প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||৮||
ফারজানারহমানসেতু
🚫 কপি কর কঠোরভাবে নিষিদ্ধ 🚫
দৌতলার রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে ছিল মিরান। মুখে চিরচেনা দুষ্টু হাসি। আর পাশে দাড়িয়ে পাঁচ বছরের একটা ছেলে। মিরান আবারও বলল, “ ইংরেজরা কি আবার বাংলাদেশে আসা শুরু করেছে, বাংলাকে গলা টিপে মারার জন্য? “
রেহেনা নেওয়াজ চোখ গরম করে তাকালেন ছেলের দিকে ;বাড়িতে নতুন অতিথি আসলে কেউ এভাবে কথা বলে। মায়ের দৃষ্টি পেতেই চুপ করে রাফেজের ছেলেকে নিয়ে নিচে নেমে এলো। এসে তূর্জানেকে জড়িয়ে ধরে ওয়েলকাম জানালো বাড়িতে ফেরার জন্য। রাফেজ আর রাফিয়ার ছেলে আরাজ তূর্জানকে অনেকবার ভিডিও কলে দেখেছে তাই তারও চিনতে দেরি হলো না। দৌড়ে তূর্জানের কাছে গিয়ে বলল, “ কাকামনি তুমি চলে এসেছো। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমাকে একটা চিমটি কাটো!”
এইসব ভন্ডদের থেকে শেখা কিছু বিশ্বাস না হলে চিমটি কাটো। তূর্জান চিমটি না কেটে গালে চুমু দিয়ে দিল। আরাজ তূর্জানের সব ফেন্ডকে দেখিয়ে বলল, “ একটা ফুপি, দুইটা ফুপি, আর একটা কাকু। তাইনা? “
সবাই একসাথে বলল, “ হুমম!”
রাফিয়া ছেলেকে বুঝিয়ে কিচেনে গেল। যেন অতিথিদের সাথে বেশি দুষ্টামি না করে। আরাজ মায়ের কথামতো সোফায় বসল। সে এমনিতেই মায়ের কাছে অনেক শান্ত থাকে।শুধু মায়ের কাছে শান্ত থাকে , আর সবার সাথে দুষ্টামি করে।
মিরান অনিলের কাছে গিয়ে বলল,” ভাইয়ার ফেন্ড মানে, আপনিও ভাইয়া? সো ভাইয়াই বললাম, হ্যালো ভাইয়া আমি মিরান নেওয়াজ। ইউ? “
অনিলও হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডসেক করে বলল, “ ইয়াহ, আ’ম অনিল মির্জা। ফ্রম ইন্ডিয়া, আই মিন, আমার আসল বাড়ি ইন্ডিয়াতে? তা তুমি কি করো? “
“ আমি… আমিতো ফুল টাইম ভন্ডামী ওর পার্ট টাইম ভদ্রলোক!”
অনিল হেসে বলল, “ সেইম, বাট আ’ম ফুল টাইম কনফিউশন ওর পার্ট টাইম কনফিডেন্ট!”
পুরো বাড়িতে হাসির রোল পড়ল। এতবড় ছেলেরা এইভাবে কথা বলতে পারে তা এদেরকে না দেখলে বোঝার উপায় ছিল না। তাদেরকে রেস্ট নেওয়ার কথা বলে নেওয়াজ গৃহবধূরা রান্না চাপাতে গেল।রাফিয়া সব নাস্তা তৈরি করেছে ইতিমধ্যে।
ছোটদের মতো তাদের তো আর আড্ডায় দিন শেষ নয়। তবে তূর্জান বা বিদেশ থেকে আসা ফেন্ডদের একটু ক্লান্ত আছে দেখে মনে হচ্ছে না। তাই তাদের লাগেজ নিয়ে রহিমা আর তুবা যার যার জন্য দেওয়া নিদিষ্ট রুমে রেখে এলো।
আর তাদেরকে বলা হলো নাস্তা করার জন্য। লাগজগুলো রেখে এসে তুবাও মিরানের পাশে থাকা আরাজকে মাঝে রেখে সোফায় বসল। তুবা একবার ভাবল, রোজাকে ডেকে আনবে, সে ভাইয়ের অস্থিরতা ঠিকই বুঝতে পেরেছে। কিন্তু রোজাকে ডেকে আনলে এই জোরপূর্বক হাসিও আর থাকবে না। তাই রোজাকে ডাকল না।
মিরানের কানে ফিসফিসিয়ে বলল, “ রোজাকে ডাকবো? “
“ না থাক! ভাইয়া এখনো বলেনি, আর তাছাড়া বড় বাবা আর আব্বু আসা পর্যন্ত ঘটনা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। আর তুই এমন গাধীর মতো মুখ করে রেখেছিস কেন? তোর স্বামী তো আর মারা যায়নি। আমার ভাবতেই অবাক লাগে বেচারা তোর মতো গাধীকে বিয়ে করে নিজের জীবন নষ্ট করবে!”
আরাজ যেটুকু শুনছে তাই বলছে।বলল, “ নিজের জীবন নষ্ট করবে কে কাকু ? “
তুবা আরাজ কে চুপ করতে বলে মিরানকে বলল,
“ তুমি আবার শুরু করলে! আমার বর গাধী পাক আর ঘোড়া পাক তাতে তোমার সমস্যা কোথায়? হাহহ আমি ও দেখবোনে তুমি কোন রুপে রুপবতী, গুনে গুনবতীকে বিয়ে করো। আর তোমার বিষয়ে এতদূর ভাবাও বেশি তোমার মতো ভন্ডকে কে বিয়ে করবে? “
আরাজ আবার লাস্টের কথাটুকু শুনে বলল, “ ভন্ডকে বিয়ে করবে কে? “
তুবা কি করবে এই ছোট্ট ঝামেলাটাকে, যাই বলছে সেও তাই বলছে। তাই তূর্জানকে দেখিয়ে বলল, “তোমার কাকুমনি আজকে এসেছে, তার কোলে গিয়ে বসো।” আরাজ সোফা থেকে নেমে তূর্জানের কোলে গিয়ে বসল।
মিরান বলল,
“ সম্মান দিয়ে কথা বল, আমি তোর বড় ভাই!”
“ কোনদিন সম্মান দেওয়ার মতো কাজ করেছো? আর বড়রা যদি সবসময় ভন্ডামী করে বেড়ায় ছোটরা সম্মান দিবে কোথায়? “
“ সম্মান দিতে জায়গা লাগে? জানতাম তো না! বিশ্বাস কর এই প্রথম তোর থেকে জানলাম সম্মান দিতে জায়গা লাগে। যাহ একদিন অনেক জমি কিনবো সেইদিন সম্মান দিস!”
তাদের ফিসফিস করতে দেখে আ্যমেলা বলল, “ তোমরাআ কিই নিয়ে কথা বলছোওও!”
তূর্জানরা কি যেন কথা বলছে, তাই তারা এইসব খেয়াল করেনি। আ্যমেলাকে একা বসে থাকতে দেখে মিরান দুষ্টামি বাড়িয়ে দিল, বলল, “ এই যে মিস আপনার না কি যেন বললেন? “
“আমার নাম আ্যমেলা.. “ আ্যমেলা বলতে গিয়ে একটু টান দিলো। মিরান হেসে বলল, “ বাহ মিস ঝামেলা, আপনি একদিনেই বাংলাকে মারার মিশনে নেমে আবার মেরেও দিচ্ছেন। আপনার জন্য আমার সোনার বাংলা, নিহত!”
“ আপনি আমার কথাগুলোকে মজা নিচ্ছেন? আমি আপনাদের ভাষাকে সম্মান করি! তাই আপনাদের দেশে আপনাদের ভাষা বলার চেষ্টা করছি। “
“ ওহ মিস ঝামেলা, আপনি রেগে যাচ্ছেন! আমি শুধু মজা করেছি! “
“ আমার নাম আ্যমেলা!”
“ ওই একই হলো, আ্যমেলা, ঝামেলা, ক্যামেলা সব একই!”
তুবাও মিরানের সাথে যোগ দিয়ে বলল, “ হ্যাঁ আপু সব নাম একই, যেমন ধরুন মিরান, কিরান, ধিরান, আরও আছে। আপনি আপনার ইচ্ছামতো ডাকতে পারেন। যেহেতু সব নাম একই! কি বলো ভাইইইয়া!”
তূর্জান হাসিমুখে সবার সাথে কথা বলছে, কিন্তু চোখদুটো এখনো সেই প্রেয়সীকে খুজে চলছে। সে কেন আসছে না। তূর্জান দরজা খোলার শব্দ পেয়ে তাকাল দৌতলার সেই পুরোনো রুমে, গ্ৰানির রুমের পাশে থাকা রুম। বলা হয়েছিলো রোজা আর তুবা বড়ো হলে এই রুমে থাকবে, তাহলে ওই মেয়েটা কে? তুবা যেহেতু এখানে সামনে দাড়িয়ে তাহলে ওই সেই মেয়ে রোজাস্মিতা মেহরোজ। রোজা হেলতে দুলতে রুম থেকে বেরিয়ে এলো। গায়ে মেরুন রঙের কুর্তি। চুল এলোমেলো, হয়তো অনেকক্ষন ঘুমের কারণে, চোখমুখ ফোলা ফোলা লাগছে। মেয়েটাকে বেশ আদুরে লাগছে।তূর্জানের ভিতর থেকে একাই বেরিয়ে এলো “ মাশাআল্লাহ। “
রোজা নিচে নেমে আহম্বক, তার সামনে সব নতুন মানুষ বসে। সে যেভাবে এসেছে এখন না তাকে সবাই কেয়ারটেকার ভাবে। একদিন হয়েও ছিলো তাই, রোজার এমন অগোছালো অবস্থা দেখে একজন ডেলিভারি বয় বলেছিল, “ একটু রোজা ম্যমকে ডেকে দিবেন, তার নামে পার্সেল আছে।”
রোজা বলেছিলো সেই রোজা, কিন্তু লোকটা তাকে বলল, “ আপনি এত অলস, তাও নেওয়াজ পরিবার আপনাকে তাদের কেয়ারটেকার হিসেবে রেখেছে? “
রোজা শুধু হতবাক হয়েছিলো সেদিন, তার চেহারা সত্যিই বাড়িতে থাকা কেয়ারটেকারের মতো। না চেহারা না তার অবস্থা। রোজার অবস্থা কেয়ারটেকারের চেয়েও খারাপ। তার থেকে তাদের বাড়িতে থাকা রহিমা অনেক গুছিয়ে থাকে।
রোজা একটু গোছালো হওয়ার চেষ্টা করে সোফায় এসে বসল তুবার পাশে। যতই হোক নতুন মানুষ, তবে একটা জিনিস খেয়াল করল, সবাই স্বাভাবিক থাকলেও একটা সুদর্শন পুরুষ তার দিকে অগ্নি দৃষ্টি ফেলছে।
রোজা মনে মনে বলল, “কেন ভাই তোর ঘরে মা বোন নেই? মেয়েদের দিকে এমন অগ্নি দৃষ্টি ফেলছিস। লোকে তো ভালোবেসে তাকায় ওইটা মানা যায়, কিন্তু তুই ভাই ভালোভাবে না তাকিয়ে কেন অগ্নি দৃষ্টিতে ঝলসে দিচ্ছিস? “
তুবার কোনে সরে ফিসফিস করে বলল, “ এ আবার কোন আহম্বক? আমাকে ঝলসে দিচ্ছে!”
তুবা মিরান আর আ্যমেলার সাথে কথা বলার কারণে রোজাকে খেয়াল করেনি। তবে রোজার কণ্ঠ পেয়ে বুকের ভিতর ধক করে উঠল। এই মেয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। তুবা রোজার দিকে না তাকিয়ে তূর্জানের দিকে তাকাল। সত্যিই তার ভাই অগ্নি দৃষ্টি নয় লাভা, ম্যাগমা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মিরান আ্যমেলার সাথে বিদেশী গল্প মাতআরা। তুবা মিরানকে কুনুই দিয়ে গুতা দিয়ে সামনে তাকাতে বলল। মিরান আর তুবা দুইজনই ঢোক গিলে বোঝাল, এইটা আসলেই রোজা। তূর্জানের চোখ আগের থেকে শিথিল হলো। রোজা এখনো বুঝতে পারল না হচ্ছে টা কি? ততক্ষনে গ্ৰানি রহিমাকে দিয়ে নাস্তা সার্ভ করল।
তুবা বা মিরান কেউই উত্তর দিচ্ছে না দেখে গ্ৰানিকে দেখে তার কাছে উঠে গিয়ে দাড়াল রোজা , বলল, “ গ্ৰানি এরা কারা? আগে তো দেখিনি? “ তোমার কোন আত্মীয়? “
তূর্জানের বুকের ভেতর কেঁপে উঠল। তার এইমূহুতে মনে হলো পায়ের নিচের মাটি এক পা পিছিয়ে গেলো, সাথে সে । পরমূহর্তে মনে পরল, হয়তো অভিমানে এমন বলছে! বলুক! সব অভিমান ভেঙে দেবে।
তূর্জান ওখানে দাড়িয়েই বলল,“রোজা ”
“ হুমম! আমি রোজাস্মিতা মেহরোজ। কিন্তু আপনি কে, আর আপনি আমার নাম জানলেন কি করে?”
“ কেন না জানার কথা ছিলো? “
“ আমি কেমনে জানবো। “
তারপর গ্ৰানির কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, “ গ্ৰানি তোমার আত্মীয়স্বজন পাগল তা তো বলোনি, কেমন অদ্ভুত কথা বলে।”
“ আচ্ছা আগের পরিচয় বাদ দিতে চাচ্ছিস বাদ দিয়ে দিলাম। এখন না হয় আবার পরিচিত হই।”
রোজা ভ্রু কুঁচকে তাকাল। এ লোক পাগল সন্দেহ ১০০% সত্যি। একে তো যাকে চেনে না, সে বলছে তার সাথে পুরোনো পরিচয় বাদ। আবার প্রথম সাক্ষাতে তুই তুকারি করছে। কিছু বলতে যাবে তার আগেই রাফিয়া এসে বলল, “ রোজা এইটা তূর্জান ভাইয়া!”
“ওহ… আপনি তূর্জান ভাই,বিদেশ থেকে এসেছেন? আসলে আমি চিনতে পারি নি। হয়তো আমি আপনাকে যখন দেখেছি অনেক ছোট ছিলাম। তাই চিনতে ভুল হয়েছে।”
তূর্জান ধীরে বলল,
“হ্যাঁ, বিদেশ থেকে এসেছি। “
তারপর গ্ৰানির দিকে তাকিয়ে বলল,” গ্ৰানি কিছু একটা গোলমেলে লাগছে? “
ততক্ষনে তাজারুল নেওয়াজ, আর মোস্তফা নেওয়াজ বাড়িতে আসলেন। এসেই এমন একটা কথা শুনবেন তা আশা করেননি! এখন কি হবে? তূর্জান তার ভরসায় রোজাকে রেখেছিলো। কিন্তু রোজার তো আগের কিছুই মনে নেই। তাজারুল নেওয়াজ মোস্তফা নেওয়াজের দিকে তাকাতেই দেখলেন, তিনিও তার দিকে তাকিয়ে আছে। কি করবে দুইভাই, এ ছেলের রাগ সম্পর্কে তারা অবগত। এখন যদি বলে সে এই বাড়িতে থাকবে না। দুইভাই আমতা আমতা করে বাড়িতে ঢুকল। তূর্জানের দিকে তাকিয়ে বলল, “ কেমন আছো তূর্জান? “
“ এতক্ষন মনে হয় ভালো ছিলাম, তবে এখন থাকতে পারছি না। কিছু লুকাচ্ছেন আমার থেকে?”
“ আমি মাত্র বাড়িতে ফিরলাম, তোমার থেকে কি লুকাবো? “
তূর্জান রোজার দিকে আবার ও অগ্নি দৃষ্টি ফেলে তাকিয়ে বলল, “ রোজা রুমে যা। “
আকস্মিক কথায় রোজা কিছু বুঝতে পারল না। দাড়িয়ে রইলো। তূর্জান রোজার দিকে এবার না তাকিয়েই বলল,” রুমে যেতে বলেছি না। “
রোজা দ্রুত পায়ে আরাজকে নিয়ে রুমে ছুটল। কি রে বাবা, এই লোক এসেই এমন বিহেব করছে যেন রোজা তার বউ। আর সে যা বলছে তাই করতে হবে। ফালতু লোক একটা!
রোজা রুমে যেতেই তাজারুল নেওয়াজ বললেন, “ ওকে ধমকালে কেন? “
“ আমার বউ আমি ধমকাই আর যাই করি তোমার কি? এসব কথা বলে ভেবেছো আসল কথা চেপে যাবে! এবার সব বলো, ফাস্ট টু লাস্ট। একটা কথাও যেন বাদ না পরে।”
মোস্তফা নেওয়াজ বললেন, “ দেখ তূর্জান বাবার সাথে কেউ এমন কথা বলে? “
“ তাহলে উনি বাবা হয়ে সব চেপে গেলেন কিভাবে? কি হয়েছিলো আমি তাই শুনতে চাই, এর বাইরে একটা কথাও না। “
বলেই ডাইনিং থেকে একটা চেয়ার তুলে আচড়ে ফেলল। তানিয়া নেওয়াজ নিরবে চোখের পানি ফেলছেন। তিনি বারবার বলেছেন, যেন তূর্জানকে সব জানিয়ে দেয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা। এখন তার ছেলে কি করবে তার কোনো হদিস নেই। তাজারুল নেওয়াজ এমনিতে রাগী হলেও যেহেতু ভুল করেছে তাই আজ রাগতেও পারলেন না। এখন তার মনে হচ্ছে সত্যিই তূর্জানকে সেই সময় জানানো উচিত ছিলো। তাজারুল নেওয়াজকে চুপ থাকতে দেখে তূর্জান গর্জে উঠল। “ আজকে বলবে নাকি এই বাড়িতে আমার শেষ দিন দেখবে? “
তাজারুল নেওয়াজ বাধ্য হয়ে সব বলতে শুরু করলেন। যেখানে দেখা গেল তূর্জানের না বলে যাওয়াটাই বেশি ইফেক্ট ফেলেছে রোজার উপর। তূর্জান ধপ করে বসে পড়ল সোফায়। অনিল আর আলিশা এসব শুনে হতবাক। তারা নিজেরাই এই ঘটনা শুনে কষ্ট পাচ্ছে। সেখানে তূর্জান কি করে চুপ থাকবে। মিরান এগোতে গেলে তূর্জান হাতের ইশারায় থামিয়ে দিলো। তাজারুল নেওয়াজ কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ আজ থেকে কাউকে আর কথা দিবেন না নেওয়াজ সাহেব। জানেন তো আপনার কথার ভরসায় রেখে গিয়েছিলাম। আর আপনি সেই কথা রাখতে পারলেন না। তাহলে ধরে নেওয়া যায় আজ থেকে নেওয়াজ বংশ ও মিথ্যা বলে বেঈমানী করে? “
বলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে পা বাড়াল। তানিয়া নেওয়াজ এবার জোরে কেদে উঠলেন। তবে এ কান্নাও আজ তূর্জানকে থামাতে ব্যর্থ। দৌড়ে স্বামীর পাশে দাড়িয়ে বলল, “ আজ যদি আমার ছেলে এই বাড়ির চৌকাঠের বাইরে পা রাখে, মনে রেখ আমিও বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো। “
তাজারুল নেওয়াজ কি করবেন বুঝতে পারল না। মোস্তফা নেওয়াজের দিকে তাকাল। তিনি বুঝতে পারল তাকেই কিছু করতে হবে।তিনি বলল,
“ আমরা নাহয় মিথ্যা বললাম,আমাদের সৎ সাহস নেই। তুমি দশবছরের মেয়েকে সহজে পেয়েছিলে। তো তোমার এখন এত সৎ সাহস আমার মেয়েকে তোমার দিকে ঘুরিয়ে দেখাও।”
এইসময় এই কথা অহেতুক ছাড়া কিছুই না। তবে তূর্জান থেমে গেল। ঘুরে তাকাল কাকামনির দিকে। মোস্তফা নেওয়াজ বুঝলেন অহেতুক কথা হলেও এখন ঠিক জায়গায় লেগেছে। দুর্বলতা বুঝে আবার বলল, “ হেরে বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছো, সৎ সাহস থাকলে বাড়িতে থেকে আমার মেয়েকে তোমার পিছনে ঘুরিয়ে দেখাও। “
“ চ্যালেঞ্জ করছো? “
“ তোমার মনে হলে তাই! “
“ আপনি হেরে গেলে আমি কি পাবো? “
“ ভয় দেখাচ্ছো? সে এখন ছোট রোজা নয়। যে তোমার এক কথাই গলে যাবে!”
তূর্জান ফিরে এলো, মোস্তফা নেওয়াজ কে ডিঙিয়ে তাজারুল নেওয়াজের সামনে দাড়িয়ে বলল, “ ভাগ্গিস আপনার ভাই চ্যালেঞ্জ দিলো, নয়তো আমি ফিরতাম না। তা আপনি ভালো করেই জানেন। আর আমি ফিরেছি মানে হার আপনাদের নিশ্চিত। “
“ ভয় দেখাচ্ছো? “
“ আপনাদের যা মনে হয়!”
মোস্তফা নেওয়াজের দিকে তাকিয়ে বলল,”তবে রেডি থাকুন, খুব শীঘ্রই আপনাকে আমার শশুড় বানাবো। মেয়ে যখন আপনার হয়ে গেছে আপনাকে এখন থেকে শশুর বলেই ডাকবো। “
তারপর তানিয়া নেওয়াজ কে অনিল, আলিশা আর আ্যমেলাকে খাবার দিতে বলল। আর তাকে যেন কালকের আগে কেউ ডিসটার্ব না করে,বলেই নিজের রুমে হাটা ধরল। তানিয়া নেওয়াজ চুপ থেকে চোখে জল ধরে রাখল। যাক ছেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়নি। তাই আপাতত মোস্তফা নেওয়াজ কে একটা ধন্যাবাদ দিতে ভুললো না কেউ। তূর্জান যেতেই মিরান বলল,
“হুমম, সবসময় আমাকে বলো ভন্ডামী করে বেড়াই। আজ বাবাকে দিয়ে একথা না বলালে ভাইয়া এতক্ষন বাড়ির বাইরে থাকতো। “
সবাই মিরানের দিকে তাকাল। তাইতো সবাই বলি, তোর বাবার মুখ থেকে তোর কথা কেমনে বের হলো। “
আবার কান্নার মাঝে একবার হালকা হাসির রোল পড়ল। তূর্জান রোজার ঘর পেরোবে এমন সময় দেখা মিলল রোজার। দরজা খুলে আরাজকে নিয়ে বেরিয়ে আসছে। তূর্জানকে থেমে যেতে দেখে রোজাও থেমে গেল। তূর্জানের চোখদুটো লাল হয়ে আছে। তূর্জান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে সরি বলে নিজের রুমে চলে গেলো। রোজা ভাবল হয়তো তখনকার জন্য সরি বললো। কিন্তু সে বুঝতে পারল না তূর্জান তাকে ঠিক দশবছর আগে না বলে যাওয়ার জন্য সরি বলল।
★★
রাত গভীর। তূর্জান নিজের ঘরে বসে আছে।
ড্রয়ার খুলে বের করল ছোট্ট একটা রঙিন ফিতা। নয় বছর আগে ছোট্ট রোজা তার ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়েছিল।তূর্জান ফিসফিস করে বলল,
“তুই কি সত্যিই আমাকে ভুলে গেলি রোজা? তবে যে বললি, তুই প্রমিস ভাঙিস না। তবে সত্যিই তুই প্রমিস ভাঙিস নি, আমার সব আমি নিজের হাতে শেষ করলাম!”
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে মিরান চিন্তিত গলায় বলল,“ভাইয়া সব শেষ হয়নি।বনু ঠিক তোমাকে চিনবে।”
তূর্জান কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
“শুরুও হয়নি, দশবছরের রোজা ও নেই এখন যে ওকে চকলেট দিয়ে আমি বোঝাতে পারবো, যেখানে স্মৃতি নেই, সেখানে আশার ফুল ফোটানো সহজ নয়।”
মিরান ফিসফিস করে বলল,
“স্মৃতিরা না থাকলেও অনুভূতিরা থাকে। ওর চোখে আমি দেখেছি কিছু কৌতূহল আছে তোমাকে নিয়ে। সেগুলো সত্য প্রমান করো। আর তাড়াতাড়ি আমাকে শালা ডাকো, ভাগ্গিস সেদিন বড়মাকে বড় মা বলেছিলো,নয়তো আজ তুমি অন্য কারো শালা হতে। আমার ক্রেডিট আমাকে দেও,আমি তোমার শালা ডাক শোনার জন্য শুকিয়ে যাচ্ছি!”
ইনশাআল্লাহ চলমান…..
আজকে মন ভরবে তো পাঠিকারা ২১০০+ শব্দ আছে।
আজকে সবার মনের কথা জানতে চাই। ইয়া বড় বড় কমেন্ট করুন। হা হা এমনি বললাম। আপনাদের ইচ্ছা 🥰
Share On:
TAGS: প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা, ফারজানা রহমান সেতু
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা গল্পের লিংক
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৩
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৬
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৯
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৭
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৫
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৪
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২