Golpo romantic golpo প্রণয়ের রূপকথা

প্রণয়ের রূপকথা পর্ব ১৩


প্রণয়ের_রূপকথা (১৩)

কুহু কেমন যেন চুপ হয়ে গিয়েছে। দুটো দিন মেয়েটি ঘর থেকে বের হয়নি খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া। একটা ভয়, দু চোখের পাতায় সব সময় লেপ্টে থাকে। মা হিসেবে ববিতা সেটা লক্ষ্য করতে পারেন। তবু একটু সময় নিয়েছিলেন। এবার মনে হলো কথা বলা প্রয়োজন। মেয়েকে কক্ষে না ডেকে তিনি নিজেই গেলেন। কুহু উদাস ভরা দৃষ্টি দিয়ে জানালার বাইরেটা দেখে চলেছে। মায়ের আগমন ধরতে পারেনি তখনো।

“কুহু, কী করছিস রে?”

সহজ করার জন্য এভাবে কথা শুরু করলেন তিনি। কুহু একটু ধীর ভাবেই নজর ফিরিয়ে মায়ের পানে চাইল।

“কী করছিস? এমন উদাস কেন লাগছে?”

“উদাস লাগছে?”

“দুদিন ধরে কেমন চুপচাপ। কী হয়েছে তোর?”

কুহু একটু সময় নেয়। তারপর বলে,”খারাপ লাগছে মা।”

“কেন? শরীর অসুস্থ নাকি?”

বলে মেয়ের গাল খানা স্পর্শ করেন তিনি। কুহু উদাস কণ্ঠটায় শক্তি ফিরিয়ে এনে বলে,”না মা। ঠিক আছি।”

“তাহলে?”

“আমরা কি কিছু ভুল করলাম? বিশেষ করে আমি? যদি চাচারা আবার চলে যান সব ভেঙে। দাদিজান কষ্ট পাবেন।”

বলে কুহু থামল। ববিতাও কেমন মৌন রইলেন। কুহু মায়ের হাত খানা ছুঁতে গিয়েও ফিরে এল।

“আমার জন্য এমনটা হলো মা। আমি সব নষ্ট করে ফেললাম।”

“কুহু! কী সব কথা?”

“আমি কী করব এখন? আমার ভালো লাগছে না। ভয় হচ্ছে।”

“ভয় কেন পাচ্ছিস? পাগল নাকি?”

বলে মেয়ের মাথায় হাত রাখলেন তিনি। কুহুর কেমন কান্না পেল।

“দেখ, শুরুটা দীপ্র করেছে। দোষ যদি হয়েই থাকে তবে দীপ্রর সেটা।”

কুহু কিছু বলল না। চুপ রইল। মা বললেন,”তুই নিজেকে দোষ দিবি না। আর চলে যাওয়ার হলে আগেই যেত। তার থেকেও বড়ো কথা হলো, তোর চাচারা উদ্দেশ্যের জন্যই এসেছে। আমিই সেটা ধরতে পারিনি।”

“কেমন উদ্দেশ্য মা?”

ববিতা হতাশ হয়ে বললেন,”গ্রাম ছাড়ার আগে তোর দাদার সমস্ত সম্পত্তি ভাগ করে দেয়া হয়েছিল। তারা নিজেদের অংশ বিক্রি করে চলে যায়। নিজেদের স্বার্থ দেখে। অন্যদিকে তোর বাবা, নিজের অংশ দিয়ে সবটা আগলে রাখে। এখন তোর দাদিজানের সম্পত্তির প্রতি সবার চোখ। ওনার নামের অংশ গুলো ভালো দামে বিক্রি করতে পারবে। এসেছে সেই জন্যই। আমিই বোকা। আবেগে তোর সাথে দীপ্রর বিয়েটা দিতে চেয়েছিলাম।”

বলে হতাশার নিশ্বাস ফেললেন তিনি। কুহু বলল,”চাচারা আবার চলে যাবেন?”

“যাবেন অবশ্যই। গ্রামে থাকার জন্য তারা এসেছে তোর মনে হয়? তোর দাদিজানের নিশ্বাস থাকা অবধিই থাকবেন তারা। মিলিয়ে নিস।”

কুহু কথা বলতে পারল না। বিষয় গুলো এতদিন তার মাথায় আসেনি। মায়েরও আসেনি। তারা ছিল শোকে কাতর। অথচ এখন মনে হচ্ছে, সবাই নিজেদের স্বার্থই দেখেছে। মাঝে তাকে বলি করা হচ্ছিল। শুধুই এত সময় নিজেকে দোষ দিচ্ছিল! কুহুর রাগ হলো। সে নিজেকে আর দোষ দেবে না। কোনো দোষ করেনি সে। কোনো ভাবেই করেনি। না আগে। না এখন।

পুরো চব্বিশ ঘন্টা পর দীপ্র’র সাথে কুহুর দেখা। একেবারেই অনাকাঙ্খিত ভাবে একে অপরের চোখে চোখ পড়ে গিয়েছে। দীপ্র গতকাল গিয়েছে শহরে। আজ ফিরল। তবে বৃষ্টি হওয়াতে ভিজে গিয়েছে একদম। কুহু একটু থ ধরে গিয়েছে। দীপ্র পাশ কাটিয়ে যাওয়ার আগে বলল,”এভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছিস কেন? তোর জন্য তো মানুষজন চলতেও পারবে না।”

থমকানো কুহু সরল একটু। দীপ্রর কথার জবাবে বলল‍,”একই কথা তো আমিও বলতে পারি। আপনিও মাঝে এসে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন।”

কয়েক পা এগিয়ে গিয়েছে দীপ্র। এবার থামল। চাইল পেছন ফিরে।

“আমি দাঁড়িয়েছি?”

“জি।”

“তোর দাঁড়িয়ে পড়া দেখেই, দাঁড়িয়েছি।”

“আমি তো দাঁড়াতে বলিনি।”

ভ্রু কুঞ্চিত করল দীপ্র। তার বোধহয় বিরক্ত লাগছে। কুহু ছোট করে বলল,”সেদিন আমাকে দোষ দিয়েছিলেন। আমি ভেবে দেখেছি।”

“কী?”

“আমার কোনো দোষ নেই। নেই মানে নেই।”

বলেই নিশ্বাস ফেলে কুহু। এই কথা গুলো বলতে তার বেশ কষ্টই হয়েছে। লোকটার সামনে খুব বেশি কথা আসে না। কেমন একটা নিশ্বাস বন্ধ হবার মতন অনুভূতি হয়। অথচ ছোট বেলায় তাদের ভীষণ ভাব ছিল।

কুহু চলে যেতেই দীপ্র তাচ্ছিল্যর মতন হাসল। কুহু খুব সুন্দর ভাবে নিজের দায়টুকু অস্বীকার করে গেল। দীপ্র আওড়াল,’কুহু, দোষ নেই তোর। দোষ নেই। সব দোষ শুধুই দীপ্র’র। মেনে নিলাম আমি। তবু ভালো থাক সবাই।’

আয়ানার বিষয় গুলো দীপ্র ধরতে পাচ্ছিল। ওর চলন বলন চাহনি অনেক কিছুই প্রমাণ করে। দীপ্র গোসল শেষ করে এসে দেখল আয়ানা ওর কক্ষে এসে বসেছে। বিষয়টা দীপ্রর পছন্দ হলো না। এর কারণ আয়ানা অনুমতি না নিয়ে এসেছে। অবশ্য এটা বড়ো সমস্যা না। সমস্যা হলো মেয়েটির উদ্দেশ্য। যা দীপ্রর ভালো লাগে না। ও একটু কঠোর হয়েই বলল,”হুট করে এখানে কী আয়ানা?”

আয়ানা এক নজর চেয়ে ছিল। দীপ্রর চুল ভেজা। সুঠাম দেহে পানির বিন্দু ছিল। টি শার্টে হালকা ছোঁয়া লেগে আছে। মারাত্মক আকর্ষণীয় লাগছে মানুষটাকে। আয়ানার তখনো ধ্যান নেই। দীপ্র একটু বিরক্তই হলো।

“আয়ানা।”

এবার নড়েচড়ে ওঠল মেয়েটি। খানিকটা তুতলে গিয়ে বলল,”দাদাভাই, আমি এসেছি এমনি।”

“এমনি?”

“হুম, সরি বলতে। তুমি কি রাগ করে আছ? আমি আসলে কুঞ্জর ভালোর জন্যই সেদিন কথা গুলো বলেছিলাম। ওর শরীর দিনকে দিন ফুলেই যাচ্ছে। তাই বলেছি।”

টানা কথা গুলো বলে মনমড়া হয়ে গেল আয়ানা। দীপ্র ছোট করে বলল,”ঠিক আছে। আমি রাগ করিনি।”

“রাগ করলে আমি সরি। প্লিজ মাফ করে দাও। একদম সরি।”

বলে কিছুটা এগিয়ে এল আয়ানা। দীপ্রর সামনে কান ধরে দাঁড়াল। ওর মুখের ভঙ্গিতে কিছুটা মায়া হলো দীপ্রর। হাজার হোক, ছোট বোন তো। স্নেহটা আসে হৃদয় থেকেই। ও একটু অধর প্রসারিত করে আয়ানার মাথায় হাত ছোঁয়াল। ঠিক সে সময়েই দরজার কাছে এসে দাঁড়াল কণা। সে এসেছে দীপ্র ভাইকে ডাকতে। দুপুরের খাবার খাওয়া হবে। তার জন্য বসে আছে সকলে। কিন্তু এই দৃশ্যটি দেখে ওর আর ডাকা হলো না। ও বরং এক ছোটে এসে পড়ল কুহুর ঘরে। এসে হাঁপাতে লাগল। কুহু তখন আরশির সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছিল। সময় খারাপ যাচ্ছে তার। চেহারায়টা কেমন হয়ে গিয়েছে। ভার্সিটি যাওয়া হয় না কতদিন। সবটা এলোমেলো হয়ে গেল। কণার হাঁপানোর দৃশ্যটা আরশিতে দেখল কুহু। ভ্রু কুঞ্চিত করল। শুধাল,”কী হয়েছে? এভাবে ছুটে এলি কেন? সব ঠিক আছে?”

“কিচ্ছু ঠিক নেই আপু। কিচ্ছু ঠিক নেই। সব শেষ হয়ে গেল রে। সব শেষ হয়ে গেল।”

| জানি ছোট হয়েছে। পরীক্ষার পড়া বাদ দিয়ে লিখলাম। একটু কনসিডার করবেন আশা করি। আর দোয়ায় রাখবেন। |

চলবে….
কলমে ~ #ফাতেমাতুজনৌশি

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply