প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||৩১||
ফারজানারহমানসেতু
হঠাৎ কারোর তুবা বলে ডাকায় পিছনে ফিরতেই দেখল মিরান দাড়িয়ে আছে। মিরানের উপস্থিতিতে তুবা ভড়কে গেল। একটা মানুষ কি করে দু জায়গায় থাকতে পারে?
তাহলে? তাহলে ফোনের ওপাশে কে? প্রশ্নটা মাথায় আসতেই চারশো ডিগ্রির বিদ্যুৎ শক খেল।তখনো ওপাশ থেকে আগের মতোই কথা ভেসে আসছে। যদিও তা মিরান বা তুবা কেউই শুনতে পাচ্ছে না। মিরান এগিয়ে এসে বলল, “ বনু এখনো আসে নি? “
তুবা যেন কিছুই বুঝতে পারছেনা। এদিকে ফোনের থেকে সেই পরিচিত কণ্ঠ, আর মিরানের এই কণ্ঠ এখন একসাথে আকাশ পাতাল তফাৎ বুঝিয়ে দিচ্ছে। মিরান তুবার মাথায় গাট্টা মারায় যেন হুশ ফিরে পেল। তুবা তৎক্ষণাৎ বলল, “ হ্যাঁ, কি বললে? “
“ তোর মাথা, মাথামোটা! বললাম বনু এখনো ফেরেনি ছাদ থেকে? “
“ না, এখনো ফেরেনি। “
“ওহ আচ্ছা। তা বনু নাহয় তার হাজবেন্ডের সাথে আছে। তুই আবার কার সাথে বিরবির করছিস? “
“ তুমি যার সাথে কথা বলছো, তার সাথে। “
“ আমি তো অনন্যার সাথে কথা বলছিলাম, তুই ও ওর সাথে কথা বলছিলি?”
বলেই নিজের ফোন দেখালো তুবাকে।তুবা মজা ভেবে নিলেও, দেখল ফোন মিউটে আছে, অনন্যা কথা বলছে। আর নিজের ফোনে তাকিয়েও দেখল তার ফোনেও এখনো কল কাটেনি।
তুবা এতক্ষনে একদম বুঝে গেছে সে এতদিন যাকে মিরান ভেবেছে সে আসলে মিরান না। সে এতবড়ো ভুল কি করে করল। মানুষ মাত্রই ভুল, তাই বলে এতবড়ো ভুল। তুবার মনে তো মিরান নামেই ফোনের ওপর পাশের লোকটা অবস্থান করছে।কিন্তু আশ্চর্য, তুবার তো এতবড়ো সত্যিই জানার পর পাহাড় ভাঙা কষ্ট হওয়ার কথা। কিন্তু কি অদ্ভুত একটু ও কষ্ট হচ্ছে না। যেই মিরনকে অনন্যার পাশে পর্যন্ত দেখতে পারেনি। অথচ চরম সত্য জানার পর কিছুই হচ্ছে না। মনে কোনো দোটানাও নেই। তুবা কি তবে মিরানকে নিছক নাম জেনেই ভালোবেসেছে। কিন্তু আসলে ভালোভেসেছে ফোনের ওই পাশে থাকা লোকটাকে। তুবার নিজেকে পাগল পাগল লাগছে। ভাবনা থেকে বেরিয়ে মিরানকে কিছু বলতে যাবে, তাকিয়ে দেখল মিরান নেই। সাথে সাথে ডুকরে কেদে উঠল। কেন কাদছে জানা নেই। নিজেকে বড্ডো অসহায় লাগছে। একজন কে ভালোবাসলো আরেকজনের নাম দিয়ে। আসলে কাকে ভালোবাসে তুবা। নিজের ভালোবাসা নিয়ে নিজের এতো কনফিউশন।
তুবার চোখের পানি থামার নাম নেই। বুকের ভেতরটা যেন হাহাকার করে উঠছে, কিন্তু সেই হাহাকারের কারণটাই সে ধরতে পারছে না। ভালোবাসা কি এতটাই অদ্ভুত হতে পারে? ঠিক তখনই ফো থেকে ভেসে এলো সেই কণ্ঠ । তুবার বুক কেঁপে উঠল। হাত কাঁপছে, দেখল ফোনটা আনমিউট হয়ে গেছে। ওপাশ থেকে ভেসে এলো সেই চেনা কণ্ঠ, “কাঁদছো কেন?”
তুবা চোখ বন্ধ করল। গলার স্বরটা কাঁপছে,“আপনি কে?”
“ হঠাৎ এই প্রশ্ন? “
“ প্লিজ বলুন না আপনি কে? কি আপনার পরিচয়? “
কিছুক্ষণ নীরবতায় পর ধীরে, খুব শান্ত একটা কণ্ঠ ভেসে এলো, “যাকে তুমি এতদিন ধরে খুঁজছো… আর যাকে না চিনেই ভালোবেসে ফেলেছো।”
তুবার নিঃশ্বাস আটকে গেল।বলল, “মিরান ভাই না আপনি তাই তো?”
“না।”
একটা শব্দ। কিন্তু সেই এক শব্দ যেন তুবার পুরো পৃথিবীটাকে বদলে দিল। তুবা কণ্ঠে এবার অভিমান নিয়ে বলল,“তাহলে এতদিন কেন পরিচয় গোপন করলেন ? আপনি কেন আমাকে বলেননি আপনি কে?”
ওপাশ থেকে হালকা একটা নিঃশ্বাসের শব্দ এলো, হয়তো ওপাশের মানুষটা তুবাকে পরিচয়ের আড়ালেই ভালোবাসে।“কারণ আমি ভয় পেয়েছিলাম… তুমি হয়তো আমাকে নয়, আমার পরিচয়টাকেই ভালোবাসবে।”
“আর এখন?”
“এখন তুমি কাঁদছো। কিন্তু আমি নিশ্চিত মিরানের জন্য না। কাকে ভালোবাসলে ফোনের এপারে থাকা আমাকে নাকি মিরান নামক পরিচয়টাকে সেই সন্দেহ নিয়ে,”
তুবা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। কান্না যেন আরো বেড়ে গেল।“আপনি সামনে আসেন…”
“সব সত্য জানার পরও… দেখতে চাও আমাকে?”
তুবা একটু থেমে, খুব ধীরে বলল,“আমি নাম না… মানুষটাকে ভালোবেসেছি তা নিজেই জানি না। পৃথিবীতে বুঝি আমিই প্রথম কোনো ব্যক্তি যে নিজের ভালোবাসা নিয়ে নিজেই কনফিউশনে ভুগছি । আপনি যেই হন, প্লিজ সামনে আসুন…”
ওপাশে দীর্ঘ নীরবতা। তারপর খুব আস্তে, “ কান্না বন্ধ করো, আমি আসবো, খুব দ্রুতই আসবো। প্রমিস, তবে সামনে আসার আগে একটু অপেক্ষা করে যেও।”
কল কেটে গেল। তুবা ফোনটা শক্ত করে ধরে রইল। বুকের ভেতরটা কাঁপছে, কিন্তু এবার সেই কাঁপুনিতে ভয় নেই… আছে অজানা এক অপেক্ষা। তুবা কি তবে মিরানকে ভালোবাসেনি? তাহলে মিরানকে দেখে ভালোলাগা কাজ করলো কেন? নাকি প্রিয় মানুষ ভেবে যে কাউকেই ভালো লাগে? তবে তুবা বুঝে গেছে, ভালোবাসা কখনো নাম দেখে হয় না… হয় অনুভূতিতে।
রোজাকে কোলে নিয়েই সিঁড়ি দিয়ে নামছে তূর্জান। রোজা চোখ বন্ধ করে আছে, কিন্তু পুরোটা সময় সে জেগেই আছে।হঠাৎ জিজ্ঞেস করল তূর্জান, “এত চুপ কেন ম্যাডাম ? কথা কি ফুরিয়ে গেল? আপনি যে আমাকে বললেন আমার ধৈর্য নেই। অথচ দেখুন আমি কিন্তু কথা শুনতে চাইছি, আপনার কথা শেষ হয়ে গেছে। “
রোজা চোখ না খুলেই বলল,“ভাবছি…”
“আমাকে নিয়ে না- কি ম্যাডাম ? তা আমাকে নিয়ে আবার কবে থেকে ভাবা শুরু করলেন?”
“ আরে না… নিজেকে নিয়ে ভাবছি ।”
তূর্জান হালকা হেসে বলল, “নিজেকে নিয়ে ভাবা ভালো… কিন্তু বেশি ভাববেন না। বেশি ভাবলে মানুষ নিজের কাছেই হেরে যায়।”
রোজা চোখ খুলল এবার। খুব কাছ থেকে তাকিয়ে বলল, “আপনি কি সবসময় এতো গভীর কথা বলেন?”
“না… শুধু আপনার সাথে বলতে ইচ্ছে হলো, তাই বললাম।”
এই এক কথায় আবার থেমে গেল সময়। রোজার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। সে কিছু বলল না। শুধু চুপচাপ তাকিয়ে রইল তূর্জানের দিকে।
তূর্জানও আর কিছু বলল না।
তারপর দুদিন চলে গেছে। তুবা মনমরা হয়ে থাকে বেশি সময়। কিছু জিজ্ঞাসা করলেও বলে না। রোজার কাছেও বলেনি। শুধু একা থাকতে চায়, তাই রোজাও বেশি চাপ দেয়নি। রোজার মতে, মানুষের যখন মন খারাপ হয়,তখন নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ করলেই তাড়াতাড়ি মন ভালো হয়। সকালে রোজা উঠেই দেখে তুবা জানালার কাছে দাড়িয়ে আছে। হয়তো দূরের অদূরে সকালের স্নিগ্ধ আলো উপভোগ করতে চায়ছে। রোজা আড়মোরা ভেঙে পিছন থেকে দুহাত দ্বারা তুবাকে জড়িয়ে ধরল। তাও কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। অন্য সময় হলে, সেও রোজার সাথে সায় দিত। রোজা তুবাকে ঘুরিয়ে নিজের দিকে করে বলল, “ কি হয়েছে? জিজু, মানে ভাইয়া তোকে বকেছে? “
তুবা এবার হাউমাউ করে কেদে উঠল। রোজাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “ আমি যাকে মিরান ভাই ভেবে ভালোবেসেছি, সে মিরান ভাই নয়। অন্য কেউ!”
“ কিহহহহ! রোজা যেন আকাশ থেকে পড়ল। তুবার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল, “ তুই, মানে, তুই সিওর ওটা ভাইয়া নয়? “
তুবা উপর নিচ মাথা নাড়ল, মানে “ হ্যাঁ “ রোজা কোনোমতে তুবাকে বুঝিয়ে সব শুনে নিল। কিভাবে তুবা ঠিক পেয়েছে। আর এটাও বললো লোকটা নিজেই স্বীকার করেছে সে অন্য কেউ। রোজা যেন এদের প্রেমকাহিনী শুনে হাসবে কি কাদবে বুঝতে পারছে না। যদিও তুবার থেকে যেটুকু কাহিনী শোনা,আর তুবার বলা কথা শুনেই। সেটুকুর উপর ভিত্তি করেই মিরানের সাথে তুবার কথা এতদিন ভেবেছে রোজা। যদিও রোজা মিরানের চলনবলন দেখে বিশ্বাস করেনি সে তুবাকে ভালোবাসার নজরে দেখে। রোজা তুবাকে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে আস্বাস দিল ধৈর্য ধরে লোকটার বলা কথা অনুযায়ী কয়দিন অপেক্ষা করার। দেখা যাক লোকটা কি করে?
তূর্জান উপুড় হয়ে বালিশে মাথা গুজে হাত দিয়ে বালিশ ধরে ঘুমোচ্ছে। উদাম গায়ে কাঁথা পিঠ অবধি টানা। এই ওয়েদারের মাঝেও এসি চালিয়ে, কাঁথা টেনে ঘুমানো একমাত্র তূর্জানের দ্বারাই সম্ভব। মিরান এসেই তূর্জানের মুখ বরাবর বসে ডাকতে শুরু করল। তূর্জান ওভাবেই শুয়ে জবাব দিল।
“ কি সমস্যা, জালাচ্ছিস কেন? “
“আমি কি তোমার বউ লাগি যে তোমাকে জ্বালাবো। ওটা তো বনুর কাজ! দুলাভাইইইই!”
“তাহলে ডাকছিস কেন? শালা!”
“ শুনলাম তোমার ভার্সিটি বন্ধ, আর আমার…. মানে বড় আব্বুরাও ছুটির জন্য আজকে গ্ৰামে যেতে চাচ্ছে। চলো আমরাও গ্ৰাম থেকে ঘুরে আসি। এখন যাবে রাতে ফিরে আসবে।”
“আমি ঘুমাবো, তোরা যা!”
“কেন তুমি কি সারারাত বউয়ের সাথে রাত জেগে রোমান্স করছো যে এখন ঘুমাবা? “
কথাটা শুনতেই তূর্জান উঠে বসল। চোখ ছোট করে মিরানের দিকে তাকাতেই মিরান ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলল,” ভাইয়া বিশ্বাস করো, একসপ্তাহ সময় পেয়েছি, চলো একদিন ঘুরে আসি। তাছাড়া তুমিই তো বলো সময় নষ্ট করা উচিত নয়।“
“তো বিয়ে করে নে, তারপর বউয়ের সাথে ঘুরে বেড়া। আমাকে জ্বালাতন করছিস কেন? “
বলতে বলতে ওয়াশরুমে চলে গেলো। তূর্জানের কথায় মিরান কিছুটা কেশে উঠল। তূর্জান আবার ফিরে এসে বলল,” আজকেই যাবে সবাই? “
“ হুমম। কেন? “
“ তোর বোন জানে গ্ৰামে যাওয়ার কথা? “
“ না, কেন?
“ গ্ৰেট। তোর বোন যেন না জানে তোরা গ্ৰামে যাচ্ছিস! ওকে রেখে যাবি। “
“ বনুকে রেখে গেলে আমাকে আস্ত রাখবে না। “
“ আর ওকে নিয়ে গেলে আমি তোকে আস্ত রাখবো না। “
“ মানে.. আর বনু যাবে না কেন? আর ওকে রেখে যাওয়া সম্ভব না। দেখা যাবে আমার আগে ও রেডি।”
“ রেডি হবে তোর আগে। বাট তোদের সাথে যাবে না। “
বলেই ওয়াশরুমে চলে গেল। ওয়াশরুমে যাওয়ার পর হতাশ হয়ে মিরানও নিচে চলে আসল। তূর্জানকে গ্ৰামে নেওয়া সম্ভব না। একঘেয়েমি মানুষ ঘুরতে কমই পছন্দ করে। তবে তূর্জান নেওয়াজ কে গ্ৰামে নেওয়ার আরেকটা উপায় ছিলো। সেটাও তো এখন বন্ধ।
—
নেওয়াজ পরিবারের পুরোনো গ্ৰামের বাড়ি আড্ডায় জমে উঠেছে। ছেলে-মেয়েদের ছোটাছুটি যেন নেওয়াজ বাড়ির প্রাণ। এই পুরোনো বাড়িতে এখন একটা লোক থাকে। কয়েকটা রুম পড়ে ছিলো তাই গ্ৰামের এক পরিবারকে এখনে থাকতে দেওয়া হয়েছে। যদিও তারা নেওয়াজ বাড়িকে দেখেশুনে রাখার কাজ করেন।
আমিন শেখ , মোস্তফা নেওয়াজ আর তাজারুল নেওয়াজ আজ একসাথে ড্রয়িং রুমে বসেছে গল্প করতে । আমিন শেখের স্ত্রীর গরম গরম সব নাস্তা বানিয়ে নিয়ে এসে তারাও সবাই বসল। আদিত্য, তোয়া ছোয়া, তিনজন আমিন শেখের ছেলেমেয়ে। সবাই একসাথে এসে বসেছে। সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দ বলা চলে। সবাই খাওয়ায় ব্যাস্ত হঠাৎ রোজা ভিডিও কল করল । মোস্তফা নেওয়াজ ফোন রিসিভ করল। সবাইকে একসাথে দেখে রোজা বলল, “ আবাবা তোমরা কোথায়? “
“ কেন আম্মু, আমরা গ্ৰামে। তুমি তো এলে না। “
রোজা আশ্চর্যের সপ্তম আসমানে। সে তো জানেই না বাড়ির লোক সব গ্ৰামে গেছে।” বাবা আমাকে নিয়ে গেলে না? “
রোজা আরও কিছু বলার আগেই মোস্তফা নেওয়াজ বললো, “ তুমি এলে না কেন আম্মু। তোমাকে নাকি মিরান অনেক ডেকেছে। তুমি বলেছো তোমার ইম্পরট্যান্ট একটা টপিক পড়ার বাকি আছে। তুমি অন্য কোনোদিন আসবে। আচ্ছা আসোনি ভালো কথা, কিন্তু নিজের খেয়াল রেখো, কিছু লাগলে বাড়িতে তূর্জান আছে ওকে বলো। “
রোজা আর কিছু বললো না। তার ভাইয়া মিথ্যা কেন বলেছে তাই তো ধরতে পারছেনা। অবশেষে নিজেও ভান করল, যেন সে নিজের ইচ্ছেতে যাইনি। না হলে তার বাবা আবার তার ভাইয়াকে বকা দিবে। তারপর সংক্ষিপ্ত কথা শেষ করল সবার সাথে। কল কাটতেই দেখল পিছনে তূর্জান দাড়িয়ে। কেমন অদ্ভুত চোখে তাকাচ্ছে।
ছোয়া আর আদিত্য পিঠা নিয়ে মারামারি শুরু করল। ছোয়া আদিত্যের চুল ধরেছে আর আদিত্য ছোয়ার চুল ধরেছে। তাজারুল নেওয়াজ বলল,
“তোমরা আবার শুরু করলে, এসেই দেখছি ঝগড়া লেগেই আছে । তোমাদেরকে নিয়ে আর পারি না। তোমাদের পিঠা নিয়ে লাগল। তো চুল ধরে টানাটানি করছো কেন? পিঠা নিয়ে মারামারি কর।”
তিন গিন্নি নেওয়াজ গিন্নিরা আর শেখ গিন্নি অবাকের চরম পর্যায়ে এরা এদের না থামিয়ে বলছে পিঠা নিয়ে মারামারি কর।না জানি এরা ছোট থাকতে কি মারামারি করত। তবে যাইহোক এদের নেওয়াজ পরিবার দেখলে বোঝা যায় “যে সম্পর্কে ঝগড়া, অভিমান বেশি সেই সম্পর্ক স্থায়ী হয়। “
আদিত্য বলল, “দেখো আব্বু ও আমার চুল ধরে রেখেছে। জানো আমি আমার চুলের পিছনে মাসে কতটাকা খরচ করি। আমি কিন্তু তোমার মেয়ের নামে পুরুষ নির্যাতনের কেস দিব বলে রাখলাম।”
ছোয়া ও বলে উঠল, “আমি তোমার দামী চুল ধরেছি আর তুমি বুঝি আমার চুল ধরো নাই, তুমি জানো আমি আমার চুল নিয়ে কতটা কেয়ারফুল। আমি ও তাহলে তোমার নামে নারী নির্যাতনের কেস দিব।”
আমিন শেখ, মোস্তফা নেওয়াজ, আর তাজারুল নেওয়াজ একসঙ্গে কেশে উঠলেন। মূলত বুঝাতে চাইলেন এখানে তারা আছেন।
তোয়ার দিকে চোখ পড়তেই ছোয়া থেমে গেলো। বুঝল ভুল জায়গায় ভুল কিছু বলেছে। আদিত্য থেমে গেল আকলিমা বেগমের দিকে চোখ পড়তে। তারপর দুজনে মারামারি থামিয়ে দিয়ে বলল,“আমরা আসলে এক্সেসাইজ করছিলাম। কতদিন এক্সেসাইজ করি না, তাই না ভাইয়া। তাছাড়া শরীর কেমন ম্যাজম্যাজ করছে। “
তাজারুল নেওয়াজ বলল,“আমরাও তোমাদের মতো বয়সে এভাবেই এক্সেসাইজ করতাম। “
সবাই একসাথে হেসে উঠল।
রোজা চোখ মুখ এখনো খিচে রয়েছে তবে তূর্জানের কথায় চোখ খুলে ফুফিয়ে উঠতে গিয়েও থেমে গেল। যতই হোক সে তূর্জানের থেকে ছোট। কিন্তু সে এতটাও ছোট নয় যে বাচ্ছাদের মতো তূর্জানের সামনে ঠোঁট ফুলিয়ে কাদবে। তুবা দৌড়ে ফাস্টেড বক্স নিয়ে আসতেই তূর্জান সেটা নিয়ে রোজার হাতে মলম লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিল।
রোজাকে বসে থাকতে দেখে তূর্জান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রোজাকে বলল, “রুমে যা।”
রোজা কিছু বলল না, মূলত এইসময়ে রাগ শোনার ইচ্ছে নেই। হাতে গরম খাবার পড়ায় ভীষণ জ্বলছে। তাই চুপ করে রুমে চলে গেল।
নিজেই বিরবিরালো, “ রোজা তুই সামান্য নুডুলস নামাতে পারলি না। আর নুডুলস ব্যাটা তোরও ওই হিটলারের সামনে আমার হাতের উপর পড়তে হলো।
–
রুমে এসে চুপ করে বসে আছে। ঘুম হয়নি ঠিকমতো কালকে তুবার চিন্তায় । তারপর সকালে ক্ষিদে পেয়েছিল। মিরান বলল, বাহিরে নিয়ে যাবে। ভার্সিটি মাঠে ওয়েট করতে। রোজা তুবা দুজনেই ওয়েট করল। তবে সেখানে মিরান গেল না গেল তূর্জান নেওয়াজ। সকাল থেকে কিছু খেতে ইচ্ছে করছিল না। তাইতো নুডুলস রান্না করতে গেল। যদিও তূর্জান রান্না করতে চেয়েছিলো। কিন্তু সুখে থাকতে ভূতে কিলায় প্রবাদের প্রতিফলন ঘঠাতে নিজে করতে গেল। তাও নুডুলস এসে পড়ল হাতে।
এখন খাওয়ার ইচ্ছে ও নেই। হাত ও প্রচুর জ্বালা করছে।রোজা ঠিক করল,এখন না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়বে।বিছানায় কাথা ছাড়াতেই তূর্জান এসে হাত ধরে টান দিল। তাল সামলাতে না পেরে রোজার মাথা ঠেকলো তূর্জানের বুকে। তবে মাথা তুলতেই দেখল তূর্জানের মুখ গাম্ভীর্য। দেখে মনে হচ্ছে এখনি রোজাকে তুলে আছাড় মারবে। রোজা ভয়ে ভয়ে বলল, “ কি.. কি? এভাবে তাকাচ্ছেন কেন?”
“ রান্না করতে নিষেধ করেছিলাম না? “
রোজার চুপ থাকা দেখে আবার গর্জে বলল, “ কি বলছি কানে কথা যায় না। হ্যাঁ কি না? “
মাথা উঠিয়ে তাকালো রোজা। তূর্জানের অগ্নি চোখ দেখেই জান যায় যায় অবস্থা। রোজা হঠাৎ নেতিয়ে পড়ল, তূর্জানের বুকে। আলতো হাতে রোজাকে বুকের সাথে চেপে ধরে মুচকি হাসল তূর্জান। তূর্জান রোজাকে ছেড়ে দিলেই রোজা এখান থেকে ভেগে যাবে এমনটাই ভাবনা। তবে তূর্জান নেওয়াজ না ছাড়ছে না তো ভালো ভাবে ধরছে।
রোজা পড়ে যাবে তো আর একটু সময় এভাবে থাকলে। রোজা এবার বলল, “ ধরুন নয়তো ছাড়ুন। একটা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া মানুষকে কেউ এভাবে রাখে? আপনার উচিত তাকে ধরা। সে তো পড়েও যেতে পারে।
বলেই রোজা জিভ কামড়ে ধরল। এই রে ফেসে গেছে। রোজা সোজা হয়ে পালানোর আগেই তূর্জান রোজাকে কোলে তুলে নিল। রুম থেকে যেতে যেতে বলল, “ চল আজকে দেখাই, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া মানুষের সাথে কি করা উচিত!
ইনশাআল্লাহ চলমান….
কি করবে আমি জানি না। তাই আমাকে দোষ দিও না😁
Share On:
TAGS: প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা, ফারজানা রহমান সেতু
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১২
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৯
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২০
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৩
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১০
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৩
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৪
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৮
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২৭
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৩২