Golpo romantic golpo প্রণয়ের রূপকথা

প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ৩০


প্রণয়ের_রূপকথা (৩০)

সায়েরের মুখোমুখি পড়তেই হলো। ও থমথমে ভাবে বলল,”আমাকে এখনো ক্ষমা করা যায় না?”

“না। যায় না।”

“প্লিজ কুহু।”

“সায়ের আমি বলেছি আমার সামনে না আসতে।”

“তুই কেন বুঝিস না ভাই? তোকে ভালোবাসি।”

“এই কথা গুলোর জন্যই আমার বিরক্ত লাগে। তোকে বলে বলে ক্লান্ত।”

ওকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল কুহু। সাথেই ছিল লাবিবা। ওর দিকে অসহায় হয়ে চাইল।

“একটা কথাও না। তোর জন্য আমি আর কিচ্ছু করব না।”

“লাবিবা তুই তো বোঝ একটু।”

“কিছু বোঝার নেই।”

বলে লাবিবাও চলে গেল। সায়ের নিসঙ্গ হয়ে বসে রইল। তার সবটা এলোমেলো লাগছে।

কুহুর সাথে চা খেয়ে বের হতে নিচ্ছিল লাবিবা। ঠিক তখনই লাবিবা বলে ওঠল,”এই কুহু। ওটা তোর কাজিন না?”

কুহু ওর কথায় দৃষ্টি ফেরাল। দেখল দীপ্র ভাই দাঁড়িয়ে। ফোনে কথা বলছেন।

“ওনিই তো তাই না?”

“হুম।”

“ভাই, ছবির থেকেও সুন্দর।”

এ কথা বলতেই কুহু তাকাল লাবিবার দিকে। ও মেকি হাসি হেসে বলল,”আসলেই ভাই। এমন একজনকে রিজেক্ট করছিস তুই!”

“আমি না। আমাকেই করেছেন।”

“ধুর, কি যে বলিস তুই। পালাবি এটা জেনেই তো করেছে। না হলে কখনোই করত না।”

“কে জানে। যাক গে ওসব কথা। ওনি হলো আয়ানাপুর প্রেমিক।”

“মুখটা খারাপ করাবি না। তোর এই কাজিনকে পেলে আমি আসলেই চড় দেব।”

ওর কথায় হেসে ফেলল কুহু। বলল,”আরে, তুই ও না।”

“আমি কি? ঐ মেয়ের জন্যই সব এলোমেলো হলো।”

“থাক, বাদ দেই। চল আমরা যাই।”

বলে সামনের দিকে এগোতে যাচ্ছিল কুহু। তখনই দীপ্রর ডাক কানে এল।

“কুহু।”

ও ভেবেছিল দীপ্র ভাই বুঝি অন্য কাজে এসেছেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তিনি এদিকেই এগিয়ে আসছেন। কুহু চোখ ছোট ছোট করে চাইল।

“কী ব্যাপার বল তো। ওনার সাথে তোর মিটমাট হয়েছে নাকি? নাকি আবার আমাকে ধরবে। আমার তো ভয় টয় লাগছে রে।”

“আরেহ তেমন না। মিউচুয়াল একটা ডিসিশনে এসেছি। আল্টিমেটলি ভুল তো আমি কম করিনি।”

কুহু আজকাল নিজের ভুল গুলো স্বীকার করে চলেছে। অথচ আগে একদমই করত না। উল্টো ইনিয়ে বিনিয়ে দীপ্রকেই দোষ দিত। দীপ্র কাছাকাছি চলে আসায় ওরা আর কথা এগোল না। কুহু বলল,”এখানে আপনি?”

“হুম। তোকে নিতে এসেছি।”

পুরোই অবাক হলো কুহু। লাবিবা একটু খুশিই হলো। বলল‍,”আমি যাই রে কুহু। পরে কথা হবে।”

বলে লাবিবা চলে গেল। একদমই সময় দিল না। কুহু সেদিকে চেয়ে বলল,”চলে গেল। কথা বাড়াতেই দিল না।”

“লজ্জা পেয়েছে বোধহয়।”

“লজ্জা কেন পাবে?”

বিস্ময় নিয়ে শুধাল কুহু। দীপ্র বলল‍,”তোকে পালাতে সাহায্য করার কথা ছিল যে।”

ব্যাপারটা মনে করে কুহু বলল,”ও, সেটাও কথা। আমিই ভুলে গিয়েছি।”

“হুম। শোন এবার।”

কুহু তাকাল। বলল,”কী?”

“রাত্রি আর অরণ্যর বিষয়ে ভেবেছি। আমার একটা প্ল্যান আছে।”

“কী প্ল্যান?”

“যেতে যেতে বলি?”

গাড়ি নিয়ে এসেছে দীপ্র। কুহু গাড়ি খানা দেখে বলল,”আপনার গাড়িতে যাব না।”

“গাড়ি আবার কী সমস্যা করল?”

“সমস্যা না। পরে আবার আমাকে বকা খেতে হবে। আয়ানাপু আমার চুল ছিঁড়বে।”

একটু রসিকতার মতন করেই বলল কুহু। দীপ্র ঠোঁট কামড়ে বলল,”আজব কাহিনী।”

“মজা করে বললাম।”

“বুঝেছি।”

“হুম।”

কুহু গাড়িতে ওঠে বসল। দীপ্র একটা বিষয়ে খুশি। কুহু আগের মতন চঞ্চলতা ফিরে পাচ্ছে। ভালো ভাবে কথা বলছে।

“অরণ্য ভাইয়া আর রাত্রি আপুর ব্যাপারটা?”

“ও হ্যাঁ। বিয়ের প্রস্তাব আনতে হবে।”

“বুঝলাম না।”

“রাত্রির জন্য ছেলে আনব। বিয়ের কথা বার্তা বলাব।”

“সেকি, তাহলে তো আরেক ঝামেলা। রাত্রিপুর সাথে তো অন্য কারো বিয়ে হয়ে যাবে।”

“শোন কথাটা। বিয়ের প্রস্তাবটা ফেইক হবে। যদি রাত্রি কিংবা অরণ্য, একে অপরের জন্য মায়া রাখে, তবে ওরা নিজেরাই এক হবে।”

আইডিয়া ভালো। কুহুর পছন্দ হলো। ও সায় জানাল। দীপ্র বলল,”কোথাও বসবি?”

“কোথায়?”

“চা বা কফি?”

“না। দরকার নেই। শেষে….

“আয়ানার কথা টানিস না প্লিজ।”

“আচ্ছা, চলেন বসি। বিল আমি দেব।”

গাড়ি চালানো অবস্থাতেই কুহুর দিকে তাকাল দীপ্র। কুহু একটুখানি হেসে বলল,”ঋণ রাখতে চাই না।”

“অহ। কিন্তু আমাকে ঋণী করতে চাচ্ছিস?”

“বলতে পারেন।”

“ঠিক আছে। হলাম ঋণী। সময় হলে শোধে আসলে ফেরত দেব।”

হোটেলের কাজে দীপ্র-কুহুর দূরত্ব কমেছিল। রাত্রি-অরণ্যর বিষয়টা আসায় তা আরো অনেক নেমে এসেছে। এটা বোধকরি সবার আগে খেয়াল করলেন ববিতা। তিনি দ্বিধায় আছেন। ভাবছেন মেয়ের সাথে খোলামেলা আলোচনা করবেন কি না। একটু ভয়ে আছেন তিনি। সেবার দীপ্রর প্রতি অনুভূতি ছিল না কুহুর। তাই দীপ্র বিয়ে ভেঙে দেয়াতে মেয়েটির ওপর সেভাবে প্রভাব আসে নি। কিন্তু এই মেলামেশাতে যদি অনুভূতি চলে আসে। তখন তো আরেক ঝামেলা। রাতের বেলা এই বিষয়টি নিয়েই কথা বলতে এলেন তিনি। মেয়ের সাথে খোলামেলা আলোচনা করলেন। কুহু বলল,”আমি এসব নিয়ে ভাবি না মা। আর কারো দোষ ও নেই।”

“তুই সব স্বাভাবিক করছিস। আমি খুশি। কিন্তু কুহু। শেষে মনটা হারিয়ে না বসলেই হয়।”

“হারাব না।”

বলে মায়ের হাতখানা স্পর্শ করল কুহু। অনেকটা দ্বিধা নিয়েই স্পর্শ করেছে ও।

“এতিম খানায় ঘুরে আসতে মন চাচ্ছে। অনেক দিন হয় যাওয়া হয় না। কণাকে নিয়ে যাব কী?”

“হ্যাঁ, যা। আরেকটা কাজ করা যায়, ওদের জন্য এক বেলার খাবার রান্না করে দিই যদি।”

“এটা তো আরো ভালো হয়।”

“হুম। তোকে আরো একটা কাজ করতে হবে। বাচ্চা গুলোর কি কি লাগে না লাগে সেসবের একটা লিস্ট করতে হবে। পারবি তো?”

“হুম, পারব।”

কাদের যে সম্পত্তি পেয়েছিল তার সিংহভাগ এতিমখানার জন্য বরাদ্দ করে রাখা। অনেক আগে থেকেই ওরা এতিমখানা চালিয়ে এসেছে। কিন্তু সম্পত্তি ভাগের সময় এতিমখানার দায়িত্ব কেউ নিতে চাইল না। শেষমেশ কাদেরই নিলেন দায়িত্বখানা। তিনি সন্তানদের জন্য সামান্য কিছু অংশ রেখে বাকিটা বর‍াদ্দ করলেন এতিম খানার জন্য। ধানি জমি থেকে বছরে যে আয় হয় তার সবটাই যায় এতিমখানাতে। আগে কাদের ফান্ডিং করে আরো কিছু টাকা দিত। তিনি চলে যাবার পর সবটা তো এলোমেলোই হলো। তাই এখন বাচ্চাদের অসুবিধাই হয়। এ খবরটি ববিতার কানে এসেছিল। কিন্তু তিনি নিজেই যে অসহায়। কি করবেন বুঝে ওঠেন নি। সেই দুঃখ থেকে এতিমখানায় যেতেও পারেন নি। এখন যেহেতু ব্যবসা দাঁড় করালেন তাই ভেবেছেন কিছু অংশ এতিমখানার জন্য রাখবেন।

মা চলে যেতেই কুহু ল্যাপটপ নিয়ে বসল। ল্যাপটপে আজ সোশ্যাল একাউন্ট এড করেছে। ও লগ ইন করতেই শুরুতেই চোখে পড়ল দীপ্রর আইডি খানা। কুহু যখন স্ক্রল করতে গেল তখনই ভুল বসত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট চলে গেল। এদিকে বান্দা দীপ্র নিমিষেই অ্যাকসেপ্ট করে নিল। কুহু হতাশ হয়ে ম্যাসেজটা পাঠাল।

“ভুলে রিকোয়েস্ট চলে গিয়েছিল। রিমুভের আগেই দেখি অ্যাকসেপ্ট।

ম্যাসেজ সীন করল দীপ্র। তবে উত্তর দিল না। কুহু ঠোঁট কামড়ে কিছু একটা বলতে নিতেই খেয়াল করল দীপ্র তাকে আনফ্রেন্ড করে দিয়েছে। বিষয়টা কুহুকে বোকা বানিয়ে দিল। সে একটু ভাব নিয়ে ইট মে রে ছিল। কিন্তু পাটকেলটা দীপ্র ঠিকই দিল!

চলবে…
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply