Golpo romantic golpo প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা

প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৩২


প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||৩২||

ফারজানারহমানসেতু

তূর্জান বলল, “চল আজকে তোকে দেখাই, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া মানুষের সাথে কি করা উচিত।” তূর্জানের কোলের মধ্যে থাকা অবস্থাতেই রোজার বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধুকপুক করে উঠছে।অথচ তূর্জান কথাটা বলেই একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটছে তূর্জান।আর রোজা…? রোজা একেবারে ফ্রিজ !
তড়িঘড়ি করে বলল,“এই… নামান আমাকে!”

“ কেন? তুই না অজ্ঞান হয়ে গেছিস! তাহলে নামাবো কেন?”

এবার একটু জোরে বলল রোজা, “আমি অজ্ঞান হইনি! নামান।”

তূর্জানের ঠোঁটে মুচকি হাসি রেখে বলল,“আরে না তুই একটু আগে বললি অজ্ঞান হয়ে গেছিস, আমি আবার অসুস্থ মানুষকে সেবা করতে পারি…”

“ প্লিজ নামিয়ে দিন। প্রমিস আর এমন করবো না। আপনার সব কথা শুনবো। “

“ কতদিন? “

রোজা আনমনেই বলল, “ আজীবন। কিন্তু এখন নামিয়ে দিন। “

“ উহু! তুই মিথ্যা বলে, নাটক করলি। আজকে তার শাস্তি দিবো।”

রোজা চোখ বড় বড় করে তাকালো। বলল,“আমাকে আবার কেমন শাস্তি দিবেন ?”

“ভি আই পি ট্রিটমেন্ট চিনিস? ভিআইপি ট্রিট দিবো তোকে! চল দেখাই।”

রোজা এবার সত্যি সত্যি বিরক্ত হয়ে গেল।“আপনি একদম পাগল! বিরক্ত, অসভ্য, বিটকেল, হিটলার। ”

“হুম… সব আমার একমাত্র বউয়ের জন্যই।”

এই এক কথায় আবার থেমে গেল সময়। রোজা আর কিছু বলল না। শুধু চুপচাপ রইল। এখন তূর্জানকে খোচানো মানে, নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনা। তূর্জান সরাসরি রান্নাঘরে ঢুকে গেল।
রোজাকে কাউন্টারের উপর বসিয়ে দিল।
“এখন বসে থাক…”

“আমি নিজেই বসতে পারি!”

গম্ভীর গলায় বলল,“ তা কি কি পারিস?”

রোজা ঠোঁট ফুলিয়ে বসে রইল। তূর্জান ফ্রিজ খুলে, নুডুলস রান্না করতে যা যা লাগবে বের করে, তারপর একদম স্বাভাবিকভাবে রান্না শুরু করল। রোজা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
“আপনি রান্না পারেন?”

“না…”

“তাহলে করছেন কেন?”

“তোকে খাওয়ানোর জন্য… পরে আবার তোর বাপকে বলবি আমি সারাদিন না খেয়ে ছিলাম। এমনিতেই তোর বাপ বলল কিছু লাগলে আমাকে বলতে.. এখন তার কথা অনুযায়ী তার মেয়ের সেবা করছি।”

একদম স্বাভাবিকভাবে উত্তর দিল তূর্জান। কিন্তু রোজা থেমে গেল। তার বুকের ভেতরটা আবার কেঁপে উঠল। তূর্জান নুডুলস বানাতে লাগল।
কিন্তু তার চোখ বারবার চলে যাচ্ছে রোজার হাতের দিকে।লাল হয়ে গেছে ,হালকা ফোলা।
তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।হঠাৎ জিজ্ঞেস করল,
“ব্যথা করছে?”

রোজা একটু চুপ থেকে বলল,
“হুম… একটু জ্বলছে ।”

তূর্জান কিছু বলল না। চুপচাপ নিজের কাজ করতে লাগলো,“আমি তো বলেছিলাম রান্না না করতে…”

রোজা এবার রেগে গেল,“সবকিছুতে আপনার কথা শুনতে হবে?”

তূর্জান থেমে গেল। ধীরে ঘুরে তাকালো।
“সবকিছু না। কিন্তু যেগুলো তোর ক্ষতি করে… সেগুলোতে শুনতে হবে। আজকের কথা শুনলে এত কষ্ট করতে হতো না। তোর কি মনে হয় আমি তোর খারাপ চাই?”

রোজা নিচে তাকিয়ে বলল,“না…”

“তাহলে?”

রোজা আর কিছু বলল না। কিছুক্ষণ পর নুডুলস রেডি। তূর্জান প্লেটে তুলে এনে রোজার সামনে ধরল। রোজাকে বলল,“রেডি আপনার নুডুলস, মহামান্য নেওয়াজ রানী…”

কথা শেষ করল না। চামচে তুলে মুখের কাছে ধরল। রোজা অবাক, হাসফাস করছো তূর্জানের এমন ব্যবহারে।

“আপনি…?”

“চুপ করে খা…”

রোজা আর কিছু বলল না। চুপচাপ মুখে নুডুলস পুরে খেতে লাগল। টেস্ট বহুত ভালো। মানে কোনো ছেলে এভাবে গুছিয়ে রান্না করতে পারে তা রোজার জানা ছিলো না। রোজার অবাধ্য চোখ
বারবার তূর্জানের দিকে চলে যাচ্ছে। হালকা হেসে বলল তূর্জান,“এত তাকাচ্ছিস কেন? ভালো হয়নি রান্না ?”

রোজা হকচকিয়ে গেল, “আমি তাকাচ্ছি না!”

“আমি অন্ধ না, তবে…”

বলেই থেমে গেল। রোজা তূর্জানের থেকে প্লেট নিয়ে হাটা ধরল তুবার রুমে। তুবা বিছানায় বসে আছে ফোনটা হাতে নিয়ে । বারবার স্ক্রিন অন করছে… আবার অফ করছে। অচেনা লোকটাকে নিয়ে কৌতূহল বেরেই যাচ্ছে। কে সে? কিইবা তার পরিচয়? অপেক্ষা করতে বলে সেও আজ দুদিন আর ফোন দেয়নি। তুবাও অভিমানে ফোন দেয়নি।

তুবাও পাগল, তা না হলে একটা ছেলেকে কিভাবে নাম, পরিচয় না জেনে নিজের মোতাবেক অনুসারে অন্য কেউ ভেবে ভালোবাসতে পারে? সে অপেক্ষা করছে।কিন্তু কিসের জন্য ?একটা অচেনা মানুষ, একটা অচেনা কণ্ঠ… এখন নিজের কাছে নিজেই অচেনা। তবুও কেন মনে হচ্ছে,ওই মানুষটাই তার নিজের?নিজের মনেই বলল তুবা,“আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি?”

তারপর ধীরে বলল,“ অচেনা ব্যক্তি আপনি আসবেন তো…? নাকি আমি ধুকে ধুকে মরে যাবো। আপনি তো আগেই পরিচয় দিতে পারতেন কে আপনি? আমি নাহয় অন্য কেউ ভেবে পরিচয় জানার প্রয়োজনবোধ করলাম না। কিন্তু আপনি, আপনি তো আর আমাকে অন্য কেউ ভাবেননি! তাহলে কেন.. কেন এই পরিস্থিতিতে আমাকে ফেলে দিয়ে উধাও হলেন। ”

তুবাকে নুডুলস খাইয়ে দিয়ে বিকেলের দিকে রোজাও তুবার সাথে বেলকনিতে বসে আকাশের দিকে তাকালো। আকাশ আজকে অদ্ভুত রুপে সেজে আছে। হয়তো বৃষ্টি নামতে পারে। বর্ষাকাল মানেই ভেজা মাটির স্নিগ্ধ স্যাতস্যাতে গন্ধ, আর গাছগাছালির সতেজ প্রত্যবর্তন। তুবাকে হাজার বুঝিয়েও কাজ হচ্ছে না। বরং ভেঙে পরছে। রোজারই বা কি করার? লোকটাকে চিনলে না হয় কথা ছিল, কিন্তু পরিচয় টাও জানা নেই কারোর। রোজা নিরব চোখে ঘন কালো আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ রোজা বলল, “ বৃষ্টি তোর অনেক পছন্দ তাই না তুবা? “

“ হুমম! বৃষ্টি আমার ভীষণ পছন্দের। এই বৃষ্টির কারণেই পৃথিবী নতুন রুপে সেজে উঠে। আবার বৃষ্টি মানুষের মনের দুঃখকেউ নিজের সাথে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। “

রোজা বলল, “ কিন্তু জানিস, আমার এই বৃষ্টির আগের আকাশটা ভীষণ পছন্দের। এই নিষককালো আকাশ, বাতাসের তীব্রতা, গাছগাছালির হেলেদুলে ওঠা, আর অবশেষে অনেকের প্রিয় বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়া। তাদেরকে একটু খানি ছুঁয়ে দিয়ে মনের সাধ মিটানো। আর….

আর কথা বললো না। তুবার ফোনে কল আসতেই যেন প্রণয় গুচ্ছ আন্দোলিত হতে থাকল। অবশেষে অপেক্ষায় অবসান। অথচ মানুষের ভাবনা অনুযায়ী কি সব কিছু হয়? হয় না। তেমনি ফোনের স্কিনে চোখ পড়তেই আবার আধার নামল মনে। তুবাকে একভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে রোজা ফোনের দিকে এগিয়ে গেল। দেখল তাজারুল নেওয়াজ ফোন করেছে। রোজা নিজেই কল রিসিভ করল। ওপাশ থেকে তিনি বললেন, আজকে রাতে ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা আছে। রাস্তাঘাটে গাড়ি চলবে না। আর গ্ৰামের রাস্তায় বৃষ্টির দিনে চলাচল সম্ভব নয়। তাই আজকে রাত এখানেই থাকতে হবে সবাইকে। দুবোনকে ভালো করে বুঝিয়ে বলল, ভয় না পেতে। আর ভয় পেলে তূর্জানের রুমে গিয়ে থাকতে। তূর্জানকে তিনি বলে দিবেন। যদিও রোজা বা তুবা ঝড়ে ভয় পায় না। তবুও বড়রা যেহেতু বাড়িতে নেই তাই সাবধান করা। তারপর কিছুক্ষন কথা বলে ফোন রাখলেন তাজারুল নেওয়াজ। কিন্তু সবাই গ্ৰামে থাকলেও চিন্তায় রয়ে গেল দুবোন। মোস্তফা নেওয়াজ জানে রোজা ভয় পাবে না। তবুও বাবা তো চিন্তা একটু বেশিই করেন মেয়েকে নিয়ে । তিনি ফোন বের করে কল করলেন তূর্জানকে। এই প্রথম হয়তো তিনি রোজার জন্য তূর্জানকে কল করলেন, তিনি তূর্জানকে হিসাবে বুঝিয়ে দিলেন, আজকে তূর্জানের ঘুম নেই। আজকে বউয়ের পিছনে জেগে সময় দিতে হবে। এমনিতেই তূর্জান ঘুমাতো না। এখন তো একটা সুযোগ পেয়ে গেছে। এমনি এমনি তো আর বাড়িতে রাখেনি বউকে। দশবছরে যে দেখার তৃষ্ণা ছিল, সব চুকিয়ে নেবে। কল কেটে তুবাকে আর রোজাকে কল দিয়ে বই খাতা নিয়ে তূর্জানের রুমে হাজির হতে বলল। তুবা যদিও এই অবস্থায় ভাইয়ের সামনে যাওয়ার ইচ্ছে নেই। আর রোজাও এখন পড়তে চায় না। তবে দুজনেই না গেলে কেমন হয়। তুবা বিছানায় শুয়ে বলল, “ প্লিজ রোজা, আজকের মতো বাচিয়ে দে। ভাইয়া এই অবস্থা দেখলে আমাকে হাজার প্রশ্ন করবে। “

“ তোর দাজ্জাল ভাই, আমাকে এক পেলে হাজার পড়া গছিয়ে দেবে। পারবো না আমি যেতে। তার থেকে চল দুজনেই ঘুমাই। “

রোজা বলেই বিছানায় যেতে গেলে। তূর্জানকে দেখে থেমে গেল। তূর্জান আবার তাদের কথা শুনে ফেলেনি তো। তূর্জান দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বলল, “ স্টুপিডের দল, তোদের দুজনকে ঠিক কতক্ষন আগে রুমে যেতে বলেছি? “

রোজা মাথা তুলে তাকাল, দেখল তুবা এমন ভাবে কাথা মুড়ি দিয়েছে যেন গভীর ঘুমে আক্রান্ত সে। একটু নড়চড় নেই, রোজার বলতে ইচ্ছে করছে, “ বাহ তুবা! বাহ! আমাকে ফাসিয়ে দিয়ে নিজে ঘুমের অভিনয় করছিস। যখন তোর ভাই এলো আমাকেও সংকেত দিতে পারতি!”

ভাবনার মাঝেই তূর্জান ডাক দিলো,”এইযে ম্যাডাম এদিকে…”

“কি?”
“ কতক্ষন আগে ডেকেছি? নাকি কথা কানে যায়নি? কোনটা? “

“ আমার ঘুম পাচ্ছে। দেখুন কি ভালো ওয়েদার, জানেন এই ওয়েদারকে স্লিপিং ওয়েদার বলা হয়। আর…

“ কোন বিজ্ঞানী বলেছে? “

রোজা তো পড়বে না বলে, আবোলতাবোল বকছে। এখন বলবে কেমন করে কোন বিজ্ঞানী এই সংজ্ঞা দিয়েছে। আদেও কি কেউ এমন সংজ্ঞা দিয়েছে কি-না তাই তো রোজা জানে না। রোজা একটু গলা খাঁকারি দিল, মুখে জোর করে আত্মবিশ্বাস আনার চেষ্টা করল,“এই… মানে… আমি নিজেই বলেছি!”

তূর্জান ভ্রু তুলে তাকালো, “ওহ! নতুন বিজ্ঞানী পাওয়া গেছে আমাদের বাড়িতে !তা নাম কি আপনার ম্যাডাম ?”

রোজা থমকে গিয়ে বলল, “রোজাস্মিতা মেহরোজ এন্ড রোজা নেওয়াজ!”

কথাটা বলেই নিজেই থেমে গেল। তূর্জানের চোখে এক মুহূর্তের জন্য অন্যরকম ঝিলিক খেলল। ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি। “নেওয়াজ… হুমম… ভালো লাগছে শুনতে।”

রোজা অপ্রস্তুত হয়ে গেল, “মানে আমি ওইভাবে বলিনি…”

“ যে ভাবেই বলিস! আমি তো ওইভাবেই শুনেছি।”

দুজনের মাঝখানে কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা অবস্থান করল। বাইরে হালকা বাতাসের শব্দ, দূরে মেঘের গর্জন। হঠাৎ তূর্জান সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল, “চল, বই নিয়ে আমার রুমে।”

“আমি কিন্তু..”

“আর একটা কথাও না। পাঁচ মিনিটের মধ্যে না এলে নিজে এসে নিয়ে যাবো।”

এই বলে সে চলে গেল।রোজা দাঁড়িয়ে রইল, মুখ বাঁকিয়ে বিড়বিড় করল, “হিটলার কোথাকার!”

তবুও শেষমেশ বই-খাতা নিয়ে তূর্জানের রুমে একাই যেতে হলো। তুবা ঘুমের অভিনয় করতে করতে সত্যিই ঘুমিয়ে গেছে। হয়তো ক্লান্ত শরীর তাই । তূর্জানের রুমে ঢুকতেই ঠান্ডা হাওয়া লাগল। এসি চলছে। এই বর্ষনের ওয়েদারেও এসি ছেড়ে রেখেছে। তূর্জান বিছানার পাশে টেবিলে বসে আছে।
“আসেন ম্যাডাম, আজকে পড়াতে হবে।”

কি আর করার সেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও পড়তে বসল। তূর্জান প্রত্যেকটা টপিক ভালো করে বুঝিয়ে আবার রোজাকে বলল তূর্জানকে বুঝিয়ে দিতে। রোজা পড়ার ফাকে মনে মনে তূর্জানকে বকা দিতে থাকল। এভাবেই সন্ধ্যা গড়িয়ে ঘড়ির কাটা রাত নয়টার ঘরে পৌছালো। রোজা উসখুস করছে। এখন পড়তে ইচ্ছে করছে না। বাইরে তুমুল বর্ষন। যদিও এই ওয়েদারে বৃষ্টিতে ভেজার এক অদ্ভুত অনুভূতি জেগে ওঠে। রোজা তূর্জানের দিকে তাকাল। বেডের সাথে আধশোয়া হয়ে ফোন স্কল করছে। হাহ! রোজার ঘাড়ে পড়া গুছিয়ে দিয়ে নিজে দিব্বি ফোন ঘাটছে। রোজা মিনমিন করে বলল, “ তূর্জান ভাই!”

ফোনে দৃষ্টি রেখেই বলল, “ হুমম। “

“এই ওয়েদারে পড়তে ইচ্ছে করছে না।”

“এই ওয়েদারেই মানুষ সবচেয়ে ভালো ফোকাস করতে পারে। ফাকিবাজি কম করে পড়। আমি কিন্তু সব পড়া চাই।”

“আপনি না একদম রোবট! এই ওয়েদারে নিজে ফোন দেখছেন অথচ, অথচ আমাকে বইয়ের পাতায় মুখ ডুবাতে বলছেন!”

“ তুই একদম ডিস্টার্বেন্স। পড়া বাদ দিয়ে আমাকে দেখছিস?”

রোজা মুখ ফুলিয়ে বসে গেল। কিছুক্ষণ পড়া চলল। কিন্তু রোজার মন একদমই বসছে না। বাইরে মেঘ গর্জন করছে। বাতাসের শব্দ বাড়ছে।
হঠাৎ করেই ঝপাঝপ বৃষ্টির স্বর যেন রোজাকে ডাকছে। রোজা পড়ার টেবিল থেকে উঠে তূর্জানের সামনে দাড়াল। বলল, “
আমার ফোন রুমে আছে। আপনার ফোনটা দিন। “

“ কি করবি? “

“ আপনি যা করছেন। তাই করবো! দিন তো ফোনটা। “ বলেই তূর্জানের ফোন হাত থেকে নিতে গেল। ফোনটা ধরেও ফেলেছিলো, কিন্তু তূর্জান ফোন অন্যপাশে ধরতেই হুরমুড় করে রোজা পড়ল বেডের উপর। পড়েই চোখমুখ খিচে ধরল। সিলিং এর দিকে মূখ ফিরে উঠতে গেলে তূর্জান রোজার মুখের উপর নিজের মুখ নিয়ে গেল। রোজার মুখে তূর্জানের নিশ্বাস আচড়ে পড়ছে। যদিও দুজন দুদিকে। রোজা উঠতে গেলেই মহাবিপদ। তূর্জানের ঠোঁটে নিজের কপাল ঠেকবে। রোজা দুহাতে মুখ ঢেকে নিতেই তূর্জান ঘোরলাগা দৃষ্টি ফেলে রোজার দুহাত নিজের একহাতের মুঠোয় নিয়ে নিল। হঠাৎ তূর্জানের এমন আচরণে রোজা যেন আকাশ থেকে পড়ল। কাপা কাপা গলায় বলল, “ তূ.. তূর্জান ভাই, আমার ভয় করছে। প্লিজ ছেড়ে দিন। “

“ ধরেছি আমি, যে ছাড়ার কথা বলছিস? “

রোজার আর কিছু বলতে পারলো না। তবে অবাক হলো তূর্জানের কথায়। সে নিজের হাতে রোজার হাত ধরে রেখে বলছে আমি ধরেছি?
তূর্জান আরেকটু মুখ এগিয়ে এনে বলল, “ ফার’দার ভুলেও আমার ফোন এভাবে ধরার সাহস করবি না। আর বিশেষ করে যখন আমার হাতে ফোন থাকবে। “

রোজা কি বলবে? এই লোকের হাতে ফোন থাকাকালীন ফোন ধরা যাবে না। মানে কী? ফট করে বলল, “ আপনি কি আঠারো প্লাস কিছু দেখেন যে আপনার হাত থেকে ফোন নেওয়া যাবে না? “

“ স্টুপিড, মাথার মধ্যে বাজে চিন্তা ছাড়া কিচ্ছু নেই। সারাক্ষন এইসব ফালতু জিনিস ভাবিস, আর অন্যকেউ তাই মনে করিস। “

বলেই রোজার হাত ছেড়ে উঠে বসল। বসে বলল, “ আমার ফোনে ইম্পরট্যান্ট ডকুমেন্টস থাকে, তাই বলেছি ফোন টাস করতে নিষেধ করছি। “

রোজার চোখ হঠাৎ জ্বলে উঠল। সে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “বৃষ্টি…!”

তূর্জান মাথা তুলে তাকালো, “কোথায় যাচ্ছিস?”

“ছাদে!”

“রোজা—”
কথা শেষ হওয়ার আগেই রোজা দৌড়! ছাদে উঠে রোজা থমকে গেল। চারপাশে ঝুম বৃষ্টি। বাতাসে চুল উড়ছে। কয়েক সেকেন্ড পর সে হাত দুটো ছড়িয়ে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে পড়ল।
“উফফফ…!”

মুখে এমন হাসি, যেন পৃথিবীর সব সুখ এই মুহূর্তে।
কিছুক্ষণ পর মনে হলো পিছনে কেউ আছে। তাকাতেই দেখল তূর্জান।

ইনশাআল্লাহ চলমান…..

সরি গো,, ঘুমিয়ে গেছিলাম। 😁
আমার পেইজ লিংক Farzana Rahman Setu

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply