঁচ দিয়েছে। ওর কেন যেন ভালো লাগল। ও হাসতেই কুহুর অস্বস্তি হলো।

“হাসছেন কেন?”

“তুই চাচ্ছিস, আয়ানার সঙ্গ আমি বিরক্ত বোধ করি?”

“আজব, আমি কেন চাইব?”

“উম সেটাও ঠিক কেন চাইবি।”

“হুম।”

বলে মুখটা শুকনো করে রাখল ও। দীপ্র ওর দিকে একবার চাইল। তারপর আবারো বলল,”লাবিবা কী ইশারা করছিল?”

চোখ দুটো মুদিত করল কুহু। দীপ্র ভাই এটাও খেয়াল করেছেন! ও ক‍থা কাটাতে বলল,”কিছু না। ওসব আপনি বুঝবেন না।”

“আমি বুঝব না? কথা কাটাতে চাইছিস?”

“উফ! কথা কেন কাটাব না। আপনিও না…

“আমি কী?”

“জানি না।”

আবারো হাসল দীপ্র। কুহুকে বিভ্রান্ত করতে ওর ভালো লাগছে। ও এক পলক নজর ফেরাল লুকিং গ্লাসের দিকে। কুহুর এই বিভ্রান্ত, কিছুটা লাজুক মুখশ্রী দারুণ ভাবে আর্কষণ করছে।

আমার খুব ট্রমা লাগতেছে। আমি তখন এডিট করতেছি। এমন সময়, ভূমিকম্প অনুভব হলো। এডিট করতে পারিনি। আর ধৈর্য হয় না। ভুল ক্রুটি মাফ করবেন। আর সবাই আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারেন শুধু তিনি।

চলবে…
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply