Golpo romantic golpo প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা

প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২৮


প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||২৮||

ফারজানারহমানসেতু

রাতটা যেন আজ অন্যরকম। চারপাশে নীরবতার তীক্ষ্ণ দেয়াল , কিন্তু সেই নীরবতার ভেতরেও একটা অদ্ভুত শব্দ আছে, হৃদয়ের শব্দ এইযে রোজার হৃদয়ে কেমন তোলপাড় হচ্ছে ।রোজা নিজের রুমে এসে দরজা বন্ধ করেই বিছানায় বসে পড়ল। বুকটা এখনো ধড়ফড় করছে।
হাতটা নিজের বুকের উপর রেখে চোখ বন্ধ করল। শব্দটা বারবার কানে বাজছে।“বউ…”

নিজের সাথে নিজেই বিরবির করে বলল রোজা, “পাগল… একদম পাগল… মাথার রগ, তার যা ছিলো সব কেটে গেছে। এই মাথা নিয়ে আবার নাকি সারাজীবন ফাস্ট হয়ে এসেছে….”

কিন্তু রোজা কথাগুলো যতই অস্বীকার করুক, এগুলো মিথ্যা। সেদিন রোজাকে ওই মহিলা খারাপ ভাবতো তাই কথাটা বলেছিল তূর্জান। কিন্তু রোজাকে খারাপ বললেও বা তার কি? রোজা যতই এগুলো ভুলতে চাচ্ছে,ততই যেন এগুলো পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। রোজার ভেতরে কঠিন রুপ ওই পুরুষের কাছে দেখাতে পারছে না। হৃদয়ের কোথাও নরম হয়ে যাচ্ছে। তূর্জানের সেই দৃষ্টি… সেই কণ্ঠ… সেই অদ্ভুত নিশ্চয়তায় বলা কথা ,“শুরু তো অনেক আগেই হয়েছে…”

রোজা চোখ খুলে সিলিং এর দিকে তাকাল। তার মনে একটা প্রশ্ন বারবার ঘুরছে, কখন শুরু হলো? কী শুরু হলো? আর কেন রোজার মনে হচ্ছে,সে মাঝপথে এসে দাঁড়িয়েছে? সে তো কোথাও আগায়নি! তাহলে তার উত্তাল সমুদ্রের মাঝে দাড়ানোর অনুভূতি হচ্ছে কেন? এই এত কেন এর উত্তর কে দেবে? কার কাছে এর উত্তর পাবে রোজা।

অন্যদিকে তূর্জান,রোজা ছাদ থেকে নেমে যাওয়ার পর বেশিক্ষন দাড়ালো না ছাদে। ছাদ থেকে নেমে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল ।ঘরের ভেতর ঘুটঘুটে তিমির অন্ধকার। আজ লাইট জ্বালানোরও প্রয়োজন বোধ করল না। ধীরে ধীরে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।

“ অনুভূতিরা জমতে জমতে ভালোবাসায় পরিণত হয়। আর ভালোবাসারা অপেক্ষা করতে করতে না-কি মৃতের রুপ নেয়। “

তবে তূর্জানের অনুভূতি ধামাচাপা পড়ার আগে কি রোজা বুঝবে না?কোনোদিন কি বুঝতে পারবে না , কোনো এক পুরুষ তার আশায় এখনো শুদ্ধতম অনুভূতি নিয়ে বাচে। তার আশায় বুকে পাথর বেধে নয় বছরের জায়গায় দশ বছর দূরে থেকেছে ওই মেয়ের ছোট্ট একটা স্বপ্ন পূরণের জন্য। সেই স্বপ্নের মতো বাড়ি, যা রোজা ছোট থাকতে তূর্জানের কাছে চেয়েছিল। যদিও সেটা ছোট খেলনা ছিলো, তবুও আজ তূর্জান সেই ছোট্ট বাড়ির মতো সুন্দর দেখতে এক বাড়ি বানিয়েছে। কাউকে বলেনি, ভেবেছে বাড়িতে গিয়ে আগে রোজাকে সারপ্রাইস দিবে। অথচ মাস পার হচ্ছে, না ওই বাড়ির কথা রোজা শুনল, না আর কাউকে জানানো হলো। তবে থাক, ওই বাড়ির মালকিন যেদিন সজ্ঞানে তূর্জানের সাথে কথা বলবে সেদিন বাড়ির কথা সবাইকে জানাবে। তূর্জান নেওয়াজ, যে এক পাষণ্ড মানুষ নামে পরিচিত। সেও ভিতরে পুড়ে যায়, এক পূষ্পরাগিনীর জন্য। চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিয়ে ভেবে মৃদু স্বরে উচ্চারণ করল,
“দশ বছর…”
দশ বছর আগের একটা মুখ তার চোখের সামনে ভেসে উঠল।একটা ছোট্ট মেয়ে, দুই বেণী করা,রাগী, জেদি, কিন্তু অদ্ভুত মায়াবী। নিজের অজান্তেই হালকা হেসে উঠল তূর্জান।

বিরবির করে বলল,“তুই তো তখনও এমনই ছিলি, কিছুই বুঝিস না। তখনও না, এখনো না। তবে এইবার আর হারাতে দেবো না। দূরেও যেতে দিবো না, আর …”

পরদিন সকালটা শুরু হলো শান্ত ভাবে। গতকালের ক্লান্তিতে সবাই একটু বেশি ঘুমিয়েছে।
রোজা চোখ মেলে তাকাতেই বুঝল,আজ তার ভেতরটা শান্ত না অন্যরকম ভাবনায় মশগুল । তুবা আগেই উঠেছিল, বেডে রোজার পাশে বসে ফোন দেখছিল।
রোজা উঠে বসতেই বলল,“ওহো! রাজকুমারী উঠেছে অবশেষে!”

রোজা চোখ কুঁচকে বলল,“চুপ কর তো… এখনো ঘুম চোখ থেকে সরছেই না।”

তুবা হেসে বলল,“কি হয়েছে? কাল রাতে ছাদে কার সাথে এতক্ষণ আড্ডা হচ্ছিল? না মানে, ওত রাত ছাদে থাকলি? “

“তুই… দেখিসনি?”

“না দেখিনি… আর কিইবা দেখবো? কিন্তু আন্দাজ করতে পারছি কিছুটা !”

“ কি? কি আন্দাজ করতে পারছিস? “

তুবা কিছু বলতে গিয়েও বলল না। মেয়েটার মনে তার ভাইয়ের জন্য অনুভূতি জমছে তা নষ্ট করা যাবে না। হয়তো এখন কিছু বললে রোজা আর তূর্জানের পাশ ও ঘেষবে না। তাই বলল,“কিছু না…”

আড়মোড়া ভেঙে ওয়াশরুমে ছুটতে গেল রোজা।
তুবা একটু কাছে এসে ফিসফিস করে বলল,
“তূর্জান ভাইয়া?”

রোজা এবার চোখ বড় বড় করে তাকাল।” কি তূর্জান ভাই? “

“ কিছু না..!

“ তোর মাথা ফাটাবো হারামি! এককথা অর্ধেক বলা ইদানিং তোর অভ্যেসে নয় বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে। “

তুবা হাসতে হাসতে বলল,“ওমা!পুরো বাক্য শোনার এত ইচ্ছা কেন? না কি… ভাইয়ার বিষয় তাই এতো আগ্ৰহ। কিছু একটা কি হয়ে গেছে? কেমন রহস্য রহস্য গন্ধ পাচ্ছি।”

রোজা এবার বিরক্ত হয়ে বলল,“ ধ্যাৎ, তুই না একদম বাজে! সাধারণ কথা পেচিয়ে, ঘুরিয়ে ইয়াআআ লম্বা বানিয়ে গন্ডগোল বানিয়ে ফেলিস।”

“ঠিক আছে! ঠিক আছে! আর বললাম না।তবে একটা কথা বলি?”

রোজা একটু সিরিয়াস হয়ে গেল।“কি?”

“ কিছু না! “
রোজা চুপ করে তুবার দিকে তাকালো। এই মেয়ে তো সারাক্ষন চুপ থাকে তাহলে এতো ভন্ডামি শিখলো কেমন করে? রোজা আর কিছু বললো না। ওয়াশরুমে যেতে গিয়ে আবার বাধ সাধল রোজার ফোন। ম্যাসেজ টোন বাজতেই চোখ পড়ল স্কিনে লেখা নিকনেম “ ভন্ড প্রো-ম্যাক্স ভাই“ নামে সেভ করা নামের দিকে। মিরানের নাম কেটে নিকনেম সেট করেছে রোজা। এই নাম সেট করা নিয়েও বাড়িতে বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল। তবে মিরানের দলে সৈনিক কম থাকায় সে জিততে পারেনি। মিরান ম্যাসেজ পাঠিয়েছে, “ বনু কই তুই?

রোজা উত্তরে লিখলো, “ জানিনা!”

“ হোয়াট? তুই কোথায় তুই জানিস না? “

“ না, জানিনা! কি বলবা বলে ফেলো?”

মিরান ও ছোটদের মতো জেদ ধরল, যেন সকল কাজের উর্ধে এখন তাকে জানতেই হবে রোজা এখন কোথায় আছে? নিজে বাড়িতে নেই। অথচ বোনের খবর জানতে সে অধীর আগ্ৰহী। যে কারণে ম্যাসেজ পাঠিয়েছে তাও মনে নেই। মিরান আবার বলল, “আগে বল তুই কই? তারপর বলবো!”

রোজা দুষ্টামি করে কি যেন লিখলো, লিখেই দম ফেলল। মিটিমিটি হাসতে লাগল। তুবা এতক্ষনে ড্রয়িং রুমে চলে গেছে। মিরান এতক্ষন পরে ম্যাসেজ টোন পেয়েই ফোনে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম। কোথায় আছে রোজা তা জানতে চেয়ে যে ভূগোল বিষয়ের সাথে মিলিয়ে রচনা হিসাবে পাবে তা আশা করেনি।

মিরান রোজার দেওয়া ম্যাসেজ পড়তে শুরু করল, ”আমি এখন অসীম ইউনিভার্স এর মধ্যে থাকা Milky Way Galaxy-এর একটি সর্পিল বাহু। সেখান থেকে এগোলে পাওয়া যাবে Solar System, যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে সূর্য। সূর্যের চারপাশে সাতটি গ্ৰহ ঘুরছে, বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, ইউরেনাস, নেপচুন। তৃতীয় গ্রহ Earth বা পৃথিবী। পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে, পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ও উত্তর অক্ষাংশের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অবস্থিত পৃথিবীর সাতটি মহাদেশের মধ্যে এশিয়া মহাদেশ, দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্গত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অবস্থান। বাংলাদেশের প্রশাসনিক বিভাজন অনুযায়ী খুলনা বিভাগের পশ্চিমাংশে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ কুষ্টিয়া জেলা, যেখানে কবি রবীন্দ্রণাথ এর কুটির বাড়ি অবস্থিত। যার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পদ্মা ও গড়াই নদী। কুষ্টিয়ার বিখ্যাত নেওয়াজ বাড়ি। তিনতলা বাড়ির দুই তলার চার নাম্বার রুমের খাটের নিচে থাকা ফ্লোরের উপর পা দিয়ে দাড়িয়ে আছি।
সংক্ষেপে, মহাবিশ্ব থেকে শুরু করে সব স্তর পার হয়ে, আমি এখন শান্তভাবে দাড়িয়ে আছি কুষ্টিয়ার তাজারুল নেওয়াজ এবং মোস্তফা নেওয়াজ এর বাবা আনোয়ার নেওয়াজ এর বাড়িতে !”

মিরান সবটুকু পড়ে শেষ করতে পারল না কি? কে জানে? এত কথা বলার কি দরকার? ওই শেষের লাইন লিখলেই তো হতো। এতো কথা ওই রোজার দ্বারাই সম্ভব। মিরান একটা মাথা ঘোরার ইমুজি দিয়ে অফলাইনে চলে গেল। আর প্রশ্ন করার ইচ্ছে নেই! অফলাইনে গিয়ে বিরবির করল, “ প্রফেসর তূর্জান নেওয়াজ, সারাজীবন এই মেয়েকে সহ্য করবে কেমন করে? আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। “

তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, “ আল্লাহ, তুমি তূর্জান নেওয়াজ কে আরও ধৈর্য দাও! আর আমার বনুকে একটু বুদ্ধি দাও। নিশ্চিত কোনোদিন বনুর সিটিস্ক্যান করতে হলে হাটুতে করতে হবে। এরা দুই প্রান্তের দুই প্রাণী কিভাবে থাকবে সারাজীবন ? “


ডাইনিং টেবিলে সবাই একসাথে বসে ব্রেকফাস্ট করছে।পরিবারে আবার আগের মতো প্রাণ ফিরে এসেছে।মিরান ফিরে এসেছে। মূলত সে রাতে বাড়ি ফেরেনি, আর সকালে ফিরবে বাড়িতে মোস্তফা নেওয়াজ আছে কি- না তাই জানতে রোজার তলব করেছিল মিরান। কিন্তু হতাশ, পুরোই হতাশ! মিরান কে দেখে এখনো মনে হচ্ছে রোজার জিওগ্রাফিকাল লজিক পড়ে মাতাল হয়ে আছে।
তবুও মিরান হেসে বলল,“ভাইয়া , তোমার মাথা ব্যথা এখন কেমন?”

তূর্জান কফিতে চুমুক দিয়ে বলল,“ভালো।”

মিরান তূর্জানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। বোধহয় রোজার পাগলামি সহ্য করার জন্য তূর্জান নেওয়াজের কথা ভাবছে। এত মাথা ব্যাথা নিয়েও মানুষটা রোজার কোনো আবদার অপূর্ন রাখে না। মিরানের হাসি দেখেও তূর্জান কিছু বলল না। তূর্জানের মতে এরা দুই ভাইবোন পাগল। রোজার মতে তূর্জান আর তুবা পাগল। হাহ! সবাই পাগল। রোজা চুপচাপ খাচ্ছিল। হঠাৎ তার চোখ গেল তূর্জানের দিকে।
তূর্জানও তাকিয়ে আছে। দুজনের চোখ একসাথে আটকে গেল অচেনা গোলকধাধায়। অতিবাহিত হলো কয়েক সেকেন্ড, তূর্জান দৃষ্টি সরালো না।
রোজা দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল। আবার খাওয়ায় মনোযোগ দিল। মোস্তফা নেওয়াজ আর তাজারুল নেওয়াজ ও আজ ডাইনিং এ আজ। আরাজ, তুবা, রোজা, আর মিরান সকলের দুষ্টামি সহযোগে ব্রেকফাস্ট পর্ব শেষ করল নেওয়াজ পরিবার।


দুপুরে শাওয়ার নিয়ে রোজা একা বাগানে বসে আছে। তুবাও আসবে একটু পর। তুবার আসার অপেক্ষা করছে রোজা। হালকা বাতাস বইছে। কোমড় পর্যন্ত ছড়ানো চুল। দোল খাচ্ছে বাতাসে। চারপাশে ফুলের গন্ধ। হঠাৎ পেছন থেকে পুরুষের কণ্ঠস্বর আর পরিচিত সেই পারফিউম “Roja Perfums Haute Luxe “ এর মাতাল করা গন্ধ ভেসে এলো,,“একা বসে কি ভাবছিস?”

রোজা ঘুরে তাকাল না ,তূর্জান নেওয়াজ তা বুঝতে এখন আর তাকাতে হয় না। ওই পারফিউমই যথেষ্ট তূর্জান নেওয়াজের পরিচিতির জন্য । যেমন ভাবনায় ইদানিং এই লোকটা ঘুরছে তেমনি আশেপাশে। এর কথা ভাবতে ভাবতেই এ হাজির।
“আপনি আবার? আপনি কি আমাকে স্টক করছেন? যেখানে যাচ্ছি, সেখানেই আপনি? ”

তূর্জান বাগানের ভিতরে যেতে যেতে বলল,“স্টুপিডদের মাথার বুদ্ধি গুলোও স্টুপিড। সবগুলোকে থাপ্পড়ে ভালো বানাতে হবে!”

রোজাকে কথাটা বলেছে ভাবতেই রোজা বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে বলল,“ আপনি কি আমাকে ইনডাইরেক্টলি স্টুপিড বললেন? “

“ আমার কথা গুলো তোর কাছে ইনডাইরেক্টলি মনে হলো? কিন্তু আমি তো তোকে ডাইরেক্টলি স্টুপিড বলেছি। “

“ আমি না! আপনার বউ স্টুপিড। “

“আবার?”

“হুমম, এখন থেকে যতবার আমাকে স্টুপিড বলবেন ততবার আমি আপনার বউকে স্টুপিড বলব। শোধবোধ আমারও পছন্দ।“

“ওকে!”

“মানে?”

“মানে কি আবার?”

“আপনার বউয়ের কপালে সত্যিই দুঃখ আছে। আপনি একটা পাগল।”

“কেন তোর বারবার মনে হয় আমার বউয়ের কপালে দুঃখ আছে। সুখও তো থাকতে পারে?”

“ উহু সুখ নেই। কারণ আপনি বেশি কথা বলেন না। বেশি কথা পছন্দ করেন না তাই। আর মেয়েরা সব সময় তার পছন্দের মানুষের সাথে বেশি কথা বলতে পছন্দ করে। তারা প্রিয় মানুষের সাথে ঘুরতে পছন্দ করে। তারা খেতে, বসতে, উঠতে, ঘুমাতে গিয়েও নিজের একান্ত মানুষের সাথে গল্প করে। তারা কেয়ারফুলি হ্যাজবেন্ড চায়। যে সবসময় তার কথা চোখের দিকে তাকিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনবে। নিশ্চুপ হয়ে তাকে দেখবে। আর কথার মাঝে মিষ্টি শুরে হালকা করে উত্তর দিবে। মোটকথা মনোযোগ সহকারে প্রিয়জনের কথা শুনবে।”

একটু দম ফেলে আবার বলল,

“কিন্তু আপনার মধ্যে এগুলোর একটা গুনও নেই। আপনি কখনো কারো কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন না।ত্যাড়া বাকা উত্তর দেন। মিষ্টির ম ও আপনার মধ্যে নেই। আর মেয়েরা এমন ছেলে পছন্দ করে না। তাই আপনার বউয়ের কপাল খারাপের জন্য আপনি দায়ী।

বলতেই দেখল তূর্জান রোজার দিকে তাকিয়ে আছে। রোজা ভ্রু কুচকে বলল,

“কি?”

“তুই একশত সতেরোটা ওয়ার্ডস উচ্চারণ করেছিস।”

রোজা হা করে তাকিয়ে রইলো। এই লোক জানলো কি করে? রোজা অবাকের শুরে বলল,“আপনি কি করে জানলেন? “

“ভূ’ত এসে বলে গেল।”

বলেই চলে যেতে গিয়েও ফিরে এসে রোজার ফোন হাতে নিল। রোজা বিস্ময়ের সাথে বলল, “আমার ফোন নিচ্ছেন কেন? আমি কি আপনার ফোন নিয়েছি। নিজের ফোন তো হাতে ধরতেও দেন না। “

ফোন অন করতেই দেখল রোজার কিশোরী তে পা দেওয়ার শাড়ি পড়া ছবি, তবে সবার আগে চোখ পড়ল তূর্জানের দেওয়া আগের সেই পায়েলের দিকে। রোজার পায়ে কি সুন্দর রুপালি নূপুর ঝলক দিচ্ছে।

তূর্জান মুচকি হাসল। তবে রোজা অন্যদিকে তাকিয়ে থাকায় সে হাসি তার অগোচরে রয়ে গেল। তূর্জান মুচকি হেসে বলল,

“তা, তুই এত প্রেম বিষয়ে অজ্ঞাত। এই পর্যন্ত কয়টা রিলেশন করছিস?“

রোজা বিস্ময়ে হা। হঠাৎ গাম্ভীর্য তূর্জানের কাছে এমন নরম সূর ঠিক সুবিধার লাগছে না। তাও রোজার সাথে নরমালি এইসব কথা। রোজা সুযোগ পেয়ে তাই দুষ্টামি করে বলল,

“এই ধরুন আট থেকে নয়টা। আর এখন ভাবছি কদিন পর বিদেশ গিয়ে আরও বারো তেরোটা করব। দেশ-বিদেশ মিলে বিশটা হলেই যথেষ্ট। আমার এই ছোট্ট জীবনে এটাই অনেক পাওয়া হবে ।”

তূর্জানের হাত থেকে ফোন নিবে কি করে? তাই মোটা মস্তিস্কে কি ভেবে একটু থেমে আবার বলল,

“ফোনটা দেন ছবি দেখাচ্ছি আপনাকে, ছেলেটা এত্তো সুন্দর,জাস্ট ওয়াও!”

বলেই মুচকি হাসল। তূর্জান রাগী চোখে রোজার দিকে তাকিয়ে আছে। রোজা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল,

“ আচ্ছা দেখাবো না। দিন ফোনটা,এখানে আর ভালো লাগছে না। ছাদে যাবো। কি সুন্দর ওয়েদার।”

বলতেই তূর্জান ফোনটা রোজার সামনে মাটিতে ছুড়ে ফেলল ।পা দিয়ে পিষে ধরল ফোনটা। রোজা চিৎকার করে বলল,

“আরে আমার ফোন!

রোজার ফোন ততক্ষনে আর ভালো নেই। তূর্জানের পায়ের নিচে পরে আছে।খুব মন খারাপ হলো একে তো এইসএসসি’র আগে ফোন হাতে দেইনি মিরান। কতো করে বলে, মনেহয় তূর্জানের দেশে ফেরার একসপ্তাহ আগে ফোন দিয়েছে। এখন এই লোকটা তার ফোন এভাবে ছুড়ে ফেলল মাটিতে, শুধু ছুড়ে ফেলে নি। পায়ের নিচে পিষে ফেলেছে । চুপ করে নিজের ফোনের দিকে তাকিয়ে রইলো রোজা ।

তূর্জান আর কোনো কথা না বলে বাড়ির দিকে যেতে যেতে মনে মনে বলল,“যেই ফোনে অন্যদের ছবি থাকে ওই ফোন কেন? ওই ফোনের ছায়া ও তোকে স্পর্শ করতে দেব না।”

ইনশাআল্লাহ চলবে…

[ সরি দেরিতে দেওয়ার জন্য। সবার ঈদ মোবারক হলেও আমার অসুস্থ মোবারক শেষ হয়নি। তবে এখন থেকে রেগুলার হয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply