প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||২৬||
ফারজানারহমানসেতু
তূর্জানের গালে হলুদ লাগাতেই সবাই চেচিয়ে উঠল। কেউ বলল, বেয়াইনের সাহস আছে। কেউ সিটি মারলো, তো কেউ হাতে তালি দিলো। মোটকথা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান এখন একেবারে জমে উঠেছে। তূর্জান এখনো ভ্রু কুচকে রোজার দিকে তাকিয়ে আছে, যেন অবাকের শেষ পর্যায়ে। রোজা তূর্জানের দিকে তাকিয়ে বলল, “ কি? ওভাবে তাকাচ্ছেন কেন? “
“ গালে হলুদ দিলি কেন? “
রোজা কি বলবে? সে তো অন্য কাউকে স্পর্শ করবে না ভেবেই বাড়ির লোকের গায়ে হলুদ ছোয়ালো। যদি মিরান থাকতো তাহলে মিরানের গালেই হলুদ দিতো। কিন্তু সে তো মেয়ের বাড়ির লোক হিসাবে আছে। তূর্জানের দিকে তাকিয়ে বলল, “ সরি.. বাট একটু ম্যানেজ করে নিন। “
তূর্জান ফোন পকেটে রেখে বলল, “ কেন? কেন আমি তোর কথা শুনে সিসুয়েশন ম্যানেজ করবো? হোয়াই? তুই আমার কথা শুনিস, যে আমি তোর কথা শুনবো?“
“ রাগ দেখাচ্ছেন? “
“ তোর উপর রাগ দেখাবো কেন? হু আর ইউ?“
“ দেখুন আপনার কথা শুনে আমি শান্ত হয়ে গেছি। কথা কম বলি, ছোটাছুটি ও করি না। আপনার দেওয়া শাড়ি পড়ার জন্য আমি একটা আমার একটা ড্রেসও নষ্ট করছি!“
“ তো!”
“ আজব মানুষ ভাই আপনি , আমি আপনার জন্য এত কিছু করলাম আর আপনি একটু ম্যানেজ করতে পারবেন না। এখন আপনি রাগ দেখালে আমি বাড়ি ফিরে যাবো কিন্তু!”
“ যা তোকে বেধে কে রেখেছে। আর শাড়িই বা কে পড়তে বলেছে? “
“ বাহ! বাহ! শাড়ি পড়িনি জন্য রাগ দেখালেন, আবার পড়েছি জন্য রাগ দেখাচ্ছেন!”
রোজা রাগ করে তূর্জানের সামনে থেকে চলে আসলো। তূর্জানের ভাবাবেগ বোঝা গেল না। এই লোকের সাথে কথা বলার চেয়ে না বলাই ভালো! রোজার ঠেকাও পরেনি কথা বলার। তখনি সমুদ্র এসে হাজির হলো নূরের সামনে। সমুদ্রের গায়ে হলুদ পাঞ্জাবী,হালকা হলুদ রঙা গাল দেখতে মাশাআল্লাহ লাগছে । নূর লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল। মূলত সবাই ঠিক করেছে ছেলের হলুদ শেষে মেয়ের হলুদে ছেলে উপস্থিত থাকবে। তাইতো নূরের হলুদ বিকেলে করা হচ্ছে। তুবারা সবাই সমুদ্র কে নিয়ে গিয়ে নূরের পাশে বসালো। বড়রা সবাইকে তাড়া দিল তাড়াতাড়ি হলুদ শেষ করতে। বড়রা আগেই হলুদ দিয়েছে, ছোটরা দিলেই শেষ। নূরকে গোসল করাবে।
বড়রা ওদিকে যেতেই রোজা বলল, “ ভাইয়া, আই মিন দুলাভাই! হলুদ লাগিয়ে শেষ করুন। আমার বেষ্টুকে গোসল করাতে হবে। “
সমুদ্র হালকা হলুদ নিয়ে নূরের গালে হলুদ লাগতেই চারপাশে হাসির রোল পড়ে গেল। সমুদ্র নূরের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, “ নূররানী, তুমি আমার জীবনের জন্য উপরওয়ালার দেওয়া শ্রেষ্ঠ নূর। কথা দিচ্ছি এই নূর জীবন থাকতে নিভতে দেবো না। “
তুবাসহ বাকি মেয়েরা হাততালি দিয়ে বলল,“এই তো! গায়ে হলুদের আসল মজা এখন শুরু!”
নূর যেন আরো রঙা হলো, চারিদিকের কথায়।
অনন্যা আসলো নূরকে গোসলের জন্য নিয়ে যেতে। মেয়েটার আজকে বড় সুখের দিন। তারও তো একদিন ঠিক এইভাবে হলুদ হয়েছিল। উহু শুধু হলুদ না ওই লোকের সাথে দুমাসের মতো সংসার ও করা হয়েছিলো। লোকটাকে তার বাবা পছন্দ করেছিল।তবে বাইরে আর ভিতরে বলতে একটা শব্দ আছে, তার বাবার পছন্দ ও এই শব্দের কাছে হেরে গেছিলো।
অনন্যারা বরাবরই মধ্যবিত্ত, লোকটা তার সাথে প্রথমে ভালো ব্যবহার করলে, পরে ঠিকই আসল রুপ দেখিয়ে ছিল। প্রতিদিন নে’শা করে এসে মারধর করতো! যৌ’তুক দেওয়া সত্ত্বেও আরো টাকার জন্য অনন্যা কে চাপ দিতো। পরিশেষে, সব সহ্য না করতে পেরে তার বাবা তাকে ফেরত আনে। কোনো বাবা তো আর মেয়েকে চোখের সামনে শেষ হয়ে যেতে দেখতে পারে না। পরে তার বাবাও দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। ভাগ্যের পরিহাসে আজ সে ডিভোর্সি মেয়ে সমাজের কাছে। এসব পুরোনো কথা ভাবতেই চোখের কর্ণিশে জল জমলো। তবে বোনের আনন্দে সে অনেক খুশি।
নূরকে গোসলের জন্য তাড়া দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় মিরান মজা করে বলল,“ বাহ! মিস ধাক্কাধাক্কি, আপনাদের বাড়িতে আসলাম কথাই বললেন না। “
অনন্যা নত মস্তিস্কে বলল, “ আসলে, একটু বিজি ছিলাম। আপনার কিছু লাগবে?“
“ লাগবে তো অনেক কিছুই, দিবেন? “
“ বুঝিনি!”
“ বোঝা লাগবে না। “
“ মানে? “
“ মানে কিছু না! সময় হলে বুঝে নিয়েন!”
মিরান আর কিছু বলল না। অন্য পাশে চলে গেল। অনন্যা হতবাক হয়ে গেল। এই ছেলে প্রথম দিন থেকেই কেমন আচরণ করে অদ্ভুত! নূরকে গোসল করানো হবে। তুবাও সেদিকে গেল। রোজা রাফিয়ার কাছে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। শাড়ি কেমন ঢিলা ঢিলা লাগছে, কুচিও এলোমেলো হয়ে যাচ্ছেে। হয়তো শাড়ি পড়ায় অভ্যাস নেই তাই। তাছাড়া শাড়ি একদম ঠিকঠাক আছে। ব্যাগে সেফটিপিন আছে, শাড়ি আরও ভালো করে ঠিক করে নেওয়া উচিত ভেবেই পা বাড়ালো। রোজা ফাকা জায়গায় আসতেই তূর্জান সামনে এসে দাড়ালো। রোজা কিছু বলতে গিয়েও বলল না। ঐই লোকের সাথে কথা নেই। তখন কেমন করে কথা বললো। হুহ! রোজা তূর্জানকে এড়িয়ে যাওয়ার সময় হাতে টান পড়ল। রোজা না তাকিয়েই আবার চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। না ছাড়ার নামগন্ধ নেই। তূর্জান ধরেছে, ওই জিম করা বডির সাথে রোজার চিকনা শরীর কি আর পারে । রোজা পিছনে ফিরে বলল, “ আজব তো হাত ধরে এমন টানাটানি করছেন কেন? “
তূর্জান রোজার হাত ধরে একঝাটকায় তার সামনে দাড় করালো। এক পা করে এগোতে লাগলো। তূর্জান এক পা এগোচ্ছে তো রোজা দুই পা পিছাচ্ছে। রোজা কাপা কাপা গলায় বলল,
“ তূ..তুর্জান ভাই এ..এভাবে এগোচ্ছেন কেন? “
“ ভয় পাচ্ছিস? “
“ না, আমি ভয় পাবো কেন? “
“ তোঁতলাচ্ছিস কেন?
“ কই? আপনি কি নেশা করেছেন? আপনার চোখ কেমন যেন হয়ে আছে!“
“ কেমন হয়ে আছে? আমার চোখের সব দেখতে পারিস, কিন্তু যা দেখাতে চাচ্ছি ওইটা বাদে!”
“ মানে? “
এমন সময় রোজা গিয়ে আটকালো একটা সোফায়। পিছনে যাওয়ার উপায় নেই। ধপাস করে সোফায় বসে পড়ল।
রোজা দুহাতে মুখ ঢেকে বলল, “ সরি, সরি! আর এমন করবো না। এবারের মতো মাফ করে দেন।”
“ গালে হাত দিয়েছিস কেন? “
“ যদি মারেন!”
“ মেরেছি কখনো? “
“ সেইদিন ভার্সিটি থেকে আসার সময় মারলেন!”
“ ওখানে কার দোষ ছিলো। “
“ মানছি ওখানে আমার দোষ ছিলো, মেরেছেন ভালো করেছেন, এখন আমাকে যেতে দেন!”
“ ধরে রেখেছি, যা!”
“সামনে থেকে সরুন! আমি আর ভুলেও আপনার গালে হলুদ দিবো না।”
তূর্জান নিরুদ্দেক হয়ে বলল, “ সেইটা তোর ব্যাপার, বাট এবার হলুদ লাগানোর পানিশমেন্টের কি হবে? “
“ আপনি যা বলবেন, তাই করবো! প্রমিস। “
তূর্জান ঝুকে সোফার দুপাশে হাত রেখে দিল। রোজা এখন একদম বন্দি। পিছনে সোফা, সামনে তূর্জান। তূর্জান বলল, “ হলুদ ক্লিন কর। “
রোজা যেন আকাশ থেকে পড়ল। সে হলুদ ক্লিন করবে কিভাবে? তার ব্যাগ তো রাফিয়ার কাছে রেখে এসেছে। টিস্যু ও হাতে নেই। যা ছিলো নিজের হাতে লাগা হলুদ ক্লিন করেছে। রোজা বলল, “ ভাবির কাছে রেখে এসেছি ব্যাগ। আমার কাছে টিস্যু নেই। “
“ তো, আমি কি করবো ? তোর শাড়ি দিয়ে ক্লিন কর! ফাস্ট কর!”
“ এ্যাঁহ, আসছে শাড়ি দিয়ে ক্লিন করবো। পারতাম না, দেখি সাইডে যান। “
“ হোয়াট? আমি তোর জান টান হতে পারবো না।”
“ দেখুন, তূর্জান ভাই…
কথা শেষ হওয়ার আগেই তূর্জান বলল, “ হুম, দেখছি!”
রোজা মহা মসিবতে পড়েছে। যা বলছে এই লোক উল্টো করে আরেক কথা বলছে। রোজা এবার বলল, “ দেখুন.. কথা ঘোরাবেন না। আমার কাছে টিস্যু নেই। আর আমি শাড়ি দিয়ে ক্লিন করতে পারবো না। “
“ আমার টাকার শাড়ি, আমার গালে লাগা হলুদ ক্লিন করবি! তোর প্রবলেম কোথায়? “
রোজা কথা খুজে পাচ্ছে না। এই লোকের সাথে কথায় রোজা যদিও হারবে না। তবে ওই চোখের দিকে তাকালে ইদানিং সব গোলমাল পাকিয়ে যাচ্ছে। স্বচ্ছ চোখে, কিছু একটা তো আছেই , রোজা আবার প্রেমে টেমে পরছে তো না। অন্য দিকে তাকিয়ে রোজা বিরবির করল, “ চোখ দিয়ে আপনি মানুষ মারতেও সক্ষম প্রফেসর তূর্জান নেওয়াজ । আপনাকে তো পুলিশে দেওয়া উচিত। বেডা মানুষের চোখ এতো সুন্দর হতে হবে কেন? “
রোজাকে অন্য দিকে তাকিয়ে চুপ করে থাকতে দেখে তূর্জান বলল, “ কোন দেশে হারালি? ক্লিন কর!”
“ দেখুন, তূর্জান ভাই। কেউ চলে আসবে? “
“ আসুক। তাতে আমার কি? তুই ক্লিন কর!”
“ সেই বাচ্চাদের মতো কখন থেকে বলছেন ক্লিন কর! ক্লিন কর!”
তুর্জান নিরুদ্দেশ হয়ে বলল, “ ওকে! তোর ক্লিন করতে হবে না। আমার হলুদ আমি ক্লিন করছি। “
রোজা খুশি হয়ে বলল, “ হুমম!”
রোজা যেন হাফ ছেড়ে বাচল। অন্য দিকে মুখ করে ভাবল, যাক এবারের মতো বেচেছে। বাবারে এই জীবনে আর এই লোকের গালে হলুদ লাগাবে না। গালে তো হলুদ লাগানো বাদ জীবনে আর এই লোকের আশেপাশে যাওয়ার ইচ্ছে নেই। সাথে জ্বালানোর কথা আর চ্যালেঞ্জের কথা দুটোই বাদ। রোজা এবার মেনে নিল সে হেরে গেছে। ভাবনার মাঝেই রোজা নিজের গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ির ব্যাথা অনুভব করল। দাড়ির মালিক আর কেউ না রোজার ভাষায় সেই হিটলার বেডা প্রফেসর তূর্জান নেওয়াজ। রোজার চোখ বিষ্ময়ে হা। এই লোক তার গালের হলুদ রোজার গালে লাগিয়ে দিয়েছে। বুঝতেই রোজা তূর্জানের দিকে তাকালো। তূর্জান ভ্রু বাকিয়ে বলল, “ ক্লিন করা শেষ। “
রোজা দাঁত চেপে তূর্জানের দিকে তাকাল।নিজের গালে হাত দিয়ে হাত চোখের সামনে এনে দেখল,
তার গালে হলুদের লেগে আছে। রোজা চোখ বড় বড় করে বলল,“আপনি এটা কি করলেন?”
তূর্জান একদম শান্ত গলায় বলল,“ আমি কি করলাম? যাস্ট হলুদ ক্লিন করলাম। “
“ আমার মুখ আপনার ক্লিনার মনে হয়? “
“ তো টিস্যু নেই, শাড়ি দিয়ে মুছতে পারবি না। মুখটাই বেস্ট মনে হলো।”
“ ধ্যাৎ সরুন তো! আমার পুরো সাঁজটাই নষ্ট করে দিলেন। “
“ তোর সাঁজ তো দেখছি না। এটাকে সাঁজ বলে?”
“ সারাজীবন থেকেছেন বিদেশে। বিদেশী বানরের মতো সাঁজ দেখে অভ্যস্ত, বাঙ্গালী সিম্পল সাঁজ তো আপনার কাছে সাঁজ মনে হবে না। “
“ আচ্ছা ভালো! কিন্তু তুইই তো শুরু করেছিস। আমি কি করলাম। ফাস্ট দিনেই তো বলেছি, আমার বউয়ের হক নষ্ট করলে তার শোধ নিয়ে নেব। “
“আমি মজা করেছি।”
“আমিও।”
রোজা কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল। তারপর ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,” আপনাকে তো আমি….
তূর্জান ভ্রু তুলে বলল,” আমাকে কি? খেয়ে ফেলবি? “
“ ধ্যাৎ! কিছু না। সরুন তো! আর হাত দিয়ে আমাকে বন্দি করে রেখেছেন কেন? সরুন তো, কেউ চলে আসলে খারাপ ভাববে!”
“ ভাবুক!”
“ আমাকে দোষ দেবে!”
“ দিতে দেব না। “
তখনি একজন মহিলা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললো, “ বাবা, বিয়ে বাড়িতে এসব কি করছো? “
“ কেন আন্টি? বউয়ের সাথে রোমান্স করছি!”
মহিলা যেন আকাশ থেকে পড়ল। রোজার মুখ হা হয়ে গেছে। মহিলা ভাবলো বাবারে এতো ছেলে না চলন্ত গাড়ি, কোনো বাধা মানে না। “ মানলাম বউ তাই বলে বিয়ে বাড়িও মানবে না। কি দিনকাল এলো!” মহিলা বিরবির করতে করতে চলে গেল। রোজা তূর্জানের শার্ট বুকের কাছে টেনে ধরে বলল, “ হেই,, আপনি পাগল? কি বললেন ওই আন্টিকে। আন্টি কতটা খারাপ ভাবলো। “
“ কি বললাম? “
“ আমি আপনার বউ লাগি কোনদিক দিয়ে?
“ বউ লাগতে আবার কোনদিক লাগে? “
রোজার পিছনে কেন পরেছে এই লোক? রোজার তো একে মে’রে ফেলতে ইচ্ছে করছে! পাগলদের পৃথিবীতে পাগলামো করার জন্য রাখা উচিত,, কিন্তু যারা পাগল না হয়েও পাগলামি করে তাদেরকে রাখা উচিত না। রোজা ভ্রু কুচকে বলল,“ লাস্টে কি বিশ্রি কথা বললেন! আপনি লজ্জা শরম ধুয়ে খেয়েছেন? “
“ না বললেই তো খারাপ ভাবতো। ভাবতো বিয়ের আগে…
তূর্জান কথা শেষ করার আগেই রোজা তূর্জানকে ধাক্কা দিয়ে সোজা করে দিতে চাইলো। তবুও একপা নড়ল না। সাথে হাত এখনো সোফায় আটকানো! রোজা কি করবে? যদি আরও কেউ চলে আসে?
রোজা কাদো কাদো মুখ করে বলল, “ প্লিজ, তূর্জান ভাই, যেতে দেন! এরকম করছেন কেন? “
তূর্জান যেন এই প্রশ্নের অপেক্ষায় ছিলো। সুযোগ পেয়ে বলল, “ এরকম করছি কেন? বললে উত্তর দিবি? “
“ আপনি যাই বলেন তাই করবো, তাই শুনবো শুধু যেতে দিন!”
“ ওকে! এবার বলে ফেল, আজ কয়দিন এত ভালো ব্যবহার করার কারণ কি? “
“চ্যালেঞ্জ? গ্ৰানি একটা চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল। ওইটা পূরণ করতে গিয়ে ভালো ব্যবহার করেছি। তবে এখন থেকে সত্যিই ভালো ব্যবহার করবো। প্রমিস! আর আপনাকে জ্বালাবো না, আপনার কাছেই যাবো না। আপনি বললে, আপনার সামনেই যাবো না। তাও যেতে দিন!”
তূর্জান শুনতে চাইলো কি? এই মেয়ে শুনালো কি? ভাবলো বউ তাকে হয়তো চিনতে পেরেছে। এখন দেখা যাচ্ছে যা চেনে সেটুকু ও ভুলতে যাচ্ছে। কপাল সবই কপাল, একে তো বউ ছাড়া দশবছর বিদেশে কাটিয়েছে, এখন বউ তাকে চিনে না। নতুন করে যেটুকু চিনেছে তাও ভুলতে চায়। তূর্জান আর কথা বললো না। রোজাকে ছেড়ে দিলো। কি আর করার বউ তো আর স্বামীভক্ত না! তবে তূর্জানকে কিছু একটা করতেই হবে, আর একে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
**
রোজা তুবাদের কাছে যেতেই প্রশ্ন পেল। এই তোর গালে হলুদ লাগলো কিভাবে? সমবয়সী সব রোজাকে নিয়ে মজা করতে লাগলো। রোজা কি উত্তর দিবে? তাই চুপ করে সব সয়ে গেল ঠিকই, কিন্তু তূর্জানকে বকা দিতে ভুললো না। এদিকে রাত নয়টার দিকে নূরকে আবার স্টেজে বসানো হয়েছে। বড়দের করা হলুদ শেষ। এখন মেহেন্দি অনুষ্ঠান করবে ছোটরা মিলে। নূরের সামনে কিছু মেয়েরা একসাথে ডান্স করছে গান শুরু হয়ে গেছে। গানের তালে পুরো পরিবেশ জমে উঠেছে।
রোজার পরিবারের বড়রা সবাই বাড়ি ফিরে গেছে। আরাজ দুষ্টামি করবে ভেবে রাফিয়াও তাদের সঙ্গে ফিরে গেছে। এখন নেওয়াজ বাড়ির চার সদস্য আছে, রোজা, তুবা, মিরান আর তূর্জান। যদিও তূর্জান চলে যেতে চেয়েছিল, মোস্তফা নেওয়াজ আর তাজারুল নেওয়াজ যেতে নিষেধ করেছে। মিরানের প্রতি বিশ্বাস নেই, মেয়ে দুটোকে রেখে সে নিজের মতো বেরাবে। তাই তূর্জানকে তাদের খেয়াল করার জন্য রেখে গিয়েছে। তূর্জানের এত সাউন্ডে প্রচুর হেডএক হচ্ছে। তাও রোজা আর তুবার পাশ থেকে সরছে না। একদম স্টিকলি একজন দায়িত্ববান হাজবেন্ড আর দায়িত্ববান ভাইয়ের ভূমিকা পালন করছে।
নাচতে থাকা একটা মেয়ে এসে তুবা আর রোজা হাত ধরে টান দিল। “চলো! নাচবে।”
রোজা তূর্জানের দিকে তাকিয়ে বলল,“না, আমি—”
কথা শেষ করার আগেই মেয়েটা তাদেরকে টেনে নিয়ে যেতে গেলে, রোজার হাতে বিপরীতে টান লাগলো।পিছনে ফিরতেই দেখল তূর্জানের রাগী চোখ। চোখ দিয়েই বলছে, ওখানে ডান্স করতে গেলে, মাটি চাপা দিয়ে দিবো। রোজা মেয়েটার হাত ছাড়িয়ে বলল, “ তুমি যাও।”
মেয়েটা আবার গিয়ে ডান্স করতে লাগলো। রোজি এসে আবার তূর্জানের পাশে বসে পরল, তার পাশে তুবা। সেও ভাইয়ের রাগী চোখ দেখে ভীষণ ভয় পায়। রোজা বসে তূর্জানের দিকে তাকিয়ে বলল, “ যাচ্ছি না, এখন হাত ছাড়ুন। “
তূর্জান রোজার হাত ছেড়ে দিল। তার এখানের কিছুই ভালো লাগছে না। তূর্জান তাকাতেই দেখল,
রোজার খোলা চুল বাতাসে হালকা অবাধ্য হয়ে উড়ছে, শাড়ির আঁচল বারবার নিচে পরে যাচ্ছে আবার তা তুলছে। তূর্জান ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বিরবির করল, “ শাড়ি সামলাতে পারে না, সেই মেয়ে সংসার সামলাবে!”
শেষে দেখা গেল, বউ বাচ্চা সব তূর্জানকেই সামলাতে হবে! বাচ্চারা আর রোজা মারামারি করবে, তূর্জানকে বউয়ের অভিমান ভাঙিয়ে বাচ্চাদের শান্ত করতে হবে। একটু দূরে দাঁড়িয়ে মিরান তূর্জানকে দেখছে।মিরান এসে তূর্জানের পাশে বসল।হেসে বলল,“ভাইয়া, একটা কথা বলি?”
“হুমম ।”
“বনুকে কিন্তু শাড়িতে আজকে অন্যরকম লাগছে।”
তূর্জান কিছু বলল না। কিন্তু তার চোখ তখনও রোজার দিকেই।মিরান আবার বলল,
“এই যে তাকিয়ে আছো… ব্যাপারটা কিন্তু সন্দেহজনক।”
তূর্জান এবার মিরানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তুই চুপ করবি? তোর বোন ও পাগল, তুই ও পাগল।”
মিরান হাসতে হাসতে বলল,“ওহহ! ঠিক আছে।”
“ কি ঠিক আছে? পাগল বললাম ভালো বলিনি!“
“ রোজাও তোমাদের দুইভাই বোনকে পাগল বলে! মানে সবাই পাগল। ভাবছি আমাদের বাড়ির নেমপ্লেট পাল্টে ফেলবো, নেওয়াজ কুঞ্জ থেকে পাগলা কুঞ্জ!”
তূর্জান যেন অবাকের শেষে পৌঁছে গেছে। রোজা তাকে পাগল বলে? ওই ভোলাভুলি মেয়েকে তো… আর কথা না বলে বলল, “ পরে দেখা করছি সালাবাবু, এখন বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকুন, এইমূহুতে কথা বলার ইচ্ছা হচ্ছে না। তাই কথা বলার চেষ্টা না করে আপনার বোনকে বলুন আমার হেডএক হচ্ছে। সেবা যত্ন করতে!“
ইনশাআল্লাহ চলবে….
এইযে কিছু দুষ্ট পাঠকরা, রোমান্টিক চেয়ে চেয়ে পাগল হচ্ছিলে! নাও পড়ো তোমাদের রোমান্টিক পর্ব। রোজার দিনে রোমান্টিক পর্ব চায় কত বড় সাহস, তূর্জানের হাতে মার খাওয়াবো সবগুলোকে। বড় করে পর্ব দিয়েছি, বড় বড় মন্তব্য চাই।
Share On:
TAGS: প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা, ফারজানা রহমান সেতু
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৭
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২৪
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৪
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৩
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১২
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৩
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৭
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১০
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৯